

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
নবীনগরে পারিবারিক কলহের জেরে মারামারির ঘটনায় মামুন মিয়া (৪৫) নামের এক পল্লী চিকিৎসক
নিহত হয়েছেন। ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর লাথির আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র
জানিয়েছে।
বুধবার
(১২ আগস্ট) রাতে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মাঝিয়ারা গ্রামের মৃধাবাড়িতে এই মর্মান্তিক
ঘটনা ঘটে।
নিহত
মামুন মিয়া মাঝিয়ারা গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায়
একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন এবং স্থানীয় মাঝিয়ারা বাজারে একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের
দোকান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে পারিবারিক অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে
বিরোধ চলছিল। বুধবার রাতে এর জের ধরে মাঝিয়ারা মৃধাবাড়িতে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হলে মামুন মিয়া গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে
লুটিয়ে পড়েন এবং তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার
সত্যতা নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান,
খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লাশ
উদ্ধার করে। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রবাসীর স্ত্রী অভিযুক্ত হালিমা
আক্তার কে আটক করা হয়েছে।মামুন মিয়ার স্ত্রী নয়নতারা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।
তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


নওগাঁর
আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নেয়ামুল বাছির (৪৮) নামে এক কলেজ
শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার
(১৭ জুন) সকালে শাহাগোলা রেলস্টেশনের পাশের শিমুলিয়া এলাকার একটি নির্জন সড়ক থেকে তার
রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত
নেয়ামুল বাছির নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ চকরামচন্দ্র মহল্লার বাসিন্দা এবং আত্রাই উপজেলার
বড়শিমলা মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি হজ কাফেলা ব্যবসার সঙ্গেও
জড়িত ছিলেন।
পারিবারিক
সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার শেষবারের মতো মোবাইল
ফোনে কথা হয়। এশার নামাজের পর তিনি বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে আত্রাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে
একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নওগাঁ শহরের দিকে রওনা দেন। কিন্তু রাতে তিনি আর বাড়ি
ফেরেননি।
নিহতের
ভাই মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা
করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা পথিমধ্যে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ শাহাগোলা
রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন শিমুলিয়া এলাকার নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
বুধবার
সকালে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
আত্রাই
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে
রেললাইনের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক
চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি
আরও জানান, ঘটনাস্থলটি রেলওয়ে পুলিশের আওতাভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি সান্তাহার জিআরপি থানাকে
অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ
ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের
শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হত্যাকারীদের
গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজারের
দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় আকাশ থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে অক্ষর শৌভিক রায়
(৩০) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য
করে প্যারাসেইলিং পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
শনিবার
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে এ দুর্ঘটনা
ঘটে। নিহত অক্ষর শৌভিক রায় খুলনা সিটি করপোরেশনের বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা শেখর
রায়ের ছেলে।
পুলিশ
ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে শৌভিক ২ হাজার টাকার
টিকিট কেটে প্যারাসেইলিং করেন। আকাশে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট ওপরে ওঠার পর তিনি হঠাৎ
সমুদ্রে পড়ে যান। পরে কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক
মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের
সঙ্গে থাকা এক বন্ধু অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার সময় দ্রুত উদ্ধারকাজের কোনো ব্যবস্থা ছিল
না। ঘটনাস্থলে লাইফগার্ডও ছিল না। পরে একটি স্পিডবোটের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হলেও
ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
কক্সবাজার
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে
হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে প্যারাসেইলিং পরিচালনা এবং দুর্ঘটনার
কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।
জেলা
প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিন দিন আগেই সব ধরনের প্যারাসেইলিং
কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দরিয়ানগরে
এটি পরিচালিত হচ্ছিল। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব
নজরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর, উদ্ধার
জলযান ও জরুরি চিকিৎসাসেবা ছাড়া প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা
নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত।
উল্লেখ্য,
এর আগেও দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পরও
নিরাপত্তা জোরদার না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
বিষয়ে।
মন্তব্য করুন


শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেছে।
রোববার (২৮ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ২৯ হাজার ৭৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।
২০২৪ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
এসএসসি পরীক্ষা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে শুরু হবে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
রুটিন অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র ; ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলা দ্বিতীয় পত্র, সহজ বাংলা দ্বিতীয় পত্র ; ২০ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি প্রথম পত্র; ২২ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র; ২৫ ফেব্রুয়ারি গণিত; ২৭ ফেব্রুয়ারি ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্ট ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা; ২৮ ফেব্রুয়ারি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি; ২৯ ফেব্রুয়ারি গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, কৃষি শিক্ষা, আরবি, সংস্কৃত, পালি, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রিড়া, চারু ও কারুকলা; ৩ মার্চ পদার্থ বিজ্ঞান, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং; ৫ মার্চ রসায়ন, পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ব্যবসায় উদ্যোগ; ৬ মার্চ ভূগোল ও পরিবেশ; ৭ মার্চ জীব বিজ্ঞান, অর্থনীতি; ১০ মার্চ বিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত; ১১ মার্চ হিসাব বিজ্ঞান এবং ১২ মার্চ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৩ মার্চ থেকে ২০ মার্চ স্ব স্ব পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হলো।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত
পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ
পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীন। এ পদে বিএনপি যে দুজনের নাম প্রস্তাব
করেছিল, সেই তালিকায় তার নাম ছিল।
নির্বাচন কমিশনার পদে যে চারজন নিয়োগ
পেয়েছেন তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অবসরপ্রাপ্ত
জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমানেল মাসুদ, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব তহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের
১১৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সদয় হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং
অন্যান্য কমিশনার পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ আদেশ অবিলম্বে
কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
এ এম এম নাসির উদ্দীন জ্বালানি ও খনিজ
সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। তিনি ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে
অবসরে যান। বিসিএস ১৯৭৯ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন তিনি।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ে অনেক বছর ধরে একটি গুঞ্জন প্রচলিত–এখানে তেল-গ্যাসের সন্ধান মিলেছিল, বিদেশি কোম্পানি এসে খননও করেছিল; কিন্তু একটি অদৃশ্য হেলিকপ্টার এসে কূপ সিলগালা করে দেয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসায় এলাকাজুড়ে আবারও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশে এখনও বড় আকারের খনিজ তেলের মজুত আবিষ্কৃত হয়নি। দেশের প্রধান জ্বালানি নির্ভরতা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর। সিলেটের হরিপুর ও মৌলভীবাজারের বরমচাল ছাড়া উল্লেখযোগ্য তেল উৎপাদনের ইতিহাসও সীমিত। ফলে দেশের অধিকাংশ জ্বালানি তেল এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ সালের দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) লালমাই এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম চালায়। সেখানে ‘লালমাই-১’ ও ‘লালমাই-২’ নামে দুটি কূপ খনন করা হয়। অনুসন্ধানের শুরুতে কিছু পরিমাণ তেলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও পরীক্ষামূলক উত্তোলনে উৎপাদন খুবই কম ছিল। লালমাই-১ কূপ থেকে দৈনিক মাত্র ২০ থেকে ২৫ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব হচ্ছিল। লালমাই-২ কূপে চাপ কম থাকায় সেটিও বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী হয়নি।
কথিত আছে–প্রতিদিন অন্তত কয়েকশ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব হলে একটি তেলকূপকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ধরা হয়। সেই তুলনায় লালমাইয়ের উৎপাদন ছিল খুবই সীমিত। এ ছাড়া তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত পানি উঠে আসা, চাপ কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি এড়াতে নিয়ম অনুযায়ী কূপগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ বা ‘প্লাগ অ্যান্ড অ্যাবানডন’ করা হয়।
মো. সিরাজ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এখানে তেল-গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল। আমরা নিজের চোখে দেখেছি। ২০০২ সালে কোরিয়ান কোম্পানি খনন করতে আসে। পরে তারা চলে যায়। হাজার-হাজার মিটার খনন করা হয়েছিল। এক সময় হেলিকপ্টার এসে এটি সিলগালা করে দেয়।
বড় ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শহীদ বলেন, এ জায়গাটা আমাদের বাড়ির পাশে। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি এটা সিসা ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু কেন বন্ধ করা হলো, কে করল আজও জানি না। সরকার চাইলে আবার অনুসন্ধান করতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিত্যক্ত তেল বা গ্যাসকূপ খোলা অবস্থায় রেখে দিলে গ্যাস লিক, অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে অলাভজনক কূপগুলো সিলগালা করা হয়।
পেট্রোবংলার উপব্যবস্থাপক সৈকত মাহমুদ বলেন, লালমাই এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও সেখানে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক তেলের মজুত পাওয়া যায়নি। ফলে কূপগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রেসিডেন্ট ও ডা. জুবাইদা রহমানকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) এর বোর্ড অব ডাইরেক্টরস কমিটি গঠন করা হয়।
আজ বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিএনপির ফেসবুক পেইজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) গঠনতন্ত্র মোতাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির পরিবর্তে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড অব ডাইরেক্টরস কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির
তালিকা-
• তারেক রহমান (প্রেসিডেন্ট)
• ডা. জুবাইদা রহমান (ভাইস প্রেসিডেন্ট)
• অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর
• অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান ডাইরেক্টর (এডমিন)
• অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম ডাইরেক্টর (ফাইন্যান্স)
• ডা. সৈয়দা তাজনীন ওয়ারিস সিমকী ডাইরেক্টর (প্ল্যানিং)
ডাইরেক্টর
(প্রোগ্রাম)
• ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ
• ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন
• প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম
• কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক বাচ্চু
• অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান
• অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী
• আমিরুল ইসলাম কাগজী
ডাইরেক্টর
• ব্যারিস্টার জাইমা রহমান
• অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম
• কৃষিবিদ আনোয়ারুননবী মজুমদার বাবলা
• কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম
• ব্যারিস্টার মীর হেলাল
• অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিন
• প্রকৌশলী একেএম জহিরুল ইসলাম
• কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার
• প্রকৌশলী উমাশা উমায়ন মনি চৌধুরী
• সাংবাদিক হাফিজ আল আসাদ সাঈদ খান।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্ট
মাসে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত
হোসেন। তবে তা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রেখেছে
বলেও জানান তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেডিকেলের প্যাথলজি বিভাগে মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি
যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি
বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে। তবে তা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
ও অধিদপ্তর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রেখেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই মাস ধরে সরকার জেলা-উপজেলা
পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের
চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বলেন, থানা, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে ডেঙ্গুর এনএসওয়ান পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া
ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগী বাড়লে সেগুলো চালু করা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু
করে মসজিদের ইমামসহ সবাইকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই ডেঙ্গু
নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এডিস
মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লার্ভা ধ্বংস করার জন্য
একটি বিশেষ মেডিকেল ট্যাবলেট আগামী ৭ দিনের মধ্যে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছোট ছোট জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা বা টায়ারে এই ট্যাবলেট ব্যবহারে লার্ভা দ্রুত ধ্বংস
হবে।
ডেঙ্গু
রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী
সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্লাজমা লিকেজের কারণে অনেক সময় রোগী মারা যায়। এজন্য বিশেষজ্ঞ
ডাক্তারদের সমন্বয়ে একটি 'ডেইলি ট্রিটমেন্ট প্রটোকল' তৈরি করে তা সব চিকিৎসকের মোবাইলে
ও ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোনো ডেঙ্গু
রোগীর জ্বর ভালো হয়ে গেলেও পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ)
দেওয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অত্যাধুনিক
টেন হেডেড মাইক্রোস্কোপ যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ আরও নির্ভুল ও
কার্যকর হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে
মেডিকেল কারিকুলামেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি
বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসন ও সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও এগিয়ে
চলছে।
আক্ষেপ
প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা ব্যবস্থার
সঙ্গে তাল মিলাতে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। বিশেষ করে প্যাথোলজি বিভাগ, যা চিকিৎসার মূল ভিত্তি,
সেখানে তিন বছর আগে একটি সরকারি মাইক্রোস্কোপ নষ্ট হওয়ার পর আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
তিনি
জানান, হস্তান্তরিত লেটেস্ট মডেলের এই আধুনিক মাইক্রোস্কোপটির মাধ্যমে এখন থেকে এক
সিটিংয়েই নিখুঁতভাবে ক্যানসার ডায়াগনোসিস করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসাসেবায় বড় পরিবর্তন
আনবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ডিআই সাপ্লাইয়ের অনিয়ম দূর করতে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায়
যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বাংলাদেশ
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি বেসরকারি খাতের মতো
চলবে কিনা—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,
এটি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন থাকবে, তবে এর ব্যবস্থাপনা হবে আধুনিক ও করপোরেট ধাঁচের।
কোম্পানি ফর্ম করে পরিচালনা করা হবে এবং হাসপাতালটি হবে অলাভজনক। থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ
বা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মডেলে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি ও আধুনিক পদ্ধতিতে
এটি পরিচালিত হবে। আমরা একটি গঠনপ্রণালী তৈরি করে দিয়েছি এবং যন্ত্রপাতি দিয়েছি। এটি
উন্নত মানের হাসপাতাল হবে। সরকার এই হাসপাতালের রেট নির্ধারণ করে দেবে যাতে সাধারণ
মানুষ স্বল্পমূল্যে বিশ্বমানের সেবা পায়। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়
ঘটানো হবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে
আগামী ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী
ডা. জুবাইদা রহমানের সফরের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এসময়
উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক
ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন ও উপাধ্যক্ষ
অধ্যাপক ডা. মোসাররাত সুলতানাসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা নাশকতা
কিনা তা তদন্তের পর বলা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের ৬ তলায় সড়ক পরিবহন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং
এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের এই আগুন লাগে।
আজ সকাল ৯ টায় উপদেষ্টা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সচিবালয়ে এক সংবাদ
সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সচিবালয়ে আগুনের ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে ১১
পর্যন্ত হতে পারে। কি হয়েছে তা আমরা দেখবো। পুরোটা সার্চ করার পরে কিছু পাওয়া য়ায় কিনা
আমরা জানাবো। সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের ৬ তলায় আগুন লেগে তা উপরে ছড়িয়ে পড়েছে। আনুমানিক
রাত ১টা ৫০ মিনিটে ৭ নম্বর ভবনের ছয়তলায় আগুন
ধরে। ১টা ৫২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ১টা ৫৪ মিনিট থেকে তারা তাদের কাজ
শুরু করে। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন সর্ম্পূণ নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য
পাইপ নিয়ে সচিবালয়ের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় একজন ফায়ার ফাইটারের ট্রাকচাপায় মৃত্যু
হয়।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ
সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.
মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইর্মা ভ্যান
ডুরেন সৌজন্য সাক্ষৎ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনুস ডাচ রাষ্ট্রদূতকে
ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নেদারল্যান্ডসের নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ী সম্পম্প্রদায়সহ দেশটির
সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।
এ সময় ডাচ রাষ্ট্রদূত তাঁর দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, নেদারল্যান্ডস কৃষি, সামুদ্রিক সম্পদ, শিল্প, যুব, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, শ্রম, পরিবেশ এবং বন্যা ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।
অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কার
কর্মসূচির বাস্তবায়নে ড. ইউনূস নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতা চান।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, শ্রম খাত, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, বেসামরিক প্রশাসন ও ব্যবসায় পরিবেশ-প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়েও আলোচনায় উঠে আসে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কক্সবাজারের আশ্রয়
শিবিরগুলোতে বেড়ে ওঠা রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এমনভাবে দিতে হবে যেন
তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হয়।
ইর্মা ভ্যান ডুরেন উল্লেখ করেন- কৃষি, পানি ও
নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ সম্ভাবনাময় বেশ কিছু খাতে আরও বেশি ডাচ বিনিয়োগ নিয়ে আসার
জন্য সেদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানাবেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি
বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক (সিনিয়র সচিব) লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
মহাপরিচালক কাজী রাসেল পারভেজ, ডাচ উপ-রাষ্ট্রদূত থিজ ওয়ুডস্ট্রা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


১২ বছর বয়সী নুরে জারিন নুদার। বর্তমান সময়েরর ছেলে-মেয়েদের থেকে একটু আলাদা। যে বয়সে মেয়েরা মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত। ওই বয়সে ক্ষুদে এ শিক্ষার্থী হাতে কোরআন লিখে পার করছে ব্যস্ত সময়। তার গল্প শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে। এই মাদরাসা শিক্ষার্থীর কোনো ক্লাসে পড়তে হয়নি প্রাইভেট। মাত্র ১০ মাসে নির্ভুল ভাবে সে পুরো আল-কোরআন হাতে লিখেছেন। তার দৃষ্টিনন্দন হাতের লেখা দেখলে যে কারো চোখ আটকাবে। মনে হবে এটি কম্পিউটারে ছাপা লেখা। চোখ জুড়ানো হাতের লেখায় পবিত্র কোরআন লিখে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সে।
বর্তমানে নুদার বসুরহাট দারুল ইহসান গার্লস মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের সেপ্টম্বর মাসের ঘটনা। তখন ১০ বছর বয়সী নুদার বাড়ির পাশের ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। একদিন হঠাৎ মেয়ের সুন্দর আরবি হাতের লেখা চোখে পড়ে বাবার। এরপর তিনি মেয়েকে উদ্বুদ্ধ করেন পবিত্র কোরআন হাতে লিখতে। যে কথা, সেই কাজ। মেয়েকে প্রথমে এক রিম খোলা সাদা কাগজ এনে দেন তিনি। সেই থেকে শুরু। এরপর আস্তে আস্তে ১০ মাসে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নুদার কোরআন লিখে শেষ করেন। এরপর তার বাবা হাতে লিখা কোরআন শরীফ নিয়ে নুদারের মাদরাসার আরবী শিক্ষক মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান শরনাপন্ন হন। সেই থেকে নুদারের লেখা শেষে তিনি বানান সংশোধন করে পুনঃনিরীক্ষণ করে দিতেন। তার উৎসাহে ও সহযোগিতায় নুদারের লেখা আরও গতি পায়। পরবর্তীতে পান্ডুলিপি থেকে ১০ পারা করে তিন ভাগে পুর্ণাঙ্গ কোরআন বাঁধাই করা হয়। কোরআন লিখতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬১১টি এ ফোর সাইজের সাদা কাগজ ও ৫৫টি বলপেন কলম। মেয়ের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা-বাবা,দাদা-দাদী সহ এলাকাবাসী। মা-বাবার আশা মেয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে দেশবাসীর কল্যাণে দ্বীনি শিক্ষা প্রসারে কাজ করবে। নুরে জারিন নুদার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল এলাকার ছেলামত মঞ্জিলের মো.নুরুল হুদা মামুনের মেয়ে।
নুরে জারিন নুদার বলেন, বাবা-মায়ের উৎসাহে আমি চতুর্থ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় পবিত্র কোরআন মাজিদ লেখা শুরু করি। এরপর পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে আমার লেখা শেষ হয়। আমার এ লেখা দেখে মা-বাবা আমাকে মাদরাসায় পড়া লেখার পাশাপাশি এখন হিফজ বিভাগে ভর্তি করে দেয়। আমি দেশ বাসীর কাছে দোয়া চাই।
নুদারের বাবা মো.নুরুল হুদা, আমি প্রথমে আমার মেয়ের সুন্দর আরবি হাতের লেখা দেখে খুব আনন্দিত হই। আমারও তার শিক্ষকদের উৎসাহে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সে কোরআন নিজ হাতে লেখা শুরু করে। যখন এক পারা লেখা সম্পন্ন হতো তখন ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান আরবি বানান গুলো যাচাই বাচাই করে পুনঃনিরীক্ষণ করে দিতে। এভাবে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে পুরো কোরআন লিখে শেষ হয়। পরে পুনরায় আবার বানান পুনঃনিরীক্ষণ করে ১০ পারা করে তিন ভাগে বাধাই করা হয়। মেয়ের এমন কাজে আমি গর্বিত। এমন কাজে অন্য ছেলে মেয়েরা উদ্ধুদ্ধ হবে বলেও আমি আশা করি।
মা বিবি ফাতেমা বলেন, আমার মেয়ে নিজ হাতে কোরআন লিখেছে, আমরা তাকে উৎসাহ দিয়েছি। লেখার সময় অনেক সময় মনমানসিকতা অন্য রকম হয়ে যেত, তো লিখবো, লিখেনা। আবার মনমানসিকতা ঠিক করে আগ্রহ দিয়ে লিখতে বসত। বিশেষ করে ভালো কাজে শয়তানের প্ররোচনা থাকে। খাতা-কলমে দাগ টানা সহ বিভিন্ন ভাবে তাকে আমি সহযোগিতা করেছি। চার বছর বয়স থেকে সে নিয়মিত নামাজ পড়ে।
ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার নাজেমে তালিমাত, মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, কোরআন লেখার যে প্রাচীন নিয়ম রয়েছে। সে অক্ষরে অত্যন্ত সুনিপুন ভাবে নুদার ১০ মাসের প্রচেষ্ঠায় কোরআন হাতে লিখে সম্পন্ন করেন। ওই সময় আমি তার লেখার তত্বাবধান করি। বোঝার উপায় নেই, এটি হাতে লিখা না, না কম্পিউটারে লিখা। তার লেখা কোরআন পুরোটাই আমি পুনঃনিরীক্ষণ করি।
ইকরা আরাবিয়া মাদরাসা মোহতামিম মাওলানা মোতালেব হোসেন পারভেজ বলেন,নুরানী বোর্ডের সমাপনী পরীক্ষায় নুদার পুরো বাংলাদেশে দশম স্থান অর্জন করে। সে একজন মেধাবী ছাত্রী। তার স্বহস্তে কোরআন লেখার এ কৃতিত্বকে আমরা স্বগত জানাই।
বসুরহাট পৌরসভা ৯নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবিএম ছিদ্দিক বলেন, পবিত্র কোরআন হাতে লেখার উদ্যোগ নিয়ে সম্পন্ন করার কাজটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এতো সুন্দর ভাবে কোরআন লিখলেন সেটি আসলেই অবাক হওয়ার মতো ঘটনা। আমি তার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।
মন্তব্য করুন