

মো: মাসুদ রানা, কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে বার্ষিক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজ মিলনায়তনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম।
কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জসীম উদ্দিনের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মজুমদার জয়।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন মোল্লা, আবুল খায়ের,রঙ্গলাল দত্ত, প্রভাষক সিহাদ হোসেন শিহাব ও উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সৌরভ সহ আরো অনেকে।
এসময় পালাখাল ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কাশেম ভুইয়া, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোজাম্মেল তালুকদার, সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান অভিসহ কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন পালাখাল বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম আজিজুল হক।
মন্তব্য করুন


শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী আজ বৃহস্পতিবার। সারাদেশের ন্যায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার কুমিল্লা মহেশাঙ্গণসহ জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সকাল ৬টা ১০মিনিট থেকে সপ্তমীপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
চণ্ডী ও মন্ত্রপাঠের মধ্যদিয়ে পূজা, দেবীদর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান শেষে প্রসাদ গ্রহণের মতো আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। মণ্ডপে মণ্ডপে সকাল থেকেই ছিল পুণ্যার্থীদের ভিড়।
এ বছর কুমিল্লা মহানগরী সহ জেলায় ৭৯৪ টি পূজা মন্ডপে শারতীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
এদিকে পূজাকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে যাতে না পারে সেক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ প্রতিটি পূজা মন্ডপে ব্যাপক নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূইঘর বাস টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক উল্টে গেছে। এতে আহত হয়েছেন একজন। আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ডগামী একটি ট্রাক ভুইঘর আন্ডারপাস ফ্লাইওভারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে ঝুলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় একজন পথচারী গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি দ্রুতগতিতে চলছিল। হঠাৎ চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রেলিং ভেঙে নিচের দিকে ঝুলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, এখনো পর্যন্ত আমরা কোনো মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত হইনি। তবে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


জাহাঙ্গীর আলম, কুড়িগ্রাম উত্তর :
মা বাবার বুকের ধন ছোট্ট শিশু ফরহাদ। ছয় মাস বয়সের দুধের শিশু। ফুটফুটে এ শিশুটি জন্ম থেকেই পায়ুপথের সমস্যায় ভুগছেন। সংকীর্ণ পায়ুপথের বাঁধায় নিয়মিত পায়খানা হয় না ।পেট ফুলে যায়। ৮-১০দিন পরপর ওষুধ দিয়ে পায়খানা করাতে হয়। যন্ত্রণায় ছটফট করে সারাক্ষণ কাঁদে শিশুটি। মা বাবা ব্যস্ত হয়ে পড়েন শিশুটিকে নিয়ে। কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ । চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই মা বাবার। চিকিৎসকরা তিনটি অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছেন। এদের মধ্যে ধার দেনা ও সর্বস্ব বিক্রি করে দেড় লক্ষ টাকায় একটি অপারেশন করিয়েছেন। তাতে সুস্থ হয়নি শিশুটি। আরো দুটি অপারেশন দরকার। এর জন্য প্রয়োজন ৫ লাখ টাকা। কিন্তু কোথায় পাবেন এ টাকা। এর চিন্তাই নির্ঘুম রাত কাটে বাবা মায়ের।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের বালাটারি গ্রামের মোকছেদুল হক ও ফরিদা বেগম দম্পতির সন্তান ফরহাদ। বাবা রিক্সা চালাতেন। ছেলে চিকিৎসার জন্য তাও বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তার আয়ে ৪ সদস্যের পরিবার চলে। এখন ছেলের চিন্তায় কাজও ঠিকমতো করতে পারেন না। সম্বল বলতে তিন শতক জমির উপরে হাফ ওয়াল করে টিনশেডের দুই রুমের বাড়ি। ছেলের চিন্তায় অস্থির। তার ওপর মেয়ে বড় হচ্ছে। মহা বিপাকে দম্পতি। কি করবেন, কোথায় যাবেন। কুলকিনারা পাচ্ছেন না। শিশু সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান মানুষের সাহায্য চান। তাদের সাহায্যে চিকিৎসায় বেঁচে যেতে পারে তাদের বুকের ধন। শিশু ফরহাদের চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠানোর জন্য তার বাবা মোকছেদুল হকের বিকাশ নাম্বার ০১৭৯৫৭০৬৯২৫।
এলাকাবাসী আশরাফুল হক, ইমান আলী ও আকলিমা বেগম জানান, শিশু ফরহাদের বাবা-মা গরিব মানুষ কোনভাবে কাজ কামাই করে সংসার চালায়,তাদের শিশু সন্তানটি জন্ম থেকে অসুস্থ,তাকে তো করতে অনেক টাকার প্রয়োজন, আমার সবার কাছে তাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
ফরহাদের বাবা ও মা জানান,আমাদের কোন জমা জমি নেই মাত্র তিন শতাংশ জমির উপর একটি ঘর করে বসবাস করে আসছি,আমাদের শিশু সন্তানটি জন্মের পর থেকে অসুস্থ, তাকে সুস্থ করতে ধারদেনা করে একটি অপারেশন করেছি, ডাক্তার বলেছে আরও দুটি অপারেশন করতে হবে, একটি অপারেশন করতেই ধার-দেনা করেছি, বাকি দুটি অপারেশন করতে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা লাগবে আমরা এত টাকা কোথায় পাবো, তাই সমাজের সকলের কাছে আবেদন সকলে যদি আমাদেরকে একটু সহযোগিতা করত তাহলে আমাদের শিশু সন্তানকে বেঁচে যেত।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওয়ালীউল্লাহ মন্ডল জানান, বাচ্চাটাকে দেখে মনে হচ্ছে বাচ্চাটা খুব অসুস্থ, তাদের পরিবার খুব গরিব তারা আবেদন করলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বন্ধুরা মিলে মহাসড়কে মোটরসাইকেল রেস করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একজন।
আজ রোববার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের শাহজাদপুর উপজেলার টেটিয়ারকান্দা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণের নাম মো. রুহান (১৭)। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলা সদরের বাসিন্দা। আহত বাদশা, একই উপজেলার সানোয়ার হোসেনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, তিনটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন তরুণ উল্লাপাড়া থেকে পাবনার দিকে প্রচণ্ড গতিতে ছুটছিল। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মোটরসাইকেল মহাসড়কের পাশের গাছে ধাক্কা দেয়। এতে চালক রুহান ঘটনাস্থলেই মারা যান।
শাহজাদপুর থানার এসআই এমদাদ হোসেন বলেন, “অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত বাদশাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, এলাকাটিতে প্রায়ই কিশোর ও তরুণরা মোটরসাইকেল রেসে অংশ নেয়, যা অনেক সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
মন্তব্য করুন


মো: মিজানুর রহমান মিনু :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও ১২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মো: সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সোনা মিয়া (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত সাইফুল উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের ঝিকড্ডা পশ্চিম পাড়ার মৃত এন্তু মিয়ার ছেলে।
সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম থানাধীন কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক মো: শরীফুর রহমান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক মো: জাকির হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স সহ রোববার বিকাল সাড়ে তিনটায় উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের ঝিকড্ডা পশ্চিম পাড়া এলাকায় সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সোনা মিয়ার বাড়ীতে তার টিনশেড বসতঘরে অভিযান চালিয়ে পেপারে মোড়ানো ৩০টি গাঁজার রোল (ওজন ৩০০ গ্রাম) ও নীল রঙের বায়ুনিরোধক পলিপ্যাকে সংরক্ষিত ১২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, রোববার বিকালে থানা পুলিশের অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবা সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের শেষে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে, আজ ৩০ এপ্রিল কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইঁয়ার পদত্যাগেরদা বিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একটি মিছিল করার চেষ্টা করা হয়। আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি এই মিছিলের সাথে মুরাদনগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ন্যূনতম কোন সম্পর্ক নাই।
বুধবার ( ৩০ এপ্রিল) রাত ৯ টায় মুরাদনগর উপজেলার জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, মুরাদনগর উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, মুরাদনগর শাখার আহ্বায়ক মোঃ ওবায়দুল হক সিদ্দিকী, সদস্য সচিব আল মামুন ও মুখ্য সংগঠক আসিফ সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ , ছাত্রলীগ এক হয়ে কায়কোবাদ সাহেব
নিজের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জোর করে মিছিলে নিয়ে আসেন । এর ফলে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ব্যানারটিকে বিতর্কিত করার জন্য ব্যবহার করছেন বলেই আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। জুলাই আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যে ব্যানারে খুনি হাসিনার পতন হয়েছে সে ব্যানারে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ ব্যবহার করে উপদেষ্টার মর্যাদাহানী করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই ঐতিহাসিক ব্যানার ব্যবহার করে এমন হীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসাথে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ, আওয়ামীলীগ ও অনুমোদনহীন ব্যক্তি কর্তৃক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহারকারীদের দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় এনে শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যে মিছিলে অংশগ্রহণ কারী দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের করতে হবে। অন্যথায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ আওয়ামীলীগ ও অনুমোদনহীন ব্যক্তিকতৃর্ক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করার প্রতিবাদে তাদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মন্তব্য করুন


ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের দাবি দীর্ঘ ৪০ বছর পর পূরণ হতে যাচ্ছে।
এমপিওভুক্তির প্রস্তাবের ফাইলে শেষদিন বুধবার (৫ মার্চ) স্বাক্ষর করে গেছেন বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ফলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫১৯ ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ৬ হাজারের বেশি শিক্ষকের ভাগ্য খুলছে।
আজ বিদায়ী বক্তব্যে বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ নিজেই। আজ বুধবার (৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শেষ কর্মদিবসে সেই ফাইলে স্বাক্ষর করে গেছেন বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা। সেই ফাইল এখন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে। তার সম্মতি মিললে মে মাসের মধ্যে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেতে পারেন।
তিনি বলেন, দেশে অনেক ইবতেদায়ী মাদ্রাসা আছে। এর মধ্যে অনেকগুলো অনানুষ্ঠানিক। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানের নথি (রেজিস্ট্রেশন) আছে। সরকারি প্রাথমিক স্কুলের মতো তারা বাংলা, ইংরেজি, গণিত পড়াচ্ছে। অবকাঠোমো, শিক্ষক থাকার পরও তাদের এমপিওভুক্ত করা হয়নি। তাদেরকে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব। সেই কাজ আমি করে দিয়েছি।
এদিকে আজ বঙ্গভবনে নতুন শিক্ষা উপদেষ্টার শপথ অনুষ্ঠানে এই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়টি অর্থ বিভাগের সচিবকে অবহিত করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। এ সময় অর্থ সচিব প্রধান উপদেষ্টার সম্মতি মিললে টাকা ছাড় করার বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।
মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস থেকে ইবতেদায়ী শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার জন্য কাজ করছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ। সারা দেশে এডুকেশনাল ইনস্টিটিউট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনাক্তকারী নম্বর আছে (ইআইআইএন) এমন ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসাকে এমপিও করার ফাইল প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে।
এ নিয়ে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, বিদায়ী উপদেষ্টা এই ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। ফাইলটি এখন প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের অনুমতির জন্য পাঠানো হবে। তিনি সদয় অনুমতি দিলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হবে।
কতদিন লাগতে পারে- জানতে চাইলে সচিব বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের বাজেট বরাদ্দ থেকে অর্থ ছাড়ের আশ্বাস দিয়েছেন। মে মাসের বেতন যেন শিক্ষকরা পান সেই চেষ্টা চালাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, কুমিল্লা:
মৃত্যুর
আগ পর্যন্ত কামলা হয়ে কুমিল্লা-৩ আসনের মানুষের
পাশে থেকে তাদের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান
ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এবং পাঁচবারের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
তিনি
বলেন, ‘অতীতে আমি আপনাদের কামলা হয়ে যেভাবে পাশে ছিলাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেভাবে
কামলা হয়ে থাকতে চাই। নেতা হিসেবে নয়, আমি আপনাদের কামলা হিসেবেই থাকতে চাই।’
শনিবার বিকালে কুমিল্লার বাঙ্গরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জনসভায়
বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান কায়কোবাদ বলেন, ‘আমরা কি চিন্তা করতে পেরেছিলাম
বাঙ্গরা হাইস্কুল মাঠে আমরা আজকে সমাবেশ করতে পারব? আমরা কি চিন্তা করতে পেরেছিলাম
শেখ হাসিনার দেশ থেকে এভাবে পালিয়ে যাবে? আমরা কি চিন্তা করেছিলাম সেই স্বৈরাচারদের
অনেকে জেলখানায় যাবে এবং বিচারের মুখোমুখি হবে। এসব ব্যবস্থা করেছে আল্লাহ।’
এসময়
আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানানোর জন্য সবাইকে একবার সূরা ফাতিহা পাঠ করান তিনি।
অন্তর্বর্তী
সরকার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনাকে এই সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা বানিয়েছে আল্লাহ। এই আওয়ামী লীগ সরকার আর কিছুদিন থাকলে অনেকের মত
আপনাকেও জেলখানার স্বাদ গ্রহণ করতে হতো। আল্লাহ আপনাকে সেই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দিয়েছে।
এজন্য আপনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন এবং জনগণের আশাকে পূরণ করার চেষ্টা করুন।’
তিনি
বলেন, ‘এই মুহূর্তে জনগণের একটিই আশা, সেটি হল নির্বাচন। সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে এই
সংস্কারের মাধ্যমে বড়লোকদের উপকার হবে গরিবদের কোনো উপকার হবে না। আপনাদের সংস্কারের
প্রয়োজন নেই। সংস্কার ছেড়ে দিন তাদের ওপরে, যারা জনপ্রতিনিধি হবে। তাদের কাছে পরামর্শ
রেখে যান। আপনাদের পরামর্শকের সামনে রেখে এই সেই সরকার এগুলো পালন করার চেষ্টা করবে।
কাজী
শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ আরও বলেন, ‘যেভাবে বাংলাদেশের জনগণ একত্রিত হয়ে আন্দোলন
করেছিল, সেই আন্দোলনের ফসলকে ইউরোপ-আমেরিকা সমস্ত পৃথিবী একসেপ্ট করে নিয়ে স্বাগত
জানিয়েছে। আগে অনেকে অনেক কথা বলেছি অনেকে অনেক ভাষায় কথা বলেছে, কারো কথা শুনে নাই।
কিন্তু এই আন্দোলনের মাধ্যমে যখন বাংলাদেশের নারীরা, যুবকেরা ও মেহনতি মানুষ একত্রিত
হয়ে ঢাকা শহরের রাস্তায় নেমে পড়ল তখন তারা সবাই একযোগে চিৎকার করে বলে উঠল আমরা
তোমাদের সঙ্গে আছি। এরপর সবাই বলল এই স্বৈরাচারের বিচার হবে, বিচার করতে হবে। কিন্তু
এর আগে কিন্তু এই বিচারের কথা কেউ বলে নাই।
তিনি
বলেন, আমরা সবাই একত্রিত হয়ে যেমনিভাবে এই স্বৈরাচারকে পতন করিয়েছি, এমনিভাবেই একত্রিত
থাকতে হবে যেন আমাদের দাবি আদায় ও সুন্দর নির্বাচন আদায় করতে পারি।
এসময়
সৃষ্টিকর্তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে আমাদের বলতে হবে, চাইতে হবে যেভাবে
স্বৈরাচার সরকারকে আমাদের মাঝখান থেকে বিদায় করেছে সেভাবেই একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা
করে দাও।
নারীদের
প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বিএনপির জনপ্রিয় এই নেতা বলেন, ‘যতবার নির্বাচন করেছি ভোটের
সেন্টারে গিয়ে দেখেছি মহিলাদের লাইনটা অনেক বড়। আর এ কারণেই দেখা যেত ভোটের যে রেজাল্ট
এখানে আমাকেই আল্লাহপাক বেশি ভোট দিয়েছে।’
এসময়
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলে হিন্দু ভোট আওয়ামী লীগের, আমাদের আন্দিকুট ইউনিয়নে কয়েকটা
গ্রাম আছে যেখানে হিন্দু মুসলমানের চেয়েও বেশি। ওই সেন্টারে আল্লাহ পাক আমাকে সমসময়
আমাকেই জিতিয়েছে।
জনসভা
বিকেল ৪টায় শুরু হলেও দুপুর থেকেই নেতাকর্মীরা মিছিলে মিছিলে সভাস্থলে এসে জমায়েত
হোন। নেতাকর্মীদের নানা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। বিকেল চারটার আগেই পরিপূর্ণ
হয়ে পড়ে জনসভাস্থল। জনসভায় উপস্থিত জনতার মধ্যে পুরুষের সঙ্গে নারীদের উপস্থিতিও
ছিল চোখে পড়ার মতো।
কুমিল্লা
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি
ছিলেন, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য
রাখেন উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার,সদস্য সচিব তারেক মুন্সী, যুগ্ম
আহ্বায়ক তৌফিক আহমেদ মীর, সাবেক মেজর মো. শাজাহান, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম
আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা
আক্তার রুবি,উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কাজী তাহমিনা আক্তার, মুরাদনগর উপজেলা যুবদলের
আহ্বায়ক সোহেল সামাদ,মুরাদনগর উপজেলা হিন্দু পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দয়ানন্দ
ঠাকুর প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ এই প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর সক্রিয় হয়ে উঠতো একটি প্রতারক চক্র। চক্রের সদস্যরা মাঠকর্মী সেজে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে যে কোনো চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতো। এভাবে প্রার্থীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার মাধ্যমে গত কয়েক বছরে চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
ডিবি জানিয়েছে, রেলপথ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কারা অধিদপ্তর, পররাষ্ট্র অধিদপ্তর, বিআরটিসি, বিএডিসি, সচিবালয়, ব্যাংক, মেট্রোরেল, এয়ারপোর্ট, তিতাস গ্যাস এবং বিশেষ বাহিনীর সিভিল পদে চাকরির বিজ্ঞাপন বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসার পর একটি প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করত একটি চক্র। চক্রটি প্রত্যেক চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও এখন পর্যন্ত কাউকে চাকরি দিতে পারেনি। এভাবে গত কয়েক বছরে তারা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. ফরিদুল ইসলাম (২৯), মো. নাসির চৌধুরী (৪৫), মো. নাসিম মাহমুদ (৪৩) ও জুয়েল রানা (৪৫)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও বেশ কিছু ভুয়া নিয়োগপত্র, চেক ও স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গ্রেফতাররা বেশ কিছুদিন ধরে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে দেখিয়ে প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। অনুসন্ধানে এই চক্রের বিভিন্ন ধাপ লক্ষ্য করা যায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেই এই চক্রের সদস্যরা মাঠকর্মী সেজে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে যে কোনো চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মতো তাদের হাতে লোক রয়েছে বলে আশ্বস্ত করতো। চাকরিপ্রার্থীরা তাদের প্রস্তাবে রাজি হলে ব্লু ব্যাংক চেক, ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প ও সিভি সংগ্রহ করার পাশাপাশি প্রত্যেকের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা নিতো।
ডিবিপ্রধান আরো বলেন, মাঠকর্মী তার কমিশনের নির্দিষ্ট টাকা রেখে বাকি টাকা ও সিভি ফিল্ড পর্যায়ের সাব-এজেন্টের কাছে পাঠাতো। এরপর সাব-এজেন্ট সেই টাকা ও সিভি গ্রহণ করে সব চাকরিপ্রার্থীকে নির্দিষ্ট দিনে ভাইভার কথা বলে ঢাকাস্থ এজেন্টের কাছে পাঠাতো। পরে ঢাকাস্থ এজেন্ট আবাসিক হোটেলের রুমে বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশপাশের কোনো একটি চায়ের দোকানে চাকরিপ্রার্থীদের ভাইভা পরীক্ষা নিতো। ভাইভাতে উত্তীর্ণ হয়েছে বলে প্রার্থীর কাছ থেকে ওইদিন চুক্তির ৫০ শতাংশ টাকা নিয়ে নিতো। এরপর চক্রের আরেক সদস্য চুক্তির বাকি টাকা গ্রহণ করে প্রার্থীকে নির্দিষ্ট চাকরিতে দিনে যোগদানের কথা উল্লেখ করে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একটি ভুয়া আইডি কার্ড দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়ে যেতো। অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, পরবর্তী সময়ে চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগপত্রে উল্লেখিত তারিখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগদান করতে গেলে জানতে পারেন, প্রতারক চক্রের দেওয়া নিয়োগপত্র আর আইডি কার্ডটি ভুয়া। ততোদিনে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার মতো। পরে চক্রটি নিজেদের মধ্যে চুক্তির টাকা ভাগাভাগি করে নিতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, চক্রটি গত দু-তিন বছর ধরে এভাবে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তাদের ব্যবহৃত হোয়াটঅ্যাপ/মেসেঞ্জারে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন চাকরিপ্রত্যাশীদের বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কারা অধিদপ্তর, পররাষ্ট্র অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিআরটিসি, বিএডিসি, এলজিইডি, সচিবালয়, বিভিন্ন ব্যাংক, প্রাথমিকের পিয়ন, মেট্রোরেল, এয়ারপোর্ট, তিতাস গ্যাস ও ওয়াসার আউটসোর্সিং এবং বিশেষ বাহিনীর সিভিল পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিতো।
গ্রেফতার এ চক্রে জুয়েল রানা ফিল্ড পর্যায়ে মাঠকর্মী, নাসিম মাহমুদ ফিল্ড পর্যায়ের সাব-এজেন্ট ও নাসির চৌধুরী ঢাকাস্থ সাব-এজেন্ট এবং চক্রের মূলহোতা হিসেবে ফরিদুল ইসলামের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।
১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর মামলা করেন এক ভুক্তভোগী । মামলার বাদীকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এমএলএসএস পদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। নিয়োগপত্র নিয়ে তিন মাস পরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে যোগদানের জন্য গেলে জানতে পারেন নিয়োগপত্রটি ভুয়া। পরবর্তী সময়ে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে গেলে তাদের ব্যবহৃত সব মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার বাদী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
ডিবি-সাইবারের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের টিম লিডার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হক বলেন, চক্রটি গত কয়েক বছরে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা কারে নিলেও কারও চাকরি দিতে পারেনি। পত্রিকায় চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। চাকরির ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে কোনো লেনদেন করা যাবে না।
তিনি বলেন, গ্রেফতারদের বিরূদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আসামিদের ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


দিনাজপুর জেলার বিরামপুর মহিলা কলেজের শ্রেণিকক্ষ নম্বর ১০১ । সচরাচর এ কক্ষ
দিনের বেলা শিক্ষার্থীদের সমাগমে থাকে ভরপুর আর দিনশেষে জনমানবহীন।
কিন্তু রোববার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায উক্ত নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা মিলল
এক ভিন্ন চিত্রের ।
কক্ষের মধ্যে বিয়ের মঞ্চ তৈরী করে তাতে বসা বর ও কনে আর মঞ্চের আশপাশের পুরো
অংশ বর ও কনে পক্ষের অতিথিতে পরিপূর্ণ।
কলেজসীমানার ভেতরের মাঠে চলছিলো বরযাত্রী ও কনে পক্ষের অতিথিদের জন্য খাওয়াদাওয়ার
যাবতীয় আয়োজন।
আরিফুল-আঁখি দম্পতির বিয়ে উপলক্ষে ছিল এই আয়োজন।
বর আরিফুল ইসলাম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শ্যামবাসেরপাড়া গ্রামের মোমিনুল ইসলামের
ছেলে। আর কনে বিরামপুর পৌর শহরের পূর্ব জগন্নাথপুর মহল্লার আজাহার আলীর মেয়ে ফাতেমা
বিনতে আজাহার ওরফে আঁখি। বিয়ে শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বরযাত্রীরা কনেকে গাড়িতে
করে পীরগঞ্জে রওনা দেন।
কলেজের একাডেমিক ভবনের ১০১ নম্বর কক্ষটি বিয়ের আসরের জন্য ব্যবহার করেন স্থানীয়
একটি পরিবার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ কেন বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার
করা হয়েছে, এ বিষয়ে বর ও কনে পক্ষের কেউ কোনো কথা বলতে চাননি।
কলেজের ওই শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত বিয়েটি স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার মোখলেছুর রহমান
তিন লাখ টাকা মোহরানায় রেজিস্ট্রি করেন। কনের বাবার বাড়িতে জায়গার সংকুলান না হওয়ায়
বাড়ির পাশের কলেজে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে বলে ধারণা তাঁর।
এ বিষয়ে বিরামপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মেজবাউল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি
জানান, মেয়েটি (কনে) উক্ত কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। কলেজে ওই মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান
করার জন্য মেয়ের বাবা কলেজের অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেছিলেন। আর এ সময় কলেজে ঈদের ছুটি
থাকাতে বিয়ের জন্য কলেজের মাঠ ও কক্ষটি ব্যবহার
করতে দেওয়া হয়েছে।
তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিয়ের আসর বসানোর কোনো নিয়ম আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিরামপুর
মহিলা কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, কলেজের শ্রেণিকক্ষ ও কলেজ চত্বরের ভেতরে বিয়ের
অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, এমন তথ্য আমার কাছে নেই। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিয়ের
অনুষ্ঠান আয়োজন করার কোনো সুযোগ নেই।
কলেজের শ্রেণিকক্ষে বিয়ের বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও নুজহাত
তাসনীম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন
করা নীতিগতভাবে ঠিক নয় বলে আমার যত দূর মনে হচ্ছে। কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে
আর বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খোঁজ খবর নিয়ে দেখব।
মন্তব্য করুন