

সুজন মজুমদার, বরুড়া:
কুমিল্লা জেলা বরুড়া উপজেলায় ১০০ জন প্রান্তিক মাছ চাষীকে দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে ১০০০ কেজি কার্প মিশ্র মাছের পোনা।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৭ ও ১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলা মৎস্য দপ্তর আয়োজনে উপজেলার পরিষদ ও পয়ালগাছা স্থানে মোট ১০০০কেজি কার্প মিশ্র পোনা (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) ১০০ জন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক মাছ চাষিদের মাঝে এ পোনা বিতরণ করা হয়।
উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সুরাইয়া জাহান নিতু নেতৃত্বে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহমেদ হাছানের সভাপতিত্বে দুইদিন ব্যাপি প্রান্তিক মাছ চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে পোনা মাছ বিতরণ করা হয়।
প্রান্তিক মাছ চাষীদেরকে পোনামাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য অফিসার বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় ২০২৪ সালের বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক মৎস্য চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই সময় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছিলাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ মৎস্য চাষিকে প্রণোদনার অংশ হিসেবে ১০০০ কেজি পোনা বিতরণ করা হয়েছে।
প্রান্তিক মাছ চাষী হেলেনা আক্তার বলেন, পোনা পেয়ে অনেক খুশি। বন্যার কারনে পুকুরের সব মাছ চলে যায়। আজ মাছ নিয়ে পুকুরে মাছ পেলে চারপাশে বাঁধ তৈরি করি।
অন্য আরেকজন মাছ চাষী মিজানুর রহমান বলেন, লাখ লাখ টাকার মাছ চলে গেছে, সেখানে কি আর ১০কেজি পোন মাছে পৌষবে?
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পরিচালক (জেলা মৎস্য অফিস) অশোক কুমার দাস, উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য অফিসার (রিজার্ভ) জনাব সুদীপ্ত মিশ্র, লালমাই উপজেলা মৎস্য অফিসার হাবিবুর রহমান ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
ক্লুলেস শরীফ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার এবং হত্যাকান্ডে
ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করেছে বরুড়া থানা পুলিশ।
গত
২৭ মার্চ সকালে বরুড়া থানাধীন বরুড়া পৌরসভাস্থ শালুকিয়া এলাকায় শরীফ হোসেন(৩৫) এর মৃত
দেহ তার ঘরে মাটিতে পড়া অবস্থায় ছিলো।
মৃত
শরীফ হোসেন এর মা রৌশন আরা বেগম থানায় এজাহার দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন এসআই(নিঃ)
নাজিম উদ্দিন।
ভিকটিম
শরীফ হোসেন(৩৫) এর লাশ পাওয়ার পর হতে পুলিশ সুপার, কুমিল্লার সার্বিক দিক নির্দেশনায়
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এ,কে,এম এমরানুল হক মারুফ, সদর দক্ষিণ সার্কেল, কুমিল্লার
তত্ত্বাবধানে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী, এসআই(নিঃ) নাজিম
উদ্দিনসহ বরুড়া থানা পুলিশের একটি চৌকস টীম তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
তবে
নিহতের পরিবার ও এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে হত্যাকান্ডের কোন যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছিল
না। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের
শনাক্তের জন্য বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জসহ টীম বরুড়া বারবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও
জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তদন্ত কার্যক্রমের একপর্যায়ে হত্যাকান্ডে জড়িত
আসামী ১। আরিফ হোসেন(২২), ২। মোঃ নাছির উদ্দিন(৪৩), ৩। মিসেস খুকী আক্তার(৩৫) কে গ্রেফতার
করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হত্যাকান্ডের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ১নং আসামী মৃত
শরীফ হোসেন এর ছোট ভাই, ৩নং আসামী মৃত শরীফ হোসেনের বড় বোন এবং ২নং আসামী ৩নং আসামীর
স্বামী।
গ্রেফতারকৃত
আসামীরা হত্যাকান্ডের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানান, মৃত শরীফ হোসেন উচ্ছৃঙ্খল
জীবন যাপন করত। সে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল। এলাকার লোকজন তাকে
ভয় পেতো। মৃত শরীফ হোসেন তার মাকে প্রায় সময়ই গালিগালাজ ও মারধর করত। ছোট ভাই আরিফ
হোসেনের সাথেও তার ঝগড়াঝাটি ছিল। কিছুদিন আগে আরিফ হোসেন এর একটি অটোরিক্সা শরীফ হোসেন
জোরপূর্বক বিক্রি করে। ইহাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া
মৃত শরীফ হোসেন এলাকার লোকজনের বিভিন্ন রকম ক্ষতি করায় ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন তার বড় বোন
খুকি আক্তার এর নিকট বিচার প্রার্থী হলে বড় বোন শরীফ হোসেনকে শাসন করার জন্য বিভিন্ন
কথাবার্তা বলত। ফলে মৃত শরীফ হোসেন বোনকে শক্র মনে করত। এমনকি বোনকে বিভিন্ন রকম হুমকি
দিতো। মৃত শরীফ হোসেনের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে বড় বোন খুকি আক্তার, বোনের স্বামী মোঃ
নাছির উদ্দিন ও ছোট ভাই আরিফ হোসেন তাদের একজন প্রতিবেশীকে নিয়ে পরিকল্পনা করে যে,
শরীফ হোসেনকে মারপিট করে পঙ্গু করে ঘরে বসিয়ে খাওয়াইবে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামীগন
গত ২৬/০৩/২০২৪খ্রিঃ তারিখ দিবাগত রাত ১টায় ঘটিকার সময় বরুড়া থানাধীন বরুড়া পৌরসভাস্থ
শালুকিয়া সাকিনের শঙ্কু ডাক্তারের পুকুর পাড়ে নির্জনস্থানে শরীফ হোসেনকে একা পেয়ে আসামীদের
হাতে থাকা রড, দা ও টর্চ লাইট দিয়ে শরীফ হোসেনের মাথা, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে
পিটিয়ে গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত ও ফুলা জখম করে। তারপর শরীফ হোসেনের হাত পা বেধে আসামী
নাছির উদ্দিনের বাড়ির উঠানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর শরীফ হোসেনকে আবারও মারপিট
করে। তারপর শরীফ হোসেন দুর্বল হয়ে গেলে আসামীগন হাত পা বাঁধা অবস্থায় শরীফ হোসেনকে
তার ঘরে মাটিতে ফেলে আসে। সকালে আসামীরা জানতে পারে শরীফ হোসেন মারা গেছে। সংবাদ পেয়ে
আসামীরা শরীফ হোসেনকে দেখতে যায়।
হত্যাকান্ডে
আসামীদের ব্যবহৃত দা, রড, টর্চ লাইট উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ
জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী ১।
আরিফ, ২। নাছির এর ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় গালি প্রিমিয়াম লীগ (জিপিএল) ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট এর ৩য় আসরের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর কান্দিরপাড় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল মাঠে আয়োজিত টুর্ণামেন্টের উদ্ধোধন করেন সেচ্ছাসেবী সংগঠন বিবেক এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু।
বিশিষ্ট্য সমাজ সেবক মাকসুদুল মমিন ভূইয়া (মাকসুদ) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গোল্ড সিলভার হোমস্ লিঃ এর পরিচালক মোঃ জহিরুল কবির, কে হোসেন গ্রুপ অব কোম্পানীর স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ কামাল হোসেন, রুপালী ব্যাংক কুমিল্লা শাখার এজিএম মোঃ মিজানুর রহমান।
এসময় জিপিএল এর সভাপতি জাহিদুল হাসান সাদাফ, সাধারন সম্পাদক রাফাত হোসেন মিরাজসহ বিভিন্ন দলের অধিনায়ক, খেলোয়ারবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জিপিএল এর সাধারন সম্পাদক রাফাত হোসেন মিরাজ বলেন, এটি তাদের ৩য় আসর। প্রতি বছরই অত্যান্ত ঝঁমকালো আয়োজনে এ টুর্ণামেন্ট টি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এবারও নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ২৮টি ক্লাব এ খেলায় অংশ গ্রহন করে। উদ্ধোধনী খেলায় বিবেক একাদশ ও ইউ ফারিয়া একাদশ অংশ নেয়। ম্যাস ব্যাপী খেলা শেষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ফাইনাল খেলা ওপুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হবে।
পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানটি আরো বড় পরিসরে করা হবে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের স্বনামধন্য সংঙ্গীতশিল্পীরা উপস্থিত থাকবেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা নগরীতে মিলন বিবি(৫৫) নামের এক নারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যার পর মরদেহ বেডসিট দিয়ে মুড়িয়ে খাটের নিচে ফেলে রাখা হয়। নগরীর রেইসকোর্স কাঠেরপুল এলাকার মজুমদার বাড়ির ২য় তলার ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতের গ্রামের বাড়ির জেলার বুড়িচং উপজেলার শিকারপুর গ্রামে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম।
নিহতের মেয়ে তানজিনা আক্তার জানান, মাকে বাসায় রেখে তারা নোয়াখালী বেড়াতে যান। বিকালে ফোনে প্রতিবেশীরা তাকে জানান, তাদের বাসার দরজা খোলা,আসবাবপত্র উল্টে রাখা হয়েছে। তারা খোঁজ করে খাটের নিচে বেডসিট জড়ানো তার মায়ের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় অভিনব কৌশলে পিকআপে করে মাদক পরিবহনকালে ৮৯ কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ সিপিসি-২।
আজ (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল
থানাধীন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কৌশলে পিকআপের
পিছনে মালামাল পরিবহণের ক্যারেটের মধ্যে লুকিয়ে গাঁজা পরিবহণের সময় আসামী ১। জুয়েল
রানা এবং ২। মোঃ আকাশ নামক দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামী’দ্বয়ের
কাছ থেকে ৮৯ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী ১। জুয়েল রানা (৩১) দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানার চন্ডীপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম এর ছেলে এবং ২। মোঃ আকাশ (৩২) একই থানার উত্তর বাসুদেরপুর গ্রামের মোঃ খোকন এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার
সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে দিনাজপুর সহ অন্যান্য জেলায় মাদক
ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা
বাহিনীর চোখ এড়াতে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিনব কৌশল অবলম্বন করে মাদকদ্রব্য পরিবহণ
করতো। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা
করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত
আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ১২ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক
ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
আজ (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী
মডেল থানাধীন তেলিকোনা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী শাহীন নামক একজন
মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ১২ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহন
কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী শাহীন (৬০) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার গাজীপুর গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়া এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত
সিএনজি ব্যবহার করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে
কুমিল্লাসহ অন্যান্য জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে
বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান
পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত
থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার গোমতী নদীতে ককশীট ও কলাগাছের সঙ্গে বেঁধে পাচারের জন্য ভাসিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বিজিবি। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী গোলাবাড়ি পোস্টের বিজিবি সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
কুমিল্লা ১০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ শুক্রবার সকাল ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে মাদক পাচারের চেষ্টা করে। তার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোরে আদর্শ সদর উপজেলার গোলাবাড়ী এলাকায় গোমতী নদীতে কলা গাছ ও ককশীটের সঙ্গে বেঁধে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় পানিতে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় মদ, ভদকা, বিয়ার স্কাফসহ ১০ লাখ টাকার মূল্যমানের মাদক। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মাদকদ্রব্যগুলো কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে ৬৮ কেজি গাঁজাসহ
২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২। মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত
একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ।
সোমবার ১৮ মার্চ রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২
একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন চিওড়া
সুজাতপুর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা সুপন বড়ুয়া (৩০) নামক ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে
গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ২৮ কেজি গাঁজা ও ১ টি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা
হয়।
পৃথক অন্য একটি অভিযানে ১৮ মার্চ রাতে
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন নবগ্রাম এলাকায় মাদক বিরোধী
অভিযান পরিচালনা করে আসামী মোঃ মনির হোসেন (৪৩) নামক ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার
করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও ১ টি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী ১। সুপন বড়ুয়া (৩০)
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার ফতেহপুর গ্রামের মৃত দুলাল বড়ুয়া এর ছেলে এবং আসামী
২। মোঃ মনির হোসেন (৪৩) কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার কলাকান্দি গ্রামের মৃত জাফর মোল্লা
এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার
সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলায় মাদক ব্যবসায়ী
ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির
বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে শহীদ আরআই এ.বি.এম আবদুল হালিম মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাশেদুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত সকল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা তাদের পেশাগত ও প্রশাসনিক নানা সমস্যার কথা পুলিশ সুপারের সামনে তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে এসব সমস্যা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।এসময় পুলিশ সুপার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি নৈতিক স্খলন রোধ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভা শেষে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকজন অফিসার ও ফোর্স সদস্যকে অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের জন্য তাদের উৎসাহিত করা হয় এবং পুরস্কারের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) পংকজ বড়ুয়াসহ কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সকল স্তরের পুলিশ সদস্যবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অটো মিশুক চালক সৈকত হত্যার ঘটনা জড়িত অন্যতম আসামি তুহিন মজুমদারকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ সিপিসি-২ সদস্যরা।
গ্রেফতার হওয়া তুহিন মজুমদার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের বাবুল মজুমদারের ছেলে। ৭ আগস্ট রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ৩ জুলাই রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাহেরগড়া এলাকার নাঙ্গলিয়া খাল পাড়ে সৈকত (১৯) নামে এক অটোমিশুক চালক নৃশংসভাবে খুন হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ভিকটিম তাফরুল ইসলাম সৈকত (১৯) অটো মিশুক চালানোর উদ্দেশ্যে গত ০২ জুলাই বিকাল ৫ টায় বাড়ী থেকে বের হয়। রাত ১১ টা অতিবাহিত হওয়ার পরও সৈকত বাড়ীতে না ফেরায় তার পরিবার তাকে বিভিন্ন স্থানে খোজ করতে থাকে। পরবর্তীতে বিকাল সাড়ে ৫ টায় চৌদ্দগ্রামের মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাহেরগড়া এলাকার নাঙ্গলিয়া খাল পাড়ে ভিকটিম সৈকত (১৯) এর লাশ পাওয়া যায়।
উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-০৭। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি ও ছায়াতদন্ত শুরু করে।
গোয়েন্দা নজরদারী ও ছায়াতদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত অন্যতম আসামী তুহিন মজুমদার (৩২) এর অবস্থান চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ০৭ আগষ্ট রাতে র্যাবের অভিযানে চৌদ্দগ্রাম থানাধীন বসন্তপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যতম আসামী তুহিন মজুমদারকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী সহ অন্যান্য আসামীদের সাথে ভিকটিমের সু-সম্পর্ক ছিল। সে সূত্র ধরে গত ০১ জুলাই রাতে গ্রেফতারকৃত আসামী সহ তার অন্যান্য সহযোগী আসামীরা একত্রে মিলিত হয়ে ভিকটিমকে হত্যা করে তার অটো মিশুকটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ০২ জুলাই রাত ১১ টায় আসামীরা অটো মিশুকসহ ভিকটিমকে নিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানাধীন মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাহেরগড়া এলাকার নাঙ্গলিয়া খাল এলাকায় গিয়ে সবাই মিলে বসে গল্প করে। এক পর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক গ্রেফতারকৃত আসামীর নির্দেশে ঘটনাস্থলের পাশে লুকিয়ে রাখা চাপাতি দিয়ে অন্যান্য আসামীরা ভিকটিমকে কুপিয়ে হত্য করে ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে ভিকটিমের কাছে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল এবং অটো মিশুকটি নিয়ে লাশ খালে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।
গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১১, সিপিসি ২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার চান্দিনায় সৎ মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাহিন মুন্সি নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের সব্দলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতা হালিমা খাতুন (৩৪) সব্দলপুর গ্রামের এমদাদুল হক মুন্সির (৭৫) দ্বিতীয় স্ত্রী। গতকাল বুধবার গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার ( ৩০ অক্টবর ) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত শাহিন মুন্সি মৃতার সৎ ছেলে এবং এমদাদুল হক মুন্সির চতুর্থ ছেলে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এমদাদুল হক মুন্সির প্রথম স্ত্রী মারা যান প্রায় ৩ বছর আগে। তার চার ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। যারা সবাই বিবাহিত এবং ৪ ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী। ছোট ছেলে শাহিন মুন্সি প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন। দুই মাস আগে এমদাদুল হক মুন্সি দাউদকান্দি উপজেলার জয়নগর গ্রামের হালিমা খাতুনকে বিয়ে করেন।
এমদাদুল হক মুন্সি জানান, ‘গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে আমি শৌচাগারে যাই। তখন আমার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন, পাশের কক্ষে ছোট ছেলে শাহিন ছিল। ঘরে ফিরে দেখি স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় কাতরাচ্ছেন। চিৎকার দিলে পুত্রবধূসহ আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে অ্যাম্বুল্যান্সে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তৃতীয় পুত্রবধূ শিরিনা আক্তার জানান, ‘আমরা অন্য ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম। শ্বশুরের চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখি শাহিন ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, শ্বশুর কান্নাকাটি করছেন। সৎ শাশুড়ি তখন রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে ছিলেন।’ বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘এমদাদুল হক মুন্সি আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। দ্বিতীয় বিয়েতে পরিবারের কারোর আপত্তি ছিল না। কী কারণে শাহিন সৎ মাকে হত্যা করেছে, তা কেউ বলতে পারছে না। ঘটনার পর সে পালিয়ে যায়।’
চান্দিনা থানার (ওসি) “জাবেদ উল ইসলাম” জানায়, মৃতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার স্বামী এমদাদুল হক মুন্সি বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহিন মুন্সির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন