

লক্ষ্মীপুরে
ঈদের দিন স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় স্বামীকে গ্রেপ্তার
করেছে র্যাব।
শনিবার
সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১ নোয়াখালী কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবির
সেরনিয়াবাত। এর আগে, শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে রিয়াজুল
ইসলাম রাজুকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা
যায়, প্রায় ১০ বছর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রিয়াজুল ইসলাম
রাজুর সঙ্গে পূর্ণিমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ
চলে আসছিল। এরই জের ধরে ঈদের দিন পূর্ণিমা আক্তারকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে
গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান রাজু। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ঢাকায়
পাঠান।
এ
ঘটনায় পূর্ণিমা আক্তারের মা পাখি বেগম বাদী হয়ে মো. রাজুকে প্রধান আসামি করে সদর
মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
র্যাব-১১
নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবির সেরনিয়াবাত জানান, গোপন সংবাদের
ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা
গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কৃষি,
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল
তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে সরকার অনলাইনে কৃষক কার্ড নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী
এক বছরের মধ্যে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।
শুক্রবার
বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের মাঠপর্যায়ের
তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি
বলেন, পর্যায়ক্রমে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রায় আড়াই কোটি থেকে ২ কোটি ৭০ লাখ
কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া নিবন্ধন কার্যক্রমে
শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৫ হাজার কৃষক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। মন্ত্রী
আরও বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভুল ও হালনাগাদ ডাটাবেজ
তৈরি হবে। কৃষকদের দেওয়া সব তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কৃষি ভর্তুকি,
প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ ও সার, কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা
প্রকৃত কৃষকদের কাছে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
আমিন
উর রশিদ বলেন, অতীতে তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক কৃষক সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত
হয়েছেন। কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হবে। তবে নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক
কৃষককে সঠিক তথ্য দিতে হবে। ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে সরকারি সেবা গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি
হতে পারে।
পরিদর্শনের
সময় মন্ত্রী নিবন্ধন বুথ ঘুরে দেখেন এবং কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই,
অনলাইন নিবন্ধন ও তথ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের
নির্দেশ দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ে যেন কোনো ধরনের হয়রানি, অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ
না থাকে। প্রকৃত কৃষকদের তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। পরে তিনি উপস্থিত
কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কৃষকেরা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সার ও বীজের সরবরাহ, সেচ
সুবিধা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং সরকারি সহায়তা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
মন্ত্রী তাদের বক্তব্য শোনেন এবং কৃষকদের কল্যাণে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে
জানান।
চট্টগ্রাম-১২
(পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
কৃষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা প্রকৃত কৃষকের
কাছে পৌঁছাবে এবং কৃষি খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম, চট্টগ্রাম
অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক আপ্রু মারমা,
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ,
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.
মো. ইলিয়াস, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয়
জনপ্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কৃষি
বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষকের জমির পরিমাণ,
চাষাবাদের ধরন, উৎপাদিত ফসল এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই
তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি আরও
কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন


মেহেরপুরে
মাটি কাটার সময় ছয়টি মাইনসদৃশ বস্তু ও কয়েকটি ধাতব বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার
(৮ আগস্ট) দুপুরে জেলার গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে পরিত্যক্ত এক জমি থেকে বস্তুলো
পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি সুরক্ষার জন্য ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা
জানান, বেতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুজ্জামান কালুর একটি পরিত্যক্ত জমিতে দুপুরে
মাটি কাটার কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা। মাটি খোঁড়ার একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মাটির নিচে বেশ
কয়েকটি বক্স ও মাইনসদৃশ বস্তুর সন্ধান পান। বিষয়টি জানাজানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে গাংনী
থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গাটি কর্ডন করে
রাখে।
গাংনী
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানান, উদ্ধারের পর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার
স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল
ইউনিটকে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত
করতে পারবে যে এর ভেতর কোনো সক্রিয় বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে কি না।
উদ্ধার
করা বস্তুর সময়কাল সম্পর্কে তিনি আরও জানান, প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে বস্তুগুলো ১৯৭১
সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর ফেলে যাওয়া হতে পারে। কারণ উদ্ধার
হওয়া মাইনসদৃশ ধাতব বস্তুগুলোর ওপর ‘১৯৬৭’ সাল খোদাই করা রয়েছে। ফলে এগুলো পাকিস্তান
আমলের বিস্ফোরক বা সামরিক সরঞ্জাম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
মন্তব্য করুন


গুমের
ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করে
সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো 'আয়নাঘর' থাকবে না এবং দেশে ফ্যাসিবাদ
ফিরে আসার সকল পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে।
রবিবার
'আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬' উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত
এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিগত দেড় দশকের
ফ্যাসিবাদী শাসনামলের সমালোচনা করে বলেন, ওই সময়ে ভিন্নমত প্রকাশ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন
স্তব্ধ করতে গুম ও 'আয়নাঘর'-এর মতো গোপন বন্দিশালা ব্যবহার করা হয়েছিল। অথচ ফ্যাসিস্টের
আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গুরুতর অপরাধ অস্বীকার করে গেছে। ছাত্র-জনতার
অভ্যুত্থানে সেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন প্রতিশোধ নয়, বরং
প্রতিকারের ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
গুমকে
জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটি মানুষের জীবন,
ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং আইনি সুরক্ষার মতো সাংবিধানিক অধিকারগুলোকে একসঙ্গে ভুলুণ্ঠিত
করে। এ সময় তিনি বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে গুমের শিকার ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল
ইসলাম, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী ও সাধারণ নাগরিককে স্মরণ করেন।
একইসাথে গুম-খুনের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় অবস্থান এবং
অধিকারকর্মী সানজিদা ইসলাম তুলির সোচ্চার ভূমিকার কথা তিনি শ্রদ্ধাভরে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি
বিশ্বাস করেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। তাই তিনি
গুমের শিকার পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের
দায়িত্ব নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এমন একটি নতুন বাংলাদেশ
গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কোনো প্রতিহিংসা ও
ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না।
মুক্তিযুদ্ধ
বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অনুষ্ঠানে গুমের শিকার
হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের দুঃসহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং এসব ঘটনার যথাযথ বিচার
নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন


পার্বত্য অঞ্চলে হামলায় কারা জড়িত তাদের
বের করতে শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী
উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ।
ভূমি উপদেষ্টা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে
সম্প্রীতি নষ্ট করতে বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যারা এসব হামলা চালিয়েছে তারা
কোত্থেকে এসেছে কেউ জানে না।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ের
স্থানীয় সরকার বিভাগ কার্যালয়ে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স হেলেন লাফেইভের
নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপদেষ্টা হাসান আরিফ বলেন, আমরা
ছাত্র-জনতা-শ্রমিকের ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করছি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা
করতে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে এমন একটা পরিবেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু
নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রণালয়গুলো ব্যক্তি নির্ভর হওয়া উচিত না, সিস্টেম নির্ভর হওয়া উচিত। এমন একটা সিস্টেম
প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যাতে মন্ত্রী হিসেবে যে ব্যক্তিই আসনে অধিষ্ঠিত হোক না কেন, সিস্টেমের
কোনো ব্যত্যয় না ঘটে।
মন্তব্য করুন


গভীর
গর্ত বা নলকূপে পড়ে যাওয়া শিশুদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ খাঁচা
উদ্ভাবন করেছেন নাটোরের কৃষক তারা মিয়া। সম্পূর্ণ নিজস্ব ভাবনা থেকে তৈরি করা এই উদ্ভাবনী
যন্ত্রটির কার্যকারিতা সম্প্রতি পর্যবেক্ষণ করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের
মহাপরিচালকও।
গত
রবিবার (৭ জুন) নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মাল্টিপারপাস
ট্রেনিং গ্রাউন্ডে এর একটি সফল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস ও
সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালসহ
অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এই মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
প্রদর্শনীর
অংশ হিসেবে ট্রেনিং গ্রাউন্ডে কৃত্রিমভাবে ৪০ ফুট গভীর একটি গর্ত তৈরি করে সেখানে ১৫
কেজি ওজনের একটি শিশুর ডামি ফেলা হয়। এরপর কৃষক তারা মিয়া তার উদ্ভাবিত খাঁচার সাহায্যে
অত্যন্ত সফলভাবে ডামিটি উদ্ধার করে দেখান। মূলত একটি সুতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বিশেষ
লক সিস্টেম ব্যবহার করে এই খাঁচাটি গর্তে আটকে পড়া ভিকটিমকে নিরাপদে টেনে তুলতে সক্ষম।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই উদ্ভাবনের খবর ফায়ার সার্ভিসের
মহাপরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি রাজশাহীর বিভাগীয় উপপরিচালকের মাধ্যমে তারা মিয়াকে
এই প্রদর্শনীর জন্য আমন্ত্রণ জানান। পেশায় কৃষক হয়েও এমন একটি মানবিক ও কারিগরি উদ্যোগ
নেওয়ার পেছনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন তারা মিয়া। তিনি জানান, ২০২৫ সালে রাজশাহীর
তানোরে গর্তে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই ঘটনার
পর থেকেই তিনি এমন একটি যন্ত্র তৈরির কথা ভাবতে শুরু করেন, যার মাধ্যমে উদ্ধারকারীদের
জটিলতা কমিয়ে দ্রুততার সঙ্গে শিশুদের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়। নিজের এই সাধারণ উদ্ভাবনটি
ফায়ার সার্ভিসের মতো একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন করায় তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করেন।
কৃষক
তারা মিয়ার এই অনন্য ও সময়োপযোগী উদ্ভাবনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ফায়ার সার্ভিস
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, খাঁচাটির কারিগরি
দিকগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় সংস্কার
ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে এটিকে ভবিষ্যতে ফায়ার সার্ভিসের নিয়মিত উদ্ধারকাজের উপযোগী
ও কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর থেকে পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান কার্যক্রম শুরু হবে।
বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আপনি যে দোকানে যান
সে দোকান থেকে পলিথিন ব্যাগ কিনে আনেন। আমি আপনিও বলি না পলিথিন ব্যাগ
দিচ্ছেন কেন, এটা তো নিষিদ্ধ। আমরাও
তো হাতে করে নিয়ে আসি। মার্কেটগুলোতে গিয়ে পলিথিন ব্যাগগুলো প্রথমে আমরা বলব ১৫ থেকে ২০
দিন তারপর আমরা অভিযানে যাব। এগুলো আপাতত সিদ্ধান্ত। এটি তারিখ নির্ধারিত হয়নি। কারণ এর সঙ্গে আরো
কয়েকটি সংস্থা সম্পৃক্ত। এখন সবাই একটা আন্দোলনের মুডে আছে। সবাই সবার দাবি পেশ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওইদিকে ব্যস্ত আছে। তবে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আপনারা কার্যক্রমের শুরু দেখতে পারবেন। বায়ু দূষণ একদিনে সমাধান হবে না, কিন্তু এই শীতের আগে
যেন বায়ু দূষণের কয়েকটি উৎসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেজন্য বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা করছি। এখানে মেগা পরিকল্পনা চলছে কিন্তু বায়ুদূষণের ব্যবস্থা নেই, সেই জায়গাটা আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। কনস্ট্রাকশন হবে, কিন্তু বায়ুদূষণ করে কনস্ট্রাকশন হতে পারবে না। স্বল্প ব্যয়েই এটি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে কিছু কিছু প্রকল্প সহায়তা দিচ্ছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হলো। তাদের প্রত্যাশাটা কি, এবং এই প্রত্যাশাটা আমরা যত তাড়াতাড়ি পূরণ করতে পারব ততো তাদের পক্ষে সম্ভব হবে এই অন্তর্বর্তী সরকারকে আমাদের এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে বাজেট সহায়তা দেওয়ার। আমরা বলেছি বাংলাদেশে আইনকানুন, নীতি ভালো আছে। এগুলোকে আরো ভালো করা যায়। কিন্তু সক্ষমতা না বাড়ালে এগুলোর বাস্তবায়নের জন্য তাহলে দূরত্বটা বেড়ে যাবে। মানুষের প্রত্যাশার জায়গাটা পূরণ হবে না। আইনকানুন, নীতি আমরা আরও সময়োপযোগী করব, আরও শক্ত করব। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের কাজে নেমে যেতে হবে। যেমন মানুষকে আমাদের দেখাতে হবে দূষণকারী কয়জন শাস্তি পাচ্ছে, ময়লা আবর্জনা নদীর পাড় থেকে সরছে, কিছু কিছু নদী পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন করে তাদের (বিশ্বব্যাংক) কাছে নতুন করে প্লাস্টিক, পলিথিন, শব্দ দূষণ ও কয়েকটা নদীতে দূষণ নিয়ে কথা বলেছি, বলেন পরিবেশ উপদেষ্টা।
বিশ্বব্যাংক কী ধরনের সহায়তা দেবে -এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরকে সবচেয়ে দূষিত নদী ও দূষণকারীদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। সেগুলো যখন আমরা পাব তখন একটি মনিটরিং প্ল্যান করে ফেলতে পারব। ফলে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি হয়নি। তবে একটি রূপরেখা তো আছেই, সেখানে নতুন নতুন কম্পোনেন্ট যদি যুক্ত করতে পারি সেটি নিয়ে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছে সর্বাত্মক সহায়তা করার চেষ্টা করবেন।
মন্তব্য করুন


বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রয়াত উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফকে রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী
কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে
১১টার দিকে তাকে সেখানে দাফন করা হয়।
এসময় হাসান আরিফের পরিবারের সদস্যদের
পাশাপাশি সরকারের শীর্ষস্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্র এবং কৃষি
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের
সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদ, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানসহ
অন্যান্য কর্মকর্তারা।
গত ২০ ডিসেম্বর উপদেষ্টা এ এফ হাসান
আরিফ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা
তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
তার প্রথম নামাজে জানাজা ২১ ডিসেম্বর
বাদ এশা ধানমন্ডি সাত নাম্বার বায়তুল আমান মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন বেলা ১১টায় হাইকোর্ট
প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় জানাজা ওইদিন দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত
হয়েছে।
তার জন্য আজ সোমবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক
পালন করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক বিকেলে শুরু হবে। কমিশনের প্রথম বৈঠক বিএনপির সঙ্গে হবে বলে জানা গেছে।
আজ
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন।
বিএনপি জানিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবেন।
মন্তব্য করুন


সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) কর্তৃক ৭৭,১৭,৬১৫ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমান মাদক ও বিভিন্ন প্রকার অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এর
দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার
সীমান্ত হতে শংকুচাইল, শশীদল, সালদানদী এবং বড়জ্বালা বিওপি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী আখাউড়া ও কসবা উপজেলার
সীমান্ত হতে ঘাগুটিয়া, চন্ডিদার, কসবা ও মাদলা বিওপি
কর্তৃক ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
তারিখ হতে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
তারিখ পর্যন্ত মাদক ও চোরাচালান বিরোধী
অভিযান পরিচালনা করে ৭৭,১৭,৬১৫
(সাতাত্তর লক্ষ সতেরো হাজার ছয়শত পনেরো) টাকা মূল্যের বিপুল পরিমান ভারতীয় অবৈধ মাদক ও বিভিন্ন প্রকার
মালামাল জব্দ করে।
জব্দকৃত কিসমিস ৩১২ কেজি, গরু ৩ টি, চিনি ১,০৩৫ কেজি, বাঁজি ৮৮,২০০ পিস, বাংলাদশী স্টীলের আলমারী ১ টি, বাংলাদেশী সিএনজি ১ টি, সিগারেট ৬৭৫০ প্যাকেট, হুইস্কি ১৪ বোতল, বিয়ার ৩৬ বোতল, গাঁজা ১৮.৯ কেজি, ইস্কাফ সিরাপ ৭ বোতল, ফেন্সিডিল ৩৪ বোতল এবং ইয়াবা ট্যাবলেট ৪৯০০ পিস।
বিজিবি জানান, সর্বদা সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৬০ বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ মাদকদ্রব্য জব্দ করে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা-২০২৪ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, বিএসপি, এসইউপি, এনডিসি, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
গত ১৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ হতে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সেনা অঞ্চলের মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় ১১ পদাতিক ডিভিশন দল চ্যাম্পিয়ন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশন দল রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় ১১ পদাতিক ডিভিশন এর কর্পোরাল মোঃ সোলাইমান তনু শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় এবং ১১ পদাতিক ডিভিশন এর এনসি (ই) রবিন চন্দ্র দাস শ্রেষ্ঠ নবীন খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সকল অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এবং অন্যান্য পদবীর সৈনিকবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যামের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা, খেলাধুলার মান উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় সুলভ মনোভাবের বিকাশ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরো মজবুত হবে।
মন্তব্য করুন