

২৭
লাখ টাকা আত্মসাৎ ও হুমকি ধামকি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় অভিনেত্রী মেহজাবীন
চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
আজ
সোমবার ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মো. আদনান জুলফিকার শুনানি
শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এ
বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বলেন, আমরা দুজনের পক্ষে আদালতে জবাব দাখিল
করেছি। আদালতকে বলেছি মামলার ৭৯ লাইনের বক্তব্য সাজানো ও মনগড়া।
বাদীর
সঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাইয়ের কোনো দেখা হয়নি। হুমকি-ধামকির কোন প্রশ্নই আসেনা।
শুনানি শেষে আদালত তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে মামলাটি নথিজাত করেছেন।
এদিন
মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসান আদালতে উপস্থিত হন।
এসময়
মেহজাবীনের মুখে কাল মাস্ক ছিল। পরে তাদের উপস্থিতি শুনানি হয়। শুনানি শেষে তারা আদালত
প্রাঙ্গণে ছেড়ে যান।
এর
আগে গত ১০ নভেম্বর পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ
ও হুমকি ধামকি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জারি করা হয়।
এ
বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। পরে ১৬ নভেম্বর
মেহজাবীন ও তার ভাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন।
মামলার
সূত্রে জানা গেছে, আমিরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে
মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং
বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক
কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিবো,
কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপন করে। পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা
চাইতে যান তিনি।
তাকে
১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন
ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
তারা
বলেন "এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না।তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে
জানে মেরে ফেলব।' এসব কথা বলে তারা আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন
করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের
করার জন্য পরামর্শ দেয়। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন


নভেম্বরে গণভোট চায় জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার
(২৮ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম
নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত
হয়।
তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দল যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পায়-সেটি আমাদের দাবি।
এই নেতা বলেন, আমরা বলেছি যে সংস্কার এবং জাতীয় সনদের বিষয়গুলো ইলেকশন কমিশনকে পাবলিক করতে হবে। তারা ওয়েবসাইটে দেবেন জনগণ জানবে এবং সেটা নভেম্বরই হচ্ছে উপযুক্ত সময়।
জামায়াতের
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমাদের যে গণপ্রতিত্ব আদেশ
সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে যেটা সংশোধন হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটা বিধান হচ্ছে যেটা ইলেক্টোরাল প্রসেস। যে রিফর্ম কমিশন
তারাও সুপারিশ করেছিল যে, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তার জন্য
নির্ধারিত প্রতীকেই তিনি নির্বাচন করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের পলিটিক্যাল কালচারের কারণে জোটবদ্ধ রাজনীতির একটা কালচার রেওয়াজ আমাদের আছে সেটা করার ক্ষেত্রেও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন বলেছে যে জোট হতে
পারবে কিন্তু প্রতীক হবে জোটবদ্ধ, প্রত্যেক দলের স্ব স্ব দলের নির্ধারিত প্রতীকে তাদের ভোট করতে হবে। তার প্রতীক বাদ দিয়ে অন্য কোনো দলের প্রতীকে ভোট করা যাবে না। এটা লাস্ট ইলেকশন ইলেক্টোরাল প্রসেস, রিফান্ড কমিশন তারা এই সুপারিশটা করেছে
এবং উপদেষ্টা পরিষদে এই সংশোধনটা অনুমোদিত
হয়েছে। এটা হওয়ার পরেও আমরা দেখলাম গত সম্ভবত ২৫
তারিখে একটি দলের পক্ষ থেকে এসে এটাকে আবার সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে। এটাকে আপত্তি জানানো হয়েছে। ইভেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড লঙ্ঘন করে খুবই দুঃখজনকভাবে একটি তথ্য ওনারাই এখানে প্রকাশ করেছেন। ওনারা বলেছেন যে এই সংশোধনটা
পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের দাবি মানতে হবে। আজকে চিফ কমিশনারকে বলেছি যে লেভেল প্লেয়িং
ফিল্ড ভঙ্গ হওয়ার এর চেয়ে নেকেড
উদাহরণ আর কি হতে
পারে। আমরা এটার ওপরে ঘোর আপত্তি দিয়েছি যে এটা কোনো
ক্রমেই সংশোধন করা যাবে না। সংশোধিত যে বিধান আছে
সে বিধানের ভিত্তিতে নির্বাচন হতে হবে।
গোলাম
পরওয়ার আরও বলেন, প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রক্রিয়া যাতে সহজ হয়, সে বিষয়েও আমরা
নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। নির্বাচন যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হয়, সেটিও জোর দিয়ে বলেছি। একই সঙ্গে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টিও আমরা উল্লেখ করেছি।
জামায়াতের
এই নেতা বলেন, আমরা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এই সংবিধানের আওতায়
থেকেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক-এটাই চাই।
এদিকে
ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে বিএনপির আপত্তির মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
ইসলামী
ব্যাংক হাসপাতাল ও ইবনে সিনা
হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবামূলক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়ার আহ্বান
জানিয়েছে-যা নিয়ে আমরা
উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় বিএসটিআই, কুমিল্লা ও উপজেলা প্রশাসন, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লার যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিচালিত অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে 'মুড়ি' পণ্যের গুণগত মান সনদ গ্রহণ ব্যতীত প্রস্তুত, বিক্রয়-বিতরণ করায় "বিএসটিআই আইন-২০১৮" অনুযায়ী কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ এর বেলতলীর কৃষ্ণপুরে মেসার্স খোরশেদ চিড়া ও মুড়ি মিল প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার টাকা) এবং কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ এর গোপিনাথপুরের মেসার্স মমতা মুড়ি মিল প্রতিষ্ঠানটিকে "বিএসটিআই আইন-২০১৮" এবং "ওজন ও পরিমাপ মানদন্ড আইন-২০১৮" অনুযায়ী ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড করা হয়।
উক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সৈয়দ রেফাঈ আবিফ এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই, কুমিল্লা অফিসের কর্মকর্তা জনাব ইকবাল আহম্মদ, ফিল্ড অফিসার (সিএম) এবং প্রকৌ: আরিফ উদ্দিন প্রিয়, পরিদর্শক (মেট্রোলজি)।
জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে একটি বড় সংখ্যক পর্যবেক্ষক
দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে
অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের
সদস্য ইভারস আইজাবস এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পরে
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে
সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রেস
সচিব বলেন, বৈঠকে নির্বাচন প্রস্তুতি, সমতা ভিত্তিক মাঠ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড), গণভোটে
‘হ্যাঁ’ ভোটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
শফিকুল
আলম বলেন, ইভারস আইজাবস বৈঠকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে। এ কারণেই তারা বড় আকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর
সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেক দেশেই নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায়
না; কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব রয়েছে এবং বাংলাদেশকে তারা
ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে।
প্রেস
সচিব জানান, শেখ হাসিনার প্রায় সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একবারও বাংলাদেশে
নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। ইভারস আইজাবস মনে করেন, আগের তিনটি সংসদ নির্বাচন
বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। তবে এবার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্র ইতিবাচক মনোভাব ও উৎসাহ দেখা
যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ব্রিফিংয়ে
জানানো হয়, বৈঠকে আওয়ামী লীগ বা দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে
গণভোট বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘হ্যাঁ’
ভোট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের
সুযোগ তৈরি হবে।
প্রেস
সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। তারা
বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গেও কথা বলবে এবং পুরো নির্বাচন
প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে।
প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আশ্বস্ত করেছেন যে আসন্ন নির্বাচন
ও গণভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। তিনি বলেন, নির্বাচন
কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং সব রাজনৈতিক
দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সর্বত্র এখন নির্বাচনের
জোয়ার চলছে।
নির্বাচনের
নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এসব ক্যামেরা একটি কেন্দ্রীয়
অ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও ঢাকা থেকে সরাসরি মনিটর করা যাবে। সব কেন্দ্রেই
থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা। দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী থাকবে র্যাপিড রেসপন্স
স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আইনগত মতামত নিয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন—এ বিষয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই। তাই সরকার এ বিষয়ে প্রচার ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালাবে।
প্রধান
উপদেষ্টা আরও বলেন, ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। ইউরোপীয়
ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক পাঠানো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি।
তবে
বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করেন
অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকেরা নির্বাচন বিঘ্নিত করার চেষ্টা
করতে পারে। এসব মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, নারী ও তরুণদের মধ্যে ভোট নিয়ে উচ্চমাত্রার উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভালো ভোটার উপস্থিতির আশা করছে সরকার।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


দেশের গণমাধ্যম এখন নজিরবিহীন স্বাধীনতা
ভোগ করছে বলে মন্তব্য করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্যের বন্যা বয়ে গেছে।
আজ বুধবার (২৯ জানুয়ারি) অর্থনীতি পুনর্গঠন,
সম্পদপাচার, ভুল তথ্য মোকাবেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের
প্রচেষ্টা নিয়ে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের নেতারা সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধান উপদেষ্টা
এসব কথা বলেন।
ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান
অ্যালেক্স সোরোস এবং সভাপতি বিনাইফার নওরোজির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে।
বৈঠকে অ্যালেক্স সোরোস ইতিহাসের একটি
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক করা ও অর্থনীতি
পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় ড. ইউনূসের প্রশংসা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থান দেশের জন্য একটি নতুন গতিপথ নির্ধারণের জন্য
বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। তারা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, ভিকটিমদের জন্য অন্তর্বর্তী
ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সংস্কার, গণমাধ্যম, চুরি যাওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার, নতুন সাইবার
নিরাপত্তা আইন, কিভাবে তাদের উন্নতি করা যায় এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।
অ্যালেক্স সোরোস বলেন, আমরা এসব ক্ষেত্রে
আপনার প্রচেষ্টা সমর্থন করার উপায় খুঁজব।
প্রধান উপদেষ্টা ওপেন ফাউন্ডেশনকে তাদের
সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি নজিরবিহীন ছাত্র-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের
খবর ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ডাভোস সফরে গিয়ে
আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি তা হলো, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কে অনেকেই জানে না।
অনেক অপপ্রচার হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা শেখ হাসিনার ১৬ বছরের
শাসনামলে পাচার হওয়া প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করার জন্য ফাউন্ডেশনের
প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন,
অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ‘বিধ্বস্ত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত’ অর্থনীতি পেয়েছে
এবং তিনি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ফাউন্ডেশনের সমর্থন কামনা করেন।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে
সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ফাউন্ডেশন। এই পদক্ষেপকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূস স্বাগত জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
বিভিন্ন সড়ক থেকে বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো বিজ্ঞাপন এবং ব্যানার
দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি
বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে হাতির ঝিলে পুলিশ প্লাজার
সামনে তাঁর ছবি সম্বলিত ব্যানার এখনই সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সেটা তৎক্ষণাৎ সরানো
হয়।' এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির
যেসব বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হচ্ছে সেগুলোও দ্রুত অপসারণ করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। কয়েকদিন আগেও বিজয় সরণীর সড়ক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার সময়ে একটি এলইডিতে
অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর ছবি প্রদর্শিত হচ্ছিল সেটা দেখে তিনি তখনই তা অপসারণের নির্দেশনা
দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার
প্রধানমন্ত্রী অফিস করেছেন সচিবালয়ে। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অফিসে আসেন।
দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল
জিয়াউল হক।
অতিরিক্ত
প্রেস সচিব বলেন, ‘উপকূলীয় ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, ডাকাতি, অবৈধ পাচার ও মৎস্য
সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত টহল বাড়ানো এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা
দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।'
ট্রাফিক
সিগন্যাল মেনে চলায় রাজধানীর সড়কে যান চলাচলের গতি বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের দেয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব
আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি
বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সড়কে যানবাহন চলাচলের
গতি প্রকৃতি কেমন এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আজ উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভিভিআইপি প্রটোকল
ছাড়া চলাচলের কারণেই যানবাহনের গতি ১ কি.মি.বেড়েছে। '
তিনি
আরো বলেন,‘রাজধানীতে আগে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ছিলো ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার যা কিনা
পায়ে হাঁটা গতির সমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনাব তারেক রহমান দায়িত্বভার গ্রহণের পরে
তিনি ভিভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল করছেন।’
প্রতিবেদনে
গত ১৪ দিনের একটি পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে যে ভিভিআইপি প্রটোকলে যানচলাচল বাধাগ্রস্ত
না হওয়ায় যানবাহনের গতি ৫ দশমিক ৩ কিলো মিটারে উন্নীত হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর পর
রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ট্রাফিক সিগন্যাল অনুসরণ করছেন।'
প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন। এদিকে মোটা চালের মূল্য
বাড়ার খবর শুনেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ
দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অতিরিক্ত
প্রেস সচিব বলেন, ‘গতকাল খুচরা বাজারে মোটা চালের মূল্য বাড়ার সংবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে
নির্দেশ দেন। এরফলে তাৎক্ষণিক এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা গেছে।'
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম মুরাদ রৌমারী ( কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলারয় শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এ প্রচণ্ড শীতের মধ্যে চরাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উষ্ণতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার সকাল ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের খেদাইমারী এলাকায় অবস্থিত বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদন প্রাঙ্গণে এই শীত বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। খেদাইমারী বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদন প্রতিষ্ঠান কার্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব শীত বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন, শিশু সদনের শিক্ষকবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, “শীত মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে চরাঞ্চলের শিশুদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হয়। শীতজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে এবং তাদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিয়মিতভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে সরকার সবসময় সচেষ্ট। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান শীত মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ শীতপ্রধান বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। অনেক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার শীতবস্ত্রের অভাবে কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই শীতের এই সময় শিশুদের জন্য উষ্ণতার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।
কম্বল পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানায়, তারা খুবই আনন্দিত। এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা অনেক খুশি। কম্বল পেয়ে শীতে আমাদের কষ্ট কম হবে।” আরেক শিক্ষার্থী জানায়, “এবারই প্রথম আমরা সরকারি ভাবে কম্বল সহায়তা পেলাম। আগে কখনো এভাবে পাইনি।”
শিশুরা আরও বলেন, “প্রতি বছর যদি সরকারি ভাবে আমাদের কম্বল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়, তাহলে শীতের সময় আমাদের পড়াশোনা করতে সুবিধা হবে। আমরা আল্লাহর কাছে এটাই আশা করি।”
এ ধরনের উদ্যোগ শীতার্ত শিশুদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস লুটপাট হওয়া সম্পদ ও অর্থ পুনরুদ্ধারের পর সেই
সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি তহবিল গঠনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ
সোমবার (১৯ মে) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস বিফ্রিংয়ে প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, লুটপাট হওয়া অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি তহবিল
গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা, যা জনকল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
এর
আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত
হয়।
সভায়
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন।
প্রেস
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, এই তহবিল বর্তমান আইন অনুযায়ী
গঠিত হবে। তবে প্রয়োজনে তহবিল গঠনের জন্য আইন সংশোধন করা হবে।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের গভর্নর আরও বলেন, আমি আশা করি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে এই তহবিল গঠন
করা সম্ভব হবে। তবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে তা চালিয়ে নিতে হবে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আরো ১৫৮ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) একযোগে বদলি করেছে সরকার। বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি
প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় ১৬৬ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তার আগে দুপুরে একযোগে ৬৪ জেলার এসপি
পরিবর্তন করা হয়েছে।
এসব
কর্মকর্তা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে
বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তিনি ৩০
নভেম্বর বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত গণ্য হবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে
আরো বলা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তার দপ্তর/ কর্মস্থল ইতিমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম/ঠিকানা উল্লেখ করে তিনি যোগদানপত্র দাখিল করবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে
কার্যকর হবে।
বুধবার
সন্ধ্যায় ১৬৬ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তার আগে দুপুরে একযোগে ৬৪ জেলার এসপি
পরিবর্তন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক
মীর আরশাদুল হক বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় গুলশানের চেয়ারপারসন
কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে মহাসচিব
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন তিনি। বিএনপির
মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মীর আরশাদুল
হক।
গত
২৫ ডিসেম্বর সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, এনসিপির সব দায়িত্ব ও পদ থেকে নিজেকে
প্রত্যাহার করছেন এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে
অংশ নিচ্ছেন না।
মীর
আরশাদুল হক এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব, নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া
সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পরিবেশ সেলের প্রধান এবং চট্টগ্রাম
মহানগরের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পদত্যাগপত্রে
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এনসিপির যাত্রা শুরু হলেও গত
১০ মাসে দলটি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
দল
ও নেতৃত্ব ভুল পথে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাই এনসিপির সঙ্গে আর কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক
রাখছেন না বলেও জানান।
পোস্টে
তিনি আরো লেখেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখলেও
বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। গণ-অভ্যুত্থানে বিপুল আত্মত্যাগের পরও দেশে শান্তি ও ন্যায্যতা
প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


রাস্তার
ধারে সবজির ব্যাগ, মিষ্টির প্যাকেট। কিন্তু কেউই এগিয়ে আসেননি সেটি নিতে। কারও আগ্রহ
না দেখে, সেই প্যাকেট খুলে পরপর মিষ্টি খেতেই ঘটল বিপত্তি। মিষ্টি খেয়েই মৃত্যুমিছিল।
অবশেষে খুনের কীর্তি ফাঁস করল পুলিশ।
সর্বভারতীয়
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায়। সোমবার পুলিশ
জানিয়েছে, প্রথমে ঘটনাটি খাবারে বিষক্রিয়া বলেই জানা গিয়েছিল। কিন্তু পরে জানা যায়,
পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই খুনের পরিকল্পনা চলছিল। শেষমেশ
আর্সেনিককে হাতিয়ার করেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে।
বিষ
মেশানো মিষ্টি খেয়েই এক তরুণী, তাঁর ঠাকুরদা এবং এক সিকিউরিটি গার্ড প্রাণ হারিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ৯ জানুয়ারি। ছিন্দওয়াড়ায় পাবলিক হেল্থ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট
অফিসের বাইরে একটি ব্যাগে কিছু সবজি এবং এক প্যাকেট মিষ্টি রাখা ছিল। কিন্তু কার ব্যাগ
সেটি? কেউই এগিয়ে এসে আগ্রহ দেখাননি। অবশেষে ৫০ বছরের দশরু যদুবংশী নামের সিকিউরিটি
গার্ড এসে প্যাকেট থেকে মিষ্টি চেখে দেখেন।
সেই
মিষ্টি খাবার পরেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। শুরু হয় ঘনঘন বমি, ডায়রিয়া।
১১ জানুয়ারি চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁর। এখানেই ঘটনাটি থেমে ছিল না। সেই মিষ্টির
প্যাকেটটি স্থানীয় এক দোকানদারের আত্মীয়রা বাড়িতে নিয়ে যান। সেই মিষ্টি খেয়েই
২২ বছরের খুশবু এবং তাঁর ৭২ বছরের ঠাকুরদা, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অসুস্থ হয়ে
পড়েন। চিকিৎসা চলাকালীন খুশবু ও তাঁর ঠাকুরদার মৃত্যু হয়।
ওই
মিষ্টি খেয়েই তিনদিনে তিনটি পরপর প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোরগোল শুরু হয়। তদন্তে
নেমে পুলিশ জানতে পারে, ২০২৪ সালে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে তুমুল নির্যাতনের
অভিযোগ তুলেছিলেন খুশবু। এর প্রতিশোধ নিতেই খুনের পরিকল্পনা করেন খুশবুর শ্বশুর, দেওর
ও ননদ। তিনজনে মিলে মিষ্টিতে আর্সেনিক মিশিয়ে খুশবুর বাবার দোকানের বাইরে ওই মিষ্টির
প্যাকেট ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
ফরেন্সিক
পরীক্ষায় জানা গেছে, ওই মিষ্টিতে বিপজ্জনক হারে আর্সেনিক মেশানো ছিল। যা খেলে একাধিক
প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে নিমেষে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় অভিযুক্তদের
বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। আর কেউ এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা
হচ্ছে।
মন্তব্য করুন