

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পুমকারা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত ২ শিশু হলো পুমকারা গ্রামের ইউসুফ মিয়ার ছেলে ইমরান (৮) এবং একই গ্রামের আবদুল আওয়ালের ছেলে জোনায়েদ (৮)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই এবং একই সঙ্গে খেলাধুলা ও চলাফেরা করত বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ইমরান, জোনায়েদ ও তাদের সমবয়সী আরেক শিশু বাইজিদ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে ইমরান ও জোনায়েদ পানিতে ডুব দেওয়ার পর আর ওপরে ভেসে না উঠলে সঙ্গে থাকা বাইজিদ চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে থাকে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন মিয়া দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পুকুরে নেমে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন।
পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর অবস্থায় তাদের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জ্যোতি প্রকাশ বিশ্বাস বলেন, 'পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ডিএমএ মজিদ বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলি এবং পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে জানা গেছে। একসঙ্গে দুটি শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।'
এদিকে একসঙ্গে চাচাতো দুই শিশুর অকাল মৃত্যুতে পুমকারা গ্রামে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশীরা জানান, কয়েক মুহূর্ত আগেও একসঙ্গে খেলাধুলা করা দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
মন্তব্য করুন


রোজার মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বুড়িচং থানার ওসি মহোদয় এবং থানা পুলিশ সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে নিমসার বাজারে বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার হওয়া এ অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তার লেবু, শসা, কাঁচা মরিচ,ধনে পাতা, আলু, পেঁয়াজ প্রভৃতি পণ্যের দাম যাচাই করেন। কাঁচাবাজার এর
পাশাপাশি দোকানগুলোতেও রশিদ এর মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় এর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, লেবু ২০-৬০ টাকা হালি, কাচা মরিচ ২৬ টাকা, শশা ৩০ টাকা, খিরা ১২-১৫ টাকা , টমেটো ৫-৮ টাকা , আলু ১৬-১৮ টাকা, লাউ ১৮-২০ প্রতি পিস, পেঁয়াজ দেশি (মেহেরপুর) ১৮-২০ টাকা, পেয়াজ দেশি (পাবনা,নওগা) ২৫-৩০ টাকা, ডিম হালি ৩৩-৩৪ টাকা, চিচিংগা ১৫ টাকা, গাজর ১৫-২০ টাকা, বেগুন ৬০-৬৫/- (উন্নতমানের বড় সাইজ), চিকন বেগুন ৩০-৩৫ টাকা এবং সিম ২০-২৫ টাকা প্রতি কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
তবে অভিযান পরিচালনাকালীন সময়ে এটাও বলে দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার অনিয়ম বা মূল্য কারসাজি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। যুক্তরাষ্ট্রে সংস্থাটির আর্থিক লেনদেন, স্পন্সরশিপ আয় এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও বিচার বিভাগ। তদন্তে অর্থ পাচার, ওয়্যার জালিয়াতি এবং সম্ভাব্য কর ফাঁকির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন।
প্রতিবেদন
অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসি ও মায়ামির ফেডারেল প্রসিকিউটররা তদন্তে অংশ নিয়েছেন। তারা খতিয়ে
দেখছেন, এএফএর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ও স্পন্সরশিপ চুক্তি থেকে আসা শত শত মিলিয়ন মার্কিন
ডলার কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর হয়েছে এবং এসব লেনদেনে
যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না।
এফবিআইয়ের
এ তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসির
বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক স্পোর্টস মার্কেটিং ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের এ প্রতিষ্ঠানটি
বিদেশে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বাণিজ্যিক আয় ও বিপণন-সংক্রান্ত আর্থিক কার্যক্রম
পরিচালনা করতো।
গোপন
ব্যাংকিং নথির তথ্যের ভিত্তিতে লা নাসিওন দাবি করেছে, এএফএর অন্তত ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন
ডলার কয়েকটি শেল কোম্পানির মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের
কোনো কর্মচারী বা দৃশ্যমান বাণিজ্যিক কার্যক্রম ছিলো না।
তদন্তকারীরা
বর্তমানে ক্রীড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ
করছেন। এর অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে আর্জেন্টাইন ফুটবলভিত্তিক ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনির
সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও তিনি বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি।
এ
ছাড়া তদন্তে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তাকেও
সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। তদন্তকারীদের
ধারণা, এসব কর্মকর্তা এএফএর কার্যক্রম সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নাগাল পেয়েছিলেন।
লা
নাসিওন জানিয়েছে, গত বছরই যুক্তরাষ্ট্রে এই তদন্তের প্রস্তুতি শুরু হয়। তদন্ত পরিচালনা
করছেন ওয়াশিংটন ডিসি ও ফ্লোরিডার অন্তত তিনজন ফেডারেল প্রসিকিউটর। তাদের মধ্যে রয়েছেন
ব্যাংকিং ও আর্থিক অপরাধ তদন্তে অভিজ্ঞ কর্মকর্তারাও।
প্রতিবেদন
অনুযায়ী, ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসির মালিক হাভিয়ের ফারোনি ও তার স্ত্রী এরিকা জিলেট যুক্তরাষ্ট্রের
পাঁচটি ব্যাংকের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলারের লেনদেন পরিচালনা করেছেন। ব্যাংকগুলো হলো
সিটিব্যাংক, সিনোভাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগ্যান এবং পিএনসি ব্যাংক। এসব হিসাবের
মাধ্যমে এএফএর অন্তত ২৬ কোটি মার্কিন ডলারের আয় পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে অর্থের একটি বড় অংশের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতার স্পষ্ট ব্যাখ্যা তদন্তকারীরা এখনো পাননি।
প্রতিবেদনে
আরও বলা হয়েছে, অ্যাডিডাস ও ওয়ার্নারের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এএফএর আন্তর্জাতিক
চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থও ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।
চুক্তি
অনুযায়ী, কর পরিশোধের পর আন্তর্জাতিক আয়ের ৩০ শতাংশ এবং অতিরিক্ত ১০ শতাংশ লজিস্টিক
কমিশন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব আর্থিক নথিই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও
এফবিআই বিশ্লেষণ করছে।
অন্যদিকে
সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি বলেছে, ট্যুরপ্রডএন্টার
এলএলসির সঙ্গে তাদের বৈধ ও কার্যকর চুক্তি রয়েছে এবং সেটি আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের
আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।
এএফএর
দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো দেশের ফুটবল প্রশাসনকে
অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ।
বিশ্বকাপ
চলাকালীন এই তদন্ত আর্জেন্টিনা ফুটবলকে নতুন বিতর্কের মুখে ফেলেছে। তবে এখন পর্যন্ত
এটি প্রাথমিক তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক
কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেনি।
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, আমার ওপর ভরসা রাখুন, দেশের কোথাও কারও ওপর হামলা হবে না ।
দুপুর ২টার পর ড. ইউনূসকে বহনকারী বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
দেশে ফেরার পর তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনীর প্রধান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। এ ছাড়াও সেখানে উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তারা ছিলেন।
এ সময় শুরুতেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে স্বরণ করেন ড. ইউনূস।
তিনি বলেন, নতুন এই বাংলাদেশ যাতে দ্রুত গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে সেদিকে আমাদের কাজ করতে হবে।
নোবেলবিজয়ী আরো বলেন, এই স্বাধীনতাটা আমাদের রক্ষা করতেই হবে। শুধু রক্ষা না এর সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তা নাহলে এই স্বাধীনতার কোনো দাম নেই।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই দেশ তরুণ প্রজন্মের হাতে। তোমরা যেভাবে এটা স্বাধীন করেছো, তোমরাই এটা গড়ে তুলবে।
এর আগে বুধবার (৭ আগস্ট) তিনি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের চার্লস দ্য গল বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন তিনি। বিমানবন্দরে তাকে কড়া নিরাপত্তা দেন ফ্রান্সের বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার ইউনূস সেন্টার থেকে বলা হয়েছিল, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশে ফিরবেন। এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।
অলিম্পিক কমিটির আমন্ত্রণে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্যারিসে গিয়েছিলেন ড. ইউনূস। সেখানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন, তার একটি ছোট অস্ত্রোপচার হয়েছে।
জানা গেছে, ড. ইউনূস সরকারপ্রধান হিসেবে আজ রাত ৮টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মাইক্রোক্রেডিটই
ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ।
তিনি মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করার
আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এনজিও ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে মাইক্রোক্রেডিটকে ব্যাংকিংয়ের ধারণা
গ্রহণ করতে হবে। আর এ ধারণা গ্রহণ করেই ঋণগ্রহিতাকে সেবা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘মাইক্রোক্রেডিট এখনো এনজিও। এই এনজিও থেকে উত্তরণ
ঘটাতে হবে। এনজিও পর্যায়ে থেকে গেলে ব্যাংকিং মেজাজ আসবে না। মেজাজে আসতে হলে এটাকে
ব্যাংক হতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করতে
হবে।’
আজ শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটির (এমআরএ) নতুন ভবন উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়কার স্মৃতিচারণ করে প্রফেসর ইউনূস
বলেন, আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংক করলাম তখন আপত্তি উঠলো এটাকে ব্যাংক বলা যাবে কি না।
আমরা বললাম, আমাদেরটাই প্রকৃত ব্যাংক, তোমাদেরটা লোক দেখানো। ব্যাংক যে শব্দ থেকে উৎপন্ন
হয়েছে সেটা হলো ট্রাস্ট, তোমরা যেটা করছো সেটা ডিসট্রাস্ট। আমাদের ব্যাংকিং মানুষের
বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়েছে। জামানতবিহীন ব্যাংক, বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা টাকা দেই।
আজ এমন সময় আমরা আলাপ করছি যখন জামানতওয়ালা ব্যাংক, যারা নিজেদের প্রকৃত ব্যাংক বলে
দাবি করত তাদের অনেকে আজ হাওয়া। টাকা নিয়ে লোপাট। ব্যাংক শেষ। আর মাইক্রোক্রেডিটের
পরিসংখ্যান দেখেন। কেউ পয়সা নিয়ে পালায় নাই। এই হলো পরিহাস।’
মাইক্রোক্রেডিটই ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটাই প্রকৃত ব্যাংকিং, আগামী দিনের ব্যাংকিং যেটাতে মানুষ
নিজের পরিচয়ে কাজ করবে, নিজের বিশ্বাসের ওপরে ব্যাংকিং চলবে, টাকার উপরে না।’
মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে
প্রধান উপদেষ্টা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের
পর প্রত্যেক এনজিও চেষ্টা করলো একইরকম কিছু করতে। ক্রমে ক্রমে প্রসার হতে আরম্ভ করল।
নানারকমের নতুন নতুন জিনিস, নানা আইডিয়া নিজেদের সুবিধার জন্য ঢোকাতে আরম্ভ করল। এটা
ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হবে মনে করে একটি রেগুলেটরি অথরিটির প্রয়োজন হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের
সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তারা বলল ‘আমাদের কাজ না’। অর্থ মন্ত্রণালয় শুরুতে
গুরত্ব দিল না, পরে বলল ‘আচ্ছা কী করতে হবে জানাও’। তখন আমরা বললাম, ‘রেগুলেটরি অথরিটি
হওয়া দরকার, কারণ যে হারে বাড়ছে বড় রকমের সমস্যা হতে পারে।
‘তৎকালীন গভর্নর ফখরুদ্দীন সাহেব আমাদের সমর্থন করলেন। কিন্তু
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এটা হতে পারবে না। তারা ব্যাখ্যা চাইল। আমি বললাম, এটা বহু
দেশে বলেছি, এখনো বলি, গ্রামীণ ব্যাংকও ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংকও ব্যাংক। কিন্তু তফাত
অনেক। উদাহরণ দেই, আমেরিকান ফুটবলও ফুটবল। ইউরোপিয়ান ফুটবলও ফুটবল। কিন্তু খেলা ভিন্ন।
আপনি যদি ইউরোপিয়ান ফুটবলের রেফারিকে দিয়ে আমেরিকান ফুটবল খেলা চালাতে চান ইট উইল বি
অ্য ডিজাস্টার। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে তো ক্ষুদ্রঋণ
জানেই না। সে তো ইউরোপীয় ফুটবলের রেফারি,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
তিনি আরোও বলেন, ‘অবশেষে ফখরুদ্দীন সাহেব রাজি হলেন। গভর্নরকে
দিয়ে এটা পরিচালনা করানোর ব্যাপারেও তাঁকে রাজি করাতে হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে
এর অফিস করার আলোচনা ছিল। আমরা বললাম, আলাদা জায়গায় অফিস হতে হবে... আজকে নতুন ভবন
হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এটিকে বোঝার চেষ্টা করেছেন, নিয়মকানুন করেছেন। তারা
যদি অন্যান্য ব্যাংকের রেগুলেটরি নিয়মের ওপর এটা স্থাপন করত তাহলে মাইক্রোক্রেডিট সেদিনই
শেষ হয়ে যেত, আর খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন
জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
কে হবে এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ না, যে দেশেই মাইক্রোক্রেডিট হয়েছে সে দেশই সমস্যায় পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বারে বারে বলে এসেছি তোমাদের এত কিছু
চিন্তা করতে হবে না। কারণ বাংলাদেশ এর সমাধান দিয়ে দিয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটি শুধু যে বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছে তা না এটা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের জন্যে
সহায়ক হয়েছে।’
অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রেগুলেটরের ওপর কড়া
না হয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলি রেগুলেশন যেন হয় সেভাবে আইন করা, যেন কোনোকিছু চাপিয়ে না দেয়া
হয়। এমআরএ’কে এখন রেগুলশনের পাশাপাশি প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটিও দেখতে হবে।
সেভিংসের রিটার্ন, সার্ভিস চার্জ যেন সহজ হয় সেদিকে নজর দিন। উপকারভোগীদের জন্য যেন
সহজ হয়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তাঁর বক্তব্যে বলেন,
‘মাইক্রোক্রেডিট আজ অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের ১০ শতাংশ সমপরিমাণ সম্পদ
আছে মাইক্রোক্রেডিট সেক্টরে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকিং খাতে যে জায়গাগুলোতে দুর্বলতা
আছে, মাইক্রোক্রেডিট সে জায়গায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সদস্যদের সঞ্চয় বেড়ে ৬৮ হাজার
কোটি টাকার ওপর, পুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত বেড়ে ৬১ হাজার কোটি টাকার উপরে হয়েছে। এটা বড় অর্জন।
তারা নিজেদের সঞ্চয় ও উদ্বৃত্ত দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলছে। বিদেশি সহায়তা, অনুদান নাই
বললেই চলে। দাতা তহবিল তিন হাজার কোটি টাকার মতো। এটা খুবই নগণ্য।’
‘বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতি বাড়ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং ছড়িয়ে পড়ছে।
মাইক্রোক্রেডিটের শাখা আছে ২৬ হাজারের মতো। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
এখানে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফরমাল সেক্টরের পদচারণা
বাড়ছে, বাড়বে। মাইক্রোফাইন্যান্স ইন্সটিটিউটটে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে
হবে। মাইক্রোক্রেডিট আরও ফাংশনাল করতে রেগুলেটরি অথরিটি ও বাংলাদেশ ব্যাংক একসঙ্গে
কাজ করবে,’ বলেন তিনি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি নিয়ে নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। সরকারের
কাছে শিগগিরই নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার
বিশেষ সহকারী ড. এম আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও চাকরিপ্রাপ্তির
ক্ষেত্রে কোটা প্রয়োগের বিষয়ে তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত ৫ শতাংশ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ বিষয়ে মতামত বা সুপারিশসহ সারসংক্ষেপ উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ বিষয়ে মতামত বা সুপারিশসহ সারসংক্ষেপ উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকে উপস্থাপন করবে।
মন্তব্য করুন


নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ও দক্ষ স্বাস্থ্যসেবক অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ মাছুম হাসান অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করায় তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চিকিৎসক, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সততা, নিষ্ঠা, জ্ঞান, দক্ষতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে এই পদোন্নতি অর্জন করেছেন তিনি। চিকিৎসা সেবায় তাঁর অবদান এবং রোগীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে চিকিৎসক সমাজে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
কুমিল্লার চিকিৎসকরা মনে করেন, অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ মাছুম হাসান শুধু একজন দক্ষ চিকিৎসকই নন, তিনি হাজারো মানুষের আস্থা ও ভরসার প্রতীক। তাঁর সেবামূলক কর্মকাণ্ড, পেশাগত সততা এবং রোগীবান্ধব মনোভাব সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
চিকিৎসক সমাজের নেতৃবৃন্দ বলেন, “অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ মাছুম হাসানের এই পদোন্নতি তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও সততার যথাযথ মূল্যায়ন। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের চিকিৎসা খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং ভবিষ্যতেও তিনি মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।”
তাঁর এই অর্জনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সর্বস্তরের মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং আগামী দিনগুলোতে আরও সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন।
অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করায় অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ মাছুম হাসানকে জানাই কুমিল্লার কর্মরত সকল চিকিৎসকরা আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই।
মন্তব্য করুন


বিদ্যুৎ
সাশ্রয় কার্যক্রম জোরদার করতে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান আবারও সন্ধ্যা ৭টার
মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সব ধরনের বিলবোর্ডের আলোকসজ্জা
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া, চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা
এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
সোমবার
(১ জুন) বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের
সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো
হয়েছে।
বিদ্যুৎ
বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের
লক্ষ্যে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর
ছিল। তবে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে সেই
সময়সীমা রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
নতুন
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষ্যে দেওয়া বিশেষ সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুন
থেকে আবারও আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ফলে রাত ১০টার পরিবর্তে সব শপিংমল,
মার্কেট ও দোকানকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
আদেশে
আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতি সন্ধ্যা
৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। একই সময়সীমা দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্য
মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
মন্তব্য করুন


আর্জেন্টাইন
মহাতারকা লিওনেল মেসিকে রুখতে ঘানার তান্ত্রিক বিশেষ এক মন্ত্র বা টোটকা তৈরি করেছিলেন।
উদ্দেশ্য ছিল মেসি তথাআর্জেন্টিনাকে আটকে দেওয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! মেসিকে
হারানোর সেই মহা-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা তো দূরের কথা, নিজেদের দেশ ঘানাকেই বিদায়
নিতে হলো টুর্নামেন্ট থেকে। তান্ত্রিকের কোনো মন্ত্রই বাঁচাতে পারল না আফ্রিকান ব্ল্যাক
স্টারদের।
রাউন্ড
অব ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ঘানার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে ১-০ গোলের দারুণ জয়ে শেষ ষোলোর
টিকিট কেটেছে লাতিনআমেরিকার পরাশক্তি কলম্বিয়া।
কানসাস
সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আফ্রিকান দলটির ওপর চেপে বসে কলম্বিয়া।
একের পর এক আক্রমণেঘানার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। ম্যাচের শুরুর ধাক্কাটাই আর
সামলে উঠতে পারেনি ঘানা। মাত্র ১৪ মিনিটের মাথায় জনআরিয়াস চমৎকার এক গোল করে কলম্বিয়াকে
এগিয়ে নেন (১-০)। এই ১ গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।
বিরতির
পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ঘানা। অন্যদিকে ব্যবধান বাড়ানোর খোঁজে ছিল কলম্বিয়াও।
ম্যাচের ৫৬ মিনিটে লুইস দিয়াজঘানার জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে রেফারি তা বাতিল
করে দেন। এর ঠিক দুই মিনিট পর, ৫৮ মিনিটে দিয়াজের আরওএকটি দুর্দান্ত শট রুখে দিয়ে
ঘানাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তাদের গোলরক্ষক।
ম্যাচের
শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে বেশ কিছু আক্রমণ করেছিল ঘানা, কিন্তু কলম্বিয়ার
রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। ফলে ১-০গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।
তাতে
ঘানাকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের সেরা ষোলোতে জায়গা করে নিল কলম্বিয়া। কোয়ার্টার
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ৭জুলাই দিবাগত রাত ২টায় (৮ জুলাই রাত) ভ্যাঙ্কুভারের
বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লাতিন আমেরিকার এইদলটি।
মন্তব্য করুন


কপ ২৯ সম্মেলনের আগে ন্যায়সংগত জলবায়ু
অর্থায়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আজ রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত
‘রোড টু বাকু: কপ ২৯ - বাংলাদেশে সিএসওগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অবস্থান’ শীর্ষক
এক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন ও প্রশমন কৌশলগুলো ন্যায়সংগত হতে হবে এবং সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ
জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংকট মোকাবেলায় একশ’ বিলিয়ন ডলার
প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাড়াতে হবে। উন্নত দেশগুলোর অর্থ সাহায্য কিছু আর্থিক সমস্যার
সমাধান করলেও প্রকৃত জলবায়ুর ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার হবে না।
পরিবেশ উপদেষ্টা বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা
১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের আশাবাদ পুন:ব্যক্ত
করেন।
তিনি অভিযোজন পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ
করেন এবং তরুণদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে
তুলে ধরা এবং উচ্চাভিলাষী প্রশমন উদ্যোগ নিয়ে কথা বলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন
তিনি।
তিনি কপ ২৯ সম্মেলনের আগে বাংলাদেশে
নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
উক্ত সেমিনারে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
ড. আবদুল হামিদ, এনএসিওএমের নির্বাহী পরিচালক
ড. এস এম মুনজুরুল হান্নান খান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ
কবির বক্তব্য রাখেন। এতে বিভিন্ন সিএসও, জলবায়ু কর্মী এবং নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল কপ ২৯ সম্মেলনের
আগে বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের একটি একক অবস্থান গঠন করা।
পরে কপ ২৯ সম্মেলনে জোরালো এডভোকেসির
আহ্বান জানানো হয়, যাতে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর
কণ্ঠস্বর শোনা যায়।
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে গঙ্গা নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন প্রশিক্ষক এবং অন্যজন প্রশিক্ষণার্থী পাইলট। দুর্ঘটনাটি ঘটে গঙ্গা ব্যারেজের কাছে নাথুপুরওয়া গ্রামের এলাকায়।
পুলিশ
ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি Garg Aviation-এর পরিচালিত একটি
Tecnam P2006T দুই-ইঞ্জিনের চার আসনের প্রশিক্ষণ বিমান। এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর
VT-NBV। বিমানটি কানপুরের Garg Aviation Training Centre থেকে স্থানীয় প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে
উড্ডয়ন করেছিল। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পর সেটি গঙ্গার কাছের
একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
নিহতদের
পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন গুজরাটের বাসিন্দা ও প্রশিক্ষক শচীন ভাটিয়া এবং
কর্ণাটকের প্রশিক্ষণার্থী পাইলট অভিষেক পূজারি। পুলিশ জানিয়েছে, শচীন ভাটিয়ার প্রায়
৩ হাজার ঘণ্টার উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছিল। দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে এই দুজন ছাড়া আর কেউ
ছিলেন না।
দুর্ঘটনার
খবর পাওয়ার পর পুলিশ, দমকল ও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাস্থলটি
নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে ধ্বংসাবশেষ ঘিরে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,
বিমানটি একটি মাঠে পড়ে যায় এবং আশপাশের জনবসতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী
ও ঘটনাস্থলের ছবি-ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর বিমানটির কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। ডানা ও বিমানের বিভিন্ন অংশ ভেঙে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ
সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল
বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া, পাইলটের সিদ্ধান্ত কিংবা
অন্য কোনো কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানো হয়েছিল কি না, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।
ভারতের
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ DGCA ঘটনাটি তদন্তের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে। একই সঙ্গে
সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা Aircraft Accident
Investigation Bureau (AAIB)-ও আনুষ্ঠানিক তদন্ত করবে। ফলে দুর্ঘটনার আগে বিমানের উড্ডয়ন
পরিস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য কারিগরি ত্রুটিসহ বিভিন্ন
বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
বিমানটি
Garg Aviation-এর প্রশিক্ষণ বহরের অংশ। DGCA-সংক্রান্ত নথিতে Garg Aviation-এর বহরে
Tecnam P2006T-এর পাশাপাশি Cessna 152, Cessna 172 ও অন্যান্য বিমান থাকার তথ্য পাওয়া
যায়। কোম্পানির নিজস্ব তথ্যেও তাদের বহরে একটি Tecnam P2006T থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনাটির
আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, একই VT-NBV বিমানটি চলতি বছরের জুনে কানপুরের চকেরি বিমানবন্দরে
একটি পৃথক ঘটনায় DGCA-এর নজরে এসেছিল। ২৬ জুন রাতে প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের পর বিমান থেকে
নামার সময় একজন নারী ক্যাডেট আহত হন। DGCA তখন ওই ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট
প্রশিক্ষককে ডিউটি থেকে সরিয়ে এবং বিমানটি গ্রাউন্ডেড করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে জুনের
ঘটনাটির সঙ্গে বৃহস্পতিবারের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে-এমন তথ্য
এখনো পাওয়া যায়নি।
Tecnam
P2006T একটি ইতালীয় নির্মিত হালকা দুই-ইঞ্জিনের বিমান, যা সাধারণ বিমান চলাচলের পাশাপাশি
পাইলট প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে মাল্টি-ইঞ্জিন উড্ডয়ন
শেখানোর কাজে এ ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়।
কানপুরের
পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে
জানানো হয়েছে এবং তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। তদন্তের মাধ্যমে বিমানটি কেন
নিয়ন্ত্রণ হারাল এবং দুর্ঘটনার আগে কোনো অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ
করা হবে।
এটি
কানপুরে Garg Aviation-এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয় বড় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত
ঘটনা। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা বলার মতো কোনো প্রমাণ এখনো
প্রকাশিত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে
পৌঁছানো ঠিক হবে না।
মন্তব্য করুন