

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে দ্বাদশ শ্রেণির টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই পরীক্ষা নিতে পারবে না বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
আজ রোববার (৯ নভেম্বর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক “এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার” স্বাক্ষরিত এক জরুরি নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস চলমান রাখতে হবে। তবে বোর্ডের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। নির্বাচনী পরীক্ষার তারিখ ও অন্যান্য নির্দেশনা পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টিকে বোর্ড অতীব জরুরি বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন,
১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একই সামাজিক-রাজনৈতিক
প্রেক্ষাপট থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট ২০২৪
সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে,
এই দুটি গণআন্দোলনের পেছনের পরিস্থিতির মধ্যে খুব সামান্যই পার্থক্য রয়েছে।
আজ শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে
‘নভেম্বর থেকে জুলাই : বিপ্লব থেকে বিপ্লবে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন
তিনি।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন,
স্বাধীনতার পর একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা-এই দুই ঘটনার
পটভূমি তৈরি করেছিল। স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা দুর্নীতি
ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলেই ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়
এবং প্রায় একই পরিস্থিতি ২০২৪ সালেও পুনরাবৃত্তি ঘটে। ১৯৭৫ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ
একটি কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে- যখন দেশ প্রতিষ্ঠানিক গঠন, সামরিক বাহিনীকে
শক্তিশালীকরণ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার মতো কার্যক্রম শুরু করে, এসব বিষয়গুলো
আজও প্রাসঙ্গিক।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের
অবদানের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, জিয়াউর রহমান কল্যাণমুখী রাজনীতির
সূচনা করেন এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো গঠনে কাজ করেন। আজও দেশ তাঁর স্থাপিত
ভিত্তির ওপর পরিচালিত হচ্ছে, যা আমাদের রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনায় প্রতিফলিত হয়।
এ সময় জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক
প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
সভাপতি রিফাত রশিদ। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান
মজিবুর রহমান মঞ্জু, কবি ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার, ড. আবদুল লতিফ মাসুম এবং
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান।
মন্তব্য করুন


গাছে
পেরেক লাগালে বা অন্য কোন ধাতব বস্তুর মাধ্যমে গাছের ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার
টাকা জরিমানার বিধান রেখে 'বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬' জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি।
বুধবার
(৭ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ গেজেট জারি করা
হয়।
অধ্যাদেশে
বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা কোনো ধাতব বস্তুর
মাধ্যমে গাছের ক্ষতিসাধন করা যাবে না।
এ
বিধান লঙ্ঘন করলে আদালত অপরাধী ব্যাক্তিকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবে
বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে
বলা হয়েছে, বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ‘বন আইন, ১৯২৭’
এর ৪ ও ৬ ধারার অধীন গেজেটভুক্ত বন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, সামাজিক বন, সরকারি
ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিসরের বৃক্ষ কর্তন ও অপসারণ
করা যাবে। এ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান বন সংরক্ষক বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বৃক্ষ
সংরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেবেন।
গেজেট
বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের তালিকাভুক্ত অথবা বন অধিদপ্তর কর্তৃক
বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো বৃক্ষ কর্তন করা যাবে না। তবে অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের
তালিকায় থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির বৃক্ষ নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বৃক্ষ সংরক্ষণ
কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন নিয়ে কর্তন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বৃক্ষের প্রজাতি,
সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুক সমান উচ্চতায় বেড়, কর্তনের কারণসহ নির্ধারিত ফরম পূরণ
করে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের
মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। অধ্যাদেশে গাছ কাটার ক্ষেত্রে
সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে এক লাখ টাকা।
মন্তব্য করুন


ইউরোপীয় ইউনিয়নের মান্যবর রাষ্ট্রদূত Mr. Michael Miller এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সেনাসদরে সেনাপ্রধান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে, পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের
পাশাপাশি, তাঁরা বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা
এবং ইউরোপীয় সহায়তায় বাংলাদেশে সামরিক শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর
অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মন্তব্য করুন


দ্বৈত
নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা
বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন ঢাকা-১১ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ। আজ সোমবার
(০৯ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টে এ রিট করা হয়। নাহিদ ইসলাম ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি দ্বীপ
দেশ ডোমেনিকার নাগরিক বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নাহিদ ছাড়াও প্রধান নির্বাচন
কমিশনার (সিইসি), ইসি সচিব, রিটার্নিং অফিসারকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে
বলা হয়, ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালীন নাহিদ ইসলাম ডোমেনিকার নাগরিকত্ব
নেন। তিনি নির্বাচনি হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন।
বিচারপতি
ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
গুলশান
এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ এবং সবুজবাগ এলকার
২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-১১ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। পুরুষ
ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ৩
জন ভোটার রয়েছেন।
এ
আসনে প্রার্থীরা হলেন—বিএনপির এম এ কাইয়ুম, এনসিপির মো.
নাহিদ ইসলাম, স্বতন্ত্র কহিনূর আক্তার বীথি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজী
মো. শহীদুল্লাহ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ
রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির মো. মিজানুর রহমান,
জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।
মন্তব্য করুন


সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগামীকাল
(১৬ জুন) ঈদুল আজহা উদ্যাপন করতে যাচ্ছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ-সাতকানিয়াসহ
অন্তত ৬০ গ্রামের মানুষ।
তারা হলেন- সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার
ও চন্দনাইশের জাঁহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবারের অনুসারী।
সুফি সাধক মাওলানা মোখলেসুর রহমান ২০০
বছর আগে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করার নিয়ম
প্রবর্তন করেন। সেই থেকেই এ নিয়ম মেনে আসছেন তার ভক্ত ও অনুসারীরা।
চন্দনাইশ জাঁহাগিরিয়া দরবারের পীর শাহ
সুফি সৈয়দ মোহাম্মদ আলী দরবারের ঈদের জামাত পরিচালনা করবেন।
মন্তব্য করুন


আইন
উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, শিগগিরই সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে।
বৃহস্পতিবার
(৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ
কথা বলেন।
উপদেষ্টা
আসিফ নজরুল বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কালাকানুন বাতিল করা হবে। ডিজিটাল সার্ভিসেস
অ্যাক্টে (ডিএসএ) হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর
আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাইবার আইনে হওয়া ‘স্পিচ
অফেন্স’ (মুক্তমত প্রকাশ) সম্পর্কিত মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, একটি রাজনৈতিক দল যেকোনোভাবে
ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, উচ্চাভিলাষ পূরণে দলটি অনৈতিক পন্থা অবলম্বন
করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
আজ
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউট
কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
কোনো
দলের নাম উল্লেখ না করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা অতি উচ্চাভিলাষী। যেকোনোভাবে ক্ষমতায়
যেতেই হবে— এমন তাড়না তাদের মধ্যে রয়েছে। এই অভিলাষ পূরণে তারা অনৈতিক
পথ বেছে নিচ্ছে।
তিনি
দাবি করেন, বিভিন্ন স্থানে সাজানো ঘটনা এবং ব্যালট পেপার ছাপানোর মতো অনিয়মের অভিযোগ
পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় নির্দিষ্ট একটি দলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন
আহমদ বলেন, “আমরা এসব ঘটনার নিন্দা জানাই। গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখতে হলে সব রাজনৈতিক
দলকে নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো ধরনের অপসংস্কৃতি মেনে নেবে
না; বরং প্রত্যাখ্যান করবে।”
তিনি
আরও বলেন, ভিন্ন পথে বা অনৈতিক উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার যে চেষ্টা, তা দেশের গণতন্ত্রের
জন্য ক্ষতিকর। জনগণ এ ধরনের রাজনীতিকে সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলে মন্তব্য
করেন বিএনপির এই নেতা।
মন্তব্য করুন


এআই
দিয়ে আহত হাতের ছবি বানিয়ে অফিস থেকে ছুটি নিলেন এক কর্মী। সেই ঘটনা ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল
মিডিয়ায়, চলছে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
মানুষের
জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের পাশাপাশি অপব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। সম্প্রতি
গুগলের ন্যানো ব্যানা এআই ইমেজ জেনারেটর তারই যেন প্রমাণ দিলো। এর হাইপার-রিয়েলিস্টিক
(অত্যন্ত বাস্তবসম্মত) ছবি তৈরি করার ক্ষমতা ব্যবহার করে অদ্ভুতভাবে অফিস থেকে ছুটি
নিয়েছেন এক ব্যক্তি। তিনি প্রথমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের হাতের একটি ছবি তোলেন। এরপর
সেই ছবি ন্যানো ব্যানানাতে আপলোড করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রম্পট লিখে এআই’কে
আঘাতের চিহ্ন যোগ করার নির্দেশ দেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এআই এমন একটি বাস্তবসম্মত
ছবি তৈরি করে দেয়, যা দেখলে মনে হবে- সত্যিই আঘাত লেগেছে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের
মধ্যে নির্বিঘ্ন নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের
নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ (৭ অক্টোবর) কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর বিদ্যমান পুরাতন
সেতুর পাশে ১১,৫৬০.৭৭ কোটি টাকার নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত
চলতি অর্থবছরের (অর্থবছর ২৫) তৃতীয় ও অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন
দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, দিনের বৈঠকে
মোট আনুমানিক ২৪ হাজার ৪১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া
হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ থেকে ৭,৭৪৬.৬৬ কোটি টাকা, প্রকল্প
সহায়তা থেকে ১৬,০১২.৩৩ কোটি টাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৫৩.৯৫ কোটি
টাকা আসবে।
অনুমোদিত চারটি
প্রকল্পের মধ্যে দু’টি নতুন ও দু’টি সংশোধিত প্রকল্প। এছাড়া বৈঠকে ব্যয় না বাড়িয়ে সাতটি
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয়
২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ।
মোট ১১,৫৬০.৭৭
কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৪,৪৩৫.৬২ কোটি টাকা আসবে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে
এবং বাকি ৭,১২৫.১৫ কোটি টাকা আসবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক
ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটিজ (ইডিপিএফ), কোরিয়া থেকে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান,
কালুরঘাটে বিদ্যমান সেতুটি পুরনো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় এ ব্যাপারে নতুন প্রকল্পের কথা বিবেচনা
করা হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার কক্সবাজারকে আরও উন্নত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর
করতে চায়। এছাড়াও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংলগ্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের
জন্যও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার মনে করেছে, এ ক্ষেত্রে একটি নতুন
প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।
পরিকল্পনা কমিশনের
একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে নির্বিঘ্ন
ও নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ
তৈরি করা। রেলপথ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে পুরানো ও জরাজীর্ণ কালুরঘাট
সেতু দিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারে না। এছাড়া মাতারবাড়ী
গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে, এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি এ রুটের
গুরুত্বও বাড়বে। ইতোমধ্যেই দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন চালুর মাধ্যমে ঢাকা ও কক্সবাজারের
মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে পর্যটন নগরীর সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ
নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পুরাতন সেতুর পাশে কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-সড়ক
সেতু নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে
এবং এইভাবে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে অনুমোদিত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের
আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। প্রস্তাবিত
প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে নির্বিঘ্ন
রেল যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নতুন সেতুটি নির্মিত হলে, এই অঞ্চলের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক
অঞ্চলে অবস্থিত কল-কারখানার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম
হবে। মূল প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৭০০ মিটার রেল-কাম-রোড ব্রিজ নির্মাণ,
৬.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২.৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪.৫৪ কিলোমিটার বাঁধ,
১১.৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজ।
অতিরিক্ত ৬,৫৭৩.৯৬
কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নের অনুমোদন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা
বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তিনি বলেন, এই বন্দরের
অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ভারতের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন,
মাতারবাড়ী বন্দরে প্রয়োজনীয় কাজ এখনো শুরু হয়নি এবং বন্দরের উন্নয়নে রাস্তা নির্মাণ
করা হবে।
সভায় অনুমোদিত
অন্য দুটি প্রকল্প হল- সাজেক রোড কানেক্টিভিটি, প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর
মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, ৩৭৬.৯৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত ও ৫,৯০১.২২২
টাকা দিয়ে রেসিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইইউটিডিপি)।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য ও পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখার
জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার
কার্যালয় থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি বিভাগের ৩১টি জেলার কর্মকর্তাদের
সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হয়ে এই নির্দেশ দেন তিনি।
ভিডিও কনফারেন্সে তিনি কর্মকর্তাদের
নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, কৃষি
পণ্য সংরক্ষণ, সার সরবরাহ এবং শিল্প এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য নিবিড়ভাবে
কাজ করার নির্দেশ দেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কর্মকর্তারা এই ভিডিও
কনফারেন্সে যোগ দেন। কনফারেন্সে ১৯ জন বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ পুলিশ
প্রধান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তা বক্তব্য রাখেন।
কনফারেন্সের সমাপনী বক্তব্যে প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও মতামত আগামীদিনে
সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। এটা আমার জন্য প্রথম সুযোগ ছিল আপনাদের সঙ্গে
কথা বলার। অনেক কিছু শিখলাম, অনেক বিষয়ে নিজেকে অবহিত করলাম। এটা আমাদের কাজে সহায়ক
হবে।’
ড. ইউনুস বলেন, সামনেই রমজান আসছে,
রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্যের দিকে আপনারা বিশেষভাবে নজর রাখবেন। শুধু দ্রব্যমূল্য
নয়, জিনিসপত্র আনা-নেওয়া আরও কীভাবে সহজ করা যায় সে বিষয়েও কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার
যে ১৫টি কমিশন গঠন করেছে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি কমিশন খুব শিগগিরই তাদের প্রতিবেদন
দেবে। এসব প্রতিবেদনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে, নাগরিকদের সঙ্গেও
আলোচনা হবে। এর মধ্যে দিয়ে দেশে নির্বাচনের একটি আবহও তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রী পরিষদ
সচিব শেখ আব্দুর রশিদ।
মন্তব্য করুন