

আজ
পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব জামায়াতে ইসলামী নেয়নি। এমনকি দলের কেউ আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল বলেও দাবি করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা
ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা বলিনি, আমাদের দলের এতজন শহীদ হয়েছেন। সেটা জনগণই তার সাক্ষী।
বৃহস্পতিবার
(৩০ জুলাই) দুপুরের দিকে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহীদ
পরিবার ও আহত জুলাই
যোদ্ধাদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতের
আমির বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল জামায়াত। জাতির প্রয়োজনেই দলটি বারবার মাঠে নেমেছে। আন্দোলনে আহত যোদ্ধারা আহত হওয়ার পরও পিছু হটেননি। কিন্তু জুলাই শহীদদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে; বরং তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
তিনি
আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। অথচ এখন রাষ্ট্রের প্রায় সবখানেই দলীয়করণ চলছে। প্রশাসনের এই নির্লজ্জ দলীয়করণ
জাতির জন্য লজ্জাজনক। বর্তমান সরকারও বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে এবং আগের সরকারের পথেই হাঁটছে।
জামায়াতের
আমির বলেন, গণভোট নিয়ে জামায়াতকে আপসের জন্য নানা ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়েছে। তবে দলটি কোনো প্রলোভনে পা দেয়নি। গণভোটের
গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত
সংসদ ও রাজপথ, উভয়
জায়গায়ই জামায়াত সোচ্চার থাকবে। অন্যায়ের কাছে জামায়াত কখনও মাথানত করবে না। জনরায় উপেক্ষা করে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সরকারকে সেই পথ থেকে সরে
এসে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তা বাস্তবায়নের আহ্বান
জানান তিনি।
তিনি
আরও বলেন, জনগণের অধিকার এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তবে যত নির্যাতন ও
হামলাই হোক না কেন, জনগণের
অধিকার আদায়ে জুলাই যোদ্ধা ও বিরোধীদলগুলো সোচ্চার
থাকবে।
মন্তব্য করুন


বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট ২০২৪) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসময় সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ ৬ টি হেলিকপ্টার সর্টির মাধ্যমে নোয়াখালী পুলিশ লাইন, নোয়াখালী, বেগমগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উল্লেখ্য, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৪ জন মুমূর্ষ রোগীকে উদ্ধারপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তর ও ১৩ জন ব্যক্তিকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হতে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ১৮৪০ কেজি ত্রান, বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বন্যা কবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩ টি ফিল্ড হাসপাতাল ও ১৮ টি মেডিকেল টিম বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
তন্মধ্যে, ফেনী জেলায় বন্যা কবলিত জনসাধারণকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। শুধুমাত্র ফেনী জেলায় দ্রুত চিকিৎসা সেবা পেতে নিম্নোক্ত ফোন নম্বরসমূহে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হলো :
০১৫৫৭৭০৩৫৬৬, ০১৩২৯৭৬৮০৬৬, ০১৪০৭০৯৫০৩৬
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


বিভিন্ন
রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা
অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
আজ
শুক্রবার (৯ মে) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে
বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী
কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা সরকার গুরুত্বের সাথে
বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে,
তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সকলকে
ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের
সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে। সে পর্যন্ত
সকলকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছে।
উল্লেখ্য,
ইতোমধ্যে সরকার জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রচলিত আইনের অধীনে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে
নিষিদ্ধ করেছে।
বিবৃতিতে
আরও বলা হয়, সরকারের পক্ষে থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাবেক
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগের বিষয়ে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি
ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমন সম্পর্কে জনমনে ক্ষোভের বিষয়ে সরকার
অবগত। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর
রয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুড়িগ্রামের
ফুলবাড়ীতে এক চীনা নাগরিক অভিযোগ করেছেন, বিয়ের দুই মাসের মাথায় তার বাংলাদেশি স্ত্রী
প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের মার্কিন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে উধাও
হয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে সোমবার রাতে তিনি ফুলবাড়ী থানায় যান। পরে তাকে সাভার
থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে বলা হয়।
চীনা
নাগরিক আন হংওয়েই বলেন, তার স্ত্রী মোর্শেদা খাতুন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে
চলে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত সহায়তা চেয়ে তিনি থানায় গিয়েছিলেন।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা মোর্শেদা খাতুন ঢাকার একটি
পোশাক কারখানায় চাকরির সময় আন হংওয়েইর সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক
গড়ে ওঠে। গত ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে গ্রামের
বাড়িতে এলে এলাকায় চীনা নাগরিককে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড়ও জমে।
মোর্শেদার
মা শাহানা বেগম বলেন, বিয়ের কয়েক দিন পর তার মেয়ে স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় চাকরির উদ্দেশ্যে
যান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। এ বিষয়ে তিনি অন্যদের কাছ থেকে শুনেছেন বলে জানান। আগামী
৩০ মে তারা দুজন একসঙ্গে চীনে যাওয়ার কথা ছিল।
ফুলবাড়ী
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে,
অভিযোগের ঘটনাটি ঢাকার সাভারে ঘটেছে। তাই আন হংওয়েইকে সাভার থানায় যোগাযোগের পরামর্শ
দেওয়া হয়েছে। ভাষাগত সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পুরোপুরি বোঝা না গেলেও ইশারার মাধ্যমে
তিনি অভিযোগের বিষয়টি জানান।
মন্তব্য করুন


অগ্নিকাণ্ডে
নিমিষেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাতটি বসতঘর ও মূল্যবান আসবাবপত্র আর কষ্টার্জিত নগদ টাকা।
তবে আশ্চর্যজনকভাবে ভস্মীভূত ছাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ অক্ষত রয়ে গেছে পবিত্র কোরআন শরীফের
প্রতিটি হরফ।
এই
ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ হবিরবাড়ী গ্রামের
খন্দকার পাড়া এলাকায়। সোমবার (১৮ মে) দুপুরের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার
ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোরআন শরীফের হরফ না পোড়ায় হতবাক হয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের মালিকানাধীন টিনশেড ঘর থেকে
হঠাৎ বিকট শব্দে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের
লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তবে ফায়ার সার্ভিস
পৌঁছানোর আগেই আগুন তীব্র আকার ধারণ করে আশরাফুল ইসলামের চারটি ঘর ও মিতু আক্তারের
তিনটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন
ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয়
কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও আগুনে আংশিক পুড়লেও পবিত্র কোরআন শরীফের ভেতরের হরফ বা
লেখাগুলো অক্ষত রয়ে গেছে, যা দেখে হতবাক হয়েছেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত
বাড়ির মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার বসতবাড়ির ৪টি ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার,
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমানে আমাদের মাথা গোঁজার
ঠাঁই বা এক মুঠো খাবারও অবশিষ্ট নেই। তবে এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আল্লাহর কালামের হরফগুলো
অক্ষত দেখে মনে এক অন্যরকম সান্ত্বনা পাচ্ছি।
অপর
বাসার মালিক মিতু আক্তারের মা জানান, হঠাৎ আগুন দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন, জীবনের
সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।
স্থানীয়
বাসিন্দা মাহফুজ খন্দকার বলেন, হঠাৎ লাগা এই আগুনে দুটি পরিবারের সবকিছু পুড়ে গেছে।
তারা এখন খোলা আকাশের নিচে একেবারে নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আগুনে সবকিছু শেষ
হলেও কোরআন শরীফের পাতাগুলোর এই অবস্থা সবাইকে বিস্মিত করেছে।
ভালুকা
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের
গাড়ি রওনা হয়েছিল। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে
নিয়ে আসে। ফলে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ফায়ার সার্ভিসের
পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন


বিশ্বকাপ
ফুটবলের আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারিংয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ফিফার সভাপতি ও ম্যাচ
রেফারির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় হাজির নোয়াখালীর এক যুবক। একইসঙ্গে তিনি
পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
অভিযোগকারী
মো. রাকিব (২২) নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৮ জুলাই)
রাতে তিনি সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। তবে বিষয়টি স্থানীয় থানার আইনগত
এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করেনি।
অভিযোগপত্রে
রাকিব উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা ও
মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় তিনি রেফারির একাধিক সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্ব
দেখতে পান। তার দাবি, অন্যায্য পেনাল্টি প্রদান, বৈধ গোল বাতিল এবং মিশরের খেলোয়াড়
ও কোচিং স্টাফের বিরুদ্ধে অন্যায্য সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করা
হয়েছে।
তিনি
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরসহ ১৫ থেকে ২০
জনকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। অভিযোগে বলা হয়, এসব সিদ্ধান্তে তিনি ও মিশরের সমর্থকেরা
মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই ফিফার কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং অভিযুক্তদের
বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
ঘটনাটি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। থানায় ফিফা সভাপতি
ও ম্যাচ রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার বিষয়টিকে অনেকেই ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়
ফুটবলপ্রেমী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ফুটবল নিয়ে আবেগ থাকতেই পারে। তবে আন্তর্জাতিক একটি
ম্যাচের রেফারিং নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেয়া সত্যিই ব্যতিক্রমী ঘটনা। বিষয়টি এলাকায়
ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
নোয়াখালী
জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন মিলকি বলেন, খেলাধুলায় জয়-পরাজয় থাকবে, আর রেফারির
সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব
নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে। খেলাকে খেলাধুলার মানসিকতায় গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সুধারাম
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, এক যুবক এমন একটি
লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংক্রান্ত এ ধরনের বিষয়ে
স্থানীয় থানার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে।
এদিকে,
বৃহস্পতিবার সকালে মো. রাকিব বলেন, ম্যাচে যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
আমি মনে করি, কোটি কোটি দর্শকের আবেগের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ নেয়নি,
তাই আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিও পালন
করব।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের
মধ্যে নির্বিঘ্ন নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের
নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ (৭ অক্টোবর) কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর বিদ্যমান পুরাতন
সেতুর পাশে ১১,৫৬০.৭৭ কোটি টাকার নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত
চলতি অর্থবছরের (অর্থবছর ২৫) তৃতীয় ও অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন
দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, দিনের বৈঠকে
মোট আনুমানিক ২৪ হাজার ৪১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া
হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ থেকে ৭,৭৪৬.৬৬ কোটি টাকা, প্রকল্প
সহায়তা থেকে ১৬,০১২.৩৩ কোটি টাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৫৩.৯৫ কোটি
টাকা আসবে।
অনুমোদিত চারটি
প্রকল্পের মধ্যে দু’টি নতুন ও দু’টি সংশোধিত প্রকল্প। এছাড়া বৈঠকে ব্যয় না বাড়িয়ে সাতটি
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয়
২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ।
মোট ১১,৫৬০.৭৭
কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৪,৪৩৫.৬২ কোটি টাকা আসবে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে
এবং বাকি ৭,১২৫.১৫ কোটি টাকা আসবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক
ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটিজ (ইডিপিএফ), কোরিয়া থেকে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান,
কালুরঘাটে বিদ্যমান সেতুটি পুরনো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় এ ব্যাপারে নতুন প্রকল্পের কথা বিবেচনা
করা হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার কক্সবাজারকে আরও উন্নত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর
করতে চায়। এছাড়াও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংলগ্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের
জন্যও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার মনে করেছে, এ ক্ষেত্রে একটি নতুন
প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।
পরিকল্পনা কমিশনের
একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে নির্বিঘ্ন
ও নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ
তৈরি করা। রেলপথ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে পুরানো ও জরাজীর্ণ কালুরঘাট
সেতু দিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারে না। এছাড়া মাতারবাড়ী
গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে, এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি এ রুটের
গুরুত্বও বাড়বে। ইতোমধ্যেই দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন চালুর মাধ্যমে ঢাকা ও কক্সবাজারের
মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে পর্যটন নগরীর সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ
নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পুরাতন সেতুর পাশে কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-সড়ক
সেতু নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে
এবং এইভাবে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে অনুমোদিত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের
আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। প্রস্তাবিত
প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে নির্বিঘ্ন
রেল যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নতুন সেতুটি নির্মিত হলে, এই অঞ্চলের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক
অঞ্চলে অবস্থিত কল-কারখানার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম
হবে। মূল প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৭০০ মিটার রেল-কাম-রোড ব্রিজ নির্মাণ,
৬.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২.৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪.৫৪ কিলোমিটার বাঁধ,
১১.৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজ।
অতিরিক্ত ৬,৫৭৩.৯৬
কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নের অনুমোদন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা
বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তিনি বলেন, এই বন্দরের
অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ভারতের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন,
মাতারবাড়ী বন্দরে প্রয়োজনীয় কাজ এখনো শুরু হয়নি এবং বন্দরের উন্নয়নে রাস্তা নির্মাণ
করা হবে।
সভায় অনুমোদিত
অন্য দুটি প্রকল্প হল- সাজেক রোড কানেক্টিভিটি, প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর
মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, ৩৭৬.৯৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত ও ৫,৯০১.২২২
টাকা দিয়ে রেসিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইইউটিডিপি)।
মন্তব্য করুন


টানা
বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে
হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শত শত মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে
আট মাস বয়সী এক শিশুকে বড় একটি পাতিলে বসিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২১
সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গলাসমান পানির মধ্যে টানানো একটি রশি ধরে এগিয়ে যাচ্ছেন
ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য। তার এক হাতে রশি, অন্য হাতে শিশুকে বসানো একটি বড় পাতিল।
পাশে থাকা আরেক সদস্য শিশুটির গায়ে বৃষ্টির পানি না লাগার জন্য পাতিলের ওপর ছাতা ধরে
হাঁটছেন। ব্যতিক্রমী এ উদ্ধার অভিযান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বাঁশখালী
ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্র জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চেচুরিয়া
ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে আট
সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে
আট মাস বয়সী ওই শিশুসহ পাঁচ শিশু ও আট নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে
নেওয়া হয়। পানির তীব্র স্রোত ও গভীরতার কারণে শিশুটিকে নিরাপদে বহনের জন্য বড় একটি
পাতিল ব্যবহার করা হয়।
বাঁশখালী
ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পানিবন্দি থাকার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী
দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। পানির গভীরতা ও স্রোতের কথা বিবেচনায় নিয়ে
শিশুটিকে বড় পাতিলে বসিয়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়। পরে অন্যদেরও উদ্ধার করে
আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
টানা
বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক
বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাঁশখালীও এর বাইরে নয়। উপজেলার বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল
প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে। পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির আরও
অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম মুরাদ, সংবাদদাতা
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরের চর নামক এলাকায় সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত থানা অভিযান চালিয়ে ১১০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে সানন্দবাড়ী থানা পুলিশ। সোমবার ভোর রাতে উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর গ্রামে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি আভিযানিক দল এই অভিযান চালায়।
পুলিশ জানায়, সীমান্তঘেঁষা পাথরেরচর এলাকার একটি ভুট্টার ক্ষেতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক মজুত করা হয়েছে—গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভারত থেকে আনা মাদকের চালানটি ফেলে রেখে চোরাকারবারিরা কৌশলে সটকে পড়ে। পরে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১১০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
দেওয়ানগঞ্জের সানন্দবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


নিম্নচাপের
প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে আবারও পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা
এড়াতে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে
সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও
মসজিদকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সোমবার
সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ
এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতেও নগরের বিভিন্ন
পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।
এদিকে
রোববার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায়
নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর চট্টগ্রামেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি
নিয়ে সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
জেলা
প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারির পর পাহাড়ধসের
ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
চট্টগ্রামের
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত
রয়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে
সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ নিজ এলাকায়
তদারকি করছেন। মাইকিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া
হয়েছে।’
তিনি
আরও বলেন, ‘নগরের আকবরশাহ এলাকার ঝিল-১, ঝিল-২ ও ঝিল-৩, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়
এবং বেলতলীঘোনা পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।’
চান্দগাঁও
সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘টাংকির পাহাড়, আমিন জুট
মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, সমসাময়িক গৃহ নির্মাণ এলাকা, মিয়ার পাহাড় এবং মুরাদপুর
রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এসব এলাকার নিকটবর্তী
কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
আগ্রাবাদ
সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান জানান, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি,
ঢেবারপাড়, আমবাগানসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা এবং উত্তর হালিশহর সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় মাইকিং
করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের
মতে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পাহাড় কেটে গড়ে
ওঠা বসতি কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ ঢালের নিচে বসবাসকারীদের কোনো অবস্থাতেই সেখানে অবস্থান
না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।
মন্তব্য করুন


আজ
সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের
নিকলিতে। একদিন আগে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল নওগাঁর
বদলগাছীতে।
বৃহস্পতিবার
(১১ জানুয়ারি) পৌষ মাসের ২৭ তারিখ। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা খুব বেশি কমার সম্ভাবনা
নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে আগামী সপ্তাহে হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন
তারা।
বৃহস্পতিবার
সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার
হোসেন বলেন, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত
থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর
পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক
যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এসময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র এটি অপরিবর্তিত
থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন