

টাঙ্গাইলের
মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খন্দকার আমিনুল ইসলাম
মিন্টুকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার
(৫ জুলাই) উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশিদের স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এ-সংক্রান্ত
বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়।
জানা
যায়, বিশ্বকাপ ফুটবলে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়ের পর থ্রি-পিস পরে নেচে-গেয়ে
আনন্দ প্রকাশ করেন মিন্টু। তার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক
আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
উপজেলা
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত
থাকার অভিযোগে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির পদ থেকে স্থায়ীভাবে
বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ
বিষয়ে খন্দকার আমিনুল ইসলাম মিন্টুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা
করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বহিষ্কারের
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশিদ।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে বাংলাদেশে উদ্ভুত বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তার লক্ষ্যে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহায়তা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে আরো বলা হয়, জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. হারুন-অর-রশিদ সেলের দৈনন্দিন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন।
‘দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা
সহায়তা সমন্বয় সেল’-এ জরুরি যোগাযোগের জন্য ০২-৪৭১১৮৭০০, ০২- ৪৭১১৮৭০১, ০২-৪৭১১৮৭০২, ০২-৪৭১১৮৭০৩, ০২-৪৭১১৮৭০৪ ও ০২-৪৭১১৮৭০৫ এবং ০১৩১৭৭৪৯৯৮০ ও ০১৮২০১১৭৭৪৪ নম্বরে ফোন করা যাবে।
সমন্বয় সেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সার্বক্ষণিক
যোগাযোগ রক্ষাসহ প্রাপ্ত তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন এবং সার্বক্ষণিক ফলোআপ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে
উল্লেখ করা হয় ।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া
আগামী মঙ্গলবার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যাত্রা করবেন।
রোববার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে
সাক্ষাৎ শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান।
রাত ৮টায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল
ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির
উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম
খান, সালাউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ
টুকু ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন চেয়ারপারসনের বাসভবনে সাক্ষাৎ করতে যান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, মহান আল্লাহ
তায়ালার অশেষ রহমতে দেশের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী, যিনি জনগণের অত্যন্ত আদরের, দেশের
গণতন্ত্র সার্বভৌমত্ব ক্ষেত্রে আপসহীন তিনি তার চিকিৎসার জন্য আগামী ৭ জানুয়ারী লন্ডনের
উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন তার চিকিৎসার জন্য। সে কারণে আমরা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ
এসেছিলাম তাকে বিদায় শুভেচ্ছা জানাতে। এবং সেইসঙ্গে আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছি, আলাপ
করেছি। পরম করুনাময় আল্লাহ তাআলার কাছে এই দোয়া করেছি যে আল্লাহ তা'আলা যেন তাকে
সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এবং আমাদের গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম
চলছে সেই সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দেন। এবং সেই সংগ্রাম সফল করবেন বাংলাদেশের মানুষের
সেই প্রত্যাশা। আমরা আল্লাহতালার কাছে দোয়া করি তার এই যাত্রা যেন সফল হয়। তিনি সুচিকিৎসা
নিয়ে যেন আমাদের মাঝে আবার ফিরে আসতে পারেন। তিনি যেন সুস্থভাবে যেতে পারেন এবং সুস্থভাবে
ফিরে আসতে পারেন আমরা সেই কামনা করেছি। নির্দেশনা দিয়েছেন একসঙ্গে কাজ কর, জনগণের
পক্ষে কাজ কর, গণতন্ত্রের জন্য কাজ কর। আশা করি তিনি দ্রুতই সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার
সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলটির স্থায়ী কমিটি সদস্যরা।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে যানবাহনসহ ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকার অবৈধ ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও থ্রিপিস উদ্ধার করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)। রোববার ভোরে কুমিল্লা সীমান্তবর্তী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও সদর উপজেলা থেকে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিজিবি।
বিজিবি জানায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আওতাধীন শিবেরবাজার বিওপি'র বিশেষ টহলদল এবং আদর্শ সদর উপজেলার আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত অভিযানে সীমান্তের ৬ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চৌয়ারা বাজার এবং ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালপাড়া নামক স্থানে বিজিবি টহল দল কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় যানবাহনসহ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, রেডবুল এবং মুভ মলম আটক করে। আটককৃত মালামালের সর্বমোট মূল্য ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমসে জমা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন




রেখে যাবো
সংসারে কিছু কিছু নয়,সব কিছুই রেখে যেতে হয়,
সাজানো গোছানো কিংবা অগোছালো ঘরদোর,
আত্মীয় -পরিজন,বন্ধু-স্বজন,সন্তান-সন্ততি মায়াডোর।
কিছু অপূর্ণ আশা,কিছু অসমাপ্ত কাজ
রেখে যাওয়া ভালো জীবনের সিম্ফনিতে নিঃশব্দে নীরবে,
তারপর
হারিয়ে যাওয়া ছায়াপথে।
ফেলে তো যেতেই হবে মায়াময় ধুলোমাখা চিরচেনা পথ,
সে পথেই পড়ে রবে সংসারের অভ্রভেদী রথ।
শ্রাবণের বৃষ্টির জন্য কাছে রেখে যাবো
বুকের ভেতর জমানো কান্নার সমুদ্দুর।
তীব্র শীতে উষ্ণতার জন্য রেখে যাবো
ভালবাসার রোদ্দুর।
আমার অন্তিম অর্ঘ্য রেখে যাবো
মায়াবী অসামান্য পৃথিবীতে।
ক্ষীণ আশার দীপ জ্বেলে রাখি-
প্রজন্মান্তরে সুখের সোনালী কুটির হবে আমার এ ভিতে।
মল্লিকা বিশ্বাস
মন্তব্য করুন


বিদায়ের
শঙ্কা উড়িয়ে মেসি ম্যাজিকে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে,কঠিন পথ পেরিয়ে
শিরোপায় চোখ রাখছে স্পেন। এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার খবরের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ঘুরতে শুরু করেছে একটি ছবি, যেখানে মেসির কোলে একটি ছোটো শিশুকে দেখা যাচ্ছে, যিনি
এখন স্পেন দলের তুখোড় খেলোয়ার লামিন ইয়ামাল।
অনেকেই
ছবিটিকে ভুয়া বা এআই-নির্মিত বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফই
এবার নিশ্চিত করেছে, এই ছবি কোনো কল্পনা বা প্রযুক্তির কারসাজি নয় বরং বাস্তব।
২০০৭
সালে, বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুর ড্রেসিংরুমে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটের জন্য
এই শিশুকে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর। ছবিতে পোজ
দেওয়ার অংশ হিসেবে মেসি তখন গোসল করিয়ে দিচ্ছিলেন লামিন ইয়ামালকে।
ইউনিসেফের
ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মেসি ও ইয়ামালের ছবিটি পোস্ট করে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, হ্যাঁ, আপনারা যে ছবিগুলো দেখেছেন, সেগুলো একদম আসল।
পোস্টে
আরও বলা হয়েছে, ১৮ বছরেরও বেশি সময় আগে, ইউনিসেফের তহবিল সংগ্রহের একটি ফটোশুটে লামিন
ইয়ামাল ও তার মা শিলার সাথে লিওনেল মেসির দেখা হয়েছিল।
এতে
বলা হয়, আজ, খেলার মাঠে তাঁদের সাফল্য লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। মাঠের বাইরেও,
মেসি ও লামিন ইয়ামাল—উভয়েই ইউনিসেফের ‘গুডউইল অ্যাম্বাসেডর’
বা শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বিশ্বজুড়ে শিশুদের সহায়তা ও তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেন।
পোস্টে
বলা হয়, এর লক্ষ্য কী? যাতে প্রতিটি শিশু বেঁচে থাকে, সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে এবং নিজেদের
পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। আমাদের দলে তাঁদের পেয়ে আমরা গর্বিত।
মন্তব্য করুন


সারাদেশের
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি সাত লাখের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম,
জুতা, মোজা ও পাটের ব্যাগ পেতে যাচ্ছে।
বিএনপি
নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ
হিসেবে এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মূল কার্যক্রম শুরুর আগে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে
পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে।
সোমবার
(৮ জুন) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এসময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ববি
হাজ্জাজ জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় মোট সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে এই সুবিধার
আওতায় আনা হবে। কার্যক্রমটি কয়েক ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীর
মধ্যে এই সামগ্রী বিতরণ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি শিক্ষার্থীদের কাছে সামগ্রীগুলো
পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পাইলট প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা
নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী
বলেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশের
সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরোদমে সামগ্রী বিতরণ শুরু হতে পারে।
তিনি
জানান, সারাদেশের কোনো উপজেলা যেন বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলার একাধিক স্কুলকে
এই কর্মসূচিতে যুক্ত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই পাইলট
প্রকল্পের আওতায় থাকবে।
বস্ত্র
ও পাট মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগে বড় ধরনের সহযোগিতা দেবে। তারা প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের
জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাঁচ লাখ পাটের স্কুল ব্যাগ উপহার হিসেবে দিচ্ছে।
এক
প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ জানান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে স্কুল
ব্যাগটি ওয়াটারপ্রুফ হবে। সেই চিন্তাভাবনা ও পর্যবেক্ষণ করেই তারা এগুলো তৈরি করেছেন।
যেহেতু এটা পাইলট প্রকল্প, তাই যদি কোনো ভুলত্রুটি থেকে থাকে, এখান থেকে তারা জানতে
পারবেন। যাতে পরে যখন পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে যাবেন তখন যেন সেটি ঠিক করে নেওয়া যায়।
এছাড়া
মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি এলাকায় এই কার্যক্রম সফল করতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা করছে বলেও জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
ববি
হাজ্জাজ আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী
আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে
"আসন্ন ঈদ-উল-আজহা ২০২৬ এর প্রাক্কালে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা,
ঈদের পূর্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ ও ছুটি প্রদান, সড়ক-মহাসড়ক যানজট
মুক্ত রাখা ও কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা প্রদানসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ক"
এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ
চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর
প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জানান, ঈদুল আজহার প্রাক্কালে এবং পরবর্তী সময়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে
একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল ঈদের আগের ৭ দিন এবং পরের ৭ দিন সার্বক্ষণিক
কার্যকর থাকবে। এছাড়া র্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে
সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জনসাধারণের জন্য পুলিশ,
ফায়ার সার্ভিস (১০২) ও বিআইডব্লিউটিএ (১৬১১৩) সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হটলাইন নম্বরগুলো
চালু থাকবে।
মন্ত্রী
জানান, এবার সারাদেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর
সিটি কর্পোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১১টি হাট থাকবে। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত
আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জালনোট শনাক্তে প্রতিটি
হাটে ব্যাংকগুলোর বুথ ও মেশিন থাকবে। এছাড়া ইজারাদারদের চাহিদানুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে 'অঙ্গীভূত আনসার' নিয়োজিত করা হবে।
সড়ক
ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি কঠোরহস্তে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন
মন্ত্রী। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি-ওর্ন ক্যামেরা
ব্যবহার করবে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।”
চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান,
চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় কোরবানি পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের জন্য
দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে
লবণ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছেন।
ঈদের
ছুটির আগেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ
এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে
ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং মহাসড়কের গর্তগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। ফেরি ও লঞ্চে যাত্রী ও পশু পরিবহনে হেনস্তা বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপের ফলে দেশবাসী অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ
ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে পারবেন।
ভারতের
অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বা অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক প্রভাব
পড়ার শঙ্কা নাকচ করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বন্ধুপ্রতিম
দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে। সীমান্ত দিয়ে কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ বা 'পুশ-ইন'
রোধে বিজিবি সর্বদা জাগ্রত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


কৃষি,
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল
তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে সরকার অনলাইনে কৃষক কার্ড নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী
এক বছরের মধ্যে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।
শুক্রবার
বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের মাঠপর্যায়ের
তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি
বলেন, পর্যায়ক্রমে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রায় আড়াই কোটি থেকে ২ কোটি ৭০ লাখ
কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া নিবন্ধন কার্যক্রমে
শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৫ হাজার কৃষক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। মন্ত্রী
আরও বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভুল ও হালনাগাদ ডাটাবেজ
তৈরি হবে। কৃষকদের দেওয়া সব তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কৃষি ভর্তুকি,
প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ ও সার, কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা
প্রকৃত কৃষকদের কাছে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
আমিন
উর রশিদ বলেন, অতীতে তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক কৃষক সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত
হয়েছেন। কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হবে। তবে নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক
কৃষককে সঠিক তথ্য দিতে হবে। ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে সরকারি সেবা গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি
হতে পারে।
পরিদর্শনের
সময় মন্ত্রী নিবন্ধন বুথ ঘুরে দেখেন এবং কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই,
অনলাইন নিবন্ধন ও তথ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের
নির্দেশ দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ে যেন কোনো ধরনের হয়রানি, অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ
না থাকে। প্রকৃত কৃষকদের তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। পরে তিনি উপস্থিত
কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কৃষকেরা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সার ও বীজের সরবরাহ, সেচ
সুবিধা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং সরকারি সহায়তা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
মন্ত্রী তাদের বক্তব্য শোনেন এবং কৃষকদের কল্যাণে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে
জানান।
চট্টগ্রাম-১২
(পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
কৃষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা প্রকৃত কৃষকের
কাছে পৌঁছাবে এবং কৃষি খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম, চট্টগ্রাম
অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক আপ্রু মারমা,
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ,
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.
মো. ইলিয়াস, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয়
জনপ্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কৃষি
বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষকের জমির পরিমাণ,
চাষাবাদের ধরন, উৎপাদিত ফসল এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই
তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি আরও
কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন


২০২৬
সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে
১০ আগস্ট ২০২৬। আজ সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক প্রথম
আলোকে এ তথ্য জানান।
পূর্বঘোষণা
অনুযায়ী, ২০ জুলাই এসএসসির ফলাফল প্রকাশের কথা ছিল, কিন্তু প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায়
তা পিছিয়ে যায়। ১৮ জুলাই বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা
বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, ২০ তারিখে
ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে না। তবে জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের জন্য তাঁরা প্রস্তুত আছেন।
এর
আগে গত ৮ জুন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান,
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা
হবে ২০ জুলাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি
বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে, পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত।
এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
৯টি
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি
শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৮
লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।
এদিকে
সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট সারা দেশে একযোগে প্রকাশ করা
হবে। ফলাফল প্রাপ্তির নিয়মাবলি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া।
মন্তব্য করুন