

পবিত্র হজ পালন শেষে এখন
পর্যন্ত ৫১ হাজার ৯৮১ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।
শুক্রবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের
হজ পোর্টালের সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য এর পাশাপাশি আরো জানানো হয়, চলতি বছর ৬০ জন
বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ইসমাইল হোসেন (৬৪) নামে একজন হাজি
মারা গেছেন।
সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, মৃত্যুবরণকারী এসব হাজির মরদেহ সৌদি আরবেই দাফন করা হবে। প্রখর
তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরমে চলতি বছর রেকর্ডসংখ্যক হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী,
মারা যাওয়া ৬০ জনের মধ্যে ৪৭ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। এর মধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা
শুরুর আগে ১৭ জন, বাকি ৪৩ জন হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর মারা গেছেন। সবার নাম-পরিচয়
প্রকাশ করেছে হজ পোর্টাল। এসব হজযাত্রীর মধ্যে ৪৭ জন মক্কায় মারা গেছেন।
মসজিদুল হারামে তাদের জানাজা
অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া হজ পালনের বিভিন্ন পর্যায়ে মদিনায় চারজন, মিনায় সাতজন ও জেদ্দায়
দুজন মারা গেছেন।
অন্যদিকে, মোট ১২৭টি ফ্লাইটে
৫০ হাজারের বেশি হাজি দেশে ফেরার তথ্য জানানো হয় বুলেটিনে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ
এয়ারলাইনস ৫৩টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪৮টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৬টি ফ্লাইটে হজ পালন
শেষে তারা দেশে ফেরেন।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) সৌদি আরবে হজ পালন
করতে যান।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনের বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজুর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নওগাঁ-৬ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং নওগাঁর সিভিল জজ আদালতের (ধামইরহাট) বিচারক সাথি ইসলাম এ নোটিশ জারি করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির কাছে প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও সিএনজি অটোরিকশার পেছনে স্টিকার ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ অবস্থায় কেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না অথবা কেন অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না—সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে নওগাঁর সিভিল জজ আদালতের বিচারক সাথি ইসলামের কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, ‘নোটিশের বিষয়টি শুনেছি। আমরা নির্বাচনের কোনো পোস্টার লাগাইনি। সিএনজির পেছনে যেগুলো রয়েছে, সেগুলো নির্বাচনের অনেক আগের। সেগুলোতেও নির্দিষ্ট করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কোনো আহ্বান নেই। আগামী ১৫ জানুয়ারি আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে আমার ব্যাখ্যা প্রদান করবো।’
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির
টুঁটি চেপে ধরবে বিএনপি।
আজ
২৫ রবিবার ( জানুয়ারি ) দুপুর চট্টগ্রামের
পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি পলোগ্রাউন্ড মাঠে এসে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি হাত
নেড়ে সবাইকে অভিবাদন জানান।
বিএনপি
চেয়ারম্যান বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা হবে দেশের
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অপরাধী নিজ দলের হলেও কোনো ছাড় নয়। তারেক রহমান বলেন, কেবলমাত্র সার্টিফিকেট নয়, কর্মসংস্থান
ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবে বিএনপি।
বিএনপি
প্রধান বলেন, কৃষক ভালো থাকলে ভালো থাকবে বাংলাদেশ। এ সময় তিনি খেটে খাওয়া মানুষকে
সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তারেক
রহমান বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমালোচনা করলে দেশের মানুষের কোনো উপকার হবে না।
এরও আগে রবিবার সকালে চট্টগ্রামে রেডিসন ব্লু হোটেলে যুব সংলাপে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের
সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে
তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়নসহ দেশ গড়ার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তরুণদের
পরামর্শ গ্রহণ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম
পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশ শেষে ফেনীতে পাইলট স্কুল খেলার মাঠে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম
হাইস্কুল মাঠ, সোয়াগাজী ডিগবাজির মাঠ ও দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে পৃথক
নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। এরপর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে
যোগ দেবেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায়
গেলে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। যাতে এই মানুষগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
শুধু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই না, পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করে গড়ে তুলতে
চাই। যেন আপনারা মধ্যপ্রাচ্য, লন্ডন বা পৃথিবীর অন্য কোথাও যান যাতে ওই দেশে গিয়ে আপনারা
দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।
তিনি বলেন, নারীদের উন্নয়নে কাজ করতে চায় বিএনপি।
ক্ষমতায় গেলে দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আর এই ফ্যামেলি কার্ড
দেওয়া হবে নারীদের। পরিবারের মায়েরা পাবেন এই কার্ড। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদেরকে
খাদ্য সহায়তা বা নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। যাতে করে তাদের সংসার সুন্দরভাবে চালাতে
পারেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজারের শেরপুরের
আইনপুর মাঠে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুর
রহিম রিপনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক
জিকে গৌউছ, মিফতাহ উদ্দিন সিদ্দিকি।
প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা
ঘরে ঘরে ফ্যামেলি কার্ড দেব। কৃষকদের উন্নয়নে আমরা কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্ডের
মাধ্যমে তাদেরকে ঋণ, সার, বীজ ও বিমা সহায়তা দেব। যাতে করে তাদের বিপদের সময় ঘুরে দাঁড়াতে
পারে।
এতে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের বিএনপি
মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের
হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার-২ আসনের শওকতুল ইসলাম শকু এবং মৌলভীবাজার-১
আসনের নাসির উদ্দিন মিঠু।
জনসভায় জেলার ৭টি উপজেলা থেকে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের
নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। দুপুর গড়াতেই শেরপুরের আইনপুর মাঠে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।
সকাল থেকে সমাবেশস্থলে মানুষের উপস্থিতি শুরু হয়।
দুপুর গড়ানোর আগেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে উপস্থিত হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। মৌলভীবাজার
সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে দলের নেতাকর্মীরা
উপস্থিত হতে থাকেন।
দীর্ঘদিন পর জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি নেতাকর্মীদের
মধ্যে বিপুল উৎসাহের সঞ্চার করে। এই জনসভায় তারেক রহমান জেলার ৪টি আসনের বিএনপি মনোনীত
সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে ২০০৫ সালে মৌলভীবাজারে প্রথম আসেন
তারেক রহমান। সর্বশেষ ২০১৮ সালে শেরপুরের পথসভা ও ২০০৪ সালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ
বিদ্যালয়ের মাঠের জনসভার পর এটাই দলীয়প্রধানের প্রথম কোনো জনসভা।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা নামে বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে নগরীর পূবালী চত্বর। শনিবার বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এ সমাবেশে পূবালী চত্বর পূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে লিবার্টি চত্বর, রানীরবাজার, পুলিশ লাইন, রাজগঞ্জ ও টমছম ব্রিজ সড়কে।
দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করে যোগ দেন এ মহাসমাবেশে। প্রত্যেকের হাতে ছিল “কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই”লেখা ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা। কুমিল্লার নামেই বিভাগ চাই এবং তুমি কে, আমি কে কুমিল্লা” নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সমাবেশস্থল, প্রকম্পিত হয় আশপাশের এলাকাও।
এদিন মহাসমাবেশে অংশ নিতে কুমিল্লা দোকান মালিক ফেডারেশনের উদ্যোগে নেওয়া হয় এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি। মহানগরীর সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও শপিংমল প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়। ব্যবসায়ী থেকে শ্রমিকসবাই দল মত নির্বিশেষে সমাবেশে যোগ দিয়ে কুমিল্লা বিভাগের দাবিতে একাত্মতা জানান।
নারী-পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে পূবালী চত্বর রূপ নেয় জনসমুদ্রে। প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন এই ঐতিহাসিক সমাবেশে।
এছাড়া সমাবেশে অংশ নেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কল্যাণ সমিতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর সমিতিসহ কুমিল্লার বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বক্তারা বলেন, কুমিল্লা নামে বিভাগ বাস্তবায়ন কুমিল্লাবাসীর প্রাণের দাবি। এ দাবির পক্ষে জনসমর্থনের এই ঢল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।
মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। এসময় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা দোকান মালিক ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা আমিরুজ্জামান আমির, কুমিল্লা প্রেসক্লাব সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক, দৈনিক কুমিল্লার কাগজ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি ও জেলা কওমি মাদ্রাসা সংগঠনের সেক্রেটারি মাওলানা মুন্নীরুল ইসলাম কাসেমী এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া।এছাড়া সমাবেশে অংশ নেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কল্যাণ সমিতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর সমিতিসহ কুমিল্লার বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে শুক্রবার (০৭ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নারীদের সম্ভাবনা ও কর্মদক্ষতাকে উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের নারীরা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
ড. ইউনূস বলেন, ৮ মার্চ- আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। নারী অধিকার রক্ষায় এই দিনটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি বছর উদযাপিত হয়। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়: ‘অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন-নারী ও কন্যার উন্নয়ন’।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষায় ছাত্র-শ্রমিক-জনতা যে অভ্যুত্থান সংগঠিত করেছিল গত জুলাই-আগস্টে তার সম্মুখ সারিতে ছিল নারী। লাখ লাখ ছাত্রী বিভিন্ন ক্যাম্পাসে দমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়েছে। একাধিক নারী এই গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদতবরণ করেছেন। আমি এই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তারা এগিয়ে যাচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতিত, দুস্থ ও অসহায় নারীদের জন্য শেল্টার হোম, আইনি সহায়তা দিতে ‘মহিলা সহায়তা কেন্দ্র’, কর্মজীবী মহিলাদের আবাসন ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সহায়তা ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ড. উইনূস বলেন, বাংলাদেশের অদম্য মেয়েরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বমহিমায় এগিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথাসহ বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে
পুলিশ। ইতোমধ্যে এ ঘটনার রহস্যও উদ্ঘাটন করে ফেলেছে পুলিশ। ঢাকার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে
পাওয়া যাওয়া মানবদেহের খণ্ড-বিখণ্ড অংশগুলো একই ব্যক্তির এবং এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতককে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
তদন্তে
জানা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার
দেহ সাত টুকরো করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন তারই রুমমেট শাহীন। মূলত, অনৈতিক
প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার
(১ মার্চ) মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত
‘রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন: ঘাতক গ্রেফতার’
সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ।
হারুন-অর-রশীদ
বলেন, নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের ব্রিজ থেকে
সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওবায়দুল্লাহ
একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করতেন এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে
চাকরি করতেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, শাহীন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার
দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খণ্ডিত দেহাবশেষ
ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ রাতে তাকে সিগারেট নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু শাহীন জানায়,
তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, আনতে পারবে না। তারা জসীম উদ্দীন রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে
থাকতেন। শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে
আসার পর আবার তাকে নানরুটি ও কাবাব আনতে পাঠানো হয়। কাবাব ও নানরুটি নিয়ে এলেও দেখা
যায়, ওবায়দুল্লাহ একাই তা খান।
রাতে
ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিলেন। যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিলেন, তাই তিনি
বিরক্ত হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় ফোনে ধীরে কথা বলার জন্য অনুরোধ
করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ
করেন। ওই রাতে একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন তার ঘাড়
ও গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য মরদেহটি বিভিন্ন
অংশে খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। হারুন-অর-রশীদ বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি
সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা এবং কমলাপুর
রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথাটি ফেলা হয়। মতিঝিলে কমলাপুর এলাকায় ময়লা বোঝাই কনটেইনারে
ড্রামভর্তি দেহাংশ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর
ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়েছে। সেখানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি অংশ এরইমধ্যে পাওয়া গেছে,
আরেকটি অংশের সন্ধানে অভিযান চলছে।
শাহীন
হত্যা করেছে—এটি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। এছাড়া সে নিজেও ঘটনার
সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু ঝগড়া-বিবাদের
কারণেই হত্যা করা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শাহীন জানিয়েছে,
মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত। এই বিষয়টি সে নিতে পারতো না। অনেক
সময় রাতে শাহীনের রুমে ওবায়দুল্লাহ চলে যেত। তখন শাহীন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে
দরজা আটকে দিত।
হত্যাকাণ্ডের
পর শাহীনের আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, হত্যার পরও শাহীন স্বাভাবিকভাবে চাকরি
করত এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করত। তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য,
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের কাটা হাত-পা ও মাথা উদ্ধার
করা হয়। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে কালো
পলিথিনে মোড়ানো মানুষের একটি পা পাওয়া যায়। এরপর শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয়
স্টেডিয়ামের ১ ও ৪ নম্বর গেটের মাঝামাঝি মার্কেটের সামনের সড়কে কালো পলিথিনে মোড়ানো
আরও দুটি হাত পাওয়া যায়। দুপুরে কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকায় আরেকটি পা পাওয়া যায়।
নিহত
ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুরের তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে। তার মায়ের নাম
রানী বেগম। তিনি মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হিরাঝিল হোটেলের কর্মচারী
শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন বলে জানানো হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


গাছে
পেরেক লাগালে বা অন্য কোন ধাতব বস্তুর মাধ্যমে গাছের ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার
টাকা জরিমানার বিধান রেখে 'বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬' জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি।
বুধবার
(৭ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ গেজেট জারি করা
হয়।
অধ্যাদেশে
বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা কোনো ধাতব বস্তুর
মাধ্যমে গাছের ক্ষতিসাধন করা যাবে না।
এ
বিধান লঙ্ঘন করলে আদালত অপরাধী ব্যাক্তিকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবে
বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে
বলা হয়েছে, বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ‘বন আইন, ১৯২৭’
এর ৪ ও ৬ ধারার অধীন গেজেটভুক্ত বন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, সামাজিক বন, সরকারি
ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিসরের বৃক্ষ কর্তন ও অপসারণ
করা যাবে। এ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান বন সংরক্ষক বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বৃক্ষ
সংরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেবেন।
গেজেট
বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের তালিকাভুক্ত অথবা বন অধিদপ্তর কর্তৃক
বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো বৃক্ষ কর্তন করা যাবে না। তবে অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের
তালিকায় থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির বৃক্ষ নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বৃক্ষ সংরক্ষণ
কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন নিয়ে কর্তন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বৃক্ষের প্রজাতি,
সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুক সমান উচ্চতায় বেড়, কর্তনের কারণসহ নির্ধারিত ফরম পূরণ
করে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের
মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। অধ্যাদেশে গাছ কাটার ক্ষেত্রে
সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে এক লাখ টাকা।
মন্তব্য করুন


গত ৭৬ বছরের
রেকর্ড ভেঙেছে এবারের তাপপ্রবাহ। তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এক ঝলক বৃষ্টি
দেখতে কখনো সাধারণ মানুষ করছেন বিশেষ দোয়া ও পড়ছেন নামাজ,
কেউবা করছেন মন্দিরে বিশেষ প্রাথর্না আবার কেউ করছে হাহাকার।
দাবদাহ কমবে এবং দু-তিন দিনের
মধ্যে দেশজুড়ে হতে পারে বৃষ্টি; এমনি এক সুখবর দিলেন
আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাপমাত্রা সম্পর্কে বলা হয়েছে- সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে এবং লীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিভাব বিরাজমান থাকবে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে এই বৃষ্টির প্রকোপ বেশি থাকবে। এপ্রিলের বাকি দুদিনও থাকবে তাপপ্রবাহের দাপট। তবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের
দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে
দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া সহ বৃষ্টি অথবা
বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ সহ আবহাওয়া প্রধানত
শুষ্ক থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার
পূর্বাভাস ।
তাপপ্রবাহ নিয়ে আবহাওয়ার বার্তায় বলা হয়েছে, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা ও রাজশাহী জেলা সমূহের ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ এবং খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলাসহ বরিশাল, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন


বেলস
পার্ক মাঠে আজ বুধবার ( ০৪ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরের রোদে মানুষের ভিড় জমেছিল অনেক আগেই।
বেলা ঠিক সাড়ে ১২টার কিছু পরে মঞ্চে উঠতেই করতালি আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জনসভা।
প্রায় ২০ বছর পর বরিশালে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান
তারেক রহমান। হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দিলেন, তারপর শুরু করলেন দীর্ঘ বক্তব্য। মূল
সুর একটাই, নারীর সম্মান, স্বাধীনতা আর রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা।
কারো
নাম সরাসরি না করেই তারেক রহমান অভিযোগ তুললেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী
অর্থাৎ নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে চায়। তার ভাষায়, ‘সেই দলের এক নেতা প্রকাশ্যেই
বলেছেন, তারা কোনোভাবেই নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না।’
জনসভায় এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়।
ইঙ্গিত
স্পষ্ট, যদিও তিনি দলটির নাম উচ্চারণ করেননি।
বক্তব্যে
আরো কড়া হন বিএনপির চেয়ারম্যান। বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মসংস্থানে
যাওয়া নারী ও মা-বোনদের নিয়ে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা লজ্জাজনক।’
তার মতে, এই মন্তব্য শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক।
তারেক
রহমানের অভিযোগ, যে দলটি সকাল-বিকাল জনগণের সামনে মিথ্যা কথা বলছে, নারীদের হেয় করছে,
তারাই এখন নানাভাবে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। কারণ মানুষ তাদের কথাবার্তা আর কাজকর্মের ফাঁকফোকর
ধরে ফেলেছে। সে কারণেই দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক
রহমান।
বক্তৃতার
একপর্যায়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘দেশের লাখ লাখ নারী পোশাকশিল্পে
কাজ করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন।
নিম্ন
ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী আজ দ্রব্যমূল্যের চাপে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি
কাজ করছেন। অথচ সেই নারীরাই আজ অসম্মানিত হচ্ছেন।’ এই দ্বিচারিতাই তার মতে সবচেয়ে বিপজ্জনক।
ধর্মীয়
উদাহরণ টেনে তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী হজরত
বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। এরপর প্রশ্ন তোলেন, ‘যে দলটি নির্বাচনের
আগেই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের ভেতর বন্দি রাখতে চায়, অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার
করে, তারা ক্ষমতায় এলে নির্বাচন-পরবর্তী আচরণ কেমন হতে পারে।’
সাম্প্রতিক
বিতর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের মন্তব্য নিয়ে যখন সমাজজুড়ে তীব্র সমালোচনা
শুরু হলো, তখন সংশ্লিষ্টরা দাবি করলেন, তাদের আইডি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা
স্পষ্ট বলেছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কথা নয়।’ তার কটাক্ষ, ‘এদের একটাই পরিচয়, এরা
মিথ্যাবাদী। নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা বলতে তারা দ্বিধা করে না, আর দেশদরদি হওয়ার প্রশ্নই
ওঠে না।’
জামায়াতে
ইসলামীর উদ্দেশে আরো সরাসরি আক্রমণ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তার অভিযোগ, ‘দলটি ধর্মকে
ব্যবহার করে কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ধর্মের ব্যাখ্যাও
নিজেদের মতো করে নেয় তারা।’
বক্তব্যের
শেষদিকে ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা প্রায়
২০ কোটি, যার অন্তত অর্ধেক নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে কোনো বড় পরিকল্পনাই
সফল হতে পারে না।’
বিএনপি
সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’
পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তারেক রহমান। সেই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী
করে তোলাই লক্ষ্য, যাতে নারী সমাজ কারো মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ
দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) হেলেন লাফেভ।
আজ বুধবার (অক্টোবর ২৩) রাষ্ট্রীয় অতিথি
ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ হয়।
সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট
বিভিন্ন বিষয় এবং সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি
ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের প্রধান পয়েন্টগুলো নিয়ে আলাপ করেন।
হেলেন লাফেভ প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন,
আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবেন।
অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের
সংস্কার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এরই মধ্যে ছয়টি
প্রধান সংস্কার কমিশন তাদের কাজ শুরু করেছে এবং তারা অংশীজনদের সঙ্গে সংস্কার বিষয়ে
পরামর্শ করছেন।
মন্তব্য করুন