

রাজধানী
ঢাকার সকালটা আজ ছিল ধূসর। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে জিয়া উদ্যান। প্রকৃতি যেন নিজেই নীরব
শোকে আচ্ছন্ন। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতার বুক চিরে একটি জায়গায় ভিড়, আবেগ, ভালোবাসা আর
মানুষের দীর্ঘশ্বাস-বেগম খালেদা জিয়ার কবর।
দাফনের
চার দিন পেরিয়ে গেলেও স্মৃতির টান কমেনি। বরং কুয়াশাকে উপেক্ষা করেই সকাল থেকে মানুষ
ছুটে আসছেন প্রিয় নেত্রীর সমাধিস্থলে। কেউ ফুল হাতে, কেউ শুধু নিঃশব্দ দোয়া নিয়ে।
আজ
সমাধিস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর নানা প্রান্ত এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা
থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে আসছেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও স্কুল-কলেজের
শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রিয় নেত্রীকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
ফুলে
ঢেকে যাচ্ছে কবরের বেদি। কেউ মাথা নিচু করে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ চোখ বন্ধ করে
দোয়ায় মগ্ন। পাশের মাইক থেকে ভেসে আসছে পবিত্র কোরানের তিলাওয়াত। সেই ধ্বনি যেন কুয়াশার
মধ্যেও হৃদয়ে পৌঁছে যাচ্ছে।
কবরের
পাশে স্থাপিত ছোট মঞ্চে মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা কোরআন পাঠ করছেন। বাতাসে ভেসে থাকা
সেই আয়াতের সুর পুরো পরিবেশকে আরও ভারী ও আবেগময় করে তুলেছে।
বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কর্মী মঞ্জুরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, “খালেদা জিয়া আমাদের কাছে
শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন-তিনি আমাদের বিশ্বাস, সাহস আর ভালোবাসার নাম। তাঁর আদর্শেই
রাজনীতির পথে এসেছি। তাই তাঁর কবরেই বারবার ফিরে আসি।”
রায়েরবাগ
থেকে আসা রাফিউল বাসসকে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন নির্ভেজাল নেত্রী। তিনি
নিজের জন্য কিছু চাননি, বরং আজীবন দেশ, মাটি ও মানুষের কথা বলেছেন। আজ এখানে এসে মনে
হচ্ছে- আমরা আমাদের নেত্রীর কাছে অতি সামান্য হলেও ঋণ শোধ করছি।”
এক
তরুণ কর্মী কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ নীরবে। তিনি বাসসকে বলেন, “খালেদা জিয়ার
চলে যাওয়া এখনো বিশ্বাস করতে পারি না। যখন বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই তাঁকে দেখে আসছি।
তাঁর বক্তব্য শুনেছি, মিছিলে হেঁটেছি। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।”বিএনপির
পাশাপাশি সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফুলেল শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
কুয়াশার
শহরে এই কবর আজ শুধু একটি সমাধি নয়। এটি হয়ে উঠেছে ভালোবাসা, রাজনীতি আর স্মৃতির এক
নীরব মিলনস্থল- যেখানে মানুষ বারবার ফিরে আসে, চোখ ভেজায়, মন হালকা করে।
এই
কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ হারানো নেত্রীকে খোঁজে, কেউ নিজের বিশ্বাসকে নতুন করে শক্ত
করে। কেউ আবার সন্তানের হাত ধরে দেখিয়ে দেয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কুয়াশা
যত ঘনই হোক, মানুষের হৃদয়ের এই টানকে ঢেকে রাখতে পারে না। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার
আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে গত
৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মন্তব্য করুন


চাঁদাবাজি
করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বহিষ্কৃত চার নেতার সাত দিনের
রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদের একজন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদেরও (বাগছাস)
বহিষ্কৃত নেতা।
আজ
রোববার (২৭ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমান
শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের
বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় তাদের রিমান্ডে পাঠানো হলো।
আসামিরা
হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না,
সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম, সাদাব ও আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ। এদের মধ্যে রিয়াদ বাংলাদেশ
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
গ্রেপ্তারের
পর গতকাল সংগঠন দুটি থেকে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে চাঁদা
নিতে গেলে ওই বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এদিন
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান আসামিদের ১০
দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন।
জানা
গেছে, সম্প্রতি শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি
করেন পাঁচ যুবক। তিনি পলাতক থাকায় তার স্বামীর কাছে এ চাঁদা দাবি করা হয়।
কয়েক
দিন আগে তারা ওই বাসায় গিয়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে আসেন। গতকাল রাত ৮টার দিকে তারা আবার
ওই বাসায় যান স্বর্ণালঙ্কার আনতে। সে সময় বাড়ির লোকজন পুলিশকে খবর দিলে রিয়াদসহ সমন্বয়ক
পরিচয় দেওয়া পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
এ
ঘটনায় শাম্মি আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর গুলশান থানায় ছয় জনকে এজাহারনামীয় আসামি
করে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ১৭ জুলাই আসামি আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ ও কাজী গৌরব অপু
নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বাদীর গুলশান- ২ এর বাসায় হুমকি ধামকি দিয়ে ৫০ লাখ টাকা
ও স্বর্ণালঙ্কার চাঁদা দাবি করেন।
অপারগতা
প্রকাশ করলে তাকে আওয়ামী লীগের ও স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর হুমকি
দেন। ভয়ে তাদের ১০ লাখ টাকা দেন তিনি। পরে ১৯ জুলাই পুনরায় বাকি ৪০ লাখ টাকার জন্য
হুমকি দেন।
এরপর
২৬ জুলাই চাঁদা নিতে আসলে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আটক করে। তবে এর আগে কাজী গৌরব অপু
পালিয়ে যায়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লা জেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর বশির, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনউদ্দিন চিশতি, বিএডিসি (সেচ) নির্বাহী প্রকৌশলী রুবাইয়াত ফয়সাল আল মাসুম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান হীরা, সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন, কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
সভায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাস্তা ও ড্রেনের অবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যানজট সমস্যা সমাধানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই শহীদদের কবরের নির্মাণকাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া গৃহহীন জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য ঘর নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, মুরাদনগর উপজেলায় আহত ও গৃহহীন জুলাই যোদ্ধার জন্য ইতোমধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকতে হবে।” তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নথিপত্র সংরক্ষণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক দপ্তরকে নিজ নিজ কার্যালয়ের নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে।
সভায় কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান বলেন, নির্বিচারে কৃষিজমি ধ্বংস করা হচ্ছে। ড্রেজার ও এক্সকেভেটর ব্যবহার করে ইটভাটার জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) তুলে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, টপ সয়েল তৈরি হতে ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় লাগে। এই টপ সয়েল রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে কৃষিজমি নিচু ও অনুর্বর হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকল দপ্তর প্রধানকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ পুলিশের ৪ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেছেন উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন— অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার মো. শাহরিয়ার, এসবির পুলিশ সুপার ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মাসুম বিল্লাহ তালুকদার, পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) মো. জান্নাতুল হাসান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্ণিত কর্মকর্তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে যোগদানপত্র প্রেরণ করবেন। জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ যোগদানের তারিখ হতে কার্যকর হবে।
মন্তব্য করুন


দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা পরিবার কল্যাণ সমিতি।
সেপকসের পৃষ্ঠপোষক, লেডিস ক্লাব ও চিলড্রেন ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সারাহনাজ কমলিকা জামান আজ জলসিঁড়ি এলাকার শেখ রাসেল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে প্রধান অতিথি থেকে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সেপকসের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংগঠনের সকল সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, সেপকসের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক শাখাসমূহের মাধ্যমে দেশব্যাপী শীতার্ত গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সেনাসদরে কর্মরত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সহধর্মিনীগণ, সেপকস ঢাকা অঞ্চলের সভানেত্রী, সেপকস ঢাকা অঞ্চলের পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যগণ, অফিসারগণ; অন্যান্য পদবির সেনাসদস্যগণ; বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ ।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
২০১৫ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পেট্রোল বোমা হামলা ও কাভার্ডভ্যানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হত্যাসহ তিনটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তৎকালীন সরকারের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক মামলা বিবেচনায় প্রত্যাহারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাকি আসামিদের মামলাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. কাইমুল হক রিংকু।
তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুরে একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় আট যাত্রী নিহত হন। ওই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি পৃথক মামলা করে পুলিশ। মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ মামলায় বাদী ছিলেন চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা নুরুজ্জামান হাওলাদার। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুই মামলার শুনানিতে বেগম খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা প্রমাণ না হওয়ায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক সফিকুল ইসলাম তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। কারণ সে সময় বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় বালুর ট্রাক দ্বারা অবরুদ্ধ ছিলেন।
অপরদিকে ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামের হায়দারপুর এলাকায় কাভার্ডভ্যান পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নাশকতার মামলায়ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়। পরে এ মামলায় আরও ১০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এ মামলারও বাদী চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান হাওলাদার। এ মামলাতেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা না পাওয়া যাওয়ায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আফরোজা শিউলি তাকে অব্যাহতি দেন।
কাইমুল হক রিংকু আরও জানান, মামলা তিনটি বিগত আওয়ামী সরকারের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা বিবেচনায় প্রত্যাহারের জন্য আইন মন্ত্রণালয় আবেদন করা হয়। মন্ত্রণালয় সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলা তিনটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এখন থেকে খালেদা জিয়া ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় কোনো মামলা নেই।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যান সেনাপ্রধান। সেখানে তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দাতব্য সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের
নতুন ভবনের উদ্বোধন করেছেন।
সোমবার
(৩ মার্চ) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে রাজধানীর কাকরাইলে আঞ্জুমান জে আর টাওয়ার নামের নতুন
এ ভবনটির উদ্বোধন করা হয়।
নতুন
ভবন উদ্বোধন শেষে প্রধান উপদেষ্টা এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করেন।
প্রধান
উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও আলী ইমাম মজুমদার,
আঞ্জুমান মুফিদুলের সভাপতি মুফলেহ আর. ওসমানী ও সহ-সভাপতি গোলাম রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের তাঁর দেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন।
আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রতিনিধিদলের আলোচনার পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রামোস-হোর্তা বলেন, আমি মনে করি আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও পণ্য আমদানি করতে পারি এবং বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে তিমুর-লেস্তে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাই। আগামী বছর আমরা আসিয়ানের সদস্য হব এবং সেইসাথে ৭০০ মিলিয়ন জনগোষ্টির অঞ্চলের অংশ হয়ে উঠব। আগামী বছর তিমুর-লেস্তে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হবে। তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ তাঁর দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবে।
রামোস-হোর্তা বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত নেতা, যিনি এখনও সক্রিয়ভাবে অফিসে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে নেলসন ম্যান্ডেলা, জন এফ কেনেডি, মহাত্মা গান্ধী, ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারের মতো বিশ্ব নেতাদের সাথে তুলনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, খুবই ভাগ্যবান যে এমন একজন নিরহঙ্কার ও বিনয়ী মানুষ দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি আপনাদের তরুণদের সাথে কাজ করছেন দেশের পরিববর্তনের জন্য।'
বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের জনগণের ভোগান্তির ইতিহাস প্রায় একই রকম উল্লেখ করে তিমোর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ দৃঢ়চেতা, পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও সফল।
অধ্যাপক ইউনূসকে তার ভাই, বন্ধু ও পরামর্শক উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে তাকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এখানে এসে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট এবং তার সফরসঙ্গীরা গতকাল রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস তাকে গার্ড অব অনার এবং গান স্যালুটের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান।
আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রতিনিধিদলের আলোচনার পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রামোস-হোর্তা বলেন, আমি মনে করি আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও পণ্য আমদানি করতে পারি এবং বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে তিমুর-লেস্তে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাই। আগামী বছর আমরা আসিয়ানের সদস্য হব এবং সেইসাথে ৭০০ মিলিয়ন জনগোষ্টির অঞ্চলের অংশ হয়ে উঠব। আগামী বছর তিমুর-লেস্তে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হবে। তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ তাঁর দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবে।
রামোস-হোর্তা বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত নেতা, যিনি এখনও সক্রিয়ভাবে অফিসে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে নেলসন ম্যান্ডেলা, জন এফ কেনেডি, মহাত্মা গান্ধী, ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারের মতো বিশ্ব নেতাদের সাথে তুলনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, খুবই ভাগ্যবান যে এমন একজন নিরহঙ্কার ও বিনয়ী মানুষ দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি আপনাদের তরুণদের সাথে কাজ করছেন দেশের পরিববর্তনের জন্য।'
বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের জনগণের ভোগান্তির ইতিহাস প্রায় একই রকম উল্লেখ করে তিমোর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ দৃঢ়চেতা, পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও সফল।
অধ্যাপক ইউনূসকে তার ভাই, বন্ধু ও পরামর্শক উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে তাকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এখানে এসে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট এবং তার সফরসঙ্গীরা গতকাল রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস তাকে গার্ড অব অনার এবং গান স্যালুটের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান।
মন্তব্য করুন


ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আজ (২২ মার্চ) থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মার্চ) বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বোর্ডিং পয়েন্ট বা কাউন্টার থেকে যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই আন্তঃজেলা সব বাস কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীরা অনলাইনের মাধ্যমে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেছেন, বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী বাসের ভাড়া নেওয়া হবে। ভাড়ার তালিকার বাইরে বাড়তি ভাড়া নেওয়া যাবে না। সব বাস মালিকদের সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ই-টিকিট কেনা যাত্রীদেরকে জানানো হয়েছে, রাস্তায় সৃষ্ট জ্যামের কারণে ও গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে যাত্রার সময় পরিবর্তন হতে পারে। তাই বিষয়টি জেনে টিকিট ক্রয় করতে অনুরোধ করা হলো ।
মন্তব্য করুন


পাকিস্তানের যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান (সিজেসিসি) জেনারেল
সাহির শামশাদ মির্জা গতকাল (শনিবার) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে তাঁরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক
সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন
বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক
সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেনারেল মির্জা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নানা খাতে সহযোগিতা
আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য,
যোগাযোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
‘আমাদের দুই দেশ একে অপরকে সহায়তা করবে,’ বলেন জেনারেল
মির্জা।
তিনি আরও জানান, করাচি ও চট্টগ্রামের মধ্যে দুইমুখী
নৌপথ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা-করাচি আকাশপথও চালু হবে।
দুই পক্ষ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে উত্তেজনা প্রশমনের
প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের
অপব্যবহারের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার প্রবণতার চ্যালেঞ্জ নিয়েও মতবিনিময়
হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য
এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই বিপদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা
ড. খলিলুর রহমান, সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে
নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
মন্তব্য করুন