

ফরিদপুরের
সদরপুরে বিএনপিতে যোগ দিয়েই বিএনপির অন্তত ১০-১২ জন নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের
অভিযোগ উঠেছে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার
(৫ জানুয়ারি) দিনগত রাতে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে আধিপত্য
বিস্তার নিয়ে বাড়িঘরে হামলা চালান ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান
তিতাসের সমর্থকরা। এসময় ওই এলাকার সেন্টু কাজী, জামাল কাজী, সুমন কাজীর নেতৃত্বে
ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজাহান শিকদারসহ ১০-১২ জন বিএনপির সমর্থকদের
বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করা হয়।
ভুক্তভোগীরা
জানান, যারা তাদের বাড়িঘরে লুটপাট ও হামলা চালিয়েছেন, তারা কদিন আগে আওয়ামী লীগ থেকে
বিএনপিতে যোগ দেন।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেন্টু কাজী, জামাল কাজী, সুমন কাজীর সঙ্গে
যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সদরপুর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল্লা আল মামুন শাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো
হয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ঘরে-বাইরে উভয় স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে নারীর উন্নয়ন
ও সমৃদ্ধির জন্য গৃহীত নীতিমালার সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।
আজ
রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬’
উদযাপন এবং ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান’
অনুষ্ঠানে ভাষণকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি
বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক-নারী ও কন্যারা যেন আর অবহেলা, নির্যাতন
ও বৈষম্যের শিকার না হন। তারা যেন সমান সুযোগ ও মর্যাদা পান।
বাসযোগ্য
বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি জানান যে, তিনি এমন এক দেশের
স্বপ্ন দেখেন যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠবে, স্বাবলম্বী হবে এবং নেতৃত্ব
দিবে। যেখানে প্রতিটি কন্যাশিশু স্বপ্ন দেখবে এবং সেই স্বপ্নপূরণের অফুরন্ত সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাদের
কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রয়াত
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রগতিতে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’
পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার দাদীর পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ
করেন।
রাষ্ট্রপ্রধান
বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে
কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন। এ ধরনের
অপরাধ মোকাবিলায় এখনও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি
আরও বলেন, নারীর অগ্রগতি দেশ ও জাতির অগ্রগতি। বিশেষ করে পুরুষশাসিত সমাজে এই সত্যকে
স্বীকৃতি দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
শহীদ
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কথা উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, নারী উন্নয়েেনর জন্য
তিনি যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তা বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী
রূপ নেয়। তিনি মেয়েদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে
শিক্ষা চালু করেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি
বলেন, নারীশিক্ষার হার বাড়াতে বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তিও চালু
করেন। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
তিনি
উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার
সুযোগ চালু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে
পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’
কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, এটি আগামী ১০ মার্চ থেকে চালু
হবে। আশা করা হচ্ছে, উদ্যোগটি পারিবারিক অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা
রাখবে।
রাষ্ট্রপতি
নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা; কর্মক্ষেত্রে ও মজুরি বৈষম্য; দুর্বল আইনি সুরক্ষা; নিরাপত্তাহীনতা;
বাল্যবিবাহ; নারীবিরোধী মনোভাব এবং সামাজিক কুসংস্কারসহ বেশ কয়েকটি স্থায়ী সামাজিক
চ্যালেঞ্জও তুলে ধরেন।
তিনি
বলেন, সামাজিক হয়রানির পাশাপাশি অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং অপরাধের নতুন
চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি
সাহাবুদ্দিন আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং বৃহত্তর সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে এসব সমস্যা মোকাবিলার
জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
তিনি
পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা, গণমাধ্যম কর্মী এবং তরুণ প্রজন্মকে
নারীর প্রতি সমতা ও শ্রদ্ধার মূল্যবোধ প্রচারের কথাও বলেন।
তৈরি
পোশাক শিল্পে কর্মরত লাখ লাখ নারীর অবদানের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।
তাদেরকে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবেও বর্ণনা করেন।
রাষ্ট্রপতি
আরও বলেন, রাজনীতি, গণমাধ্যম, উদ্যোক্তা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রশাসন, শান্তিরক্ষা
এবং ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা বর্তমানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করছে।
বক্তব্যের
শুরুতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত গণতন্ত্র
ও জনগণের অধিকারের সকল আন্দোলন ও সংগ্রামের শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানে
‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীকালের ন্যায়বিচার: নারী ও মেয়েদের অধিকার সুরক্ষিত থাকুক’
শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
মহিলা
ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় পাঁচটি ভিন্ন বিভাগে আরও পাঁচ নারীকে সম্মাননা পদক প্রদান
করে।
অনুষ্ঠানে
সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আরাও
বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন; বাংলাদেশে ইউএনডিপি-এর
আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা।
পরে
রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে যোগ দেন।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


মাদারীপুরে
স্কুলের টিফিন খেয়ে অন্তত ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ
উঠেছে। এর মধ্যে ৬ জন শিক্ষার্থী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি,
বিভিন্ন এলাকায় আরও প্রায় ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে।
বুধবার
(৮ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আক্রান্ত
বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
রাজারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাউজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, করদি সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
শিক্ষক,
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, সরকারি ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে
পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করে সমতা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খাবার গ্রহণের
কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
এ
ঘটনায় পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা, জামিলা,
রাহিমা, মীম ও চতুর্থ শ্রেণির রাবেয়া ও তাবাসসুমকে পেটে ব্যথায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়
ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ক্ষোভে
ফেটে পড়েন অভিভাবকরা।
পোকরারচর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুন চৌধুরী বলেন, আমাদের স্কুলের ৬
শিক্ষার্থী পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, রুটি
খাওয়ার পর থেকেই এ সমস্যা শুরু হয়েছে। তবে এখন তারা কিছুটা সুস্থ আছে বলে জানতে পেরেছি।
মাদারীপুর
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শরীফ মোহাম্মদ মারুফ হোসেন বলেন, বিকেল পর্যন্ত
আমরা ৫টি বিদ্যালয়ের তথ্য পেয়েছি। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও ডিম খেয়ে শিক্ষার্থীরা
অসুস্থ হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর আগে খাবার সরবরাহকারী
ডিলারদের সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা গুরুত্ব দেয়নি।
মন্তব্য করুন


ঢাকার ভোটার হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এরই মধ্যে ভোটার তালিকায় তার নাম
অন্তর্ভুক্তির জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভোটার
তালিকা হালনাগাদকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ডা. জুবাইদা রহমানের তথ্য
সংগ্রহ করা হয়। গত ৬ মে লন্ডনে চিকিৎসা শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেশে
ফিরলে তার সঙ্গে পুত্রবধূ জুবাইদাও আসেন। পরে ঢাকায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ঈদুল
আজহার আগে তার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন ইসির কর্মকর্তারা।
৫ জুন জুবাইদা লন্ডন ফিরে যান।
আজ সোমবার (২৩ জুন) ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ
সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে
জুবাইদার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ওয়ান-ইলেভেনে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
আমলে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। সে সময় তারেক
রহমান ও জুবাইদা রহমান লন্ডনে ছিলেন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে বাংলাদেশ
ছেড়েছিলেন এই দম্পতি। এরপর তারা দেশে আসেননি।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, তথ্য সংগ্রহ
ও নিবন্ধন কার্যক্রম হলেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হবে পুরো হালনাগাদ
কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর। আইন অনুযায়ী হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে আগামী বছরের ২ জানুয়ারি
খসড়া ভোটার তালিকা এবং ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তবে ফেব্রুয়ারিতে
নির্বাচন হলে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন করে এর আগেই তালিকা চূড়ান্ত করার চিন্তা আছে
ইসির।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সি আর আবরার
(চৌধুরী রফিকুল আবরার)।
তিনি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন ।
মঙ্গলবার
(৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
অধ্যাপক
সিআর আবরার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নামকরা শিক্ষক ছিলেন উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন,
কাল (বুধবার) উনি শপথ নেবেন। প্রফেসর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ অনেক দিন ধরেই বলছিলেন, উনি
একসঙ্গে দুটি মন্ত্রণালয় কাজ করতে পারছেন না। যেহেতু উনি অ্যাডভান্সড স্টেজে, প্ল্যানিং
মিনিস্ট্রিতে অনেক বড় দায়িত্ব ওনার। এজন্য অধ্যাপক সি আর আবরার যুক্ত হচ্ছে উপদেষ্টা
পরিষদে।
প্রসঙ্গত,
বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এই মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনা
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করে আসছেন।
তবে
নতুন কতজন উপদেষ্টা শপথ নেবেন সেটি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শফিকুল আলম বলেন, উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন
মাহমুদ অনেকদিন যাবত বলে আসছিলেন, তার পক্ষে একই সঙ্গে পরিকল্পনা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তার বদলে অধ্যাপক আবরারকে সম্ভবত শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লৎস এর সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি - এনসিপি’র সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। রাজধানীর প্রগতি সরণীতে অবস্থিত জার্মান দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে এনসিপি’র এক প্রতিনিধি দল আতিথেয়তা গ্রহণ করে।
এনসিপি’র পক্ষ থেকে যুগ্ম আহবায়ক ও পররাষ্ট্র সেল প্রধান সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া জার্মান রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহবায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসিন রিয়াজ ও সাইফ মোস্তাফিজ, এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্।
রাষ্ট্রদূত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি, আগামী নির্বাচন এবং নতুন বাংলাদেশ নিয়ে এনসিপি’র পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। এনসিপি নেতৃবৃন্দ তাদের নতুন বাংলাদেশের ২৪ দফা ইশতেহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দুই পক্ষই জার্মানি-বাংলাদেশ এর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার ব্যাপারে একমত হন। এছাড়াও জার্মানিতে পড়াশুনা করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার ব্যাপারে এনসিপি নেতৃবৃন্দ অনুরোধ করেন।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভবন অবকাঠামোতে শৃঙ্খলা আনতে নতুন করে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসাব সভাপতি নিয়াজ আলি চিশতি, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন প্রমুখ।
নির্মাণে ত্রুটি ও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে ভবনে আগুন লাগে জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, আগুন লাগার মূল কারণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। যে ইলেকট্রিক ক্যাবল ব্যবহার করা হয় তার মান ভালো না, এই ক্যাবলের মান যেন ভালো হয় সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া অনেকগুলো ভবনের অবকাঠামো ভালো না। রানা প্লাজায় যে ঘটনা ঘটেছিলো, ভবনটা ধসে পড়ে। তার অবকাঠামোর পরিকল্পনা পাস করা হয় নাই। সেখানেও আমরা ব্যবস্থা করছি।
বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, একটা প্রতিরোধমূলক অবকাঠামো করা প্রয়োজন। ঘটনা ঘটার আগে যেন আমরা তা প্রতিরোধ করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, অগ্নি নির্বাপণের যন্ত্রপাতি আগে আমদানি করতে হতো। তবে ইসাব (ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) জানিয়েছে এখন ফায়ার বল ও ক্যাবল দেশে তৈরি করছে। কিছুটা আমরা এক্সপোর্টও করছি। দেশে এই ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। নতুন আইন করছি সেটা হলো বাংলাদেশ বিল্ডিং কোড। আইন অনুযায়ী রেগুলেটরি অথরেটি তৈরি হবে, সেটা এখনো হয় নাই। তবে তা তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা করবো। এটা হয়ে গেলে প্রতিরোধমূলক কাজগুলো ওই রেগুলেটরি অথরিটির মাধ্যমে করবো।
ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর আয়োজন করছে ইসাব। প্রদর্শনীতে বিশ্বের ৩০টি দেশের শতাধিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে, যারা তাদের ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটির অত্যাধুনিক পণ্যগুলো প্রদর্শন করছে।
ইসাব সভাপতি নিয়াজ আলি চিশতি বলেন, দেশের অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে অগ্নি ঝুঁকিসহ নিরাপত্তার বিষয়টি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে অগ্নি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম অগ্নি ঝুঁকি কমাতে নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
বিজিএমইএ এ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, অগ্নি নিরাপত্তার সরঞ্জামগুলো দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। এ জন্য এ খাতে উদ্যোক্তার নীতি সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।
মন্তব্য করুন


পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় তো বটেই, সব সংস্করণের ক্রিকেট মিলিয়েই পাকিস্তানের মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত যেন নতুন এক ইতিহাস গড়ারই অগ্রপথিক হলেন। এমন বর্ণিল সাফল্যের দিনে ঢাকা থেকে নিশ্চয়ই অভিনন্দনসিক্ত অনেক ফোন পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মধ্যে একটি ফোনকল নিশ্চিতভাবেই আলাদা।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও যে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁকে। মাঠে দাঁড়িয়েই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের জন্য ম্যাচের পরই নাজমুল ও তাঁর ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে মুঠোফোনে প্রধান উপদেষ্টা অধিনায়ককে বলেছেন, ‘আমার ও সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন। পুরো জাতি তোমাদের নিয়ে গর্বিত।’
দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ড. ইউনূস।
বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে একই পোস্ট দেওয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজেও।
রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটে জয়। এরপর আজ একই মাঠে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ২–০ তে সিরিজও জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ দল।
মন্তব্য করুন


শীত এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠা-পায়েসের আয়োজন শুরু হয়। খেজুরের রস আর গুড়—এই দুটিই যেন শীতের অমৃত। শীতের শুরুতেই বাজারে নতুন গুড় উঠতে থাকে, যার মিষ্টি ঘ্রাণ সবাইকে মুগ্ধ করে।
শুধু স্বাদ নয়, গুড় চিনির তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তাই বিশেষজ্ঞরাও চিনির বদলে গুড় ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে বাজারে ভেজাল গুড়ের চল বেড়েছে। তাই গুড় কেনার সময় কিছু বিষয় জানা জরুরি।
গুড় কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
গুড় ভেঙে একটু চেখে দেখুন। নোনতা স্বাদ হলে ভেজাল থাকতে পারে।
দুই আঙুল দিয়ে চাপ দিন—নরম হলে ভালো, খুব শক্ত হলে এড়িয়ে চলুন।
কেমিক্যালবিহীন গুড়ের রং হয় গাঢ় বাদামি বা কালচে। সাদা, হলুদ বা লালচে হলে বুঝবেন কৃত্রিম রং মেশানো।
অতিরিক্ত চকচকে গুড় সাধারণত চিনি বা কেমিক্যাল মেশানো।
ঘরে বসে গুড় পরীক্ষার সহজ উপায়
এক গ্লাস পানিতে গুড় দিন:
সম্পূর্ণ মিশে গেলে → আসল গুড়
নিচে তলানি পড়লে → ভেজাল
(ল্যাব পরীক্ষায়) গুড়ে কনসেনট্রেটেড হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দিলে রং গোলাপি হলে বুঝতে হবে এতে রাসায়নিক আছে।
গুড়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা
গুড়ে আছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস।
রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়—অ্যানিমিয়ার রোগীদের জন্য উপকারী।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ঠান্ডাজনিত অ্যালার্জি কমায়।
হজম শক্তি বাড়ায়, শরীরের দূষিত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে।
গুড়ের পানি সর্দি-কাশি, হাত-পা ঠান্ডা হওয়া সমস্যায় উপকারী।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় ত্বক সতেজ রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
গুড়ের পানি কেন খাবেন?
হালকা গরম পানিতে গুড় মিশিয়ে পান করলে—
হজম ভালো হয়
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
শরীর ও ত্বক দুটোই উপকৃত হয়
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির
দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হাদির জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন তার বড় ভাই
আবু বকর সিদ্দিক।
আজ শনিবার
সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল
ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত
করা হয়।
এর আগে দুপুর আড়াইটার
দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ
প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে
শহীদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার বড়
ভাই আবু বকর সিদ্দিকের
ইমামতিতে এ জানাজা আদায়
করা হয়। জানাজা শেষে
তাকে দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
কেন্দ্রীয় কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া
হয়।
শহীদ
ওসমান হাদির নামাজে জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস,
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধানসহ
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ
নেন।
জানাজার
আগে প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন,
ওসমান হাদি নির্বাচনে অংশ
নিতে চেয়েছিলেন এবং নির্বাচন কীভাবে
করা উচিত, তার একটি প্রক্রিয়াও
তিনি দেখিয়ে গেছেন।
তিনি
বলেন, হাদি যে নির্বাচনী
প্রক্রিয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সেটি
আমাদের সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। কীভাবে
প্রচারণা চালাতে হয়, কীভাবে মানুষের
কাছে যেতে হয়- সবকিছুরই
শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন।
আমরা সেই শিক্ষা গ্রহণ
করেছি।
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, হাদি কোথাও হারিয়ে
যাবে না। কোনোদিন তোমাকে
কেউ ভুলতে পারবে না। তোমাকে আমাদের
সবার পক্ষ থেকে আল্লাহর
কাছে আমানত রাখলাম। আমরা সবসময় তোমার
কথা রেখে জাতির অগ্রগতির
পথে চলতে থাকব।
ড. ইউনূস বলেন, আজ লাখ লাখ
মানুষ হাজির হয়েছেন। রাজপথে ঢেউয়ের মতো লোক আসছে।
এই মুহূর্তে কোটি কেটি মানুষের
চোখ এখানে। তারা তাকিয়ে রয়েছে
হাদির বিষয়ে জানার জন্য। প্রিয় ওসমান হাদি তোমাকে আমরা
বিদায় দিতে আসিনি। তুমি
আমাদের বুকের ভেতরে আছ। বাংলাদেশ যতদিন
আছে, ততদিন তুমি সব বাংলাদেশির
বুকে থাকবে। এটা কেউ সরাতে
পারবে না।
হাদির
কাছে ওয়াদা করে এসেছেন জানিয়ে
ড. ইউনূস বলেন, তুমি যা বলে
গেছ, সেটা যেন আমরা
পূরণ করতে পারি। সে
ওয়াদা করার জন্য আমরা
একত্রিত হয়েছি। সেই ওয়াদা শুধু
আমরা নয়, পুরুষানুক্রমে দেশের
সব মানুষ পূরণ করবে। তোমার
যে মানব প্রেম তোমার
যে ভঙ্গি, তোমার যে ওঠাবসা এবং
রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, তা নিয়ে সবাই
প্রশংসা করছে। সেটা যেন আমাদের
মনে সবসময় জাগ্রত থাকে।
মন্তব্য করুন