

মজিবুর রহমান পাবেল, কুমিল্লা:
মৃত্যুর
আগ পর্যন্ত কামলা হয়ে কুমিল্লা-৩ আসনের মানুষের
পাশে থেকে তাদের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান
ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এবং পাঁচবারের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
তিনি
বলেন, ‘অতীতে আমি আপনাদের কামলা হয়ে যেভাবে পাশে ছিলাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেভাবে
কামলা হয়ে থাকতে চাই। নেতা হিসেবে নয়, আমি আপনাদের কামলা হিসেবেই থাকতে চাই।’
শনিবার বিকালে কুমিল্লার বাঙ্গরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জনসভায়
বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান কায়কোবাদ বলেন, ‘আমরা কি চিন্তা করতে পেরেছিলাম
বাঙ্গরা হাইস্কুল মাঠে আমরা আজকে সমাবেশ করতে পারব? আমরা কি চিন্তা করতে পেরেছিলাম
শেখ হাসিনার দেশ থেকে এভাবে পালিয়ে যাবে? আমরা কি চিন্তা করেছিলাম সেই স্বৈরাচারদের
অনেকে জেলখানায় যাবে এবং বিচারের মুখোমুখি হবে। এসব ব্যবস্থা করেছে আল্লাহ।’
এসময়
আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানানোর জন্য সবাইকে একবার সূরা ফাতিহা পাঠ করান তিনি।
অন্তর্বর্তী
সরকার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনাকে এই সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা বানিয়েছে আল্লাহ। এই আওয়ামী লীগ সরকার আর কিছুদিন থাকলে অনেকের মত
আপনাকেও জেলখানার স্বাদ গ্রহণ করতে হতো। আল্লাহ আপনাকে সেই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দিয়েছে।
এজন্য আপনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন এবং জনগণের আশাকে পূরণ করার চেষ্টা করুন।’
তিনি
বলেন, ‘এই মুহূর্তে জনগণের একটিই আশা, সেটি হল নির্বাচন। সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে এই
সংস্কারের মাধ্যমে বড়লোকদের উপকার হবে গরিবদের কোনো উপকার হবে না। আপনাদের সংস্কারের
প্রয়োজন নেই। সংস্কার ছেড়ে দিন তাদের ওপরে, যারা জনপ্রতিনিধি হবে। তাদের কাছে পরামর্শ
রেখে যান। আপনাদের পরামর্শকের সামনে রেখে এই সেই সরকার এগুলো পালন করার চেষ্টা করবে।
কাজী
শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ আরও বলেন, ‘যেভাবে বাংলাদেশের জনগণ একত্রিত হয়ে আন্দোলন
করেছিল, সেই আন্দোলনের ফসলকে ইউরোপ-আমেরিকা সমস্ত পৃথিবী একসেপ্ট করে নিয়ে স্বাগত
জানিয়েছে। আগে অনেকে অনেক কথা বলেছি অনেকে অনেক ভাষায় কথা বলেছে, কারো কথা শুনে নাই।
কিন্তু এই আন্দোলনের মাধ্যমে যখন বাংলাদেশের নারীরা, যুবকেরা ও মেহনতি মানুষ একত্রিত
হয়ে ঢাকা শহরের রাস্তায় নেমে পড়ল তখন তারা সবাই একযোগে চিৎকার করে বলে উঠল আমরা
তোমাদের সঙ্গে আছি। এরপর সবাই বলল এই স্বৈরাচারের বিচার হবে, বিচার করতে হবে। কিন্তু
এর আগে কিন্তু এই বিচারের কথা কেউ বলে নাই।
তিনি
বলেন, আমরা সবাই একত্রিত হয়ে যেমনিভাবে এই স্বৈরাচারকে পতন করিয়েছি, এমনিভাবেই একত্রিত
থাকতে হবে যেন আমাদের দাবি আদায় ও সুন্দর নির্বাচন আদায় করতে পারি।
এসময়
সৃষ্টিকর্তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে আমাদের বলতে হবে, চাইতে হবে যেভাবে
স্বৈরাচার সরকারকে আমাদের মাঝখান থেকে বিদায় করেছে সেভাবেই একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা
করে দাও।
নারীদের
প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বিএনপির জনপ্রিয় এই নেতা বলেন, ‘যতবার নির্বাচন করেছি ভোটের
সেন্টারে গিয়ে দেখেছি মহিলাদের লাইনটা অনেক বড়। আর এ কারণেই দেখা যেত ভোটের যে রেজাল্ট
এখানে আমাকেই আল্লাহপাক বেশি ভোট দিয়েছে।’
এসময়
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলে হিন্দু ভোট আওয়ামী লীগের, আমাদের আন্দিকুট ইউনিয়নে কয়েকটা
গ্রাম আছে যেখানে হিন্দু মুসলমানের চেয়েও বেশি। ওই সেন্টারে আল্লাহ পাক আমাকে সমসময়
আমাকেই জিতিয়েছে।
জনসভা
বিকেল ৪টায় শুরু হলেও দুপুর থেকেই নেতাকর্মীরা মিছিলে মিছিলে সভাস্থলে এসে জমায়েত
হোন। নেতাকর্মীদের নানা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। বিকেল চারটার আগেই পরিপূর্ণ
হয়ে পড়ে জনসভাস্থল। জনসভায় উপস্থিত জনতার মধ্যে পুরুষের সঙ্গে নারীদের উপস্থিতিও
ছিল চোখে পড়ার মতো।
কুমিল্লা
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি
ছিলেন, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য
রাখেন উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার,সদস্য সচিব তারেক মুন্সী, যুগ্ম
আহ্বায়ক তৌফিক আহমেদ মীর, সাবেক মেজর মো. শাজাহান, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম
আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা
আক্তার রুবি,উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কাজী তাহমিনা আক্তার, মুরাদনগর উপজেলা যুবদলের
আহ্বায়ক সোহেল সামাদ,মুরাদনগর উপজেলা হিন্দু পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দয়ানন্দ
ঠাকুর প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম প্রবীণ সাংবাদিক এরশাদ মজুমদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ।
এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার এদেশের সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থও লিখেছেন। তাঁর মৃত্যু সাংবাদিক জগতের অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রবীণ সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১১ টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তিনি ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার ৮৪ বছর বয়স হয়েছিল ।
মন্তব্য করুন


যাত্রীদের জিম্মি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের
রানিং স্টাফদের কর্মসূচি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রেন চলাচল
বন্ধের পর সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
বলেন, স্টাফদের দাবির বিষয়ে আমাদের আলোচনার দরজা সব সময় খোলা রয়েছে। প্রয়োজনে আমরা
তাদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করব এবং অর্থ বিভাগেও তাদের এ দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনা করব।
যাত্রীদের ভোগান্তি যাতে কম হয় সেজন্য ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি।
এরপরও কোনো যাত্রী যদি স্টেশনে আসেন তাদের সুবিধা বিবেচনা করে আমরা বিআরটিসি বাসের
ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যাতে রেলের যে রুটগুলো আছে সেখানে যাত্রীরা যেতে পারেন।
রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির
খান বলেন, স্টাফদের যে দাবি মাইলেজ অ্যালাউন্সের দাবি, তা দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
তাদের এ দাবির অনেক অংশ আমরা ইতোমধ্যে পূরণ করেছি। বাকি দাবিগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা
করতে প্রস্তুত আছি। রেলতো কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না, এখানে আলোচনার সুযোগ আছে। রেল
বন্ধের ফলে কিন্তু সরকারের অসুবিধা হচ্ছে না, অসুবিধা সাধারণ যাত্রীদের হচ্ছে। আমরা
চাই এর সমাধান দ্রুত হোক। কারণ সামনে ইজতেমা আছে।
পরিদর্শনকালে বিআরটিসির চেয়ারম্যান
তাজুল ইসলাম বলেন, কমলাপুর ও এয়ারপোর্ট স্টেশনে যাত্রীদের জন্য ১০টি করে মোট ২০টি গাড়ি
প্রস্তুত আছে। প্রয়োজন হলে বাস আরও বাড়ানো হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রেলপথ সচিব মো.
ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরিফ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মো.
সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের
প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের
পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
৬ আগস্ট বঙ্গভবন থেকে
গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এছাড়া প্রেস রিলিজে আরো
বলা হয়েছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৫
আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও বিভিন্ন মামলায় আটকদের মুক্তি দেওয়া শুরু
হয়েছে এবং এরই মধ্যে অনেকে মুক্তি পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন


সাবেক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার
(১ জানুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জিয়া উদ্যানে গিয়ে খালেদা জিয়ার কবরে তিনি এ শ্রদ্ধা
নিবেদন করেন। এরপর মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব।
এরপর
তিনি সমাধিস্থল ত্যাগ করেন।
তবে
এসময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি মির্জা ফখরুল।
গত
৩০ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা
জিয়া।
৩১
ডিসেম্বর লাখ লাখ জনতার অংশগ্রহণে তার জানাজার নামাজ হয়। এরপর জিয়া উদ্যানে স্বামী
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে তাকে চিরশায়িত করা হয়।
মন্তব্য করুন


উন্নয়ন
প্রকল্প পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নদীর পানিপ্রবাহ যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে তা নিশ্চিত করার
জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
আজ
বুধবার (১৮ জুন) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক
করিডোর উন্নয়ন’ প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জোং ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের
(ইআরডি) কর্মকর্তাদের একটি দল এই প্রকল্পের বিস্তারিত রূপকল্প, কৌশল এবং বাস্তবায়ন
প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন।
এসময়
উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার
আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ
এবং মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া।
বৈঠকে
প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে নির্দেশ দেন।
তিনি
বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের নদীপ্রবাহকে। বাংলাদেশ একটি
বদ্বীপ। আমরা কোনোভাবেই আমাদের পানিপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে চাই না।’
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আরেকটি বিষয় হলো, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের
ক্ষেত্রে ওই এলাকার জনসংখ্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। আমাদের দেশ বন্যাপ্রবণ।
তাই পানিপ্রবাহ বন্ধ করে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে
তুলবে। বন্যার সময় আমাদের দেশের মানুষ উঁচু রাস্তা, সেতু এবং রেলপথে আশ্রয় নেয়। সুতরাং
সেতু শুধু নির্মাণ করলে হবে না, এটি জনগণের জন্য আশ্রয় হচ্ছে নাকি বিপদ ডেকে আনছে সেটাও
বিবেচনা করতে হবে।
ড.
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, তৃতীয়টি হলো আন্তর্জাতিক সংযোগ। আমরা এ অঞ্চলে একটি ইনভেস্টমেন্ট
হাব তৈরি করতে চাই। সেজন্য প্রকল্প এমন হতে হবে যা নেপাল, ভুটানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকেও
সংযুক্ত করবে।
বৈঠকে
এ উন্নয়ন প্রকল্পে পানি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে এবং একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির
নির্দেশ দেন তিনি।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ এখন কঠিন সময় পার করছে। সবাইকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের গ্রাজুয়েশন সেরিমনিতে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ কঠিন সময় পার করছে। বৈশ্বিক ও কৌশলগতভাবে এখন কঠিন সময় যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
সবাইকে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জাতীয় বিপর্যয় থেকে শুরু করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ সুনাম কুড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন


গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কলম্বিয়া এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সিএনজেড গ্রুপের শ্রমিকরা এই বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও শ্রমিকরা জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কলম্বিয়া এলাকায় টিএনজেড গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের গত কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এ নিয়ে শ্রমিকরা বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা পরিশোধ করছে না। ফলে শনিবার সকালে কয়েক হাজার শ্রমিক কারখানার সামনে জড়ো হন। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশের লেনেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম জানায়, বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সেনাবাহিনীর কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। এই ধারা অনুযায়ী সরকারকে মেট্রোপলিটনের বাইরে যে কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ক্ষেত্রে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা না গেলেও অন্যদের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে আইনে শর্ত আরোপ করা হয়নি।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭(১) ধারা অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা (সেনা কর্মকর্তা) সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (জেলা প্রশাসক) তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন।
গ্রেফতার, তল্লাশি ও বেআইনি সমাবেশ ভঙ্গের ক্ষমতা: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এসব ধারা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা কাউকে আটক বা গ্রেফতার বা গ্রেফতারের আদেশ, তল্লাশির আদেশ ও বেআইনি সমাবেশ ভঙ্গের জন্য আদেশ দিতে পারবেন।
গ্রেফতার বা গ্রেফতারের আদেশ: ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪ ও ৬৫ ধারায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতিতে ও এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে কোনো অপরাধ করলে তিনি নিজে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারবেন অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারবেন। এছাড়া ৮৩ ও ৮৪ ধারা অনুযায়ী অধিক্ষেত্রের বাহিরে কার্যকরের জন্য পরোয়ানা জারি করতে পারবেন। আইনের ৮৬ ধারার বিধান মতে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিতে পারবেন অথবা অপরাধ জামিনযোগ্য না হলে তাকে আদালতে পাঠাবেন।
তল্লশি সংক্রান্ত আদেশ: ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৯৫(২) ধারার বিধানমতে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে ডাক বা টেলিগ্রাম বিভাগের দ্বারা তল্লাশি পরিচালনা করবার ও উক্ত দলিল, পার্সেল বা ব্যক্তি আটক করার ব্যবস্থা করতে পারবেন। ১০০ ধারার বিধানমতে কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করার বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ পেলে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করতে পারবেন। ১০৫ ধারার বিধানমতে নিজ উপস্থিতিতেও ম্যাজিস্ট্রেট তল্লাশির আদেশ দিতে পারবেন।
শান্তিরক্ষায় মুচলেকা গ্রহণ: শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী শান্তি শান্তিরক্ষায় সদাচরণের মুচলেকা গ্রহণ করতে পারবেন। ১০৯ ধারার বিধানমতে অধিক্ষেত্রের মধ্যে ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নিতে পারবেন। ১১০ ও ১২৬ ধারা অনুযায়ী অভ্যাসগত অপরাধীর কাছ থেকে জামিনদারসহ বা জামিনদার ছাড়াও শান্তিরক্ষায় মুচলেকা নিতে এবং প্রয়োজনে মুচলেকা বাতিল করতে পারবেন।
বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গের আদেশ দান: ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ ধারা অনুযায়ী সর্বসাধারণের শান্তি বিনষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে এই ধরনের পাঁচ বা তারবেশি ব্যক্তির সমাবেশ ছত্রভঙ্গের আদেশ দিতে পারেন। আদেশ অমান্য করলে ১২৮ ধারা অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ ভঙ্গে বল প্রয়োগের আদেশ দিতে পারেন। ১৩০ ধারার বিধান অনুযায়ী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে প্রয়োজনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পারবেন।
এছাড়াও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারা অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট পথ, নদী, খাল বা প্রকাশ্য স্থানে বেআইনি বাঁধা অপসারণ, ব্যবসা বা সংরক্ষিত এলাকায় মানুষের আরাম আয়েশের বিঘ্ন ঘটানো, গৃহ বা তাবু হতে ক্ষতিকর বস্তু বা বৃক্ষ অপসারণ, জলাশয় ঘেরাও, বিপজ্জনক প্রাণী ধ্বংস বা আটক ইত্যাদি আদেশ দিতে পারেন। কোনো ব্যক্তি ১৪২ ধারার বিধান মতে ক্ষতি এড়াতে কোনো ব্যক্তির উপর নির্দিষ্ট স্থানে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।
মন্তব্য করুন


দেশের
গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম
খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ
প্লাজা এবং এর সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর তাঁকে শহীদ প্রেসিডেন্ট
বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।
আজ
মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. আসিফ নজরুল।
আইন
উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে যত দূতাবাস আছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সেখানে শোক বই
খোলা হবে। সভায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন এবং জানাজা সম্পর্কিত বিষয়ে সরকার সব ধরনের
সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা সভায় বেগম জিয়ার বিষয়ে
বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।’
মঙ্গলবার
ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মার যান রাজনীতিতে আপসহীন
নেত্রী হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসারত অবস্থায় দেশের প্রথম
নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে
গভীর শোকের ছায়া। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়,
বরং একটি যুগের অবসান।
মন্তব্য করুন


ন্যায় ও ইনসাফের নতুন বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সাধারণ একজন নাগরিক অপরাধের জন্য যেই শাস্তি পাবে প্রেসিডেন্টও অপরাধ করলে একই শাস্তি পাবে। বিচারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অপরাধ বিবেচ্য বিষয় হবে। অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না। তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রতি ৬ মাস পরপর জনপ্রতিনিধিদের জনগণের মুখোমুখি হতে হবে’’। বিগত ৬ মাসে জনগণের জন্য কী কী কাজ করেছে এবং পরবর্তী ৬ মাসে জনগণের জন্য কী কী কাজ করবে তার হিসাব জনগণকে দিতে হবে। জনগণের টাকায় দেশ চললে অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জনপ্রতিনিধির নামে জনগণকে শোষণ করার দিন শেষ। জনপ্রতিনিধিদের শাসক নয় সেবক হতে হবে। দেশের সব নদী, খাল-বিল রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের বছরে ৪ বার নদী ও খাল-বিলে গোসল করানো হবে। কোনো এমপি, মেয়র, কমিশনার, চেয়ারম্যান বা মেম্বার ক্ষমতার প্রভাবে নদী, খাল-বিল দখল করতে পারবে না এবং ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করতে হবে না। যদি করে তাকে ময়লার ভাগাড়েই গোসল করতে হবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-৪ ও ৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করেছে। এই অঞ্চল শহীদের রক্তে রঞ্জিত। এই অঞ্চলের দায় রাষ্ট্রকেই শোধ করতে হবে। ঢাকা-৪ ও ৫ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা নিজ-নিজ এলাকার যেই সমস্যাগুলো তুলে ধরেছে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সকল সমস্যা গুলো সমাধান করা হবে।
কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিটি সরকার চরম অবহেলা করেছে। কওমী মাদ্রাসার সিনিয়র লেভেলের সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হলেও নিচের দিকের কোনো সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। কেউ তাদের স্বীকৃতি না দিলেও জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে কওমী মাদ্রাসার সর্বস্তরের সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলা ভাষার পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজি ভাষার উপর গুরত্বারোপ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারাবিশ্বে আমাদের আগামী প্রজন্ম দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে হবে। জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগ সৃষ্টি করবে। যুবকদের বেকার ভাতার নয় দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে আমীরে জামায়াত বলেন, বেকারত্ব জাতির অভিশাপ। যারা জাতিকে নিয়ে ভাবে না, জাতির জন্য যাদের পরিকল্পনা নেই; তারাই যুবকদের বেকার ভাতার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। জামায়াতে ইসলামী যুবসমাজকে দক্ষ জাতি হিসেবে গড়ে তুলবে।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘পরিবারের মতোই দেশকে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে’’। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতিতে সমানভাবে নারীরা অংশগ্রহনের সুযোগ পাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে, ‘‘নারী সমাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় মহিলাদের জন্য বড় শহরে ইভেনিং বাস সার্ভিস চালু করা হবে’’। নারী সমাজের অধিকার, স্বাধীনতা, মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, সহ্য করা হবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের ছায়ামুক্ত বাংলাদেশ চাই, আধিপাত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই। যারা জনগণের মুখের ভাষা বুঝতে পারে না, জনগণ তাদেরকে ১২ ফেব্রুয়ারি সেটি বুঝিয়ে দিবে। নতুনরূপে কোনো ফ্যাসিবাদ জনগণ মেনে নেবে না। দেশের জনগণের অর্থে কেনা অস্ত্রে জনগণের বুকে আর গুলি চালানোর দৃশ্য দেখতে চাই না।
যারা চাঁদাবাজি নামক নতুন পেশা চালু করেছে তাদের উদ্দেশ্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা কোনো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজ হতে দেবো না। চাঁদাবাজরা যদি তাওবা করে সরল পথে ফিরে আসে তাদের জন্যও আমরা কর্মের ব্যবস্থা করবো। তাদের আমরা বলবো যেই যেই ব্যবসায়ী থেকে চাঁদা নিয়েছিলে তাদের টাকা ফেরত দিয়ে আসো। চাঁদাবাজরা চাঁদা ফেরত দিয়ে আসলে রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একটি সুখি-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সমাজের অপরাধ দমনের জন্য যা যা করণীয় তার সব কিছু করা হবে। চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করতে বিশেষ অ্যাপস চালু হবে। সেই অ্যাপসের তথ্যের আলোকে চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। পরিশেষে তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেনম, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি- ‘না’ মানে গোলামী।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত ঢাকা-৫ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ আসনে জলাবদ্ধতায় মানুষ নিদারুণ কষ্ট ভোগ করছে। এই এলাকাকে ময়লার ভাগাড় করে রাখা হয়েছে। বিগত সময়ে এই এলাকায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। এখানকার দুটি জুটমিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে বন্ধ থাকা জুটমিল দুটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া সহ মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমীরে জামায়াতের নির্দেশনার আলোকে জামায়াতের কোনো এমপি শাসক হবে না সেবক হবে। ভোগবিলাসের জন্য জনপ্রতিনিধি না হওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যত্যয় করে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকাকে নতুনরূপে গড়ে তুলতে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চান।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত ঢাকা-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকা হচ্ছে অবহেলিত এলাকা। আগামীতে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচিত করলে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকাকে আধুনিক ঢাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, এই এলাকায় খেলাধুলার জন্য কোনো মাঠ নেই যার ফলে যুব সমাজ খেলাধুলার পরিবর্তে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। যুবসমাজের খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের জন্য এই এলাকায় একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। এখানে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নেই, সড়কের বেহাল দশা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দূরবস্থা, গ্যাস সংকট নিত্যদিনের সঙ্গী। জনগণের যাবতীয় সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করাই তার মূল লক্ষ্য বলে তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা-৫ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মুফতি মুখলেসুর রহমান কাসেমী, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য এবং জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৫ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুস সালাম, ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক ও কদমতলী থানা আমীর আব্দুর রহিম জীবন।
যাত্রাবাড়ী মধ্য থানা আমীর এডভোকেট এ.কে আজাদের পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ আসলামের বোন শারমিন, এনসিপির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মুফতি সানাউল্লাহ আমিনী, নেজামে ইসলাম পার্টি যাত্রাবাড়ী থানা সভাপতি মাওলানা ওহিদুজ্জামান, খেলাফত আন্দোলন যাত্রাবাড়ী থানা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান, ঢাকা-৫ আসন কমিটির সহকারী পরিচালক ও যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানা আমীর মো. শাহজাহান খান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দীন রুবেল, ঢাকা-৫ আসন কমিটির সদস্য সচিব ও ডেমরা মধ্য থানা আমীর মোহাম্মদ আলী, ঢাকা-৪ আসন কমিটির সদস্য সচিব ও কদমতলী মধ্য থানা আমীর মো. মহিউদ্দীন, যাত্রাবাড়ী উত্তর থানা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন, শ্যামপুর থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দীন, কদমতলী দক্ষিণ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, শ্যামপুর পশ্চিম থানা আমীর মাওলানা আব্দুর রব ফারুকী, যাত্রাবাড়ী থানা আমীর মাওলানা সাদিক বিল্লাহ, ডেমরা উত্তর থানা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, যাত্রাবাড়ী-কোনাপাড়া থানা আমীর মো. আখতারুজ্জামান চয়ন, যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানা আমীর মাওলানা আবুল হোসাইন, ডেমরা দক্ষিণ থানা আমীর মির্জা মো. হেলাল, ডেমরা পশ্চিম থানা আমীর মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের সকল থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জননেতা আব্দুস সবুর ফকির বলেন, যাত্রবাড়ী শহীদের রক্তে রর্জিত এক ভূমি। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পালিয়ে যাওয়ার পরও যাত্রাবাড়ীতে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলি চালানো হয়েছে। গুলি শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণের বুকে গুলি চালানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যাত্রাবাড়ী এলাকার জনগণের ত্যাগ সর্বোচ্চ। এই ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই এলাকাকে নতুনরূপে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, যাদের সামজের কল্যাণে রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নাই তারাই এখনো একাত্তরের পরে আছে। জনগণের কল্যাণে কর্মসূচি না থাকলে আওয়ামী লীগের মতোই দেশ থেকে বিদায়ী নিতে হতে পারে উল্লেখ করে তিনি সকল দলকে জনগণের কল্যাণে জাতির স্বার্থে রাজনীতি করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন