

জয়পুরহাটের
ক্ষেতলালে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার সময় ওই নারীর পাল্টা প্রতিরোধে অভিযুক্ত
ব্যক্তির বিশেষ অঙ্গ কেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার
দিকে ক্ষেতলাল পৌরসভার মুন্দাইল গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার
পর পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়
ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী নারী একই
গ্রামের বাসিন্দা। রোববার সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূ নিজের ঘরে একা ছিলেন। এ সুযোগে অভিযুক্ত
ব্যক্তি জোরপূর্বক তার ঘরে প্রবেশ করেন। হঠাৎ পেছন থেকে ওই নারীকে জড়িয়ে ধরে বিভিন্ন
কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন তিনি। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে নিজের
সম্ভ্রম রক্ষার্থে ওই নারী হাতের কাছে থাকা ব্লেড দিয়ে আঘাত করলে অভিযুক্ত গুরুতর আহত
হন। এতে তার পুরুষাঙ্গ কেটে যায়।
ভুক্তভোগী
নারীর স্বামী অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও বিভিন্ন সময় তাকে উত্ত্যক্ত
করতেন। ঘটনার সময় স্ত্রী ঘরে একা ছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সম্ভ্রম বাঁচাতে তিনি
কৌশলে আত্মরক্ষামূলক এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে
ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তবে এরপর একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ
বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ঘটনাটি
পুলিশের নজরে এসেছে এবং বর্তমানে এটি তদন্তাধীন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া
চলমান।
মন্তব্য করুন


সাভার
মডেল থানার অদূরে, সাভার প্রেসক্লাবের পাশেই অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে
গত সাত মাসে সংঘটিত হয়েছে একের পর এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।
দীর্ঘদিন
অজ্ঞাত থাকা এসব ঘটনার রহস্যের পর্দা নেমে আসে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) জোড়া মরদেহ
উদ্ধারের পর। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য-খুনি কোনো পেশাদার অপরাধী নয়, বরং থানার
আশপাশে ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘোরাফেরা করা এক পরিচিত মুখ।
রোববার
দুপুরে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধার
করে পুলিশ। এ ঘটনার পর তদন্ত জোরদার করা হয়। আগের হত্যাকাণ্ডের সময় সংগৃহীত সিসিটিভি
ফুটেজ এবং সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
পান। ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কাঁধে করে মরদেহ বহন করছে-যাকে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন
ধরে ভবঘুরে হিসেবেই চিনত।
পরবর্তীতে
অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটক করে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তার
ভয়ংকর অপরাধের ধারাবাহিকতা।
দৈনিক
মানবজমিন-এর প্রতিনিধি সোহেল রানা গত শুক্রবার ওই পরিত্যক্ত ভবনে একটি ভিডিও ধারণ করেন।
সেখানে এক নারী নিজেকে ‘সোনিয়া’ বলে পরিচয় দেন এবং তার সঙ্গে সম্রাটকেও
দেখা যায়। মাত্র দুদিন পরই ওই নারীর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও
ভিডিওর দৃশ্য মিলিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়-সম্রাটই এসব হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা।
সাভার
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলি জানান, সম্রাট একজন মানসিক বিকৃত
বা সাইকোপ্যাথিক সিরিয়াল কিলার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে, গত সাত মাসে
একই স্থানে ছয়জনকে হত্যা করেছে। তার টার্গেট ছিল মূলত ভবঘুরে ও অসহায় মানুষজন। প্রতিটি
হত্যাকাণ্ডই ছিল একই ধরনের নৃশংস ও পরিকল্পিত।
ওসি
আরও বলেন, “সে ছদ্মবেশে সাভার ব্যাংক কলোনি ও লালটেক এলাকায় ঘোরাফেরা করত এবং দীর্ঘদিন
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল।”
থানা
থেকে মাত্র শত গজ দূরে, সেনাক্যাম্প ও সরকারি কলেজের কাছাকাছি এলাকায় এমন সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের
ঘটনায় পুরো সাভারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হতবাক হয়ে জানান, “যাকে
প্রতিদিন চুপচাপ বসে থাকতে দেখতাম, কখনো বিড়বিড় করতে দেখতাম-সে যে এমন ভয়ংকর খুনি,
তা কল্পনাও করা যায় না।”
ঢাকা
জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, নিহতরা সবাই ভবঘুরে শ্রেণির মানুষ। কেন সম্রাট
এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছিল, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও মানসিক অবস্থার পেছনের
কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য সোমবার তাকে
আদালতে তোলা হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।”এই
ঘটনায় এলাকায় চরম নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা
রোধে ওই এলাকা বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, মানুষকে স্বস্তি দেওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
নেতৃত্বে সরকার নানামুখী কাজ করছে।
তিনি
বলেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিপর্যয় রোধ, অর্থনীতির উন্নয়ন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার
নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি
কার্ড চালু এবং কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার
(৭ মার্চ ) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি কনভেনশন হলে গণসংহতি আন্দোলনের জেলা ও মহানগর
শাখার আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি
বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকসহ পুরো আর্থিক ব্যবস্থার উপরে কিভাবে মানুষের আস্থা তৈরি
হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে মানুষের জীবনে সত্যিকার
উন্নতি তৈরি হবে সেই লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকার, ফ্যামিলি কার্ড,
কৃষি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে যেসব প্রতিশ্রুতি করেছিলো, সবার আগে সেগুলো
বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
বর্তমান
বৈরি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল আমদানি-রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ
ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এসব সংকট মোকাবিলায়
সবার ধৈর্য ও ঐক্য প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার ও বিরোধী
দলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি
আরও বলেন, দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের পর বাংলাদেশ এখন নতুন একটা যাত্রা শুরুর সন্ধিক্ষণে।
বিগত জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক যাত্রার উল্লেখযোগ্য একটা মাইলস্টোন আমরা
পার করেছি। দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে এই দেশের মানুষ লড়াই করেছেন এবং
আমরা রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিশেষকরে বিএনপির নেতৃত্বে গণসংহতি আন্দোলনসহ ৩৯ টি রাজনৈতিক
দল আন্দোলনে থেকেছি।
পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক এক গণঅভ্যুত্থানে দেশের হাজারো তরুণ, নারী, শিশু, বৃদ্ধ,
বাঙালি, চাকমা, হিন্দু ও মুসলমানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ জীবন দিয়ে বাংলাদেশকে
নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।
তিনি
বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের
নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং তার নেতৃত্বেই দেশ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে
আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৪
আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


এদিকে বিকেল জাতির উদ্দেশে ভাষণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জনগণের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেছেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখেন। আপনারা আমার ওপর আস্থা রাখেন, একসঙ্গে কাজ করি। দয়া করে সাহায্য করেন। মারামারি সংঘাত করে আর কিছু পাব না। সংঘাত থেকে বিরত হোন। সবাই মিলে সুন্দর দেশ গড়েছি।
তিনি বলেন, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেন। চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। প্রতিটি অন্যায়ের বিচার হবে।
এর আগে সোমবার দুপুর আড়াইটায় বঙ্গভবন থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে শেখ হাসিনাকে নিয়ে উড্ডয়ন করেন। এ সময় তার ছোট বোন শেখ রেহানাও সঙ্গে ছিলেন।
অপরদিকে দুপুরে সেনা সদরদপ্তরে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরুতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। প্রথম সপ্তাহ রাজধানীর শাহবাগ ঘিরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলে। ১৪ জুলাই পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। এরপর দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সারাদেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে আন্দোলন। বাড়তে থাকে প্রাণহানি। অবশেষে সরকার পতনের এক দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে ছাত্র-জনতা।
মন্তব্য করুন


বিদ্যমান আইনকে
আরও শক্তিশালী করে প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন)
অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে এই
আইন কার্যকর হয়েছে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে
পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে বিদ্যমান আইনে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা
করা হয়েছে। এ ছাড়া ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্যান্য অপরাধের শাস্তিও বাড়ানো
হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।
বার্তায় এ আইনের
মূল উদ্দেশ্যে বলা হয়, তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা
দেওয়া, বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন, ই-সিগারেট,
ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ ইমাজিং তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
ধূমপান ও তামাকজাত
দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংযোজন:
১. ‘তামাকজাত
দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারণ
তামাকজাত দ্রব্যের
সংজ্ঞায় ই-সিগারেট, Electronic Necotin Delivery System (ENDS), Heated Tobacco
Product(HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার এরূপ যেকোন
পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এছাড়াও,
‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা সংযোজনসহ ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে
সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
২. পাবলিক প্লেসে
নিষেধাজ্ঞা
সকল পাবলিক
প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে।
৩. বিজ্ঞাপন
ও প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক,
ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, OTT প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ,
বিক্রয়স্থলে (Point of Sales) প্যাকেট প্রদর্শন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ, CSR কার্যক্রমে
তামাক কোম্পানির নাম/লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান/কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির
আর্থিক সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রয় নিষিদ্ধ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ
করা হয়েছে।
৫. ই-সিগারেট
ও উদীয়মান তামাকপণ্য (ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
উৎপাদন, আমদানি,
রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। বিধান লংঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাস
কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
৬. কুম্ভি পাতা
ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ
উৎপাদন, বিপণন
ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ পৃথক Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল
করা হয়েছে।
৭. আসক্তিমূলক
দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ
তামাক বা তামাকজাত
দ্রব্যের সাথে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিধান
রাখা হয়েছে।
৮. স্বাস্থ্য
সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং
প্যাকেটের ৭৫%
জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত
দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৯. শাস্তি ও
প্রয়োগ জোরদার
জরিমানা ও কারাদণ্ডের
পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের
বিধান রাখা হয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান সন্নিবেশ করা
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম ও সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ।
কয়েকটি চক্র রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু কর্মচারী, সহজ ডটকমের অসাধু কর্মকর্তা, সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করতো । এছাড়া সংরক্ষণ করা জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো এসব চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব -৩।
গ্রেফতাররা হলেন- ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. সেলিম (৫০), তার প্রধান সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম (৬২), অবনী সরকার সুমন (৩৫), মো. হারুন মিয়া (৬০), মো. মান্নান (৫০), মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু (৫০), মো. ফারুক (৬২), মো. শহীদুল ইসলাম বাবু (২২), মো. জুয়েল (২৩) ও মো. আব্দুর রহিম (৩২)।তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তম চন্দ্র দাস (৩০), তার প্রধান সহযোগী মো. মোর্শিদ মিয়া ওরফে জাকির (৪৫), আব্দুল আলী (২২) ও মো. জোবায়েরকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার ২৪৪টি আসনের টিকিট, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং টিকিট বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।তিনি বলেন, অনলাইনে বা রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়। টিকিট কালোবাজারিরা বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে অবৈধভাবে নিজেদের কাছে মজুত করে রেখে সাধারণ যাত্রীদের কাছ দেড় থেকে দুই গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং এই রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ এই ভ্রমণে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এ রুটে ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। টিকেটের চাহিদা বেশি থাকায় টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়; অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় এই রুটের ট্রেনের টিকিট। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে ২-৩ গুণ দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়।চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ার এবং টিকিট কালোবাজারিরা বেশি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও কালোবাজারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রদান করেছে ।
স্টেশনে কুলি, টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা সেলিম এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তমের নেতৃত্বে এ চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা নিশিথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। গ্রেফতার সেলিম এবং উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা প্রথমত ট্রেনের কাউন্টারে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ যাত্রী, রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করত।
যাত্রীদের এনআইডি সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে কাটা হতো টিকিট:
এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে চারটি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। এছাড়াও কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীদের দিয়ে বিভিন্ন সাধারণ যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় এনআইডি সংগ্রহ করে রাখে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে সংরক্ষণকৃত প্রতিটি এনআইডি দিয়ে চারটি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে থাকে।
প্রতিদিন ৫০০ টিকিট সংগ্রহ করতো তারা:
এভাবে তারা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকিট সংগ্রহ করতো। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে নিজেরা লাইনে দাড়িয়ে এবং কৌশলে লাইনে অপেক্ষমান টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি ব্যবহার করে চারটি টিকিট কিনে তিনটি টিকিট নিজেরা তার কাছ থেকে টাকা দিয়ে টিকিটগুলো কিনে নিতো।
সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ:
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ঈদ, পুজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেফতাররা রেলস্টেশনে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের কাছে সংরক্ষিত জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটানো হতো:
কমান্ডার মঈন বলেন, পাশাপাশি গ্রেফতাররা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতো। গ্রেফতাররা স্টেশনে থাকা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট সংগ্রহ করতো। এসব টিকিটের মূল্য কাউন্টারের বুকিং কর্মচারীদের সঙ্গে তারা ভাগ করে নিতো। ফলে রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে গ্রেফতাররা অবৈধভাবে বিভিন্ন পন্থায় বিপুল সংখ্যক ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতো।
গ্রেফতারকৃত সেলিম ও উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা উপযুক্ত সময় বুঝে সংগ্রহকৃত টিকিট নিয়ে রেলস্টেশনের ভেতরে অবস্থান করে। রেলস্টেশনে এসে টিকিট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে গ্রেফতাররা টিকিট বিক্রির জন্য ঘুরাঘুরি করে এবং বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে। এছাড়াও ট্রেন ছাড়ার সময় যত সন্নিকটে আসতে থাকে তাদের মজুত করা কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে এবং সুযোগ বুঝে অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের দাম দিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়।
ঈদের সময় ৪ গুণ দামে টিকিট বিক্রি:
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রেফতাররা প্রতিটি টিকেট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে। প্রতিটি টিকিট তারা দেড় গুণ থেকে দুই গুণে বিক্রি করে এই লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ পায় গ্রেফতাররা নিতো এবং বাকি ৫০ শতাংশ কাউন্টারে থাকা বুকিং কর্মচারী ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহজ ডটকমের কর্মচারী-কর্মকর্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হতো।
৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে সেলিম:
কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেফতার সেলিম দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় টিকিট কালোবাজারির দায়ে সাতটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেছেন তিনি। সে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় আবার টিকিট কালোবাজারির কার্যক্রমে লিপ্ত হয়।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত কাশেম:
তিনি বলেন, গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি গ্রেফতার সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী। মূলত তার দায়িত্ব ছিল কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা। এর আগে তিনি মাদক মামলাসহ একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।
এছাড়াও গ্রেফতার অবনী সরকার ও হারুন মিয়ার দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। একইভাবে মান্নান এবং আনোয়ার ওরুফে ডাবলুর দায়িত্ব ছিল সিলেট এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। ফারুক এবং শহীদুল ইসলাম বাবুর দায়িত্ব ছিল ভৈরব ও কিশোরগঞ্জের কাস্টমার দেখাশোনা করা। জুয়েল এবং আব্দুর রহিমের দায়িত্ব ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার যাত্রী সংগ্রহ করা। এছাড়াও গ্রেফতারদের সবার বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির মামলা রয়েছে।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে উত্তম:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার উত্তম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার সহযোগী গ্রেফতার আলী ও ফারুকসহ রাজধানীর আশকোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং এই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রেলস্টেশন এলাকায় সবসময় অবস্থান করে টিকিট কালোবাজারি চক্র গড়ে তোলে।
উত্তমের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির দায়ে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও টিকিট কালোবাজারির কাজে লিপ্ত হন।
মন্তব্য করুন


২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ (নিজস্ব প্রতিবেদক) : ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফল আজ রোববার বিকেলে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬.৫৭ শতাংশ।
ফলাফলে দেখা গেছে, ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৮১,৬৪২ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ পরীক্ষার্থী ৩১,১২৮ জন (৩৮.১৩ শতাংশ) এবং নারী পরীক্ষার্থী ৫০,৫১৪ জন (৬১.৮৭ শতাংশ)।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমীন জানান, শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dgme.gov.bd
, www.dghs.gov.bd
এবং result.dghs.gov.bd
থেকে ফলাফল পরীক্ষা করতে পারবেন। পরীক্ষার ফল দেখার জন্য প্রার্থীদের ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। ফলাফল ডাউনলোড বা স্ক্রিনশটের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এছাড়া, মেধাতালিকাও পিডিএফ আকারে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১,২০,৪৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ২,১৯২ জন। অংশগ্রহণের হার ছিল ৯৮.২১ শতাংশ।
মেধাতালিকা নির্ধারণ পদ্ধতি
মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা নির্ধারিত হয়।
এসএসসির জিপিএ × ৮ = ৪০ নম্বর
এইচএসসির জিপিএ × ১২ = ৬০ নম্বর
লিখিত পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে এগুলোর যোগফলেই চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি হবে। ২০২৪ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য মোট নম্বর থেকে ৩ নম্বর কাটা হবে এবং পূর্ব শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজে ভর্তিকৃত প্রার্থীর ক্ষেত্রে ৫ নম্বর কাটা হবে।
আসন সংখ্যা
সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসন ৫,৬৪৫টি (এমবিবিএস ৫,১০০, বিডিএস ৫৪৫)। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসন ৭,৪০৬টি (এমবিবিএস ৬,০০১, বিডিএস ১,৪০৫)। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা ১৩,০৫১টি, যার মধ্যে এমবিবিএস ১১,১০১ এবং বিডিএস ১,৯৫০। ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনকারী এই বছর ছিলেন ১,২২,৬৩২ জন।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনী
সন্তুষ্ট নয়, আগের ঐতিহ্যমণ্ডিত যেকোনো একটি পোশাক যাতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী পায়
সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শনিবার
(২৮ মার্চ) দুপুরে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ
একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে
এ কথা বলেন তিনি।
তিনি
বলেন, পুলিশ কোনো বিশেষ দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু। পুলিশ বাহিনীকে
দলীয় প্রভাব মুক্ত করে আধুনিক সেবাধর্মী ও মানবিক বাহিনী হিসেবে জনগণের কাছে সেবা
নিশ্চিত করাই এ সরকারের লক্ষ্য।
তিনি
আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কারে রাষ্ট্র কাঠামোর যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে
অন্যতম পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ
মুক্ত রাখতে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। অচিরেই এর সুফল সবাই পাবে।
৪৩তম
বিসিএস পুলিশ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে এবার মোট ৭২ জন এএসপি তাদের প্রশিক্ষণ
শেষ করে চাকরিতে যোগ দেবেন।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
কসবা উপজেলায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কারের ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি
হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতা রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তাকে ঘিরে ছড়ানো ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত
তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।
রেদোয়ান
ইসলাম ‘রিহিয়া রিহি’ নামে একটি ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে
বলেন, তিনি একজন পুরুষ এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। কিছু
ভিডিও কনটেন্টের কারণে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং
ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার
আহ্বান জানান তিনি।
এ
বিষয়ে রেদোয়ানের বাবা জাহাঙ্গীর আলমও অভিযোগকে গুজব বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তার
ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও তৈরি করেছিল, যা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে এসব কর্মকাণ্ড সমর্থন করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর
আগে রোববার জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৈয়দাবাদ আদর্শ
মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে বহিষ্কার করা
হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জীবনবৃত্তান্তে নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করলেও পরে লিঙ্গ
পরিবর্তনের তথ্য সামনে আসে, যা গোপন রাখার অভিযোগে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা
ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, সম্প্রতি কলেজ শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
করা হয় এবং সেই প্রক্রিয়ায় রেদোয়ান ইসলাম অন্তর্ভুক্ত হন। তবে পরবর্তীতে তার বিষয়ে
নতুন তথ্য সামনে আসায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে,
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত
পরিচয়ের স্বাধীনতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন, আবার কেউ তথ্য গোপনের অভিযোগকে গুরুত্ব
দিচ্ছেন।
ঘটনাটি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে সত্যতা যাচাই ও ব্যক্তিগত মর্যাদা
রক্ষার প্রশ্নটি সামনে এসেছে।
মন্তব্য করুন


ধর্ম
উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আইনের শাসন একটি জাতির উন্নয়নের অন্যতম সোপান।
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আজ
সোমবার ( ২৬ জানুয়ারি ) দুপুরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সমিতির
উদ্যোগে আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ধর্ম
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
ড.
আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম
প্রধান অঙ্গীকার। বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার
কাজ করছে। আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
তিনি
আরও বলেন, সাতকানিয়ার এই শতবর্ষী আদালত ভবনের অবকাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। এটিকে
আধুনিক বহুতল ভবনে রূপান্তর করা হবে। এ বিষয়ে প্রকৌশলী ও স্থপতিদের সাথে কথা হয়েছে।
সাতকানিয়া
আদালতের অবকাঠামো উন্নয়নে সম্ভাব্য সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আগামী
১২ ফেব্রুয়ারিকে ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার
প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। আমরা আশাবাদী, উৎসবমুখর পরিবেশে এ দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার
প্রয়োগ করতে পারবে। নির্বাচিতদের হাতে আমরা ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেব।
সাতকানিয়া
আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সোলাইমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সাতকানিয়া
আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সিরাজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের
সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুল
ইসলাম মানিক বক্তৃতা করেন।
পরে উপদেষ্টা সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন এক্স-রে মেশিন সংযোজন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের জন্য নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংগঠনের সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এই তথ্য কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় সহকারী অফিস সম্পাদক আবু জাফর শাহীন।সভাপতি হওয়ার আগে সাদ্দাম ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার জন্ম ও বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলায়।শিক্ষাজীবনে তিনি খুলনার দারুল কোরআন সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করেন। এরপর তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পেশাদার স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত।
মন্তব্য করুন