

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বোর্ডের সামনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে প্রথম দাবি হলো দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার স্থগিত থাকবে ।
দ্বিতীয়: ১৩ জুলাই যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে ।
তৃতীয়: আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে ।এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমিল্লা সাপোর্টের দিকে রওনা দিলে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমাতুজ জোহরা এবং কোতোয়ালী থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থী সাফিন আহমেদ বলেন, ‘গতকাল শিক্ষার্থীরা কোমরপানি ভেঙে কেন্দ্রে এসেছেন । তাদের আর্তনাদ কেউ দেখে না । তাদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একমত পোষণের জন্য আমি এখানে অবস্থান নিয়েছি।’
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, ‘গতকালের পরীক্ষা অনেকেরই খারাপ হয়েছে বৈরী আবহাওয়ার কারণে। এই পরীক্ষা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তির সময় এই পরীক্ষার জিপিএ কাউন্ট করা হয়। আপাতত দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রীকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করছি।’
উল্লেখ্য: গতকাল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে কোমরপানি মাড়িয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জন্য তারা শিক্ষামন্ত্রীর তদারকির ব্যর্থতাকে দায়ী করেন ।
মন্তব্য করুন


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।।
প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। সবুজে-শ্যামলে আদালত প্রাঙ্গণকে আরও প্রাণবন্ত ও নান্দনিক করে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করে "বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী-২০২৬" উদ্বোধন করেন কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেমায়েত উদ্দিন।
বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে শুধু আদালত প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নির্মল ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তাও দেওয়া হয়। ন্যায়বিচারের পবিত্র প্রাঙ্গণে সবুজের এই আয়োজন যেন মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এসময় কুমিল্লার জজশীপ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির অন্যান্য বিজ্ঞ বিচারক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
একটি গাছ যেমন নিঃশব্দে মানুষের জন্য ছায়া, অক্সিজেন ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তেমনি আজকের রোপণ করা চারাগুলোও একদিন বেড়ে উঠে আদালত প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে দেবে প্রশান্তির সবুজ ছায়া। ব্যস্ত বিচারিক কার্যক্রমের এই প্রাঙ্গণে সেই সবুজ ছায়া হয়ে উঠতে পারে শান্তি, সৌন্দর্য ও আশার প্রতীক।
কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে এই বৃক্ষরোপণ তাই নিছক একটি কর্মসূচি নয়; এটি প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত—যেখানে ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারও উচ্চারিত হলো সবুজের ভাষায়।
মন্তব্য করুন


সদ্য
শেষ হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। গোটা টুর্নামেন্টে
ছন্দে থাকলেও ফাইনালে একেবারে নিষ্প্রভ থেকেছেন লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপ
জিততে না পারায় তাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় চারদিকে। এমন আবহে মেসির পাশে দাঁড়ালেন ভারতীয়
ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। ফাইনালে হারলেও এক ম্যাচের ভিত্তিতে মহাতারকা
মেসির ক্যারিয়ার বিচার করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।
কলকাতাভিত্তিক
নিউজআঠেরোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌরভ জানিয়েছেন, একটা খারাপ ম্যাচ কোনোভাবেই মেসির
অসাধারণ ফুটবল ক্যারিয়ারকে ম্লান করতে পারে না।
‘লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারকে কখনোই একটি
ম্যাচের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, তিনিও একজন মানুষ। প্রতিদিন
একই মানের পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। খারাপ দিন আসতেই পারে।
মেসি
ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ জিতেছেন, অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন এবং নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম
সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই একটি ফাইনাল বা ম্যাচের ভিত্তিতে তার ক্যারিয়ারকে
বিচার করা অন্যায়।’ বলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই
অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের
সব ম্যাচ না দেখলেও সেমি ফাইনাল এবং ফাইনাল দেখেছেন বলে জানান সৌরভ। তাঁর মতে, ‘ফাইনালে
পরিকল্পনার দিক থেকে স্পেন অনেক এগিয়ে ছিল।
প্রথম
থেকেই আর্জেন্তিনাকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দেয়নি স্পেন’
এমনটাই মনে করেন তিনি।
তিনি
আরো বলেন, ‘আমার মতে, ট্যাকটিক্সের দিক থেকে স্পেন অনেক ভালোভাবে প্রস্তুত ছিল। ওদের
গেমপ্ল্যান ছিল নিখুঁত, আর জেতার খিদেও স্পষ্ট ছিল। সেই কারণেই ফাইনাল একপেশে ম্যাচ
হয়েছে। দলগত ভাবে স্পেন অসাধারণ খেলেছে এবং যোগ্য দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলে যোগ
করেন এই ক্রিকেট কিংবদন্তি।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি
আজ মঙ্গলবার (১২ মে)সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে
'ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’
শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
তিনি
বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কিনা
এমন একটি প্রশ্ন অনেকের আলোচনায় ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে
শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে র্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর
অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি
আরো বলেন, ‘র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন
এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এ বিষয়গুলো
নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদগণ নিশ্চয় আরো চিন্তাভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর
হয়ে পড়বে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন চতুর্থ
শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,
রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার
সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল
সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এসব উন্নততর প্রযুক্তি
একদিকে আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র
বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রথাগত চাকুরির বাজারে বেকারত্ব
বাড়াচ্ছে যেমন তেমনি তৈরি করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থানও।'
তারেক
রহমান বলেন, 'চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে
প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্ত বিদ্যা এবং
সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা
অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর
শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা
তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের
মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত
করতে হবে।'
তিনি
বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা
কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা
কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়। বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সাথে বায়োলজি
বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের
সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের
নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।’
শিক্ষা
কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়।
অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না
পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।'
তিনি
বলেন, 'প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে
সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন
সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।
এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।'
বিশেষ
করে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ
এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ
করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর
সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু
করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীগণ পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ
করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে
তাকে আর বেকার থাকতে হবে না '
তিনি
বলেন, 'কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক
প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য
হচ্ছে, ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং
সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে তিনি আর চাকুরির
জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা
হিসেবে আরো কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইন্সস্টিটিউট’,
সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের
ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ
এ ধরনের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শুধু উচ্চশিক্ষার
ক্ষেত্রেই নয়, স্কুলপর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। '
প্রধানমন্ত্রী
বৃটিশ লেখক টম উইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আজকের এই কর্মশালার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্রিটিশ
লেখক 'গুডউইন' যিনি বিশেষ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে 'বিজনেস স্ট্রাটেজিস্ট এন্ড এনালিস্ট'
হিসেবে স্বনামধন্য, তার একটি বিখ্যাত মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে।
তিনি বলছেন, বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই।
বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া 'ফেসবুক' নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না। বিশ্বের
বৃহত্তম অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম 'আলিবাবা'র কোনো 'মজুদ পণ্য' নেই।
বিশ্বের
সবচেয়ে বড় আবাসন প্রোভাইডার 'এয়ারবিএনবি’র নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই।'
অর্থাৎ ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা যার যার ক্ষেত্রে বিশ্ব শাসন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো
মূলত: এক একটি 'স্মার্ট ইন্টারফেস'। তারা সেবা দিচ্ছে না, বরং যারা সেবা দিতে চায় এবং
যারা সেবা নিতে চায়, তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসছে। এটিই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান।
শিক্ষার্থীদের
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা
গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি,
ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের
'গবেষণা এবং উদ্ভাবন' কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে
বলে থাকেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।'
তিনি
বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও অর্থ-বিত্তে
প্রতিষ্ঠিত সেসব এলামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা' উন্নয়নে সম্পৃক্ত
করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।'
মেধাভিত্তিক
দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সামর্থ সীমাহীন না হলেও
সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব।
আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের
পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন
করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই। '
ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের
বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'স্বাধীনতাপ্রিয়
গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের
বেশি সময় পর হাজারো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ
বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং
সমাজ গড়তে চায়।'
তিনি
বলেন, 'জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে
শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের
সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা
চাই, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশকেও আলোকিত করবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে আমরা অবশ্যই আলিঙ্গন করবো।'
তিনি
বলেন, 'তবে আমরা যেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক
মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী পেশাজীবী তথা
সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।'
অনুষ্ঠানে
প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
ইউজিসির
চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল
হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক,
ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সারাদেশে ১ হাজার ২৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আজ রোববার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯৬ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৮২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৪২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৬ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৮ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪২ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৬ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ছয়জন রয়েছেন।
চলতি বছরের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৪৯ হাজার ৮৮০ জন। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক দুই শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক আট শতাংশ নারী রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ২৪৭ জন।
২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
মন্তব্য করুন


রোজার মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বুড়িচং থানার ওসি মহোদয় এবং থানা পুলিশ সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে নিমসার বাজারে বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার হওয়া এ অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তার লেবু, শসা, কাঁচা মরিচ,ধনে পাতা, আলু, পেঁয়াজ প্রভৃতি পণ্যের দাম যাচাই করেন। কাঁচাবাজার এর
পাশাপাশি দোকানগুলোতেও রশিদ এর মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় এর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, লেবু ২০-৬০ টাকা হালি, কাচা মরিচ ২৬ টাকা, শশা ৩০ টাকা, খিরা ১২-১৫ টাকা , টমেটো ৫-৮ টাকা , আলু ১৬-১৮ টাকা, লাউ ১৮-২০ প্রতি পিস, পেঁয়াজ দেশি (মেহেরপুর) ১৮-২০ টাকা, পেয়াজ দেশি (পাবনা,নওগা) ২৫-৩০ টাকা, ডিম হালি ৩৩-৩৪ টাকা, চিচিংগা ১৫ টাকা, গাজর ১৫-২০ টাকা, বেগুন ৬০-৬৫/- (উন্নতমানের বড় সাইজ), চিকন বেগুন ৩০-৩৫ টাকা এবং সিম ২০-২৫ টাকা প্রতি কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
তবে অভিযান পরিচালনাকালীন সময়ে এটাও বলে দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার অনিয়ম বা মূল্য কারসাজি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ঈদুল আজহার আগামী ১২ জুনের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
রোববার (২ জুন) সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে অনলাইনে চাপ এড়াতে পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি হচ্ছে দুপুর ২টা থেকে।
প্রথম তিন ঘণ্টায় পশ্চিমাঞ্চলের ১৪,১৫৭ টিকেটের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তবে পশ্চিমাঞ্চলের অন্য দুই বিভাগ রাজশাহী ও খুলনাতে এখনও কিছু ট্রেনের টিকিট অবিক্রীত রয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রির শুরুতেই উত্তরবঙ্গের টিকিটের অনেক চাহিদা ছিল। এ এলাকার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। প্রথম তিন ঘণ্টায় অনলাইনে টিকিট কাটতে প্রায় ৭০ লাখ হিট পড়েছে।
রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগে আন্তঃনগর ট্রেনের ১২ জুনের আসন বিক্রি হবে ২ জুন; ১৩ জুনের আসন ৩ জুন; ১৪ জুনের আসন ৪ জুন; ১৫ জুনের আসন ৫ জুন; ১৬ জুনের আসন ৬ জুন বিক্রি হবে। এছাড়া যাত্রী সাধারণের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ আসন যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন


ময়মনসিংহ
নগরীতে মায়ের ধর্ষককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর ৩৬
বাড়ি কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে দুপুরে
রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেল (৪০) নামের এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত
রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি ওই কলোনিতে বাসা
ভাড়া নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে থাকতেন। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে
পুলিশ।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনির বাসিন্দা
ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী পারুল আক্তারের ভাড়া বাসায় রুবেলকে নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা করা
হয়। ঘটনার সময় হামলাকারীরা বাসার সামনে থাকা রুবেলের চাচাতো ভাই মো. শুভর একটি মোটরসাইকেলেও
আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ
কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানার ওপর রুবেলের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের
মাথার পাশ থেকে একটি মদের বোতলও জব্দ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল
কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ
সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, শনিবার (৪ জুলাই) এক
নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। যত দূর জানতে
পেরেছি, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর চার ছেলে তাঁকে (ধর্ষক) গলা কেটে হত্যা করেছে।
আসাদুজ্জামান
শাকিল বলেন, এ দিন দুপুরে ময়মনসিংহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশের
উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ওই নারী ও তার দুই ছেলেকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছেন।
ময়মনসিংহ
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি
তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
ময়মনসিংহের
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য
উন্মোচনে কাজ শুরু করেছি। মো. রনি মিয়া (২৭) ও স্বজল (৩৫) নামের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের
জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


শরীয়তপুরের
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে সহকারী শিক্ষকের সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ও অসদাচরণের
অভিযোগে ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ
মিয়াকে বাধ্যতামূলক অবসর পাঠানো হয়েছে।
রোববার
(২৩ আগস্ট) বিভাগীয় তদন্ত শেষে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী
তাকে এ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুল
আজিজ এ আদেশ দেন।
প্রাথমিক
শিক্ষা বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা সর্বশেষ অফিস আদেশে
এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে
আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
বিভাগীয়
তদন্তে অভিযোগগুলো অসদাচরণ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ কার্যকর করা হয়।
বিভাগীয়
নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে
প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের অনৈতিক সম্পর্ক ও অশ্লীল ইমু চ্যাটিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র
করে দুই শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ অভিযোগের বিষয়টি বিভাগীয় তদন্তের আওতায়
নেওয়া হয়।
তদন্তের
অংশ হিসেবে প্রধান শিক্ষককে অভিযোগনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জবাবে তিনি
লিখিত বক্তব্য দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানিতেও অংশ নেন।
তদন্ত
শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দেন বলে বিভাগীয় আদেশে
উল্লেখ করা হয়েছে। পরে প্রধান শিক্ষককে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
তবে
তার দেওয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। এরপর সরকারি চাকরির বিধিমালা
অনুযায়ী তাকে বাধ্যতামূলক অবসরের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক
মো. আলী আসাদ মিয়া বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত নই। আমার কাছে কোনো চিঠি আসেনি।
এদিকে
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে বিভাগীয় কার্যালয়
থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি এসেছে। ইতোমধ্যে আমরা চিঠিটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার
কাছে পাঠিয়েছি। ওই শিক্ষক বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


আজ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের শপথ গ্রহণ হবে।
বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে রোববার (১১ আগস্ট) বঙ্গভবনে তার শপথগ্রহণ হবে।
রাষ্ট্রপতির আদেশে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ শপথের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ বরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এবং প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের ছেলে।
সৈয়দ রেফাত আহমেদের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর। তিনি ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে, ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্য থেকে বিএ ও এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ পান তিনি। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ভারত, পাকিস্তান, আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমণ করেছেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
ডেমরা পুলিশ লাইন্সের বহুতল ভবন থেকে সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক কনস্টেবলের ঝুলন্ত
মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাইদুলের এমন মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে চলছে শোকের
মাতম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার মা।
আত্মহত্যার
আগে ফেসবুকে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি আবেগঘন দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছিলেন সাইদুল ইসলাম।
সাইদুল
ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. সাদেকের ছেলে। তিনি
প্রায় ৯ মাস আগে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে যোগদান করেছিলেন। কর্মসূত্রে তিনি
ডেমরা পুলিশ লাইন্সে থাকতেন।
সাইদুলের
মৃত্যুর খবর ফেনীর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় তার মা। প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা
করলেও তার কান্নায় পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
কাঁদতে
কাঁদতে সাইদুলের মা বলেন, ‘মাগরিবের নামাজের পরও ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। ভালোবাসা
আর পরিবারের অমতে গিয়ে করা বিয়েই যেন ছেলের জন্য কাল হলো।’
সাইদুল
ইসলামের চাচা মো. সোহাগ জানান, কিছুদিন আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে ফেনীর সোনাগাজী
উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ে করেন সাইদুল। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক
কলহ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদও ঘটে। বিয়ের মাত্র দেড়
মাসের মাথায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি সাইদুল। বিচ্ছেদের পর থেকেই
সাইদুল চরম মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিরহ সইতে না পেরেই এ অবস্থা।
লেমুয়ার
উত্তর চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা এম. এমরান পাটোয়ারী জানান, পুলিশ লাইন্স থেকে ফোন
করে মৃত্যুর খবরটি পরিবারকে জানানো হয়। শুক্রবার বিকেলে নিহতের বাবা মো. সাদেক ডেমরা
থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
ফেনী
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, ডেমরায় সাইদুল
ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন বলে লোকজনের মুখে শুনেছি। তার বাড়ি ফেনীতে।
এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ
সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরা পুলিশ লাইন্সের নিজ কক্ষে
ফাঁস দেন সাইদুল। পরে সহকর্মীরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি
হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল
কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা
তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আত্মহত্যার
প্রায় ১৬ ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ত্রীর সঙ্গে পুরোনো কিছু ছবি ও ভিডিও সংযুক্ত
করে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন সাইদুল। সেখানে বৈবাহিক জীবনের তীব্র মানসিক কষ্ট, হতাশা
ও স্ত্রীর প্রতি ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন তিনি।
ফেসবুক
পোস্টে সাইদুল লিখেছিলেন- ‘তোমায় কেন্দ্র করে আমি যে জগৎ সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলেছিলাম
একটু একটু করে, হঠাৎ যেন সে জগৎটাকে দুদিনেই চোখের সামনে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলে...
সমুদ্রের মাঝখানে তরী ডোবা মানুষ অনেকক্ষণ সাঁতার কাটার পর যেমন কূলের দেখা না পেয়ে
শেষমেষ নিয়তিকে মেনে নেয়, সাদরে গ্রহণ করে মৃত্যুকে, তেমনি আমারও যেন কিছুই করার নেই।’
সম্পর্কের
ইতি টানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, ‘তোমারে ভালোবাসাটা অপরাধ? নাকি সবকিছু
উপেক্ষা করে তোমাকে বিয়ে করাটা অপরাধ? তুমি না বলছিলা, মৃত্যু ছাড়া তুমি কখনোই আমাকে
ছেড়ে যাবে না? এখন কই তুমি?’
স্ত্রীকে
বারবার সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘মানুষকে এতটাও বিশ্বাস করতে হয় না
যে বিশ্বাস করলে নিজেরই আর বাঁচার সুযোগ থাকে না।’
পোস্টের
শেষ অংশে নিজের বাবা-মায়ের প্রতি ক্ষমা চেয়ে অত্যন্ত আবেগতাড়িত হয়ে তিনি লেখেন- ‘দুঃখিত
আম্মু-আব্বু, আপনাদের ছেলে আর নিতে পারতেছে না আম্মু, আর পারতেছে না। আর তিলে তিলে
মরার শক্তি আমার নাই। মাফ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে।’
মন্তব্য করুন