

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এবারের গণভোটে জনগণ রায় দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রত্যেকটা ভোটের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একই সাথে সংবিধান সংশোধন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বুধবার রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জ-এরডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও রংপুরের পুলিশ কমিশনার মোঃ মজিদ আলী।
রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় সাংবাদিকগণ ও সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করেন।
অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, বিদ্যমান সংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে সর্বময় ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নির্বাহী প্রধান, একই সাথে সংসদ নেতা এবং রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্বও প্রধানমন্ত্রীর হাতেই থাকে। তিনি বলেন, ক্ষমতা এক কেন্দ্রিক করার কারণেই ক্ষমতাসীনরা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার সুযোগ পায়। আলী রীয়াজ বলেন, এ কারণেই জুলাই সনদে এক ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সংসদীয় কমিটিগুলোতে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা হয়েছে।
গণভোটে সরকারের তরফে প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণভোটের মার্কা টিক চিহ্ন উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনের দিন গোলাপী রঙের ব্যালটে টিক চিহ্নের ওপর সিল দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসিত বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
যারা জুলাই সনদের পক্ষে নয় তারা ফ্যাসিস্টের পক্ষে উল্লেখ করে বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার বিগত ১৬ বছর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই এক দানবীয় ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। বিদ্যমান সংবিধানের গুরুতর ত্রুটির কারণেই আমরা বার বার তাদের হাতে জিম্মি হয়েছি। তাই যারা ফ্যাসিবাদকে আবারো ফিরিয়ে আনতে চায় তারাই জুলাই সনদ ও গণভোটকে ব্যর্থ করে দিতে চায়, তিনি বলেন।
মনির হায়দার বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে জনগনকে সচেতন করতে ও সঠিক তথ্য জানাতে কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।
ধর্ম সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে নি। ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বার বার প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছে, মর্যাদা হারিয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা সুশাসনের পক্ষে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই শাসন বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশকে একটি কল্যানরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে র্যাব-১১। আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ শহরের গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করেছেন তারা।
র্যাব সূত্রে জানা গিয়েছে, অপরাধ দমনসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে দেশ ও জনগনের স্বার্থে আইনশৃংখা রক্ষায় কুমিল্লা র্যাব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই উপলক্ষে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা শহরের আশেপাশের এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। মহাসড়কে যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য র্যাব সদস্যরা গভীর রাত পর্যন্ত টহল পরিচালনা করবে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ শহরের গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশী করবে। তাছাড়াও জনগনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনবহুল এলাকাও গুরুত্বপূর্ন সরকারি বেসরকারি স্থাপনায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধে র্যাবের টহল টিমের পাশাপাশি সাদা পোষাকের গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাবের কোম্পানী অধিনায়ক ও উপ পরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, র্যাব দেশের মানুষের শান্তিশৃংখলা রক্ষায় বরাবরই দায়িত্ব পালন করে আসছে। দেশের যে কোন পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃংখলা রক্ষায় প্রস্তুত। অতীতেও র্যাব চাঞ্চল্যকর অপরাধী, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা মামলার আসামী, ধর্ষণ মামলার আসামী, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার, প্রতারণা মামলার আসামী গ্রেফতারসহ আইনের আওতায় এনে সুনাম অর্জন করেছে।
মন্তব্য করুন


দেশের গণমাধ্যম এখন নজিরবিহীন স্বাধীনতা
ভোগ করছে বলে মন্তব্য করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্যের বন্যা বয়ে গেছে।
আজ বুধবার (২৯ জানুয়ারি) অর্থনীতি পুনর্গঠন,
সম্পদপাচার, ভুল তথ্য মোকাবেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের
প্রচেষ্টা নিয়ে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের নেতারা সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধান উপদেষ্টা
এসব কথা বলেন।
ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান
অ্যালেক্স সোরোস এবং সভাপতি বিনাইফার নওরোজির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে।
বৈঠকে অ্যালেক্স সোরোস ইতিহাসের একটি
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক করা ও অর্থনীতি
পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় ড. ইউনূসের প্রশংসা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থান দেশের জন্য একটি নতুন গতিপথ নির্ধারণের জন্য
বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। তারা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, ভিকটিমদের জন্য অন্তর্বর্তী
ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সংস্কার, গণমাধ্যম, চুরি যাওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার, নতুন সাইবার
নিরাপত্তা আইন, কিভাবে তাদের উন্নতি করা যায় এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।
অ্যালেক্স সোরোস বলেন, আমরা এসব ক্ষেত্রে
আপনার প্রচেষ্টা সমর্থন করার উপায় খুঁজব।
প্রধান উপদেষ্টা ওপেন ফাউন্ডেশনকে তাদের
সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি নজিরবিহীন ছাত্র-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের
খবর ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ডাভোস সফরে গিয়ে
আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি তা হলো, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কে অনেকেই জানে না।
অনেক অপপ্রচার হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা শেখ হাসিনার ১৬ বছরের
শাসনামলে পাচার হওয়া প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করার জন্য ফাউন্ডেশনের
প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন,
অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ‘বিধ্বস্ত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত’ অর্থনীতি পেয়েছে
এবং তিনি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ফাউন্ডেশনের সমর্থন কামনা করেন।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে
সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ফাউন্ডেশন। এই পদক্ষেপকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূস স্বাগত জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


কলা
সকলেরই প্রিয় ফল। স্ট্যামিনা বাড়াতে কলা খেয়ে থাকেন অনেকেই। এটি সব মৌসুমেই পাওয়া যায়।
কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন, কলা কেন সোজা না হয়ে বাঁকা হয়? পৃথিবীতে প্রায় সব প্রজাতির
কলাই বাঁকা। কিন্তু কেন এমন? এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন মজার মজার তত্ত্ব থাকলেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক
কারণ। চলুন জেনে নিই কলা সোজা হয় না কেন।
কলা
গাছে যখন মোচা ধরে অর্থাৎ ফুল আসে তখন মোচার পাপড়ির নীচে সারি সারি ছোট কলা গজাতে
থাকে। প্রতিটি পাতার নীচে একগুচ্ছ করে কলা থাকে। প্রথমে কলা মাটির দিকে চলে যায়। কয়েকদিন
পরে কলাগুলো বড় হওয়ার সময় ধীরে-ধীরে বাঁকতে থাকে। এই কারণকে বিজ্ঞানের ভাষায় ঋণাত্মক
জিওট্রপিজম বলা হয়।
কোনও
ফল যখন সূর্যের দিকে বেড়ে ওঠে তখন তাকে ঋণাত্মক জিওট্রপিজম বলা হয়। গাছের ফলের বৃদ্ধি
ফটোট্রপিজম, গ্র্যাভিটিজম ও অক্সিনের ওপর নির্ভর করে। সে হিসেবে অন্যান্য ফলের মতো
কলার পাতা ও ফল মহাকর্ষ বলের জন্য নিচের দিকে ঝুলে থাকে। কিন্তু কলা বড় হওয়ার সঙ্গে
সঙ্গে সূর্যের আলোর দিকে বাড়তে শুরু করে। এই দুই বলের দ্বন্দ্বে কলা ক্রমেই বিশেষ
বাঁকা আকার ধারণ করে।
কলাগাছ
ট্রপিকাল রেইনফরেস্ট গাছ হওয়ায়, এটিকে অনেক গাছের মাঝখানে ও নীচে থাকতে হয়। সেজন্য
সূর্যের আলো কলা গাছে পৌঁছতে পারে না। তাই কলা জন্মানোর জন্য গাছগুলো সেই পরিবেশে মানিয়ে
নেয়।
তবে,
বর্তমানে অনেক খোলা জায়গায় কলা গাছ হয়। আর তাই কলা গাছ রোদ পায়। যেহেতু কলা গাছ রোদ
কম পায় তাই সূর্যের আলো পাওয়ার জন্য কলার কুড়ি থেকে ফল মধ্যাকর্ষের দিকে বৃদ্ধি পায়।
প্রথমে মাটির দিকে, তারপর আকাশের দিকে বাড়তে থাকায় কলার আকার বাঁকা হয়ে যায়।
পৃথিবীতে
এক হাজারেরও বেশি প্রজাতির কলা রয়েছে। রং, আকৃতি বিশেষে অনেক ধরনের কলা পাওয়া যায়।
তবে সেই সব কলার মধ্যে বেশিরভাগ কলাই বাঁকা। তবে সোজা কলা পাওয়া যায় না এ ধারণা একেবারেই
ভুল। এমন অনেক প্রজাতির কলা আছে, যেগুলি সূর্যের দিকে বাড়ে না। অর্থাৎ ওদের বৃদ্ধির
ক্ষেত্রে ঋণাত্মক জিওট্রপিজমের কোনও ভূমিকা নেই।
মন্তব্য করুন


পতিত
ফ্যাসিবাদের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব
পালনকারী ব্যক্তিদের কেউ আসন্ন নির্বাচনে যথাসম্ভব দায়িত্ব প্রদান করা থেকে বিরত রাখার
সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ
রোববার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা
সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট
জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী৷
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, আজকের সভায় মূলতঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ
ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আগামী
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ
ইউনূসকে অবহিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ
রোববার ( ০৭ ডিসেম্বর ) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কমিশনারগণ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে
সাক্ষাৎ করে নির্বাচন আয়োজনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।
বৈঠকে
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত
ছিলেন।
জাতীয়
নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন
মিয়াও বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে সিইসি নাসির উদ্দিন জানান, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সব
ধরনের প্রস্তুতি সঠিক ও সুন্দরভাবে এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন
ও একই দিনে গণভোট আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রস্তুতিকালে ইসিকে পূর্ণ
সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন
কমিশনাররা।
নির্বাচনের
প্রস্তুতিকালে সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও
প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান।
তিনি
বলেন, ইতোমধ্যে নাগরিকরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন, যা দেশে নির্বাচনী
আমেজ সৃষ্টি করেছে।
এ
সময় নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সুষ্ঠু
ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে
সরকার।’
তিনি
বলেন, ‘জাতির জন্য প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে আপনারা (ইসি) চালকের আসনে আছেন। আমাদেরকে
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হবে।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতিকে আমরা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যয়ে
এগিয়ে চলছি।
মন্তব্য করুন


সোনারগাঁয়ে বাসে তল্লাশি: এক হাজার ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সোনারগাঁ থানাধীন আষারিয়ারচর এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী শাহজাদপুর ট্রাভেলসের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারী হলেন—কল্পনা আক্তার (২৩) ও মরিয়ম আক্তার ফারজানা (৩৩)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাসটির সি-৩ ও সি-৪ নম্বর আসনে বসা দুই যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাদের দেহ তল্লাশি করে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বৃহস্পতিবারই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রতিভার
কোনো বয়স নেই—এ কথার বাস্তব প্রমাণ দিচ্ছেন বিহারের ১৪ বছর বয়সী কিশোর
ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। ব্যাট হাতে মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার
দেশের সর্বোচ্চ শিশু সম্মানেও ভূষিত হলেন তিনি।
আজ
শুক্রবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারতের শিশুদের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বাল পুরস্কার’ গ্রহণ করেন বৈভব। রাষ্ট্রপতি ভবনে
আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
পুরস্কার
গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে বৈভবের। দেশের
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতেই এই বিশেষ সাক্ষাৎ আয়োজন করা হয়েছে।
তবে
এই সম্মান গ্রহণ করতে গিয়ে একটি ত্যাগও স্বীকার করতে হচ্ছে কিশোর এই ক্রিকেটারকে। পুরস্কার
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি চলমান বিজয় হাজারে ট্রফির বাকি ম্যাচগুলোতে খেলতে
পারছেন না।
সম্প্রতি
দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই আলোচনায় উঠে আসেন বৈভব সূর্যবংশী। অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে
বিহারের প্রথম ম্যাচে মাত্র ৮৪ বলে ১৯০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। এই অসাধারণ ব্যাটিংয়ে
ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড গড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কাড়েন বৈভব।
উল্লেখ্য,
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বাল পুরস্কার ভারতের ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ
বেসামরিক সম্মান। সাহসিকতা, ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজসেবা,
উদ্ভাবন ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য প্রতিবছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


মাগুরায় বাংলাদেশ
টেলিভিশনের মহাপরিচালক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান
জোহার মালিকানাধীন মাগুরার বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা।
গত শুক্রবার
রাত সাড়ে ১০টার পর শহরের জেলা জজ আদালতের সামনে অবস্থিত ‘জোহা ভবনে’ এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী
প্রতিবেশী তরুণ কুমার জানান, রাত ১১ টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বোতলে পেট্রোল ভরে এনে
ভবনের পেছনের দিকে প্রবেশ করে। তারা মূল ফটক ও জানালার অংশে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত
পালিয়ে যায়। আগুন দেখে প্রতিবেশীরা এসে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার ব্যাপারে
তানভীর হাসান জোহা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা
বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার
দাবি জানাচ্ছি। জজ আদালতের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের হামলার পর স্থানীয়দের মধ্যে
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ব্যাপারে
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত
সংগ্রহ করেছে। এই নাশকতার পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং
জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে ধ্বংস করা হয়েছে শতবর্ষী ২টি পুকুর ও ২২ একর প্রাকৃতিক জলাশয়। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও পলাতক, হত্যা মামলার আসামী আবু জাহের রাতের আঁধারে গোমতী নদীর মাটি কেটে এই জলাধার ও পুকুর ভরাট করেন—যা পরিবেশ আইন ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
আইনের অপমান
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, খাল, নদী কিংবা প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু কারাগারের অভ্যন্তরের পুকুরসহ ২২ একর জলাশয় বুলডোজারের নিচে চাপা পড়েছে নিরব প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে।
ঐতিহাসিক জলাধার, আজ শুধু স্মৃতি
ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬৭ একর জমির মধ্যে দুটি পুকুর ও একটি ২২ একরের বিশাল জলাশয় রয়েছে। একসময় এ জলাশয়ে হাজারো অতিথি পাখির সমাগম হতো। পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছিল। এসব পুকুরে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দও গোসল করেছিলেন—স্মৃতি হিসেবে সেই ছবিও সংরক্ষিত আছে।
কিন্তু এখন সেই পুকুরগুলোর দুটি সম্পূর্ণভাবে ভরাট, অপরটি আংশিকভাবে ভরাটের প্রক্রিয়ায়। আর বিশাল জলাশয়টি রাতারাতি মাটি ফেলে সমতল করা হয়েছে।সেখানে গড়ে উঠেছে দশতলা চারটি ভবন।
ক্ষমতার ছত্রছায়ায় কাজ
সূত্র মতে, কারাগারের এই উন্নয়ন কাজটি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে সাবেক এমপি আবু জাহের ও তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জলাধার ভরাটের ঠিকাদার ছিলেন আবু জাহের নিজেই। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থাৎ কোটি কোটি টাকার কাজ তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে দখলে রেখেছেন।অধিকাংশ কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর নির্লিপ্ত?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মুসাব্বির হোসেন মোহাম্মদ রাজিব জানান, “আমরা কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ পর্যন্ত গিয়েছে। কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত আছে, তবে তারা আমাদের অনুমতি না নিয়েই জলাশয় ভরাট করেছে।”
গণপূর্ত বিভাগ দায় এড়ালো
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ৬১০ কোটি টাকার প্রকল্পটি তাদের তত্ত্বাবধানে হলেও জলাধার ভরাটের বিষয়ে তিনি বলেন,খতিয়ান নাল জমি উল্লেখ আছে। “পুকুর ভরাটের জায়গার কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে, তবে কারা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।”
কর্তৃপক্ষের নীরবতা
সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষী জানান, তিনি ব্যস্ত। পরে তাঁর সরকারি নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। একইভাবে জেলার আব্দুল্লাহ আল-আমিনের নম্বরেও যোগাযোগ করা হলে সাড়া মেলেনি।
এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষার দাবিতে পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে
শপথ নিয়েছেন আরও চারজন। তাঁরা হলেন ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আলী ইমাম মজুমদার, ড. মুহাম্মদ
ফাওজুল কবির খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টার
দিকে বঙ্গভবনে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় আরও
উপস্থিত ছিলেন, কয়েকজন উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, তিন বাহিনীর প্রধান,
বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের
আকার প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন