

মো: মাসুদ রানা, কচুয়া প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়ায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
এদিকে ফলন কাটতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে এবার এ উপজেলা ৪ হাজার ৮শ ৭৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ১৮০ হেক্টর। লক্ষমাত্রার চেয়ে এ বছর ৩০৫ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে আমন ধানের। ইতিমধ্যে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর আমন ধান কর্তনের শুভ উদ্বোধন করেছেন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ধানক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেতের ধানই পেকে গেছে। অনেকে আবার আগাম লাগানো রোপা ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছেন।
জানা যায়, কচুয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মূলত আগাম ধান লাগানো হয়। সাধারণত এসব অঞ্চলের মাটিতে বছরে ৩-৪টি ফসল চাষাবাদ করেন কৃষকরা। এবার নানান প্রতিকূলতার মধ্যে আমন ধান লাগাতে হয়েছে। সময়মতো বর্ষার পানি না পাওয়া এবং তেলের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছিলেন তারা। এতে খরচ বেশি হয়েছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় আশায় বুক বাধছেন কৃষকরা।
আমন ধান কাটার পরে এই জমিতে আলু চাষ করা হবে। দোয়াটি গ্রামের কৃষক বাবুল ও সজিব হোসেন বলেন, এবার ধান চাষের সময় বৃষ্টির পানি না পাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ে চারা রোপণ করতে পারিনি। তারপরও ফলন ভালো হয়েছে। প্রায় জমির ধান পেকে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা-মাড়াই শুরু করবো।
পালাখাল গ্রামের কৃষক ওমর ফারুক, শাহজালাল, ইমান হোসেন বলেন, জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। শুরুর দিকে বর্ষার পানি ছিল না। পরে আমন চাষের জন্য যথেষ্ট পানি পেয়েছি। আল্লাহর রহমতে ফসল খুব ভালো হয়েছে।
কচুয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, কচুয়ায় চলতি মৌসুমে রোপা ও বোনা আমন ধান লক্ষমাত্রা হেক্টর চেয়ে বেশি চাষাবাদ করেছে কৃষকরা। ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ বছর কচুয়াতে আমান ধানের ভালো ফলন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লন্ডনগামী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-২০১-এর ইঞ্জিনের সঙ্গে বোর্ডিং ব্রিজের ধাক্কা লেগেছে। এতে ফ্লাইটটির যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বিজি-২০১ ফ্লাইটের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি যাত্রী বোর্ডিংয়ের সময় বোর্ডিং ব্রিজে ধাক্কা খায়। এতে বিমানের একটি ইঞ্জিনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশলীরা বিমানের প্রযুক্তিগত অবস্থা পরীক্ষা করছেন। পরীক্ষা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বিমানটি উড্ডয়নের উপযোগী কিনা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের ইঞ্জিন ও কাঠামোগত অংশ পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় মেরামত করা হবে।
ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানান, ফ্লাইটটির ইঞ্জিনে বোর্ডিং ব্রিজের ধাক্কা লাগায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে বিজি-২০১ ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। ওই ফ্লাইটে ২৬২ যাত্রীর লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল। বিকল্প হিসেবে ঢাকা থেকে আরেকটি বিমান আনা হচ্ছে এবং দুপুর আড়াইটার দিকে যাত্রীদের সেই ফ্লাইটে লন্ডনে পাঠানো হবে।
তবে এ ঘটনায় বিমানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দেবীদ্বারে ব্যবসায়ী মুসা আলী হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত ০২ ঘাতককে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গত ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন নাজিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভিকটিম মোঃ মুসা আলী (৪০) খুন হয়। উক্ত ঘটনাটি জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমসমূহে প্রচারিত হলে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিকটিমের শ্বশুর বাড়ী কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানাধীন তুলাগাও এলাকায় হওয়ায় সে প্রায়ই উক্ত এলাকায় আসা-যাওয়া করতো। এরই সূত্র ধরে আসামীদের সাথে ভিকটিম মুসা আলী (৪০) এর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় ও অন্যান্য আসামীরা ভিকটিমকে অপহরণপূর্বক ভিকটিমের স্ত্রীর নিকট ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের স্ত্রী দাবীকৃত ১০ লক্ষ টাকার পরিবর্তে বিকাশের মাধ্যমে ৩০,০০০/- টাকা আসামীদেরকে প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামীরা দাবীকৃত অর্থ না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিমের পায়ে, হাতে ও পিঠে ছুরি দিয়ে আঘাত করে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানাধীন পশ্চিম বাগুর এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার থানাধীন মেডিনোভা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং চিকিৎসক জানান যে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার (৩৮) বাদী হয়ে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের নিমিত্তে র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা এর একটি আভিযানিক দল গত ০২/০২/২০২৪ ইং তারিখ রাতে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানাধীন বাসস্ট্যান্ড ও কোতয়ালী মডেল থানাধীন বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত অভিযানে হত্যাকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম@ লিমন (৩০), পিতা-মোঃ আবুল হোসেন, সাং-রেইসকোর্স, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা এবং সবুজ সরকার (২৭), পিতা-মৃত আব্দুল আজিজ, সাং-বাগুর, থানা-দেবীদ্বার, জেলা-কুমিল্লা’দ্বয়কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় অভিনব কৌশলে মিনি পিকআপে
করে মাদক পরিবহনকালে ৪৮ কেজি গাঁজাসহ পাঁচজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১
সিপিসি-২।
আজ সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকালে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানাধীন
চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অভিনব কৌশলে
মিনি পিকআপের পিছনে মাছ রাখার ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে গাঁজা পরিবহণের সময় আসামী ১। মোঃ
দিপু , ২। কামরুল ইসলাম , ৩। মোঃ ছুটন মিয়া , ৪। শিপন এবং ৫। মোঃ মাহফুজ নামের পাঁচজন
মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদের কাছ থেকে ৪৮ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহণ
কাজে ব্যবহৃত একটি মিনি পিকআপ উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো- ১। মোঃ দিপু
(২৭) বি.বাড়িয়া জেলার কসবা থানার কাইয়ুমপুর গ্রামের আইয়ুব খান এর ছেলে; ২। কামরুল ইসলাম
(৩০) কুলনা পাথর গ্রামের মৃত জামাল হোসেন এর ছেলে; ৩। মোঃ ছুটন মিয়া (৩০) কামালপুর
গ্রামের মৃত মকবুল হোসেন এর ছেলে; ৪। শিপন (৩০) নোয়াগাঁ গ্রামের টুনু মিয়া এর ছেলে
এবং ৫। মোঃ মাহফুজ (২৪) কামালপুর গ্রামের বাছির মিয়া এর ছেলে।
র্যাব
জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ
করে কুমিল্লা সহ অন্যান্য জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা
মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন
অভিনব কৌশল অবলম্বন করে মাদকদ্রব্য পরিবহণ করতো। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক
অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে
র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা
গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার (চতুর্থ পর্যায়) সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, কুমিল্লার কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) মোঃ ফারুক হোসেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, “আজকের এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করা। নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন, যেখানে পুলিশের ভূমিকা নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হলো ভোটার, প্রার্থী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা। এজন্য প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে আইন, আচরণবিধি ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
পুলিশ সুপার আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই— নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কুমিল্লা জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকল প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মো মিজানুর রহমান মিনু :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের পাতড্ডা, কালিকসার মাদরাসা রাস্তার মাথা এলাকায় ২৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।
এ সময় মাদক পরিবহনকাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন
ধর্মপুর এলাকা হতে দলনেতাসহ সাতজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গতকাল (৩ জুলাই) রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২
একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন
ধর্মপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় তাদের নিকট হতে
৪ টি কুড়াল, ১ টি চাপাতি ও ৩ টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
আসামীরা হলো: ১। তাজুল ইসলাম সুমন (১৯), পিতা-মোঃ আব্দুল মালেক, সাং-হায়দারগঞ্জ, থানা-রায়পুর, জেলা-লক্ষীপুর এবং আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু ২। মোঃ মাসুদ (১৭), পিতা-মোঃ মফিজুল ইসলাম, সাং-রংপুর, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা; ৩। মোঃ রিমন (১৭), পিতা-হারুনুর রশিদ, সাং-মোগড়া, থানা-নাঙ্গলকোট, জেলা-কুমিল্লা; ৪। ফাহিম হোসেন সিফাত (১৫), পিতা-জামাল হোসেন, সাং-পশ্চিম বাগিচাগাও, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা; ৫। তয়বুর রহমান তুহিন (১৭), পিতা-মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, সাং-ছাইচাপাড়া, থানা-দেবিদ্বার, জেলা-কুমিল্লা; ৬। আব্দুল কাদের জিলানী (১৬), পিতা-মোঃ আব্দুল হানিফ, সাং-রসুলপুর, থানা-দেবিদ্বার, জেলা-কুমিল্লা এবং ৭। অর্পন দাস (১৫), পিতা-গৌতম দাস, সাং-বাগিচাগাও, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
র্যাব জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী ও
আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা সকলেই কিশোর গ্যাং এর
সক্রিয় সদস্য। তারা উপরোক্ত দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে এলাকার সাধারণ মানুষকে ভয় ভীতির
মাধ্যমে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও তারা ভয় ভীতির মাধ্যমে
ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ যানবাহনে ছিনতাই ও চাঁদা আদায়সহ ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল
বলে স্বীকার করে। উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী ও আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুদের বিরুদ্ধে
কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা,কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়ায় ১২ কেজি গাঁজাসহ তিন নারী মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শ্রীরাপুর এলাকা থেকে কচুয়া থানার এসআই মামুন সরকার,দেলোয়ার হোসেন ও এমসআই মোরশেদ আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তল্লাসি চালিয়ে গাঁজাসহ তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলো, কুমিল্লার শাসনগাছা এলাকার ফয়সাল মিয়ার স্ত্রী হেলেনা বেগম (৩৫),কোতয়ালী উপজেলার আড়াইওড়া গ্রামের জামাল হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম ও একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রুপা আক্তার।
আটককৃত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মামলা দায়েরের পর চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়।
কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীরা কুমিল্লার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজাসহন করে অধিকমূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাসি চালিয়ে গাঁজাসহ তাদের আটক করা হয়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেনের কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে এখন শুধু শোকের মাতম। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না যে মানুষটি হাসিমুখে গ্রামের সবার সঙ্গে সময় কাটিয়ে গত শনিবার কর্মস্থলে ফিরে গেছেন, আজ তিনি ফিরছেন লাশ হয়ে।
অলিপুর গ্রামের প্রয়াত আবদুল খালেক ভূঁইয়ার ১১ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট মোতালেব হোসেন। শিক্ষাজীবন শেষে চাকরিতে যোগ দিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি। স্ত্রী শামসুন্নাহার, বড় ছেলে মো. সাকিব, মেয়ে শামিমা জান্নাত ও ছোট মেয়ে মুনতাহাকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। বড় ছেলে সাকিব কলেজে পড়ে, মেয়ে শামিমা জান্নাত এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছোট মেয়ে মুনতাহা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে গত শুক্রবার ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন মোতালেব হোসেন। বাড়িতে এলে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকার মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে সময় কাটান তিনি। গ্রামের মসজিদ, বাড়ির উঠান কিংবা পাশের বাড়িগুলোতে গিয়ে সবার খোঁজখবর নিতেন তিনি। ছুটি শেষে শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান এই র্যাব কর্মকর্তা। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার ও গ্রামে নেমেছে গভীর শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী শামসুন্নাহার, সন্তান ও স্বজনেরা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়ি ছাড়ার সময় মোতালেবের ছোট মেয়ে বারবার বাবাকে যেতে মানা করছিল। বড় মেয়ে শামিমা জান্নাতও চাইছিল, বাবা আরও কয়েক দিন বাড়িতে থাকুন। অনেক বুঝিয়ে সন্তানদের রেখে দায়িত্বে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বিদায়ই যে শেষ বিদায় হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
নিহতের বড় ভাই মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার আট ভাইয়ের মধ্যে মোতালেব সবার ছোট। লেখাপড়া শেষ করে সে চাকরিতে যোগ দেয়। ছুটিতে বাড়িতে এলে এলাকার সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকত। শুক্রবার বাড়িতে এসেছিল, শনিবার দুপুরে বের হওয়ার সময় তার মেয়ে বারবার আটকাতে চেয়েছিল। অনেক বুঝিয়ে সে চাকরিতে যায়। তার সৎ চাকরির কারণে তেমন কিছুই করতে পারেনি। ধারদেনা করে বাড়ির কাজ ধরেছিল। কিন্তু শেষ করে যেতে পারল না। আমরা আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
নিহতের বোন আনজুম আরা বেগম মুন্নি বলেন, ‘আমার ভাই একজন দেশপ্রেমিক মানুষ ছিলেন। পরিবার আর সন্তানের চেয়েও দায়িত্ব ও দেশকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। শেষবার যখন বাড়িতে এসেছিল, তখন সন্তানেরা যেন অজানা আশঙ্কায় বারবার তাকে যেতে নিষেধ করছিল। আরও কিছুদিন ছুটি নিয়ে বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেছিল। এত অনুরোধের পরও সে চাকরিতে ফিরে গিয়েছিল, আর সেখানেই হত্যার শিকার হলো। আমরা এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে জানাজা শেষে নিজ বাড়ির সামনের মসজিদের পাশেই মোতালেব হোসেনকে দাফন করা হবে।
কালিরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মোতালেব হোসেন ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। তাঁর এমন মৃত্যু শুধু পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দক্ষিণে বন্যাকবলিত এলাকার বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ফুরিয়ে আসছে ।
আর উঁচু জায়গার বাজারগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে শুকনো খাবারের চাহিদা বেড়ে গেছে। আর এতে টান পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, আলু, তেল, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় সব পণ্যের। বন্যার কারণে সরবরাহ ঠিকমতো নেই। সে কারণে বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নেই বললেই চলে।
এছাড়াও জরুরি ওষুধের সংকটও দেখা দিয়েছে। যার কারণে দূর-দূরান্তের বাজারগুলো থেকে চড়া দামে খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষদের।
চৌদ্দগ্রামের বসুয়ারা গ্রামের আবুল বাশার জানান, এ উপজেলা ফেনী লাগোয়া। কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত এলাকা চৌদ্দগ্রাম। এখনো ৮০ শতাংশ গ্রাম পানির নিচে। ফেনীর উত্তরাংশ লাগোয়া অনেক গ্রামে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের জীবন কীভাবে চলছে বোঝা যাচ্ছে না। ওইসব এলাকার বাজারগুলোও পানির নিচে। টাকা থাকলেও তারা আজ অসহায়।
নাঙ্গলকোটের করপাতি গ্রামের আরিফ হোসেন বলেন, কোনো বাজারেই খাবার নেই। অনেক দূরে লাকসাম বাজারে গিয়ে শুকনো খাবার সংগ্রহ করছি। সেখানেও চড়া দাম। নাঙ্গলকোটের অনেক দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না। প্রবাসী ও স্থানীয় পেশাজীবীরা সহযোগিতা করছেন। এক সপ্তাহ ধরে মানুষ পানিবন্দি। বাজারেও পণ্য না থাকলে এভাবে আর চালিয়ে নেওয়া যাবে না।
এ উপজেলার আইটপাড়া গ্রামের জাবেদ হোসেন বলেন, শহরের কাছাকাছি এলাকায় মানুষ যথেষ্ট ত্রাণ পাচ্ছেন। আমাদের এলাকা দূরবর্তী হওয়ায় বাইরে থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমাদের অনেক অনেক ত্রাণ দরকার।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কুমিল্লার লাকসাম, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম ও মনোহরগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটারের মতো পানি কমেছে ওইসব এলাকায়। অপরদিকে গোমতীর বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বুড়িচংয়ের পর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। গোমতীর পানি ঢুকছে দেবিদ্বার উপজেলাতেও।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুরের কচুয়ায় ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী
লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখ রাতে
র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর জেলার কচুয়া
থানাধীন সাচার বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন
ছাত্রলীগ কর্মী মোঃ কামরুল হাসান রিয়াদকে গ্রেফতার করা হয়। একই রাতে পরিচালিত অন্য
একটি অভিযানে চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানাধীন কোয়া এলাকা হতে আওয়ামীলীগ নেতা বিল্লাল হোসেনকে
গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মোঃ কামরুল হাসান
রিয়াদ (৩১) চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সুয়ারুল গ্রামের আব্দুর রব পাঠান এর ছেলে এবং
২। বিল্লাল হোসেন (৪৫) একই থানার কোয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম এর ছেলে।
র্যাব জানান, গ্রেফতারকৃত ১ নং আসামী
মোঃ কামরুল হাসান রিয়াদ (৩১) কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাচার
ডিগ্রি কলেজের সাবেক সভাপতি এবং ২ নং আসামী বিল্লাল হোসেন (৪৫) কচুয়া পৌর ০৩ নং ওয়ার্ড
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল। তারা উভয়েই লিফলেট বিতরণ ও নাশকতা কার্যক্রম পরিচালনার
দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের
জন্য চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন