

মোঃ সুমন ভূঁইয়া, নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় রহস্যজনক আগুনে ১ হাজার ৫০০ শ' পোল্ট্রি মুরগিসহ একটি খামার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে এখনো অগ্নিকান্ডের কারণ জানাতে পারেনি সদর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তারা। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) ভোর রাতের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের নলপুর গ্রামে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো.আবদুল হালিম শাকিল বলেন, ভোর রাতের দিকে স্থানীয় লোকজন আবদুর রহীমের মুরগির খামারে আগুন জ্বলতে দেখে। সঙ্গে সঙ্গে তারা সদর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্থ মালিকের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন এতে প্রায় ২ হাজার ৫শ' পোল্ট্রি মুরগি আগুনে পুড়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে খামার মালিক আবদুর রহীমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, আগুন লাগার কারণ এখনই বলা যাবে না। তদন্ত সাক্ষেপে তা বলা যাবে। ধারণা হচ্ছে ১ হাজার অধিক মুরগি আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, এ ঘটনায় কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করে নি। তবে খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরে যাত্রী ছদ্মবেশে ২ নারীকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করে আসা ১টি চোর চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ফরিদপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে ওই চোরচক্রের ৬ সদস্যকে।
আটককৃতরা হলো: শহরের টেপাখোলা এলাকার আকরাম শেখের ছেলে তূর্য ওরফে রায়হান শেখ (২৫), ছনেরটেক এলাকার সুমাইয়া (২৫), সদরের চরমাধবদিয়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক শেখ (৫৫), দিনাজপুরের ডাসমারী এলাকার শাকিলা (৩০), ফরিদপুরের সালথার বালিয়াগট্টি এলাকার রায়হান মাতুব্বর (২৫) ও সালথার আটঘর এলাকার মনসুর সরদার (৪৪)।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ জানুয়ারি রাতে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে চোর চক্রের মূলহোতা তূর্য রায়হান ও শাকিলা এবং সুমাইয়া নামে ২ নারীকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১টি চোরাই অটোরিকশা জব্দ করা হয়। তাদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাতেই জেলার সালথা উপজেলার আটঘর এলাকা থেকে জব্দ করা হয় আরেকটি চোরাই অটোরিকশা। পরে অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের ওই ৬ জনকে বিভিন্ন এলাকায় থেকে আটক করে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানুজ্জামান জানান, আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে বুধবার দুপুরে আটককৃতদের ফরিদপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার অম্বরনগর ইউনিয়নে খনন করা
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপের তিনটি স্তরে মিলেছে জ্বালানি গ্যাস। বাংলাদেশ
পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) আশা করছে এ
থেকে দৈনিক এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে ।
সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে বিষয়টি
নিশ্চিত করে বাপেক্সের ভূ-পদার্থিক বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার ওহিদুল
ইসলাম বলেন, ওয়াছেকপুর গ্রামে খনন করা বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপে মিলেছে গ্যাসের
অস্তিত্ব। ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া খননকাজের পর ডিএসটি টেস্ট শেষে এখন চলছে
সর্বনিম্ন স্তরের উৎপাদন টেস্ট। প্রাথমিকভাবে কূপটির তিনটি স্তরে পর্যাপ্ত গ্যাস
আছে। এ টেস্ট শেষে জানা যাবে এখানে মজুত থাকা মোট গ্যাসের পরিমাণ।
বাপেক্স সূত্রে আরো জানা যায়, কূপটিতে তিন হাজার ১১৩ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা
হয়, যার মধ্যে এক হাজার ৯২১ থেকে এক হাজার ৯৭৩ মিটার পর্যন্ত প্রথম স্তর, দুই
হাজার ৫৪৮ মিটার থেকে দুই হাজার ৫৮৫ মিটার পর্যন্ত দ্বিতীয় স্তর এবং তিন হাজার ৮১
মিটার থেকে তিন হাজার ১০১ মিটার পর্যন্ত তৃতীয় স্তরে গ্যাসের অস্তিত্ব মিলেছে।
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপের তিনটি স্তর থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন
ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
হাওলাদার ওহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি গ্যাস মিলতে পারে বলে
ধারণা করছি। এখন পর্যন্ত টার্গেট চারটি জোনের মধ্যে তিনটি জোন থেকে বাণিজ্যিকভাবে
গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করছি।’
বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুক্তাদির বলেন, ‘প্রাকৃতিক
গ্যাসের সন্ধানে বাপেক্স দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছে। বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপটিতে
খনন কাজ শুরু এ বছরের ২৯ এপ্রিল। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকায়
আমাদের খনন কাজেও কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। দিনশেষে আমরা সফল হতে পেরেছি।’
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. প্রিন্স আল
হেলাল বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার
লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। তবে লোয়ার জোনে গ্যাসের কন্ডিশন দেখে মনে হচ্ছে, আরও ভালো কিছু
আশা করা যাবে। উৎপাদন টেস্ট শেষে মোট গ্যাসের মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ড্রিলিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটি খনন করতে আমাদের নানা
প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আমরা আজ আলোর মুখ দেখছি।
একসময় গ্যাসকূপ খননের কাজে বিদেশি শ্রমিক ও কর্মকর্তারা যুক্ত থাকতেন। কিন্তু এখন
তার পরিবর্তন হয়েছে। এ কূপ খননের সঙ্গে জড়িত প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী
সবাই বাংলাদেশের। এটাও আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।’
এর আগে, ১৯৭৬ সালে বেগমগঞ্জ-১ ও ১৯৭৮ সালে বেগমগঞ্জ-২ গ্যাসকূপ খনন করা হলেও সেগুলো
থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে বেগমগঞ্জ-৩ কূপ খনন করা হয় এবং
সেখান থেকে এখনো প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ফেনী-নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক
সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এখানে বেগমগঞ্জ-৫ ও বেগমগঞ্জ -৬ কূপ
খননের পরিকল্পনা রয়েছে বাপেক্সের।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা মাধাইয়ায় আদাভর্তী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে আব্দুল খালেক নামে একজন পথচারী নিহত হয়েছে।
ঘটনার পর নিহতের লাশ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায় স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ভোর পাঁচটার দিকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপজেলার মাধাইয়া অংশে বাঁশ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুল খালেক পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিন পেশায় কসাই।
স্থানীয় বাঁশ ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম জানান, ভোর পাঁচটার দিকে আবদুল খালেক গরু জবাই করতে মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আদা ভর্তি একটি ট্রাক ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালেককে চাঁপা দিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।
এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় খালেক। এ সময় খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে ট্রাকের নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায়
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা, কচুয়া ॥
চাঁদপুরের কচুয়ায় আপেল বরই কিংবা কুল চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন শহীদ বেপারী। প্রথমবারই সফলতার মুখ দেখেছেন তিনি। প্রতিদিন বিক্রি করছেন বাগানের বরই। কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়া উৎপাদিত এ বরইয়ের বেশ চাহিদা আছে। চলতি বছর বড়ই বিক্রি শুরু করেছেন, তবে পর্যায়ক্রমে বাগানের বাকী বড়ই গুলো বিক্রি করবেন তিনি। এতে লাভবান হবে বলেও জানান শহীদ বেপারী।
সরেজমিনে জানা গেছে, পালাখাল গ্রামের নয়াবাড়ির অধিবাসী মৃত. আব্দুল গফুরের ছেলে কৃষক শহীদ বেপারী ৭২ শতক জায়গায় গড়ে তোলা বরই বাগান পুরোটা নেট দিয়ে ঘেরা। ভেতরে প্রবেশ করে গাছে ঝুলতে দেখা যায় সবুজ-হলুদ ও লালচে থাই-বলসুন্দরী বরই। বিক্রির জন্য শহীদ বেপারীসহ কয়েকজন গাছ থেকে বরই তুলে ব্যাগে রাখছেন। আকারে বড় ও স্বাদে সুমিষ্ট হওয়ায় বাগানেই বিক্রি হয়ে যায় সব বরই। শুধু বড়ই নয়, তার বাগানে রয়েছে সমন্বিত চাষ। পাশাপাশি আম,জাম,লেবু,কাঠাল গাছ রোপন করেছেন তিনি। এছাড়া একই জমির পাশে মৎস্য চাষাবাদ করেছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই বড়ই ও অন্যান্য চাষে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।
বড়ই চাষী শহীদ বেপারী বলেন, অনেক বছর ধরে কৃষিকাজ করছি। বাড়ির পাশে প্রথমে ৭২ শতক জায়গায় বলসুন্দরী ও থাই জাতের বরই গাছ লাগাই। সাতক্ষীরা থেকে চারা সংগ্রহ করেছি। এ পর্যন্ত ভালো টাকার বরই বিক্রি করেছি। গাছে যে পরিমাণ বরই আছে, আশা করছি লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো।
কচুয়াা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অমল চন্দ্র সরকার বলেন, কম খরচ ও পরিচর্যায় বেশি ফলন পাওয়ায় বরই চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় চাষিদের। বলসুন্দরী ও থাই জাতের বরই অনেক সুস্বাদু। শহীদ বেপারী এ জাতের বরই চাষ করে প্রথম বছরই সফল হয়েছেন। বরই চাষে কোনো কৃষক আগ্রহ হলে কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
“প্রযুক্তি নির্ভর যুবশক্তি, বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বে অগ্রগতি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে কুমিল্লা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী এবং যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কুমিল্লার ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর মোঃ শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম সরকার। এছাড়া সহকারী পরিচালক মোঃ শহীদুল্লাহ, এনসিপির প্রধান মুখ্য সমন্বয়কারী মোঃ সিরাজুল হক, যুগ্ম সমন্বয়কারী মোঃ রাশেদুল হাসানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উদ্যোক্তা, সংগঠক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে যুব সংগঠনগুলোকে নিবন্ধন সনদ ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সফল যুব সংগঠক ও উদ্যোক্তা আত্মকর্মীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন


আজ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪) দুপুর ১২:৪০ মিনেটে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ১০ পদাতিক ডিভিশন এর উপস্থিতিতে রামু সেনানিবাসের গ্যারিসন মসজিদে শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন এর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে দুপুর ১:১০ মিনিটে উক্ত অফিসারের মৃতদেহ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে নিজ বাড়ি টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ১৯ পদাতিক ডিভিশন এর উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ৬ টায় অফিসারের নিজ বাড়ি জেলা সদরের বেতকা গ্রামে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে যথাযোগ্য মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়।
মন্তব্য করুন


মুকুল বসু, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজার সংলগ্ন শেলাহাটি গ্রামে নকল শিশু খাদ্য কারখানায় অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। বোয়ালমারী সেনা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কারখানার মালিক আশরাফ মল্লিকে (২৭) ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হাসান চৌধুরী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজার সংলগ্ন শেলাহাটি গ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নকল শিশু খাদ্য তৈরির কারখানা চালাচ্ছিলেন মো. আশরাফ মল্লিক নামে এক ব্যক্তি। তিনি ওই কারখানায় নকল শিশু খাদ্য উৎপাদন করে বিভিন্ন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল শিশু খাদ্য উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়।
এ সময় কারখানার মালিক আশরাফ মল্লিকে (২৭) ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, আশরাফ মল্লিক নকল শিশু খাদ্য তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল। তাকে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ১৩ ধারাই ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


র্যাব-১১ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা কুমিল্লা এর যৌথ অভিযানে
কুমিল্লায় ১৮৫ বোতল ফেনসিডিল, ৪ কেজি গাঁজা
ও ২ বোতল বিদেশী মদসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
১০ এপ্রিল রাতে র্যাব-১১,
সিপিসি-২, কুমিল্লা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা, কুমিল্লার যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের
ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন আলেখারচর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান
পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে মোঃ আব্দুর রহিম (২৭) নামক একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার
করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ১৮৫ বোতল ফেন্সিডিল, ৪ কেজি গাঁজা, ২ বোতল বিদেশী মদ ও
মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী
মোঃ আব্দুর রহিম (২৭) নোয়াখালী জেলার চরজব্বার থানার চর ওয়াবদা গ্রামের মিজান উদ্দিন
এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল, গাঁজা ও বিদেশী মদ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল। র্যাব-১১ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা, কুমিল্লা এর ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা, কুমিল্লা এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


আর দশজন সাধারণ গৃহবধূর মতই জীবন ছিল মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সুবিধপুর গ্রামের রেজিয়া খাতুনের। কিন্তু হঠাৎ তার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহতা।
৩০ বছর আগে এক রাতে নির্যাতনের পর তাকে অচেতন অবস্থায় সীমান্ত পার করে ভারতে বিক্রি করে দেয়া হয় ।
আর এই দীর্ঘ সময় পরিবার ও গ্রামবাসী জানতেন, রেজিনা মারা গেছেন।
কিন্তু এখন হঠাৎ তিনি ফিরে আসায় তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ।
গত ১০ নভেম্বর ৫০ বছর বয়সী রেজিয়া বাড়ি ফিরে জানতে পারেন মা-বাবা মারা গেছেন। ভাই-বোনরা বৃদ্ধপ্রায়; সন্তানরা সংসার পেতেছেন।এরপর সোমবার তিনি মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। তারা হলেন- রেজিয়ার দ্বিতীয় স্বামী আজগর আলী এবং তার সহযোগী জয়নাল।
শুনানি শেষে আদালত দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে থানা থেকে বলা হয়েছে।
এদিকে রেজিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৫ বছর বয়সে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের সাত্তার আলীর সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সেই সংসারে এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। পরে সাত্তারের সঙ্গে রেজিয়ার বিচ্ছেদ হয়।
এরপর রেজিয়া নিজ গ্রামের আজগর আলীকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর শুরু হয় রেজিয়ার উপর আজগরের নির্যাতন।
১৯৯৩ সালের এক রাতে নির্যাতনের পর তাকে প্রতিবেশী জয়নালের সহযোগিতায় আজগর সীমান্তের কাঁটাতার পার করে ভারতের কাশ্মিরে নিয়ে যান এবং কোনোকিছু বুঝে উঠার আগেই ফারুক হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন।
রেজিয়া বলেন, ৩০ বছর সীমাহীন কষ্টে বন্দিজীবন পার করেছি। ছেলেমেয়েরা তাদের মায়ের আদর- ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে বড় হয়েছে। নিখোঁজ অবস্থায় মা-বাবাকে হারিয়েছি। তাদের মরা মুখটাও আমি দেখতে পাইনি।
আমি চাই না আর কারো জীবন যেন এভাবে ধ্বংস হোক সেজন্য মামলা করেছি। আদালত আমার মামলা আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
যদিও রেজিয়ার দ্বিতীয় স্বামী আজগর আলী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তিনি বলেন, বিয়ে হওয়ার পর কয়েক বছর আমরা সংসার করি। তারপর সামাজিকভাবে রেজিয়ার সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পাচারের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
এদিকে জয়নালের দাবি, যড়যন্ত্র করে রেজিয়ার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাকে জড়ানো হচ্ছে।
দেশে কীভাবে ফিরে আসলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিয়া জানান, তিন মাস আগে তিনি ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে ভারতের নদীয়া জেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে পায়ের চিকিৎসা নিতে আসেন। সেখানে কথা হয় সুবিধপুরের পাশের কসবা হিন্দি গ্রামের আমিরুল ইসলাম বাবলুর সঙ্গে।তখন রেজিয়া তাকে পুরো ঘটনা জানান এবং গ্রামে পরিবারের কাছে তার বেঁচে থাকার খবর পৌঁছে দিতে বলেন। পরে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাকে কাশ্মির থেকে মেহেরপুর ফিরিয়ে আনেন।
কসবা হিন্দি গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বাবলু বলেন, রেজিয়ার মুখে সব শুনে মেহেরপুর ফিরে তার ভাইদের সন্ধান করে ঘটনাটি জানান তিনি। পরে রেজিয়ার দেওয়া মোবাইল নম্বর ও কাশ্মিরের ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে গিয়ে ফারুকের কাছ থেকে রেজিয়াকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে তার পরিবার।
রেজিয়ার বড় ভাই আনারুল ইসলাম বলেন,রেজিয়ার স্বামী আজগর এতদিন বলেছে, আমার বোন ওই রাতে কাউকে না বলে নিখোঁজ হয়ে যায়। দেশের প্রায় সব জেলায় বোনের সন্ধান করেছি। কিন্তু কোথাও হদিস না পেয়ে ভেবেছি, বোন হয়ত মারা গেছে। তিন মাস আগে পাশের গ্রামের আমিরুলের মাধ্যমে বোনের সন্ধান পেলে আমরা ভারতের কাশ্মিরে গিয়ে বোনকে ফিরিয়ে আনি।
রেজিয়ার মেয়ে সালেহা খাতুন বলেন, মাকে ফিরে পেয়ে জীবন ফিরে পেয়েছি মনে হচ্ছে। যারা আমার মাকে এতদিন আমার কাছ থেকে দূরে রেখেছিল আমি তাদের কঠিন বিচার চাই।”
কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সুমিতপুর গ্রামের ওয়ার্ড সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা জানতাম রেজিয়া মারা গেছে। তার ফিরে আসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কয়েক গ্রামের মানুষ রেজিয়াকে দেখতে ভিড় করছে। আমরা রেজিয়ার পাশে আছি। তাকে সব ধরনের আইনি সহায়তা করা হবে।
রেজিয়ার দায়ের করা মামলার বিষয়ে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ কে এম আছাদুজ্জামান জানান, ঘটনাটি মানবপাচার প্রমাণ হলে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে।
মন্তব্য করুন


র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১ এর বিশেষ অভিযানে কুমিল্লা শহরের সংরাইশ এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, একটি দেশীয় এলজি ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
কুমিল্লা র্যাব-১১,সিপিসি-২ উপ-পরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
র্যাব-১১ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন সংরাইশ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা একটি ব্যাগ ফেলে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুষ্কৃতকারীরা সংরাইশ এলাকার ক্যাফে ৩৫০০-এর উত্তর পাশে গোমতী নদীর পাড়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও বিভিন্ন অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে অবস্থান করেছিল।
র্যাব আরও জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বিষয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, র্যাব-১১ গত ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে অদ্যাবধি বিভিন্ন অভিযানে চাঞ্চল্যকর অপরাধীসহ মোট প্রায় ৬১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী, আরসা সদস্য, জঙ্গি, হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামি, অস্ত্র ও মাদক কারবারিসহ বিপুল সংখ্যক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়। পাশাপাশি ১২৯টি অস্ত্র, ১ হাজার ৪০৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার এবং অপহৃত ৯৬ জন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়েছে।র্যাব-১১ জানিয়েছে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন