

রাজধানীসহ
দেশের সব মহানগরে নতুন
পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের সদস্যরা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) থেকে
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং দেশের অন্যান্য মহানগর পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিটে
নতুন লৌহ রঙের পোশাক পরিধান শুরু হয়েছে। তবে জেলা ও রেঞ্জ পর্যায়ের
পুলিশ এখনো এই পোশাক পায়নি;
পর্যায়ক্রমে তাদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বৈষম্যবিরোধী
আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ বাহিনীর
সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের
দাবি জোরালো হয়। এর প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী
সরকার নতুন পুলিশ পোশাক অনুমোদন করে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহানগর পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং নৌ পুলিশ সদস্যরা
নতুন রঙের পোশাক পরবেন।
ঢাকা
মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার
(ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, আজ থেকেই সব
মহানগরে নতুন পোশাক পরা শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই জেলা পর্যায়েও এর বাস্তবায়ন হবে।
পুলিশ
সদর দপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের
সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম
শাহাদাত হোসাইন বলেন, জেলা ও রেঞ্জ পুলিশও
পর্যায়ক্রমে নতুন পোশাক পরিধান করবে। তবে এপিবিএন ও এসপিবিএন আগের
পোশাকই ব্যবহার করবে।
এর
আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, পুলিশ, র্যাব ও
আনসারের জন্য নতুন পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা
হবে।
অন্তর্বর্তী
সরকার আশা করছে, নতুন পোশাকের সঙ্গে পুলিশের মানসিকতা ও আচরণেও ইতিবাচক
পরিবর্তন আসবে। সেই লক্ষ্যেই পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের অংশ হিসেবে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সাংবাদিকদের
অধিকার প্রশ্নে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে গণমাধ্যমের মালিকরা দায়িত্ব
এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন,
দায়িত্ব পালনে সরকারের ব্যর্থতা আছে, পাশাপাশি অন্য যাদের দায়িত্ব আছে কি দায়িত্ব পালন
করছে, এটাও বড় ব্যর্থতা। তাদের ব্যর্থতাও তুলে ধরা হবে। জুলাই-আগস্টে ছয়জন সাংবাদিক
নিহত হয়েছেন, তারা যেমন গুলিতে নিহত হয়েছেন।
আবার
বিরূপ পরিস্থিতিতে কাজ করার সময় এসব সাংবাদিকের কোনো প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট দেওয়া
হয়নি।
আজ
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জার্নালিস্ট সাপোর্ট
ডেস্ক হ্যান্ডওভার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল
আলম বলেন, যেসব সাংবাদিকরা সামনে থেকে সংবাদ সংগ্রহ করলেন, গুলির মধ্যে কাজ করলেন তাদের
একটি হেলমেট নেই, তাদের একটি প্রটেক্টিভ ভেস্ট ছিল না, টিয়ার গ্যাস থেকে রক্ষা পেতে
কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আশ্চর্যের বিষয় হলো সংবাদপত্রের মালিকদের যে সংগঠন নোয়াব একজন
সাংবাদিকের নিরাপত্তা সামগ্রী দেন না।
কয়েকদিন
আগে অনেক বড় অনুষ্ঠান করেছেন। সেখানে তারা অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু তারা কোনো সাংবাদিকের
নিরাপত্তা সামগ্রী নিয়ে কথা বলেননি। ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন তারা এটা কোনো বিবৃতি
দেননি। তারা তাদের কর্মী নিয়ে কোনো দায়িত্ব পালন করেননি।
ঐক্য
প্রশ্নে তিনি বলেন, কয়েকদিন পর আমি সাংবাদিকতায় ফিরতে চাই। আমিও মনে করি সব সাংবাদিকরা
ঐক্যবদ্ধ থাকুক। কিন্তু সেটা হতে হবে সবার জন্য। কয়েকজন লোকের জন্য সিলেক্টিভ ঐক্য
নয়।
সবার
জন্য ঐক্য থাকতে হবে। সাংবাদিক যখন যুদ্ধক্ষেত্রে যায় সবার কাছে থেকে সাপোর্ট চায়,
তার জন্য বিশেষ কোনো পরিস্থিতি থাকে না। তারা তাদের পাঠকের জন্য খবর সংগ্রহ করবে, খবর
সার্ভ করবে। সব এক রকম হতে পারে না। একজন সম্পাদককে অফিস থেকে টেনে হিছড়ে বের করে আনা
হবে তথ্য ঐক্যের কথা বলা হবে না, একটা বিবৃতি দেবো না, এটা হতে পারে না। ঐক্য তখনও
থাকতে হবে।
ফেডারেল
সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় অন্য
কেউ যখন মাঠে দাঁড়াতে পারছিল না তখন সাংবাদিকরা মাঠে থেকেছে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের
পর সেই সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করা হয়নি, জায়গামতো পদায়ন করা হয়নি। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের
সঠিক ব্যবহার করা হয়নি।
সরকারি একটি গণমাধ্যমে ফ্যাসিস্ট বসানো হয়েছে, এখনো বহাল। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ডিআরইউ নেতাদের সাক্ষাতের খবর রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমটিতে প্রকাশের অনুরোধ করা হলে ডিআরইউ নেতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান এখনো এমন সাহস কোথায় থেকে পায়, তার জবাব চান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এ শীর্ষনেতা।
সিনিয়র
সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, এখন সাংবাদিক আক্রান্ত। সাংবাদিক আক্রান্ত হলে আর সাংবাদিকতা
থাকে না। এখন তাই হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা
মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেককে জেলে পাঠানো হয়েছে। কোনো সাংবাদিককে হত্যা মামলার আসামী
করে জেলে থাকবে এটা কোনোভাবে ভালো দেখায় না। কেউ সাংবাদিকতার নামে দালালি করলে তার
বিরুদ্ধে দালাল হিসেবে বিচার করা হোক, হত্যা মামলা নয়।
তিনি
সাংবাদিকদের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, জুলাই পরবর্তী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে
সাংবাদিকদের ইউনিটি ধরে রাখতে পারলেও প্রেসক্লাব ধরে রাখলে পারলো না। কাউকে বাদ দিল,
কারো সদস্য পদ স্থগিত করলো। প্রেসক্লাবের নির্বাচনটাও শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি
বলেন, সরকার সফলতার সঙ্গে এবং দ্রুত অনেক তদন্ত সম্পন্ন করেছে, কিন্তু সাগর-রুনির তদন্ত
করতে পারলো না। শুরুতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করতে পারেনি। আগের
সরকারের সময়ে বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। কী এমন হলো কেউ
প্রতিবেদন দিতে পারছে না। তদন্ত প্রতিবেদন না দিতে না পারলে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে
সরে যাওয়া হোক।
জুলাই
আন্দোলন পরবর্তী কোন কোন গণমাধ্যমের অফিস দখল করা হয়েছে, মহল বিশেষের চাপে সাংবাদিকদের
চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কেন চাকরিচ্যুত করা হয়েছে সে কথাটিও বলা হয়নি। এগুলো সাংবাদিকের
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে বলে মন্তব্য করেন সোহরাব হাসান।
ডিআরইউ
সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকরা ঘরে, বাইরে এবং অফিসে নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার
হচ্ছে। বেতনের নিরাপত্তা না থাকার কারণে পকেটে টাকা থাকে না। এজন্য পরিবারে নির্যাতনের
শিকার হন। খবর সংগ্রহ করতে বাইরে গিয়ে গন্তব্যে পৌছতে না পেরে নিগ্রহের শিকার হন। আর
পকেটে টাকা না থাকার কারণে ভালো রিপোর্টটি না দিতে পেরে নিগ্রহের শিকার হন। শুধু আইনি
নিরাপত্তা নয়, সাংবাদিকের বেতন-ভাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ব্যক্তি, পরিবার,
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
রাজনৈতিক
পালা বদলে সাংবাদিক হত্যা মামলায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নিয়ে
দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে ডিআরইউ সভাপতি বলেন, এখন উষ্ণ পরিবেশে উষ্ণ দাবি তোলা
হচ্ছে। অতীতে ভিন্ন মত হওয়ার কারণে যখন ৭ নম্বর ক্রমিকের নয়া দিগন্ত পত্রিকা ৫৭ নম্বরে
নামিয়ে দেওয়া হয় তখন কোনো কথা উঠে না, এখন কথা উঠছে। আগেও এ ধরনের কথা উঠা দরকার ছিল।
ঢাকা
সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইইজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, অতীতে যাদের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের
নিয়ে কাজ করা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া দিয়ে কর্মসূচি শুরু
হয়েছে তখন মনে করেছে সাংবাদিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তায় দাবি জানাতে থাকলে সরকার বিরক্ত
হবে। তাই কারা আন্দোলন-কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসে। এজন্য সাগর-রুনির হত্যার বিচার করা
যায়নি। সাংবাদিকের অধিকার ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক
মাইনুল হাসান সোহেল।
অনুষ্ঠানে
আরও বক্তব্য রাখেন ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ, ডিআরইউ এর সাবেক নারী বিষয়ক
সম্পাদক নাদিয়া শারমিনসহ ইউনিসেফের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে
ইউনিসেফের পক্ষ থেকে ডিআরইউকে জার্নালিস্ট হেল্প ডেস্ক হস্তান্তর করা হয়। পেশাগত দায়িত্ব
সম্পর্কিত যে কোনো আইনি সহায়তা দেবে এ হেল্প ডেস্ক। আইনি কোনো সহায়তা চেয়ে ডেস্কে ফোন
করার সঙ্গে এ হেল্প ডেস্ক যেখানে যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন সহায়তা দেবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী
বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়েছে।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত
১টার পরে গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়ে ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক
ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে উদ্ধৃত করে বিএনপির মিডিয়া
সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ
অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
মন্তব্য করুন


বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসছে।
নিয়োগ পদ্ধতি শিক্ষক নিবন্ধন সনদের পরিবর্তে সরাসরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া করবে সরকারি কর্ম কমিশনের আদলে গঠিত একটি কর্তৃপক্ষ।
তবে এ নিয়ে বর্তমানে আইন তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদের ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। এজন্য প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। আর উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বিজ্ঞপ্তির পর সনদের ভিত্তিতে আবেদন করলে আবেদনপত্রের ভিত্তিতে নিয়োগে সুপারিশ করে থাকে এনটিআরসিএ।
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস এম মাসুদুর রহমান বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন আইন তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আইনটি পাস হলে শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো নিবন্ধন সনদের দরকার হবে না। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর এনটিআরসিএর জন্য নতুন আইন তৈরি সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়।
শিক্ষক নিয়োগে নতুন আইন প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক অনুবিভাগ-২) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন আইন তৈরির কাজ চলমান। আশা করছি, আইনটি পাসের জন্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদে তোলা হবে।
এদিকে এনটিআরসিএর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নির্বাচন এবং নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সুপারিশ কর্তৃপক্ষ সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে। তবে এই নতুন আইন কার্যকর হতে দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর এই সময় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আগের নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে হবে।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে এনটিআরসিএর সনদধারীরা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদন করলে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এ ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব-৩৫ বা নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ৩ বছর রয়েছে এমন সব প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পান। ফলে অনেকেই বঞ্চিত হয়ে থাকেন। তবে নতুন আইন কার্যকর হলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়স উল্লেখ থাকবে। এতে বঞ্চিত হতে হবে না কাউকে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিবন্ধন সনদ দিয়ে আসছে এনটিআরসিএ। প্রথম দশকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি। তবে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এতে পরিবর্তন আসে। সনদ দেয়ার পাশাপাশি নিয়োগের জন্য সুপারিশের ক্ষমতা দেয়া হয় এনটিআরসিএকে।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম মুরাদ রৌমারী ( কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলারয় শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এ প্রচণ্ড শীতের মধ্যে চরাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উষ্ণতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার সকাল ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের খেদাইমারী এলাকায় অবস্থিত বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদন প্রাঙ্গণে এই শীত বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। খেদাইমারী বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদন প্রতিষ্ঠান কার্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব শীত বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন, শিশু সদনের শিক্ষকবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, “শীত মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে চরাঞ্চলের শিশুদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হয়। শীতজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে এবং তাদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিয়মিতভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে সরকার সবসময় সচেষ্ট। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান শীত মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ শীতপ্রধান বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। অনেক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার শীতবস্ত্রের অভাবে কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই শীতের এই সময় শিশুদের জন্য উষ্ণতার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।
কম্বল পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানায়, তারা খুবই আনন্দিত। এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা অনেক খুশি। কম্বল পেয়ে শীতে আমাদের কষ্ট কম হবে।” আরেক শিক্ষার্থী জানায়, “এবারই প্রথম আমরা সরকারি ভাবে কম্বল সহায়তা পেলাম। আগে কখনো এভাবে পাইনি।”
শিশুরা আরও বলেন, “প্রতি বছর যদি সরকারি ভাবে আমাদের কম্বল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়, তাহলে শীতের সময় আমাদের পড়াশোনা করতে সুবিধা হবে। আমরা আল্লাহর কাছে এটাই আশা করি।”
এ ধরনের উদ্যোগ শীতার্ত শিশুদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান
তারেক রহমান 'সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন' বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক টাইম
ম্যাগাজিন। নির্বাচনের প্রাক্কালে বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পত্রিকাটি এই অভিমত দিয়েছে।
তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে লেখা নিবন্ধটিতে
বলা হয়, '১৮ মাস আগে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ১২ ফেব্রুয়ারি
অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে এগিয়ে আছেন।' এতে বলা হয়, রহমান নিজেকে
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার রাজনৈতিক অভিজাতদের এবং তার তরুণ বিপ্লবীদের
আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সেতুবন্ধন' স্থাপন করেছেন।
টাইম ম্যাগাজিন লিখেছে, স্বৈরাচারী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা এক দশক ধরে স্থানীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তারেক রহমানের
বক্তব্য প্রকাশ নিষিদ্ধ করেছিলেন।
১৭ বছরের নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আসার পর নতুন বিএনপি
চেয়ারম্যান যখন তার প্রথম সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন, তখন সাক্ষাৎকার গ্রহীতা তারেক রহমানের
সাথে তার পারিবারিক বাড়ির বাগানে বসে কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, 'বিষয়টি হল আমি খুব একটা ভালো বলতে
পারি না... তবে যদি আপনি আমাকে কিছু বলতে বলেন, আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করি' । তারেক
রহমান বলেন, 'আমি আমার বাবা-মায়ের পুত্র বলে নয় (বরং) আমার দলের সমর্থকদের কারণেই আজ
আমি এখানে আছি।'
ম্যাগাজিনটি বলেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় হযরত শাহজালাল
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাতভর অপেক্ষা করা লক্ষ লক্ষ উচ্ছ্বসিত সমর্থক তাকে স্বাগত
জানিয়েছিলেন। ম্যাগাজিনটির বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর মাত্র পাঁচ দিন পর তার
মা বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা
যান, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ রাজধানীতে সমবেত হন।
তিনি বলেন, "কিন্তু তার (খালেদা জিয়া) কাছ থেকে
আমি যে শিক্ষা পেয়েছি তা হল যখন আপনার কোন দায়িত্ব থাকে, তখন আপনাকে তা পালন করতে হবে।"
তবে টাইম পর্যবেক্ষণ করেছে যে, খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক
অনুসরণ করা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না এবং মন্তব্য করেছে যে 'বাংলাদেশিরা তার কথা মেনে
নিতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে।'
টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরের শেষের দিকের
জনমত জরিপে তার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন দেখানো
হয়েছে, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ১৯ শতাংশ সমর্থন রয়েছে।
টাইম লিখেছে যে, তারেক রহমান 'মৃদুভাষী এবং অন্তর্মুখী
ছিলেন, তিনি শুনতে পছন্দ করতেন', অন্যদিকে লন্ডনে তার প্রিয় বিনোদন ছিল রিচমন্ড পার্কে
ঘুরে বেড়ানো, 'তার চিন্তাভাবনায় হারিয়ে যাওয়া বা ইতিহাসের বই পড়া। তার প্রিয় সিনেমা
হলো 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'। তারেক রহমান বলেন, 'আমি সম্ভবত এটি আটবার দেখেছি!'
প্রতিবেদনে বলা হয়, পানি ব্যবস্থাপনায় তারেক রহমান
১২,০০০ মাইল খাল খনন করতে, ভূমির ক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি গাছ লাগাতে এবং ধোঁয়াশা থেকে
রাজধানীবাসীকে রক্ষা করতে ৫০টি নতুন সবুজ উদ্যান তৈরি করতে চান।
তারেক রহমান বলেন, তিনি আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন,
অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি কলেজ তৈরি এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা
ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারিত্বের পরিকল্পনা করেছেন।
তিনি বলেন 'আমি যদি আমার পরিকল্পনার মাত্র ৩০ শতাংশ
বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবে।
২০০৭-২০০৮ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
সময় তারেক রহমানকে ১৮ মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল।
তিনি কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, যার ফলে
মেরুদণ্ডের সমস্যা হয়েছিল যা আজও তাকে কষ্ট দেয় এবং তার যুক্তরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্য
ছিল চিকিৎসা নেওয়া। তিনি বলেন 'যদি শীতকাল খুব ঠান্ডা থাকে, তাহলে আমার পিঠে ব্যথা
হয়।'
মন্তব্য করুন


বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে তার ভেরিফাইড ফেসবুক
পেজে গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি
স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
স্ট্যাটাসে
তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।
তার রোগমুক্তির জন্য দল–মত–নির্বিশেষে দেশের সব শ্রেণির মানুষ
আন্তরিকভাবে দোয়া করছেন। একইসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা তার সুস্থতার জন্য দোয়ার পাশাপাশি
চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক
রহমান লেখেন, দেশি–বিদেশি চিকিৎসক দল পেশাদারিত্বের পাশাপাশি
সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বন্ধুপ্রতীম বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকেও উন্নত
চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আগ্রহ জানানো হয়েছে। সবার দোয়া ও ভালোবাসার
জন্য জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার দ্রুত
আরোগ্যের জন্য দোয়া অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন।
স্ট্যাটাসে
নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ
পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো
এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন
নয়।’
পরিস্থিতি
অনুকূলে এলেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সম্ভব হবে বলে
আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।
রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে
আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’
মন্তব্য করুন


মুঠোফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে ফোনের দাম নিশ্চিতভাবেই কমে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুল্ক হ্রাস পাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব মুঠোফোনের মূল্যে পড়বে।বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “যেহেতু আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে, তাই গ্রাহক পর্যায়ে দাম কমে আসাটাই স্বাভাবিক।”তিনি আরও জানান, আমদানি শুল্ক নির্ধারণ সরাসরি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়। এরপরও সংশ্লিষ্ট অংশীজন হিসেবে মুঠোফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন। তার দাবি, এই খাতে শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা একটি বড় অর্জন। অন্য কোনো খাতে যদি কেউ এমন সহনশীল পর্যায়ে শুল্ক নামিয়ে আনতে পারে, তাহলে সেটি দেখানোর চ্যালেঞ্জও দেন তিনি।সরকার গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মুঠোফোনের দাম রাখতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে।এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের আমদানিকৃত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। অন্যদিকে, ৩০ হাজার টাকার নিচে দামের দেশে সংযোজিত ফোনগুলোর ক্ষেত্রে দাম কমতে পারে আনুমানিক দেড় হাজার টাকা।দাম হ্রাস কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে তদারকি থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এ বিষয়ে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে নজরদারি করবে।তিনি আরও বলেন, ৩০ হাজার টাকার নিচে দামের অধিকাংশ মুঠোফোন দেশেই উৎপাদিত হয়। যেসব ব্যবসায়ী বর্তমানে আন্দোলনে রয়েছেন, তারা মূলত ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ফোন বিদেশ থেকে কেরিয়ার ও কন্টাক্টের মাধ্যমে নিয়ে আসেন। তাদের ওপর চাপ কমাতেই আমদানি শুল্ক প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা হয়েছে।ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রায় সব দাবিই ইতোমধ্যে মেনে নেওয়া হয়েছে। স্টকে থাকা মুঠোফোনগুলোকে বৈধ করা হয়েছে এবং আগামী তিন মাস কোনো ফোন ব্লক করা হবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপরও সড়কে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের কর্মসূচি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের
কিছু লেনদেন সাময়িকভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ
সময় বিকাশ, রকেট, নগদসহ এমএফএসে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে
পারবেন, প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সীমা কার্যকর থাকবে।
একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা
স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র
জানায়, নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের
চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রস্তাবনা
দিয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী
সীমার অঙ্ক সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
বর্তমানে
এমএফএস গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন
করতে পারেন। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রস্তাব অনুযায়ী একজন গ্রাহক দিনে অন্য গ্রাহকের কাছে
সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করা যাবে—
যার সর্বোচ্চ সীমা ১ হাজার টাকা।
এদিকে
ব্যাংকের অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় ব্যক্তি গ্রাহকেরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০
লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা
স্থানান্তর বন্ধ রাখার প্রস্তাবটি বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট
সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চাহিদার
পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ লেনদেন সীমিত করার বিষয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন
জারি করা হবে।’
এ
ছাড়া নগদ টাকা জমা ও উত্তোলনের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো
হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা
উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিএফআইইউতে নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন (সিটিআর) দাখিল
করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন জমা
দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সিটিআরে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যত্যয় হলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


আগামী ২৯ নভেম্বর মক ভোটের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। এ ছাড়া প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের ভোটের পাশাপাশি গণভোটেও অংশ নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
আজ (২৫ নভেম্বর) মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, আগামী ২৯ নভেম্বর কমিশনে মক ভোটিং করা হবে। সেখানে বোঝা যাবে ভোট আয়োজনে আর কী কী দরকার। নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ আছে। সেগুলো আগে থেকেই সরবরাহ করা হবে, যাতে শেষ মুহূর্তে ঝামেলা না হয়।
তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকার প্রিভিউ চলছে। ডিসেম্বরের ৫ তারিখের মধ্যেই ভোটার তালিকা তৈরি হবে। ভোটকেন্দ্র বা বুথ বাড়ানো লাগবে কি না—তা পর্যালোচনা চলছে। এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে গণভোট আইন অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, গণভোট আইন অধ্যাদেশ আকারে উপদেষ্টা পরিষদ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এই আইনের গেজেট ১–২ দিনের মধ্যেই প্রকাশ হবে। গণভোটে একটি প্রশ্ন থাকবে, সেই প্রশ্নের ভিত্তিতে জনগণ হ্যাঁ–না ভোট দেবে। আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, গণভোটের ব্যালট হবে ভিন্ন রঙের। কোনো কেন্দ্রে জাতীয় নির্বাচনের ভোট না হলেও, অবশিষ্ট ভোট হয়ে গেলে এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হলে তা কমিশন বিবেচনা করবে। জাতীয় নির্বাচনের সময় অনুযায়ীই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যন্ত কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দক্ষিনাঞ্চল বটতলি, সাতবাড়িয়া ও বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষের মাঝে টানা তৃতীয় দিনের মতো কয়েক হাজার মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার, ঔষধ সামগ্রী ও বাচ্চাদের কাপড় বিতরণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন শাওন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূইয়া ইমন সহ একটি টীম নাঙ্গলকোটের বটতলি ইউনিয়নের উল¬াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্যাম্প স্থাপন করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
মন্তব্য করুন