

ছোটপর্দার
অভিনেত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা
চলছে। বেশিরভাগই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন তার স্বামী ও অভিনেতা জাহের আলভীকে। তবে নিজের
স্বপক্ষে ফেসবুকে সরব আলভীও। শুক্রবার (৬ মার্চ) মধ্যরাতেও ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তিনি। যদিও এটিকে ইকরার মৃত্যু নিয়ে তার শেষ
পোস্ট বলে দাবি করেছেন এই অভিনেতা।
নতুন
পোস্টে ইকরার বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন আলভী। সেখানে তিনি ঘটনাটি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ
দাবি তুলে ধরেছেন এবং তদন্তে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায়
তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়, তবে তিনি আইনের প্রতি সম্মান রেখে তা মেনে
নেবেন বলেও জানিয়েছেন।
আলভী
লিখেছেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট । একটু সময় নিয়ে পড়বেন। আইনের প্রতি সম্মান রেখেই
বলছি, সুষ্ঠু বিচারে আইন আমার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিবে আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু
আমার এই পোস্টে আমি কিছু ইনফরমেশন রেখে যেতে চাই, যেন আমার কিছু হলে, অথবা আমাকে অন্যায়ভাবে
ফাঁসানো হলে সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিক ভাই-বোনেরা এই বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকেন এবং আইনের
কাছে খতিয়ে দেখার দাবি রাখতে পারেন। ’
পোস্টে
আলভী লেখেন, ‘আমার বাসায় ড্রইং-ডাইনিংয়ে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। যার এক্সেস কখনোই
আমার কাছে ছিল না। ইকরার ফোনে ছিল। ইকরার ফোন পুলিশি হেফাজতে আছে এবং এই মুহূর্তে তা
ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। অনেকেই বলবেন, আমার বাসার সিসিটিভির এক্সেস আমার কাছে ছিল না,
এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাদেরকে বলব, সিসিটিভির সাথে লিংকড ডিভাইস লিস্ট চেক করলে সেটি
অনায়সে বেরিয়ে আসবে। আমি সারাদিন শুটিং এ থাকার কারণে কখনো এর এক্সেস ইকরার কাছেও চাইনি।
ইকরা এই ক্যামেরা দিয়ে বাসার কাজের লোক ও বাসায় থাকা আমার সহকারীর গতিবিধি লক্ষ্য করত
প্রয়োজনমতো। এই সিসিটিভি ফুটেজ দুর্ঘটনার সবচেয়ে
বড় আলামত শুধু দুর্ঘটনার সময় না, আমি নেপাল
আসার দিন থেকে রয়েছে এই ক্যামেরায় গুরুত্বপূর্ণ
ফুটেজ। আবারও বলছি, ইকরার মোবাইল (যার পাসওয়ার্ড আমি জানি না) ও সিসিটিভি ক্যামেরার
মেমোরি কার্ড দুটোই পুলিশের হেফাজতে।’
ইকরার
বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে আলভী লেখেন, ‘এখন বলব, কেন সিসিটিভির ফুটেজ সবচেয়ে বেশি
গুরুত্বপূর্ণ। আমি নেপালের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হই ২৫ তারিখ দুপুরে। ২৫ তারিখ, ২৬
তারিখ ও সর্বশেষ ২৭ তারিখ; এই ৩ দিনই সন্ধ্যার পর আমার বাসায় ইকরার বান্ধবী ও বন্ধুর
আগমন ছিল। যার গতিবিধি সিসিটিভিতে আছে। ২৫/২৬ শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী
ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ছিল। এ সময়গুলোতে ৩ দিনই তারা
সিগারেট/গাজা ও মদ্যপান করেছে। দুর্ঘটনার আগের দিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে
সিগারেট ও ঘুমের ঔষধও আনিয়েছে ঐ সময়ে, যা সিসিটিভির নিচেই ইকরাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে
। এই সমগ্র ভাষ্য আমার সহকারীর এবং তা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট আকারে পেশ
আছে। সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ সবাইকে জানিয়ে রাখলাম, বিষয়টি যেন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে
এই ৩ দিনের ফুটেজ কোনোভাবেই সরানো না হয়, আর সরানো হলেও যেন এর সুষ্ঠু জবাবদিহি বা
তদন্ত করা হয়। এই ৩ দিন ও দুর্ঘটনার মুহূর্তে ইকরার কথা-বার্তা কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের
মতো ছিল না। ইকরা এর আগেও ১৫ বছরে একাধিকবার আত্নহত্যার চেষ্টা করলেও কখনো সিরিয়াসলি
কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এইবার ইকরা একদমই নরমাল ছিল না। ’
আলভী
আরও লেখেন, ‘ইকরার মোবাইল পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট চলে
আসবে কে ইকরার একাউন্ট ডিসেবল করেছে। এবং এটিও জানার প্রয়োজন আছে কেন করেছে। আমার সাথে
ইকরার কনভারসেশনের একটি দাঁড়ি-কমাও পরিবর্তিত হয়নি, সেটি আমার ফোন ফরেনসিকে নিলে প্রমাণ
মিলবে। যেটা আমি স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে দিব। সবাইকে এই দিকটাও লক্ষ্য রাখার জন্য অনুরোধ
জানানো হচ্ছে যেন ইকরার ফোন থেকেও কোন কনভার্সেশন ডিলিট না হয়। যেমন ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য অ্যাপ।
এমনকি ফোনের ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল লিস্ট এবং ২৫/২৬/২৭ তারিখ রাতে ওর বন্ধুদের সাথে
বাসায় আসা এবং চিল করা নিয়ে কনভারসেশন।’
পোস্টমর্টেম
নিয়ে আলভী লিখেছেন, ‘এবার আসেন পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে কিছু কথা বলি। আগের রাতে মদ্যপান
ও মাদক সেবন করা হলে অবশ্যই সেটি পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আসবে। তাই, কোনোভাবেই এই রিপোর্ট
যেন পরিবর্তন না হয় সেদিকেও একটু নজর রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কারণ পোস্টমর্টেম
করার আগে পোস্টমর্টেম বাধা দেয়া হচ্ছিল। না চাইতেও নিচে কিছু সংবেদনশীল ইঙ্গিত রেখে
যাচ্ছি যেগুলো আপনাদের সামনে এই মানুষটিকে নিয়ে বিস্তারিত বলতে আমার জন্য কষ্টদায়ক।
সর্বোপরি ইকরা আমার স্ত্রী।’
ইঙ্গিতের
ব্যাপারে আলভী লিখেছেন, ‘আপনাদের মতে আমার না হয় তিথীর সাথে পরকিয়া, তাহলে ইকরার ব্যাচমেট
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি, ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টের ৪১তম ব্যাচের ‘নাবিদ’-এর
সাথে ইকরার কী? ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করে দুই পরিবারের কাছে ধরা খাওয়ার পর, ইকরা আমার
বিবাহিত স্ত্রী থাকার পরও ইকরার পরিবার ইকরাকে ইকরার সম্মতিতে আরেক জায়গায় বিয়ে দিয়ে
দেয়। হ্যাঁ, আমার স্ত্রী থাকা অবস্থায় ইকরা আরেকটি বিয়ে করে, বাসর করে। আমাকে ডিভোর্স
না দিয়ে তার পরিবারের সম্মতিতে তবে ভুল বুঝতে
পেরে যখন ইকরা আমার কাছে ফিরে আসতে সিদ্ধান্ত নেয়, আমি তাকে মাফ করে বুকে পাথর রেখে
মেনে নেই। একজন স্বামী হয়ে এই সিচুয়েশন বয়ে বেড়ানো খুব একটা সুখের না অবশ্যই।’
এই
অভিনেতা লেখেন, ‘ওপরের কোনো কিছুই এটা প্রমাণ করে না যে, ইকরা আমাকে ভালবাসতো না। ইকরা
আমাকে ভয়ংকর ভালবাসতো। আমিও বাসতাম। ত্যাগ ওর যেমন ছিল, আমারও ছিল। যুদ্ধ দুজনেরই
করতে হয়েছে। ভুল-ত্রুটি, ঝগড়া, কলহ অন্য সব সংসারের স্বামী-স্ত্রীর মতো আমাদেরও ছিল।
কিন্তু সময়ের কালক্রমে ভালবাসাটা মায়ায় রূপ নেয়। মায়া, অভ্যস্ততা ও সন্তানের সেতুবন্ধন
সবকিছুকে ছাপিয়ে ভালবাসার জায়গাটায় আসন গেড়ে বসেছিল। ওপরের মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের
প্রতিশোধপরায়ণতা ও আমার স্বকর্মসংস্থানের মানুষদের বেইমানি হয়তো আমাকে দমিয়ে দেবে,
হয়তো বেঁচে থাকতে দেবে না।
পোস্টের শেষে আলভী লিখেছেন, ‘১ জন মানুষও যদি বিবেচনার
দুয়ার খুলে লেখাগুলো পড়ে থাকেন। দয়া করে প্লিজ তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে নিয়েন। মুছে যেতে
দিয়েন না । আমার সন্তানের জন্য হলেও। কারণ আমার জায়গা আমার সন্তানের জীবনে কেউ পূরণ
করতে পারবে না। এটা বাস্তব। আমাদের দুজনের দুজনকে দরকার। আপনারা পারলে আমাকে মাফ করে
দিয়েন।’
মন্তব্য করুন


শেরপুর-৩
(শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর বৈধ প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা যাওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী উক্ত আসনের
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট স্থগিত করা হয়েছে।
আজ
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য
জানিয়েছেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব
আদেশে বলা হয়েছে, কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন বাতিল করবেন
রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ক্ষেত্রে নতুন করে তফসিল দিতে হবে।
তবে
আগের বৈধ প্রার্থীদের নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রয়োজন হবে না।
বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর বৈধ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মারা যাওয়ায় এ আসনে নতুন তফসিল দেবে
নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গণপ্রতিনিধিত্ব
আদেশের অনুচ্ছেদ ১৭-এর দফা (১)-এ বলা হয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি-এমন কোনো
বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে রিটার্নিং অফিসার গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট
নির্বাচনসংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বাতিল করবেন।
দফা
(২)-এ বলা হয়েছে, যে ক্ষেত্রে দফা (১)-এর অধীন কোনো নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল
করা হয়, সে ক্ষেত্রে এই আদেশের অধীন নতুন কার্যক্রম এমনভাবে শুরু করতে হবে, যেন এটি
একটি নতুন নির্বাচন।
তবে
শর্ত থাকে যে, অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করা
বা অনুচ্ছেদ ১৩-এর অধীন পুনরায় অর্থ জমা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন হবে না।
মন্তব্য করুন


পবিত্র
লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ
জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পবিত্র এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে সবাইকে
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ
করার আহ্বান জানান।
সোমবার
(১৬ মার্চ) দিবাগত রাতের পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে আজ রবিবার (১৫ মার্চ) দেওয়া বাণীতে
এ শুভেচ্ছা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন,
‘লাইলাতুল কদর মহিমামণ্ডিত ও বরকতময় এক রাত।
পবিত্র
কুরআনুল করিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ
রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা
ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।’
তারেক
রহমান বলেন, ‘এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তাওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের
এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির
জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি,
ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।’
তিনি
বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে
বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। আমি মহান আল্লাহ তাআলার
দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার
ওপর বর্ষণ করেন। আমাদের দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে
পরিচালিত করেন।’
তিনি
আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের মহিমা আমাদের জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি
ও কল্যাণ বয়ে আনুক—এই কামনা করি।’
মন্তব্য করুন


বিয়ে
কেবল একটি সামাজিক বন্ধন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিশ্বাস, রীতি ও সংস্কৃতির বহুস্তরীয়
ইতিহাস। পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিয়েকে ঘিরে এমন কিছু প্রথা প্রচলিত আছে, যা অন্য সংস্কৃতির
মানুষের কাছে বিস্ময়কর বা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তেমনই এক ব্যতিক্রমী বিবাহরীতি
দেখা যায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে যেখানে বিয়ের পর টানা ৭২
ঘণ্টা নবদম্পতিকে টয়লেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হয়।
এই
অদ্ভুত রীতিটি মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে বসবাসকারী 'তিদোং' নৃগোষ্ঠীর
ঐতিহ্য। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিবাহপ্রথাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত হলেও তিদোং
জনগোষ্ঠীর কাছে এটি কোনো নিষ্ঠুর নিয়ম নয়; বরং এটি দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা, ধৈর্য,
পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রতীক।
তিদোংরা
একটি অস্ট্রোনেশীয় নৃগোষ্ঠী, যাদের বসবাস সাবাহ, কালিমান্তান ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায়।
তিদোং সমাজে বিয়ে মানে শুধু দু’জন মানুষের মিলন নয়; এটি দুই পরিবার,
কখনো কখনো গোটা সম্প্রদায়ের সম্পর্কের বন্ধন।
এই
রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নবদম্পতিকে একটি নির্দিষ্ট ঘরে রাখা হয়। সেখানে
তারা বাইরে যেতে পারে না, কোনো শারীরিক পরিশ্রম করতে পারে না এবং সবচেয়ে কঠোরভাবে মানা
হয় টয়লেট ব্যবহার। এই তিন দিনে খাবার ও পানীয়ও সীমিত পরিমাণে দেওয়া হয়, যাতে শরীরের
প্রাকৃতিক চাহিদা কমে। আত্মীয়স্বজন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকেন, যাতে কেউ নিয়ম ভাঙতে
না পারে।
এই
কঠোর নিয়মের পেছনে রয়েছে গভীর বিশ্বাস। তিদোং সমাজে ধারণা করা হয়, বিয়ের পর প্রথম তিন
দিন এই নিয়ম মেনে চলতে পারলে দাম্পত্য জীবন হয় দীর্ঘস্থায়ী, শান্তিপূর্ণ ও কলহমুক্ত।
বিপরীতে নিয়ম ভঙ্গ করলে সংসারে অশান্তি, দুর্ভাগ্য বা বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকে বলে মনে
করা হয়। তাই এই তিন দিনকে অনেকেই ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য এক ধরনের পরীক্ষা হিসেবে দেখেন।
একসময়
বিয়ে ছিল পারিবারিক ও সামাজিক জোটের প্রতীক। সেই বন্ধনকে অটুট রাখতে নানা শপথমূলক আচার
চালু হয়, যা সময়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক রীতিতে রূপ নেয়। ৭২ ঘণ্টার এই নিষেধাজ্ঞাও সেই
ঐতিহ্যেরই অংশ।
তবে
আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি অস্বীকার করার উপায় নেই। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব
বা মলত্যাগ বন্ধ রাখা শরীরের জন্য ক্ষতিকর চিকিৎসাবিজ্ঞানে যা সুপ্রতিষ্ঠিত। সে কারণে
বর্তমানে অনেক তিদোং পরিবার এই রীতিকে শিথিলভাবে পালন করে।
আধুনিক
শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক যোগাযোগের প্রভাবে তিদোং সমাজেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন
প্রজন্ম আগের মতো কঠোরভাবে এই নিয়ম অনুসরণ না করলেও এটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কারণ
এই রীতি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও বিয়ের উৎসবের ঐতিহ্যবাহী আবহের
সঙ্গে এখনো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।
মন্তব্য করুন


ভারী বর্ষণের পর ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) এ তথ্য জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার কর্মকর্তা বুদি ইরাওয়ান জানান, বৃহস্পতিবার সিলাক্যাপ অঞ্চলের সিবেউনিং গ্রামে আকস্মিক ভূমিধসে বেশ কয়েকটি বাড়ি মাটি চাপা পড়ে। প্রথমদিকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
বুদি বলেন, “আমরা আরও তিনটি মৃতদেহ পেয়েছি। এখনো ১৭ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের খুঁজে পেতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ নিখোঁজ ব্যক্তিরা ৩ থেকে ৮ মিটার গভীরে চাপা পড়ে থাকতে পারেন।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া বিভাগ জানায়, দেশে সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুম আগামী এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও অতিভারি বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মধ্য জাভার পেকালোঙ্গান শহরে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট আরেকটি ভূমিধসে কমপক্ষে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ সোমবার বলেছেন, অন্তর্বর্তী
সরকার দেশে আরও বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যাপক শ্রম সংস্কারে
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রম সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড়
শ্রম ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদল তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে
সাক্ষাত করতে গেলে তিনি একথা বলেন।
প্রফেসর
ইউনূস প্রতিনিধি দলকে বলেন,
“আমরা আমাদের শ্রম আইনকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সম মানসমম্পন্ন করতে চাই। এটা আমার
অঙ্গীকার।” তিনি
বলেন, অন্তর্বর্তী
সরকার কেবলমাত্র দেশের শ্রম আইন সংস্কার করতে এবং এ ব্যাপারে স্থানীয় ও
আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার গোষ্ঠী,
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ নিরসনের জন্য একজন বিশেষ
দূত নিয়োগ করেছে।
প্রতিনিধিদলের
নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন শ্রম বিভাগের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি থিয়া মেই লি ও
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শ্রম বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি কেলি ফে রড্রিগেজ।
দুই
জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন,
যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক শ্রম অধিকার গোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ থেকে পোশাক ও জুতা
ক্রয়কারী শীর্ষ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো শ্রম আইন সংস্কার ও বাংলাদেশের কারখানায়
শ্রমিক-বান্ধব পরিস্থিতি তৈরিতে অধ্যাপক ইউনূসের পদক্ষেপকে সমর্থন করে।
সরকার
ও স্থানীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৮-দফা চুক্তিসহ পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করে
কেলি ফে রড্রিগেজ বলেন,
প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত সাড়ে তিন মাসে শ্রম খাতের
জন্য যা করেছেন, ‘সেগুলো সবই তার বিস্ময়কর
সাক্ষ্য।
মার্কিন
কর্মকর্তারা মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে লাখো গার্মেন্টস ও পাদুকা শ্রমিককে সুরক্ষা
দেওয়ার জন্য কারখানায় ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রতি বছর মজুরি পর্যালোচনার
আহ্বান জানান।
পোশাক
কারখানায় ন্যূনতম মজুরির সুবিধাদান প্রসঙ্গে থিয়া মে লি বলেন, ‘এটি ব্যবসার
জন্য ভালো ও অর্থনীতির জন্যও ভালো।’
তিনি বলেন, কর্মী
ইউনিয়ন হল ‘গণতন্ত্রের
প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র।’
তিনটি
শীর্ষ মার্কিন ব্র্যান্ড পিভিএইচ,
ক্যালভিন ক্লেইন এবং গ্যাপ ইনকর্পোরেটেডের সিনিয়র কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত
ছিলেন।
পিভিএইচ
কর্পোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল ব্রাইড বলেছেন, তারা
বাংলাদেশে শ্রম সংস্কারকে সমর্থন করেছেন। তারা কম্বোডিয়ায় অনুরূপ প্রচেষ্টাকে
সমর্থন করেছেন।
প্রফেসর
ইউনূস ব্র্যান্ডগুলোকে প্রতি জানুয়ারিতে তাদের অর্ডারের মূল্যবৃদ্ধি ঘোষণা করার
আহ্বান জানান, যাতে
বাংলাদেশের নির্মাতারা সেই অনুযায়ী শ্রমিকের মজুরি বাড়াতে পারে।
বৈঠকে
মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মেগান বোল্ডেবও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র
প্রফেসর ইউনূসের ব্যাপক শ্রম সংস্কারকে পূর্ণ সমর্থন করে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার
সাথে অংশীদার হতে চাই।’
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাবের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি গ্রেড-১) এ কে এম শহিদুর রহমান,
বিপিএম, পিপিএম, এনডিসি এবং এসবির অতিরিক্ত আইজি (গ্রেড-১) মোঃ গোলাম রসুল দীর্ঘ কর্মজীবন
শেষে গতকাল রবিবার অবসরে গেলেন। তাঁদের অবসর উপলক্ষে আজ সোমবার (১৬ মার্চ) বিকালে পুলিশ
হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে এক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
ইন্সপেক্টর
জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
সভায়
অতিরিক্ত আইজিগণ, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে
বিদায়ী কর্মকর্তাগণের পেশাগত ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পুলিশ কর্মকর্তাগণ
স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন।
বিদায়ী
অতিরিক্ত আইজিগণ তাঁদের বক্তব্যে জনগণের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করার
জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতার জন্য সকল সহকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সভাপতির
বক্তব্যে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে বিদায়ী কর্মকর্তাগণ
অত্যন্ত সুনাম ও সফলতার সাথে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁরা বাংলাদেশ পুলিশের
উন্নয়নে অনন্য অবদান রেখেছেন। আইজিপি বিদায়ী কর্মকর্তাগণের সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ
অবসর জীবন এবং সার্বিক সুস্থতা কামনা করেন।
জনাব
এ কে এম শহিদুর রহমান ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ
পুলিশে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন।
অপর
বিদায়ী অতিথি জনাব মোঃ গোলাম রসুল ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে
বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি পদে দায়িত্ব
পালন করেন।
মন্তব্য করুন


সুনামগঞ্জের
জগন্নাথপুরে জামায়াত নেতা পিয়ার আলীর বাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি
অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় বুধবার (২৫ মার্চ) ওই জামায়াত
নেতার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত
পিয়ার আলী উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামিসি (রসুলপুর) গ্রামের আরশদ আলীর ছেলে ও
জামায়াতে ইসলামী শ্রীরামিসির আঞ্চলিক শাখার সভাপতি। এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত
ওই জামায়াত নেতা পলাতক রয়েছে।
মামলা
সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর
১৭ পদাতিক ডিভিশনের একটি অভিযান দল উপজেলার শ্রীরামিসি (রসুলপুর) গ্রামের বিশেষ অভিযান
পরিচালনাকালে জামায়াত নেতা পিয়ার আলীর বসতঘর থেকে বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি
অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে, একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি বিদেশি রিভলভার,
একটি একনলা বন্দুক, একটি দেশি পাইপগান, বিভিন্ন ধরনের ১৩ রাউন্ড গুলি, ১৪ বক্স ক্যালিবারের
এয়ারগানের গুলি ও একটি খালি ম্যাগাজিন পিস্তলসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী ধারালো অস্ত্র উদ্ধার
করা হয়েছে। পরে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিষয়টি
নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায়
বুধবার পুলিশ বাদী হয়ে পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পিয়ার
আলী পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।’
মন্তব্য করুন


জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আগামী ১৯ ও ২০ নভেম্বর এর (রবিবার ও সোমবার) সব পরীক্ষা স্থগিত
করা হয়েছে।
১৮
নভেম্বর (শনিবার) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো
হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে ওই দুদিনের সব
পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্থগিত এসব পরীক্ষার সংশোধিত তারিখ
সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরে জানানো হবে। এ ছাড়া পূর্ব ঘোষিত অন্যান্য পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি
অপরিবর্তিত থাকবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর)
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎকালে, সেনাপ্রধান
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান
উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সেনাবাহিনী গৃহীত
বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন।
আলোচনাকালে, সেনাপ্রধান তাঁর সাম্প্রতিক
সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফরের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। এই সফরটি দুই
দেশের মধ্যকার সম্পর্কোন্নয়ন ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সেনাপ্রধান
আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, সদ্য সমাপ্ত বিবিধ বঞ্চিত সেনা
কর্মকর্তাদের সুবিচার নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত উচ্চপদস্থ পর্ষদের মূল্যায়ন ও সুপারিশ এবং
বিবিধ কারণে চাকরিচ্যুত জেসিও ও অন্যান্য পদবীর সেনা সদস্যদের চলমান উচ্চপদস্থ পর্ষদ-এর
অগ্রগতির বিষয়ে সেনাপ্রধান প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।
এ ছাড়া জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত
ছাত্র-জনতার চিকিৎসায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত
করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর ভূমিকা
ও অবদানের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা
প্রদান করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
সেনাবাহিনী তাদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আর সেই স্বাধীনতা রক্ষা
করেছে ২০২৪ সালের ছাত্রদের আন্দোলন। এর মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে। যেমন,
শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন, চিকিৎসা সুবিধা যেন সবাই পায়, রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে
পারে, যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
রোববার
(২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় চট্টগ্রামে নগরীর পলোগ্রাউন্ডে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক
রহমান বলেন, সমালোচনার মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন হবে না। মানুষ পরিবর্তন
ও রাজনৈতিক অধিকার চায়। আমাদের দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমালোচনার
মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন হবে না।
চট্টগ্রামে
জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে খালেদা
জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এ চট্টগ্রামের সঙ্গে আমি এবং আমার পরিবারের আবেগের
সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে। যার মাধ্যমে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুবিধা
পায়।
বিএনপি
চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি একমাত্র দল, যারা যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই দেশের মানুষের
ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই বিএনপির রাজনীতির
মূল লক্ষ্য। সরকার গঠনে সমর্থ হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা স্বাস্থ্যসেবা
মানুষের ঘরে পৌঁছে দেব। সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে।
কৃষক
ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে
হলে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ জন্য কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য আমরা কৃষক ও
কৃষাণীদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ওই কার্ড ব্যবহার করে তার স্বল্পমূল্যে
ঋণ নিতে পারবে।
নারীকে
কর্মহীন রেখে দেশকে প্রত্যাশিত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,
খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিল তখন মেয়েদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা বেতনে করা
হয়েছিল। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। গ্রামগঞ্জসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের
কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যে পরিকল্পনা গ্রহণ
করেছে, সরকারে গেলে ধীরে ধীরে সেগুলো বাস্তবায়ন করব। পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন করতে
হয় তাহলে বিএনপিকে সরকার গঠন করতে হবে। আপনারা বিএনপির পাশে থাকেন।
বিএনপি
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি এক লাখ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও
খাল খনন করবে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির
টুঁটি চেপে ধরবে বিএনপি সরকার। অপরাধী যেই হোক ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি সরকার গঠন
করলে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।এর আগে দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে চট্টগ্রামে
পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী মহাসমাবেশস্থলে তারেক রহমানের গাড়ি প্রবেশ করে। কঠোর নিরাপত্তার
মধ্যে তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে মুহুর্মুহু করতালিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। হাস্যোজ্জ্বল
বিএনপি চেয়ারম্যানও হাত নেড়ে নেতাকর্মী-সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এটি তারেক রহমানের
নির্বাচনী প্রচার দ্বিতীয় পর্ব; গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু
করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
মন্তব্য করুন