

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বড়ভিটার চর এলাকায় ইলেকট্রিক শক মেশিন দিয়ে মাছ ধরার সময় দুটি ইলেকট্রিক মেশিনসহ ৬জন জেলেকে আটক করেছে নৌবন্দর থানা পুলিশ।
আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে আটককৃত জেলেদের চিলমারী মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে নৌবন্দর থানা পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিলমারী নৌবন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক ইমতিয়াজ কবির।
আটককৃতরা হলো, চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়ারী এলাকার শ্রী শ্রী মিলন চন্দ্র দাশ (৪১),নয়ন চন্দ্র দাশ (৩২), একই ইউনিয়নের ফকিরেরভিটা এলাকার মিলন মিয়া (৩৫) ওই ইউনিয়নের শিমুলতলি বাধ এলাকার আবু বকর সিদ্দিক (২৪) ফকিরেরভিটা এলাকার সাদ্দাম (৩০) সহ ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বড়ভিটা জেলে পাড়া এলাকার শ্রী চন্দন কুমার বিশ্বাস (৩২)।
এর আগে রোববার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ পরিদর্শক ইমতিয়াজ কবিরের নেতৃত্বে নৌবন্দর থানা পুলিশের একটি টিম উপজেলার বড়ভিটার চর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে অভিযান চালিয়ে ইলেকট্রিক শক মেশিন দিয়ে মাছ ধরার সময় ছয়জন জেলেকে আটক করে। এসময় মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত দুইটি মেশিনও জব্দ করা হয়।
চিলমারী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব জানান, আটককৃত ছয় জেলের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলা সম্পন্ন হলে আসামিদের কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কিস্তি
নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজাকে হত্যার অভিযোগে উঠেছে চাচার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
আজ বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে উপজেলার
দুর্গাপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণচক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাইনুদ্দিন সরকার (৪৫) ব্রাহ্মণচক
গ্রামের রুহুল আমিন সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। ঘাতক চাচার
নাম ফারুক সরকার (৫২)। তার স্ত্রী মাফিয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব উত্তর থানার ওসি মো. রবিউল হক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাইনুদ্দিন
সরকারের স্ত্রী মানছুরা বেগমের মাধ্যমে ফারুক সরকার নামের এক ব্যক্তি একটি বেসরকারি
এনজিও ব্যুরো বাংলাদেশ থেকে কিস্তিতে ঋণ নিয়েছিলেন; কিন্তু তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ
করছিলেন না। এ নিয়ে বুধবার সকালে ব্রাহ্মণচক সড়কে ভাতিজা মাইনুদ্দিন তার চাচা ফারুক
সরকারকে কিস্তি শোধের কথা বললে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা
ফারুক সরকার কিল-ঘুসি মারলে মাইনুদ্দিন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে মতলব উত্তর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাইনুদ্দিনের স্ত্রী মানছুরা বেগম
জানান, ফারুক ও তার স্ত্রী মাফিয়া বেগমের সঙ্গে কিস্তির টাকা নিয়ে কয়েকদিন ধরে ঝামেলা
চলছিল। ফারুক আমাদের বই দিয়ে কিস্তির টাকা উত্তোলন করেন। কিস্তির লোকজন টাকার জন্য
আমাদের চাপ দেয়। আজ রাস্তায় ফারুকের সঙ্গে দেখা হলে আমার স্বামী কিস্তির টাকা চাইলে
তার ওপর আক্রমণ চালায় ফারুক। পরে আমার স্বামী মারা যান। এখন আমি ছয় সন্তান নিয়ে কোথায়
যাব। আমি হত্যাকারীর বিচার চাই।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানা ওসি মো. রবিউল
হক বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড
সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ফারুক সরকারকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান
চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী মাফিয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের
জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার
কোতয়ালী মডেল থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকা থেকে পাসপোর্ট দালাল চক্রের মূলহোতা মোঃ সাব্বির
হোসেন সহ ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২। এ সময় পাসপোর্ট,
পাসপোর্ট ডেলিভারী স্লীপ, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১১, সিপিসি-২
এর একটি আভিযানিক দল সোমবার (২২ জানুয়ারী) সকালে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন
নোয়াপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পাসপোর্ট দালাল চক্রের মূলহোতা সহ সর্বমোট
১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে। পাসপোর্ট দালাল চক্রের আসামীদেরকে কাছ থেকে ৪ টি
পাসপোর্ট, ৮৭ সেট ডেলিভারি স্লীপ, ১২ টি মোবাইল সেট ও নগদ ১২,৬০০ টাকা সহ পাসপোর্ট
সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীগণ হলোঃ-
১। মোঃ সাব্বির
হোসেন (২৪), পিতা-মোঃ নজরুল ইসলাম, সাং-হাড়াতলী, থানা-সদর দক্ষিণ মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
২। মোঃ সাফি মাহমুদ
(২৮), পিতা-মৃত মঈন উদ্দিন, সাং-নোয়াপাড়া, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
৩। মোঃ সুজন
(৪২), পিতা-মৃত ইদ্রিস মিয়া, সাং-ছোটরা, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
৪। তানজিদ হাসান
(৩০), পিতা-তোফাজ্জল হোসেন, সাং-শিকারপুর, থানা-বুড়িচং, জেলা-কুমিল্লা।
৫। মোঃ জয়নাল
আবেদীন (৫৩), পিতা-মৃত সুলতান মিয়া, সাং-নোয়াপাড়া, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
৬। মোঃ ইমরুল
হক (৩২), পিতা-মোঃ মঞ্জুরুল হক, সাং-মোনসেফ বাড়ী, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
৭। মোঃ আলী (২৭),
পিতা-সুলতান আহমেদ, সাং-মোহনপুর, থানা-চান্দিনা, জেলা-কুমিল্লা।
৮। মোঃ শাহাদাত
হোসেন প্রিন্স (২৮), পিতা-মোঃ দেলোয়ার হোসেন রোমান, সাং-নতুন চৌধুরী পাড়া, থানা-কোতয়ালী
মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
৯। মোশারফ হোসেন
সাকিব (২০), পিতা-মৃত আব্দুল মতিন, সাং-শাসনগাছা, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
১০। মোঃ রনি
(২৩), পিতা-মোঃ রুক মিয়া, সাং-শংকরপুর, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
১১। ফয়সাল আহমেদ
ইমন (২১), পিতা-বিল্লাল হোসেন, সাং-রাজাপুর, থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
১২। জহির আহম্মেদ
(২৬), পিতা-খোরশেদ আলম, সাং-দক্ষিণ ধনপুর, থানা-লালমাই, জেলা-কুমিল্লা।
১৩। পারভেজ (২২),
পিতা-আবুল হোসেন, সাং-বরহাতুয়া, থানা-বরুড়া, জেলা-কুমিল্লা।
১৪। সিয়ামুল ইসলাম
সৈকত (২০), পিতা-আলাউদ্দিন, সাং-মানিকারচর, থানা-মেঘনা, জেলা-কুমিল্লা।
র্যাব জানান,
তারা দীর্ঘদিন যাবৎ পাসপোর্ট তৈরী করে দেওয়ার নাম করে ভুক্তভোগী লোকজনের নিকট থেকে
সরকার নির্ধারিত রেট এর অধিক বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল বলে স্বীকার করে।
মূলতঃ তারা ৩টি গ্রুপে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে, যার একটি গ্রুপ সাধারণ মানুষকে সহজভাবে
পাসপোর্ট তৈরী করার নাম করে বিভিন্ন এজেন্টের নিকট নিয়ে আসে। এই এজেন্টের গ্রুপ ভুক্তভোগীদের
অনলাইন আবেদন ও ব্যাংক ড্রাফট করে দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুতসময়ে পাসপোর্ট দিবে বলে ডেলিভারী
স্লীপ নিজেদের নিকট রেখে দেয়। অপর গ্রুপ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে পাসপোর্ট ডেলিভারী
করার নির্দিষ্ট তারিখ নিধারণ করে। এভাবেই তাদের কাছে টাকা জমা দিলে তারা বিভিন্নভাবে
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জালিয়াতি মাধ্যমে প্রস্তুত করে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে পাসপোর্ট
অফিস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করে আসছিল।
উক্ত
বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সর্বমোট ৪১,১৯,২৬০ টাকা (একচল্লিশ লক্ষ ঊনিশ হাজার দুইশত ষাট টাকা) মূল্যমানের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করেছে।
বিজিবি জানায়, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে আজ ২৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে (২৪ ঘণ্টায়) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিবের বাজার বিওপি এবং আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপি–এর আওতাধীন কটকবাজার পোস্ট এবং গোলাবাড়ী পোস্টের বিশেষ টহলদল সীমান্ত এলাকায় পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়।
অভিযানকালে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নোয়াপাড়া চাঁনপুর ব্রিজ এবং বিষ্ণুপুর এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় শাড়ি, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানায়, আটককৃত পণ্যের সর্বমোট মূল্য ৪১ লাখ ১৯ হাজার ২৬০ টাকা। জব্দ করা সব মালামাল বিধি মোতাবেক পরবর্তী সময়ে কাস্টমসে জমা করা হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকায় কুমিল্লা
ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৮৬ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের অবৈধ
ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২ জুন ২০২৫ তারিখ রাত
আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিবেরবাজার বিওপির অধীনে একটি বিশেষ
টহলদল সীমান্ত সংলগ্ন সোনাপুর এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালায়।
অভিযানে সীমান্ত শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত
স্থানটি থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় একটি ইজিবাইকসহ মোট ২৭৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা
হয়।
উদ্ধারকৃত মোবাইলগুলোর মধ্যে ১৮১টি নতুন এবং
৯৩টি পুরাতন মোবাইল ফোন রয়েছে। এসব মোবাইল ফোনের বাজারমূল্য আনুমানিক ৮৬,৫৯,২৭৪
(ছিয়াশি লক্ষ ঊনষাট হাজার দুইশত চুয়াত্তর) টাকা।
বিজিবি জানান,
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) জানান, জব্দকৃত মোবাইল ফোনসমূহ যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


লালমনিরহাট জেলার আদিতমারীতে ছাত্রীকে
প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে ছাত্রীর মাকে নিয়ে আলামিন নামে এক গৃহশিক্ষক পালিয়েছেন
বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত চার দিন থেকে তাদের খোঁজ পাচ্ছেন
না পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই নারীর স্বামী অমল ভুইমালি।
শনিবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় আদিতমারী
থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উন নবী অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত
করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) উপজেলার
পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক আলামিন উপজেলার পলাশী
ইউনিয়নের মদনপুর সবজি বাজার এলাকার ওসমান আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অমল ভুইমালির
দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুকন্যা অপর্না রায় অনুরাধাকে প্রাইভেট পড়াতেন আলামিন।
একপর্যায়ে অমল ভুইমালির স্ত্রী কাকলি রানীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই
শিক্ষক। বিষয়টি টের পেয়ে অমল ভুইমালি সপ্তাহ দুই আগে ওই শিক্ষককে তার মেয়েকে পড়াতে
নিষেধ করে দেন। পরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কাকলি রানীকে নিয়ে পালিয়ে যান গৃহশিক্ষক
আলামিন।
অমল ভুইমালি জানান, আমার স্ত্রীকে নিয়ে
গৃহশিক্ষক আলামিন পালিয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমি গরিব মানুষ। পুলিশ চার দিনেও
আমাকে কোনো সহযোগিতা করল না। শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে আছি।
আদিতমারী থানার ওসি মাহমুদ উন নবী জানান,
এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ওই গৃহশিক্ষককে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সিলিংয়ের রড কেটে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দোকানে থাকা ১৩১ ভরি রুপা ও মোবাইল চুরি করে নিয়ে যায়।
এ চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকানের মালিক কার্ত্তিক কুমার পাল বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে চোরাইকৃত মালামালসহ পেশাদার এক চোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. শিমুল হোসেন (২৬)। তিনি জেলার কালুখালী উপজেলার পাতুরিয়া গ্রামের মো. লাল চাঁদের ছেলে।
জানা গেছে, বালিয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রিত্তিকা জুয়েলার্সে গত ১৩ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১৪ অক্টোবর বেলা ১১টার যে কোনো সময়ে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা দোকানের উপরের চালের টিন ও টিনের নিচে সিলিংয়ের রড কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। সেসময় ২০ জোড়া পায়ের নূপুর, ১৫টি গলার চেন, ২০টি ব্রেসলেট, ১০ জোড়া হাতের বেবি চুড়ি, ৫ জোড়া হাতের বড় চুড়ি, ৮টি হাতের বাজু, ১৬টি আংটিসহ সর্বমোট ১৩১ ভরি রুপা ও একটি টেকনো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলসহ আনুমানিক ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরদের আসামি করে দোকানের মালিক কার্ত্তিক কুমার পাল বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর বালিয়াকান্দি থানার একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এক চোরকে শনিবার ভোর ৬টার দিকে ঢাকার সাভার থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামির দেখানো মতে কালুখালী থানার সাওরাইল ইউনিয়নের পাতুরিয়া বিলের মধ্যে আসামির মাছের ঘেরের ভেতর থাকা ছোট্ট টঙ ঘরের খাটের নিচে প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে রাখা মোবাইলসহ ১০৩ ভরি রুপা উদ্ধার করা হয়। বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)“ জামাল উদ্দিন” জানান , গ্রেপ্তারকৃত শিমুল একজন পেশাদার চোর। তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক প্রবাসীর পরিবারে হামলা চালিয়ে প্রবাসীর মা ফিরোজা
বেগমসহ কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার ধুড়িয়ারা গ্রামে
এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার
(২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের হলরুমে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন অভিযোগ
করেন মির্জা জয়নাল আবদীন হিরণ ও ঘটনার খবর পেয়ে দেশে আসা তার দুই ভাই আবদুল্লাহ মাহবুব
ও রফিকুল ইসলাম।
ভুক্তভোগীরা
অভিযোগ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী বাড়ির আজিজুর রহমান লিটনসহ পরিবারের লোকজনের সাথে প্রবাসীর
পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে তারা গত ২৮ জানুয়ারি প্রবাসীর পরিবারের
উপর হামলা চালায় এবং প্রবাসীর মাকে কোদাল দিয়ে চোখের উপরিভাগে গুরুতর আঘাত করে রক্তাক্ত
জখম করে। এদিন প্রবাসীর আহত মা ফিরোজা বেগমকে প্রথমে নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রতিপক্ষের
হামলা ও হুমকিতে প্রবাসীর পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে তারা জানান। প্রবাসী
আবদুল্লাহ মাহবুব জানান, হামলাকারীরা তার মাকে হত্যার চেষ্টা করলেও তারা এখন ঘটনাটি
ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে অপপ্রচার চালিয়ে হয়রানী
করছে।
নাঙ্গলকোট
থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী জানান, দুইপক্ষের মারামারির
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা–০৬ (সদর, সদর দক্ষিণ, সিটি কর্পোরেশন ও সেনানিবাস) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে টানা নয়দিন ধরে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীতে বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন বলে আয়োজকরা দাবি করেন।
সন্ধ্যায় টাউন হল মাঠ থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়। এরপর মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূবালী চত্বরে এসে সমাবেশ করে। পুরো সমাবেশ ও মিছিলজুড়ে নেতাকর্মীরা শ্লোগান দিতে থাকেন— “কুমিল্লা–৬ জনতার দাবি, ইয়াছিন ভাইয়ের মনোনয়ন এবার চাই”, “ত্যাগীর মর্যাদা দিতে হবে, ইয়াছিন ভাইকে মনোনয়ন দিতে হবে”,
"১৭ বছর যাকে পাই নেতা মোদের ইয়াছিন ভাই", "জেল জুলুম জামিনে যাকে পাই নেতা মোদের ইয়াছিন ভাই", "এই কুমিল্লার মাটি ইয়াছিন ভাইয়ের ঘাটি","এক দুই তিন চার মনির চৌধুরী, কুমিল্লা ছাড়", "উড়ে এসে নমিনেশন, মানি না মানবো না"।
মিছিলের একাধিক অংশে দেখা যায়, নেতাকর্মীরা হাতে মশাল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে ইয়াছিনকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
সমর্থকরা জানান, গত ৩ নভেম্বর রাতে মহাসড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরদিন ৪ নভেম্বর নগরীর কান্দিরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় মশাল মিছিল বের করা হয়। ৫ নভেম্বর নারী সমর্থকদের উদ্যোগে নারীদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
৬ নভেম্বর নফল রোজা রেখে সমর্থকেরা সন্ধ্যায় গণ–ইফতারের আয়োজন করেন। ৭ নভেম্বর জুমার নামাজের পর নগরীর বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ৮ নভেম্বর কান্দিরপাড় পূর্বালী চত্বরে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে মনোনয়ন দাবিতে চাপ বাড়ানো হয়।
৯ নভেম্বর কারা–নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে হাজী ইয়াছিনের পক্ষে মানবিক ও রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর ১০ নভেম্বর স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা ইয়াছিনকে “সৎ, ত্যাগী ও এলাকার উন্নয়ন–বান্ধব নেতা” হিসেবে তুলে ধরে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।
টানা কর্মসূচির নবম দিনে অনুষ্ঠিত হলো মঙ্গলবারের মশাল মিছিল। নেতাকর্মীদের দাবি, কুমিল্লা–৬ আসনে ত্যাগী, গ্রহণযোগ্য এবং শ্রমীচেতন রাজনীতিক হিসেবে হাজী ইয়াছিনই হচ্ছেন এলাকার মানুষের পছন্দের প্রার্থী।
নেতাকর্মীরা আরও জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা পুলিশ লাইনে ছাত্র জনতার উপর হামলার ঘটনায় মনির হোসেন নামে আওয়ামী লীগের সক্রিয় এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
সোমবার রাতে কৃষ্ণপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি মনির হোসেন (৪৫) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে। মঙ্গলবার বিকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মহিনুল ইসলাম জানান, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান কুমিল্লা নগরীর পুলিশ লাইনে ছাত্র জনতার উপর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ২৬১জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০০/১৫০ জন লোকের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। আদর্শ সদর উপজেলার চাঁনপুর এলাকার বাসিন্দা ইনজামুল হক রানা বাদী হয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলার এজহার নামীয় আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে ছাত্র জনতার উপর হামলাকারীদের একজন মনির হোসেন। মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার এড়াতে সে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে তাকে আদালতে নেয়া হলে বিজ্ঞ বিচারক কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৩৫ লাখ টাকা লুটের মূলহোতা সোলাইমানকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে রাজধানীর তুরাগের দলিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনদ বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানায়, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তোফায়েল আহম্মেদ (৫৫) নামে এক ব্যক্তি গাড়ি ও জমি বিক্রির নগদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে ঢাকার টিকাটুলি থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এশিয়া এয়ারকন পরিবহনের বাসটি দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর এলাকায় পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস বাসটির গতিরোধ করে।
পরে ২-৩ জন ব্যক্তি ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে বাসে উঠে তোফায়েলকে হাতকড়া পরায় এবং জোর করে নামিয়ে আনে। এক পর্যায়ে তারা তার টাকা ভর্তি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানায়, ঘটনার পরদিন দাউদকান্দি থানায় একটি মামলা রুজু হয়।
এ মামলায় এর আগেই র্যাব-৩ রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে ইমরান হোসেন শাওন (২৯) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোলাইমানের নাম উঠে আসে।
গ্রেপ্তার সোলাইমান মাদারীপুরের কালকিনি থানার সাহেব রামপুর গ্রামের কালাম ব্যাপারীর ছেলে। তিনি ঘটনার সময় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটির চালক ছিলেন।
র্যাব-৩ এর এই কর্মকর্তা জানান, সোলাইমানকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দস্যুতার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
মন্তব্য করুন