

লোহার
তৈরি বল-বিয়ারিং লাগানো একটি ঠেলাগাড়ির ওপর বসে থাকেন মাঙ্গিলাল। কাঁধে একটি ব্যাকপ্যাক,
আর দু’হাতে পরা থাকে এক জোড়া জুতো। সেগুলোতে ভর দিয়েই ভারতের
ইন্দোর শহরের ব্যস্ত সারাফা বাজারের অলিগলি চষে বেড়ান। পথচারীদের কাছে তিনি ভিক্ষা
চান না; বরং এমনভাবে বসে থাকেন, যাতে মানুষ নিজ থেকেই সহানুভূতিশীল হয়ে তাকে টাকা দিয়ে
যায়।
মাঙ্গিলাল
একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটিপতি ভিখারি। তার মালিকানায় রয়েছে তিনটি বাড়ি (এর মধ্যে
একটি সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত বাড়ি), তিনটি অটোরিকশা এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার
গাড়ি।
সম্প্রতি
ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের এক ভিক্ষাবিরোধী অভিযানে মাঙ্গিলালের সন্ধান মিলেছে।
ইন্দোরকে ‘ভিক্ষুকমুক্ত শহর’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলমান অভিযানের
অংশ হিসেবে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে উদ্ধারকারী দল মাঙ্গিলালকে আটক করে।
সারাফা
এলাকায় নিয়মিত ভিক্ষা করা এক কুষ্ঠরোগী সম্পর্কে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো
হয়। উদ্ধারকারী দল ভেবেছিল এটি আর পাঁচটা সাধারণ ঘটনা হবে। কিন্তু তার বদলে সামনে
আসে এক বিস্ময়কর ঘটনা।
বছরের
পর বছর ধরে নীরব ভিক্ষার কৌশলে পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন মাঙ্গিলাল। তিনি কখনো হাত পাতেননি।
শুধু নিজের লোহার গাড়িতে বসে থাকতেন। বাকিটা করত মানুষের সহানুভূতি। স্বেচ্ছায় দান
করত সবাই। শুধু ভিক্ষা থেকেই তার দৈনিক আয় ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি।
তবে
তদন্তকারীদের মতে, আসল ব্যবসা শুরু হতো রাত নামার পর। জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাঙ্গিলাল
স্বীকার করেন, ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি নিজের ব্যয় নির্বাহের জন্য খরচ করতেন না।
বরং সেই টাকা আবার সারাফা বাজারেই বিনিয়োগ করতেন।
স্থানীয়
ব্যবসায়ীদের একদিন বা এক সপ্তাহের জন্য নগদ টাকা ধার দিতেন মাঙ্গিলাল। তার বিপরীতে
সুদ নিতেন, যা তিনি নিজেই প্রতিদিন সন্ধ্যায় আদায় করতেন। কর্মকর্তাদের অনুমান, বর্তমানে
তার দেয়া ঋণের পরিমাণ ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি, যার মাধ্যমে তিনি প্রতিদিন সুদসহ প্রায় ২
হাজার রুপি পর্যন্ত আয় করতেন।
যে
মানুষটিকে বাজারের সবাই নিঃস্ব ভাবতেন, এখন দেখা যাচ্ছে তিনি শহরের অভিজাত এলাকায়
অবস্থিত তিনটি বাড়ির মালিক। এর মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। এছাড়া তার রয়েছে প্রতিদিন
ভাড়ায় দেয়া তিনটি অটোরিকশা এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি। এই গাড়ি তিনি
নিজে চালান না, বরং ভাড়ায় দেন বলেই জানা গেছে।
এমনকি
শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (পিএমএওয়াই) আওতায় একটি
এক বেডরুম, হল ও রান্নাঘরবিশিষ্ট (১ বিএইচকে) সরকারি ফ্ল্যাটও পেয়েছেন, যদিও তার আগে
থেকেই একাধিক সম্পত্তি ছিল।
নারী
ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং উদ্ধার অভিযানের নোডাল অফিসার দীনেশ মিশ্র জানিয়েছেন,
মাঙ্গিলালকে বর্তমানে উজ্জয়নের সেবাধাম আশ্রমে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার ব্যাংক
হিসাব ও সম্পত্তির তদন্ত চলছে। পাশাপাশি, যেসব ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন,
তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
অভিযান
ও এর অনুসন্ধান সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে মিশ্র বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাঙ্গিলাল
স্বীকার করেছেন যে ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি সারাফা এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে
সুদে ধার দিতেন। তিনি একদিন বা এক সপ্তাহের জন্য টাকা দিতেন এবং প্রতিদিন সারাফা এলাকায়
এসে সুদ আদায় করতেন।’
মন্তব্য করুন


দেশের
বাজারে টানা সপ্তমবারের মতো বেড়ে সোনার দামে নতুন রেকর্ড করেছে। এবার সোনার দাম ভরিতে
এক হাজার ৫৭৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (২২ ক্যারেটের)
সোনা বিক্রি হবে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়। আগামীকাল রবিবার থেকে সারা দেশে সোনার
নতুন এ দর কার্যকর হবে।
শনিবার
(২৭ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
সোনার দাম বাড়ার এ তথ্য জানায়।
এতে
বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে সোনার
দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।
নতুন
মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দুই লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা নির্ধারণ
করা হয়েছে।
এ
ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে
রুপার দামও বেড়ে রেকর্ড করেছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি ছয় হাজার ৬৫ টাকা।
২১
ক্যারেটের রুপার দাম ভরি পাঁচ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি চার হাজার
৯৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম তিন হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারণ
করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার অম্বরনগর ইউনিয়নে খনন করা
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপের তিনটি স্তরে মিলেছে জ্বালানি গ্যাস। বাংলাদেশ
পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) আশা করছে এ
থেকে দৈনিক এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে ।
সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে বিষয়টি
নিশ্চিত করে বাপেক্সের ভূ-পদার্থিক বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার ওহিদুল
ইসলাম বলেন, ওয়াছেকপুর গ্রামে খনন করা বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপে মিলেছে গ্যাসের
অস্তিত্ব। ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া খননকাজের পর ডিএসটি টেস্ট শেষে এখন চলছে
সর্বনিম্ন স্তরের উৎপাদন টেস্ট। প্রাথমিকভাবে কূপটির তিনটি স্তরে পর্যাপ্ত গ্যাস
আছে। এ টেস্ট শেষে জানা যাবে এখানে মজুত থাকা মোট গ্যাসের পরিমাণ।
বাপেক্স সূত্রে আরো জানা যায়, কূপটিতে তিন হাজার ১১৩ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা
হয়, যার মধ্যে এক হাজার ৯২১ থেকে এক হাজার ৯৭৩ মিটার পর্যন্ত প্রথম স্তর, দুই
হাজার ৫৪৮ মিটার থেকে দুই হাজার ৫৮৫ মিটার পর্যন্ত দ্বিতীয় স্তর এবং তিন হাজার ৮১
মিটার থেকে তিন হাজার ১০১ মিটার পর্যন্ত তৃতীয় স্তরে গ্যাসের অস্তিত্ব মিলেছে।
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপের তিনটি স্তর থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন
ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
হাওলাদার ওহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি গ্যাস মিলতে পারে বলে
ধারণা করছি। এখন পর্যন্ত টার্গেট চারটি জোনের মধ্যে তিনটি জোন থেকে বাণিজ্যিকভাবে
গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করছি।’
বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুক্তাদির বলেন, ‘প্রাকৃতিক
গ্যাসের সন্ধানে বাপেক্স দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছে। বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপটিতে
খনন কাজ শুরু এ বছরের ২৯ এপ্রিল। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকায়
আমাদের খনন কাজেও কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। দিনশেষে আমরা সফল হতে পেরেছি।’
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. প্রিন্স আল
হেলাল বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার
লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। তবে লোয়ার জোনে গ্যাসের কন্ডিশন দেখে মনে হচ্ছে, আরও ভালো কিছু
আশা করা যাবে। উৎপাদন টেস্ট শেষে মোট গ্যাসের মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ড্রিলিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটি খনন করতে আমাদের নানা
প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আমরা আজ আলোর মুখ দেখছি।
একসময় গ্যাসকূপ খননের কাজে বিদেশি শ্রমিক ও কর্মকর্তারা যুক্ত থাকতেন। কিন্তু এখন
তার পরিবর্তন হয়েছে। এ কূপ খননের সঙ্গে জড়িত প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী
সবাই বাংলাদেশের। এটাও আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।’
এর আগে, ১৯৭৬ সালে বেগমগঞ্জ-১ ও ১৯৭৮ সালে বেগমগঞ্জ-২ গ্যাসকূপ খনন করা হলেও সেগুলো
থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে বেগমগঞ্জ-৩ কূপ খনন করা হয় এবং
সেখান থেকে এখনো প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ফেনী-নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক
সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এখানে বেগমগঞ্জ-৫ ও বেগমগঞ্জ -৬ কূপ
খননের পরিকল্পনা রয়েছে বাপেক্সের।
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে আটক আটজনের বিরুদ্ধে বন আইনের অধীনে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা শামুক-ঝিনুক সুন্দরবনের নদীতে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে বুধবার বিকেলে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কোবাদক স্টেশনের কঞ্চির খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি নৌকা ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তাদের আটক করে বন বিভাগ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—খুলনা জেলার কয়রা থানা এলাকার আব্দুল ওয়াদুদ গাজী (৪০), খলিল সানা (৫৯), শফিকুল গাজী (৪৫), আবু সাইদ গাজী (৫৫), গফফার গাজী (৫১), দেলবর গাজী (৫৭), গোলাম মোস্তফা (৩৫) এবং মাসুম বিল্লাহ (৩৪)।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নৌকায় করে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহের সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় চারটি নৌকা, জালসহ শামুক-ঝিনুক সংগ্রহের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. ফজলুল হক জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২–এর তফসিল–২ অনুযায়ী শামুক-ঝিনুক ধরা, বহন বা বাণিজ্য করা নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর ৬৯০ কেজি, ২৭ নভেম্বর ৮৬০ কেজি এবং ৩ ডিসেম্বর ১ হাজার ৬০০ কেজি শামুক-ঝিনুক উদ্ধার করে বন বিভাগ। উদ্ধারকৃত এসব শামুক-ঝিনুকও নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


দেশব্যাপী সহিংসতার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসা অনির্দিষ্টকালের
জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যালয় ও
কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা) এবং
পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউটসমূহের শ্রেণি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ
থাকবে।
তবে এখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে
কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, বৃহস্পতিবারের এইচএসসি ও সমমানের সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। স্থগিত
পরীক্ষার সময়সূচি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। ২১ জুলাই থেকে পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলবে।
মন্তব্য করুন


সৌদি
আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি সৌদি অ্যারাবিয়ান মাইনিং কোম্পানি (মা’আদেন)
দেশে চারটি স্থানে নতুন করে মোট ৭৮ লাখ আউন্স (২ লাখ ২১ হাজার কেজি) স্বর্ণসম্পদের
সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয় খনিজ মজুত সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের
স্বর্ণ উৎপাদক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল আরও জোরালো হলো বলে জানিয়েছে
প্রতিষ্ঠানটি। সংবাদ গলফ নিউজের
মা’আদেন
জানায়, লক্ষ্যভিত্তিক খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে শুরুতে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণসম্পদের
তথ্য পাওয়া যায়। বার্ষিক প্রতিবেদনসংক্রান্ত মানদণ্ড অনুযায়ী সমন্বয়ের পর চূড়ান্তভাবে
নতুন সম্পদ যোগ হয়েছে ৭৮ লাখ আউন্স।
এই
সম্প্রসারণের আওতায় রয়েছে মানসুরাহ–মাসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম
এবং নতুন আবিষ্কৃত ওয়াদি আল জাওয়ান। এর মধ্যে মানসুরাহ–মাসারাহ
প্রকল্পে এক বছরে সবচেয়ে বেশি, ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণসম্পদ যুক্ত হয়েছে। উরুক ২০/২১ ও
উম্ম আস সালাম থেকে এসেছে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স, আর ওয়াদি আল জাওয়ানে প্রথমবারের মতো
৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণসম্পদের হিসাব যোগ হয়েছে।
মা’আদেনের
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বব উইল্ট বলেন, এসব ফলাফল সৌদি আরবের খনিজ সম্পদ
উন্মোচনে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের সফলতা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, ‘এই ফলাফল স্পষ্ট
করে দিয়েছে যে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তব পর্যায়ে কাজ করছে। এ কারণেই আমরা সৌদি
আরবের স্বর্ণসম্পদে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি।’তিনি
আরও বলেন, নতুন স্বর্ণসম্পদ সংযোজন মা’আদেনের প্রকল্প পাইপলাইনের ধারাবাহিকতা
ও সক্ষমতা তুলে ধরেছে। ‘চারটি এলাকায় খননের মাধ্যমে ৭০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণ যোগ
হওয়া আমাদের স্বর্ণ পোর্টফোলিওর বিশালতা ও সম্ভাবনা দেখায়। এটি ভবিষ্যতের নগদ প্রবাহ
নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে,’ বলেন তিনি।
২০২৬
সালের অনুসন্ধান কর্মসূচিতে মা’আদেন মূলত সেন্ট্রাল অ্যারাবিয়ান গোল্ড
রিজিয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। সেখানে উন্নত পর্যায়ের খনন কার্যক্রমে নতুন খনিজ স্তর এবং
সম্ভাব্য খনি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত মিলেছে। ঐতিহাসিক মাহদ স্বর্ণখনির আশপাশেও খননের
মাধ্যমে খনির আয়ু বাড়ানোর সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছে।
বব
উইল্ট বলেন, ‘সাম্প্রতিক ফলাফল কোম্পানির বহুমুখীকরণ পরিকল্পনাকেও জোরালো করেছে। স্বর্ণের
মতোই তামা ও নিকেলের প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক। আরবিয়ান শিল্ড অঞ্চলে বড় পরিসরে খনিজ
উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।’
শাইবান
ও জাবাল আল ওয়াকিল এলাকায় পাওয়া তথ্য সৌদি আরবজুড়ে বহুপণ্যভিত্তিক শক্তিশালী পোর্টফোলিও
গড়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মা’আদেনের প্রধান প্রকল্প মানসুরাহ–মাসারাহে
বর্তমানে আনুমানিক ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরে প্রতি টনে ২ দশমিক ৮ গ্রাম স্বর্ণ রয়েছে।
যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ আউন্স। সাম্প্রতিক খনন
কার্যক্রমে
এক বছরে নিট ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণসম্পদ যোগ হয়েছে, যদিও মোট সংযোজন ছিল ৪২ লাখ আউন্স।
কোম্পানিটি
জানিয়েছে, মানসুরাহ ও মাসারাহ, উভয় খনিতেই গভীরে এখনও খনিজ স্তর উন্মুক্ত রয়েছে, যা
ভবিষ্যতে আরও বড় আবিষ্কারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। ২০২৬ সাল পর্যন্ত খনন কার্যক্রম
চলবে এবং পর্যায়ক্রমে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন


শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী জানিয়েছেন,দেশজুড়ে নাশকতা এড়াতে ও ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় লোকাল, মেইল ও কমিউটারসহ ছয়টি ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
আরো বলা হয়, হরতাল-অবরোধে নাশকতা এড়ানোর জন্য পার্বতীপুর-রাজশাহী-পার্বতীপুর রুটে চলাচল করা উত্তরা এক্সপ্রেসটির চলাচল ২২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এর আগে রাজশাহী থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত উত্তরা এক্সপ্রেস এবং ইশ্বরদী থেকে রহনপুর পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে চিঠি দিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিম অঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, মূলত ট্রেনটি অনেক রাতে যাত্রা করে। আমরা ট্রেনটির নিরাপত্তা দিতে পারছি না। ট্রেনটির নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানান, এ নিয়ে আলোচনা করতে আজ ছাত্রদের সঙ্গে, আগামীকাল বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এবং পরদিন বৃহস্পতিবার ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সামগ্রিক বাস্তবায়ন
ও অগ্রগতি দৃশ্যমান করার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই
সঙ্গে কৃষকদের জন্য আধুনিক ও সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’
প্রণয়ন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে কৃষক কার্ড
প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি
জানান, বৈঠকে কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি
ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে
কৃষি সেবা সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
অতিরিক্ত
প্রেস সেক্রেটারি আরও জানান, প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের পরিচিতি
নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে কৃষি ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা, বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি
সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।
এ
ছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ; প্রতিমন্ত্রী
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর;
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডাক,
টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এখন আবার অন্য একটি গোষ্ঠী কিছু কিছু ষড়যন্ত্র করছে।
যাতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’তিনি
বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছর আপনারা ভোট দিতে পারেননি।
আপনাদের
ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা কাজটি করেছে
তারা দেশ থেকে চলে গেছে।’
আজ
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে
স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে
তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক
রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু ভোট দিলেই চলবে না, ওখানে থাকতে হবে। আপনার
ভোটের হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিয়ে আসতে হবে। দেশটা আমাদের সবার, সব ধর্মের লোককে একসঙ্গে
থেকে আমাদের দেশটা গড়তে হবে। এই দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা।’তিনি
আরো বলেন, ‘সমস্যার সমাধান করতে হলে ধানের শীষকে জেতাতে হবে।
এর
আগে এই এলাকার মানুষ অনেককে দেখেছে, তারা কিন্তু সমস্যার সমাধান করেনি। নদীভাঙন রোধ,
বেড়িবাঁধ, ব্লক বাঁধ এগুলো আমরা (ইনশাআল্লাহ) করব। তবে আপনাদেরও একটা দায়িত্ব আছে।
আপনাদের দায়িত্ব ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা।’
এ
সময় তারেক রহমান ঘোষণা দেন বিএনপি সরকার গঠন করলে ধীরে ধীরে হাতিয়ার মানুষের সব সমস্যার
সমাধান করা হবে।
জনসভায়
কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ হাতিয়ার ধানের শীষের প্রার্থী
মাহবুবের রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোসহ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী আয়েশা সিদ্দিকা রূপালিকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার (১৪ মার্চ) ভোরে উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকার নিজবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। আয়েশা সিদ্দিকা রূপালি তেঁতুলতলা গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমীন।
তিনি জানান, আয়শা সিদ্দিকা রূপালিকে গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে দায়ের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন