

ঢাকাসহ
দেশের ১৯ জেলার ওপর দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা
ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায়
বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
সোমবার
(১৩ জুলাই) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে,
রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া,
যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট
জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে
যেতে পারে। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
এ
কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে।
অন্যদিকে,
আবহাওয়ার আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই
দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি
ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া
অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা
অব্যাহত থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালু থাকবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই ১০ দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের জন্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে ।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ক্লাস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াতের সই করা এক পরিপত্রে এ রুটিনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিসের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব দপ্তর চলবে সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। আর জোহরের নামাজের জন্য দুপুর সোয়া একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে।
এদিকে, রমজান উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) থেকে সারা দেশের সব মাদ্রসায় ছুটি শুরুর কথা ছিল। তবে স্কুল-কলেজের পর অবশেষে মাদ্রাসার ছুটির তালিকাও সংশোধন করে সরকার। এতে ১৫ দিন ছুটি কমানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদ্রাসায় ক্লাস-পরীক্ষা চলবে ২১ মার্চ পর্যন্ত। দেশের তিনটি সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং বেসরকারি ইবতেদায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোতেও শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে আনা মোটরসাইকেল পরিবহনের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ছয়টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি কুমিল্লার একটি বিশেষ দল জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভারত থেকে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল বাংলাদেশে নিয়ে এসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল বুড়িচং থানাধীন ময়নামতি এলাকার কাটা জঙ্গল সাকিনে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কে কৌশলগত অবস্থান নেয়।
রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে করে নয়জন ব্যক্তি ওই এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডিবির সদস্যরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে নয়জনকেই আটক করতে সক্ষম হন।
পরে আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোর বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা হলে তারা কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন কিংবা মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে চোরাইপথে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মোটরসাইকেলগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে ডিবি। পরে এসব মোটরসাইকেল কুমিল্লা, ফেনী, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার কচুয়ারপাড় গ্রামের কামিম আহম্মদ (২৮), সিলেট কোতোয়ালি থানার শাহী ঈদগা এলাকার আব্দুল করিম (৩০), সুনামগঞ্জ সদর থানার পুরাতন গদিগাঁও গ্রামের সাইদুল ইসলাম (২২), সিলেটের জালালাবাদ থানার নলকট গ্রামের পাবেল আহম্মদ (২৬), একই থানার নীলগাঁও গ্রামের হোসাইন (২৩), সুনামগঞ্জের দিরাই থানার চান্দপুর গ্রামের রিপন চন্দ্র দাস (২৯), সিলেট কোতোয়ালি থানার চারাদিঘীরপার এলাকার রাজু আহম্মদ (২৮), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার তাতিকোনা গ্রামের আবিদুল ইসলাম (২৮) এবং সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার সালুটিঘর গ্রামের কাওছার হোসেন (২৬)।
অভিযানে জব্দ করা মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে রয়েছে—একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বরবিহীন নীল-সাদা রঙের Yamaha R15, একটি কালো রঙের Yamaha MT15, একটি সাদা রঙের Yamaha R15, একটি কালো রঙের Yamaha MT15, একটি কালো রঙের Yamaha R15 এবং একটি নীল রঙের Yamaha R15। ছয়টি মোটরসাইকেলের কোনোটিরই বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিকানা, দেশে প্রবেশের পথ, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূলহোতাদের পরিচয় এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল দেশে প্রবেশ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পেছনে কোনো বড় সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, সীমান্তপথে অবৈধভাবে পণ্য ও যানবাহন দেশে প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চিত্রনায়িকা শারমিন আক্তার নিপা মাহিয়া ওরফে মাহিয়া মাহিকে ১
হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার গোল্লাপাড়া বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সিফাত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ জরিমানা করেন।
চিত্রনায়িকা
শারমিন আক্তার নিপা মাহিয়া ওরফে মাহিয়া মাহি রাজশাহী-১ (তানোর- গোদাগাড়ী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তার প্রতীক হচ্ছে ট্রাক।
নির্বাচনি আচরণবিধি ভেঙে অতিরিক্ত মাইক ব্যবহার করে মাহির ট্রাক প্রতীকের প্রচার-প্রচারণা চলছিল। এ সময় খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সিফাত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১
হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং বিল্লাল হোসেন জানান, আচরণবিধি ভেঙে একসঙ্গে ৭টি মাইক ব্যবহার করছিলেন মাহির প্রচারকাজের সঙ্গে জড়িত লোকজন। এ কারণে জরিমানা করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি নিজে উপস্থিত ছিলেন না।
মন্তব্য করুন


মাঠের
লড়াই শেষ হলেও ফুটবলের গল্প থেমে থাকে না। অনেক সময় ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে
আলোচিত। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার জন্যও তেমনই এক স্মরণীয় মুহূর্ত এনে দিয়েছেন
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ম্যাচ
শেষ হওয়ার পর লিওনেল মেসির সঙ্গে কয়েক মুহূর্ত কথা বলার আশায় তার কাছে এগিয়ে যান কেপ
ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে নিজের কথা বলার আগেই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের আচরণে মুগ্ধ
হয়ে যান তিনি।
ভোজিনিয়ার
ভাষ্য, তিনি কাছে যেতেই মেসি তাকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, ‘তুমি
খুব প্রতিভাবান। তুমি একজন অসাধারণ গোলকিপার। তোমার দেশের মানুষের তোমার জন্য গর্ব
করা উচিত।’
মেসির
প্রশংসাকে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন ভোজিনিয়া। তিনি
বলেন, এমন একজন ফুটবলারের মুখে নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক কথা শোনা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি,
যা তিনি কখনো ভুলবেন না।
মেসির
প্রশংসার জবাবে ভোজিনিয়াও তাকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বলেন, ‘ধন্যবাদ, লিও। আপনিই
সেরা।’
এরপর
তিনি মেসির কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ করেন জার্সি বদল করা যাবে কি না। ভোজিনিয়ার দাবি,
মেসি হাসিমুখেই সেই অনুরোধে সাড়া দেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। টানেলের ভেতরে তোমাকে এটা
দেব।
একজন
ফুটবলারের কাছে প্রিয় তারকার সঙ্গে জার্সি বিনিময় নিঃসন্দেহে স্মরণীয় অর্জন। আর
তার সঙ্গে যদি যোগ হয় প্রশংসা ও আন্তরিক আলিঙ্গন, তাহলে সেই মুহূর্ত আরও বিশেষ হয়ে
ওঠে। ভোজিনিয়ার কাছেও ঘটনাটি তেমনই। তার ভাষায়, এই ধরনের মুহূর্ত হৃদয়ে আজীবন খোদাই
হয়ে থাকে।
জয়-পরাজয়ের
হিসাবের বাইরে ভোজিনিয়ার জন্য এই ম্যাচটি ছিল স্বপ্নপূরণের উপলক্ষ। ছোটবেলা থেকে যাকে
অনুসরণ করে বড় হয়েছেন, সেই লিওনেল মেসির প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি তার জার্সিও উপহার
হিসেবে পেয়েছেন তিনি। একজন নিবেদিত মেসি-ভক্তের কাছে এর চেয়ে মূল্যবান স্মৃতি খুব কমই
হতে পারে।
মন্তব্য করুন


মহান বিজয় দিবসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এ সময় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ৫৪তম বিজয় দিবস উদযাপন করেন।
উভয় নেতা আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৫ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাঁরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রর্দশন করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা এবং পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট সেখানে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিক, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মন্তব্য করুন


বরিশালের
বাকেরগঞ্জে একটি জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের মারধরে হালিম হাওলাদার
(৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৪ জন।
শুক্রবার
(১৫ মে) বিকেল ৩টায় উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে। নিহত হালিম হাওলাদার
হেলেঞ্চা গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন হাওলাদারের মেঝ ছেলে।
এ
ঘটনায় আরও আহত হয়েছে নিহতের ছোট ভাই মালেক হাওলাদার (৬৫)দেলোয়ার হাওলাদার (৫০), ভাগ্নে
মিজানুর রহমান (৪০), খবির শিকদার (৫০)। প্রাথমিকভাবে আহতদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পর হালিম হাওলাদার মারা যায়।
ঘটনার
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের চাচাতো ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের ছোট ভাই দেলোয়ার শিকদারের
একটা কেনা জমি নিয়ে একই এলাকার রিপন হাওলাদার, আউয়াল মেম্বার, সুমন হাওলাদার,উজ্জ্বল
গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার দেলোয়ার হাওলাদার ওই জমিতে বালু
ভরাটের চেষ্টা করলে বিকেলে ৩টার দিকে রিপন ও আউয়াল মেম্বারের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন দেশীয়
ধারালো অস্ত্র, রড, বাঁশ, লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
এসময়
বাঁশের আঘাতে নিহত হালিম হাওলাদার মাটিতে লুটিয়ে পরলে তার বুকে বাঁশ দিয়ে খোঁচানো হয়।
এতে সে গুরুতর আহত হয়।
নিহতের
ছোট ভাই দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, আমার কেনা একটা জমিতে বালু ভরাট করতে গেলে রিপন হাওলাদার,
আউয়াল মেম্বারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আমি সহ ৫-৬
জন আহত হই। এর মধ্যে আমার বড় ভাই মারা যায়।
বাকেরগঞ্জ
থানা ওসি আদিল হোসেন বলেন, বিরোধীপূর্ণ জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায়
হালিম হাওলাদার নামে একজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের
জন্য বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের
চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন




মাদকের
বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার
(২৮ জুলাই) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক
সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি
বলেন, আমরা দলমত নির্বিশেষে, সকল মানুষকে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে
তুলতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, যথাযথভাবে মাদক নিরসন করতে পারলে সমাজের বহু সমস্যার
সমাধান হয়ে যাবে।
মাদক
নির্মূলে সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বর্তমান সরকার
দেশ থেকে চিরতরে মাদককে বিদায় করতে আন্তরিকতার সাথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ
অনুষ্ঠিত মাদক বিরোধী সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রফিকুল হক। অন্যান্যের মধ্যে
উপস্থিত ছিলেন-পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ৫০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখলাক
হোসেন, জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনসহ আরও অনেকে।
মন্তব্য করুন


মেক্সিকোয়
এক নিখোঁজ নারীকে খুঁজতে প্রকাশ করা পোস্টারে অতিরিক্ত ফিল্টারযুক্ত ছবি ব্যবহারের
ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ নারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া ছবিগুলো
এতটাই সম্পাদিত ছিল যে, পরিচিতজনদের অনেকেই পোস্টারে থাকা নারীকে বাস্তবের নারীর সঙ্গে
সহজে মিলিয়ে নিতে পারেননি।
৩০
বছর বয়সী গ্রেসিয়া গুয়াদালুপে ওরান্তেস মেন্দোসা গত ১২ এপ্রিল মেক্সিকোর চিয়াপাস রাজ্যে
নিখোঁজ হন। এরপর তাকে খুঁজে বের করতে দেশটির নিখোঁজ নারীদের সন্ধানে ব্যবহৃত জরুরি
ব্যবস্থা ‘আলবা প্রোটোকল’ চালু করে কর্তৃপক্ষ।
সন্ধান
কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রেসিয়ার ছবি দিয়ে বিভিন্ন সতর্কবার্তা ও পোস্টার প্রকাশ করা
হয়। কিন্তু সেসব পোস্টারে ব্যবহৃত ছবিগুলো ছিল তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত
ফিল্টার দেওয়া ছবি। ফলে ছবিতে তার স্বাভাবিক মুখাবয়বের সঙ্গে বাস্তব চেহারার বেশ পার্থক্য
তৈরি হয়।
নিখোঁজ
হওয়ার কয়েক দিন পর ওকোসোকোয়াউতলা ও জিকিপিলাসের মধ্যবর্তী একটি মহাসড়কের পাশে গ্রেসিয়াকে
জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। এতে স্বস্তি ফিরলেও ঘটনাটি সামনে এনেছে গুরুত্বপূর্ণ
একটি প্রশ্ন—নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সম্পাদিত
ছবি কতটা কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের
মতে, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে ব্যবহৃত ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত
তার বাস্তব চেহারার সঙ্গে মিল। মুখের গঠন, চোখ, নাক, চুল কিংবা ত্বকের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য
অতিরিক্ত ফিল্টার বা সম্পাদনার মাধ্যমে বদলে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীদের জন্য তাকে শনাক্ত
করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে ফিল্টার ব্যবহার এখন অনেকের কাছেই
স্বাভাবিক বিষয়। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানের মতো পরিস্থিতিতে সেই ছবিই যদি প্রধান
শনাক্তকরণ উপকরণ হয়ে ওঠে, তাহলে অতিরিক্ত সম্পাদনা অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে উল্টো জটিল
করে তুলতে পারে।
গ্রেসিয়ার
ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত সুখবর মিলেছে। তবে ঘটনাটি মনে করিয়ে দিল—সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে যতটা ‘সুন্দর’ দেখানো যায়, নিখোঁজের সন্ধানে ততটাই
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একজন মানুষের বাস্তব চেহারাটি।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরের
নগরকান্দা উপজেলায় পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর কনের পক্ষের করা ধর্ষণ মামলায়
বরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি
ঘটেছে উপজেলার ডাঙ্গি ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা
সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
সম্প্রতি
ঘটা করে বর-কনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কনে বরের বাড়িতেও যান। তবে কনের বয়স কম হওয়ায় বিয়ের
নিবন্ধন হয়নি মর্মে কথা ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়রা
জানায়, পারিবারিক সম্মতিতে ধর্মীয় রীতি-নীতিসহ সামাজিকভাবে ধুমধাম করে বিয়ে হয় তাদের।
গায়েহলুদ, নাচ-গান, বরযাত্রীসহ পালন করা হয় বিয়ের সব রীতি। তবে হঠাৎ কোনো বিয়েই হয়নি
বলে দাবি করে বসেন কনে ও তার পরিবার। এতে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ এনে দায়েরকৃত মামলায়
কারাগারে যেতে হয়েছে রুমন খন্দকার (২০) নামে এক তরুণকে।
ভুক্তভোগীর
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২২ মে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী
একই উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মিরাজ মাতুব্বরের মেয়ে মিলা আক্তারকে
(১৫) বিয়ে করেন রুমন খন্দকার। সামাজিক অনুষ্ঠান করে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আগে
কনের বাড়িতেও আয়োজন করা হয়েছিল গায়েহলুদের মতো অনুষ্ঠান। এরপর ৪০ জন বরযাত্রী নিয়ে
যাওয়া হয় কনের বাড়িতে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষে দুই পরিবারের স্বজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের
উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
তবে
কনের বয়স কম হওয়ায় নিবন্ধন করা হয়নি এবং দুই পরিবারের সম্মতি ছিল প্রাপ্তবয়স্ক হলে
নিবন্ধন করে নেওয়া হবে। পরে কনেকে বিয়ের রঙে সাজিয়ে আয়োজনের মধ্যেই নিয়ে যাওয়া হয় বরের
বাড়িতে। সেই বিয়ের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতির প্রমাণাদি ও অনুষ্ঠানের ভিডিও সাংবাদিকদের
সরবরাহ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
পরিবারটির
ভাষ্য, বিয়ের দুদিন পর সামাজিক রীতি অনুযায়ী কনের বাড়িতে গেলে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।
বর
রুমনের মামা হাফিজুর রহমান বলেন, আমার ভাগনের সঙ্গে বাসররাতে ওই মেয়ের মনোমালিন্য হয়।
ফিরানিতে গিয়ে ওই মেয়ে আর বরের বাড়িতে আসতে চায় না। পরে জানতে পারি অন্য একজনের সঙ্গে
ওই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এরপরও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ফিরিয়ে
আনা হয়। কিন্তু কয়েক দিন পর আবারও বাড়িতে ফিরে গেলে সে আর আসেনি, মেয়েটির পরিবারও আমাদের
সঙ্গে কথা বলতে চায়নি।
তিনি
বলেন, এর প্রায় এক মাস পর গত ২ জুলাই গভীর রাতে হঠাৎ রুমনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়
নগরকান্দা থানা পুলিশ। পরের দিন থানায় গিয়ে জানতে পারি একটি ধর্ষণ মামলায় তাকে গ্রেফতার
করা হয়েছে। ওই মামলায় আদালতে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই থানায় জহুরন খাতুন (৫২) নামে এক নারী মামলাটি
দায়ের করেন। জহুরন বিয়ে হওয়া কিশোরীর সম্পর্কে দাদি।
মামলায়
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন বিকাল ৫টায় বাড়ির পাশ থেকে তার নাতনি মিলাকে একটি মাইক্রোবাসে
করে অপহরণ করে নিয়ে যান রুমন। এরপর রুমন খন্দকারদের বাড়িতে রেখে রাতভর ধর্ষণ করা হয়
এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা হয়। পরদিন সকালে কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে
এসে পরিবারকে ঘটনাটি খুলে বলে মিলা। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান
স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ওই
কিশোরী ও মামলার বাদী জহুরন খাতুনের দাবি, কোনো বিয়েই হয়নি। এছাড়া মামলার এজাহারে দেওয়া
বর্ণনা দিয়ে ধর্ষণের বিচার দাবি করেন। তবে ছবি ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে
যান।
নগরকান্দা
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, গত ২ জুলাই জহুরন খাতুন তার নাতনিকে
নিয়ে থানায় আসেন। তাদের কাছে ছিল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারের
চিকিৎসার ছাড়পত্র। যেখানে ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়।
তবে
ওই এজাহারে বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকে কিছু জানানোও হয়নি বলে দাবি করে
তিনি বলেন, মেয়েটির বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় সরকারিভাবে বিয়ের কোনো সুযোগই নেই। সামাজিক
বিয়ে আইনগত বৈধতা নেই। এছাড়া কেউ যদি মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে এসে অভিযোগ করে, সেক্ষেত্রে
গুরুত্ব দিয়েই মামলা নিতে হয়। এক্ষেত্রে সেটি হয়েছে।
রাসুল
সামদানি আজাদ আরও বলেন, এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপ-পরিদর্শক শহিদুল ইসলামকে।
তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
ফরিদপুর
জজকোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের দেশে দুই পরিবার ও ছেলে-মেয়ের সম্মতিতে
অহরহ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। এখানেও তেমনটা হয়েছে, পারিবারিকভাবে বিয়ের পর সংসার হয়েছে তাদের।
তবে, আইনের দৃষ্টিতে এই বিবাহ স্বীকৃত নয়। যার কারণে পারিবারিক কলহের জেরে ধর্ষণের
মতো অভিযোগে ছেলেটিকে কঠিন মামলার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক।
নগরকান্দা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, বিয়েতে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা
হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রথমে তারা অবৈধ কাজ করেছে, বাল্যবিয়ে আড়াল করতে নিবন্ধন
করেননি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে কনেপক্ষ এই সুযোগটাকে ব্যবহার করেছেন।
মন্তব্য করুন