

স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেওয়াকে কেন্দ্র
করে বাগ-বিতণ্ডায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত হয়েছেন ১৫ জন।
রোববার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে
মাদারীপুরে সদর উপজেলার ঘটমাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সদর উপজেলার ঘটমাঝি গ্রামের
সাবেদ আলী খালাসির সাথে একই উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের খাকছাড়া গ্রামের খবির মাতুব্বরের
মেয়ে শাহনুরের সাথে বিয়ে হয়। ২ মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভরণপোষণ না দেওয়ায়
শাহানুর তার বাবার কাছে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়টি শাহানুরের বাবা তার লোকজন
নিয়ে রাতে শাহানুরের শ্বশুরবাড়ি আসেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি
ও হাতাহাতি হয়। পরে একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এতে নারীসহ দুই পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়েছে।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের
চিকিৎসক ডা. অখিল সরকার জানান, আহতদের মধ্যে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেলে
পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন
জানান, শাহানুরকে ভরণ-পোষণ না দেওয়ায় তার শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ির দুই পক্ষের লোকজনের
মধ্যে মারামারি হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মহিউদ্দিন
(৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে ডান হাত কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলার
দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের ওলানপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মহিউদ্দিন পেশায় একজন রং মিস্ত্রি ছিলেন। তিনি
ওলাপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
মহিউদ্দিনের মা মনোয়ারা বেগম বলেন,
আমার ছেলে মহিউদ্দিন দিনমজুর হিসেবে যখন যে কাজ পেতো, তাই করতো। আমার ছেলে রাজনৈতিক
কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। তার কোনো শক্রও ছিল না। কিন্তু কে বা কারা দিনদুপুরে
বসতবাড়িসংলগ্ন মসজিদের কাছে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে
নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা: জান্নাতুল
নাঈম জানান, মহিউদ্দিনকে মৃত অবস্থায় আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। তাঁর
ডান হাত পাওয়া যায়নি। কনুইয়ের ওপর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। হাত বিচ্ছিন্ন করার
পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর মাথা ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন
অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ
(পরিদর্শক) রোমেন বড়ুয়া বলেন, ধারণা করা হচ্ছে মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধের জেরে এ
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। তদন্তের পরে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের
জন্য কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক
সাইদুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা হত্যা করা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। হত্যাকারীরা তার
ডান হাত নিয়ে গেছে। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে
পাঠানো হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের আঘাতে কবরস্থানের পাশের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়ে।
আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে সদর উপজেলার ধুমিহায়াতপুর এলাকার আহসান মুঞ্জর কবরস্থানে প্রায় ৫-৬টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় বসতবাড়ির পেছনের এক কবরস্থানে পুঁতে রাখা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রতিবেশী ও পুলিশ সূত্রে বলেন, ভোরে হঠাৎ করেই পারিবারিক কবরস্থানের বাইরের দিকের দেয়ালে ৫-৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ভেঙে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য মাইনুল ইসলাম বলেন, গ্রামের মধ্যে থাকা পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীরে ককটেলগুলো বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, ককটেলগুলো সেখানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ছিল।’স্থানীয় আমেনা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ ভোরে বিকট শব্দ শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি ধোঁয়া উড়ছে। পরে ককটেলের আলামত দেখতে পাই। এখানে ককটেল পুঁতে রাখা হয়েছিল; যা বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো এলাকাবাসী আতঙ্কিত।
স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় এলাকাবাসীর। পরে কবরস্থনে গিয়ে দেখি পাশে থাকা একটি দেয়াল ভেঙে পড়েছে ককটেলের আঘাতে। এমনকি আশপাশে অনেক মাটি উড়ে গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে, মজুদ রাখা ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। কারা এই ককটেল মজুদকারী তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন।
আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) কুমিল্লা পদুয়া বাজার (বিশ্বরোড) এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: আমিরুল কায়সারের নির্দেশে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া খানমের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
এতে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সজীব তালুকদার এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার জাহান।
জানা গেছে, কুমিল্লা নগরীর সকল ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে পদুয়া বাজার বিশ্বরোডে ওভারব্রিজের চারপাশের ফুটপাত ও সড়কে গড়ে ওঠা প্রায় ১০০টি অবৈধ দোকান ও বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার উচ্ছেদ করে সড়কটি দখলমুক্ত করা হয়।
এ সময় উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন, সাংবাদিকবৃন্দ, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী এবং বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ অভিযানে কুমিল্লা শহর থেকে বিপুল পরিমাণ স্কাফ ও ফেন্সিডিলসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
রোববার (৫ অক্টোবর ২০২৫) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার রাজমঙ্গলপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব সদস্যরা। এসময় জেসমিন (৪০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার আবাদ মিয়া খন্দকারের স্ত্রী।
র্যাব জানায়, এ অভিযানে ২৮৫ বোতল স্কাফ ও ১৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জেসমিন স্বীকার করেছেন, তিনি ও তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে কুমিল্লা ও আশপাশের এলাকায় পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করতেন।
র্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে পরিত্যক্ত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক
থেকে সুমাইয়া তাবাসসুম (৪) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার
(১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বসন্তপুর গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমাইয়া তাবাসসুম
একই গ্রামের প্রবাসী ছালেহ আহমেদের দ্বিতীয় মেয়ে।
প্রতিবেশীরা
জানান, বিকেল ৫টা থেকে সুমাইয়া নিখোঁজ ছিল। এরপর স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে রাত ৮টার পর পাশের বাড়ির আব্দুল খালেকের পরিত্যক্ত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের
ভেতরে তাকে দেখতে পান স্থানীয়রা। সেখান থেকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রবিউল হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই
শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানান, নিহত শিশুর স্বজনদের
সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খেলতে গিয়ে সে পরিত্যক্ত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়।
এ ঘটনায় পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।
মন্তব্য করুন


বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম ও সদস্য আমিরুজ্জামান আমির কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান দক্ষিণ জেলা যুবদল নেতা আকিবুর রহমান আকিব। এসময় মহানগর বিএনপির আহবায়ক উৎবাতুল বারী আবু উপস্থিত ছিলেন। যুবদল নেতা আকিবুর রহমান আকিব জানান মহানগর বিএনপির আহবায়ক উৎবাতুল বারী আবুর সার্বিক দিক নির্দেশনা ও নেতৃত্বে তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাবেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় সিটিরিজিন হাইড্রোক্লোরাইড ট্যাবলেট আটক করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।
রোববার দুপুরে কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়মিত চোরাচালান প্রতিরোধ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে ৯ আগস্ট আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপি’র কটকবাজার পোস্টের বিশেষ টহলদল সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে সীমান্তের প্রায় ৭ কিলোমিটার ভেতরে পালপাড়া এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ৩ লাখ ৩১ হাজার ২০০টি অবৈধ ভারতীয় সিটিরিজিন হাইড্রোক্লোরাইড ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এসব ট্যাবলেটের বাজারমূল্য ৪৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
জব্দকৃত ট্যাবলেটগুলো বিধি মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজিবি জানায়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে অনুষ্ঠান করার অভিযোগে যুবলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতের বিভিন্ন সময়ে বুড়িচং থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার আবিদপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আনোয়ার, আবুল হাসেমের ছেলে মোখলেসুর রহমান এবং আবু মুসার ছেলে মো. শাহজাহান। তিনজনই মোকাম ইউনিয়ন যুবলীগের সক্রিয় সদস্য।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার জন্মদিনে রোববার সন্ধ্যায় মোকাম ইউনিয়নে একটি কেক কেটে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনের নেতৃত্ব দেন বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য মো. মজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে দোয়া শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও মজিবুর রহমান নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, যুবলীগ নেতাদের উপস্থিতিতে কেক কাটা, শেখ হাসিনাকে নিয়ে স্লোগান ও দোয়া হচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিও প্রকাশের পর রাতেই পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তিন যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে।
বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ভিডিওতে তাদের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রমাণ মিলেছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নে পানিতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা লতিফ সিকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
নিহত দুই শিশু হলেন; ফাতেমা ইয়াসমিন (৯), তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং জান্নাতুল ফেরদৌস (১০), চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তারা উভয়েই চিওড়া ইউনিয়নের নগর শরীফ গ্রামের বাসিন্দা।
লতিফ সিকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে দুই শিক্ষার্থী বাড়ির পাশে একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। দীর্ঘ সময়েও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুর থেকে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। পরিবার চাইলে প্রয়োজনে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন


রুবেল মিয়া স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য
কবিরাজের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ওই কবিরাজ চিকিৎসার নামে তার স্ত্রীকে সম্ভ্রমহানি
করেন। এমন সন্দেহে কবিরাজকে গলা কেটে হত্যা করেন রুবেল মিয়া।
চুয়াডাঙ্গার কবিরাজ রাজ্জাক শেখ রাজাই
হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল আসামি হিসেবে রুবেল ও সহযোগী হিসেবে সোহেল রানাকে
গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য
জানিয়েছেন।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজাই আলী
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের সুবদিয়া গ্রামে কাচারীপাড়ার মরহুম দেসের
আলীর ছেলে। তিনি কবিরাজি পেশায় যুক্ত ছিলেন এবং চাষাবাদ করতেন। নিহতের ভাইপো সানোয়ার
হোসেন এ হত্যাকাণ্ডের পর চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় একটি মামলা করে।
জানা যায়, শুক্রবার (৩১ মে) সন্ধ্যা
সাড়ে ৭টার দিকে রাজাই কবিরাজ জিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে রুবেল ও তার স্ত্রীকে
সদর উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের নবগঙ্গা নদীর ব্রিজের পাশে পান বরজের কাছে নিয়ে যায়।
এরপর রুবেলকে সিগারেট আনতে দোকানে পাঠায়। কিছুক্ষণ পর রুবেল ফিরে এসে তাদের না পেয়ে
তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সেটা বন্ধ পায়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ৩৫-৪০ মিনিট
পর রাজাই কবিরাজ ও তার স্ত্রী পানবরজের কাছে ফিরে আসলে, রুবেল তার স্ত্রীকে দেখে সন্দেহ
করে। পরে রুবেল বাড়ি ফিরে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, সে কান্নাকাটি করে বলে যে,
রাজাই কবিরাজ তার সম্ভ্রমহানি করেছে। এটা জানার পর রুবেল তার সহযোগী সোহেল রানাকে নিয়ে
বাড়ি থেকে বের হয়। রাজাই কবিরাজকে তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীর জিন তাড়ানোর কথা বলে কৌশলে
সুবদিয়া ভুট্টা ক্রয় কেন্দ্রের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে কালীভান্ডারদহের দিকে
নিয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইলের পেছনে বসা রুবেল তার হাতে থাকা ধারাল ছুরি দিয়ে রাজাই কবিরাজের
গলায় পোঁচ দিয়ে তাকে মোটরসাইকেল থেকে নির্জন রাস্তায় ফেলে দেয় এবং তার মৃত্যু নিশ্চিত
করে। মরদেহটি রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে গাছপালা দিয়ে ঢেকে দিয়ে তারা বাড়ি ফিরে যায়।
পুলিশের তদন্তের পর আলোচিত কবিরাজ হত্যাকাণ্ডের
ঘটনাটি গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে এভাবেই তুলে ধরেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর
রহমান।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকর চন্দ্র
ইউনিয়নের কালিভান্ডারদহ পিরতলি মাঠ থেকে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজাই আলী (৪৮) নামের
এক কবিরাজের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের দিনই পুলিশি তদন্তে হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত রুবেল মিয়া ও সোহেল রানাকে আটক করেছে পুলিশ। তারা আদালতের বিচারকের
কাছে তাদের দোষ স্বীকার করে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত।
মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুর ১টায় চুয়াডাঙ্গা
পুলিশ সুপার কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে
জানান, চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ বিচারক রিপন হোসেনের কাছে স্বেচ্ছায়
জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে আটক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া
পূর্বপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে রুবেল মিয়া (২৩) ও একই পাড়ার আনিসের ছেলে সোহেল রানা
(২০)। এদের কাছ থেকে হত্যাকাজে ব্যবহৃত আলামত ধারাল ছুরি, ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল
ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
মন্তব্য করুন