

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ায় ছাত্রীর বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগম (৫৫)নামে এক গৃহ শিক্ষিকার
বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার
(১৯ মে) সকালে জাতীয় জরুরিসেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ
সময় তার মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন এবং কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের
পুলিশ সুপার (এসপি) গৌতম কুমার বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত মরিয়ম স্থানীয়ভাবে গৃহশিক্ষিকা
হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সোমবার (১৮ মে) দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
মরিয়ম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। এসপি গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, সোমবার সকালে মরিয়ম
বেগম চৌকাপাড়ার মো. রুবেল ও সুমি খাতুনের বাড়িতে যান তাদের দুই সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতে।
এরপর
আর বাড়ি ফিরে আসেননি। রাতেই মরিয়মের এক সন্তান সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি)
করেন। মঙ্গলবার সকালে জরুরিসেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ রুবেল ও সুমি দম্পতির বাড়ি থেকে
মরিয়মের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে।
তিনি
আরও জানান, ৯৯৯-এ কল করেছিলেন রুবেল নিজেই। তবে লাশটি সেখানে পাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের
জন্য রুবেল ও সুমিকে আটক করেছে পুলিশ।। তবে তাদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা
করা হচ্ছে, স্বর্ণের কানের দুলের জন্য মরিয়মকে হত্যা করা হয়েছে। রুবেল ও সুমির দেওয়া
তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একজন স্বর্ণকারের কাছ থেকে মরিয়মের স্বর্ণের দুটি দুল উদ্ধার
করেছে। গতকাল ওই স্বর্ণকারের কাছে দুল দুটি বিক্রি করেছিলেন সুমি। পুলিশ ওই স্বর্ণকারকেও
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মরিয়মের
ছেলে মারুফ হোসেন বনি বলেন, সোমবার রাতেও মাকে খুঁজে না পেয়ে রুবেলের বাড়ি গিয়েছিলাম।
কিন্তু সে সময় তারা জানান যে প্রাইভেট পড়ানো শেষে তার মা চলে গেছেন।
মন্তব্য করুন


লক্ষ্মীপুরের
রায়পুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় হানিফ মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধের
মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে উপজেলার চরপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত
হানিফ মিয়া চরপাতা এলাকার বাসিন্দা।
নিহতের
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি জমিতে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী বারেকের
সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি
হয়। একপর্যায়ে বারেক হানিফ মিয়াকে কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর
অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে
তার মৃত্যু হয়।
রায়পুর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে
গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নিহতের পরিবারকে
থানায় অভিযোগ বা মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে বাংলাদেশে উদ্ভুত বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তার লক্ষ্যে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহায়তা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে আরো বলা হয়, জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. হারুন-অর-রশিদ সেলের দৈনন্দিন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন।
‘দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা
সহায়তা সমন্বয় সেল’-এ জরুরি যোগাযোগের জন্য ০২-৪৭১১৮৭০০, ০২- ৪৭১১৮৭০১, ০২-৪৭১১৮৭০২, ০২-৪৭১১৮৭০৩, ০২-৪৭১১৮৭০৪ ও ০২-৪৭১১৮৭০৫ এবং ০১৩১৭৭৪৯৯৮০ ও ০১৮২০১১৭৭৪৪ নম্বরে ফোন করা যাবে।
সমন্বয় সেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সার্বক্ষণিক
যোগাযোগ রক্ষাসহ প্রাপ্ত তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন এবং সার্বক্ষণিক ফলোআপ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে
উল্লেখ করা হয় ।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে জাপানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত কিমিনোরি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জাপান সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক— এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।
কিমিনোরি বলেন, ‘আমরা এই তিনটি স্তম্ভের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’
তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রমে টোকিওর ‘দৃঢ় সমর্থনের’ কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান রাখায় জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই সম্পর্ক সবসময় খুব শক্তিশালী ছিল।’
সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি আমাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে জাপানি কোন কোম্পানিও চলে যায়নি। তারা এখানে থাকতে আগ্রহী।’
তিনি নিক্কেইয়ের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এবং তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাতে পারবেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার পদক্ষেপের প্রশংসা করে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, টোকিও এই বৈঠককে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।
অধ্যাপক ইউনূস মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের গ্যারান্টিযুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা তৈরির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে সংঘাত শেষ হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে তাদের বাড়িতে ফেরার পূর্বে সাময়িকভাবে পুনর্বাসিত করা যেতে পারে।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রায় ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জেরে এ দীর্ঘসময় সেবা বন্ধ ছিলো ।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় তাই হাসপাতালে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় হাসপাতালে ২ প্লাটুন বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের সঙ্গে দুইজন প্রবেশ করতে পারবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন ও দর্শনার্থীদের তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। লাঠি, ধারালো অস্ত্র বা জীবনহানি হয় এমন কোনো জিনিস নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
রাতে ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকরা হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা দেওয়া শুরু করেছেন। হাসপাতালে আসা রোগীরা টিকিট কেটে জরুরি বিভাগে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারছেন।
জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, শর্ত সাপেক্ষে আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে সেবা দেওয়া শুরু করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে এবং মূল দাবি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকদের মারপিট করা দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি আমাদের নিরাপত্তায় হাসপাতালে সেনাবাহিনী এবং বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। আশা করব, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে।
প্রসঙ্গত
যে, গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি
অব বিজনেস টেকনোলজির (বিইউবিটি) শিক্ষার্থী আহসানুল হক দীপ্তর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের তিন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা
ঘটে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন চিকিৎসকরা।
এরই জেরে আজ দিনভর জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন ঢামেকের চিকিৎসকরা।
মন্তব্য করুন


জামালপুরের
বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড
দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই
মামলার আরও এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সোমবার
(৬ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক
মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), মো. বিজু মিয়া (৩৬), মো. বাদশা
মিয়া (৩৫), মো. জুয়েল মিয়া (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), জসিম ও আছমত।
অন্যদিকে,
আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস
দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে
আসামিরা বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া এলাকায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে
নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানায় নারী
ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।
মামলায়
৯ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত
ও অন্যান্য উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ
সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড
দিয়েছেন।
অন্যদিকে,
আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
হামের উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় মাস বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) ভোরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মিয়া মঞ্জুর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শিশু রাব্বি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার গুড়গাঁও এলাকার কাউসার আহমেদের ছেলে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ৯ মে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
এ নিয়ে কুমিল্লায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মঞ্জুর আহমেদ জানান, বর্তমানে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটে ৬৯ জন শিশুরোগী ভর্তি রয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫০০। এর মধ্যে ১০০ জন নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত বলে দপ্তরটি জানিয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ১০৭৮ জন হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৩৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৪৫ জন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আ ফ ম খালিদ হোসেন। আঠারো মাসে বিদেশে
চিকিৎসার জন্য তিনি সরকারি কোষাগার থেকে বিল নিয়েছেন ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা। মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগের সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আগামীর সময়।
হেফাজতে
ইসলামের সাবেক নায়েবে আমির চিকিৎসা নিয়েছেন থাইল্যান্ডে। হৃদরোগ খালিদ হোসেনের। জাতীয়
হৃদরোগ ইনস্টিটিউট বলেছিল হার্টে যে সমস্যা, তার চিকিৎসা দেশে নেই। বাংলাদেশে এসংক্রান্ত
অপারেশনের ঝুঁকি রয়েছে। তারা থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন, এমনটাই দাবি
খালিদ হোসেনের। খালিদ হোসেন সরকারের অনুমোদন নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত বছরের শেষদিকে
এবং চলতি বছরের প্রথমদিকে তিনি থাইল্যান্ডে যান।
অপারেশন
করান। প্রথমবার সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসকও। পরের দফায় মেয়ে ও তার স্বামী। খালিদ হোসেন জানালেন,
তার এখনো সমস্যা হয়। কিন্তু খরচ বেশি বলে যেতে পারছেন না।
প্রতিবছর
লাখ লাখ বাংলাদেশি চিকিৎসা করাতে বিভিন্ন দেশে যান। মেডিক্যাল ট্যুরিজমের আওতায় ভারতে
যান ১৫ থেকে ১৭ লাখ বাংলাদেশি। যদিও এ পরিসংখ্যান ২০২৪ সালের আগের। তারপর পরিস্থিতি
পাল্টালেও চিকিৎসার জন্য দেশটিতে যেতে চান রোগীরা। ভারতের পরই থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুর
যান চিকিৎসা নিতে। সেই সংখ্যাটাও কম নয়।
ওপরের
পরিসংখ্যান দিয়ে খালিদ হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অতীতের সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যর্থ কি না। উত্তরে অকপট খালিদ হোসেন, ‘নিশ্চয়ই ব্যর্থতা
রয়েছে। আমরা কেন এত বছরেও একটি ভালো হাসপাতাল করতে পারলাম না। আমরা মাউন্ট এলিজাবেথ
হাসপাতালের মতো হাসপাতাল করতে পারিনি। ব্যাংকে হাজার কোটি টাকা লুট হয়, পাচার হয়। দেশে
চিকিৎসা থাকলে এত খরচ হতো না। চিকিৎসা বাবদ আমার নিজেরও অনেক টাকা খরচ হয়েছে। দেশে
চিকিৎসা থাকলে কেউ যাবে? এটা প্রমোদ ভ্রমণ নয়।’
ড.
মুহাম্মদ ইউনূসের ক্যাবিনেটে আপনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। উপদেষ্টা পর্ষদের বৈঠকে
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি কেন? এ প্রশ্নের উত্তরও প্রস্তুত ছিল, উপদেষ্টা
বা মন্ত্রীরা ইচ্ছা করলেই অনেক কিছু করতে পারেন না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। ইচ্ছা
থাকলেই এখানে কিছু করা যায় না।
বিদেশে
চিকিৎসার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল নিয়েছেন সাবেক অর্থ
উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশে চিকিৎসা
খরচের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়।
মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগের সূত্র মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের মাত্র ১৮ মাসে বিদেশে চিকিৎসা খরচের
ব্যয় হিসেবে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা।
তাদের
মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিয়েছেন ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা; সাবেক
সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিয়েছেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা; সাবেক
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান নিয়েছেন ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা; সাবেক ভূমি উপদেষ্টা
হাসান আরিফ নিয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ২১৬ টাকা; সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম
নিয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা এবং সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার নিয়েছেন
১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা।
এদিকে
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান
বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার ব্যক্তি অসুস্থ হলে সরকার
তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করে। জরুরি প্রয়োজন হলে বিদেশেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে
পারে। তবে এটি কোনো মাসিক বা বার্ষিক চিকিৎসা ভাতা নয়।
চিকিৎসা
ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, ‘অসুস্থতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় বিল-ভাউচার দাখিলের শর্তে সরকার চিকিৎসা
ব্যয় পরিশোধ করে। যদি এমন হয়ে থাকে যে অর্থ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো বিল-ভাউচার জমা
দেওয়া হয়নি। তাহলে যিনিই অর্থ গ্রহণ করে থাকুন না কেন, তা নিয়মবহির্ভূত। একই সঙ্গে
যারা এ অর্থ অনুমোদন ও ছাড় করেছেন, তারাও অনিয়মের দায় এড়াতে পারেন না।’
‘বিষয়টির সুনির্দিষ্ট তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায় নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কী প্রক্রিয়ায়
অর্থ ছাড় করা হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।’—যোগ করেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামানের
ভাষ্য, ‘বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকার কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চিকিৎসা ব্যয়ের
ক্ষেত্রেও একইভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত। বিল-ভাউচার ছাড়া কিভাবে অর্থ
ছাড় করা হলো, তা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’
মন্তব্য করুন


হবিগঞ্জের
মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি
সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২ জন আহত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলার
দক্ষিণ বেজুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা
হলেন, সিএনজি চালক উপজেলার বেঙ্গাডোবা এলাকার বাবু মিয়ার ছেলে আক্কাছ মিয়া (৩৮) এবং
যাত্রী একই এলাকার মৃত কামরুল হাসানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৭০)।
স্থানীয়রা
জানায়, সকালে দক্ষিণ বেজুড়া এলাকার একটি সেতুর ওপর যাত্রীবাহী একটি সিএনজি অটোরিকশা
অন্য একটি সিএনজিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই
একটি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে
ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক আক্কাছ মিয়ার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ যাত্রীকে উদ্ধার
করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনোয়ারা বেগমকে
মৃত ঘোষণা করেন।
মন্তব্য করুন


ঝিনাইদহের
কালুখালিতে রানী ও সিনিয়া একই ক্লাসে পড়াশোনা করে। পড়াশোনা নিয়ে তাদের মাঝে প্রতিদ্বন্দীতা
শুরু হয়। এর মধ্যে রানী অসুস্থ হয়ে পড়লে রটে যায় সিনিয়া তাকে কালো জাদু করেছে। এই অজুহাতে
ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
রোববার
(২৮ জুন) দুপুরে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কালুখালি মধুপুর
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয়
বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানান, একটা মেয়ে অসুস্থ সেখানে আরেকটা মেয়ের দোষ কোথায়? আসলে
শিক্ষকদের উদাসিনতায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আধুনিকযুগে ছেলেমেয়েরা কী শিখছে? এ
ঘটনায় একদিকে যেমন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সম্মানহানি হলো অন্যদিকে সিনিয়া নামের মেয়েটার
লেখাপড়া সংকটে পড়লো।
এ
ব্যাপারে কালুখালি মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন,
এ ব্যাপারে আমরা (শিক্ষকরা) কিছুই জানি না। ক্লাস শুরুর আগেই ছাত্র-ছাত্রীরা এ কাজ
করেছে।
এ
ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার
জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেছি। তারপর বিষয়টি দেখবো।
আধুনিকযুগে
শিক্ষার্থীদের কালোজাদু নিয়ে মাবন্ধনের নেপথ্যে অন্য ঘটনা থাকতে পারে বলে মনে করছেন
স্থানীয় সচেতন মহল। তারা এ ঘটনার সঠিক তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন