

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা গ্রামে ফেসবুকে মন্তব্য (কমেন্ট) নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার (২ নভেম্বর) দুপুরে নিজকুঞ্জরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে। আহতরা সবাই ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
আহতরা হলেন— জাহিদুল ইসলাম সামিম (১৭), ইমরান হোসেন (১৮), আরমান হাসান (১৭), রাফি, আরাফাত ও অনিক। এদের মধ্যে সামিম, ইমরান ও আরমানকে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সামিমের পেটে ও বুকে সাতটি, ইমরানের শরীরে ১৮টি এবং আরমানের শরীরে নয়টি সেলাই দিতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, স্থানীয় মহিপাল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাহাত উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা এ হামলার নেতৃত্ব দেন।
তারা জানান, কয়েকদিন আগে এক বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। সেখানে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহাদ হোসেন, যিনি রাহাতের ছোট ভাই, একটি আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ফাহাদ ফোনে বড় ভাই রাহাতকে বিষয়টি জানায়।
রবিবার দুপুরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডাকা হয়। কিন্তু এর মধ্যেই রাহাত ও তার কয়েকজন সহযোগী ছুরি, খুর ও ছাপাতি নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এক বৈঠক হয়। সেখানে প্রত্যেক আহতকে চিকিৎসা বাবদ ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং মামলা না করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সভায় বলা হয় যেহেতু ঘটনাটি স্কুলের ভেতরে ঘটেছে, তাই বিষয়টি এখানেই মীমাংসা করা হোক। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।”
আহত সামিম বলেন, “আমরা শুধু জানতে চেয়েছিলাম কেন বাজে মন্তব্য করেছ। কিন্তু স্কুলে গিয়ে উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলে বারৈয়ারহাট হাসপাতালে নেয়নি, শেষে ছাগলনাইয়ায় চিকিৎসা নিতে হয়।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক জানান, “সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই ঘটনাটি ঘটে। উভয় পক্ষের অভিভাবক ও পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। ফাহাদের বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।”
তবে আহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।
ঘোপাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লুৎফুল কবির বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। স্কুলের অফিস কক্ষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রাহাত উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনাটি ছোটদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ও স্কুল প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে মীমাংসা হয়েছে। আমি কোনো হামলার নেতৃত্ব দিইনি।”
তবে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন বলেন, “বিষয়টি এখনো জানি না। এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা মাধাইয়ায় আদাভর্তী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে আব্দুল খালেক নামে একজন পথচারী নিহত হয়েছে।
ঘটনার পর নিহতের লাশ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায় স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ভোর পাঁচটার দিকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপজেলার মাধাইয়া অংশে বাঁশ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুল খালেক পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিন পেশায় কসাই।
স্থানীয় বাঁশ ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম জানান, ভোর পাঁচটার দিকে আবদুল খালেক গরু জবাই করতে মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আদা ভর্তি একটি ট্রাক ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালেককে চাঁপা দিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।
এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় খালেক। এ সময় খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে ট্রাকের নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায়
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
কুমিল্লায়
গাঁজা’সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
আজ রোববার সকালে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ
মডেল থানাধীন কনেশতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা আলমগীর হোসেন ওরফে কানা আলমগীর নামের
একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ২০ কেজি ৮ শত গ্রাম গাঁজা
ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক (মিশুক) উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী
আলমগীর হোসেন ওরফে কানা আলমগীর (৪০) কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার একবালিয়া গ্রামের মৃত আঃ রাজ্জাক এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে
দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ
দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে।
র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা
হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত
আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন ।
মন্তব্য করুন


চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ এই প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর সক্রিয় হয়ে উঠতো একটি প্রতারক চক্র। চক্রের সদস্যরা মাঠকর্মী সেজে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে যে কোনো চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতো। এভাবে প্রার্থীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার মাধ্যমে গত কয়েক বছরে চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
ডিবি জানিয়েছে, রেলপথ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কারা অধিদপ্তর, পররাষ্ট্র অধিদপ্তর, বিআরটিসি, বিএডিসি, সচিবালয়, ব্যাংক, মেট্রোরেল, এয়ারপোর্ট, তিতাস গ্যাস এবং বিশেষ বাহিনীর সিভিল পদে চাকরির বিজ্ঞাপন বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসার পর একটি প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করত একটি চক্র। চক্রটি প্রত্যেক চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও এখন পর্যন্ত কাউকে চাকরি দিতে পারেনি। এভাবে গত কয়েক বছরে তারা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. ফরিদুল ইসলাম (২৯), মো. নাসির চৌধুরী (৪৫), মো. নাসিম মাহমুদ (৪৩) ও জুয়েল রানা (৪৫)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও বেশ কিছু ভুয়া নিয়োগপত্র, চেক ও স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গ্রেফতাররা বেশ কিছুদিন ধরে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে দেখিয়ে প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। অনুসন্ধানে এই চক্রের বিভিন্ন ধাপ লক্ষ্য করা যায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেই এই চক্রের সদস্যরা মাঠকর্মী সেজে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে যে কোনো চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মতো তাদের হাতে লোক রয়েছে বলে আশ্বস্ত করতো। চাকরিপ্রার্থীরা তাদের প্রস্তাবে রাজি হলে ব্লু ব্যাংক চেক, ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প ও সিভি সংগ্রহ করার পাশাপাশি প্রত্যেকের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা নিতো।
ডিবিপ্রধান আরো বলেন, মাঠকর্মী তার কমিশনের নির্দিষ্ট টাকা রেখে বাকি টাকা ও সিভি ফিল্ড পর্যায়ের সাব-এজেন্টের কাছে পাঠাতো। এরপর সাব-এজেন্ট সেই টাকা ও সিভি গ্রহণ করে সব চাকরিপ্রার্থীকে নির্দিষ্ট দিনে ভাইভার কথা বলে ঢাকাস্থ এজেন্টের কাছে পাঠাতো। পরে ঢাকাস্থ এজেন্ট আবাসিক হোটেলের রুমে বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশপাশের কোনো একটি চায়ের দোকানে চাকরিপ্রার্থীদের ভাইভা পরীক্ষা নিতো। ভাইভাতে উত্তীর্ণ হয়েছে বলে প্রার্থীর কাছ থেকে ওইদিন চুক্তির ৫০ শতাংশ টাকা নিয়ে নিতো। এরপর চক্রের আরেক সদস্য চুক্তির বাকি টাকা গ্রহণ করে প্রার্থীকে নির্দিষ্ট চাকরিতে দিনে যোগদানের কথা উল্লেখ করে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একটি ভুয়া আইডি কার্ড দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়ে যেতো। অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, পরবর্তী সময়ে চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগপত্রে উল্লেখিত তারিখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগদান করতে গেলে জানতে পারেন, প্রতারক চক্রের দেওয়া নিয়োগপত্র আর আইডি কার্ডটি ভুয়া। ততোদিনে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার মতো। পরে চক্রটি নিজেদের মধ্যে চুক্তির টাকা ভাগাভাগি করে নিতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, চক্রটি গত দু-তিন বছর ধরে এভাবে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তাদের ব্যবহৃত হোয়াটঅ্যাপ/মেসেঞ্জারে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন চাকরিপ্রত্যাশীদের বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কারা অধিদপ্তর, পররাষ্ট্র অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিআরটিসি, বিএডিসি, এলজিইডি, সচিবালয়, বিভিন্ন ব্যাংক, প্রাথমিকের পিয়ন, মেট্রোরেল, এয়ারপোর্ট, তিতাস গ্যাস ও ওয়াসার আউটসোর্সিং এবং বিশেষ বাহিনীর সিভিল পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিতো।
গ্রেফতার এ চক্রে জুয়েল রানা ফিল্ড পর্যায়ে মাঠকর্মী, নাসিম মাহমুদ ফিল্ড পর্যায়ের সাব-এজেন্ট ও নাসির চৌধুরী ঢাকাস্থ সাব-এজেন্ট এবং চক্রের মূলহোতা হিসেবে ফরিদুল ইসলামের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।
১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর মামলা করেন এক ভুক্তভোগী । মামলার বাদীকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এমএলএসএস পদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। নিয়োগপত্র নিয়ে তিন মাস পরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে যোগদানের জন্য গেলে জানতে পারেন নিয়োগপত্রটি ভুয়া। পরবর্তী সময়ে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে গেলে তাদের ব্যবহৃত সব মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার বাদী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
ডিবি-সাইবারের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের টিম লিডার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হক বলেন, চক্রটি গত কয়েক বছরে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা কারে নিলেও কারও চাকরি দিতে পারেনি। পত্রিকায় চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। চাকরির ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে কোনো লেনদেন করা যাবে না।
তিনি বলেন, গ্রেফতারদের বিরূদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আসামিদের ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
এসএসসি
(মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষার ফলাফলে এবছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে সর্বোচ্চ
নম্বর অর্জনের কৃতিত্ব গড়লেন তাসনুবা ইসলাম তোহা।
নগরীর
নবাব ফয়েজুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায়
অংশ নেয় তাসনুবা।
পরীক্ষার
সর্বমোট ১৩০০ নম্বরের মধ্যে ১২৬১ নম্বর পেয়ে কুমিল্লা বোর্ডে সর্বোচ্চ নাম্বার পাওয়ার
রেকর্ড অর্জন করে।
কুমিল্লা
দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার গ্রামের মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়ার কন্যা তাসনুবা
ইসলাম তোহা।
তোহার
এ অর্জনে পুরো পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী সকলে খুশি। স্কুল জুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে।
তাসনুবা
ইসলাম তোহা বলেন, আল্লাহর নিকট শুকরিয়া। পরিশ্রমের প্রতিদান পেয়েছি। আমার এ অর্জনের
পেছনে মা-বাবা স্কুলের শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে দেশের
সেবায় নিয়োজিত হতে চাই।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা শহরের আদর্শ সদর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে এক মানবপাচারকারী ও পাসপোর্ট দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লা আদর্শ সদর ক্যাম্পের সেনা টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সাজেদুল ইসলাম (৩৫)। তিনি কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার হালিমা নগর নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
এ সময় তার কাছ থেকে ৫২টি পাসপোর্ট, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ৩টি, বাটন মোবাইল ফোন ১টি উদ্ধার করা হয়।
সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানবপাচার, পাসপোর্ট জালিয়াতি, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং অস্ত্র রাখাসহ নানা অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সেনাবাহিনী জানায়, অভিযান শেষে গ্রেপ্তার আসামি ও জব্দ সামগ্রী কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা, কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়ায় পানিকচুতে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক বশির উল্যাহ। কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪৮ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করেছেন পানিকচু। সাধারণত স্বল্প পানিতে যে কচু চাষ করা যায় তাকে পানিকচু বলা হয়। বর্ষার শেষে বাজারে যখন সবজির ঘাটতি দেখা দেয় তখন পানি কচুর লতি ও কান্ড বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যথাযথ গবেষণা, সরকারি প্রণোদনা প্রদান, সর্বোপরি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় বর্তমানে কচুয়া উপজেলায় বাড়ছে পরিবেশবান্ধব ও ভিটামিনযুক্ত বারি-২ জাতের লতিরাজ পানিকচুর চাষ। এ কচু চাষে নেই পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই, সম্ভাবনা নেই আর্থিক ক্ষতির। সেই সঙ্গে বর্তমান বাজারে, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এ সবজির চাহিদা বাড়ায় লতিরাজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ উপজেলার কৃষকরা।
কচু চাষী বশির উল্যাহ বলেন, প্রায় ৪ বছর ধরে কচু চাষ করে আসছেন তিনি। প্রতি বছরে আমি কচু বিক্রি করে লাভবান হয়েছি। চলতি মৌসুমে এবার প্রায় ৪৮ শতাংশ জমিতে পানিকচুর চাষাবাদ করি। তাছাড়া কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার লতিরাজ জাতের কচুর চারা রোপণ করি। কৃষি প্রণোদনা প্রকল্পের আওতায় কৃষি অফিস থেকে প্রদর্শনী পাই। ২০হাজার টাকা ব্যয় হলেও প্রথমে বিক্রি করেছেন লতি ১০ হাজার টাকা। লতি আসতে শুরু করেছে মাত্র। তিনি আরো প্রায় ৫০ হাজার টাকার লতি বিক্রি করতে পারবেন বলেও জানান। তার এ পানিকচু ও লতিরাজ কচু উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিক্রি করে থাকেন।
কচুয়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান শাওন বলেন, কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের সিংআড্ডা ব্লকে কৃষক বশির উল্যাহকে পানিকচু চাষে উৎসাহী করা হয়েছে। ফলে তিনি কৃষি অফিসের পরামর্শে তার জমিতে ভালো পানি কচুর আবাদ হয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে অনেক মুনাফা অর্জন করতে পারবে কৃষক বশির উল্যাহ।
কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, সবজি হিসেবে কচু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। কচু উৎপাদনে খরচ ও রোগবালাই কম, দামও ভালো পাওয়া যায়। কচুয়া উপজেলায় ইতোমধ্যে উত্তর ইউনিয়নের লতিফুর গ্রামের কৃষক বশির উল্যাহ লতিরাজ কচুর চাষাবাদ শুরু করেছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


মানিকগঞ্জে টনসিলের
অপারেশন করতে এসে চিকিৎসকের অবহেলায় জেসমিন আক্তার (৩৭) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
পাওয়া উঠেছে। মানিকগঞ্জের বেসরকারি ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালে দুইজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে
এই অভিযোগ উঠেছে।
জেসমিন আক্তার জেলার
দৌলতপুর উপজেলার উলাইল এলাকার মো. রেজাউল করিমের স্ত্রী। তাঁর ৭ মাস বয়সী একটি কন্যা
সন্তান ও ১০ বছর বয়সী একটি পুত্র্ সন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার
ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টায় ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালে
টনসিল অপারেশনের জন্য জেসমিন আক্তারকে নেওয়া হয়। এরপর বিকেলে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক
জিয়াউল হক এবং ডা. এনামুল হকের তত্ত্বাবধায়নে অপারেশন রুমে নেওয়া হয়। এরপর টনসিল অপারেশনের
জন্য অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর রোগীর অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে। একপর্যায়ে রোগীকে
আইসিইউ সেবা দেওয়ার জন্য রোগীর স্বজনদের ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেয় হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষ।
সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স
করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক
জেসমিন আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সেখান থেকে পুনরায় মরদেহ নিয়ে ইউনাইটেড জেনারেল
হাসপাতালে নেয় ভুক্তভোগী পরিবার। সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের
ঘণ্টাব্যাপী বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে
পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগী জেসমিন
আক্তারের বড় ভাই আতাউর রহমান বলেন, অপারেশন রুমে আমার বোনের জ্ঞান ফিরছে না, এই খবর
কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়ার পর আমরা তাদের পরামর্শে বোনকে অচেতন অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে যাই।
সেখানকার ডাক্তার আমার বোনকে মৃত ঘোষণা করেন। অ্যানেস্তেশিয়া ডাক্তারের অবহেলায় আমার
বোনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার
করে হাসপাতালের ম্যানেজার আবু রায়হান আল বেরুনী ওরফে রাজা বলেন, যে কোনো রোগীর টনসিল
অপারেশন করতে গেলে তাকে পুরোপুরি অজ্ঞান করে নিতে হয়। অপারেশন করার আগে রোগী যেসব পরীক্ষানিরীক্ষা
করা দরকার সবগুলো করা হয়েছে এবং সেগুলোর রিপোর্ট ভালো ছিল। তবে জেসমিন আক্তারের ক্ষেত্রে
হিডেন কোনো সমস্যা থাকতে পারে। এছাড়া যে অ্যানেস্তেশিয়া এবং অপারেশন করেছেন তারা খুবই
অভিজ্ঞ চিকিৎসক। ওনাদের দিক থেকে কোনো অবহেলা নাই। রোগীকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা
হয়। কিন্তু জ্ঞান না ফেরার কারণে রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানোর কথা বলা হয়। কিন্তু
ওনারা ঢাকা মেডিকেলে না গিয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। এখানে আমাদের হাসপাতালের দায়িত্বরত কোনো চিকিৎসকের
অবহেলা নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সদর হাসপাতালের অ্যানেস্তেশিয়া কনসালটেন্ট ডা. জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।
আরেক চিকিৎসক ডা. এনামুল হক বলেন, ‘আমার অপারেশনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা অবহেলা নেই। অপারেশনের পর কেন রোগীর জ্ঞান ফিরলো না, সে বিষয়ে যিনি অ্যানেস্তেশিয়া করেছেন তিনি ভালো বলতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টি'র (এনসিপি'র) কেন্দ্রীয় সদস্য সালাউদ্দিন জামিল সৌরভ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বিভাগ সংখ্যা বৃদ্ধি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই প্রেক্ষাপটে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই চলমান। দেশের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে কুমিল্লা একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগের মর্যাদা পাওয়ার উপযুক্ততা বহু আগে থেকেই অর্জন করেছে।
১. ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক গুরুত্ব:
কুমিল্লা দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং এর আশপাশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও লাকসাম-নাঙ্গলকোট অঞ্চলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই অঞ্চলগুলো মিলে একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করে, যা একটি আলাদা বিভাগের প্রাকৃতিক কাঠামো উপস্থাপন করে।
২. জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয়তা:
কুমিল্লা জেলা নিজেই বাংলাদেশের অন্যতম জনবহুল জেলা। কুমিল্লা অঞ্চল ও আশেপাশের জেলা মিলে জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি। একটি বিভাগের মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় বিভাগগুলোর তুলনায় এই অঞ্চলকে একটি আলাদা বিভাগে উন্নীত করলে জনগণের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমবে এবং সেবা পৌঁছাবে আরও দ্রুত।
৩. অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
কুমিল্লা প্রাচীন কালে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। ময়নামতি, শালবন বিহার, এবং অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এই জেলার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। কুমিল্লা শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়েও এগিয়ে রয়েছে। এখানকার ইপিজেড, রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প এবং কৃষিপণ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য। একটি বিভাগীয় শহর হিসেবে কুমিল্লার অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়বে।
৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা হলে এই অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে, উন্নয়ন প্রকল্প আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।
৫. দূরত্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে:
চট্টগ্রাম বিভাগের অংশ হিসেবে বর্তমানে কুমিল্লা অনেক প্রশাসনিক কাজে চট্টগ্রাম নির্ভরশীল। কিন্তু কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ফলে সাধারণ মানুষকে বিভাগীয় কাজের জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিভাগ স্থাপন হলে এই জটিলতা দূর হবে।
৬. জনআকাঙ্ক্ষা ও দীর্ঘদিনের দাবি:
কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি অনেক পুরনো এবং জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। এই দাবি শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নয়, বরং এটি স্থানীয় মানুষের আত্মপরিচয়, মর্যাদা ও উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের এমন যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা অনুচিত।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে
চলমান এসএসসি পরীক্ষায় ছাদ বেয়ে নকল সরবরাহের দায়ে ইমরান হোসেন (১৯) নামের এক যুবককে
ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭
এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে পেরিয়া ইউনিয়নের ডা. যোবায়েদা হান্নান হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
রাফিদ খান এ দণ্ডাদেশ দেন।
এ সময় উপজেলার আরও
চারটি কেন্দ্র থেকে নকলের অভিযোগে ১৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি দায়িত্বে
অবহেলার অভিযোগে মৌকারা মাদ্রাসার চারজন শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা
যায়, ইংরেজি ২য় পত্র চলাকালে ডা. যোবায়েদা হান্নান হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র
পরিদর্শনে যান ট্যাগ অফিসার শহীদুল ইসলাম।
এদিকে ইমরান হোসেন
ভবনের তৃতীয় তলা চাদ বেয়ে নকল দিতে যান আত্মীয়কে। যা নজরে আসে ট্যাগ অফিসার শহীদুল
ইসলামের। সঙ্গে সঙ্গে তাকে একই ভবনের তৃতীয় তলা থেকে আটক করা হয়। ইমরানকে উপজেলা নির্বাহী
অফিসে আনা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে নাঙ্গলকোট
দারুল আফসারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা ৪ জন, ধাতিশ্বর স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২ জন, জোড্ডা
আলিম মাদ্রাসা ৫ জন ও জোড্ডা উচ্চ বিদ্যালয় ৪ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
রাফিদ খান বলেন, নকল সরবরাহের সময় ইমরান হোসেনকে হাতে-নাতে ধরা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী
পরীক্ষা আইন ১৯৮০ (১১-ক) ধারায় ৬ মাসের মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরীক্ষা সুষ্ঠু রাখতে
প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে।
মন্তব্য করুন


জাহাঙ্গীর আলম, কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি:
কাজের
সন্ধানে ভারতের দিল্লিতে গিয়ে ফিরে আসার সময় বিএসএফের হাতে আটক ২৪ জন বাংলাদেশী নারী-পুরুষ
ও শিশুকে ফেরত এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার
(২৩ মে) রাত ১.৩০ মিনিটে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালাতাড়ী সীমান্তের ৯৩২ নম্বর
সীমানা পিলারের পাশে বিজিবি- বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের
পক্ষে ভারতীয় ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের এসি এসএইচএল সিমতি এবং বিজিবি'র পক্ষে লালমনিরহাট
১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর হাসনাইন নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও পতাকা বৈঠকের সময়
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী, ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম, ইউপি সদস্য
মহির উদ্দিন বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমান সহ বিজিবি
সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘন্টাব্যাপি
এ বৈঠক শেষে বিএসএফ আটক বাংলাদেশী ২৪ নারী- পুরুষ ও শিশুদেরকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজিবির
কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি তাদের কে ক্যাম্পে নিয়ে এসে পরিবারের কাছে হস্তান্তর
করেছে।
বিজিবি
সুত্র জানায়, লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বালারহাট বিওপির প্রতিপক্ষ
ভারতীয় ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধীন করলা ক্যাম্পে ভারতে অভিবাসনরত কিছু নাগরিককে বাংলাদেশে
পুশইন করার জন্য জড়ো করা হয়েছে মর্মে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ
কর্ণেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি জানতে পারেন। তখন অবৈধভাবে কোন নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন
না করার জন্য প্রতিপক্ষ বিএসএফকে কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়। বার্তায় বিএসএফকে আরও
জানানো হয় যে, প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশী নাগরিক হলে তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত সাপেক্ষে
প্রচলিত নিয়মানুযায়ী তাদেরেকে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই বাংলাদেশী নয় এমন
কোন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের ভূখন্ডে ঢুকতে দেয়া হবে না। এর প্রেক্ষিতে বিএসএফ প্রাথমিকভাবে
২৪ জনের (পুরুষ- ১২ জন তন্মধ্যে শিশু -৪ জন, মহিলা-১২ জন তন্মধ্যে শিশু-৪ জন ) নামের
তালিকা লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নে প্রদান করে। উক্ত তালিকা যাচাই-বাছাই করে
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়
জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাদেরকে পরিবারের নিকট
হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভারত
থেকে ফেরত আসা ওই ২৪ জন হলেন, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়া সমন্বয়টারী
গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে তাজুল ইসলাম (২৫) তার স্ত্রী আম্বিয়া বেগম(১৯) মেয়ে তাসলিমা
(৭) মাতা তানেকা বেগম(৪৬) বোন তাহেরা খাতুন(৭), দাসিয়ার ছড়া কামালপুর গ্রামের আছর আলীর
ছেলে মানব আলী (২৩) তার স্ত্রী রুমি বেগম (২০), একই গ্রামের নজির হোসেনের ছেলে আব্দুল
কাদের (৩১) তার স্ত্রী সাথী বেগম(২৮) ছেলে শহিদুল (৯) মেয়ে কাজলী (২), উপজেলার আরাজী
নেওয়াশী গ্রামের কাজী উদ্দিনের ছেলে জায়দুল হক (৫৫) তার স্ত্রী আন্জুমা বেগম (৪৩) ছেলে
আশিক বাবু (১৪) মেয়ে জান্নাতি খাতুন (১৯) জামাতা রবিউল (২২) ও ১০ মাস বয়সী নাতি জুনায়েদ,
উপজেলার ভাঙ্গামোড় বটতলা গ্রামের নজির হোসেনের ছেলে হাসেন আলী (৩৫) তার স্ত্রী আলমিনা
বেগম (২৯) মেয়ে হাছিনা (১৩) ছেলে আরিফ (৪) আরমান (২) এবং জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার গোপালপুর
গ্রামের আব্দুস ছালাম (৫০)।
এ
প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের উপ- অধিনায়ক মেজর হাসনাইন জানান, যথাযথ
প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২৪ বাংলাদেশী নারী- পুরুষ ও শিশুদেরকে ফেরত
আনা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধি দের সহায়তায় তাদেরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর
করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন