

চলতি বছরেই নতুন একটি রোমান্টিক-অ্যাকশন ঘরানার সিনেমার শুটিংয়ে নামতে যাচ্ছেন শাকিব খান। ছবিটিতে পাকিস্তানের কোনো জনপ্রিয় নায়িকাকে দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে। নায়কের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।সূত্র অনুযায়ী, সিনেমাটির কাজ ও মুক্তি—দুটোই চলতি বছরের মধ্যেই করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য কয়েকজন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আলোচিত নাম পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির।জানা গেছে, গত বছর হানিয়া আমির বাংলাদেশে আসার সময় শাকিব খানের বিপরীতে একটি সিনেমায় কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রাথমিকভাবে হানিয়ার পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি হয়নি, তবু শাকিব-হানিয়া জুটিতে সিনেমা করার বিষয়টি তখন অনেকটাই এগিয়ে ছিল।বিশ্বস্ত সূত্র আরও জানায়, হানিয়া আমির শিগগিরই তার দীর্ঘদিনের প্রেমিককে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। জমকালো আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সময়সূচি মিললে শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমাটিতে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণেই ছবিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি নির্মাতা বা শাকিব খানের টিম।সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শাকিব খানের বিপরীতে হানিয়া আমির হোক কিংবা পাকিস্তানের অন্য কোনো পরিচিত মুখ—নায়িকা যে পাকিস্তানি হবেন, সেটি প্রায় নিশ্চিত। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে দর্শকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।এদিকে শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স’-এর শুটিং ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এই ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, তাসনিয়া ফারিণ, সাবিলা নূরসহ আরও অনেকে। পাশাপাশি শাকিব অভিনীত আরেকটি সিনেমা ‘সোলজার’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন


আঞ্চলিক পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, সড়কের পাশে আগে থেকে পেতে রাখা আইইডিটি পুলিশের গাড়ি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর অস্ত্রধারীরা নিরাপত্তা সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়ে। ঘটনায় একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)সহ তিন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এবং প্রাদেশিক গভর্নর ফয়সাল কুন্ডি হামলাটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান অঞ্চলে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। পুলিশি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে শুধু খাইবার পাখতুনখোয়াতেই ৬০০–র বেশি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৭৯ জন পুলিশ সদস্য এবং ১৩৮ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন


দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রচণ্ড শীতের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া বিশাল আকৃতির এক শকুন স্থানীয়দের নজরে আসে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে। বাঁশঝাড়ের নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় প্রথম পাখিটিকে দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর ছড়িয়ে পড়তেই কৌতূহলী শিশু-কিশোরসহ বহু মানুষ শকুনটি এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমায় এবং অনেকে মোবাইলে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। স্থানীয় জাহাঙ্গীর রহমান জানান, তিনি প্রথম শকুনটিকে দেখতে পান এবং উড়তে না পারায় কাছে গিয়ে সহজেই ধরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাখিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নিয়ে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. দিলারা আকতার জানান, বিপন্ন প্রজাতির এই শকুনটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থতা নিশ্চিত করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, শীতের তীব্রতায় ভারতের হিমালয় অঞ্চল থেকে খাদ্যের সন্ধানে উড়ে এসে পাখিটি ফুলবাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছিল।
মন্তব্য করুন


ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে নেমেছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম রাতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে তাদের জালে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ভালো পরিমাণ মাছ পেয়ে ভোরেই ঘাটে ফিরেছেন অনেকে। এতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ইলিশ ঘাটগুলোতে।
আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বুড়িরচর সূর্যমুখী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটজুড়ে চলছে ব্যাপক বেচাকেনা। শ্রমিকরা টুকরি ভর্তি ইলিশ মাথায় নিয়ে দৌড়াচ্ছেন নৌকা থেকে বাজারে। পাইকার ও ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মুখরিত পুরো এলাকা। কেউ দরদাম করছেন, কেউ ট্রলারে মাছ তুলছেন।
সূর্যমুখী ঘাট মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি “আলাউদ্দিন” বলেন, ভোর থেকেই মাছ বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলেরা মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সাগর থেকে ভালো মানের ইলিশ ধরে এনেছেন। বহুদিন পর এমন জমজমাট বাজার দেখছি।
স্থানীয় জেলে ও নৌকার মাঝি আব্দুল কাদের বলেন, রাত ১২টার পর নদীতে গিয়েছিলাম, সকালে ঘাটে ফিরে এসেছি তিন মণ মাছ নিয়ে। যদিও মাছগুলো একটু ছোট, তবুও দাম ভালো থাকায় লাভ হয়েছে। এখন আবার সাগরে যাচ্ছি। কয়েক দিন এমন মাছ পেলে আগের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।
নিষেধাজ্ঞার সময়কাল নিয়ে কিছু জেলের ছিল ক্ষোভ। তারা বলছেন, ৪ অক্টোবরের পরিবর্তে যদি ১৩ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু করা হতো, তাহলে ক্ষতি কিছুটা কমে আসত। কারণ নিষেধাজ্ঞার আগেই সাগরে প্রচুর ইলিশ মিলছিল। তবুও সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে ৪ অক্টোবর বিকেলেই তারা ঘাটে ফিরে আসেন। এখন হাতিয়ার ঘাটগুলো কর্মচঞ্চল, জেলেদের জালে রুপালি ইলিশের নাচন, আর তীরে উঠছে আশা আনন্দে ভরা মাছভর্তি ঝুড়ি। ২২ দিনের অপেক্ষা শেষে আবারও রুপালি স্বপ্নের সন্ধানে সাগরে নেমে হাসি ফিরে এসেছে জেলেদের মুখে। এভাবে যদি মাছ পাওয়া যায়, তবে অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখা যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী এবং জেলেরা।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে লড়বেন বিএনপি মহাসচিব।
আজ সোমবার (০৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর” এই তালিকা ঘোষণা করেন।
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন। টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি মহাসচিব। ঘোষিত তালিকায় দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে।
স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে আছেন- কুমিল্লা-১ আসনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নরসিংদী-২ আসনে আবদুল মঈন খান, চট্টগ্রাম-১০ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কক্সবাজার-১ আসনে সালাহ উদ্দিন আহমদ, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভোলা-৩ আসনে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও দিনাজপুর-৬ আসনে এজেডএম জাহিদ হোসেন।
ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে পটুয়াখালী-১ আসনে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নোয়াখালী-৩ আসনে বরকত উল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহান, ফেনী-৩ আসনে আবদুল আউয়াল মিন্টু, মাগুরা-২ আসনে নিতাই রায় চৌধুরী, কুমিল্লা-৩ আসনে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, টাঙ্গাইল-৮ আসনে আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে কুমিল্লা-৬ আসনে মনিরুর হক চৌধুরী, ঢাকা-২ আসনে আমান উল্লাহ আমান, নোয়াখালী-১ আসনে মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-৪ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক, বরিশাল-১ আসনে জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৫ আসনে মজিবুর রহমান সারোয়ার, নেত্রকোনা-৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে তাজভীর উল ইসলাম, পাবনা-৪ আসনে হাবিবুর রহমান হাবিব, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৪ আসনে মুশফিকুর রহমান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, মানিকগঞ্জ-২ আসনে মঈনুল ইসলাম খান, সিলেট-১ আসনে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনে তাহমিনা রশদীর লুনা, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সিলেট-৬ আসনে এনামুল হক চৌধুরী, টাঙ্গাইল-২ আসনে আবদুস সালাম পিন্টু, ফেনী-২ আসনে জয়নাল আবেদীন ভিপি জয়নাল, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফজলুর রহমান, মৌলভীবাজার-৩ আসনে নাসের রহমান রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


দীর্ঘ
দেড় যুগ পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক
রহমান।
আজ
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরের পর তিনি সেখানে যাবেন বলে জানা গেছে। এ উপলক্ষে দলীয়
কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জানা
গেছে, সোমবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট থেকে কার্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে রাখা হয়।
সীমিত
পরিসরে বিএনপির সিনিয়র নেতারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন।
কার্যালয়ের
সামনে র্যাবের একটি ডগ স্কোয়াড টিম অপেক্ষমাণ রয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সুইপিং কার্যক্রম
শুরু হবে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয়
কার্যালয়ের সামনে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী
রয়েছেন।
সিএসএফ
ঘিরে রেখেছে পুরো কার্যালয়। এ ছাড়া পুরো নয়াপল্টন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে
কঠোর নজরদারি।
তারেক
রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে দলীয় কার্যালয়। তাকে স্বাগত জানিয়ে
বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের কর্মকর্তারা ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবেন।
মন্তব্য করুন


সাবেক
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞাকে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে দেখে দেশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ মন্তব্য করেছেন।
উপদেষ্টা
তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দেওয়া পোস্টে বলেন, 'সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া
দেশের গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নে এক আপোসহীন ও সর্বজন
শ্রদ্ধেয় নেতৃত্ব। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে তার
সংগ্রাম, সাহসী ভূমিকা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।' তিনি আরও বলেন,
'দেশ তাঁর নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞাকে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে দেখে। আমরা তাকে হারাতে চাই না।
গণতান্ত্রিক ধারার অভিভাবকসুলভ এই নেত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর
দোয়া কামনা করছি।'
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে
আশ্রয় নেয়া দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই
রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান।
তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
গতকাল বুধবার ( ২৮ জানুয়ারি ) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তাঁর
সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা
শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে ‘নাটকীয়ভাবে অর্থায়ন কমে যাওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরেন।
পাশাপাশি শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও
জোর দেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে
একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজন করলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনও প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক
মনোযোগ পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, গতবছর রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী
শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়ক হলেও আরও মনোযোগ প্রয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের শিবিরে
অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইতোমধ্যে নানা ধরনের
উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার
করা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও
সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি-সুবিধা পাওয়া এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম
বড় হয়ে উঠছে—এটি কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি ও মর্যাদার
সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।’
বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন
ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস জানান, ভাসানচর
থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের জন্য নতুন
চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর
প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তার রোহিঙ্গা
শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, তাঁর পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি
২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর
নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন
মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের সব
প্রচেষ্টার লক্ষ্য। প্রথমবার ভোট দেওয়া ও নতুন ভোটারদের জন্য আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে
আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।’
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


যুব
ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পে
১৮ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আজ
রোববার ( ৪ জানুয়ারি ) সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের ৪৮
জেলায় শিক্ষিত ও কর্ম প্রত্যাশী যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান
সৃষ্টি শীর্ষক প্রকল্পের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি
এ কথা বলেন।
ড.
আসিফ নজরুল বলেন, দেশের শিক্ষিত যুবকদের মাঝে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রচুর উপযোগিতা রয়েছে
এবং এটাকে আমাদের আরও বিস্তৃত করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধাটা হচ্ছে, এখানে আপনাকে
চাকরির পেছনে ঘুরতে হয় না। বিজনেস করতে হলে বা অর্থসংস্কার করতে হলে, আপনার সে রকম
কোন ইনভেস্টমেন্ট লাগে না। তিনি আরও বলেন, আপনি বাসায় বসে সব কিছু করতে পারছেন। আপনাকে
বড় একটা দোকান দিতে হচ্ছে না। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনাকে চাকরি করার জন্য দেশে বিদেশে
দালালের পেছনে ঘুরতে হচ্ছে না এবং আপনারা জানেন যে আজকে এই তথ্য প্রযুক্তির মহা উন্নয়নের
যুগে আপনি কোথায় বসে কাজ করছেন? কটার সময় বসে কাজ করছেন এটা ম্যাটার করে না। এই স্থানিক
দূরত্ব এখানে ইমমেটোরিয়াল হয়ে গেছে।
উপদেষ্টা
বলেন, বাংলাদেশের বহু মানুষের ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে
ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের বিরাট সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সুযোগটা
চীন ও ভারতের মত দেশগুলো প্রচন্ডভাবে গ্রহণ করছে।
যুব
ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, আমরা সবে মাত্র শুরু করেছি। আমাদের এই ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ
প্রকল্প, এই ধরনের প্রকল্প আরো অনেক বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে, এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ড.
আসিফ নজরুল আরও বলেন, আমি আশান্বিত যে এই প্রকল্পে
শেষ পর্যন্ত ১৮ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এটা এনাফ না, এটা তো আসলে অনবরত
হওয়া উচিত। এটা ১৮ হাজার না, ১৮ লাখ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে
যারা আছেন, ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ে যারা আছেন, যারা এই প্রকল্প গ্রহণ করেছেন তাদেরকে
আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই শুভেচ্ছা জানাই। উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে যারা ইনভলভ
আছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাই। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, এই
ধরনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে সব প্রশিক্ষণ প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোকে এই প্রকল্পের আওতা
থেকে আমাদেরকে বের করতে হবে। প্রকল্প শেষ,
প্রশিক্ষণও শেষ— এমনটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, আর এ
রকম একটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রকল্পে আমাদের অন্যভাবে চিন্তা করার স্কোপ রয়েছে।
তিনি
বলেন, আমি আজকে কালকের মধ্যে বসবো। এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পটা যে আপনার ফ্রিল্যান্সিং
প্রশিক্ষণটা মেইনস্ট্রিমিং করা যায় কি-না এবং
আমরা মন্ত্রণালয় মাধ্যমে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পরও মন্ত্রণালয়ের জনবল ও রিসোর্স দিয়ে
এটাকে কন্টিনিউ করতে পারি কি-না, সেটার সুযোগ ক্ষতিয়ে দেখব। কারণ আমার কাছে সত্যি সত্যি
মনে হয় যে আমাদের ভবিষ্যতের একটা বড় অংশ ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে নিহিত। উপদেষ্টা আরও
বলেন, ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আমাদের বেকারত্বের সমস্যা দূর করা সম্ভব। আমাদের পার
ক্যাপিটা ইনকাম বাড়ানো আমাদের দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার বিরাট সুযোগ
রয়েছে, আর এই সুযোগের অল্পই আমরা গ্রহণ করতে পেরেছি।
তিনি
বলেন, এই সুযোগকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আমার স্বল্প সময় আমি এই মন্ত্রণালয়ে
আছি এবং এখানে কি কি সুযোগ রয়েছে, আমরা সেটা করবো। ভবিষ্যতে যারা এই মন্ত্রণালয় দায়িত্বে
নিবেন, তাদের জন্য কি কি করণীয় আছে, সে ব্যাপারে আমরা অন্তত একটা ছোট্ট একটা রিসার্চের
মত বা ছোট্ট একটা প্রস্তাবনার মতো করে যাওয়ার চেষ্টা করব। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর একটা ওয়ানডে ওয়ার্কিং সেশন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ
করে উপদেষ্টা বলেন, যেখানে এই প্রকল্পে প্রশিক্ষণ
নেওয়া যুবকরা কিভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা বা ফ্রিল্যান্সার হিসাবে ব্যাপকভাবে উপার্জন
করছেন, তার প্রতিটি স্তর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উনারা প্রশিক্ষণ পাওয়া ব্যক্তিদেরকে
কাছে বর্ণনা করবেন। তাহলে এটা ওনাদের জন্য আরো বেশি উৎসাহ ব্যঞ্জক হবে, আরো বেশি তাৎপর্যপূর্ণ
হবে।
৩
মাস মেয়াদি (০১ জানুয়ারি ২০২৬ ৩১ মার্চ ২০২৬) ৫ম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কোর্সে ৪৮টি জেলায়
প্রতি জেলায় ৩ ব্যাচে ৭৫ জন করে মোট ৩৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
এ কোর্সের আজ উদ্বোধনী প্রোগ্রাম। ১৮ হতে ৩৫ বছর বয়সী কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায়
উত্তীর্ণ কর্মপ্রত্যাশী যুব ও যুব নারীরা এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছে। যুব ও ক্রীড়া
মন্ত্রণালয় সচিব মাহবুবুল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানসহ
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো
হয়, জানুয়ারি ২০২৪ হতে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে ২৯৯ কোটি ৯৯ লক্ষ
টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২৮৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৫
হতে দেশের ৪৮টি জেলায় একযোগে এ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।
ডিসেম্বর
২০২৫ পর্যন্ত ৪৮টি জেলায় ৪টি কোয়ার্টারে প্রতি কোয়ার্টারে ৩ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের
আওতায় মোট ১০,৮০০ জন যুব ও যুব নারী প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ
সম্পন্ন করেছে। প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী যুবদের মধ্যে ৬২% এর অধিক বা ৬৭৩২ জন প্রশিক্ষণার্থী
দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছে। এ সকল প্রশিক্ষণার্থী
এ পর্যন্ত প্রায় প্রায় ১১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৯ শত ৯৬ ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১৪
কোটি ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৬ শত ২৯ টাকার সমপরিমাণ আয় করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও ৩ মাসব্যাপী
৬০০ ঘন্টার এ প্রশিক্ষণ কোর্স নিয়মিত তদারকি করেন সংশ্লিষ্ট জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের
উপ-পরিচালকগণ, প্রতিটি জেলায় প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে ৩টি ব্যাচে মোট ৭৫ জন হিসেবে ৪৮
জেলায় মোট ৩৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।
মন্তব্য করুন


চাঞ্চল্যকর
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের নয়ডায়। সেখানে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে গাড়ির
ভেতরে এক যুবক তার প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা করার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ
উঠেছে। পরে গাড়ি থেকে দু’জনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও কার্তুজও জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা
বলে মনে করা হলেও, তরুণের পরিবার দাবি করেছে- দু’জনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
প্রাথমিকভাবে
প্রেমিকের হাতে পিস্তল ও একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার সূত্রে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিললেও
পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।
ভারতীয়
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডার
সেক্টর ৩৯ থানা এলাকায়। এলাকাবাসী গুলির শব্দ শুনে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে
পৌঁছে একটি গাড়ির মধ্যে এক পুরুষ ও এক নারীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। গাড়িটি ভেতর
থেকে লক করা ছিল এবং পরে গাড়িটি জব্দ করে এলাকা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিলগালা করা
হয়।
এদিকে
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন- নয়ডার সেক্টর ৫৮–এর
বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী রেখা এবং দিল্লির ত্রিলোকপুরীর বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সুমিত।
পুলিশ জানিয়েছে, আগের দিন থেকে তারা দু’জনই নিখোঁজ ছিলেন এবং এ নিয়ে থানায়
জিডি করা হয়েছিল। তাদের প্রায় ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল এবং বিষয়টি দুই পরিবারই জানত।
কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, গাড়িটি ভেতর থেকে লক করা ছিল এবং সুমিতের হাতে একটি পিস্তল পাওয়া যায়।
ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো
হয়েছে।
সূত্রের
বরাতে জানা গেছে, সুমিত হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা লিখে রেখে গেছেন। ওই বার্তায় তিনি
তাদের ১৫ বছরের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আত্মহত্যার কারণ ব্যাখ্যা করেন। বার্তায়
লেখা ছিল: “আমি সুমিত, আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। রেখা এ জন্য দায়ী। সে ১৫ বছর ধরে আমার
সঙ্গে সম্পর্কে ছিল এবং আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন সে অন্য কাউকে বিয়ে
করতে যাচ্ছে। তাই আমি আত্মহত্যা করছি, কারণ রেখা আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”
তবে
সুমিতের পরিবার পুলিশের প্রাথমিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা
নয়- বরং দু’জনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরিবার অভিযোগ করেছে,
জাতিগত কারণে মেয়ের পরিবার সম্পর্কটি নিয়ে কটূক্তি করত। এমনকি তাদের কাছে হুমকিমূলক
ফোনও এসেছে, যার মধ্যে বিদেশি নম্বর থেকেও কল ছিল।
এক
আত্মীয় বলেন, গাড়িটি রেখার গ্রাম সালারপুর থেকে কয়েকশ’
মিটার দূরে পাওয়া গেছে, আর এটিই তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তাদের দাবি, জাতিগত
কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে এবং তাদের পক্ষ থেকে সম্পর্ক নিয়ে কখনোই কোনও চাপ ছিল না।
সুমিতের
এক চাচাতো ভাই বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, দু’জনকেই হত্যা করা হয়েছে এবং তারা জাতিগত
বৈষম্যের শিকার। তারা এক দশকের বেশি সময় ধরে সম্পর্কে ছিল এবং দুই পরিবারই বিষয়টি
জানত। সুমিত আমার ছোট ভাই। মেয়েটি আমাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিত। আমাদের পক্ষ
থেকে কখনও কোনও চাপ ছিল না।
মন্তব্য করুন