

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর):
সারাদিনের মধ্যে ভাপা পিঠার প্রয়োজনীয় সব কিছু জোগাড় করে বিকেল থেকে দিনের আলোয় কাজ করছেন মমতাজ বেগম। আর সন্ধ্যা নামতেই কৃত্রিম আলো জ্বালানো হলে পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পিঠার দোকানের কাছেই ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন। দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের বিরামপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকায় এভাবে গরম চুলোয় পিঠা তৈরি করে বিক্রয় করতে দেখা যায়।
দেশের উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় শীতের প্রকোপ বেশি হয়ে থাকে। শীতের আগমনী বার্তা পেয়ে পিঠা বিক্রেতাদের
পরিবারে সুখের দিন ফিরে আসে। ভোররাত
থেকে কুয়াশার সঙ্গে কিছুটা শীত এবং বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আগে শীত অনুভব করা যায়। তারপরও শীতের এই আমেজকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয় পিঠা। পিঠা বাঙালি সংস্কৃতির এক অংশ। শীতের সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা খাওয়া গ্রামের চিরায়ত দৃশ্য হলেও এমন দৃশ্য পৌরশহরে চোখে পড়ে। ব্যস্ত শহুরে জীবনে ঘরে পিঠা তৈরি করা কষ্টসাধ্য হলেও রাস্তার পাশে ও মোড়ের দোকানে পিঠা পাওয়া যায়। তাই শীত মৌসুমে পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় পিঠার দোকান গড়ে ওঠে।
এ বছরও শীতকে ঘিরে পৌরশহরে মৌসুমি পিঠা বিক্রেতাদের প্রস্তুতির কমতি নেই। দিনভর পিঠার আটাসহ অন্যান্য উপকরণ তারা তৈরি করেন। আর বিকেল হলেই রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ
স্থানে হরেক রকমের পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রাত ১০টা পর্যন্ত সেই পিঠা বিক্রি চলে। আর পিঠা বিক্রির আয়েই এসব খেটে খাওয়া মানুষের সংসার চলে। বলা যায়, শীত মৌসুমে তিন মাস পিঠা বিক্রি করেই তারা উপার্জন করে থাকেন।
বিরামপুর উপজেলার, কলাবাগান মোড়, হাসপাতাল মোড় , মহাসড়কের পাশে মুক্তিযোদ্ধা
কমপ্লেক্স এর পশ্চিমে,অবসর সিনেমা মোড়, পশু হাটের মোড়, থানার রাস্তার মোড়সহ পূর্ব পাড়া,ইসলাম পাড়ার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন অলিতে গলিতে বিকেল থেকেই পিঠা বিক্রেতারা রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ
স্থানে অবস্থান করেন। কেউ ভ্যানে করে আবার কেউ নির্দিষ্ট স্থানেই শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করেন। পরিবারের কাজকর্ম শেষ করে বেশিরভাগ অসহায় দরিদ্র পরিবারের নারীরা এ পেশায় ব্যাস্ত হয়ে পড়েন।পিঠা বিক্রির টাকায় এ স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর সংসার চলে। শীত শেষ হলে অনেকে অটোরিকশা চালানো কিংবা অন্য কোনো দিন মজুরির কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন।
স্বামী সন্তান সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় পিঠা বিক্রি করছেন জাহানারা ।এসব নারীদের কারোর স্বামী নেই আবার স্বামী থাকলেও অসুস্থ। তাই সংসার চালাতে শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করছেন। এসব দোকানে শীতের বিভিন্ন প্রকারের পিঠা দেখা যায়। এর মধ্যে ভাপা আর চিতই পিঠার দোকানই বেশি চোখে পড়ে। এর পাশাপাশি সিদ্ধ ডিম,পিঁয়াজু,পাটিশপটা,মুগের ডালের পাঁপড় ভাজা, তেল পিঠাসহ হরেকরকম পিঠার পসরা সাজিয়ে রেখেছেন।চিতই পিঠা খাওয়ার জন্য ভর্তা হিসেবে রয়েছে তিল,ঝাল, বাদাম ও ধনা পাতার এছাড়াও রয়েছে গুঁড়।
পৌরশহরে সন্ধ্যা নামতেই পিঠার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেক সময় একজনের পক্ষে পিঠা তৈরি করে বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়। একাধিক চুলায় পিঠা তৈরি করেও ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে যায়। এ সময় পিঠা বিক্রেতা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে অনুরোধও করেন। অনেকে বাড়ির সদস্যদের জন্যও পিঠা নিয়ে যান। আর বেশিরভাগ ক্রেতাই গরম পিঠা খাওয়ার জন্য দাবি করেন বলে তাদেরকে অপেক্ষা করতে হয়। এসব পিঠার দোকানে রিকশাচালক থেকে শুরু করে দিনমজুর, শিশু-কিশোর, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষই আসেন।
পিঠা বিক্রেতারা জানান, চালসহ অন্যান্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি হলেও পিঠার দাম বাড়েনি।
কলাবাগান মোড়ের পিঠা বিক্রেতা নওশাদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একশ থেকে ১৫০টি পিঠা বিক্রি করা যায়। প্রতিদিন একইরকম বিক্রি হয় না। কোনোদিন একশটি পিঠাও বিক্রি করা কঠিনে হয়ে যায়। এখন তো সবখানেই পিঠা পাওয়া যায়।
পিঠার দামের বিষয়ে এ বিক্রেতা বললেন, সাধারণত ১০টাকা দামেই পিঠা বিক্রি করি। কেউ কেউ ২০ টাকার পিঠার কথা বললে সেটাও তৈরি করি। তবে ১০টাকার পিঠাই বেশি বিক্রি করি। দিনে এক থেকে দেড় হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হলে পাঁচ থেকে সাতশ টাকা লাভ থাকে। কোনো কোনো দিন আবার পাঁচশ টাকাও হয় না।
কয়েকজন অটোরিকশা চালক পিঠা খেতে এসেছেন বিরামপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এর পশ্চিমে। পিঠার দোকানের সামনে তাদের সঙ্গে কথা হয়। অটোরিকশা চালক হারুন বলেন, সন্ধ্যা হলেই বাইরে বের হই আমরা। এখন শীতের সময় ভাড়া মারার ফাঁকে সময় করে পিঠা খেতে আসি। এছাড়াও জিনিস পত্রের যে দাম বাসায় তৈরি করে খাওয়ার তেমন সুযোগ হয়না তাই এই পিঠার দোকানই শেষ ভরসা। পিঠা ভালো লাগলে যে যার মতো করে আমরা পিঠা খাই। তারপরও বাড়িতে তৈরি পিঠার স্বাদ এখানে পাওয়া যায় না।
পরিবারের সাথে পিঠা কিনতে আসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোখসানা বলেন, গ্রামে বেড়াতে গেলে নানীর হাতের পিঠা খেতাম। কিন্তু শহরে সেই সুযোগ আর কোথায়। প্রায়ই বাবার সঙ্গে বাহিরে শীতের সময়ে পিঠা খাওয়া হয়।
বিরামপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মোশাররত জাহান এর সাথে মুঠোফোনে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন নারীরা তো আর পিছিয়ে নেই। শীতকালে নিজ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের পিঠার দোকান দিয়ে তাঁরা আয় করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে যদি তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আরও কোনো সুযোগ তৈরি করা যায়, তাহলে সেটি আরও ভালো হবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা,কচুয়া:
প্রচন্ড শীতে চরম বিপাকে পড়েছেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গরিব-অসহায় শীতার্ত মানুষ। এই শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন সমাজের ছিন্নমূল মানুষেরা। গরিব-দুঃখী শীতার্ত মানুষের শীতের কষ্ট লাঘবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের মাঝে রাতের আঁধারে কম্বল নিয়ে হাজির হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী।
ঢাকা পিজি হাসপাতালের রেন্ট কালেক্টর ইনচার্জ মো. সাজেদুল হাসান কামালের উদ্যোগ ও সার্বিক তত্ত্ববধানে শুক্রবার রাতে উপজেলার সফিবাদ নূরানীয়া হাফিজিয়া ফোরকানীয়া মাদ্রাসা ও এতিখানা এতিম শিশুদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শীতের কম্বল বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী। শীতের রাতে কম্বল পেয়ে হাসি ফুটেছে এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের মুখে।
এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম,এতিমখানার সভাপতি ডা. মো. সফিকুল ইসলাম লনী,বিএনপি নেতা মো. জুয়েল,বাবুল হোসেন,মহসিন মোল্লা,জামাল মোল্লা ও রুবেল বেপারী অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী বলেন, হঠাৎ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতের প্রকোপে সমাজের অসহায় দুস্থ মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট হচ্ছে। শীতার্ত কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায় সেজন্য কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কালের বির্বতনে হারিয়ে
যাচ্ছে গ্রাম বাংলার এক সময়ের ধান চাল ভাঙার একমাত্র অবলম্বন ঢেঁকি। গ্রাম বাংলার
ঐতিহ্য ঢেঁকি এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। সময়ের বির্বতনে বিলীন হতে চলেছে ঢেঁকি।
উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে দেখা মিলতো ঢেঁকির। এখন ঢেঁকির কদর
কমে যাওয়ায় তেমন আর দেখা মেলে না। অনেক দরিদ্র পরিবার ঢেঁকিতে চাল ভাঙিয়ে
হাটে-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। আর ঢেঁকিতে ভাঙা চাল খুব সুস্বাদু ও
পুষ্টি সমৃদ্ধ হওয়ায় ওই চালের খুব কদর ছিল কিন্তু কালের বিবর্তনে ধান, গম, ভাঙার
মেশিনের কারণে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আজ বিলপ্তির পথে। গ্রাম-গঞ্জে গেলে
এখনো দু-একটি বাড়িতে ঢেঁকি দেখা গেলেও ভবিষ্যতে ঢেঁকির প্রচলন থাকবে না বলে মনে
করেন সচেতন মহল। বর্তমানে বিভিন্ন গ্রামের কয়েকটা বাড়ি ঘুরলে দেখা মেলে ঢেঁকির।
সেগুলো আবার রয়েছে অযন্তে। অথচ একদিন ঢেঁকি ছাড়া গ্রাম কল্পনা করাও কঠিনতর ছিল। যেখানে
বসতি সেখানেই ছিল ঢেঁকি। কিন্তু আজ তা আমাদের আবহমান গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে
যাচ্ছে। এক সময় বোয়ালমারী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে প্রতিটি পরিবারেই
ধান-চাল গুঁড়ো করার ঢেঁকির প্রচলন ছিল। ঢেঁকি থেকে উৎপাদিত চালের ব্যাপক প্রচলন।
তখনকার সময়ে পরিবারের নারীরা ধান, গম, চালসহ বিভিন্ন খাদ্য শস্য ভাঙার কাজ
ঢেঁকিতেই করতেন। বিশেষ করে ঈদ, নবান্ন উৎসব পৌষ পার্বনসহ বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে
পিঠা-পুলি খাওয়ার জন্য অধিকাংশ বাড়িতে ঢেঁকির নতুন ধানের চালের গুঁড়া তৈরির ধুম
পড়ে যেত।
কেওয়াগ্রাম বাসিন্দা আবু সায়েদ মৃধা বলেন, একসময় এই অঞ্চলে ঢেঁকিতে ধান ভাঙার ব্যাপক প্রচলন ছিল। ঢেঁকি ভাঙার চালের ভাতে অনেক পুষ্টি ও অনেক সুস্বাধু ছিলো। এখন মেশিনের ধান ভাঙার চালে ও ভাতে কোনো স্বাদ নেই। বিভিন্ন উৎসবের সময় প্রতিটি বাড়িতে নতুন জামাই মেয়ে ও অতিথিদের উপস্থিতিতে বাড়ি ছিল কোলাহল পূর্ণ। গভীর রাতে ঢেঁকিতে ধান ভাঙার শব্দ শুনা যেত। কিন্তু কালের বির্বতনে ও সময়ের চাহিদা অনুয়ায়ী আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকি। তারপরও সেই ঢেঁকির কদর বোয়ালমারী প্রত্যন্ত অঞ্চলে দু-একটি বাড়িতে এখনো দেখা গেলেও অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
মন্তব্য করুন


নাটোরের লালপুরের হিরোইন সংরক্ষণ এবং বহনের দায়ে কবির ইসলাম (২০) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে লালপুর আমলি আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এ এফ এম মারুফ চৌধুরী। কবির ইসলাম রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের মোনতাজ আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর লালপুর উপজেলার তিলকপুর বাজারে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান কালে কবির ইসলামকে সন্দেহ হলে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। দেহ তল্লাশির পর তার জুতার ভেতর থেকে ২২০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় র্যাব বাদি হয়ে লালপুর থানায় উপস্থিত হয়ে কবির ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের দুই বছর পর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং শুনানি শেষে মামলার একমাত্র আসামি কবির ইসলামের উপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডাদেশ দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত।
মন্তব্য করুন


পোষাক শ্রমিক হজরত
আলীর বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণে বিয়ে করলেন হেলিকপ্টারে চড়ে।
হজরত আলী গাইবান্ধার
সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য
বুজরুক জামালপুর গ্রামের রফিকুল আকন্দ ও সালমা বেগম দম্পতির ছেলে।
শুক্রবার (৩ মে) বিকেলে
নিজ বাড়ি থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ইসবপুর
(পূর্বপাড়া) গ্রামে কনে রেফা মনির (১৮) বাড়িতে পৌঁছে বরযাত্রী। কনে রেফা মনি একই গ্রামের
এনামুল হক ও শেফালি বেগম দস্পতির মেয়ে।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা
শেষে বউ নিয়ে হজরত আলী হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি ফেরেন। এ সময় হেলিকপ্টার দেখতে উৎসুক জনতার
ভিড় জমে।
স্থানীয়রা জানান,
বর হজরত আলী ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। রফিকুল ও সালমা দম্পতির
একমাত্র ছেলে তিনি। ছেলে জন্মের পর থেকে তাদের ইচ্ছে ছিল ছেলেকে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে
করাবেন।
বরের বাবা রফিকুল
ও মা সালমা জানান, ছেলেকে হেলিকপ্টার যোগে বিয়ে করানোয় স্বপ্ন ছিল। আলহামদুলিল্লাহ,
আজ সেই ইচ্ছে পূরণ হলো।
এদিকে, হেলিকপ্টার
চড়ে বর আসায় খুশি মেয়ের বাবা এনমামুল হক ও মা শেফালি বেগম।
তারা জানান, আমরা
গর্বিত যে, হেলিকপ্টার চড়ে জামাই আমাদের মেয়েকে নিতে এসেছে।
যৌতুকবিহীন এই বিয়ে
সম্পন্ন হয়েছে বলে জানালেন এই দম্পতি।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ
রানা, কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
‘সঠিত তথ্যে ভোটার হবো, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো’ এই স্লোগানে শনিবার কচুয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের আয়োজনে র্যালী, ভোটার তালিকা ভুক্ত, স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইকবাল হাসানের সভাপতিত্বে ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: মাহবুব আলমের পরিচালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন, একাডেমিক সুপারভাইজার কে.এম সোহেল রানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. জাবের মিয়া, সনতোষ চন্দ্র সেন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


আনন্দ
ভ্রমণে ৬০ জন যাত্রী নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পয়সাখোলা থেকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার
স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পটে যাচ্ছিল হাই চোয়েস পরিবহনের একটি বাস।
আর
সেই বাসের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে উল্টে গেলে আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে
পরিণত হয়, এতে আহত হন ৫৫ জন।
সোমবার
(৪ মার্চ) দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আহতদের
মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পয়সাখোলা গ্রামের লায়লা বেগম (৩৫), মতিয়ার রহমান (৩৮),
তার মেয়ে মৌসুমি পারভিন (১২) ও মোজ্জামেল হকের মেয়ে মোস্তাকিমার নামে ৪ যাত্রীকে ফুলবাড়ী
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ
জানায়, সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের পয়সাখোলা গ্রামের প্রায় ৬০ জন বাসে করে স্বপ্নপুরীর
উদ্দেশে রওনা দেন। পথে নবাবগঞ্জের আফতাবগঞ্জ বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে চলন্ত বাসটির
সামনের ডান পাশের চাকা ফেটে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশের ধানক্ষেতে
উল্টে গেলে ৫৫ জন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
নবাবগঞ্জ
থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার। গত ২১ মে এ সংক্রান্ত
গেজেট প্রকাশ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে
বলা হয়, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৭৩ নং আইন) এর ধারা ৪-এর উপধারা
(১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা
করল। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
গত
২৯ জানুয়ারি সরকার কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায় সাপের কামড়ে তানজিনা আক্তার নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি হোমনা উপজেলার গোয়ারি ভাঙ্গা এলাকার আলী আহমেদের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী।
আজ (২৬ জুন) সকালে তাদের নিজ বাড়িতে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় তানজিনাকে সাপে কাটে। তবে সাপটিক কোন প্রজাতির তা জানাতে পারেনি কেউ।
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সাপে কাটা তানজিনাকে এন্টিভেনম দেয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তার পরিবার সেটি না মেনে তাকে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে কাজ না হয় আবার হাসপাতালে ফেরার পথেই তার মৃত্যু হয়।
তানজিনার স্বামী আলী আহমেদ বলেন, সকাল আনুমানিক ৭ টায় নিজ
বাড়ির বিছানাতেই শুয়েছিল তানজিনা। এ
সময় তার বাম পায়ে আঙ্গুলে সাপের ছোবল টের পায়। উঠে খাটের নিচে তাকাতেই কালো রঙের একটি সাপকে চলে যেতে দেখে। পরে
তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে তাকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ সকাল ৮
টায় নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঔষধ দেওয়ার পর সেখান থেকে
স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে
'পানপড়া' খাওয়ানোর
জন্য নিয়ে গেলে সেখান থেকে তানজিনাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ফেরার
পথে তানজিনার শারীরিক অবস্থা আরো অবনতি ঘটলে তাকে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নেয়া হয়। হাসপাতালে
নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। তবে কি সাপে কেটেছে
বলতে পারছিনা। তবে সাপটি কালো রঙের ছিল।
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার রাশেদুল ইসলাম বলেন, সাপে কাটা রোগী তানজিনা আসার পর তাকে অ্যান্টিভেনম এর ডোজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকাকালীন সময়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাবার জন্য জোরাজুরি করে এবং নিয়ে যায়। পরে শুনেছি তাকে মৃত অবস্থায় আবার হাসপাতালে আনা হয়েছে। সাপটি কি ধরনের সেটি তিনি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেননি।
তবে তিনি জানান, তানজিনাকে কেটেছে তা বিষধর ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, তানজিনাকে যখন নিয়ে আসে তখন তার শরীরে বিষক্রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গও দেখা গেছে। তার চোখের পাতা বারবার পড়ে আসছিল এবং গলা শুকিয়ে আসছিল। চিকিৎসকরা তাকে এন্টিভেনম দেয়ার মাঝামাঝি সময়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে যায়। পরে আবার হাসপাতালে আনলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, কুমিল্লা:
গাজীপুরে
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত হাসনাত আবদুল্লাহর উপর হামলার
প্রতিবাদে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা এনসিপি ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক
ছাত্রসংস।
রোববার রাত ৮ টায় দেবীদ্বার নিউ মার্কেট চত্তর থেকে বিক্ষোভ মিছিল টি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিক্ষোভ জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা নেতা নাজমুল হাসান নাহিদ, শামীম কাউসার, ফয়সাল
হোসেন, এমরান হোসেন, আবদুল্লাহ সামি, ফয়সাল মির্জা, জালাল হোসেন, জামাল হোসেন, শাহাদাত
হোসেন শ্যামল, বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের নেতা রাকিবুল হাসান হৃদয়, মোক্তাদির জারিফ সিক্ত,
সাজেদুল রাফসান ও মোঃ হাসান আরও অনেকে।
বক্তারা হাসনাত আবদুল্লাহর উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী করেন।
মন্তব্য করুন


দেশের
বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ তথ্য জানানো
হয়েছে শুক্রবার (৩১ মে) পরবর্তী
২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে।
আবহাওয়া
অধিদপ্তর জানিয়েছে- রংপুর,
রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের
অনেক জায়গায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের
কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের
দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি
হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের
কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে
বলা হয়েছে- রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের
অনেক জায়গায়, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের
দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি
হতে পারে। সেই সাথে মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এছাড়া
রোববারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের
অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের
কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি
হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
মন্তব্য করুন