

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলীতে দুই ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
আজ শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহত দু’জন হলেন— উথলী গ্রামের মাঝেরপাড়ার মৃত খোদা বক্স মণ্ডলের দুই ছেলে আনোয়ার (৫৫) ও হামজা (৪৫) ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এরপর সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে নিজেদের কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে ব্রিজ মাঠে যান মিন্টা ও হামজা। সে সময় আগে থেকেই ওতপেতে থাকা ৫ থেকে ৭ জন দুর্বৃত্ত দেশিয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা ওই দুই ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
আরও জানা যায়, এ হামলায় ঘটনাস্থলেই মারা যান হামজা। এ সময় স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মিন্টাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সদর হাসপাতালে তারও মৃত্যু হয়।
নিহতদের আরেক ভাই তোতা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘গত এপ্রিল মাসে নিজামুদ্দিন খোকা নামের এক ব্যক্তি আমাদের একটি গরু মুখে বায়না করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দেয়ায় আমরা গরুটি বিক্রি করে দেই। এরপর থেকেই খোকা ও তার লোকজন আমাদের হুমকি দিতে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার সেই বিরোধের জেরেই ওরা আমার দুই ভাইকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেললো। আমরা আগেই পুলিশের কাছে জানিয়েছিলাম, কিন্তু কিছু হয়নি। আজ আমার ভাইরা আর বেঁচে নেই।’
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘রক্তাক্ত ও শঙ্কাজনক অবস্থায় আনোয়ার হোসেন মিন্টা জরুরি বিভাগে আসে। এরপর চিকিৎসা দিয়ে তাকে ভর্তি করানো হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।’
তিনি বলেন, ‘এছাড়া মো. হামজাকে জরুরি বিভাগে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালে নেয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে। হামজার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে।’
চুয়াডাঙ্গা সহকারি পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। হামলাকারীরা ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।’
এদিকে দুই ভাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডে উথলী গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মন্তব্য করুন


বিপিএলের দ্বাদশ আসরে এবার প্রথমবারের মতো খেলা খেলতে নামছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দলটি ইতিমধ্যেই তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের পদে নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশকে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে ফেসবুকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিষয়টি নিশ্চিত করে। পোস্টে লেখা ছিল, “ওরে রোকেয়ারে তুই কোনাই? আইতো নোয়াখালী এক্সপ্রেসে করি বিপিএলে চলি আইছি!”
জিয়াউল হক পলাশ ধারাবাহিক নাটক ব্যাচেলর পয়েন্টে ‘কাবিলা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
এদিকে, নোয়াখালী এক্সপ্রেস তাদের দলে ইতোমধ্যেই কয়েকজন স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন হাসান মাহমুদ, সৌম্য সরকার, জনসন চার্লস এবং কুশল মেন্ডিস।
নিলামের মাধ্যমে দলটি আরও বেশ কিছু ক্রিকেটার অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাদের মধ্যে আছে: জাকের আলী (৩৫ লাখ), মাহিদুল ইসলাম (৩৫ লাখ), হাবিবুর রহমান (৫০ লাখ), নাজমুল ইসলাম (১৮ লাখ), আবু হাশিম (১৮ লাখ), মুশফিক হাসান (১৮ লাখ), শাহাদাত হোসেন (১৮ লাখ), রেজাউর রহমান (১৮ লাখ), মেহেদী হাসান (১৪ লাখ), সৈকত আলী (১৪ লাখ), সাব্বির হোসেন (১৪ লাখ), ইহসানউল্লাহ (২৮ হাজার ডলার) এবং হায়দার আলী (২৫ হাজার ডলার)।
দলের প্রস্তুতি এখনো চলমান, এবং সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা
জেলার সীমান্ত এলাকা হতে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) কর্তৃক সর্বমোট ৮৫,৬৬,৮৮০/-
(পঁচাশি লক্ষ ছেষট্টি হাজার আটশত আশি) টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার বাজি
জব্দ করা হয়েছে।
কুমিল্লা
ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত
অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ মে কুমিল্লা জেলার
সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আওতাধীন শিবের বাজার বিওপি এবং কটক বাজার পোস্টের
বিশেষ টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী পৃথক পৃথক অভিযান
পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে সীমান্তের শূন্য লাইন হতে আনুমানিক ৪ কিঃ মিঃ এর মধ্যে
বিজিবি টহল দল কর্তৃক মালিক বিহীন অবস্থায় ৪,২৮,৩৪৪ পিস অবৈধ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার
বাজি আটক করা হয়। যার সর্বমোট মূল্য- ৮৫,৬৬,৮৮০/- (পঁচাশি লক্ষ ছেষট্টি হাজার আটশত
আশি) টাকা।
উল্লেখ্য,
জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস এ জমা করা হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায় সাপের কামড়ে তানজিনা আক্তার নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি হোমনা উপজেলার গোয়ারি ভাঙ্গা এলাকার আলী আহমেদের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী।
আজ (২৬ জুন) সকালে তাদের নিজ বাড়িতে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় তানজিনাকে সাপে কাটে। তবে সাপটিক কোন প্রজাতির তা জানাতে পারেনি কেউ।
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সাপে কাটা তানজিনাকে এন্টিভেনম দেয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তার পরিবার সেটি না মেনে তাকে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে কাজ না হয় আবার হাসপাতালে ফেরার পথেই তার মৃত্যু হয়।
তানজিনার স্বামী আলী আহমেদ বলেন, সকাল আনুমানিক ৭ টায় নিজ
বাড়ির বিছানাতেই শুয়েছিল তানজিনা। এ
সময় তার বাম পায়ে আঙ্গুলে সাপের ছোবল টের পায়। উঠে খাটের নিচে তাকাতেই কালো রঙের একটি সাপকে চলে যেতে দেখে। পরে
তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে তাকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ সকাল ৮
টায় নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঔষধ দেওয়ার পর সেখান থেকে
স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে
'পানপড়া' খাওয়ানোর
জন্য নিয়ে গেলে সেখান থেকে তানজিনাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ফেরার
পথে তানজিনার শারীরিক অবস্থা আরো অবনতি ঘটলে তাকে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নেয়া হয়। হাসপাতালে
নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। তবে কি সাপে কেটেছে
বলতে পারছিনা। তবে সাপটি কালো রঙের ছিল।
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার রাশেদুল ইসলাম বলেন, সাপে কাটা রোগী তানজিনা আসার পর তাকে অ্যান্টিভেনম এর ডোজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকাকালীন সময়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাবার জন্য জোরাজুরি করে এবং নিয়ে যায়। পরে শুনেছি তাকে মৃত অবস্থায় আবার হাসপাতালে আনা হয়েছে। সাপটি কি ধরনের সেটি তিনি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেননি।
তবে তিনি জানান, তানজিনাকে কেটেছে তা বিষধর ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, তানজিনাকে যখন নিয়ে আসে তখন তার শরীরে বিষক্রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গও দেখা গেছে। তার চোখের পাতা বারবার পড়ে আসছিল এবং গলা শুকিয়ে আসছিল। চিকিৎসকরা তাকে এন্টিভেনম দেয়ার মাঝামাঝি সময়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে যায়। পরে আবার হাসপাতালে আনলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে খিচুড়ি নিয়ে বিরোধের জের ধরে শালধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আল-আমিনকে হত্যার দায়ে মোঃ নেয়ামত উল্লাহ নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
রোববার (৩১ মার্চ) দুপুরবেলা কুমিল্লার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোছা: ফরিদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন: কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানাধীন শালধর (সামারচর) গ্রামের মোঃ মোসলেম সরদারের ছেলে মোঃ নেয়ামত উল্লাহ (১৮)।
মামলার বিবরণে জানাযায়, ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী মাগরিবের নামাজের শেষে শালধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ভিকটিম আল-আমিন (৯) মাহফিলের কথা বলে বাড়ীতে ফিরে না আসায় তাঁর পিতাসহ আত্মীয় স্বজন বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি করে না পেয়ে পরদিন কোতয়ালী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে পরেরদিন শালধরের জৈনক দেলোয়ার হোসেন এর বাগানের পাশে পুকুরে ছোট শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে শোর চিৎকার করে মোঃ আল আমিন এর পিতা। আল-আমিন এর মরদেহ পুকুর থেকে উপরে তুলে দেখেন আল-আমিনের ঘাড়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ ব্যাপারে ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী ভিকটিম মোঃ আল আমিন এর পিতা বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী থানাধীন শালধর গ্রামের মৃত মালু মিয়ার ছেলে মোঃ ফয়েজ আহমেদ ও অজ্ঞাতনামা আসামি করে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সারওয়ার আলম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি মোঃ নেয়ামত উল্লাহ (১৮) ও মোঃ শাহ জাহানকে আটক করে।
পরবর্তীতে মামলাটি বিচারে আসলে রাষ্ট্রপক্ষে ১৫জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানি অন্তে আসামি মোঃ নেয়ামত উল্লাহ এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিধানমতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০১ ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপর আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী এপিপি মোঃ জাকির হোসেন বলেন, আশা করছি উচ্চ আদালত উক্ত রায় বহাল রাখবেন।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বজ্রপাতে সিরাজ মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের পাঁচানি গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
সিরাজ মিয়া উপজেলার পাঁচানি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, পাচানী গ্রামে সবজি তুলছিলেন কৃষক সিরাজ মিয়া। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হাসান খান বলেন, বজ্রপাতে সিরাজ মিয়া নামে একজনের মৃত্যুবরণ করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। তাই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ উপজেলা ও সেনানিবাস এলাকা) আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বুধবার (২৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ ও একাধিক উঠান বৈঠকে অংশ নেন।
বিকাল ৩টা থেকে তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের দিশাবন্দ লক্ষিনগর চৌমুহনী এলাকায় গণসংযোগ করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দিশাবন্দ এলাকায় আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা বিশ্বরোড অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগরীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান।
ওয়ার্ড সভাপতি ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও দিশাবন্দের কৃতি সন্তান ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান, দিশাবন্দ কেন্দ্র পরিচালক আরিফুর রহমান, জামায়াত নেতা মাওলানা হারিস, ওমর ফারুক, মাস্টার এনায়েত উল্লাহ, সগির আহমদ, আব্দুর রহিম, জামাল হোসেন, রবিউলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন— “দেশের রাজনীতি থেকে অন্যায়, দুর্নীতি ও অবিচার দূর করতে হলে ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অঙ্গীকারবদ্ধ।”
এরপর তিনি কুমিল্লা নগরীর ১২নং ওয়ার্ডে আয়োজিত আরেক উঠান বৈঠকে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১২নং ওয়ার্ড আমীর জাফর আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন কাউন্সিলর প্রার্থী ও ওয়ার্ড সেক্রেটারি হাফেজ হুমায়ুন কবির।
বিশেষ অতিথি ছিলেন অঞ্চল সহকারী পরিচালক মো. নুরে আলম বাবু, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল নোমান, মনিরুজ্জামান, আকবর হোসেন, কাইয়ুম খন্দকার, মাহবুবুর রশিদ, এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়া একই দিন সন্ধ্যায় সদর দক্ষিণ উপজেলার ৩নং গলিয়ারা ইউনিয়নের বাটেরা গ্রামে অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলা আমীর মো. মিজানুর রহমান এবং ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান।
বৈঠকে ১নং ওয়ার্ড সভাপতি আবু তাহের, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি মনিরুল ইসলাম, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল হালিম, ১নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি আবুল কালাম, শ্রমিক কল্যাণ ওয়ার্ড সভাপতি জিয়াউর রহমান, সমাজসেবক সফিকুল ইসলাম, আব্দুল মুমিন মাস্টার, মগবুল মিয়া, ফিরোজ মিয়া, মাওলানা আব্দুল মুমিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া
সংস্থার সহযোগীতায় মাস ব্যাপী ডেভেলপমেন্ট
কাপ অনূর্ধ্ব ১৫ (বালক) ফুটবল
প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার
(২৫ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ
দত্ত স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার
সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন।
জেলা
ক্রীড়া অফিসার নাজিম উদ্দিন ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের
সাধারণ সম্পাদক বাদল খন্দকার, জেলা
ফুটবল এসসোয়িশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাহের চৌধুরী সেন্টু ও জেলা ফুটবল
এসোসিয়েশনের সদস্য সারোয়ার জাহান।
প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন জেলা ফুটবল দলের কোচ সুজিত হালদার ও মাহাবুবুল আলম তুহিন। মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের জন্য ৩০ জন খেলোয়াড়কে বাছাই করা হয়।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে নকলের চিরকুট, মোবাইল ফোন ও গাঁজাসহ তিন ছাত্রকে
আটক করেছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদের মধ্যে দুজনকে বহিষ্কার করা হয় এবং অপর পরীক্ষার্থীকে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ছয়মাসের সাজা দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের হল পরিদর্শনকালে এসব ঘটনা ঘটে।
কেন্দ্র সচিব ও ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ ড. আব্দুল আউয়াল মোল্লা বলেন, আজ এইচএসসির ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষা চলছিল। তখন শ্রাবন মোল্লা নামে এক পরীক্ষার্থী গাঁজাসহ হলে প্রবেশ করে। এ সময় পাঁচরুখি কলেজের ওই ছাত্রকে মাদক আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্টেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিমন সরকার। অপরদিকে একই কলেজের পরীক্ষার্থী সাইদ ও সলিমদ্দিন চৌধুরী কলেজের পরীক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম তুরজুকে নকলের দায়ে বহিষ্কার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান মাহমুদ রাসেল।
এ বিষয়ে ইউএনও আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, পরীক্ষার হলে নকলের চিরকুট, মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করায় দুইজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একজনের কাছে গাঁজা পাওয়ায় তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ছয়মাসের সাজা দেয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন খাবার হোটেলে মাদক বিরোধী অভিযানে ১১ জন মাদক ব্যবসায়ী
ও একজন আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু গাঁজা ও ইয়াবা সহ আটক করেছে র্যাব-১১ সিপিসি-২।
গতকাল (২৮ জুন) সকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২
একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন ছুপুয়া
এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন খাবার হোটেলে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে
তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃত আসামীরা হলো: ১। বাবলু মিয়া
(২৩), পিতা-জাকির হোসেন, সাং-আইরল, থানা-সরাইল, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া; ২। বিল্লাল হোসেন
(২২), পিতা-মাহবুল হক, সাং-ছুপুয়া দূর্গাপুর, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা; ৩। মোঃ
মুন্না হোসেন (২২), পিতা-মোঃ রেজাউল করিম, সাং- আলিপুর, থানা-সাতক্ষীরা সদর, জেলা-সাতক্ষীরা;
৪। মোঃ সাইফুল ইসলাম কামাল (১৯), পিতা-মৃত লোকমান হোসেন, সাং-মহিশ্বর, থানা-নাঙ্গলকোট,
জেলা-কুমিল্লা; ৫। মোঃ সোহাগ (২৫), পিতা-আব্দুল খালেক, সাং-শফিবাদ, থানা-কচুয়া, জেলা-
চাঁদপুর; ৬। মোঃ ফয়সাল (২০), পিতা-আব্দুল বারেক, সাং-পানিপাড়া, থানা-চান্দিনা, জেলা-কুমিল্লা
৭। ইমরান হোসেন বাবু (২৫), পিতা-মাহবুল হক, সাং-শহীদপুর, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা;
৮। মোঃ সালমান হোসেন (১৯), পিতা-মৃত শহীদুল ইসলাম, সাং-মাঝিআলী, থানা- বাঘারপাড়া, জেলা-যশোর;
৯। মোঃ শাহেদ হাসান (২০), পিতা-মৃত কবির হোসেন, সাং-পানিপাড়া; ১০। মোঃ হুমায়ুন হোসেন
(২০), পিতা-মোঃ আবুল বাশার, সাং-ছুপুয়া দূর্গাপুর, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা;
১১। মোঃ কাওসার (২২), পিতা-মৃত লোকমান হোসেন, সাং-মহিশ্বর, থানা-নাঙ্গলকোট, জেলা-কুমিল্লা’দেরকে
গ্রেফতার করা হয় এবং আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু ১২। মোঃ জসিম উদ্দিন (১৬), পিতা-মোঃ
জাফর আলী, সাং-পশ্চিম নোয়াগাও, থানা-লালমাই, জেলা-কুমিল্লা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭৭০
গ্রাম গাঁজা ও ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানান, আসামীরা ও আইনের সহিত
সংঘাতে জড়িত শিশু দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের
পার্শ্ববর্তী খাবারের হোটেল গুলোতে ট্রাকের ড্রাইভার ও হেল্পারদের নিকট মাদক বিক্রয়
করে আসছিল। কিছু হোটেলের মালিক/ম্যানেজারগণ খাবার হোটেলের ব্যবসার সাথে সাথে মাদক ব্যবসার
সাথেও জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়। ট্রাকের চালকেরা খাবার খাওয়া এবং বিশ্রামের জন্য উক্ত
খাবার হোটেল গুলোতে বিরতি নিয়ে থাকে। বিরতিকালে ড্রাইভার এবং হেলপাররা হোটেল গুলো থেকে
মাদকদ্রব্য ক্রয় করে এবং সেবন করে। মাদক সেবী ট্রাকের ড্রাইভাররা নেশাগ্রস্থ অবস্থায়
রাতে মহাসড়কে গাড়ি চালায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়কে সড়ক দূর্ঘটনার
হার আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে
র্যাব-১১, সিপিসি-২ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং অভিযান পরিচালনা করে মাদক বিক্রয়কালে
অবৈধ মাদক সহ আসামীদেরকে হাতেনাতে গ্রেফতার ও আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে আটক করে।
মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত
আসামী ও আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল,কুমিল্লা:
১৯৭১ সালের ১৮ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দেউশ মন্দভাগ বাজারে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে।
১৯৭১ সালের ১৪ অক্টোবর সালদা নদীতে প্রথম আক্রমণের পর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সি’ কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ওহাবের ৭ নং প্লাটুনকে দেউশ-মন্দভাগ এলাকায় প্রতিরক্ষা অবস্থান নিতে নির্দেশ দেন। এলাকাটি দক্ষিণ-পশ্চিমে চান্দলা খাল ও দক্ষিণ-পূর্বে সালদা নদী ঘিরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সুবেদার ওহাবের নেতৃত্বে প্রায় ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা, ২টি এমজি, ৭-৮টি এলএমজি এবং ৬০ মি.মি. মর্টারসহ দৃঢ় প্রতিরক্ষা অবস্থান গ্রহণ করেন।
শত্রুপক্ষ ৩৩ বালুচ রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি ১৭ অক্টোবর রাতে সালদা নদী পথে অগ্রসর হয়। ১৮ অক্টোবর ভোরে চান্দলা খালে মাছ ধরায় নিয়োজিত আবু মিঞা প্রথমে শত্রুর নৌবহরের শব্দ শুনে মুক্তিযোদ্ধাদের সতর্ক করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শত্রুর প্রথম নৌকাটি প্রতিরক্ষা অঞ্চলে প্রবেশ করলে নায়েক আতাউর রহমান গুলি চালিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। মুহূর্তেই মুক্তিবাহিনীর সব পোস্ট সক্রিয় হয় এবং সুবেদার ওহাব নিজে এমজি পজিশনে থেকে ফায়ার নিয়ন্ত্রণ করেন। ভয়াবহ গুলিবর্ষণে পাকিস্তানি সেনাদের ৭-৮টি নৌকা ধ্বংস হয়, বহু সেনা নিহত ও আহত হয়। ভোরের আলো ফোটার পর সুবেদার ওহাব ও তাঁর সহযোদ্ধারা লে. সীমাসহ প্রায় ১৫-২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। নিহত এক হাবিলদারের পকেট থেকে উদ্ধারকৃত চিঠিতে লেখা ছিল- “এখানে মুক্তিবাহিনী নামক বাহিনী আচমকা এসে আক্রমণ করে পালিয়ে যায়, এদের দেখা যায় না।”
এই চিঠি মুক্তিবাহিনীর গেরিলা কৌশলের সার্থকতা প্রকাশ করে।
আহতদের মধ্যে হাবিলদার আকরাম নামের এক সৈনিক জানায়, তাদের নৌকায় মেজর আফ্রিদি ছিলেন যিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হন। সুবেদার ওহাব আহত আকরামকে হত্যা না করে চিকিৎসার জন্য ক্যাম্পে পাঠান—যা মুক্তিবাহিনীর মানবিক আচরণের উদাহরণ।
অতঃপর সকাল ৯টার দিকে পাকিস্তানি বাহিনী পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে প্রতিআক্রমণ শুরু করে। সুবেদার ওহাবের এমজি ও এলএমজি পোস্ট থেকে গুলি ও মর্টার বর্ষণে শত্রু ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে পিছু হটে যায়। এরপর শুরু হয় আধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আর্টিলারি গোলাবর্ষণ, যা অধিকাংশই খাল ও বিলের পানিতে গিয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ হতাহত না হলেও তাদের দৃঢ় অবস্থান শত্রুকে হতাশ করে।
দুপুরে শত্রু ৪টি হেলিকপ্টার নিয়ে আকাশ থেকে গুলি বর্ষণ করে। এই হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হলেও মুক্তিযোদ্ধারা অক্ষত থাকে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও সুবেদার ওহাব পরে হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠান।
এই অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৫০-৫২ জন নিহত ও ৫০-৫৫ জন আহত হয়, যার মধ্যে ২ জন অফিসারও ছিলেন। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একক অভিযানে শত্রুপক্ষের সর্বাধিক হতাহতের অন্যতম নজির। পাকিস্তানি সেনারা পরবর্তীতে সুবেদার ওহাবকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ধরিয়ে দিলে ৫০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে।
দেউশ-মন্দভাগ অভিযান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়—যেখানে সুবেদার ওহাবের নেতৃত্ব, মুক্তিযোদ্ধাদের কৌশল, সাহস ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছিল যে আধুনিক অস্ত্র নয়, স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষাই বিজয়ের মূল শক্তি।
মন্তব্য করুন