

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে আটক এনামুল হককে সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় বোয়াইলভীর এলাকায় স্থানীয়রা তাকে ধরে পুলিশকে খবর দিলে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
আটক এনামুল হক ওই এলাকার মৃত আবদার আলীর ছেলে। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এনামুল ‘জ্বীনের বাদশা’ সেজে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী রোববার তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে প্রতারণা ও আত্মসাতের অভিযোগে (দণ্ডবিধি ৪০৬/৪২০ ধারা) মামলার পর এনামুলকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ফুলবাড়ী থানার ওসি শওকত আলী সরকার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে একট পিতলের মূর্তি সহ এনামুলকে আটক করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
মন্তব্য করুন


নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখ নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর
সদস্যদেরকে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২৫
উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তোরণে
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। একটি নির্বিঘ্ন
ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে
দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের
সকল শহীদ, যুদ্ধাহত এবং অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করেন এবং ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট
মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সকল শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের জনগণের প্রতিও
শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম ১৯৭১ সালে
রণক্ষেত্রে। সেসময় ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সাথে নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি
বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিল বলে ২১ নভেম্বরকে মুক্তিযুদ্ধের একটি মাইলফলক হিসেবে গৌরবের
সাথে পালন করা হয়। তবে মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সংগ্রামের সূচনা ঘটে ২৫শে মার্চের
রাত থেকেই। আমরা যদি বিজয় অর্জন না করতাম তাহলে এই বীর সেনাদের মৃত্যুদন্ড ছিল অনিবার্য,
অসহনীয় হয়ে যেত তাঁদের পরিবারের সকল সদস্যের জীবন।
ড. ইউনূস আরও বলেন, মুক্তিকামী সেনা, নৌ ও বিমান
বাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীরা জীবনের পরোয়া না করে, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা
না করে এদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারাই এদেশের আপামর জনসাধারণকে সাহস
জুগিয়েছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জল-স্থল ও আকাশপথে সম্মিলিতভাবে
প্রতিরোধ গড়ে তুলে দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এনেছেন। যুদ্ধ বেগবান
ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তখন বাংলাদেশ ফোর্সেস গঠন করা হয়েছিল। যার অধীনে ১১টি সেক্টরে
দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গেরিলা প্রশিক্ষণ
দেওয়া হয়।
এরই চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখি ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে। পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে
এই যৌথ অভিযানই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চুড়ান্ত বিজয়
এনে দিয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র
বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ড. ইউনূস বলেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে এবং
২০২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও চলমান দেশ পুনর্গঠনের কাজে সশস্ত্র বাহিনী মানুষের
পাশে দাঁড়িয়ে আস্থার প্রতিদান দিয়েছে। তিনি গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক নেতৃত্বের প্রতি
অনুগত থেকে বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে
বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, একটি শান্তি প্রিয় জাতি হিসেবে আমরা সকল
বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে সম্মানজনক সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তথাপি, যেকোন আগ্রাসী বহিঃশত্রুর
আক্রমন থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদেরকে সদা প্রস্তুত এবং সংকল্পবদ্ধ থাকতে
হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং উন্নত
বিশে¡র সাথে তাল মিলিয়ে বাহিনীগুলোতে যুগোপযোগী প্রযুক্তি সংযোজনের প্রয়াস অব্যাহত
রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বিগত ৩৭ বছরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ৪৩ টি দেশে ৬৩ টি মিশন সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে অংশগ্রহণকারী রয়েছে। তিনি বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সাফল্যের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে বিশ্বের চ্যালেঞ্জিং ও বিপদজনক অঞ্চল সমূহে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে সেজন্য তাদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রাপ্তির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
(সূত্র- বাসস)
মন্তব্য করুন


নরসিংদীতে
আলোচিত (১৫) বছর বয়সী কিশোরী আমেনা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য
দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন সৎপিতা আশরাফ আলী। আজ শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে পুলিশ
সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুলাহ আল-ফারুক।
এর
আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নরসিংদীর মাধবদী থেকে সন্দেহের তালিকায় থাকা সৎ পিতা আশরাফ
আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের সৎ
মেয়েকে একাই গলাটিপে হত্যা এবং ধর্ষক নূর মোহাম্মদ নূরাসহ অন্যান্যদের ফাঁসানোর চেষ্টায়
মিথ্যা নাটকের কথা জানায়।
এসময়
পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক আরো জানায়, ১০ ফেব্রুয়ারী নূর মোহাম্মদ নূরাসহ একাধিক
আসামী আমেনাকে গণধর্ষণ করে। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাবেক মেম্বারের বিচার কার্যসহ
নানা কারণেই সৎ মেয়ের উপর ক্ষিপ্ত হওয়ার কথা জানায় আশরাফ আলী।
পরবর্তীতে
মেয়েকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলে অপমান থেকে মুক্তি পাবার আশায় মেয়েটিকে পরিকল্পিতভাবে
জনৈক সুমনের বাড়িতে রেখে আসার কথা বলে একটি সরিষা ক্ষেতের ধারে পৌছে একাই গলায় চেপে
ধরে ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মেয়েটিকে। এসময় নিজেকে বাঁচাতে পরিকল্পনার
অংশ হিসেবে নূরাসহ অন্যান্যদের উপর দায় চাপানোর মিথ্যা নাটক সাজায়।
গত
২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মাধবদীর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো
অবস্থায় আলোচিত কিশোরী আমেনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহত আমেনার মা
ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে নূরাকে প্রধান করে ৯জনের নামে মামলা দায়ের করেন। আলোচিত এই ঘটনায়
মোট ৮ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পহেলা মার্চ ৭ আসামীকে ৮ দিনেন রিমান্ড মঞ্জুর
করে আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে
বাবার উপর নজরদারি করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর মেলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করতে যমুনায় গেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির একটি প্রতিনিধিদল।
দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন
পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৈঠকে আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে
জানা গেছে।
এর আগে, রবিবার
রাতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, সোমবার তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করবেন।সেখানে
নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের নানা বিষয় তারা তুলে ধরবেন।
এর আগে গতকাল
রবিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা সারা দেশে
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে পক্ষপাতের অভিযোগ করেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকা
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আজ শুরু হয়েছে। ত্রিশতম এই মেলার উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চায়না
ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা
বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম সংস্করণ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে
একটি মাইলফলক। এই বাণিজ্য মেলা নিছক পণ্যের প্রদর্শনী নয়, এটি বাংলাদেশের নতুন নতুন
উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের প্রদর্শনী।
শেখ
বশিরউদ্দীন আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রপ্তানি
পণ্যের উন্নয়ন, বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও বাজার সংযোগ, অর্থনৈতিক
কূটনীতি জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উন্নয়নে
ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
বাণিজ্য
উপদেষ্টা বলেন, মেলা আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী এবং বহিঃবিশ্বেও
দেশ সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এছাড়াও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দীর্ঘদিন
ধরে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে যা পণ্যের উৎপাদককে ভোক্তার সঙ্গে, উদ্যোক্তাকে
বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করে চলেছে। তিনি আরও
বলেন, এই মেলা বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে
এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে আধুনিক প্রযুক্তি-চালিত পণ্য উৎপাদন ও বহুমুখকীকরণে
আমাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে থাকে।
শেখ
বশিরউদ্দীন বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের অগ্রগতি
বজায় রাখার লক্ষ্যে পণ্য উন্নয়ন, বৈচিত্রায়ন ও নতুন নতুন বাজার অন্বেষণের উপযুক্ত কৌশল
হিসেবে গত ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভেন্যুতেই একই আয়োজক সংস্থার উদ্যোগে ১ম বারের
মত ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’— শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক সোর্সিং
ফেয়ার এর আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে
দেশি-বিদেশি পর্যটক, দর্শনার্থী ও আমদানিকারকদের নিকট দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার
বিশেষ পরিচিতির পথ সুগম হয়েছে। বছরে এক বা একাধিকবার এ ধরণের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে
উল্লেখ করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
উপদেষ্টা
বলেন,বাণিজ্য মেলায় উদ্যোক্তাগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্তারা তাদের
পণ্য ও সেবার গুণগত মান, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের
ভাবমূর্তি তুলে ধরেন। ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বাজার চাহিদা বিশ্লেষণ, দরকষাকষি
ও অর্ডার গ্রহণের মাধ্যমে তারা বাস্তব বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেন।
উদ্যোক্তাগণ
এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন বাজার সম্পর্কে ধারণা লাভ, আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তির
সঙ্গে পরিচিতি এবং পণ্য উন্নয়নের সুযোগ পাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,
উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাণিজ্য মেলাকে সফল করে তুলবে এবং দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে
গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বাণিজ্য
উপদেষ্টা বলেন, দেশের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে সরকার নানামুখী কর্মসূচি
বাস্তবায়ন করে চলেছে। এরমধ্যে রপ্তানিতে অবদান ও সম্ভাবনার বিষয় বিবেচনাক্রমে বিভিন্ন
পণ্য খাতকে যথাক্রমে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত’ ও ‘বিশেষ অগ্রাধিকার খাত’
হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রপ্তানি প্রসার ও প্রণোদনামূলক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে
প্রতি বছর একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ বা ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’
হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘোষিত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনে উৎসাহিতকরণে
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এবার ‘পেপার এন্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’কে
২০২৬ সালের ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করছি।’
অনুষ্ঠানে
স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ
এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও
এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।
উল্লেখ্য,
ইতোপূর্বে ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের জাতীয়
শোক ঘোষণা করে সরকার। এতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন
করে ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি করা হয়। এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক
ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের
মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন
ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট ও দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ
সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।মেলায়
প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে
বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।
দেশীয়
পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বিপণনের পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য
নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ৩০ বছর
ধরে নিয়মিতভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি
এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে যদি আমরা পেছনে রাখি, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে তাদেরকে যদি ক্ষমতায়িত
করতে না পারি, তাহলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’
আজ
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীতে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘ফ্যামিলি
কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে
প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে সারা দেশের ১৪টি স্থানে একযোগে
এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ
মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সাবেক
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, এর আগে দেশনেত্রী
বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন সমগ্র বাংলাদেশে তিনি নারীদের
স্কুল পর্যায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিনামূল্যে করার
ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে
চাই, অর্থনৈতিকভাবে তাদের সচ্ছল করতে চাই।
সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে কীভাবে নারীর
ক্ষমতায়ন আমরা করব, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করে তুলব। তারই অংশ হিসেবে আজকে এই ফ্যামিলি
কার্ড আমরা সমগ্র বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে ইন্ট্রোডিউস (পরিচিত) করলাম।
তারেক
রহমান বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে ১৪টি জায়গায় বা ১৪টি উপজেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে
এই মুহূর্তে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশগ্রহণ করছে। আমাদের এই কড়াইল এলাকা, ভাষানটেক এলাকা
এবং সাততলা এই তিন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই কার্ডের সুবিধার আওতায় আজকে নিয়ে
আসা হয়েছে।
সরকারের
পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে
বাংলাদেশে যে চার কোটি পরিবার রয়েছে, সেই চার কোটি পরিবারে যারা নারী প্রধান তাদের
কাছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকলের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে
সক্ষম হবে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল। এ উদ্যোগকে তিনি তাঁর সরকার
ও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক একটি দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি
আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত একটি
গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, একটি স্মরণীয় দিন এবং একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান।’
দায়িত্বশীল
সরকারের ভূমিকা পালন করার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একটি
দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চাই, যে সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে, যে সরকার
কাজ করবে দেশের জন্য।’
তিনি
বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চাই এবং তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের দল বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের পূর্বে আমরা বাংলাদেশের মানুষ ও নারী সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি
দিয়েছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব।
আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বিগত নির্বাচনে সরকার গঠন করার এক মাসেরও
কম সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ আমরা শুরু করেছি।’
তিনি
জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’
চালুর কাজও শুরু হয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যে অনেক কৃষকের হাতে সেই কার্ড তুলে দেওয়া
সম্ভব হবে।
এ
ছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ
করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষক ভাইদের কাছে প্রতিশ্রুতি
দিয়েছিলাম, যাদের কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে, সুদসহ সেই ঋণ আমরা মওকুফ করব।
গত সপ্তাহে সেই ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।’
ফ্যামিলি
কার্ড কর্মসূচি চালুর দিনটি তাঁর জন্য ব্যক্তিগতভাবে আবেগঘন বলেও উল্লেখ করেন তারেক
রহমান। তিনি বলেন, ‘এই ফ্যামিলি কার্ডটি ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য অত্যন্ত আবেগঘন। কারণ
অনেক বছর ধরে আমরা পরিকল্পনা করেছি, সুযোগ পেলে এটি বাস্তবায়ন করব। আল্লাহর রহমতে আজকে
আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছি।’
মধ্যপ্রাচ্যের
অস্থিরতাসহ সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের
মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক, সেটি আমরা বুঝতে পারি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি
গুলো দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির
কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সবাইকে
ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।’
বক্তব্যের
শেষে তিনি তাঁর নির্বাচনী স্লোগান মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রত্যেকটি নির্বাচনী জনসভায়
একটি কথা আমার বক্তব্যের শেষে আমি তুলে ধরতাম। সেই কথাটি ছোট্ট একটি স্লোগানের মাধ্যমে
আপনাদের সকলের কমবেশি জানা আছে, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্লোগানটি পৌঁছে গেছে।
আজকে সেই স্লোগানটি দিয়েই আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই, সেই স্লোগানটি ছিল: করব কাজ,
গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ! সবার আগে বাংলাদেশ!
রাজধানীর
বনানীতে টিঅ্যান্ডটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
যোগ দিতে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছান। তবে, মঞ্চে ওঠার আগেই
তিনি সোজা চলে যান মাঠে অপেক্ষমাণ নারীদের কাছে।
এ
সময় প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নারীরা। নানা স্লোগান দেন তারা। দেশের
প্রধানমন্ত্রীকে এতো কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের জন্য নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংগঠনের সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এই তথ্য কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় সহকারী অফিস সম্পাদক আবু জাফর শাহীন।সভাপতি হওয়ার আগে সাদ্দাম ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার জন্ম ও বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলায়।শিক্ষাজীবনে তিনি খুলনার দারুল কোরআন সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করেন। এরপর তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পেশাদার স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা ধোয়া বাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা ও নগদ টাকা ফেলে পালিয়েছে দুই ভাই। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে আদর্শ সদর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন সেনাবাহিনী সদর ক্যাম্প।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দক্ষিণ চর্থা মিয়া বাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
এসময় এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নজির মিয়া ও তার ভাই কাসেম সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তারা স্থানীয় শফিক মিয়ার ছেলে। পালানোর সময় নজির তার কাছে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ অর্থ ছাদ থেকে ফেলে দেয়।
পরে সেনা সদস্যরা সেখান থেকে ১ হাজার ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২৩ হাজার ৩৯০ টাকা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর ক্লা হয়েছে।
স্থানীয় জনসাধারণ জানিয়েছেন, aসেনাবাহিনার এ ধরনের অভিযান এলাকায় মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত পলাতক পালিয়ে যায়। তারা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। তাদের কারনে এলাকার যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
মন্তব্য করুন


হাসপাতালের সাদা অ্যাপ্রন গায়ে, গলায় ঝোলা স্টেথোস্কোপ—দেখলে সাধারণ চিকিৎসকের মতোই মনে হয় তাঁকে। কিন্তু তাঁর চলাফেরা, চোখেমুখের উত্তেজনা এবং রোগীদের প্রতি আলাদা দায়িত্ববোধ তাঁকে বাকিদের থেকে খানিকটা আলাদা করে দেয়। গুজরাতের ভাবনগর জেলায় স্যার টি জেনারেল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে নতুন রোগী আনা মাত্রই ছোট্ট শরীরে দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে গেলেন তিনি। স্ট্রেচারের পাশে দাঁড়িয়ে নিজে দেখার বদলে দুই ইন্টার্ন ডাক্তারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে দিলেন, তারপর ধীরগতিতে নিজের চেম্বারের দিকে রওনা হলেন।এই সময় রোগীর স্বজনদের মধ্যে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। কারণ সবার চোখে একই বিস্ময়—ডাক্তারটির উচ্চতা স্ট্রেচারের উচ্চতার চেয়েও কম! কিন্তু তাঁদের বিস্ময় বা সংশয়কে গুরুত্ব দেওয়ার ফুরসত না নিয়েই তিনি নিজের কাজে ফিরে যান। তিনি গণেশ বরইয়া—মাত্র ২৫ বছর বয়সী, উচ্চতা তিন ফুট, তবু নামের পাশে গর্বের সঙ্গে লেখা ‘এমবিবিএস’। জন্মগতভাবে শারীরিকভাবে ৭২ শতাংশ অক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। নিরক্ষর কৃষক বাবার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন তিনি পূরণ করেছেন নিজের অধ্যবসায় ও মনোবলের জোরে।ভাবনগরের গোরখি গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম গণেশের। বাবা-মায়ের অষ্টম সন্তান এবং পরিবারের প্রথম ছেলে হওয়ায় জন্মের পর থেকেই তাকে ঘিরে নানা আশা ছিল। কিন্তু জন্ম থেকেই তিনি বামনত্বে (dwarfism) ভুগছিলেন; গ্রোথ হরমোনের ঘাটতিতে হাঁটাচলাতেও ছিল সমস্যা। রোগ ধরা পড়ার পর অনেকে মনে করেছিলেন—গণেশের ভবিষ্যৎ হয়তো খুব সীমিত। তবু পরিবার তাঁকে কখনো ছাড়েনি, ভালোবাসায় আচ্ছন্ন রেখেছিল সবসময়।শৈশবের এক ভয়ংকর ঘটনাও আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে। যখন তাঁর বয়স মাত্র ১০, কয়েকজন সার্কাসকর্মী এসে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে তাঁকে কিনে নিতে চেয়েছিল। যুক্তি ছিল—গণেশের ভবিষ্যৎ সার্কাসেই সীমাবদ্ধ, অন্য কোথাও তার জায়গা নেই। কিন্তু তাঁর বাবা দৃঢ়ভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। ছেলে যেন পৃথিবীর আলো ছায়ায় নিজের পথ তৈরি করতে পারে—এই বিশ্বাসেই তিনি সার্কাসদলকে তাড়িয়ে দেন। এরপর গণেশকে আরও বেশি আগলে রাখেন পরিবার। দিদিরা কোলে করে স্কুলে নিয়ে যেত, বাবা মাঝে মাঝে কাঁধে বসিয়ে পথ চলতেন। ছোট বয়সেই গণেশ বুঝে যায়—অক্ষমতা তার জীবনের অংশ হলেও তা তাকে থামাতে পারবে না। উচ্চতা না বাড়লেও তাকে ‘বড়’ হতেই হবে।তিনি নিজেই বলেন, “জীবনের পথে এগোতে অনেকের সহায়তা আমার প্রয়োজন ছিল, তা ছোটবেলাতেই বুঝেছিলাম। অনেকেই আমাকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের স্নেহ ও সাহায্য ছাড়া আমি এতটা দূর আসতে পারতাম না।”
আজ গণেশ বরইয়া সেই প্রমাণ যে শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, মানুষের মনোবলই নির্ধারণ করে তার সাফল্যের পথ। তাঁর তিন ফুট শরীর হলেও স্বপ্নের বিস্তার আকাশছোঁয়া।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ,
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রথম ধাপে ৪১৮ প্লাটুন
বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ মে) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা
মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল
ইসলাম জানান, বুধবার (৮ মে) অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ১ম ধাপে স্থানীয় বেসামরিক
প্রশাসনকে সহায়তায় দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। ‘ইন এইড টু দ্য পাওয়ার’ এর আওতায় ৬ মে
থেকে ১০ মে পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে
তারা।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন যত দেরি হবে, ষড়যন্ত্র তত
বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, সাবেক স্বৈরাচার দেশি-বিদেশি
প্রভুদের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করেই চলেছে।
বিএনপির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সম্মেলন-২০২৪
এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি।
আজ শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গার
স্থানীয় টাউন ফুটবল ময়দানে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল
ইসলাম আলমগীর।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির
এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুধুমাত্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের
মাধ্যমেই সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্ভব বলে এ সময় মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যে সংস্কারের
কথা বলছে সেই সংস্কার বিএনপিও চায়। বেশি সংস্কার করতে গিয়ে নির্বাচন করতে দেরি হলে
ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ নিতে পারে।
একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে
বিদ্যমান সমস্যা সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
চুয়াডাঙ্গায় জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক
কাউন্সিলের আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। সেখানে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক
নির্বাচন করা হয়। রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখার ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি বিষয়ক বিভাগীয়
প্রশিক্ষণ কর্মশালার ও আয়োজন করা হয়।
মন্তব্য করুন