

ভারতের
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বহুল আলোচিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম
এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং
জবাবদিহির দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মুখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগপত্রে
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তার ভাষায়,
বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্মান বা ভাবমূর্তির নয়; বরং দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণদের স্বার্থ
রক্ষার প্রশ্ন।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত চিঠিতে তিনি লেখেন, দেশের গণতন্ত্রের শক্তি এবং তরুণদের
স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি তার অটল বিশ্বাস রয়েছে। তরুণরাই ভারতের ভবিষ্যৎ এবং একটি
উন্নত ভারতের নির্মাতা।
তিনি
আরও বলেন, দেশের তরুণদের শক্তি যেন বিভ্রান্তির জালে আটকে না পড়ে, সেই বিবেচনা থেকেই
তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দিল্লির যন্তর-মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে চলমান আন্দোলনের
প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিস্থিতির সুযোগ যেন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নিতে না পারে,
দেশের ঐক্য অক্ষুণ্ন থাকতে হবে এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায়।
এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে
পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
বিদায়ী
শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন,
দেশের সেবা করাই সবসময় তার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল এবং ভবিষ্যতেও ওডিশার জনগণ
ও দেশের তরুণদের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।
গত
জুনের শুরু থেকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। গত ২০ জুলাই
আন্দোলন বড় আকার ধারণ করে, যখন হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী দিল্লির যন্তর মন্তরে
সমবেত হয়ে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেন।
আয়োজকদের
দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় ছাত্র-যুব আন্দোলনগুলোর একটি ছিল এটি। আন্দোলনের
মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের
সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের
পদত্যাগ।
পরবর্তী
সময়ে দিল্লির বাইরে মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও সংহতি মিছিল ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনের সময় কয়েকটি স্থানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আন্দোলনকারীদের
আটক এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান সিজেপি নেতারা।
ভারতের
মেডিকেল কলেজে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম বড় পরীক্ষা নিটে প্রশ্নফাঁস ও
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ
সৃষ্টি হয়। অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো একাধিক তদন্ত শুরু করে এবং বিষয়টি
আদালতেরও নজরে আসে।
গত
২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, সরকারি পরীক্ষার পবিত্রতা নষ্টকারীদের
বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর শাস্তি’ নিশ্চিত করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের
আশ্বস্ত করে বলেন, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। জাতীয় গণতান্ত্রিক
জোট (এনডিএ) সংসদীয় দলের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর
এই বার্তা গণমাধ্যমে তুলে ধরেন।
আন্দোলনে
নতুন মাত্রা যোগ করেন শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। পরবর্তীতে
তার শারীরিক অবস্থার অবনতি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং অনশন ভাঙার আহ্বান দেশজুড়ে ব্যাপক
আলোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে
আন্দোলন তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলও বিভিন্ন মাত্রায় সমর্থন
জানায়। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, নিট পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে চলছে
এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিজেপির
দাবি, তাদের আন্দোলন শুধু নিট পরীক্ষার অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর
জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশের তরুণদের বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধানের বৃহত্তর
দাবির অংশ।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
বোয়ালখালীতে বসতঘরের দরজা ভেঙে আলমারিতে রাখা ৫ ভরি স্বর্ণের গয়না ও ৫০ হাজার টাকা
চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার
(২৫ জুলাই) এই বিষয়ে বোয়ালখালী থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. জালাল উদ্দিন।
মো.
জালাল উদ্দিন উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শাকপুরা গ্রামের আমির
হামজা সওদাগর বাড়ির বাসিন্দা। তিনি বলেন, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ঘরের
দরজা তালাবদ্ধ করে স্ত্রীকে নিয়ে কধুরখীলে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যা ৭টার
দিকে ঘরে ফিরে দেখি দরজা ভাঙা, আলমারি খোলা। সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো পড়ে রয়েছে। চোরের
দল আলমারিতে থাকা প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের ৫ ভরি স্বর্ণের গয়না এবং নগদ ৫০ হাজার
টাকা নিয়ে গেছে।
বোয়ালখালী
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে
পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক
মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনসকে (বিসিপিএস)
কার্যকরী ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়েছেন।
(২৪ জুন) সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড
সার্জনস (বিসিপিএস)-এর নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ এর বিষয়টি নিয়ে
ব্রিফ করে ।
প্রেস সচিব জানান, বিসিপিএস এর কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাতকালে বিসিপিএস-এর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব
দেন। তিনি বিসিপিএস এর একাডেমিক কার্যক্রম ও ডিগ্রি প্রদানের সার্বিক প্রক্রিয়া রাষ্ট্রপতিকে
জানান।
বিসিপিএস এর কার্যকরী ভূমিকা রাখা নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসা মানুষের অন্যতম
মৌলিক অধিকার। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও
দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার
পাশাপাশি হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও তাগিদ দেন।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি
করা গেলে চিকিৎসা সেবার জন্য বিদেশমুখীতার প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি মূল্যবান বৈদেশিক
মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। জনগণও কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।
অধ্যাপক সহিদুল্লা জানান, বিসিপিএস থেকে ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৮১৫ জন চিকিৎসক ফেলাশিপ
(এফসিপিএস) এবং ৩ হাজার ৭৯১ জন চিকিৎসক মেম্বারশীপ (এমসিপিএস) লাভ করেছেন। বাঙালি জাতির
পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৬ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে যুক্তরাজ্যের
রয়েল কলেজগুলোর আদলে বিসিপিএস প্রতিষ্ঠা করেন।
এই কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য
ভূমিকা রাখছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুতির এক মাস পূর্তিতে দিনটিকে
স্মরণীয় করে রাখতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘শহীদী মার্চ’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পৌনে ৪টায়
মার্চটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু হয়। এর আগে বেলা ২টা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিভিন্ন হল এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল
নিয়ে বিভিন্ন টিএসসির দিকে আসতে থাকে। এ সময় তাদের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিভিন্ন
স্লোগান দিতে দেখা যায়।
জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
শুরু হয়ে এই মার্চ নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, কলাবাগান, ধানমন্ডি, সংসদ ভবন, ফার্মগেট,
কারওয়ান বাজার, শাহবাগ হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ হবে।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) দুপুরে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মার্চে শহীদদের স্মরণ
করে ছবি, উক্তিসহ বিভিন্ন স্মারক নিয়ে ছাত্র-জনতাকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নেওয়ার আহ্বান
জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা নিজ
জায়গা থেকে শহীদী মার্চে অংশ নেবে।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগরসহ দেশের প্রতিটি
জেলা ও উপজেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শহীদী মার্চ পালনের কথা জানান। সরকার পতনের এক
মাস পূর্তি উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের শহীদদের
ছবি থাকতে পারে। যে কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব কথা প্ল্যাকার্ডে
থাকতে পারে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কী চাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
কাছে কী চাই- এসবও থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন


চীনের
‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।
দেশটির বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলক ফিউশন চুল্লির জন্য তৈরি সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকের গুরুত্বপূর্ণ
পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। এই চুম্বকই ভবিষ্যতের ফিউশন শক্তি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি
হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনা
বিজ্ঞান একাডেমির প্লাজমা পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটে ৫৮২ টন ওজনের এই সুপারকন্ডাক্টিং
চুম্বকের মূল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এটি এমন একটি চুম্বক, যা সূর্যের কেন্দ্রের চেয়েও
বেশি উত্তপ্ত প্লাজমাকে চুল্লির দেয়ালে স্পর্শ না করিয়ে স্থির রাখতে সাহায্য করবে।
চীনের
‘কৃত্রিম সূর্য’ হলো এমন একটি পরীক্ষামূলক ফিউশন চুল্লি,
যার মাধ্যমে সূর্যের মতো নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়া পৃথিবীতে পুনরায় তৈরি করার চেষ্টা
করা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে পরিষ্কার ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা।
নিউক্লিয়ার
শক্তির দুটি প্রধান প্রক্রিয়া হলো ফিশন ও ফিউশন। ফিশনে ইউরেনিয়ামের মতো ভারী পরমাণু
ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে ফিউশনে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মতো হালকা পরমাণু একত্রিত
হয়ে বিপুল শক্তি তৈরি করে।
বিজ্ঞানীরা
পরীক্ষাগারে ফিউশন বিক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম হলেও তা দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ
উৎপাদন করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
সূর্যের
কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় চাপ
পরমাণুগুলোকে কাছাকাছি এনে ফিউশন ঘটায়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন মহাকর্ষ নেই।
তাই
বিজ্ঞানীরা প্লাজমার তাপমাত্রা প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ান, যাতে
হাইড্রোজেনের পরমাণুগুলো দ্রুত সংঘর্ষে ফিউশন তৈরি করতে পারে। কিন্তু এত উত্তপ্ত প্লাজমাকে
কোনো সাধারণ বস্তু দিয়ে আটকে রাখা সম্ভব নয়।
এই
কারণে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে প্লাজমাকে একটি অদৃশ্য খাঁচার মধ্যে আটকে
রাখা হয়।
চীনের
তৈরি টোকামাক আকৃতির ফিউশন চুল্লিতে ১৬টি বিশাল ডি-আকৃতির সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বক ব্যবহার
করা হবে। এগুলো ৬.৫ টেসলা শক্তির চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করবে, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের
চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী।
প্রতিটি
চুম্বকের আকার প্রায় ২১ মিটার বাই ১২ মিটার এবং ওজন ৫৮২ টন। এটি এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে
বড় সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন চুম্বকগুলোর একটি।
একদিকে
১০ কোটি ডিগ্রি, অন্যদিকে মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি
এই
প্রযুক্তির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো একই চুল্লিতে দুটি বিপরীত তাপমাত্রা বজায় রাখা।
ফিউশন
চুল্লির ভেতরে প্লাজমার তাপমাত্রা প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও সুপারকন্ডাক্টিং
চুম্বককে রাখতে হয় প্রায় মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এটি সম্ভব হয় বিশেষ
শূন্যস্থান নিরোধক ও অতিশীতলীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে।
চীনের
এই চুম্বকের বিশেষত্ব হলো—এর সব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান দেশটির নিজস্ব
প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ফিউশন গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের
ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে বেইজিং।
এর
আগে চীনের পরীক্ষামূলক উন্নত সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক (ইস্ট) যন্ত্র ১০ কোটি ডিগ্রি
সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমা ১ হাজার ৬৬ সেকেন্ড ধরে রাখার বিশ্ব রেকর্ড করেছিল।
চীনের
লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালে ফিউশন চুল্লির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা এবং ২০৩০ সালের
মধ্যে ফিউশন শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন
বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো মানবজাতির জন্য বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন


পরিবার
নিয়ে কিশোরগঞ্জের হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন ফিজিওথেরাপিস্ট বাছির উদ্দিন
মিলন। নৌকায় ভ্রমণের একপর্যায়ে করিমগঞ্জ উপজেলা শেষ সীমান্তে মিঠামইনের হাসানপুর ব্রিজ
এলাকায় একটি সড়কের কাছে নৌকা থামিয়ে তারা গোসল করতে নামেন।
গোসল
করার সময় হঠাৎ পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় তার মেজো মেয়ে মন্ত্রী আক্তার। মেয়েকে
বাঁচতে হাওরের পানিতে ঝাঁপ দেন তিনি। প্রাণপণ চেষ্টায় মেয়েকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন
মিলন। কিন্তু মেয়েকে বাঁচানোর পর তীব্র স্রোতের সঙ্গে আর পেরে ওঠেননি বাছির। কিছুক্ষণের
মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যান তিনি। পরে স্থানীয়দের চেষ্টায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একটি পরিবারের আনন্দভ্রমণ কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পরিণত হয় আজীবনের শোকে।
শুক্রবার
(২৪ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের বালিখলা হাওরের পাশে মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর
ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ সার্কিট
হাউসের সামনে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মৃত
বাছির উদ্দিন মিলন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল পেট্রোল পাম্প এলাকার মো. আবু বাক্কার
মাস্টারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট।
করিমগঞ্জ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেয়েকে
উদ্ধার করতে গিয়ে বাছির উদ্দিন মিলন পানিতে তলিয়ে মারা গেছেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায়
তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নিরাপত্তা
কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে
পিজিআরের শব কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ
রোববার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, 'একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর
আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকার প্রধানকে
জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যেন নিজেদেরকে
সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি
আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।'
তিনি
বলেন, 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরা এই রেজিমেন্টে
দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট
সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারত্ব, আনুগত্য ও শৃংঙ্খলার
সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যরা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ
নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরের দক্ষতা ও একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার
প্রত্যাশা।'
পিজিআরের
কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার
দায়িত্ব পালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদের নানারকমের পরিস্থিতির
মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা
আপনাদের নিঃসন্দেহে একটি সুশৃংঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।'
সুশৃঙ্খলতার
স্বীকৃতিস্বরূপ পিজিআর চলতি বছর 'ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড' পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছে
উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের
জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারও অভিনন্দন জানাই। যেকোনো প্রতিকূল
পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।'
সশস্ত্র
বাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে
বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।'
তিনি
বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা
অনুসরণ ও পেশাদারত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনোই হুমকির মুখে পড়বে
না।'
পিজিআরের
প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি আশা করব, পিজিআরের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর
সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি
প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং
সর্বোপরি "চেইন অব কমান্ড" অনুসরণ কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।'
একটি
বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে
থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের
বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের
ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার,
ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।'
তিনি
বলেন, 'এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই
আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।'
তারেক
রহমান বলেন, 'সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে
সরকার আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা
হচ্ছে।'
বক্তব্যের
শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাষ্ট্রপতি
এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে 'রাষ্ট্রপতির
দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ
করেছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর
জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর 'রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট'কে 'প্রেসিডেন্ট
গার্ড রেজিমেন্ট' হিসেবে নামকরণ করেন। নতুন এ নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরও দৃঢ়
ও গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।'
পিজিআরের
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনার কথা
তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর
রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট
জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিলেন।
আজকের এই বিশেষ দিনে আমি পিজিআরের সেই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে
তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।'
তিনি
বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার
প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত
হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে
যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি পিজিআর সদর
দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এসময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের
সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়
করেন।
উল্লেখ্য,
প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫
সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত
এই বাহিনী গঠিত হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের
মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।
পিজিআর
মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এটি বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির
দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে।
মন্তব্য করুন


কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক মসজিদ হচ্ছে পাগলা মসজিদ। কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এ মসজিদটির ৯টি লোহার দানবাক্স রয়েছে।
প্রতি ৩মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার ৩ মাস ২০ দিন পর দানবাক্সগুলো খুলে ২৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।
শনিবার ( ৯ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় ২৩ বস্তা টাকাসহ বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনার গয়না পাওয়া গেছে। এখন গণনার কাজ চলছে।
এ সময় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, টাকা গণনা কাজে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ.টি.এম ফরহাদ চৌধুরী, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) শেখ জাবের আহমেদ, সহকারী কমিশনার রওশন কবীর, মাহমুদুল হাসান, সামিউল ইসলাম, আজিজা বেগম, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান, রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলাম, ব্যাংকের ৫০ জন স্টাফ, মাদরাসার ১১২ জন ছাত্র, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়।
এতে বলা হয়, টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের পানির কারণে দেশের নয়টি জেলা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। এতে পানি উঠেছে মহাসড়ক ও রেললাইনে। ফলে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সাথে আরো বলা হয় যে, আকস্মিক বন্যায় সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনেক জায়গায় রেলপথ ডুবে গেছে। এমন অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সকল আন্তনগর, কমিউটার ও মেইল ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
এদিকে
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল,
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও আজ সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে
অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণজনিত কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও
কোথাও ভূমিধসের শঙ্কাও রয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বিআরটিসি বাস উল্টে অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ জাকির সিকদার।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী বিআরটিসি বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের মাঝখানের আইল্যান্ডের ওপর উঠে যায়। একপর্যায়ে বাসটি উল্টে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ১০ জন আহত হন।
বাসের এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করেই বাসটি দুলতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি আইল্যান্ডের ওপর উঠে উল্টে যায়। এ সময় যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন।
পরে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ জাকির সিকদার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম ও সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ।
কয়েকটি চক্র রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু কর্মচারী, সহজ ডটকমের অসাধু কর্মকর্তা, সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করতো । এছাড়া সংরক্ষণ করা জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো এসব চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব -৩।
গ্রেফতাররা হলেন- ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. সেলিম (৫০), তার প্রধান সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম (৬২), অবনী সরকার সুমন (৩৫), মো. হারুন মিয়া (৬০), মো. মান্নান (৫০), মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু (৫০), মো. ফারুক (৬২), মো. শহীদুল ইসলাম বাবু (২২), মো. জুয়েল (২৩) ও মো. আব্দুর রহিম (৩২)।তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তম চন্দ্র দাস (৩০), তার প্রধান সহযোগী মো. মোর্শিদ মিয়া ওরফে জাকির (৪৫), আব্দুল আলী (২২) ও মো. জোবায়েরকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার ২৪৪টি আসনের টিকিট, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং টিকিট বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।তিনি বলেন, অনলাইনে বা রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়। টিকিট কালোবাজারিরা বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে অবৈধভাবে নিজেদের কাছে মজুত করে রেখে সাধারণ যাত্রীদের কাছ দেড় থেকে দুই গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং এই রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ এই ভ্রমণে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এ রুটে ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। টিকেটের চাহিদা বেশি থাকায় টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়; অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় এই রুটের ট্রেনের টিকিট। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে ২-৩ গুণ দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়।চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ার এবং টিকিট কালোবাজারিরা বেশি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও কালোবাজারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রদান করেছে ।
স্টেশনে কুলি, টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা সেলিম এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তমের নেতৃত্বে এ চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা নিশিথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। গ্রেফতার সেলিম এবং উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা প্রথমত ট্রেনের কাউন্টারে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ যাত্রী, রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করত।
যাত্রীদের এনআইডি সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে কাটা হতো টিকিট:
এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে চারটি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। এছাড়াও কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীদের দিয়ে বিভিন্ন সাধারণ যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় এনআইডি সংগ্রহ করে রাখে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে সংরক্ষণকৃত প্রতিটি এনআইডি দিয়ে চারটি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে থাকে।
প্রতিদিন ৫০০ টিকিট সংগ্রহ করতো তারা:
এভাবে তারা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকিট সংগ্রহ করতো। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে নিজেরা লাইনে দাড়িয়ে এবং কৌশলে লাইনে অপেক্ষমান টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি ব্যবহার করে চারটি টিকিট কিনে তিনটি টিকিট নিজেরা তার কাছ থেকে টাকা দিয়ে টিকিটগুলো কিনে নিতো।
সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ:
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ঈদ, পুজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেফতাররা রেলস্টেশনে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের কাছে সংরক্ষিত জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটানো হতো:
কমান্ডার মঈন বলেন, পাশাপাশি গ্রেফতাররা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতো। গ্রেফতাররা স্টেশনে থাকা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট সংগ্রহ করতো। এসব টিকিটের মূল্য কাউন্টারের বুকিং কর্মচারীদের সঙ্গে তারা ভাগ করে নিতো। ফলে রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে গ্রেফতাররা অবৈধভাবে বিভিন্ন পন্থায় বিপুল সংখ্যক ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতো।
গ্রেফতারকৃত সেলিম ও উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা উপযুক্ত সময় বুঝে সংগ্রহকৃত টিকিট নিয়ে রেলস্টেশনের ভেতরে অবস্থান করে। রেলস্টেশনে এসে টিকিট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে গ্রেফতাররা টিকিট বিক্রির জন্য ঘুরাঘুরি করে এবং বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে। এছাড়াও ট্রেন ছাড়ার সময় যত সন্নিকটে আসতে থাকে তাদের মজুত করা কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে এবং সুযোগ বুঝে অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের দাম দিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়।
ঈদের সময় ৪ গুণ দামে টিকিট বিক্রি:
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রেফতাররা প্রতিটি টিকেট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে। প্রতিটি টিকিট তারা দেড় গুণ থেকে দুই গুণে বিক্রি করে এই লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ পায় গ্রেফতাররা নিতো এবং বাকি ৫০ শতাংশ কাউন্টারে থাকা বুকিং কর্মচারী ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহজ ডটকমের কর্মচারী-কর্মকর্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হতো।
৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে সেলিম:
কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেফতার সেলিম দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় টিকিট কালোবাজারির দায়ে সাতটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেছেন তিনি। সে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় আবার টিকিট কালোবাজারির কার্যক্রমে লিপ্ত হয়।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত কাশেম:
তিনি বলেন, গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি গ্রেফতার সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী। মূলত তার দায়িত্ব ছিল কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা। এর আগে তিনি মাদক মামলাসহ একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।
এছাড়াও গ্রেফতার অবনী সরকার ও হারুন মিয়ার দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। একইভাবে মান্নান এবং আনোয়ার ওরুফে ডাবলুর দায়িত্ব ছিল সিলেট এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। ফারুক এবং শহীদুল ইসলাম বাবুর দায়িত্ব ছিল ভৈরব ও কিশোরগঞ্জের কাস্টমার দেখাশোনা করা। জুয়েল এবং আব্দুর রহিমের দায়িত্ব ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার যাত্রী সংগ্রহ করা। এছাড়াও গ্রেফতারদের সবার বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির মামলা রয়েছে।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে উত্তম:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার উত্তম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার সহযোগী গ্রেফতার আলী ও ফারুকসহ রাজধানীর আশকোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং এই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রেলস্টেশন এলাকায় সবসময় অবস্থান করে টিকিট কালোবাজারি চক্র গড়ে তোলে।
উত্তমের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির দায়ে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও টিকিট কালোবাজারির কাজে লিপ্ত হন।
মন্তব্য করুন