

খুলনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়’ ২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে
মুঠোফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হল ক্যানটিনের এক কর্মচারীকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ
করেছে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
নিরাপত্তার দাবিতে ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা দিয়ে দেয়। এদিকে গ্রেপ্তার ক্যান্টিন কর্মী
ইমাম হাসান ও তাঁর স্ত্রী রূপামনিকে আদালতে পাঠানো হলে ইমাম হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক
জবানবন্দি দেন।
বিক্ষুদ্ধ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের গণরুম-সংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের
ফাঁক দিয়ে মুঠোফোন ব্যবহার করে এক ছাত্রীর ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি টের
পেয়ে ওই ছাত্রী আতঙ্কিত হয়ে সহপাঠীদের জানান। খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের আবাসিক
শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। বিষয়টি নিরাপত্তাকর্মীদের জানালে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত
ইমাম হাসান ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়। পরে হল প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের
চেষ্টা করে এবং পুলিশকে খবর দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্রবিষয়ক পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক বিন সালাম বলেন, ‘অভিযুক্তকে
আটক রাখা হয়েছে। মামলা দায়েরের বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে
কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ ছাত্রী হলের ক্যান্টিনে পুরুষ কর্মী
নিয়োগের বিধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্ডিন্যান্স দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য
করতে হবে। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।
জানতে
চাইলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. সেলিনা আহমেদ বলেন,
হলের ক্যান্টিন পরিচালনাকারী গোপনে ওয়াশরুমের ভেন্টিলেশন দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও করার
সময় শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটক ও মারধর করে। এ ঘটনার পর ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল ও হলের
কর্মচারীদের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি
গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা
দেওয়া হয়েছে।
এদিকে
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক
ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন
কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এছাড়া ইতিপূর্বে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুইজন শিক্ষক
ও অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা
বর্জন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান
ফটক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। ফলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত
প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।
বিজয়’
২৪ হলের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তার কথা বলে নানা বিধিনিষেধ
দেওয়া হয়। কিন্তু নিজের হলেই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে এসব বিধিনিষেধের অর্থ কী?
আগেও ওই ব্যক্তির আচরণ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।’
জানতে
চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে
ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে
প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে-যাতে
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
হরিণটানা
থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্ত ইমাম হাসান পিটুনির শিকার হওয়ায় তাঁকে
প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া তাঁর স্ত্রীকে
পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। পরে আজ বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। ইমাম হাসান আদালতে
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল
রানা বলেছেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি
পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দিন।’
সোমবার
(১ জুন) এ মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে
এসব কথা বলেন প্রধান আসামি সোহেল রানা।
এ
সময় তিনি দাবি করে, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ‘ডলার’ নামে একজন তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার
কথা বলেছিল। এ কথা বলার পরপরই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন এবং কাঠগড়া থেকে
নামিয়ে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যান।
সোমবার
এ মামলায় ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে
অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য
আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) দিন ধার্য করেন আদালত।
এর
আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট
(অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান।
ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর চার্জশুনানির জন্য
আজকের দিন ধার্য করা হয়।
মামলার
অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে
ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। জানা
যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটের
রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় বাদী মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।
একপর্যায়ে
আসামির রুমের সামনে বাদী তার মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া শব্দ না
পেয়ে বাদী তার স্ত্রী ও অন্য ফ্লাটের লোকজন নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আসামির শয়ন কক্ষের মেঝেতে ভিকটিম রামিসার
মাথাবিহীন লাশ দেখতে পান। আর মাথা রুমের ভেতর বার্জার রংয়ের বড় বালতির ভেতর দেখতে পান।
এ
সময় আসামি স্বপ্নাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, তার স্বামী সোহেল রানা
তার হীন কামনা চরিতার্থ করার লক্ষে বাদীর শিশু কন্যাকে বাথরুমের আটকে রেখে ধর্ষণের
পর গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করার উদ্দেশে স্বপ্নার সহায়তায় সোহেল ভিকটিমের মাথা,
ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুইহাত কাঁধ
থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে লাশ বাথরুম থেকে আসামিদের শয়ন কক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে।
ওই
রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে
সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। আর নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে
থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ
ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল
রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের
কারাগারে পাঠানো হয়।
রামিসার
বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে ভাড়া
বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও
একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে
লেখাপড়া করতো।
মন্তব্য করুন


ওমানে
এসির বিষাক্ত গ্যাসে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের চার ভাইকে বুধবার (২০ মে) নিজ গ্রামের
সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়ার হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়
মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় তাদের জানাজা। হৃদয়বিদারক সেই জানাজায়
ইমামতি করেন বেঁচে থাকা একমাত্র ভাই এনামুল হক।
প্রবাসজীবনের
স্বপ্ন নিয়ে একে একে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন পাঁচ ভাইয়ের চারজন। পরিবারের স্বচ্ছলতা
ফেরাতে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেছেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ হয়ে গেল এক
রাতের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। প্রবাস থেকে দেশে ফিরলেন চার ভাই, তবে জীবিত নয় নিথর দেহ
হয়ে।
মঙ্গলবার
(১৯ মে) রাতে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া
উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভোর
থেকে চার ভাইকে এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের হাজারো মানুষ। পাশাপাশি রাখা
চারটি লাশবাহী খাটিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে
ছিলেন, কেউ আবার বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না একই পরিবারের চার ভাই একসঙ্গে চলে গেছেন।
জানাজার
আগে উপস্থিত মানুষের সামনে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন একমাত্র জীবিত ভাই এনামুল
হক। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি শুধু বলেন, “আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন।”
পরে সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চার ভাইকে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের
ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর আগে পরিবারের মেজো ভাই প্রথম ওমানে যান। পরে একে একে অন্য
ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান। তারা মিলে গাড়ি ওয়াশিংয়ের ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে
আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে ওঠেন। কয়েক বছর আগে দেশে জমি কিনে নতুন বাড়ি নির্মাণও শুরু
করেছিলেন তারা। পরিবারের দুই ভাই সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন, যার একজন মাত্র কয়েক মাস
আগে ওমানে গিয়েছিলেন।
রাঙ্গুনিয়া
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর আগেই জানাজা
ও দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিহত
প্রত্যেক প্রবাসীর পরিবার তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবে এবং দ্রুত সেই সহায়তা পৌঁছে
দেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সময়ে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসী
কল্যাণ মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
জানা
গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় কেনাকাটা শেষে একটি ক্লিনিকের সামনে
গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চার ভাই। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত
গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন


সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান
আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ফাঁসির আসামিকে নিয়ে রায় দিয়েছেন
যেখানে বলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে কোনো ফাঁসির আসামিকে কনডেম সেলে
নেয়া যাবেনা ।
রুল শুনানিতে আদালত এ বিষয়ে
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও এস এম শাহজাহান বিশেষজ্ঞ মত নেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি
জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শুনানি করেন। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ শিশির
মনির। রুল শুনানি শেষে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত
হওয়ার আগে দণ্ডিত বা দণ্ডিতদের কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ২
সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা কারাগারের কনডেম সেলের
তিন কয়েদি। তারা হলেন- সাতকানিয়ার জিল্লুর রহমান, সুনামগঞ্জের আব্দুল বশির ও খাগড়াছড়ির
শাহ আলম। ওই রিট শুনানি করে ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার
আগে দণ্ডিতদের কনডেম সেলে রাখা কেন আইনত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ
প্রাপ্তদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা সংক্রান্ত কারাবিধির ৯৮০বিধিটি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা
করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেই সঙ্গে কনডেম সেলে রাখা বন্দিদের কী ধরনের
সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, সে বিষয়ে প্রতিবেদন চান আদালত।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা
অনুসারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির
৪১০ ধারা অনুসারে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে
আপিল করার সুযোগ পান। হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আপিল
বিভাগে আবেদন করতে পারেন।
আপিল বিভাগের রায়েও মৃত্যুদণ্ড
বহাল থাকলে সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা)
আবেদন করার সুযোগ আছে। এ ছাড়া সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে মৃত্যু-দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি
রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। ক্ষমার এই আবেদন রাষ্ট্রপতি যদি নামঞ্জুর
করেন অথবা দণ্ডিত যদি আবেদন না করেন তাহলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে সরকার।
অথচ বিচারিক আদালতে মৃত্যু দণ্ডাদেশের পরপরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কনডেম সেলে বন্দী
রাখা হচ্ছে।
রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ
শিশির মনির বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক সাজা কার্যকর করার
আইনগত বিধান নেই। এজন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন
নিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের
১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া
শেষ করতে ১০-১২ বছর পার হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার
পরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্জন কনডেম সেলে বন্দী রাখা হয়। অথচ অনেকের পরবর্তীতে
সাজা কমে। অনেকে খালাসও পান। রুল শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজারের
চকরিয়ায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে নিহত শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩)
এর পিতা-মাতা আজ বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪) সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল
ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
এ
সময় শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন এর পিতা-মাতা সন্তান হারানোর বেদনায় আবেগ
আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
দাবি জানান।
সেনাবাহিনী
প্রধান শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের
আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিতে সর্বপ্রকার সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গিকার করেন।
উল্লেখ্য,
এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ৭ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে চকরিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর
করে এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পশুর হাটে বেশি দামে বিক্রির আশায় ছাগলকে জোরপূর্বক পানি খাইয়ে
ওজন বাড়ানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই অমানবিক ও প্রতারণামূলক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত
বাদশা মিয়া ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ।
জানা
যায়, বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার রূপসদী উত্তর বাজারের পশুর হাটের পেছনের একটি গলিতে
এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি একটি নলকূপের
সঙ্গে লম্বা পাইপ যুক্ত করে একের পর এক ছাগলকে জোর করে অতিরিক্ত পানি খাওয়াচ্ছেন।
সাময়িকভাবে ছাগলের ওজন বাড়িয়ে ক্রেতাদের ঠকিয়ে বাড়তি মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যেই
এমন নিষ্ঠুর পন্থা বেছে নেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয়দের
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত বাদশা মিয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর
ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কড়ইকান্দি (ফেরিঘাট) এলাকার বাসিন্দা। ভিডিওটি ভাইরাল
হওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্তে নামে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মূল অভিযুক্ত বাদশা
মিয়াসহ তার সহযোগীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই
অমানবিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, জোর করে অতিরিক্ত পানি পান করানো পশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এতে পশুর শরীরে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয় ।
জেলা
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, 'পশুর ওজন বাড়ানোর
উদ্দেশ্যে জোর করে অতিরিক্ত পানি পান করানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।' তিনি আরও জানান,
এভাবে সাময়িকভাবে ওজন বাড়লেও সেটি প্রকৃত ওজন নয়, ফলে সাধারণ ক্রেতারা চরমভাবে প্রতারিত
হন।
এলাকাবাসী
ও হাটে আসা সাধারণ ক্রেতারা ঘটনাটিকে কেবল প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, বরং প্রতারণার
এক অভিনব কৌশল হিসেবে দেখছেন। তারা এই প্রতারক চক্রের সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে পশুর হাটে এ ধরনের অসাধু কর্মকাণ্ড করার
সাহস কেউ না পায়৷
মন্তব্য করুন


রেখে যাবো
সংসারে কিছু কিছু নয়,সব কিছুই রেখে যেতে হয়,
সাজানো গোছানো কিংবা অগোছালো ঘরদোর,
আত্মীয় -পরিজন,বন্ধু-স্বজন,সন্তান-সন্ততি মায়াডোর।
কিছু অপূর্ণ আশা,কিছু অসমাপ্ত কাজ
রেখে যাওয়া ভালো জীবনের সিম্ফনিতে নিঃশব্দে নীরবে,
তারপর
হারিয়ে যাওয়া ছায়াপথে।
ফেলে তো যেতেই হবে মায়াময় ধুলোমাখা চিরচেনা পথ,
সে পথেই পড়ে রবে সংসারের অভ্রভেদী রথ।
শ্রাবণের বৃষ্টির জন্য কাছে রেখে যাবো
বুকের ভেতর জমানো কান্নার সমুদ্দুর।
তীব্র শীতে উষ্ণতার জন্য রেখে যাবো
ভালবাসার রোদ্দুর।
আমার অন্তিম অর্ঘ্য রেখে যাবো
মায়াবী অসামান্য পৃথিবীতে।
ক্ষীণ আশার দীপ জ্বেলে রাখি-
প্রজন্মান্তরে সুখের সোনালী কুটির হবে আমার এ ভিতে।
মল্লিকা বিশ্বাস
মন্তব্য করুন


দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জান- মাল ও
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার
লক্ষ্যে দেশব্যাপী নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ অক্টোবর ২০২৪ (শনিবার)
রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ডিএমপির মোহাম্মদপুর
থানাধীন বছিলা হাউজিং এর মিনি সুপারশপে চাঞ্চল্যকর দুর্ধষ ডাকাতি ঘটনার প্রধান
আসামি মোঃ আসলাম ওরফে রুবেল আলমকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার তথ্য অনুযায়ী তার আরেকজন সহযোগী
পরিকল্পনাকারি মজিদকে যৌথবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের ডাকাতির কথা স্বীকার করে। ডাকাতি হওয়া সুপারশপের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, ডাকাতদলের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। এ সময় তারা দোকানের কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা নিয়ে যায়। গ্রেফতারের পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


খুব প্রয়োজনীয় কিছু সংস্কার করে যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচন দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন: আইন মন্ত্রণালয়ের কৈফিয়ত’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজারের
উখিয়ায় টানা ভারী বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একটি মাদরাসার ৫ শিক্ষার্থী
নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও অনেকে চাপা পড়েছে।
বুধবার
(৮ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-ব্লক
এ-৩ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও
পান্না আক্তার।
তিনি
বলেন, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার
করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত। উদ্ধার কাজ চলমান।
জানা
গেছে, বুধবার সকাল থেকেই টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা
ক্যাম্প-৫-এর একটি সাব-ব্লকে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী
আটকা পড়েছে। স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুতুপালং
রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পাহাড় ধসে আটকা পড়া মাদরাসার
শিক্ষার্থীদের উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য
বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
মন্তব্য করুন


বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিগজাউম’।
এজন্য দেশের ৪টি সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে ভারতের উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। তবে এটি বাংলাদেশে আঘাত হানবে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ -এ পরিণত হয়েছে। এটি রোববার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। তবে আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা,ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। তারপর এটি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাবে। এটি দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল ঘেঁষে এগিয়ে মঙ্গলবার নাগাদ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) অধীন জাতিসংঘের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের ১৩ দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান,মিয়ানমার, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, শ্রীলঙ্কা, ওমান, সৌদি আরব ও ইয়েমেন) আবহাওয়াবিদদের সংস্থা এস্কেপ ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়ে থাকে। মিয়ানমার ‘মিগজাউম’ নামটি দিয়েছে।
এই সপ্তাহের শেষের দিকে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তখন দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানান আবহাওয়াবিদরা।
মন্তব্য করুন