

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কের নিমসার সবজি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ওসি মো. আবদুল মমিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়নামতি হাইওয়ে থানার একটি টহল দল মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে চলাচলরত কয়েকটি অবৈধ থ্রি-হুইলার আটক করে। এ সময় থ্রি-হুইলার চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ওসি মো. আবদুল মমিন জানান, অবৈধ থ্রি-হুইলার আটকের পর ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পিটিয়ে ভাঙচুর করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন


ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের দাবি দীর্ঘ ৪০ বছর পর পূরণ হতে যাচ্ছে।
এমপিওভুক্তির প্রস্তাবের ফাইলে শেষদিন বুধবার (৫ মার্চ) স্বাক্ষর করে গেছেন বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ফলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫১৯ ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ৬ হাজারের বেশি শিক্ষকের ভাগ্য খুলছে।
আজ বিদায়ী বক্তব্যে বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ নিজেই। আজ বুধবার (৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শেষ কর্মদিবসে সেই ফাইলে স্বাক্ষর করে গেছেন বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা। সেই ফাইল এখন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে। তার সম্মতি মিললে মে মাসের মধ্যে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেতে পারেন।
তিনি বলেন, দেশে অনেক ইবতেদায়ী মাদ্রাসা আছে। এর মধ্যে অনেকগুলো অনানুষ্ঠানিক। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানের নথি (রেজিস্ট্রেশন) আছে। সরকারি প্রাথমিক স্কুলের মতো তারা বাংলা, ইংরেজি, গণিত পড়াচ্ছে। অবকাঠোমো, শিক্ষক থাকার পরও তাদের এমপিওভুক্ত করা হয়নি। তাদেরকে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব। সেই কাজ আমি করে দিয়েছি।
এদিকে আজ বঙ্গভবনে নতুন শিক্ষা উপদেষ্টার শপথ অনুষ্ঠানে এই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়টি অর্থ বিভাগের সচিবকে অবহিত করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। এ সময় অর্থ সচিব প্রধান উপদেষ্টার সম্মতি মিললে টাকা ছাড় করার বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।
মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস থেকে ইবতেদায়ী শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার জন্য কাজ করছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ। সারা দেশে এডুকেশনাল ইনস্টিটিউট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনাক্তকারী নম্বর আছে (ইআইআইএন) এমন ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসাকে এমপিও করার ফাইল প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে।
এ নিয়ে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, বিদায়ী উপদেষ্টা এই ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। ফাইলটি এখন প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের অনুমতির জন্য পাঠানো হবে। তিনি সদয় অনুমতি দিলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হবে।
কতদিন লাগতে পারে- জানতে চাইলে সচিব বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের বাজেট বরাদ্দ থেকে অর্থ ছাড়ের আশ্বাস দিয়েছেন। মে মাসের বেতন যেন শিক্ষকরা পান সেই চেষ্টা চালাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের আজ শেষ সময়
।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ
১৫ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু ১৭ এপ্রিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়
২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল, আর ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ৮ মে।
প্রথম ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল
কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের তফশিলও ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
দ্বিতীয় ধাপের তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল ২১ এপ্রিল শেষ সময়, মনোনয়নপত্র বাছাই
২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪-২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা
প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল আর প্রতীক বরাদ্দ হবে ২ মে। আর ১৬১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ
হবে ২১ মে।
তবে এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা
হয়েছে। তা ছাড়া মনোনয়নপত্রে লিঙ্গ হিসেবে ‘হিজড়া’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ হিজড়ারা
চাইলে হিজড়া পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। অন্য নির্বাচনে এই বিধান আগেই করা
হয়েছিল। উপজেলায় তা সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে এত দিন
২৫০ জন ভোটারের সমর্থনসূচক সই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হতো। কিন্তু এবার সে বিধান
বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ভোটারদের সমর্থনসূচক সইয়ের তালিকা আর
দিতে হবে না।
এ ছাড়াও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো পদে একাধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে আবার
ভোট করার বিধান ছিল। এখানে এবার সংশোধনী আনা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে
ফলাফল নির্ধারণ করা হবে লটারিতে।
প্রসঙ্গত, এবার দেশের ৪৮১টি উপজেলায় ভোট হবে চারটি ধাপে। বাকি দুই ধাপের তফশিল
এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ঈদুল আজহার আগামী ১২ জুনের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
রোববার (২ জুন) সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে অনলাইনে চাপ এড়াতে পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি হচ্ছে দুপুর ২টা থেকে।
প্রথম তিন ঘণ্টায় পশ্চিমাঞ্চলের ১৪,১৫৭ টিকেটের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তবে পশ্চিমাঞ্চলের অন্য দুই বিভাগ রাজশাহী ও খুলনাতে এখনও কিছু ট্রেনের টিকিট অবিক্রীত রয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রির শুরুতেই উত্তরবঙ্গের টিকিটের অনেক চাহিদা ছিল। এ এলাকার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। প্রথম তিন ঘণ্টায় অনলাইনে টিকিট কাটতে প্রায় ৭০ লাখ হিট পড়েছে।
রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগে আন্তঃনগর ট্রেনের ১২ জুনের আসন বিক্রি হবে ২ জুন; ১৩ জুনের আসন ৩ জুন; ১৪ জুনের আসন ৪ জুন; ১৫ জুনের আসন ৫ জুন; ১৬ জুনের আসন ৬ জুন বিক্রি হবে। এছাড়া যাত্রী সাধারণের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ আসন যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার মুরাদনগরে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেল ৪টায় মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তিনি প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন।
বাংলাদেশ পুলিশের মুরাদনগর থানার একটি চৌকস ইউনিট উপদেষ্টাকে নিজ উপজেলায় প্রবেশের পর গার্ড অফ অনারে বরণ করে নেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষাবিদরা।
আয়োজকরা জানান, কোরআন হিফজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং মেধাবীদের সম্মাননা জানানোর উদ্দেশ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, "কুরআন হিফজকারীরা সমাজের গর্ব। তাদের মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সমুন্নত থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগকে সবসময় উৎসাহিত করা হবে।"অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজক কমিটির হাফেজ মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান জানায়, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এই ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


বস্ত্র ও পাট এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সপ্তাহখানেক আগেও
কুমিল্লায় ত্রাণ দিয়েছি। আজ জরুরি ওষুধ যা বন্যা পরবর্তী সময় দরকার হয় ও একদল বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসক নিয়ে এসেছি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির নিরূপণ
ও বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষতির পরিমাণ দেখে বন্যায়
ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে
শনিবার (৩১ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম
উপজেলা ও বুড়িচং উপজেলায় বন্যার্তদের জরুরি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণের পর এসব কথা
বলেন তিনি। এসময় শিশু ও গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও এইচ অ্যান্ড এইচ ফাউন্ডেশনের হেলথ কেয়ার
প্রজেক্ট কনসালটেন্ট ডা. রেহানা খানমের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিনিধি দল বন্যায়
অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে
আহত হয়ে কুমিল্লার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ৬ জনের চিকিৎসার
খোঁজ-খবর নিলেন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। পরে বন্যার কারণে অসুস্থদের পরিদর্শন ও
চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
বস্ত্র ও পাট এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের নিজ উদ্যোগ ও এইচ অ্যান্ড এইচ ফাউন্ডেশন, পিএসও, এস এস
গ্রুপের ও অন্যান্য সংগঠনের সহায়তায় প্রায় ৭০ হাজার ওষুধ এবং ১০০০ প্যাকেট শিশুখাদ্য
বিতরণ করা হয়েছে, এর মধ্যে পাউডার দুধ, চকোলেট, ম্যাংগো বার,বিস্কুট, চিপস, চানাচুর
ইত্যাদি প্রদান করা হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম সেনা
ক্যাম্পের লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রহমতুল্লাহ, সার্কেল
এএসপি জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহেদা বেগমসহ সেনাবাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা
ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


জন্মনিবন্ধনে মা হিসেবে যার নাম, সমাজে পরিচয়ও যার মেয়ে হিসেবে। কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন, নাম লিখিয়েছেন নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, দিয়েছেন নিজের পরিবারের পরিচয়। কিন্তু ১৫ বছর পর সেই নারীই জানালেন—‘সে আমার মেয়ে নয়’। এরপর শুরু হয় এক কিশোরীর পরিচয় বদলের প্রক্রিয়া। বদলে যায় জন্মনিবন্ধন, সংশোধন হয় শিক্ষাগত নথি, প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।
অনুসন্ধানে
জানা গেছে, রাজশাহীর আলোচিত এ ঘটনার পেছনে রয়েছে দত্তক গ্রহণ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব,
উত্তরাধিকার সম্পত্তি এবং আইনি জটিলতার এক বিস্ময়কর গল্প, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে
ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল (১৮) নামের এক তরুণীর পরিচয়ের লড়াই।
২০০৮
সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল কার্যালয়ে একটি শিশুর জন্মনিবন্ধন
করা হয়। সেই নিবন্ধনে শিশুটির নাম লেখা হয় ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল। মা হিসেবে উল্লেখ
করা হয় রাজশাহীর প্রখ্যাত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিপ্রা চৌধুরীর নাম এবং বাবা হিসেবে লেখা
হয় তার স্বামী ডা. ওবায়দুর রহমানের নাম।
এরপর
থেকে পায়েলের পরিচয় ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তিনি ডা. শিপ্রা চৌধুরীর মেয়ে হিসেবেই পরিচিত
ছিলেন পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের কাছে। রাজশাহীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা,
অভিজাত পরিবেশে বেড়ে ওঠা, চিকিৎসক মায়ের সঙ্গে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ—
সব মিলিয়ে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মতোই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর।
কিন্তু
২০২২ সালের নভেম্বর মাসে এসে সেই পরিচয়ের ভিত্তিটাই যেন ভেঙে পড়ে। পারিবারিক বিভিন্ন
টানাপোড়েনের এক পর্যায়ে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে দাবি করেন পায়েল।
একসময় তাকে জানানো হয়, তিনি আসলে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর গর্ভজাত সন্তান নন। বরং তিনি একজন
পালিত সন্তান। শুধু তাই নয়, তাকে আরও বলা হয়, তার প্রকৃত বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ
উপজেলায় এবং তার আসল বাবা একজন রাজমিস্ত্রি।
হঠাৎ
করেই এমন কথা শুনে নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েন পায়েল। তিনি জাগো নিউজকে
বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে উনাদের কাছেই বড় হয়েছি। পরিবারের সদস্য বলতে তারাই ছিল আমার
সবকিছু। বাবা আলাদা থাকতেন, ভাইও দেশের বাইরে ছিলেন। ফলে আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু
ছিলেন মা। কিন্তু একসময় তার আচরণ বদলে যেতে থাকে। পরে তিনি আমাকে বলেন, আমি তার নিজের
মেয়ে নই, আমি পালিত সন্তান। কথাগুলো শুনে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম। কারণ এতদিন যে
পরিচয়ে বড় হয়েছি, সেটাই যদি সত্য না হয় তাহলে আমি আসলে কে?’
পায়েলের
দাবি, ‘মৌখিকভাবে সম্পর্ক অস্বীকার করার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকেনি। এরপর তার জন্মনিবন্ধনসহ
বিভিন্ন নথিপত্রে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে তার জন্মনিবন্ধনের তথ্য
সংশোধন করা হয়। পাশাপাশি একাডেমিক কাগজপত্রেও পরিবর্তন আনা হয়। এমনকি ২০১০ সালে নিজের
মেয়ে পরিচয়ে পায়েলের নামে যে জমি দান করা হয়েছিল, সেটি ফেরত চেয়েও মামলা করা হয়।
পায়েল
বলেন, ‘সবচেয়ে অবাক লাগে, যেসব নথি তারাই তৈরি করেছিলেন, সেগুলো কীভাবে পরিবর্তন করা
হলো আমি জানি না। আমার এনআইডি কার্ডে এক তথ্য, জন্মনিবন্ধনে আরেক তথ্য, শিক্ষাগত কাগজপত্রে
আবার ভিন্ন তথ্য। এসব কারণে বিভিন্ন জায়গায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কলেজে ভর্তি হওয়ার
সময়ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আমার পড়াশোনার এক বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো নানা জায়গায় পরিচয়
প্রমাণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ি।’
রাজশাহী
সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারির
দিকে ডা. শিপ্রা চৌধুরী তাদের অফিসে এসে দাবি করেন, ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল তার নিজের
সন্তান নন। তখন তারা জানতে চান, যদি সন্তান না হন তাহলে জন্মনিবন্ধনের সময় কেন মা হিসেবে
স্বাক্ষর করেছিলেন?
তিনি
বলেন, ‘আমরা তাকে বলেছিলাম, আপনি যদি এখন বলেন মেয়েটি আপনার সন্তান নয়, তাহলে আগে যে
তথ্য দিয়েছেন সেটি তো বিভ্রান্তিকর। বিষয়টি আমাদের কাছেও অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শিপ্রা চৌধুরী সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি।
তবে
তার পুত্রবধূ শাম্মী এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আবেগের বশে এবং কাউকে না জানিয়ে
শাশুড়ি পায়েলকে নিজের মেয়ে পরিচয়ে জন্মনিবন্ধন করিয়েছিলেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে
এটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক হয়নি। দত্তক গ্রহণের কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রও ছিল না।
জন্মনিবন্ধনে আমার শ্বশুরের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল অথচ তিনি বিষয়টি জানতেন না। পরে
ভুল বুঝতে পেরে শাশুড়ি নথিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেন।’
এদিকে
গোপন সূত্রে জানা যায়, ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল একটি ছেলেকে ভালোবাসেন। তবে সেই ছেলেকে
পছন্দ নয় ডা. শিপ্রা চৌধুরীর। এজন্যই তিনি পায়েলের আসল পরিচয় বলে দেন।
ঘটনার
আরেকটি নাটকীয় দিক সামনে আসে নতুন জন্মনিবন্ধনে যুক্ত হওয়া মা-বাবার বক্তব্যে। সংশোধিত
নিবন্ধনে পায়েলের বাবা-মা হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুল মিয়া ও টগরী
বেগমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে
টগরী বেগম দাবি করেন, পায়েল তাদের জৈবিক সন্তান নন।
তিনি
বলেন, ‘এটি সত্য নয়। এলাকার মানুষকে জিজ্ঞেস করলেই বিষয়টি জানতে পারবেন। আমাদের নাম
কীভাবে ব্যবহার করা হলো সেটিও প্রশ্নের বিষয়।’
অন্যদিকে
বাবুল মিয়ার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় ডা. শিপ্রা চৌধুরী আমার
মেয়েকে নিয়ে যান। তখন বলা হয়েছিল ভবিষ্যতে যেন আমার কোনো দাবি না থাকে। একটি কাগজে
স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল মেয়েটি তাদের পরিচয়েই বড় হবে। এখন এত বছর পর কেন
তাকে অস্বীকার করা হচ্ছে, সেটি আমি বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয়
বাসিন্দা আব্দুর রহমানও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ছোটবেলায় ডা.
ম্যাডাম এসে বাচ্চাটি নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন বাবুলের পরিবারকে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে বাচ্চার
ওপর কোনো দাবি করা যাবে না। এমনকি দেখতে যেতেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। এখন হঠাৎ করে
পরিচয় অস্বীকার করার কারণ আমাদের কাছেও পরিষ্কার নয়।’
মোবারকপুর
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক হায়দারী বলেন, আমাদের কাছ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র
নেওয়া হয়েছিল। সেটি পরে কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে আমরা নিশ্চিত নই। তবে শুনেছি ওই
নথির ভিত্তিতেই জন্মনিবন্ধনের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। আমার জানামতে শিশুটিকে অনেকটা
স্থায়ীভাবেই অন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
আইনি
দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে রাজশাহীর সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জমসেদ আলী
বলেন, ‘যদি প্রমাণিত হয় পায়েল ডা. শিপ্রা চৌধুরীর ঔরসজাত সন্তান নন, তাহলে তিনি উত্তরাধিকার
আইনে ওয়ারিশ হবেন না। তবে দীর্ঘদিন একটি পরিচয়ে বড় করার পর সেই পরিচয় অস্বীকার করে
তার ক্ষতি করা হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মেয়েটি
আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।’
অনুসন্ধানে
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই পরিচয় পরিবর্তনের পেছনে উত্তরাধিকার সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক
বিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কেউই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা
বলতে নারাজ।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাকে স্যার ভাবার দরকার নেই। আমাকে স্যার বলারও দরকার নেই। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আমার ছবি যত কম প্রচার করা যায় তো ভালো।
রবিবার (১৮ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সচিবালয়ে প্রথম অফিসে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে
তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা নাহিদ
বলেন, নিরপেক্ষ সংবাদ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম নিয়ে আমাদের খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গণতন্ত্রের অন্যতম একটি পিলার বলা যায়। কাজেই আমরা যদি গণতন্ত্র চাই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমে কী ধরনের বাধা রয়েছে কিংবা এর সমাধান নিয়ে গণমাধ্যমের মানুষদের সঙ্গে কথা বলেই মূলত আমরা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করব। যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনে আমরা সেন্সর বোর্ডকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করব।
এ সময় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে তদন্তে সহায়তা করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রহসন করা হয়েছে। এটা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম
চৌধুরী র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন ।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব সদর
দপ্তরে র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দিয়ে
বলেন, র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। র্যাব গঠনের সময় বলা
হয়েছিল, বাহিনীটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু পরবর্তীকালে তা
মানা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, র্যাব গঠনের শুরুর দিকে এটি একটি সুশৃঙ্খল ও
সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে মানুষের সম্মান, আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে। পুলিশ ও
সশস্ত্র বাহিনীর সেরা অফিসারদের এখানে পদায়ন করা হতো। যখনই রাজনৈতিক বিবেচনায় এ
বাহিনীতে নিয়োগ ও পদায়ন শুরু হয়, তখন থেকে এতে পচন ধরতে শুরু করে। সাধারণ মানুষের
মনে বদ্ধমূল ধারণা এই যে, যখন থেকে র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা শুরু
হয়, তখন থেকেই র্যাব গুম, খুনসহ বিভিন্ন বেআইনি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হতে শুরু
করে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভালোবাসা, ব্যবহার ও পারফরম্যান্সের
মাধ্যমে র্যাবের হারানো গৌরব ও সম্মান পুনরুদ্ধার সম্ভব উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, সেজন্য আইনের মধ্যে থেকে র্যাবকে কাজ করে যেতে হবে। ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষের বেআইনি আদেশ মানা যাবে না। অননুমোদিত ও বেআইনিভাবে কাউকে আটক রাখা
যাবে না। ক্রসফায়ার, গুম, খুন থেকে র্যাবকে দূরে থাকতে হবে।
সভায় র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানসহ বাহিনীর বিভিন্ন
পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পরে অনুষ্ঠানে র্যাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে উপদেষ্টাকে
অবহিত করা হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে উপদেষ্টা র্যাবের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন
এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


নীলফামারীর
ডিমলা থানায় দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ করে ডিউটি অফিসারের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা ধসে
পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
পাশাপাশি একটি সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে।
শুক্রবার
১৪ আগস্ট রাত ১২টার দিকে ডিমলা থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ
সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে ডিউটি অফিসার হিসেবে থানার এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন ওই
কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই ছাদের একটি বড় অংশের পলেস্তারা ধসে সরাসরি
তার টেবিলের ওপর পড়ে। এতে তিনি কাঁধে আঘাত পেয়ে আহত হন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত
পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন জানান, তিনি যথারীতি ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব
পালন করছিলেন। হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়লে তিনি কাঁধে আঘাত পান। এছাড়া থানায় পুলিশি
কার্যক্রমে ব্যবহৃত সরকারি একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে।
এ
বিষয়ে ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে
পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন
এবং দ্রুত মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


দেশের
দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ১০ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩৩ জন আহত হয়েছেন
এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক শতাধিক ঘরবাড়ি।
রোববার
(৭ এপ্রিল) দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হওয়া ঘূর্ণিঝড়ে এ
তাণ্ডবলীলা ঘটে। ভোলার মনপুরা ও লালমোহন, পিরোজপুর, বাউফল, বাগেরহাট ও ঝালকাঠিতে এ
ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়।
পিরোজপুর:
পিরোজপুরে
সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঝড় শুরু হয়। এ ঝড়ে গাছচাপায় এক নারী ও ঝড়ে উড়ে গিয়ে এক বৃদ্ধের
মৃত্যু হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন।
জেলার
ওপর দিয়ে ১৫ মিনিট ঝড়ো গতিতে বাতাস বয়ে যায়। পুরো জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে
গেছে। শত শত গাছ উপরে পড়ে কয়েকশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পৌরসভার প্রায় সব সড়কের
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পিরোজপুর
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে পিরোজপুরের
সদর উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা
হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার রমজান আলী জানান, এ ঝড়ে ২ জন নিহত হয়েছেন। আহত ১২ থেকে
১৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভোলা:
ভোলার
মনপুরা ও লালমোহনে দুপুরের দিকে আকস্মিক ঝড় শুরু হয়। এতে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ও গাছপালা
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় নিজ ঘরে চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতেও একজন
মারা গেছেন।
মনপুরার
দুপুর ১২টা দিকে হওয় ঝড়ের তাণ্ডবে দাসের এলাকায় ছয় জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে
গেছে। যাত্রীদের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও ট্রলারটির খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ভোলার
জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে ৫০ হাজার
টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত তিন উপজেলায় ১৬ টন চাল তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাউফল:
বাউফলে
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া ৩৫ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে ২জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে
বাউফলে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ ঝড় হয়েছে। এতে তেতুলিয়া নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে
দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
বাউফল
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোণিত কুমার গাইন হতাহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে
বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধার ও অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
বাগেরহাট:
বাগেরহাটে
ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ ও বিলবোর্ড পড়ে ১ জন নিহত ও ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সকাল
৯টা ৪০ থেকে ১০ টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলা ঝড়ে অন্তত দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে।
এদিকে
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, কচুয়া উপজেলায় বজ্রপাতে এক ব্যক্তি
নিহত হয়েছেন। আকস্মিক ঝড়ে বেশকিছু ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়েছে।
ক্ষতিপূরণ নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝালকাঠি:
ঝালকাঠির
২ উপজেলায় ঝড়ের সময় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে ২ নারী ও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার শেখেরহাট, পোনাবালিয়া
ইউনিয়ন এবং কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
মন্তব্য করুন