

মো: মাসুদ রানা,কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়ায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ঠেকাতে বাজার মনিটরিংয়ে বেরিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বাপ্পি দত্ত রনি ।
রবিবার বিকালে উপজেলার সাচার বাজারে টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যবৃন্দ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার প্রতিনিধি, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের প্রতিনিধি ও থানা পুলিশের সদস্যেদের উপস্থিতিতে উপজেলার ঐতিহ্যবাহি সাচার বাজারে বিভিন্ন কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য বাজারগুলো মনিটরিং করেন।
এসময় সাচার বাজার কমিটির সেক্রেটারী জিয়া উদ্দিন মজুমদার,সহকারী ক্যাশিয়ার জসিম উদ্দিন সবুজ,সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বাপ্পি দত্ত রনি দিক নির্দেশনায় বাজার টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যবৃন্দ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতিনিধি, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের প্রতিনিধির সদস্যরা এসময় কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, মুদি দোকানসহ কয়েকটি দোকানে মূল্যতালিকা দেখছেন। মূল্যতালিকা অনুযায়ী ঠিক দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা তাও তিনি মনিটরিং করেন। এসময় অযথা দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে না ফেলার আহবান জােিনয় ব্যবসায়ীদের প্রতি নির্দেশনা দেন এসিল্যান্ড।
মন্তব্য করুন


পটুয়াখালীতে ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। এসব তরমুজের বাজার মূল্য দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করছেন জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
উৎপাদিত এসব তরমুজ উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষক। গত বছরের বৃষ্টিতে তরমুজ চাষের ক্ষতি পুষিয়ে এবার লাভবান চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ তরমুজ ক্ষেত। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তরমুজ। ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে জড়ো করে রেখেছেন বিক্রির জন্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা তরমুজ কিনতে ক্ষেতে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন। এই তরমুজ ট্রাক-ট্রলি ও ট্রলারে বোঝাই করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকরা। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে তুলে বাজারজাতে ব্যস্ততা দেখা গেছে চাষিদের মাঝেও।
এসব দৃশ্য দেখা গেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনা, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার তরমুজ ক্ষেতে। চাষিরা জানান, জেলার গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে প্রচুর তরমুজ চাষ হয়েছে। তবে বরি মৌসুমে অল্প সময়ে তরমুজ আবাদ ও লাভজনক হওয়ায় পটুয়াখালীর চাষিদের মধ্যে আগ্রহ অনেক বেড়েছে।
একই এলাকার চাষি সেলিম হাওলাদার (৪২) বলেন, তরমুজ চাষের জন্য অন্যের কাছে থেকে এক বছরের চুক্তিতে দুই একর জমি লিজ নিয়েছি। এর মধ্যে চাষযোগ্য ১৬০ শতাংশ জমিতে তরমুজ আবাদ করেছি। এতে বীজ ও সার-ওষুধসহ মোট খরচ হয়েছে এক লাখ টাকার মতো। আর বিক্রি করেছি চার লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, আমি গত বছরগুলোতে তরমুজ চাষ করে তেমন লাভ করতে পারিনি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজ ভালো হয়েছে এবং লাভবান হয়েছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে গলাচিপা উপজেলায়। এ উপজেলায় আট হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রসালো ফলটির চাষ হয়েছে। এ ছাড়াও রাঙ্গাবালীতে ছয় হাজার ৩৫০ হেক্টর, বাউফলে তিন হাজার ৫২০ হেক্টর, কলাপাড়ায় এক হাজার ৭৫০ হেক্টর, দশমিনায় এক হাজার ৭২০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৮০৫ হেক্টর, দুমকি উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১৫৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত এসব তরমুজ বাজারে বিক্রি দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
এদিকে গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ও গোলখালী ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষেতের পর ক্ষেতে তরমুজ। চাষিরা এখন বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আমখোলা ইউনিয়নের বাউরিয়া গ্রামের তরমুজ চাষি ইউনুচ হওলাদার (৪০) ১৩ বছর ধরে রবি মৌসুমে তরমুজ চাষ করছেন। এ বছর নিজের ও অন্যের জমি মিলিয়ে দুই একর জমিতে ফলটি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আমার ক্ষেতের কিছু তরমুজ গাছ মারা গেছে, তবুও যা ছিল ফলন ভালো হয়েছে। বৃহস্পতিবার তরমুজ আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। ক্ষেত থেকে ব্যাপারীরা এখন পর্যন্ত তরমুজ কেটে নেয়নি।
বৌবাজার এলাকার কৃষক তাসলিমা বেগম মাঝেরচর এলাকায় আট একর জমি লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, দুই একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ উৎপাদন করে সাত লাখ টাকা বিক্রি করেছি। এখনও ছয় একর জমিতে তরমুজ রয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো।তিনি আরও বলেন, প্রথমে দাম ভালো ছিল- এখন কিছুটা কম। আজকে রোদের তাপ অনেক, আবহাওয়া এভাবে থাকলে তরমুজের বাড়বে।
সুহুরী ব্রিজ এলাকার কৃষক আলআমিন জানান, মৌসুমের আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা অগ্রিম দাদন দিতে এলাকায় চলে আসেন এবং ফলনের পর তরমুজ সংগ্রহ করতে এলাকায় অবস্থান করেন। তিনি ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি শুরু করেছেন।
মৌসুম শুরুর আগেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আড়তদার ও ব্যাপারীরা এখানকার চাষিদের লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে রেখেছেন। এখন আড়তদাররা এলাকায় এসে চাষিদের কাছ থেকে তরমুজ সংগ্রহ করছেন। ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনে ট্রলার কিংবা ট্রলি বোঝাই করে এনে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ঢাকাগামী লঞ্চগুলোতে তরমুজ চলে যাচ্ছে রাজধানীতে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, জেলায় ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এতে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হবে। প্রায় সবগুলোই অধিক ফলনশীল হাইব্রিড জাতীয়। জেলার আগাম উৎপাদিত তরমুজ বাজারে ভালো দাম পেয়েছে। সেগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে। উৎপাদিত তরমুজের বাজার মূল্য দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আবাদের পর আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। এ অঞ্চলে দোআঁশ মাটিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়। বৃষ্টির কারণে মাটিতে প্রচুর রস থাকায় তরমুজ আকারে বড় ও উৎপাদন বেড়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। এ ছাড়াও দিনের বেলা প্রখর রোদে তরমুজের রং উজ্জ্বল ও সুস্বাদু হয়। ফলে এ অঞ্চলের তরমুজ খুব সুস্বাদু এবং ক্রেতাদের কাছেও জনপ্রিয়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, নিজস্ব
প্রতিবেদক:
আজ
বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী
হয় পথচারীরা। চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ করেই রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে
পড়ে—কোনো নির্ধারিত স্টপেজ
কিংবা সংকেত ছাড়াই।
বাসটির
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত বাস থেকে নামতে শুরু করেন। অনেকে
প্রাণ ভয়ে ডিভাইডারের ওপর লাফিয়ে উঠেন। একজন যুবক নিরাপদে পার হলেও তার ঠিক পেছনে থাকা
দুই মাদ্রাসাছাত্র ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান রাস্তায়।
ঠিক
তখনই সামনে দিয়ে ঝড়ের গতিতে ছুটে আসে একটি মোটরসাইকেল। মুহূর্তের মধ্যে সবাই শ্বাসরুদ্ধ
হয়ে চেয়ে থাকেন সেই ভয়ংকর দৃশ্যের দিকে।
তবে
সৌভাগ্যক্রমে, মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হন মোটরসাইকেল চালক এবং রক্ষা পান ওই
দুই ছাত্রও।
স্থানীয়রা
জানান, সেই মুহূর্তে পুরো এলাকা থমকে গিয়েছিল। আতঙ্ক আর বিস্ময়ে অনেক পথচারীর মুখ ফ্যাকাশে
হয়ে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, "মনে হচ্ছিল, সবাই যেন মৃত্যুর খুব কাছ থেকে
ফিরে এল।"
ঘটনাটি
যানবাহনের নিয়ম না মানা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ রোডে অব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ বলে
মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। এ নিয়ে প্রশাসনের আরও কড়া নজরদারি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লালমাইতে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিএনপির অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে সংবর্ধনা দিতে নোয়াখালী থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন।
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বাগমারা এলাকায় নীলাচল পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা সবাই নোয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর সমর্থিত নেতাকর্মী। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
লালমাই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদেল খান জানায়, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসটি কুমিল্লার বাগমারা বাজার এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ওপর উঠে যায়। এ সময় বাসাটিতে থাকা অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত তাদেরকে উদ্ধার করে নোয়াখালীতে ২২ জন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বুড়িমারী স্থলবন্দরে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে ওই তরুণীকে হস্তান্তর করা হয়।
বুড়িমারী স্থলবন্দরে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে ওই তরুণীকে হস্তান্তর করা হয়।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় প্রেমের টানে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে প্রতারিত হয়েছেন ভারতের জলপাইগুড়ির এক তরুণী। প্রশাসনের উদ্যোগে সাত দিন পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
দুপুরে বুড়িমারী স্থলবন্দরে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে ওই তরুণীকে হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, ফেসবুকের মাধ্যমে দেড় বছর আগে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানাপাড়া এলাকার আমিনুর রহমানের ছেলে রবির (২৫) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার থানার করাইবাড়ি গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে রিয়া মনি (ডাক নাম রিংকি)। তিনি ময়নাগুড়ি কলেজের বিএ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রেমিক রবির সহযোগিতায় ও স্থানীয় দালালদের সহায়তায় রিয়া মনি সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন; কিন্তু বাংলাদেশে আসার পর রবি তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে তিনি বিপাকে পড়েন এবং পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
রিয়া মনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দেড় বছর প্রেম করার পর রবি আমাকে বাংলাদেশে আসতে বলে; কিন্তু এখানে এসে সে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। আমি মনে করি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে পাচারের উদ্দেশ্যেই আমাকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। আমি এর বিচার চাই।’
এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার উপপরিদর্শক শাহাজাহান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় তরুণীকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রোববার সকালে চট্টগ্রামে ডাঙ্গারচর নৌ তদন্ত কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, তুমব্রু সীমান্তে বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সঙ্গে কাজ করছে পুলিশ। বিজিবিকে সব ধরনের সহযোগিতা করার জন্যও প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ সদস্যরা।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সামরিক জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। তাদের ছোড়া গুলির সিসা ও রকেট লঞ্চার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে উড়ে এসে পড়ছে।এ ঘটনায় ঘুমধুম-তুমব্রু এলাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। আতঙ্ক, উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন তারা। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতেও পারছেন না অভিভাবকরা। এছাড়াও কৃষকরা ফসলি জমিতে যেতে ও দৈনন্দিন কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন তারা।এদিকে বিদ্রোহীদের আক্রমণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনীর ১৪ সদস্য তুমব্রু বিজিবি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।
গত রাতে বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় আবারও মর্টার শেলের বিস্ফোরিত অংশ বাংলাদেশে এসে পড়েছে। এছাড়া গত রাতে সীমান্তঘেঁষা ঘুমধুম ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সীমান্তের ওপারে প্রায় সারা রাত গুলির শব্দ শোনা গেছে।
রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বান্দরবানের তুমব্রু বিজিবি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় তারা।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মাহাফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া বলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের নিরাপত্তা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।
আইজিপি বলেন, আমরা বিজিবির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি। বিজিবি আমাদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা পাবে, আইনানুগভাবে আমরা সেই সহযোগিতা বিজিবিকে দেবো।
মন্তব্য করুন


ফাতেমাতুজ জোহরা তন্বী, প্রতিবেদক:
নিটোল
পায়ে রিনিক ঝিনিক,পায়েলখানি বাজে
মাদল
বাজে সেই সংকেতে
শ্যামা
মেয়ে নাচে...
এস
ডি বর্মণের কণ্ঠে সেই প্রখ্যাত গান। বলছিলাম উপমহাদেশের সংগীতের রাজপুত্র কুমার শচীন
দেববর্মণের কথা।
শচীন
দেববর্মণ (১ অক্টোবর, ১৯০৬-৩১ অক্টোবর, ১৯৭৫) বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় বাংলা ও হিন্দী
গানের কিংবদন্তীতুল্য ও জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, গায়ক ও লোকসঙ্গীত। আগরতলার বাসিন্দা হলেও শচীন দেবের শৈশব কেটেছে কুমিল্লায়
এবং শেষ জীবন মুম্বাইতে। তাঁর সহধর্মিণী মীরা দেবী এবং একমাত্র পুত্র রাহুল দেববর্মনও
মুম্বাই চিত্রজগতের প্রতিষ্ঠিত কণ্ঠশিল্পী।প্রায়শ তাঁকে এস ডি বর্মণ হিসেবেই উল্লেখ
করা হয়। কিছুটা অনুনাসিক কণ্ঠস্বরের জন্য তিনি তার শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।
প্রায় একশো বছর পার করেও বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে তার কালোত্তীর্ণ গানের আবেদন
কিছুমাত্র লঘু হয়নি। কেবল সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নয়, গীতিকার হিসাবেও তিনি সার্থক।
তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পুত্র রাহুল
দেববর্মণ ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। তাঁর ছাত্রী এবং পরবর্তীতে
সহধর্মিনী মীরা দেববর্মণ গীতিকার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি রবি গুহ মজুমদার এর
অনেক গানে সুর দিয়েছেন এবং তা শিল্পে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি ২ বার (১৯৫৫ ও ১৯৭৪)
সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং ১৯৭০ সালে শ্রেষ্ঠ নেপথ্য গায়ক হিসেবে
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ভারত) লাভ করেন।
শচীন
দেব বর্মণ তার যুগের তুলনায় অনেকাংশে আধুনিক ছিলেন। তার অনেক গানই আজকাল রিমিক্স হচ্ছে
এবং জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানছেন না, গান গুলোর আসল
সুরকার এবং গায়ক শচীন দেববর্মণ। শচীন দেব অনেক বাংলা গানে সুর দিয়েছেন। ১৯৩৪ সালে
নিখিল ভারত সঙ্গীত সম্মিলনে গান গেয়ে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৩৭ সাল থেকে পরপর
কয়েকটি বাংলা ছায়াছবিতে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এক্ষেত্রে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য
ছায়াছবি হলো: রাজগী, ছদ্মবেশী, জীবন-সঙ্গিনী, মাটির ঘর ইত্যাদি। তার বিখ্যাত কিছু
গান যেমন-
শোনো
গো দখিন হাওয়া
হৃদয়ে
দিয়েছো দোলা
কে
যাসরে
ঝিল
মিল ঝিল মিল
তুমি
আর নেই সেই তুমি
রজ্গীলা
তুমি
এসেছিলে পরশু ইত্যাদি।
প্রতি
বছর দু-তিন দিন জুড়েই পালিত হয় 'শচীন মেলা'। স্নিগ্ধতা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যাখ্যা
দেয় সোনালী অতীতের। শচীন দেববর্মণের মতো মানুষরা অমর প্রজন্মের পর প্রজন্মে।
বাংলা ও হিন্দি গানের কিংবদন্তি সুরকার শচীন দেববর্মণ এর জন্মভিটা কুমিল্লার দক্ষিণ চর্থায়। একসময় রাজবাড়ি হলেও এখন সেটি ইতিহাসের কান্না বয়ে চলা এক পরিত্যক্ত ভবন।
সরকারি উদ্যোগে ‘সংস্কৃতি কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলার কথা বলা হলেও বাস্তবে বাড়িটি পড়ে আছে অযত্নে-অবহেলায়।
আমরা কি তবে শচীন কর্তার সুরের স্মৃতি হারাতে বসেছি?
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা,কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়ার সাচার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামিউল হুফফাজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ও সাচার রেনেঁসা হাসপাতালের আয়োজনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্মেলনে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম থেকে দশম স্থান অর্জনকারী হাফেজদের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই দ্বিতীয়বারের আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্মেলনে চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কোরআনের হাফেজরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিযোগিতার শুরুতে কোরআনের তেলাওয়াত ও ক্বেরাত পরিবেশন করেন অংশগ্রহণকারী হাফেজগণ। এরপর বিচারকমণ্ডলী প্রথম থেকে ১০ম স্থান পর্যন্ত প্রতিযোগীদের বাছাই করেন এবং বিজয়ীদের মধ্যে সনদ, ক্রেস্ট ও বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। বিজয়ীরা তাদের সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জামিউল হুফফাজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও সাচার রেনেঁসা হাসপাতালের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামিউল হুফফাজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহসান হাবীব। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মালয়েশিয়া শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। দ্বীন ও ইসলাম সম্পর্কে বয়ান রাখেন কচুয়া জামিআ আহমাদিয়া মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা আবু হানিফ এবং জামিউল হুফফাজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর প্রধান উপদেষ্টা মুফতি আনিছুর রহমান কাসেমী সহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম।
এ সময় সাচার রেনেঁসা হাসপাতালের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মজুমদার, পরিচালক জিয়াউদ্দিন মজুমদার, সালাউদ্দিন মজুমদার সহ ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় এলাকাবাসী এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে কোরআন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও মনোবল বৃদ্ধি পাবে।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ১৪ কেজি গাঁজাসহ এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার সুবর্ণা আক্তার (২১) কুমিল্লার সদর উপজেলার পুরান চৌয়ারা গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে।
আজ রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার সোনাইমুড়ী পৌরসভার বাইপাস মোড় এলাকার ইকোনো বাস কাউন্টার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সুবর্ণা একজন মাদক কারবারি। তিনি শনিবার সন্ধ্যায় ১৪ কেজি গাঁজা নিয়ে সোনাইমুড়ী বাসস্ট্যান্ড আসে। তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে কুমিল্লার বাসে না গিয়ে সোনাইমুড়ীর বাসে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে সোনাইমুড়ী আসেন। কিন্তু তিনি বাসে উঠলে গাঁজার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে তাকে ১৪কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, ওই তরুণীর সাথে থাকা লাগেজ তল্লাশি চালিয়ে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রফিকুল ইসলাম বাবু, চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরে তিন দিনব্যাপী উপজেলা কৃষি মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই মেলায় মোট ১১ টি স্টল নিয়ে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
১৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মাঠে চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় এবং খামারবাড়ি ঢাকা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তপন রায়, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ইফতেখার নাইম সহ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা বৃন্দ।
মন্তব্য করুন


নরসিংদীর রায়পুরায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (দোকান) বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে মানিক মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক দেড়টায় রায়পুরা জঙ্গি শিবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রায়পুরা থানার পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মানিক মিয়া উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের জঙ্গি শিবপুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন মুদি মালামালের ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতেও তিনি দোকান বন্ধ করে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে তার লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। হত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে পারেনি কেউ। পরে খবর পেয়ে রায়পুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
নিহতের ভাই মো. আরিফ মিয়া জানান, গতরাত ১০টা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি আসেনি। তার ফোনে অনেকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। পরে আমরা তার খোঁজে বাজারে যাওয়ার পথে আড়িয়াল খাঁ নদের পাশে তার গলাকাটা করা লাশ দেখতে পাই।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেও প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন, টর্চলাইট ও কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এখনও পাওয়া যায়নি। হত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন