

রাজধানীর
মিরপুরে টিসিবির পণ্য নিতে এসে দেয়াল ধসে নাছিমা বেগম নামে এক নারী নিহতের খবর পাওয়া
গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ থেকে ৫ জন।
মঙ্গলবার
(২৮ জুলাই) মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর (লাভ রোড়, মন্দির রোড়)
ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত
নাছিমা বেগম মিরপুর ২ নম্বর জনতা হাউজিংয়ের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী
ওই এলাকার ডাব বিক্রেতা শাকিব বলেন, টিসিবির পণ্য নিতে অনেকে লাইন ধরে দাঁড়িয়েছিলেন।
হঠাৎ করে দেয়াল ধস পড়তে দেখে আমি দৌড়ে যাই। এ সময় দেয়াল চাপা পড়ে ৭ থেকে ৮ জন আহত হন।
এরমধ্যে মুখ তেঁতলানো ও পা ভেঙে যাওয়া এক নারীকে দেখতে পাই। নাসিমা নামে ওই নারীর মৃত্যু
হয়েছে।
নাসিমার
স্বজন তারেক বলেন, নাসিমা আমার পাশের বাসায় থাকেন। তিনি দেয়াল ধসে পড়ে মারা গেছেন।
ডিএমপির
মিরপুর জোনের পুলিশ সুপার মোস্তাক সরকার বলেন, আমি ঘটনাস্থলে আছি। হতাহতের সংখ্যা পরে
জানা যাবে।
মন্তব্য করুন


কুষ্টিয়া
সদর উপজেলায় পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে চালক ও তার সহকারীর
প্রাণ গেছে।
রোববার
( ২১ জুন ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কের ত্রিমোহনী ও বটতৈল এলাকার মাঝামাঝি
স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলী জানান।
নিহতরা
হলেন- ট্রাকচালক আনিচুর রহমান আনিস এবং তার সহকারী রতন আলী। তাদের বাড়ি ফরিদপুর সদর
উপজেলায়।
ওসি
সেকেন্দার আলী বলেন, “পাথরবোঝাই ট্রাকটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ থেকে ফরিদপুরে
যাচ্ছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি খাদে উল্টে পড়ে। সেখানে দুর্ঘটনার
পর ট্রাকটিতে আগুন ধরে যায়।
“খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে
আনে। পরে সেখান থেকে চালক আনিচুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।”
তার
সহকারী রতন পাথরের নিচে চাপা পড়ায় তাকে উদ্ধারে কিছুটা সময় লেগে যায় বলে জানান কুষ্টিয়া
ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলের টীম লিডার সিনিয়র ষ্টেশন ইনচার্জ আরশেদ আলী।
তিনি
বলেন, “যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটছে বলে প্রাথমিকভাবে
ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর আসল জানা যাবে।”
মন্তব্য করুন


রোববার দুপুরে নাটোরের নলডাঙ্গায় ১১টি মোটরসাইকেলে গ্রামবাসীর ওপর সন্ত্রাসীরা আক্রমণের চেষ্টা চালাচ্ছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সেনাসদস্যরা। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পচারমোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নলডাঙ্গা থানার ওসি মোহা. মনোয়ারুজ্জামান বলেন, রোববার দুপুরে ২০ থেকে ২২ জনের একটি দল পচারমোড় এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রামবাসীর ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালায়। এ সময় এলাকাবাসী সেনাবাহিনী টহল দলকে বিষয়টি জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সশস্ত্র দল ১১টি মোটরসাইকেল রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
সেনাসদস্যরা সন্ত্রাসীদের রেখে যাওয়া মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করে থানায় হস্তান্তর করেছেন ।
মোটরসাইকেল মালিকদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন


অক্সিজেন
না দেওয়ায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে
চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ, বিক্ষোভ এবং মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে জটিলতার
অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মৃত নারীর ছেলেকে মায়ের মরদেহ ফেরত পেতে চিকিৎসকদের সামনে
কান ধরে উঠবস করতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে কান ধরে উঠবসের ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার
(১৩ জুন) ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের
হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়।
স্বজনদের
দাবি, ভর্তির মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় তিনি মারা যান। এসময় অক্সিজেনের অভাব ও চিকিৎসায়
অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শী
ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর
স্বজনদের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাকিব
হাসান ও ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এদিকে,
চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
তারা ঘটনার বিচার দাবি করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন।
শনিবার
বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
হয়। একইসঙ্গে মরদেহ মর্গে নিয়ে রাখা হয়।
অন্যদিকে,মরদেহ
দ্রুত হস্তান্তরের দাবিতে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর
মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে
পড়ে।
মৃতের
বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মা শনিবার ভোরে মারা গেছেন।
প্রায়
১০ ঘণ্টা হয়ে গেছে, আমরা মায়ের মুখ দেখতে পারিনি। মায়ের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে
মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা বারবার ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু মরদেহ ফেরত পাইনি।’
স্বজনদের
দাবি, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার জেরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব
করেন এবং নানা শর্ত জুড়ে দেন।একপর্যায়ে মৃতের ছোট ছেলে রিফাত হোসেনকে হাসপাতালের পরিচালকের
কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসকদের কাছে কানধরে উঠবস করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।
এ
বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রংপুর
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, হাসপাতালের
সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা দেখা গেছে। চিকিৎসকের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়
ও অমানবিক।ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নিরাপত্তার স্বার্থে মরদেহটি মর্গে
সরিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা
হয়।
মন্তব্য করুন


ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের দাবি দীর্ঘ ৪০ বছর পর পূরণ হতে যাচ্ছে।
এমপিওভুক্তির প্রস্তাবের ফাইলে শেষদিন বুধবার (৫ মার্চ) স্বাক্ষর করে গেছেন বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ফলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫১৯ ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ৬ হাজারের বেশি শিক্ষকের ভাগ্য খুলছে।
আজ বিদায়ী বক্তব্যে বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ নিজেই। আজ বুধবার (৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শেষ কর্মদিবসে সেই ফাইলে স্বাক্ষর করে গেছেন বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা। সেই ফাইল এখন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে। তার সম্মতি মিললে মে মাসের মধ্যে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেতে পারেন।
তিনি বলেন, দেশে অনেক ইবতেদায়ী মাদ্রাসা আছে। এর মধ্যে অনেকগুলো অনানুষ্ঠানিক। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানের নথি (রেজিস্ট্রেশন) আছে। সরকারি প্রাথমিক স্কুলের মতো তারা বাংলা, ইংরেজি, গণিত পড়াচ্ছে। অবকাঠোমো, শিক্ষক থাকার পরও তাদের এমপিওভুক্ত করা হয়নি। তাদেরকে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব। সেই কাজ আমি করে দিয়েছি।
এদিকে আজ বঙ্গভবনে নতুন শিক্ষা উপদেষ্টার শপথ অনুষ্ঠানে এই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়টি অর্থ বিভাগের সচিবকে অবহিত করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। এ সময় অর্থ সচিব প্রধান উপদেষ্টার সম্মতি মিললে টাকা ছাড় করার বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।
মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস থেকে ইবতেদায়ী শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার জন্য কাজ করছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ। সারা দেশে এডুকেশনাল ইনস্টিটিউট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনাক্তকারী নম্বর আছে (ইআইআইএন) এমন ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসাকে এমপিও করার ফাইল প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে।
এ নিয়ে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, বিদায়ী উপদেষ্টা এই ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। ফাইলটি এখন প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের অনুমতির জন্য পাঠানো হবে। তিনি সদয় অনুমতি দিলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হবে।
কতদিন লাগতে পারে- জানতে চাইলে সচিব বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের বাজেট বরাদ্দ থেকে অর্থ ছাড়ের আশ্বাস দিয়েছেন। মে মাসের বেতন যেন শিক্ষকরা পান সেই চেষ্টা চালাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


জুলাই শহীদ পরিবারদের এককালীন টাকার
পাশাপাশি মাসিক ভাতা ও চাকরির কথা বলা হয়েছে। তবে চাকরিতে এটা কোনো নতুন কোটা হিসেবে
যুক্ত হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য
ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম তার ফেরিভাইড ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন,
জুলাই শহীদ পরিবারদের এককালীন টাকার পাশাপাশি মাসিক ভাতা ও চাকরির কথা বলা হয়েছে। চাকরিতে
এটা কোনো নতুন কোটা হিসেবে যুক্ত হবে না। পরিবারের কর্মক্ষম কোনো একজন ব্যক্তিকে একবারের
জন্যই যোগ্যতার বিচারে সরকারি-আধা সরকারি অথবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার
কথা বলা হয়েছে। কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য এটা বিবেচ্য হবে না। আহতদের ক্ষেত্রে
যারা সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (অন্ধ কিংবা অঙ্গহানী) এবং আর কখনো কর্মক্ষম
হতে পারবে না তাঁদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরকম আহতদের একটা বড় অংশই
তরুণ এবং বাকি জীবন তাঁদেরকে আন্দোলনের ক্ষত বয়েই বেড়াতে হবে, অনেককে দীর্ঘকাল চিকিৎসার
মধ্য দিয়ে যেতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের পুনর্বাসন এবং
এই পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা দেওয়াটা আমাদের অঙ্গীকার ছিলো এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বও
বটে। কয়েক হাজার পরিবার অচল হয়ে গিয়েছে এই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের ফলে। তাঁদের এই ক্ষতি
আমরা কোনোকিছু দিয়েই পূরণ করতে পারবো না। আর এই পরিবারগুলো যে কোনো সুযোগ সুবিধার চেয়ে
কেবল সকলের থেকে সম্মান ও মর্যাদা চায়।
মন্তব্য করুন


ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম। অতঃপর বছর দুই বছর আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ১১ বছরের অনামিকা আক্তার জুঁই ও ২০ বছরের যুবক শাকিল ওরফে শাকিব মিয়া। একসময় কোলজুড়ে আসে এক ছেলে সন্তান। সেই শিশুকে কেড়ে নিয়ে মাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। ১৩ বছরের জুঁই ৭ মাসের ছেলেকে ফিরে পেতে দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের।
মঙ্গলবার
(২৮ জুলাই) ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইডের বিচারক মো. সায়েম খান বাচ্চাটিকে তার শিশু মায়ের
কাছে থাকার আদেশ দেন। আড়াই মাস পর ছেলেকে কোলে ফিরে পেয়েছেন জুঁই।
আড়াই
মাস আগে শিশুটিকে রেখে মা জুঁইকে বাসা থেকে বের দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ এনে গত ১ জুলাই
লিগ্যাল এইডে এমন অভিযোগ দেওয়া হয় শাকিল এবং তার মা আছমার বিরুদ্ধে। বাচ্চাকে উদ্ধারের
প্রার্থনা জানান জুঁই। তাদের ১৬ জুলাই লিগ্যাল এইডে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ওইদিন তারা হাজির হননি। এজন্য বিচারক সায়েম খান শিশুটিকে উদ্ধার করতে চকবাজার থানা
পুলিশকে নির্দেশ দেন। নির্দেশমতে গতকাল সোমবার শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার
শাকিল ও তার মা আছমা লিগ্যাল এইডে হাজির হন। শিশুটিকেও নিয়ে আসা হয়। আসেন জুঁইও। পরে
শুনানি শুরু হয়।
প্রথমে
বিচারক সায়েম খান শিশুটির বাবাকে ডেকে নিয়ে পাশে বসান। এরপর জুঁইকেও ডেকে নিয়ে সামনে
বসানো হয়। এসময় জুঁইয়ের কোলে ছিল তার ৭ মাসের বাচ্চাটিও। সেখানে দুপক্ষের আইনজীবীরাও
উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিচারক জুঁইয়ের কাছে জানতে চান, ‘তোমার বাবু?’ জুঁই বলেন, ‘হ্যা।
আমার ছেলে।’ ছেলেকে পেয়ে খুশি কি না জানতে চান বিচারক। জুঁই বলেন,
‘অনেক খুশি।’
এরপর
বিচারক সবার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জুঁই প্রথম যেদিন এখানে আসে, বিশ্বাস করিনি ওর বাচ্চা
আছে। বিশ্বাস করার মতোও না বিষয়টা। সে নিজেও একটা বাচ্চা।’
এরপর বিচারক শাকিলের কাছে তার বয়স জানতে চান। শাকিল বলেন, ‘২২ বছর বয়স।’এটুকু
মেয়েটাকে কীভাবে নিয়ে গেলে বিচারক জানতে চাইলে শাকিল দাবি করেন, ‘যখন নিয়ে গেছি প্রাপ্তবয়স্ক।
ওর একটা মামাতো বোন আছে। ওর চেয়ে এক বছরের ছোট। তার থেকে ওকে তিন গুন বড় দেখায়।’
জোর
করে আটকে রাখা হয়েছে কি না বিচারক জানতে চান। শাকিল বলেন, ‘না আটকে রাখিনি।’
এসময় জুঁইয়ের আইনজীবী মৃনাল কান্তি মিত্র বিচারককে বলেন, ‘পারিবারিক কোর্টে গার্ডিয়ানশিপের
মামলাও করে দিয়েছে।’ পরে বিচারক শিশুটি তার মায়ের কাছে
থাকবে মর্মে জানান।
এ
পর্যায়ে শাকিলের আইনজীবী খন্দকার মো. শাহজাহান ইসলাম বিচারককে বলেন, ‘বাচ্চাকে আটকে
রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ যদি মনে করি তাহলে বিষয়টা একপক্ষে চলে যায়। আমরা বিশ্বাস করি
বা না করি, ঘটনা কিন্তু ঘটে গেছে। মা তার বাচ্চাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। এজন্য তাকে
আর তার মায়ের কাছে দেওয়া যায় না। এজন্য গার্ডিয়ানশিপের মামলা করি। এখন বাচ্চাটা মায়ের
কাছে গেলে বিষয়টা সাংঘর্ষিক হয়ে যায় না?’
তখন
বিচারক বলেন, ‘যেহেতু বাচ্চাটাকে নিয়ে আসা হয়েছে, মায়ের কাছে থাকুক। মানবিক দিক তো
দেখতে হবে।’
বাচ্চাকে
মায়ের কাছে রাখার আদেশ দিয়ে আগামী মঙ্গলবার শুনানির পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন
লিগ্যাল এইড অফিসে কর্মরত (জেল অর্ডার) মো. লুৎফর রহমান। শুনানি শেষে জুঁই বিচারকের
কাছে জানতে চান, বাচ্চা তার কাছে থাকবে কি না। বিচারক বলেন, ‘হ্যা, তোমার কাছে থাকবে।
জুয়েল খান ও লিমা আক্তারের একমাত্র কন্যা জুঁই। জুয়েল খান অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা
নির্বাহ করেন। আর লিমা আক্তার দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব যান। মেয়েকে নিয়ে
জুয়েল খান হাজারীবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। এদিকে সৌদি আরবে থাকাবস্থায় লিমা মেয়ের বিয়ের
কথা শুনতে পান। ১৪ দিন আগে দেশে ফিরেছেন। আজ তিনিও লিগ্যাল এইড অফিসে উপস্থিত হন। তার
স্বামী জুয়েল খানও ছিলেন।
লিমা
অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে পড়াশোনা করতো। এই ছেলে ফুঁসলায়ে আমার মেয়েকে নিয়ে অনেক
দিন রাখে। এরপর নিয়ে আসি। আবার আমার মেয়েকে নিয়ে গেছে। আমি তো শুরু থেকেই এই ছেলের
কাছে মেয়ে দেবো না। আমার যদি ছেলের ফ্যামিলি দেখে পছন্দ হয় নাই। আমি মেয়ে দেব কেন?
আমার মেয়ের তো বিয়ের বয়স হয়নি। ওর কেবল ১৩ বছর বয়স।’
জুয়েল
খান বলেন, ‘তাকে (শাকিলকে) বলি আমার মেয়ে মেট্রিক পরীক্ষা দিবে তারপর বিয়ের কথা বলবো।
ও আমার মেয়েকে ভাগায় নিয়ে যায়। এক সপ্তাহ রাখে। মান-সম্মানের দিকে তাকায়ে কিছু বলিনি।
পরে আবার ভাগায়ে নিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করছে। কোন জায়গায় গিয়ে বিয়ে করছে তাও আমি জানি
না। আমাকে অনেক হুমকি-ধমকি দিছে।’
শাকিল
বলেন, ‘ফেসবুকে ওর সঙ্গে আমার পরিচয়। পরিচয়ের মাসখানেক পর আমাকে বলে, তাকে নিয়ে আসতে।
না নিয়ে আসলে মরে যাওয়ার হুমকি দেয়। কিছু চিন্তা না করে নিয়ে গেছি। বিয়ে করছি। আমার
মা ওরে মাইন্যা নিছে। আমার মা ওরে নামাজ-কালাম পড়তে কয়। আমার মাকে আজে-বাজে কথা বলতো।
মায়ের সাথে বনতো না। ওর জন্য আমি আমার কাছেও অনেক অত্যাচার করছি।’
তিনি
বলেন, ‘পরে ও চলে যায়। ওর বাপে ওকে বরিশালে নিয়ে আটকে রাখে। বাচ্চা হওয়ার পরে আবার
আমার বাসা সোয়ারীঘাটে নিয়ে আসি। আনার পর ওর বাবা যখন আমাদের বাসায় আসতো, তখন ঝগড়া বাঁধতো।
একা থাকলে ঝগড়া হতো না। আমাকে ঘরজামাই থাকতে বলে। আমি থাকি না। ওর বাপে স্ট্রোক করছে
এ কথা বলে তিন মাস আগে এক ঘণ্টার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। বাচ্চা রেখে যাই। এরপর
আর কোনো খোঁজ-খবর নেয় নাই তিন মাসের মধ্যে। এখন তারা দরদ দেখাইতেছে।’
জুঁইয়ের
চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাকিল। জুঁইয়ের আইনজীবী মৃনাল কান্তি মিত্র বলেন, ‘শুটিং
স্পট দেখানোর কথা বলে মেয়েটাকে নিয়ে সেখান থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে আটকে রাখে। শারীরিকভাবে
নির্যাতন করে। ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বলে বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর অধিকার
দেখিয়ে তাকে বারবার নির্যাতন করে। গত ১ জানুয়ারি বাচ্চা ডেলিভালি হয়। বাচ্চাকে রেখে
গত মে মাসে ভিকটিমকে বিদায় করে দেয়। বাচ্চাটাকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে নিতে গার্ডিয়ানশিপের
মামলা করে। তারা নিরুপায় হয়ে লিগ্যাল এইডে আসে। বাচ্চা উদ্ধারে সার্চ ওয়ারেন্ট দেওয়া
হয়। আজ বাচ্চাকে এখানে নিয়ে আসা হয়। বাচ্চাটা মায়ের কাছে থাকবে এমন আদেশ এসেছে।’
মন্তব্য করুন


নির্বাচন
কমিশন গঠন হয়ে গেছে। এখন ধাপে ধাপে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে সরকার বলে মন্তব্য
করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান
আরিফ।
আজ
শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বিআইসিসিতে এশিয়ান আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যমেলার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা
এ এফ হাসান আরিফ বলেন, নির্বাচন কমিশনে যারা এসেছেন সবাই অভিজ্ঞ। তারা ভালো একটি
নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন।
উপদেষ্টা
আরও বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে কাজ চলছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা
এ দেশে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেসরকারি
উদ্যোগে মেলা আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামের মেলার আমেজ এ
মেলায় পেলাম। এ ধরনের মেলায় বিদেশিরাও আসেন। তারা বাংলাদেশে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য দেখতে
মেলায় আসেন। মেলাগুলো আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরার একটা জায়গা। এ মেলা আমাদের পর্যটন
বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত
৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আদলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী
সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে ১৭ দিনব্যাপী এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। মেলা শেষ হবে আগামী
২৩ নভেম্বর।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় ‘ডট ইন্টারনেট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে। ‘বাপে ফোন দেয়, ধরিস না ক্যান? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো’— এরকম কথা বলতে বলতে ওই প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির
করপোরেট কো-অর্ডিনেটর অফিসার সগীর হোসেন আসিফ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা
করেন।
বুধবার
(১০ জুন) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার
(এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি
বলেন, ডট ইন্টারনেট অফিসে হামলার ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তের পর গ্রেফতার
করা হবে।
হামলার
ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাস্ক পরা অবস্থায় সাতজন অফিসে
প্রবেশ করে। প্রথমে তারা অ্যাকাউন্ট শাখায় যায়। সেখানে গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলা অবস্থায়
অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ইব্রাহিম হাওলাদারকে মারধর করা হয়। এসময় হামলাকারীরা বলে, ‘মিঠু
(মিঠু হাওলাদার) ও প্রদীপ (প্রদীপ ঢালী) কই? বাপে ফোন দেয়, ধরিস না ক্যান? বাপের সঙ্গে
কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো।’
পুরো
ঘটনা আবার পাশের একজন ভিডিওকলে বাইরের কাউকে দেখাচ্ছিল। একই সময়ে অফিসে আসার কারণ জানতে
চাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ইলেকট্রিশিয়ান জালালকেও মারধর করা হয়। পরে সবাইকে অফিস থেকে বের
করে দেওয়া হয়।
দুর্বৃত্তরা
যে মিঠুকে খুঁজতে এসেছিল তিনি প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার। ফোন আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে
কেউ কখনো ফোন করেনি। কারা কী কারণে আমার অফিসে হামলা করেছে, কিছুই বলতে পারবো না। অজ্ঞাত
মাস্ক পরা দুর্বৃত্তরা আমার অফিসে এসে আমার অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ও ইলেকট্রিশিয়ানকে
মারপিট করে। মাস্ক পরে থাকায় তাদের কাউকে চেনা যায়নি। তাদের এই অফিসে আসার উদ্দেশ্য
কী, কেন তারা এসেছে—সে বিষয়টি আমার কাছে এখনো স্পষ্ট নয়।
তারা
এমন একটি সময় এসেছিল, যখন অফিসে তেমন কোনো লোক ছিল না। থানায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের
পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, বাকি ব্যবস্থা পুলিশ নেবে’—বলছিলেন
ভুক্তভোগী মিঠু।
মামলার
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর থানার লালমাটিয়া ই-ব্লকের একটি ভবনের তৃতীয় তলায়
অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির অফিসে ২০-২৫ জনের একটি দল মাস্ক পরা অবস্থায় জোরপূর্বক প্রবেশ
করে। পরে কর্মীদের মারধর করে প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রদীপ ঢালী এবং সিটিও মিঠু হাওলাদারকে
খুঁজতে থাকে।
সে
সময় অফিসে উপস্থিত অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ইব্রাহিম হাওলাদার এবং ইলেকট্রিশিয়ান মো.
জালাল তাদের আসার কারণ জানতে চাইলে দুর্বৃত্তরা উত্তেজিত হয়ে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর
শুরু করে। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান এবং পরবর্তীসময়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
হামলাকারীরা
অফিস থেকে একটি সিপিইউ, একটি ওয়াইফাই রাউটার এবং একটি আইফোন মোবাইল চুরি করে, যার আনুমানিক
মূল্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা। যাওয়ার সময় তারা স্টাফদের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়।
মন্তব্য করুন


ফুটবল
ইতিহাসের সেই চিরপরিচিত দৃশ্য, আরও একবার জাদুকরী ফ্রি-কিকে লিওনেল মেসির ট্রেডমার্ক
গোল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বমঞ্চে আজ জর্ডানের বিপক্ষে
মাঠে নেমে স্রেফ ইতিহাস ওলটপালট করে দিলেন লিওনেল মেসি।
রোববার
(২৮ জুন) ম্যাচের ৬০তম মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজকে তুলে নিয়ে ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকাকে
যখন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মাঠে নামান। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই
মাহেন্দ্রক্ষণ ধরা দিল। এক দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে জর্ডানের জাল কাঁপিয়ে আর্জেন্টিনাকে
৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসের অমরত্বের পাতায় সম্পূর্ণ এককভাবে
নিজের নাম লিখিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৭টি
ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য ও অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এলএমটেন।
এই
গোলের আগে বিশ্বকাপের টানা ৬ ম্যাচে গোল করার কীর্তি নিয়ে ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট
ফন্টেইন (১৯৫৮) এবং ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষাসনে বসা ছিলেন
মেসি। জর্ডানের প্রাচীর ভেঙে সেই সাত দশকের পুরনো রেকর্ডকে একাই নিজের করে নিলেন এই
আর্জেন্টাইন জাদুকর।
এর
আগে, ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর দলের রণকৌশলে বড় ট্রিপল পরিবর্তন এনেছিলেন স্কালোনি।
গোলদাতা জিওভানি লো সেলসো এবং তরুণ নিকো পাজকে তুলে নিয়ে মাঝমাঠ ও আক্রমণের ধার বাড়াতে
থিয়াগো আলমাদা ও আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকে মাঠে নামানো হয়। তবে সব আলো কেড়ে নিলেন
বেঞ্চ থেকে উঠে আসা অধিনায়ক মেসি। জর্ডানের বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পেতেই পুরো মেটলাইফ
স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে, আর পরের মুহূর্তেই মেসির চেনা জাদুতে বল যখন জালের
ঠিকানা খুঁজে নেয়, তখন রেকর্ড বুক নতুন করে লেখার আনন্দে মেতে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা।
মন্তব্য করুন


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার
তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে বিগত সরকারের মতো নতজানু হয়ে নয়, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে
ভারতের সঙ্গে মাথা উঁচু করে কথা বলবে।
তিনি আজ (৯ ফেব্রুয়ারি) জেলার কাউনিয়া
উপজেলার তিস্তা রেলব্রিজ সংলগ্ন মাঠে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানির হিস্যা
নিয়ে করণীয় শীর্ষক গণশুনানিতে এ কথা বলেন।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল
ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা
রিজওয়ানা হাসান।
এছাড়াও শুনানিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ
ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাবৃন্দ এবং রংপুরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ
উপস্থিত ছিলেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, প্রয়োজনে
তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হবে।
তিনি বলেন, আপনারা কেমন আছেন, জিজ্ঞাসা
করবো না, জানি আপনারা ভালো নেই।’
উত্তরবঙ্গের যেখানেই গিয়েছি সবার একটাই দাবি, ‘রিলিফ চাই না, তিস্তায় পানি চাই’। তিস্তা মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত অন্তর্বর্তী
সরকারের সময়ে হবে।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, তিস্তার
চরে জনসংখ্যা অনুপাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ব্যবস্থা করবে সরকার। উত্তরবঙ্গের
কৃষিজ পণ্য সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন স্থানে কোল্ড-স্টোরেজ নির্মাণ করার পাশাপাশি কৃষিজ
শিল্পের বিকাশের জন্য চিনিকলগুলো চালু করা হচ্ছে।
পীরগাছা থেকে চিলমারীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
বাড়াতে তিস্তার উপরে ১৪ শ’
মিটার ব্রিজের সার্ভে করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের আমলেই তা উদ্বোধন করা হবে বলে
আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা।
ইতোমধ্যে শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে উপজেলাভিত্তিক
আধুনিক লাইব্রেরি এবং উন্নয়ন কাজের জন্য বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানালেন
তিনি।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা
আন্তর্জাতিক নদী হওয়ায় এই নদীর ওপর কোনো দেশের একক অধিকার নাই। তিস্তার বাঁধ খুলে দেওয়ার
আগে ভারতের উচিত আমাদেরকে অবশ্যই অবগত করা।
চীনের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ২০২৫
সালের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হবে বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তিস্তার ভাঙন রোধে আগামী
সপ্তাহে শুরু হবে ৪৫ কি.মি. তীর-রক্ষা কাজ।
গণশুনানিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তিস্তার পানির সুষম বণ্টন, তিস্তার সঙ্গে শাখা নদীগুলোর সংযোগ করা, তিস্তার পানির ন্যায্যতায় ভারতের সঙ্গে শক্ত অবস্থান, বন্যা-খরায় পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ, তিস্তার দুই পাড়ে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণসহ আরো নানা দাবি তুলে ধরেন তিনি।
মন্তব্য করুন