

বগুড়ার
শিবগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত
শিক্ষক, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ ৮ জন।
বুধবার
(১৩ মে) উপজেলার গুজিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষার দিনে এ
ঘটনা ঘটে।
জানা
গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় গুজিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে
নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। তবে পরীক্ষার্থী সংখ্যায় কম হলেও শিক্ষা বোর্ডের
নিয়ম অনুযায়ী কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে নিয়ম মেনেই ওই কেন্দ্রের বড় একটি কক্ষে
একজন পরীক্ষার্থীর জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে।
গুজিয়া
উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব শাহিনুর আলম বলেন, ‘পরীক্ষার্থী একজন
হোক বা একশ বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নিয়মের কোনো ব্যত্যয় না ঘটিয়ে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। ফলে একজন পরীক্ষার্থীর
জন্যও আমাদের পূর্ণাঙ্গভাবে কেন্দ্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।’
ওই
কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, একজন
ট্যাগ অফিসার, কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শক, সহকারী শিক্ষক, একজন পুলিশ সদস্য এবং দুইজন
অফিস সহায়ক। বোর্ড নির্ধারিত নিয়ম মেনে একজন পরীক্ষার্থীর পেছনে প্রশাসনের এই বিপুল
আয়োজন এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন


ফিফা
র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল হিসেবে চলতি বিশ্বকাপের
সেমিফাইনাল খেলবে ফ্রান্স-স্পেন-ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা।
ফুটবল
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনাল খেলবে।
বর্তমানে
ফিফা র্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছে ফ্রান্স। দ্বিতীয় স্থানে আছে আর্জেন্টিনা। পরের দুই স্থানে
আছে যথাক্রমে- স্পেন ও ইংল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপে ফিফা র্যাংকিংয়ের এই সেরা চার
দলই সেমিতে লড়বে।
এছাড়া
আরও একটি রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে ফ্রান্স-স্পেন-ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই নিয়ে তৃতীয়বার
বিশ্বকাপ জয় করা চার দল সেমিফাইনালে উঠেছে। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৯০ আসরে সেমিফাইনালে উঠেছিল
চার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।
১৯৭০
সালে সেমিফাইনাল খেলেছিল ব্রাজিল-উরুগুয়ে এবং ইতালি ও পশ্চিম জার্মানি। এছাড়া, ১৯৯০
সালের সেমিফাইনালে খেলেছিল আর্জেন্টিনা, ইতালি, পশ্চিম জার্মানি ও ইংল্যান্ড।
এবারের
আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ২-০ গোলে মরক্কোকে এবং স্পেন ২-১ গোলে হারায় বেলজিয়ামকে।
অন্য দুই কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ২-১ গোলে নরওয়েকে এবং আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে সুইজারল্যান্ডকে
হারায়।
আগামী
১৪ জুলাই প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। পরের দিন দ্বিতীয় সেমিতে
লড়বে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার অম্বরনগর ইউনিয়নে খনন করা
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপের তিনটি স্তরে মিলেছে জ্বালানি গ্যাস। বাংলাদেশ
পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) আশা করছে এ
থেকে দৈনিক এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে ।
সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে বিষয়টি
নিশ্চিত করে বাপেক্সের ভূ-পদার্থিক বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার ওহিদুল
ইসলাম বলেন, ওয়াছেকপুর গ্রামে খনন করা বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপে মিলেছে গ্যাসের
অস্তিত্ব। ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া খননকাজের পর ডিএসটি টেস্ট শেষে এখন চলছে
সর্বনিম্ন স্তরের উৎপাদন টেস্ট। প্রাথমিকভাবে কূপটির তিনটি স্তরে পর্যাপ্ত গ্যাস
আছে। এ টেস্ট শেষে জানা যাবে এখানে মজুত থাকা মোট গ্যাসের পরিমাণ।
বাপেক্স সূত্রে আরো জানা যায়, কূপটিতে তিন হাজার ১১৩ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা
হয়, যার মধ্যে এক হাজার ৯২১ থেকে এক হাজার ৯৭৩ মিটার পর্যন্ত প্রথম স্তর, দুই
হাজার ৫৪৮ মিটার থেকে দুই হাজার ৫৮৫ মিটার পর্যন্ত দ্বিতীয় স্তর এবং তিন হাজার ৮১
মিটার থেকে তিন হাজার ১০১ মিটার পর্যন্ত তৃতীয় স্তরে গ্যাসের অস্তিত্ব মিলেছে।
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপের তিনটি স্তর থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন
ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
হাওলাদার ওহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি গ্যাস মিলতে পারে বলে
ধারণা করছি। এখন পর্যন্ত টার্গেট চারটি জোনের মধ্যে তিনটি জোন থেকে বাণিজ্যিকভাবে
গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করছি।’
বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুক্তাদির বলেন, ‘প্রাকৃতিক
গ্যাসের সন্ধানে বাপেক্স দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছে। বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপটিতে
খনন কাজ শুরু এ বছরের ২৯ এপ্রিল। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকায়
আমাদের খনন কাজেও কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। দিনশেষে আমরা সফল হতে পেরেছি।’
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. প্রিন্স আল
হেলাল বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার
লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। তবে লোয়ার জোনে গ্যাসের কন্ডিশন দেখে মনে হচ্ছে, আরও ভালো কিছু
আশা করা যাবে। উৎপাদন টেস্ট শেষে মোট গ্যাসের মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ড্রিলিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটি খনন করতে আমাদের নানা
প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আমরা আজ আলোর মুখ দেখছি।
একসময় গ্যাসকূপ খননের কাজে বিদেশি শ্রমিক ও কর্মকর্তারা যুক্ত থাকতেন। কিন্তু এখন
তার পরিবর্তন হয়েছে। এ কূপ খননের সঙ্গে জড়িত প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী
সবাই বাংলাদেশের। এটাও আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।’
এর আগে, ১৯৭৬ সালে বেগমগঞ্জ-১ ও ১৯৭৮ সালে বেগমগঞ্জ-২ গ্যাসকূপ খনন করা হলেও সেগুলো
থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে বেগমগঞ্জ-৩ কূপ খনন করা হয় এবং
সেখান থেকে এখনো প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ফেনী-নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক
সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এখানে বেগমগঞ্জ-৫ ও বেগমগঞ্জ -৬ কূপ
খননের পরিকল্পনা রয়েছে বাপেক্সের।
মন্তব্য করুন


ঢাকা
দক্ষিণ ও উত্তরসহ দেশের ১২ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করা হয়েছে।
স্থানীয়
সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম স্বাক্ষরিত
এক প্রজ্ঞাপনে আজ (১৯ আগস্ট) এ কথা জানানো হয়েছে।
‘স্থানীয়
সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ১৩ক প্রয়োগ করে এসব সিটি
কর্পোরেশনের মেয়রদের স্ব স্ব পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা
হয়েছে।
যে
১২ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়েছে এগুলো হলো- ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর,
চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর ও
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন।
এ
ছাড়া অন্য এক প্রজ্ঞাপনে ১২টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর
ও ঢাকা দক্ষিণ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে অতিরিক্ত সচিব ও সমমর্যাদার চার কর্মকর্তাকে
প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম,
খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বিভাগীয় কমিশনারদের
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
‘স্থানীয়
সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১) প্রয়োগ
করে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রশাসকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে
উল্লেখ করা হয়েছে।
এদের
মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব
ড. মো. শের আলীকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালক
(অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহমুদুল হাসানকে ঢাকা
উত্তর সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রামের বিভাগীয়
কমিশনারকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, খুলনার বিভাগীয় কমিশনারকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন,
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে সিলেট
সিটি কর্পোরেশনে, বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে, স্থানীয়
সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ. এইচ. এম কামরুজ্জামানকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন,
কুমিল্লার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড)-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব)কে
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন, রংপুরের বিভাগীয়
কমিশনারকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন
এবং ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ
দেয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার
১৪ উপজেলাতেই লেগেছে বন্যার ছোবল। স্মরণকালের ভয়াবহতার শিকার হয়েছেন কুমিল্লাবাসী।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িচং, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা অন্তত
আড়াই শ’ গ্রাম।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলাজুড়ে ৭২৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০ হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে গোমতী, সালদা ও ঘুংঘুর নদীর ভাঙনের মাঝে পড়ে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষ এখন পানির তলায়। ডুবছে দেবিদ্বারও। লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, তিতাস উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। বন্যায় বাড়ছে প্রাণহানি, ভাঙনের তোড়ে ভেসে গেছে বাড়িঘর খেত খামার, মাছের প্রজেক্ট।
সরকারি হিসেবে, বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ২ শিশুসহ ৪ জন। বন্যাকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যা সাড়ে ৯ লাখ, আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়গ্রহণকারীর সংখ্যা ৬৭ হাজার। বেসরকারি হিসেবে, এসব সংখ্যা ছাড়িয়েছে বহু গুণ।
বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ায় খোঁজও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না দুর্গত এলাকাগুলোর।
এ দিকে কৃষি বিভাগের তথ্য, ৬০ হেক্টর কৃষি জমি আক্রান্ত হয়েছে বন্যায়। পনিতে তলিয়ে যাওয়া সবজির আবাদ সবই বিনষ্ট হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, স্বেচ্ছাসবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন উপজেলায়। তবে নৌকা ও স্পিডবোট কম থাকার কারণে সেসব ত্রাণও সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে উদ্ধার কাজও ব্যাহত হচ্ছে প্রকটভাবে।
পানি
উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বিপৎসীমার
১ সেন্টিমিটার ওপরের পানিও ঝুঁকির। বর্তমানে গোমতীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার
ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘণ্টায় দেড় থেকে ২ সেন্টিমিটার পানি কমছে।
মন্তব্য করুন


তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের
(পিবিআই) প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. তওফিক
মাহবুব চৌধুরী। তিনি পুলিশ সদর দফতরে ডেভেলপমেন্ট শাখায় অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে কর্মরত
ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান
শেখ সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে পদায়ন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর কসভো (২০০২), লাইবেরিয়া (২০০৬) ও দারফুর, সুদান (২০১১) মিশনে ইউএন পুলিশ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভার্জিনিয়ায় ইউএস-এর এফবিআই ন্যাশনাল একাডেমিতে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


বরিশাল
সদর উপজেলার চরমদি ইউনিয়নে এক অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তার কষ্টের উপার্জনে গড়া মাছের
খামারে বড় ধরনের নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। পেনশনের টাকায় বাড়ির পাশের তিনটি পুকুরে মাছ
চাষ শুরু করার মাত্র দুই দিনের মাথায় দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করে সব মাছ মেরে ফেলেছে
বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী
অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম মজুমদার জানান, দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে সম্প্রতি
তিনি অবসর নেন। অবসরের পর পাওয়া পেনশনের অর্থের একটি অংশ বিনিয়োগ করে তিনি বাড়ির পাশের
তিনটি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও বড় মাছ অবমুক্ত করেন। অবসরজীবনে মাছ চাষের
মাধ্যমে বাড়তি আয়ের একটি স্বাবলম্বী উৎস গড়ে তোলাই ছিল তার লক্ষ্য।
কিন্তু
মাছ ছাড়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কে বা কারা তার তিনটি
পুকুরেই সুকৌশলে বিষ প্রয়োগ করে। বুধবার সকালে পুকুরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পানির
ওপরে ভেসে উঠেছে বিপুল পরিমাণ মৃত মাছের পোনা ও বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ। এই আকস্মিক
নাশকতায় তার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে
এমন অমানবিক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একজন অবসরপ্রাপ্ত
মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে গড়ে তোলা উদ্যোগ এভাবে ধ্বংস করে দেওয়ায় তারা হতবাক। স্থানীয়রা
দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ
বিষয়ে চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভুক্তভোগী আবুল কালাম মজুমদার এ
ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের
সঙ্গে তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


বিশ্বকাপের
শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। নিজেদের টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর কান্না ধরে
রাখতে পারেননি নেইমার জুনিয়র। ম্যাচ শেষে জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার কথাও জানান তিনি।
এর একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছেলে নেইমারকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন
একটি দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন তার বাবা নেইমার সিনিয়র।
২০২৬
বিশ্বকাপের জন্য নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে চূড়ান্ত দলে একবারই ডাক পান নেইমার।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে মাঠে নামার পর নরওয়ের বিপক্ষে প্রায় ৩০ মিনিট
খেলেন তিনি। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে নিজের নবম
গোলের দেখা পান।
ইনস্টাগ্রামে
দেয়া দীর্ঘ বার্তায় ছেলে নেইমারের ফুটবলজীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা স্মৃতি
তুলে ধরেন তার বাবা। তিনি লেখেন, ‘বাবা, কী অসাধারণ এক যাত্রা! কত সুন্দর একটি পথ;
যেখানে ছিল চ্যালেঞ্জ, ছিল কষ্ট, কিন্তু ছিল ঈশ্বরের অশেষ আশীর্বাদও।’
তিনি
বলেন, ছোটবেলা থেকেই নেইমারের মধ্যে ভিন্ন কিছু দেখেছিলেন। তার ভাষায়, ‘ওটা শুধু প্রতিভা
ছিল না, ছিল একটি উদ্দেশ্য।’
নেইমারের
বাবা জানান, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের পরিবার নিজেদের বিশ্বাস
ও খ্রিস্টান ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়েছে। অনেক সময় প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে
কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও তারা বিশ্বাস রেখেছেন, আর সেই বিশ্বাসের প্রতিদানও পেয়েছেন।
ছেলের
ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, প্রথম গোল, প্রথম সাফল্য, পেশাদার
ফুটবলে অভিষেক, বড় বড় স্টেডিয়াম, শিরোপা, ব্রাজিল জাতীয় দল এবং বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি;
সবকিছুরই সাক্ষী তিনি। তবে তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন একজন বাবা হিসেবে প্রতিটি মুহূর্তে
সন্তানের পাশে থাকতে পারা।
বার্তার
একপর্যায়ে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে তিনি অনুরোধ করেন, ‘বাবা, ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। আবারও
বল পায়ে খেলার আনন্দ খুঁজে নাও, মাঠে হাসিমুখে ফিরে এসো। ঈশ্বর তোমাকে সুস্থ করে আরেকটি
সুযোগ দিয়েছেন।’
তিনি
আরও লেখেন, ‘সমালোচনা, প্রত্যাশা কিংবা জীবনের নানা চাপ নিজের কাঁধে বহন করো না। সব
সিদ্ধান্ত মানুষের হাতে থাকে না, কিছু সিদ্ধান্ত শুধুই ঈশ্বরের। আজকের একটি সিদ্ধান্ত
তোমার পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে না। একটি স্বপ্ন পূরণ না হলেও তার মানে এই নয় যে সেটি
শেষ হয়ে গেছে।’
ভবিষ্যৎ
নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নেইমারের বাবা বলেন, ‘সামনের দিনগুলোকে ভয় পেয়ো না। আজকে বাঁচো,
অনুশীলন করো, খেলো, হাসো, সন্তানদের সময় দাও, পরিবারকে ভালোবাসো। বাকিটা ঈশ্বরের ওপর
ছেড়ে দাও।’ বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, ট্রফি, গোল কিংবা খ্যাতির
চেয়েও তিনি দেখেছেন ঈশ্বরের অলৌকিক আশীর্বাদ। তার বিশ্বাস, নেইমারের জীবনে আরও অনেক
সুন্দর অধ্যায় এখনও লেখা বাকি।
শেষে
আবেগঘন ভাষায় তিনি লেখেন, ‘মনে রেখো, পৃথিবী তোমাকে ভালোবাসার আগেই ঈশ্বর তোমাকে ভালোবেসেছেন।
আর বাবা হিসেবে আমি সবকিছু আবারও করতে প্রস্তুত; প্রতিটি সফর, প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি
নির্ঘুম রাত, প্রতিটি দুশ্চিন্তা এবং প্রতিটি প্রার্থনা।’
মন্তব্য করুন


মেঘনা
নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া একটি রাজা ইলিশ নিলামে ১০ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে,
যার ওজন দুই কেজি ৩০০ গ্রাম।
লক্ষ্মীপুরের
কমলনগর উপজেলার কালকিনি ইউনিয়নের মতিরহাট ঘাটে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাছটি নিলামে
তোলা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছ ব্যবসায়ী মো. রিয়াজ ১০ হাজার ৫৫০ টাকায়
ইলিশটি কিনে নেন।
ঘাটের
সারু মিয়ার মৎস্য আড়তের আড়তদার মো. খোকন জানান, স্থানীয় জেলে মনু মাঝিসহ কয়েকজন জেলে
মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে অন্যান্য ইলিশের সঙ্গে বড় আকৃতির এই রাজা ইলিশটি পান। পরে
মাছটি তার আড়তে নিয়ে আসা হলে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে
সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছটি কিনে নেন রিয়াজ বেপারি।
মাছের
ক্রেতা মো. রিয়াজ বেপারি বলেন, ‘বড় আকৃতির ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় নিলামে অংশ নিয়ে
মাছটি কিনেছি। এটি বিক্রির জন্য চাঁদপুরে পাঠানো হবে। সেখানে বড় ইলিশের ভালো বাজার
রয়েছে। আশা করছি, প্রতি কেজি প্রায় ছয় হাজার টাকা দরে মাছটি বিক্রি করা সম্ভব হবে।’
কমলনগর
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য শাহা বলেন, ‘বর্তমানে মেঘনা নদীতে ইলিশের পরিমাণ
তুলনামূলক কম। যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশির ভাগই ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের। তাই
বড় আকৃতির ইলিশের চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। তবে আগামী মাসে নদীতে ইলিশের উৎপাদন আরও
বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশাবাদী।’
মন্তব্য করুন


ভারতের
পুণের ব্যবসায়ী কেতন অগ্রবাল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সিয়া গয়াল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে
চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তার ভাষ্য, বিয়ে করতে তিনি রাজি নন—পরিবারের
কাছে এ কথা বলার চেয়ে কেতনকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়াই তার কাছে সহজ কাজ মনে হয়েছিল।
জানা
গেছে, গত ১৮ জুন লোণবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে কেতন অগ্রবালকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার
অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সিয়া গয়াল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।
তদন্ত
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সিয়া দাবি করেন, কেতন আলগা চুল ব্যবহার
করতেন, যা তার পছন্দ ছিল না। এ বিষয়ে জানার পরও কেন বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন—এমন
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিবারের সম্মান ও ভাবমূর্তির কথা ভেবেই বিয়েতে মত দিতে
বাধ্য হয়েছিলেন।
পুলিশের
জিজ্ঞাসাবাদে সিয়া আরও দাবি করেন, তিনি কেতনকে জানিয়েছিলেন যে তাকে বিয়ে করা সম্ভব
নয়। কিন্তু কেতন বিয়ে ভাঙতে রাজি হননি। এরপরই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্ত
সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে
কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবাল দাবি করেছেন, তার ছেলে আলগা চুল ব্যবহার করতেন—এ
তথ্য সিয়ার পরিবার আগে থেকেই জানত। এ নিয়ে সিয়া বা তার পরিবারের কোনো আপত্তিও ছিল না।
তাই আগলা চুলের কারণে হত্যার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে
তদন্তে আরও জানা গেছে, সিয়া ও চেতনের সম্পর্কের বিষয়ে তার পরিবার আগে থেকেই জানত। তবে
আর্থিক অবস্থার পার্থক্যের কারণে পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তদন্তকারীদের ধারণা,
চেতনের কাছ থেকে সিয়াকে দূরে রাখতে কেতন অগ্রবালের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু
শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনার পরিণতি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে গড়ায়।
পুলিশ
জানিয়েছে, মামলার প্রকৃত কারণ জানতে সিয়া ও চেতনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি
সিয়ার ভাই সাহিল গয়ালকেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
মন্তব্য করুন


সেনাসদর মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল
স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মতৎপরতায়
ঢাকাসহ সারাদেশে মব জাস্টিস, চাঁদাবাজি ও হত্যার ঘটনা আগের চেয়ে কমেছে ।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গত ৫০ দিনে সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরাধের হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। হটস্পটগুলো সার্বক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
সারাদেশে মব জাস্টিসের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে
কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, শুধু মব জাস্টিস নয়, চাঁদাবাজি, চুরি, রাহাজানি ও হত্যা
আগের চাইতে কমেছে। গত দুই মাস আগে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল ২৫০টি, কিন্তু বর্তমানে
কমে ১২০টিতে নেমেছে। চুরি ৮৫০টির মতো হতো, বর্তমানে ৬০০টির নিচে নেমে এসেছে। হত্যা
সাড়ে তিনশো ছিল, বর্তমানে ১২০-তে নেমেছে। সেনাবাহিনীর কর্মতৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকার মোহাম্মদপুর ও বনানীতে সেনাবাহিনীর কিছু
বিপথগামী সদস্য এবং কিছু অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের
বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত
কমিটি গঠন করা হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। আর যারা অবসরপ্রাপ্ত
সদস্য তাদের দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করা হবে। কোনো অন্যায়কে সেনাবাহিনী কখনো
প্রশ্রয় দেয় না। সেনাবাহিনী সবসময় সততার সঙ্গে আছে এবং থাকবে। জনগণের আস্থার জায়গায়
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পাশে পাবেন।
সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করতে গিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জের
সম্মুখীন হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী কোনো চ্যালেঞ্জ ফেস করছে
না। তবে আমরা দীর্ঘ ছয় মাস বাইরে নিয়োজিত রয়েছি। অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর
সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।
তিনি বলেন, ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি
পর্যন্ত ৫০ দিনে সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ১৭২টি অবৈধ অস্ত্র এবং ৫২৭ রাউন্ড গোলাবারুদ
উদ্ধার করেছে।
এই সময়কালে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে (মূলত
গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভার এলাকায়) ৮৮টি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং এ ধরনের
পরিস্থিতি থেকে উদ্ভুত ৩০বার মূল সড়ক অবরোধ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা
রেখেছে। কারখানাগুলোকে চালু রাখার জন্য মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ, সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রণালয়, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে পদক্ষেপ
নিয়েছে। ফলে বর্তমানে দেশের ২ হাজার ৯৭টি পোশাক কারখানার মধ্যে গুটিকয়েক
(বেক্সিমকো গ্রুপ, সাউদার্ন ডিজাইনার'স লিমিটেড, স্বাধীন গার্মেন্টস প্রাইভেট
লিমিটেড এবং সেলফ ইননোভেটিভ ফ্যাশন লিমিটেড) ছাড়া সকল কারখানাই চালু রয়েছে।
শিল্পাঞ্চল ছাড়াও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গত এক
মাসে ৪২টি বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে, যার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
সংক্রান্ত ঘটনা ছিল ১৪টি, সরকারি সংস্থা/অফিস সংক্রান্ত তিনটি, রাজনৈতিক কোন্দল
৯টি এবং অন্যান্য ঘটনা ছিল ১৬টি।
বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইজতেমা ময়দানে তুরাগ নদীর ওপর ৫টি ব্রিজ স্থাপন, বোম ডিসপোজাল
দলসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল মোতায়েন ও পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য যে কোনো উদ্ভূত
পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর সংস্কার
কর্মকাণ্ড যেমন- অ্যান্টি পলিঘিনি অপারেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে
পরিচালিত খাল পুনরুদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছে।
সেনাসদরের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা
রক্ষার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন সময় যারা আহত হয়েছেন, তাদের
সুচিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনী আজ পর্যন্ত তিন হাজার ৮৫৯ জনকে দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে
চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে, যার মধ্যে ৪১ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দেশের জনগণের জানমাল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে এ সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করে কর্মধারা অব্যাহত রাখতে সেনাবাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন কর্নেল শফিকুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন