

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে গঙ্গা নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন প্রশিক্ষক এবং অন্যজন প্রশিক্ষণার্থী পাইলট। দুর্ঘটনাটি ঘটে গঙ্গা ব্যারেজের কাছে নাথুপুরওয়া গ্রামের এলাকায়।
পুলিশ
ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি Garg Aviation-এর পরিচালিত একটি
Tecnam P2006T দুই-ইঞ্জিনের চার আসনের প্রশিক্ষণ বিমান। এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর
VT-NBV। বিমানটি কানপুরের Garg Aviation Training Centre থেকে স্থানীয় প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে
উড্ডয়ন করেছিল। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পর সেটি গঙ্গার কাছের
একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
নিহতদের
পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন গুজরাটের বাসিন্দা ও প্রশিক্ষক শচীন ভাটিয়া এবং
কর্ণাটকের প্রশিক্ষণার্থী পাইলট অভিষেক পূজারি। পুলিশ জানিয়েছে, শচীন ভাটিয়ার প্রায়
৩ হাজার ঘণ্টার উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছিল। দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে এই দুজন ছাড়া আর কেউ
ছিলেন না।
দুর্ঘটনার
খবর পাওয়ার পর পুলিশ, দমকল ও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাস্থলটি
নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে ধ্বংসাবশেষ ঘিরে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,
বিমানটি একটি মাঠে পড়ে যায় এবং আশপাশের জনবসতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী
ও ঘটনাস্থলের ছবি-ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর বিমানটির কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। ডানা ও বিমানের বিভিন্ন অংশ ভেঙে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ
সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল
বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া, পাইলটের সিদ্ধান্ত কিংবা
অন্য কোনো কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানো হয়েছিল কি না, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।
ভারতের
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ DGCA ঘটনাটি তদন্তের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে। একই সঙ্গে
সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা Aircraft Accident
Investigation Bureau (AAIB)-ও আনুষ্ঠানিক তদন্ত করবে। ফলে দুর্ঘটনার আগে বিমানের উড্ডয়ন
পরিস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য কারিগরি ত্রুটিসহ বিভিন্ন
বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
বিমানটি
Garg Aviation-এর প্রশিক্ষণ বহরের অংশ। DGCA-সংক্রান্ত নথিতে Garg Aviation-এর বহরে
Tecnam P2006T-এর পাশাপাশি Cessna 152, Cessna 172 ও অন্যান্য বিমান থাকার তথ্য পাওয়া
যায়। কোম্পানির নিজস্ব তথ্যেও তাদের বহরে একটি Tecnam P2006T থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনাটির
আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, একই VT-NBV বিমানটি চলতি বছরের জুনে কানপুরের চকেরি বিমানবন্দরে
একটি পৃথক ঘটনায় DGCA-এর নজরে এসেছিল। ২৬ জুন রাতে প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের পর বিমান থেকে
নামার সময় একজন নারী ক্যাডেট আহত হন। DGCA তখন ওই ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট
প্রশিক্ষককে ডিউটি থেকে সরিয়ে এবং বিমানটি গ্রাউন্ডেড করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে জুনের
ঘটনাটির সঙ্গে বৃহস্পতিবারের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে-এমন তথ্য
এখনো পাওয়া যায়নি।
Tecnam
P2006T একটি ইতালীয় নির্মিত হালকা দুই-ইঞ্জিনের বিমান, যা সাধারণ বিমান চলাচলের পাশাপাশি
পাইলট প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে মাল্টি-ইঞ্জিন উড্ডয়ন
শেখানোর কাজে এ ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়।
কানপুরের
পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে
জানানো হয়েছে এবং তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। তদন্তের মাধ্যমে বিমানটি কেন
নিয়ন্ত্রণ হারাল এবং দুর্ঘটনার আগে কোনো অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ
করা হবে।
এটি
কানপুরে Garg Aviation-এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয় বড় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত
ঘটনা। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা বলার মতো কোনো প্রমাণ এখনো
প্রকাশিত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে
পৌঁছানো ঠিক হবে না।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে সুফল পাওয়ায় ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০২৪’ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আর বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, প্রথম যখন আইনটি প্রণয়ন করা হয়, তখন একটির মেয়াদ ছিল দুই বছর। পরবর্তীতে কয়েক ধাপে সেটার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সেই মেয়াদ ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ আইনটি মন্ত্রিসভায় তুলেছিল। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধাপে ধাপে মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে স্থায়ী আইন হিসেবে নীতিগত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এটিকে আর নতুন করে মেয়াদ বাড়াতে হবে না।
আইনটিতে কোনো পরিবর্তন আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনটি পুরোনো। আগে যা ছিল, তা-ই থাকবে। কেবল মেয়াদ দুই বা তিন বছর না বাড়িয়ে স্থায়ী করা হয়েছে।
আগে ছিল দুই বছর পর পর মেয়াদ বাড়ানো হবে, তাহলে কেন স্থায়ী করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে মাহবুব হোসেন বলেন, জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এ আইনটির অনেক সুফল আছে, এ আইনটির কারণে এই ক্ষেত্রে তাদের তরফ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য খুব কাজে লেগেছে, এজন্য তারা আইনটি কন্টিনিউ করতে চাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন


করোনাভাইরাস
মহামারির সময় ভুয়া করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন ও নানা প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত রিজেন্ট
হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার
(২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির।
ওসি
জানান, সাহেদের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পল্লবী থানার
অনুরোধে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে পল্লবী থানায় হস্তান্তরের
প্রক্রিয়া চলছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান
তিনি।
২০২৪
সালের ৪ সেপ্টেম্বর, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের এক মাস পর জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি
পান সাহেদ। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অস্ত্র, মানি লন্ডারিংসহ
মোট ৩৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় পর্যায়ক্রমে জামিন পাওয়ার পর প্রায় চার বছর
কারাভোগ শেষে তিনি মুক্তি পান।
করোনা
মহামারির সময়, ২০২০ সালের ৭ জুলাই র্যাব উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে
ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট জব্দ করে। এ ঘটনায় সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা
পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এর
নয় দিন পর, ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পরে তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী
সময়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর
অস্ত্র আইনের এক মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত
সম্পদ অর্জনের মামলায় ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরও
আগে, ২০১০ সালে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় তার ছয় মাসের সাজা হয়েছিল।
সাহেদের
বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৩৫টি মামলার মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলাও
রয়েছে। ওই মামলায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে
তিনি ১১ কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
আজ রোববার (১৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই
প্রতিমন্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল
ইসলাম এ কথা জানান।
দেশের
ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড অ্যান্ড গ্রুপ’–এর
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা।
তাঁর
জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম আবু রায়হান। এতে আরও অংশ
নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), ডেপুটি
স্পিকার কায়সার কামাল, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগের অন্যান্য সদস্য।
জানাজা
শেষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মিজানুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান। এরপর একে একে জাতীয় সংসদের স্পিকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ অন্যরাও
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা শেষে মিজানুর রহমানের রুহের
মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
গত
শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক স্বাস্থ্য
প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
মিজানুর
রহমান সিনহা মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ সালের সপ্তম
ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন।
সংসদ
সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট
সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মিজানুর রহমান সিনহা।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সর্বশেষ
ঘোষিত মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে তাঁকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


ভিয়েতনামে
জবাইয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এমন ৪০০-এর বেশি বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেশটির
কর্তৃপক্ষ একটি কথিত বিড়াল চোর চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এই প্রাণীগুলো উদ্ধার
করেছে বলে জানিয়েছে একটি প্রাণীকল্যাণ সংস্থা।
হো
চি মিন সিটি পুলিশের সরকারি পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, বিড়াল চুরি ও সংগ্রহে বিশেষজ্ঞ
একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভিয়েতনামে
কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ। তবে বিক্রেতাদের প্রাণীগুলোর উৎস প্রমাণ করে এমন অনুমতিপত্র
থাকতে হয়।
স্থানীয়
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হো চি মিন সিটিতে পোষা প্রাণী চুরির একাধিক ঘটনার তদন্তের
পর ১১ জুন পুলিশ এই চক্রের সন্ধান পায়।
পুলিশ
জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে গত তিন বছর ধরে তারা দক্ষিণ
ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল ধরে সংগ্রহ করছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, চুরি করা
বিড়ালগুলো প্রথমে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হতো, পরে প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর ব্যবসায়ীদের
কাছে বিক্রি করা হতো।
প্রাণীকল্যাণ
সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিড়ালের মধ্যে প্রায়
৪০টি এরই মধ্যে তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি
প্রাণীগুলোর জীবন রক্ষায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দৃঢ় পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। তবে তারা
জানিয়েছে, নির্যাতন ও দুর্ভোগের কারণে উদ্ধার করা কিছু বিড়াল পরে মারা গেছে।
মামলার
তদন্ত চলমান থাকায় যেসব প্রাণী এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে, তাদের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করছে সংস্থাটি।
পুলিশ
জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যাদের পোষা প্রাণী চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ, তাদের উদ্ধার
হওয়া প্রাণীগুলো শনাক্ত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হিউম্যান
ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালসের তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনামে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কুকুর
এবং ১০ লাখ বিড়াল মাংসের জন্য ধরা, চুরি, পাচার ও জবাই করা হয়।
সংস্থাটি
বলছে, অনেক ক্ষেত্রে পোষা প্রাণী সরাসরি বাড়ি থেকে চুরি করা হয়। কুকুর ধরতে বিষমিশ্রিত
খাবার, টেজার ও লোহার চিমটা ব্যবহার করা হয়, আর বিড়াল ধরতে ব্যবহার করা হয় স্প্রিংযুক্ত
ফাঁদ।
যদিও
ভিয়েতনামে এখনো কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে, তবে প্রাণী অধিকারকর্মীরা
বলছেন, জনমত ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা
মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের
সাক্ষ্যগ্রহণ দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার
(২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মামলার বাদী ও ভিকটিমের
বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
পরে
পর্যায়ক্রমে ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর
রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয়
তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন এবং কনস্টেবল রোমা আক্তার আদালতে
সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন।
পরে
আদালত দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কার্যক্রম মূলতবি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী
পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, বাকি সাক্ষীরাও আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। সময় সংকুলান হলে আজই
সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতে পারে।
এর
আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে
এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। তাদেরকে ঢাকা
মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের আগে দুই আসামিকে এজলাসে
হাজির করা হয়।
সোমবার
আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বাদীসহ ১৭
সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
গত
২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেন। এর আগে একই
দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানার
উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলার
সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর শিশুটিকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে
নিয়ে যান আসামি স্বপ্না আক্তার। পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে আসামিদের
কক্ষের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ
করলে কক্ষের ভেতর শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে মাথা দেখতে পান তারা।
জাতীয়
জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা
হয়। এ ঘটনায় ২০ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন


অগ্নিকাণ্ডে
নিমিষেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাতটি বসতঘর ও মূল্যবান আসবাবপত্র আর কষ্টার্জিত নগদ টাকা।
তবে আশ্চর্যজনকভাবে ভস্মীভূত ছাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ অক্ষত রয়ে গেছে পবিত্র কোরআন শরীফের
প্রতিটি হরফ।
এই
ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ হবিরবাড়ী গ্রামের
খন্দকার পাড়া এলাকায়। সোমবার (১৮ মে) দুপুরের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার
ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোরআন শরীফের হরফ না পোড়ায় হতবাক হয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের মালিকানাধীন টিনশেড ঘর থেকে
হঠাৎ বিকট শব্দে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের
লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তবে ফায়ার সার্ভিস
পৌঁছানোর আগেই আগুন তীব্র আকার ধারণ করে আশরাফুল ইসলামের চারটি ঘর ও মিতু আক্তারের
তিনটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন
ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয়
কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও আগুনে আংশিক পুড়লেও পবিত্র কোরআন শরীফের ভেতরের হরফ বা
লেখাগুলো অক্ষত রয়ে গেছে, যা দেখে হতবাক হয়েছেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত
বাড়ির মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার বসতবাড়ির ৪টি ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার,
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমানে আমাদের মাথা গোঁজার
ঠাঁই বা এক মুঠো খাবারও অবশিষ্ট নেই। তবে এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আল্লাহর কালামের হরফগুলো
অক্ষত দেখে মনে এক অন্যরকম সান্ত্বনা পাচ্ছি।
অপর
বাসার মালিক মিতু আক্তারের মা জানান, হঠাৎ আগুন দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন, জীবনের
সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।
স্থানীয়
বাসিন্দা মাহফুজ খন্দকার বলেন, হঠাৎ লাগা এই আগুনে দুটি পরিবারের সবকিছু পুড়ে গেছে।
তারা এখন খোলা আকাশের নিচে একেবারে নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আগুনে সবকিছু শেষ
হলেও কোরআন শরীফের পাতাগুলোর এই অবস্থা সবাইকে বিস্মিত করেছে।
ভালুকা
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের
গাড়ি রওনা হয়েছিল। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে
নিয়ে আসে। ফলে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ফায়ার সার্ভিসের
পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক দমনপীড়ন ও গণহত্যা চালানোর ফলশ্রুতিতে সমগ্র দেশে দলমত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতা উত্তাল গণবিক্ষোভ করে এবং আন্দোলনের এক পর্যায়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরকার পতনের একদফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি বিগত ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠন বিষয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামত যাচনা করেন। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৮ আগস্ট তারিখে স্পেশাল রেফারেন্স নম্বর- ০১-২০২৪ দ্বারা মতামত প্রদান করেছে যে, ‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নিযুক্ত করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি উক্তরূপে নিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টাগণকে শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
এতে আরও বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডক্ট্রিন অব নেসেসিটি অনুসারে সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় সর্বস্তরের জনগণের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও পরম অভিপ্রায়ের প্রেক্ষিতে, গণ-অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের রাষ্ট্র সংস্কার আকাঙ্ক্ষা পূরণের ও রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা, পদত্যাগ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করা জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে অন্তবর্তী সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।
মন্তব্য করুন


গাইবান্ধার
গোবিন্দগঞ্জে সাবেক স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার
আসামি আল আমিনকে (২৪) ঢাকার আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন
(র্যাব)। গ্রেফতারকৃত আমিন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে।
সোমবার
দুপুরে র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার
গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে, গত ২৩ মে বিকেলে
ঢাকার আশুলিয়া থানার কাঠগড়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক
আল আমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিনি যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীর ওপর বিভিন্নভাবে
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। ভুক্তভোগীর পরিবার যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে
২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর আল আমিন একতরফাভাবে ভুক্তভোগীকে তালাক দেন।
বিচ্ছেদের
কিছুদিন পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে আল আমিন পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে
যোগাযোগ শুরু করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এর
ধারাবাহিকতায়, বিয়ের আশ্বাসে ভুক্তভোগীকে মামলার আরেক আসামি খালার বাসায় নিয়ে গিয়ে
তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ভুক্তভোগী বিয়ের
জন্য চাপ দিলে আল আমিন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় গত ৫ মে ভুক্তভোগী বাদী
হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে
আরও বলা হয়, ঘটনার পর গ্রেফতার এড়াতে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায়
র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৩ মে বিকেল সোয়া ৪টার
দিকে র্যাব-১৩ সিপিসি-৩ গাইবান্ধা এবং র্যাব-৪ সিপিসি-২ নবীনগরের (সাভার) যৌথ আভিযানিক
দল আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তী
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন
দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও
বিএনপি।
কিন্তু আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর পরিবর্তে এই জায়গায় সংস্কার আনতে নতুন দল গঠনের চিন্তাভাবনা করছেন তারা।
অতি সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্যই করেছেন ছাত্র আন্দোলনের চার শিক্ষার্থী।
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকেই শুরু হয় সরকারবিরোধী আন্দোলন। মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সরকারি আমলা ও মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি থেকে শুরু করে সব অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে ‘জেন জি’ হিসেবে পরিচিত তরুণেরা।
সরকারের পতন হয়, ক্ষমতায় আসে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা হন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্র আন্দোলনের দুজন সমন্বয়কও রয়েছেন।
এমন অবস্থায় দেশে সংস্কার আনতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে আলোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা। রয়টার্সকে এমনটাই বলেন মাহফুজ আলম নামের এক শিক্ষার্থী। সরকার এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রণি-পেশার মানুষের মধ্যে লিয়াজোঁ করতে গঠিত কমিটির প্রধানের দায়িত্বে আছেন তিনি।
আইন নিয়ে পড়াশোনা করা ২৬ বছর বয়সী মাহফুজ
আলম বলেন, এক মাসের মধ্যে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের
আগে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করতে চায় শিক্ষার্থীরা। এর আগে পরিকল্পনার ব্যাপারে
কোথাও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ নিয়ে সমন্বয়ক তাহমিদ চৌধুরী বলেন, তাদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এর মূল ভিত্তি হবে অসাম্প্রদায়িকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
তবে, অর্ন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুজন ছাত্র প্রতিনিধি এ ব্যাপারে খোলাশা করে কিছু বলেননি। এমনকি কোন পলিসি নিয়ে তাঁরা কাজ করতে চাইছেন, সেটাও জানাননি। তবে, নির্বাচন কমিশনে ব্যাপক সংস্কারের কথা বলছেন।
এ নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই আন্দোলনের স্পিরিট ছিল মূলত নতুন বাংলাদেশ গঠন করা, যেখানে কোনো ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচার আর থাকবে না। তা নিশ্চিত করতে গঠনগত সংস্কার দরকার। এতে কিছু সময় তো লাগবেই।’
দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে যে দাবি জানানো হচ্ছে, তা অন্তর্বর্তী সরকার আমলে নিচ্ছে না বলে রয়টার্সকে বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
এ ব্যাপারে সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা এখন অজানা নদীতে এসে পড়েছি। সেটা আইনগত ও রাজনৈতিকভাবেও। এই অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা কেমন হবে তাও বলা যাচ্ছে না। কেননা এই সরকার আইন মেনে হয়নি।’
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে
প্রায় ৩০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়াও রাজনৈতিক দলের নেতা
ও বিশ্লেষক রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


জর্ডানের
রাজধানী আম্মানের রাস্তায় ভিক্ষা করছিলেন এক নারী। তাকে আটক করে তল্লাশি চালালে তার কাছ থেকে ৪৬ হাজার
৬০০ ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৭ লাখেরও বেশি।
বুধবার
(১২ আগস্ট) দেশটির সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আরব নিউজের
জর্ডানের
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী আগে থেকেই ‘পেশাদার
ভিক্ষাবৃত্তির’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিদিন ভিক্ষা করে পাওয়া অর্থ তিনি
নিয়মিত বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করতেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তবে
ওই নারীর জাতীয়তা বা কতদিন ধরে তিনি এভাবে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন, তা জানায়নি মন্ত্রণালয়। আটকের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিচারিক কর্তৃপক্ষের
কাছে পাঠানো হয়েছে।
এই
ঘটনার পর জর্ডানের সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে রাস্তায় ভিক্ষুকদের সরাসরি
টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়
সতর্ক করে বলেছে, কিছু ভিক্ষুক অসুস্থ বা চরম আর্থিক সংকটে থাকার মিথ্যা দাবি করে মানুষের
কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।
প্রয়োজনে
অসহায় মানুষকে সহায়তা করতে চাইলে অনুমোদিত ও নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে অর্থ
দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ
ছাড়া সন্দেহজনক ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা কর্তৃপক্ষকে জানাতেও জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো
হয়েছে। দেশজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে পরিদর্শন দলগুলো নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বলেও
জানিয়েছে সমাজ মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন