

মুকুল বসু , বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের একটি গ্রামের কৃষকেরা চোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। রাতে ওই গ্রামের বিভিন্ন মাঠ থেকে সেচ মোটর চুরি হওয়ার পর অনেক কৃষক চোরের ভয়ে সেচ মোটর মাঠ থেকে খুলে এনে বাড়িতে রেখে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাসে ময়না ইউনিয়নের কেওয়াগ্রাম থেকেই চুরি হয়েছে ২০-২২টি বৈদ্যুতিক সেচ মোটর। এসব বৈদ্যুতিক সেচ মোটর নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই গ্রামের শতাধিক কৃষক। ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, যারা পুরাতন মোটর ক্রয়-বিক্রয় করে তাদের কাছে চুরির সাথে জড়িতদের তথ্য থাকতে পারে। এছাড়া বৈদ্যুতিক কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকও এই চুরির কাজে জড়িত থাকতে পারে। ময়না ইউনিয়নের কেওয়াগ্রামের কৃষক হামিদুল্লাহ সিকদার বলেন, গত ১৬ এপ্রিল আমার সেচ পাম্পটি চুরি হয়ে যায়। এতে আমার কয়েক বিঘার জমিতে সেচ নিয়ে সমস্যায় পড়েছি। দিনদিন সেচ মোটর চুরি বেড়েই চলেছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। একই গ্রামের আরেক কৃষক রেজাউল করিম বলেন, ‘পানি সেচ দেওয়া নিয়ে ভয়ে আছি। মোটর সংযোগ করলেই নিয়ে যাচ্ছে চোর চক্র। কিছুদিন আগে আমাদের একটি মোটর নিয়ে যায় চোর। ওই সেচ পাম্পের আওতায় থাকা কয়েক একর জমিতে বোরো ধানের আবাদে পানি সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মৃধা বলেন, 'আমাদের কেওয়াগ্রামের নূর ইসলাম, মুনাফ সিকদার, ওমর মোল্যা, শাফি শিকদার, ওসমান মৃধাসহ গত দুই মাসে অন্তত ২০টি বৈদ্যুতিক সেচ মোটর চুরি হয়েছে। এতে কৃষকেরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। আমরা চোরের উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ ব্যাপারে ময়না ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক মৃধা বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা নেই। চুরির ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগও করেনি।
মন্তব্য করুন


সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের আপনজনের মঙ্গল কামনায় মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর ২০২৩) দ্বিতীয়দিনে কুমিল্লা মহানগরীর লাকসাম রোডস্থ মহেশাঙ্গণে লোকনাথের আরাধনায় নিমগ্ন থেকে এই ব্রত পালন করেন জেলার বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত প্রায় সাড়ে ৮ শতাধিক লোকনাথ অনুসারী ভক্ত ও পূর্ণ্যাথী। এ সময় প্রদীপ, ধুপ, ফল, ফুল সামনে নিয়ে একাগ্রচিত্তে নারী-পুরুষ, শিশু-তরুণ-বৃদ্ধ নির্বিশেষে মগ্ন থাকেন আরাধনায়।
জানা যায়- প্রাণঘাতী রোগ কলেরা-বসন্তের হাত থেকে বাঁচার জন্য কার্তিক মাসে উপবাস পালন এবং আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘিয়ের প্রদীপ ও ধূপ-ধুনা জ্বালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বাবা লোকনাথ। সেই থেকে বিপদ-আপদ, রোগবালাই থেকে মুক্তি পেতে ও আপনজনের কল্যাণ কামনা করে লোকনাথ অনুসারী ও ভক্তরা পালন করে থাকেন ‘রাখের উপবাস’। কার্তিক ব্রত কোন কোন স্থানে ‘গোসাইর উপবাস’ নামেও পরিচিত এই ব্রত। প্রতি বছরের ১৫ কার্তিকের পর মাসের বাকি সময়ের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার লোকনাথ অনুসারীরা এই ব্রত পালন করেন। প্রতিবছর ঘটা করে এ উৎসব পালিত হয়। বিকেল ৩টা হতেই দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা মহেশাঙ্গণে এসে জড়ো হন।
কুমিল্লা মহেশাঙ্গণ লোকনাথ স্মৃতি তর্পণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক হারাধন ভৌমিক ও লোকনাথ যুব সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র দাস এর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ব্রতের আগের দিন সংযম করতে হয়। তারপর উপবাস থেকে সন্ধ্যায় আগে ধূপ-প্রদীপ ইত্যাদি নিয়ে বসতে হয়। আরাধনায় বসে প্রদীপ জ্বালানোর পর কথা বলা বন্ধ করে দিতে হয়। সংযম, মনোব্রতের মাধ্যমে একাগ্রচিত্তে লোকনাথকে ডাকতে হয়। প্রদীপ আলো নিভে গেলে মন্দির থেকে ফলফলাদি ও চড়ুই প্রসাদ দেওয়া হয় পূণ্যার্থীদের। তারা বলেন- আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি লোকনাথ যুব সেবা সংঘের প্রায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
মহেশাঙ্গণে আসা একজন ব্রতী/পূর্ণ্যাথী ইতি রাণী ভৌমিক বলেন, আমি আজকে উপবাস থেকে আমার পরিবারের সকলের মঙ্গল কামণাসহ আপনজনের মঙ্গল কামনায় এখানে এসেছি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করতে।
ওই অনুষ্ঠানে বাবার লোকনাথের পাঁচালী পাঠ করেন অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ ভট্টাচার্য।
এ-সময় উপস্থিত ছিলেন, লোকনাথ স্মৃতি তর্পণ সংঘের সভাপতি ননী গোপাল পাল, সহ-সভাপতি প্রলয় সিংহ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ রায় চৌধুরী পার্থ এবং লোকনাথ যুব সেবা সংঘের সিনিয়র সদস্য এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার প্রমুখ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, লোকনাথ স্মৃতি তর্পণ সংঘ ও লোকনাথ যুব সেবা সংঘের সদস্যবৃন্দসহ হাজার হাজার দর্শণ্যার্থী।
মন্তব্য করুন


বরিশালে টিসিবির গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত ৫১ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের টিসিবির সিল তুলে বাইরে অতিরিক্ত দামে বিক্রির চেষ্টাকালে ১ ডিলারকে হাতেনাতে ধরে সেইসঙ্গে টিসিবির ওই ৫১ লিটার তেল জব্দের পাশাপাশি ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
জানা যায়, তেলের বোতলগুলো টিসিবির কার্ডধারি গ্রাহকদের মধ্যে বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু সেই টিসিবির তেল গ্রাহকদের না দিয়ে উল্টো টিসিবির সিল তুলে বেশি দামে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।
শনিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল নগরের বিএম কলেজ এলাকার টিপু এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় বিভিন্ন ব্রান্ডের বোতলজাত ৫১ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয় টিসিবির সিল কাটা অবস্থায়।
অভিযুক্ত দোকান মালিক ও টিসিবির ডিলার আরিফুর রহমান বলেন, নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের টিসিবির ডিলার তিনি। যে তেলের বোতলগুলো বিক্রি হয়নি সেগুলোর সিল ভুল বসত কেটেছে তার কর্মচারী। বাইরে বেশিদামে বিক্রির জন্য এমন কাণ্ড ঘটানো হয়নি বলেও দাবি তার।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী জানান, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে দোকানদার। বিভিন্ন ব্রান্ডের ৫১ লিটার সয়াবিন তেল জব্দের পাশাপাশি ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এছাড়া টিসিবির সঙ্গে কথা বলে ডিলারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী।
মন্তব্য করুন


মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর):
সারাদিনের মধ্যে ভাপা পিঠার প্রয়োজনীয় সব কিছু জোগাড় করে বিকেল থেকে দিনের আলোয় কাজ করছেন মমতাজ বেগম। আর সন্ধ্যা নামতেই কৃত্রিম আলো জ্বালানো হলে পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পিঠার দোকানের কাছেই ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন। দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের বিরামপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকায় এভাবে গরম চুলোয় পিঠা তৈরি করে বিক্রয় করতে দেখা যায়।
দেশের উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় শীতের প্রকোপ বেশি হয়ে থাকে। শীতের আগমনী বার্তা পেয়ে পিঠা বিক্রেতাদের
পরিবারে সুখের দিন ফিরে আসে। ভোররাত
থেকে কুয়াশার সঙ্গে কিছুটা শীত এবং বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আগে শীত অনুভব করা যায়। তারপরও শীতের এই আমেজকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয় পিঠা। পিঠা বাঙালি সংস্কৃতির এক অংশ। শীতের সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা খাওয়া গ্রামের চিরায়ত দৃশ্য হলেও এমন দৃশ্য পৌরশহরে চোখে পড়ে। ব্যস্ত শহুরে জীবনে ঘরে পিঠা তৈরি করা কষ্টসাধ্য হলেও রাস্তার পাশে ও মোড়ের দোকানে পিঠা পাওয়া যায়। তাই শীত মৌসুমে পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় পিঠার দোকান গড়ে ওঠে।
এ বছরও শীতকে ঘিরে পৌরশহরে মৌসুমি পিঠা বিক্রেতাদের প্রস্তুতির কমতি নেই। দিনভর পিঠার আটাসহ অন্যান্য উপকরণ তারা তৈরি করেন। আর বিকেল হলেই রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ
স্থানে হরেক রকমের পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রাত ১০টা পর্যন্ত সেই পিঠা বিক্রি চলে। আর পিঠা বিক্রির আয়েই এসব খেটে খাওয়া মানুষের সংসার চলে। বলা যায়, শীত মৌসুমে তিন মাস পিঠা বিক্রি করেই তারা উপার্জন করে থাকেন।
বিরামপুর উপজেলার, কলাবাগান মোড়, হাসপাতাল মোড় , মহাসড়কের পাশে মুক্তিযোদ্ধা
কমপ্লেক্স এর পশ্চিমে,অবসর সিনেমা মোড়, পশু হাটের মোড়, থানার রাস্তার মোড়সহ পূর্ব পাড়া,ইসলাম পাড়ার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন অলিতে গলিতে বিকেল থেকেই পিঠা বিক্রেতারা রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ
স্থানে অবস্থান করেন। কেউ ভ্যানে করে আবার কেউ নির্দিষ্ট স্থানেই শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করেন। পরিবারের কাজকর্ম শেষ করে বেশিরভাগ অসহায় দরিদ্র পরিবারের নারীরা এ পেশায় ব্যাস্ত হয়ে পড়েন।পিঠা বিক্রির টাকায় এ স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর সংসার চলে। শীত শেষ হলে অনেকে অটোরিকশা চালানো কিংবা অন্য কোনো দিন মজুরির কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন।
স্বামী সন্তান সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় পিঠা বিক্রি করছেন জাহানারা ।এসব নারীদের কারোর স্বামী নেই আবার স্বামী থাকলেও অসুস্থ। তাই সংসার চালাতে শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করছেন। এসব দোকানে শীতের বিভিন্ন প্রকারের পিঠা দেখা যায়। এর মধ্যে ভাপা আর চিতই পিঠার দোকানই বেশি চোখে পড়ে। এর পাশাপাশি সিদ্ধ ডিম,পিঁয়াজু,পাটিশপটা,মুগের ডালের পাঁপড় ভাজা, তেল পিঠাসহ হরেকরকম পিঠার পসরা সাজিয়ে রেখেছেন।চিতই পিঠা খাওয়ার জন্য ভর্তা হিসেবে রয়েছে তিল,ঝাল, বাদাম ও ধনা পাতার এছাড়াও রয়েছে গুঁড়।
পৌরশহরে সন্ধ্যা নামতেই পিঠার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেক সময় একজনের পক্ষে পিঠা তৈরি করে বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়। একাধিক চুলায় পিঠা তৈরি করেও ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে যায়। এ সময় পিঠা বিক্রেতা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে অনুরোধও করেন। অনেকে বাড়ির সদস্যদের জন্যও পিঠা নিয়ে যান। আর বেশিরভাগ ক্রেতাই গরম পিঠা খাওয়ার জন্য দাবি করেন বলে তাদেরকে অপেক্ষা করতে হয়। এসব পিঠার দোকানে রিকশাচালক থেকে শুরু করে দিনমজুর, শিশু-কিশোর, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষই আসেন।
পিঠা বিক্রেতারা জানান, চালসহ অন্যান্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি হলেও পিঠার দাম বাড়েনি।
কলাবাগান মোড়ের পিঠা বিক্রেতা নওশাদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একশ থেকে ১৫০টি পিঠা বিক্রি করা যায়। প্রতিদিন একইরকম বিক্রি হয় না। কোনোদিন একশটি পিঠাও বিক্রি করা কঠিনে হয়ে যায়। এখন তো সবখানেই পিঠা পাওয়া যায়।
পিঠার দামের বিষয়ে এ বিক্রেতা বললেন, সাধারণত ১০টাকা দামেই পিঠা বিক্রি করি। কেউ কেউ ২০ টাকার পিঠার কথা বললে সেটাও তৈরি করি। তবে ১০টাকার পিঠাই বেশি বিক্রি করি। দিনে এক থেকে দেড় হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হলে পাঁচ থেকে সাতশ টাকা লাভ থাকে। কোনো কোনো দিন আবার পাঁচশ টাকাও হয় না।
কয়েকজন অটোরিকশা চালক পিঠা খেতে এসেছেন বিরামপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এর পশ্চিমে। পিঠার দোকানের সামনে তাদের সঙ্গে কথা হয়। অটোরিকশা চালক হারুন বলেন, সন্ধ্যা হলেই বাইরে বের হই আমরা। এখন শীতের সময় ভাড়া মারার ফাঁকে সময় করে পিঠা খেতে আসি। এছাড়াও জিনিস পত্রের যে দাম বাসায় তৈরি করে খাওয়ার তেমন সুযোগ হয়না তাই এই পিঠার দোকানই শেষ ভরসা। পিঠা ভালো লাগলে যে যার মতো করে আমরা পিঠা খাই। তারপরও বাড়িতে তৈরি পিঠার স্বাদ এখানে পাওয়া যায় না।
পরিবারের সাথে পিঠা কিনতে আসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোখসানা বলেন, গ্রামে বেড়াতে গেলে নানীর হাতের পিঠা খেতাম। কিন্তু শহরে সেই সুযোগ আর কোথায়। প্রায়ই বাবার সঙ্গে বাহিরে শীতের সময়ে পিঠা খাওয়া হয়।
বিরামপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মোশাররত জাহান এর সাথে মুঠোফোনে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন নারীরা তো আর পিছিয়ে নেই। শীতকালে নিজ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের পিঠার দোকান দিয়ে তাঁরা আয় করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে যদি তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আরও কোনো সুযোগ তৈরি করা যায়, তাহলে সেটি আরও ভালো হবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন


ফারুক হোসেন, প্রতিবেদক:
এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি ২০২৫ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন শিক্ষা, সামাজিক ও মানবিক সংগঠন আমরা কুমিল্লার তরুণ প্রজন্ম।
আমরা কুমিল্লার তরুন প্রজন্মের সদস্য সচিব সাজ্জাদ সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, মোহাম্মদ জাবের হোসাইন, মোহাম্মদ আজিম, রাজিবুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আমরা কুমিল্লার তরুণ প্রজন্মের উপদেষ্টা কাজী কায়কোবাদ।
এ সময় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে কাজী কায়কোবাদ বলেন, এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই শিক্ষাজীবন শেষ না করে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এজন্য ঠিকমতো পড়াশোনা করতে হবে।
মন্তব্য করুন


তাপস
চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা:
আসছে ৩১ আগস্ট, ২০২৫ (রবিবার) শ্রীশ্রী
রাধাষ্টমী ব্রত।
জানা যায়- ভাদ্র মাসের শুক্লাষ্টমী
তিথি অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পরবর্তী অষ্টমী তিথি হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গিনী
শ্রীরাধার পবিত্র জন্মতিথি। এই তিথি রাধাষ্টমী নামে পরিচিত। মথুরার বারসনা হল শ্রীরাধার
জন্মস্থান। এই পবিত্র তিথিতে রাজা বৃষভানু এবং তাঁর স্ত্রী কীর্তি স্বর্ণপদ্মের কোলে
এসেছিলেন শ্রীরাধা। পবিত্র রাধাষ্টমী পালন করলে মনোবাসনা পূরণ হয় বলে মনে করা হয়।
মন্তব্য করুন


কিশোরগঞ্জ
জেলার ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে রয়েছে ৯টি লোহার দানবাক্স। আর প্রতি তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো
খোলা হয়। এবার চার মাস ১০ দিন পর শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে।
এতে ২৭ বস্তা টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বার্ণালংকা অলংকার সহ রয়েছে মনোবাসনা পূর্ণ করতে
বিভিন্ন চিঠি ।
পাগলা
মসজিদের দান বাক্সে পাওয়া একটি চিরকুটে প্রেমিক তার প্রেমিকাকে জীবনসঙ্গী করে পেতে
লিখেছেন, “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আমি একটা মেয়েকে ভালবাসি কিন্তু মেয়েটা আমাকে
ভালো বাসে না। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে আল্লাহ্ তাকে যেন আমার জীবন সঙ্গী
হিসাবে কবুল করেন। মেয়েটার নাম মোছাঃ সারভীন আক্তার আমার নাম সাইফুল ইসল্লাম আপনারা
আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাদেরকে কবুল করেন।“
আরেকটি
চিরকুটে লেখা ছিল, “আল্লাহ আমি যেন একটা মানসম্মত নাম্বার পাই। একটা ভালো কলেজে ভর্তি
হতে পারি। আমার মাথার সব খারাপ চিনতা দুর হয়ে যায়। আল্লাহ আমার মা-বাবারে ভালো রাখে
রেখ। আমি যেন রফিকুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হতে পারি।“
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা কচুয়া প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়ায় ৬৫পিচ ইয়াবাসহ ২জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভোরে কচুয়া থানার এসআই কাজী আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বাতাবাড়িয়া বাজার থেকে কোয়া গ্রামের আব্দুল আলী খানের ছেলে শরীফ খান ও মনপুরা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মহসিন হোসেনকে ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়েরের পর চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় সবজিক্ষেতে গাঁজা চাষের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাঁজা গাছসহ এক চাষীকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গতকাল বুধবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) কুমিল্লা কার্যালয়ের সরবরাহকৃত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন, বুড়িচং থানা পুলিশ ও কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি যৌথ টিম অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের বড়াইল পশ্চিম পাড়ায় মো. দুলাল মিয়া (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে তার সবজিক্ষেত থেকে গাঁজা গাছসহ আটক করা হয়। অভিযানে একটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের আগেই তিনি অতিরিক্ত গাছ সরিয়ে ফেলেছেন। পরে তার বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এক বক্স শুকনো গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়।
জানা গেছে, দুলাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সবজিক্ষেতের আড়ালে গোপনে গাঁজা চাষ করে আসছিলেন। আটক ব্যক্তি মৃত মো. কালা মিয়ার ছেলে। তার বাড়ি বুড়িচং উপজেলার বড়াইল পশ্চিম পাড়া।
এ ঘটনায় রাতেই কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল হক বলেন, “আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ২৪৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গত (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন কালাকচুয়া এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আসামী আব্দুল মান্নান (৫০) নামক ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় আসামীর হেফাজত হতে ২৪৭ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত ০১ টি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী আব্দুল মান্নান (৫০) ভোলা জেলার দৌলতখান থানার মধ্যম জয়নগর গ্রামের মৃত রুস্তম আলী বেপারী এর ছেলে। আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায় যে, সে দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত প্রাইভেটকার ব্যবহার কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে।
র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম মুরাদ,
কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের
অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে সস্ত্রীক ভুটান ফিরে গেলেন রাজা জিগমে খেসার নাময়িগেল
ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে জেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন
শেষে ভুটানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তিনি। কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন
শেষে সস্ত্রীক ভুটানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন রাজা জিগমে খেসার নাময়িগেল ওয়াংচুক।
কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন শেষে সস্ত্রীক ভুটানের উদ্দেশ্যে যাত্রা
শুরু করেছেন রাজা জিগমে খেসার নাময়িগেল ওয়াংচুক।
এর
আগে বৃহস্পতিবার সার্কিট হাউজ থেকে দুপুর ১ টা ২০ মিনিটে ধরলার পাড়ের অর্থনৈতিক অঞ্চলে
যান এবং পনের মিনিট স্থানটি পরিদর্শনের পাশাপাশি বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ
হারুনসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এর
পরে রাজা সড়ক পথে সোনাহাট স্থলবন্দরের দিকে রওয়ানা দেন। রাজা সড়ক পথে দুপুর ১২ টা ১৫
মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে কুড়িগ্রাম
সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছান।
কুড়িগ্রামের
জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ জানান, ভুটানের রাজা দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সার্কিট হাউজে অবস্থান
করেন। এরমধ্যে তিনি দুপুরের খাবার সেরে নেন। এরপর দুপুর দেড়টায় তিনি ধরলার পাড়ের কুড়িগ্রাম
সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম এলাকায় ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্ধারিত
জায়গা পরিদর্শন করেন। সেখানে রাজা পনের মিনিট অবস্থানের পর সড়ক পথে জেলার ভূরুঙ্গামারী
উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করেন। স্থলবন্দরে বিশেষ ইমিগ্রেশনের
মাধ্যমে ভারত হয়ে নিজ দেশ ভুটানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন রাজা। বাংলাদেশ-ভুটান দুদেশের
যৌথ উদ্যোগে ধরলা পাড়ে ২১৯ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে জিটুজি ভিত্তিতে এ বিশেষ অর্থনৈতিক
অঞ্চল। রাজার আগমনকে ঘিরে সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করে প্রশাসন। ভুটানের রাজার আগমনে
কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম
চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট আব্দুল আজিজ জানান, ধরলার পাড়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল
গড়ে তোলা হলে সড়ক, নদী ও রেল পথের সুবিধা মিলবে। এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি
অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।
এ
সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম ৪- আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট বিপ্লব হাসান পলাশ
সহ আরও অনেকেই।
মন্তব্য করুন