

তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো.মান্নান ভূইয়াকে (৫৮) অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। গত (২৮ নভেম্বর ) শুক্রবার রাত্রে সাহাপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিতাস থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তি ওই ওয়ার্ডের মৃত মোহাম্মদ আলী ভূইয়ার ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এস আই) মাহমুদুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও তিতাস থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বাসার বহিঃ বাথরুমের ছাদ থেকে বস্তাবন্দি দেশীয় তৈরী পাইপ গান সদৃশ্য ১টি,সিসা কার্তুজ ৫টি, দুটি রামদা, ১টি পুরাতন চাপাতি ও ১টি লম্বা ছোড়া এবং ঘর থেকে দুই লাখ তেষট্টি হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ঐ ব্যাক্তির স্ত্রী হাজেরা খাতুন জানায়,আমাদের গ্রামের আওয়ামী লীগের লোকদের সাথে মামলা মোকদ্দমা চলে আসছে, তারই জেরে পরিকল্পিতভাবে আমার বাসার বাহিরে বাথরুমের ছাদে এইগুলো দিয়ে আমার স্বামীকে গ্রেফতার করিয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট আমি ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছি।এ ঘটনায় তিতাস থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং মান্নান ভূইয়াকে আজ শনিবার(২৯ অক্টবর ) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বাগমারা বাজার এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। চাঁপাই নবাবগঞ্জের রাজশাহী থেকে নোয়াখালীগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে ধাক্কা দেয়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এতে বাসটি এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা নেয়।
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৫ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতরের (ফিতরা) হার নির্ধারণ করা হয়।
রমজানে এ বছর বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর (২০২৩) সর্বোচ্চ ফিতরা ২ হাজার ৬৪০ টাকা, তবে সর্বনিম্ন ফিতরা ১১৫ টাকাই ছিল।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের ফিতরার হার জানান।
সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামী শরীয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের যে কোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন। এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়। গম ও আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’)। খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের (এক সা’) মাধ্যমে সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়।
হাফেজ মুফতি মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন জানান, উন্নতমানের আটা বা গমের ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) বা এর বাজার মূল্য ১১৫ টাকা। যবের ক্ষেত্রে (এক সা’) ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৪০০ টাকা ফিতরা দিতে হবে।
এছাড়া ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য দুই হাজার ১৪৫ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য দুই হাজার ৪৭৫ টাকা ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৯৭০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি।
ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে বলেও জানান মাওলানা রুহুল আমিন।
নেছাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ) মালের মালিক হলে মুসলমান নারী পুরুষের ওপর ঈদের দিন সকালে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ বা ১১ এপ্রিল মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা মুক্তি পেতে পারে না
বলে মনে করে বিএনপি। আজ বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজার
আগে দলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।
বিএনপির স্থায়ী
কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী নজরুল ইসলাম খান লিখিত বক্তব্য
পাঠ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা
উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম
খান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ২০১৮
সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় অন্ধকার কারাগারে আবদ্ধ থাকার সময়
উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়া দারুণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশবাসী সাক্ষী হলো,
পায়ে হেঁটে যিনি কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন; নির্জন কারাগার থেকে তিনি বের হলেন চরম
অসুস্থতা নিয়ে।’
‘দেশ-বিদেশের
চিকিৎসকদের মতে, পরবর্তী সময়ে গৃহবন্দিত্বের চার বছর বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার
কারণেই তার অসুস্থতা বৃদ্ধি পায় এবং তার ফলশ্রুতিতে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানতেই
হলো এই অপরাজেয় নেত্রীর। তাই এই মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা কখনও মুক্তি
পেতে পারে না’- বলেন নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল ইসলাম
উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের মাতা ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায়
মারা যান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রের
ফার্স্ট লেডি মিসেস মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান (২৪–২৫ মার্চ ২০২৬) “Fostering the
Future Together: Global Coalition Summit”-এ অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন, ডি.সি.-তে
দুই দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন। এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চল্লিশের অধিক ফার্স্ট
লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ
ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ
করছে।
মঙ্গলবার
(২৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের কার্যক্রম
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন এবং উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে
ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের প্রতি যত্ন নেওয়া ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের
জনগণের উন্নয়নের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের
পরিবর্তন ও সমৃদ্ধি আনয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল
ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
ডা.
জুবাইদা রহমানের সহকারী হিসেবে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিনিয়র
চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং নারী উদ্যোক্তা মিস মেহনাজ মান্নান
অংশগ্রহণ করেন। এসময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল
ইসলাম, ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি
প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি
ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাঁর প্রতিনিধিদল প্রদর্শনীটি পরিদর্শন
করেন। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আয়োজনে
অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করবেন।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান
শিশুদের উন্নয়ন বিষয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি জাতির
ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যত্ন, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি
বলেন, আজ এই ঐতিহাসিক “Fostering the Future Together: Global Coalition Summit” শীর্ষ
সম্মেলনে আপনাদের সাথে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি ফার্স্ট
লেডিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারা বিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ
উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে—আমাদের
শিশুদের প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনা। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের
জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা যে যত্ন প্রদান করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ
গড়ে তুলি, তা-ই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।
ডা.
জুবাইদ রহমান বলেন, আমি আমার দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার
স্বামী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আমাদের সদ্য নির্বাচিত গণতান্ত্রিক
সরকার বিপুল ম্যানডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি
গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’
এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে
আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশে
বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করে। একজন চিকিৎসক হিসেবে, আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যেখানে শুধু চিকিৎসার উপরই নয়,
জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিরোধের উপরও জোর দেওয়া হয়।
অন্তর্ভূক্তি
ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ’
এবং ‘সুরভী‘র সামাজিক এবং অলাভজনক সংগঠন) সাথে আমার কাজ শিক্ষা, যুব
উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রসারে আমার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি
যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে,
বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপকরণের সহজলভ্যতা এখনও
অধরা। আমাদের সরকার ডিজিটাল যুগে উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয়
সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। আমাদের সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করছে,
শিক্ষণ উপকরণ হালনাগাদ করছে, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে। শ্রেণিকক্ষগুলো
মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিকশিত হচ্ছে, যা দলবদ্ধ কাজ, সৃজনশীলতা
এবং আদর্শ স্থাপনে উৎসাহিত করছে।
ডা.
জুবাইদা রহমান বলেন, প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি (এডটেক), শহুরে ও গ্রামীণ
জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। একইসাথে, আমরা এই সরঞ্জামগুলোর
নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক
পরিবেশে বেড়ে ওঠে।
সাবেক
প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী
ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম
খালেদা জিয়া নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের
জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নারীদের
জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি
আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারি খাতের ভিত্তি স্থাপন করে লক্ষ লক্ষ
নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে যে, যখন
নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবারগুলো শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে। আমরা
অংশীদারিত্বের গুরুত্বও স্বীকার করি। বেসরকারি খাত এবং আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে
কাজ করার মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে,
অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সকলের জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই। শক্তিশালী প্রযুক্তিগত
সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করতে, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করতে
এবং প্রতিটি শিক্ষণ যাত্রাকে ব্যক্তিগতকৃত করতে চাই। একসাথে, আমরা এমন একটি প্রজন্ম
গড়ে তুলতে পারি যা হবে সহনশীল, সহানুভূতিশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত। পরিশেষে,
আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মহোদয়ার প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
করছি। জ্ঞান বিনিময়, একে অপরের কাছ থেকে শেখা এবং সীমানা পেরিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে,
আমরা কেবল আমাদের দেশগুলোকেই শক্তিশালী করি না, বরং আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী
করি এবং বিশ্ব এর উত্তরাধিকারী হবে। শেষে আবারও মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান
ডা. জুবাইদা রহমান।
মন্তব্য করুন


কুয়েতে
অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ বিধ্বস্ত হয়েছে। যদিও ইরান দাবি করেছে, তারা
এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কিছুই জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।
সোমবার
(২ মার্চ) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানে থাকা পাইলটরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে,
এ ঘটনার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো
বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
সংবাদমাধ্যম
মিডল ইস্ট আই-এর সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাইলটরা আমেরিকান বা ইসরায়েলি হতে পারেন। তবে
ক্রু বা পাইলটদের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আল
জাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত বিমানটি থেকে একজন পুরুষ এবং একজন নারী—
এই দুই পাইলট ইজেক্ট করেছেন।
কুয়েতের
আল জাহরার কাছে হাইওয়ে-৭০-এ ধারণকৃত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন পাইলট প্যারাসুট
দিয়ে নিচে নেমে আসছেন।
আল
জাজিরা লাইভ আপডেটে জানানো হয়, কুয়েত সিটি থেকে ৩২ কিলোমিটার (১৯ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত
আল-জাহরা শহরে ঘন ধোঁয়া উড়ছে। একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর এই ধোঁয়ার কুণ্ডলী
তৈরি হয়। অসমর্থিত সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিধ্বস্ত বিমানটি একটি মার্কিন এফ-১৫
যুদ্ধবিমান।
অপরদিকে
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান দাবি করেছে যে, তারা একটি এফ-১৫
যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিমান বাহিনীর
প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অসীম জাওয়াদ নামে এক পাইলট নিহত। এ ঘটনায় হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহত কো-পাইলট।
আজ (৯ মে) দুপুর সাড় ১২টার দিকে পতেঙ্গার
বানৌজা ঈসা খাঁ হাসপাতালে (নেভি হাসপাতাল) পাইলট জাওয়াদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের
উপকমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা।
শাকিলা সোলতানা বলেন, বিমান বাহিনীর
বিধ্বস্ত প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট প্যারাসুট দিয়ে নেমে এলে তাদেরকে আহত
অবস্থায় উদ্ধার করে বানৌজা ঈসা খাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর ১টার দিকে তাদের
মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অসীম জাওয়াদ নামে একজনের মৃত্যু হয়। অন্যজনের চিকিৎসা চলছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক
গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাসলীম আহমেদ জানিয়েছেন, অবতরণের সময় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান
ওয়াইএকে১৩০ এয়ারফোর্স ট্রেনিং ফাইটার বিধ্বস্ত হয়েছে।
মন্তব্য করুন


খুলনায়
আদালত চত্বরে দুর্বৃত্তের গুলিতে দুই জন নিহত হয়েছেন।
আজ
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, আসামিরা হাজিরা দিয়ে মোটরসাইকেলে বের হওয়ার মুহূর্তে দায়রা জজ আদালতের সামনে
তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা
মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম বলেন, আদালতের সামনে দুইজনকে গুলি করা
হয়েছে—সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে
রেখেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন


গত
২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও উপসর্গে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে হাম সন্দেহে ১০
জন এবং নিশ্চিত হামে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৩৬ জন।
আর
১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয় হাজার ৮৮৩ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত
হাম রোগীর সংখ্যা ২২৪ জন। ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা এক
হাজার ৩৯৮ জন।
১৫
মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ছয় হাজার ৮৮৩
জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছে চার হাজার ৬৩৫ জন।
মৃত্যুর
হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। জেলা
হিসাবেও ঢাকাতেই সর্বোচ্চ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত
হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।
এ
ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত
এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের দায়িত্বশীল বৈশ্বিক
ভূমিকাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এতে গণতান্ত্রিক শাসন, মানবিক সংহতি ও গঠনমূলক আন্তর্জাতিক
সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি নতুনভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আজ শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে
পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি প্রধান উপদেষ্টার ইউএনজিএ সফরের সাফল্যগুলো তুলে ধরেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, অধ্যাপক ড. ইউনূস গত
সপ্তাহে নিউইয়র্কে ইউএনজিএ-র উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব
দেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে বক্তব্য রাখেন, বিশ্বনেতাদের
সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং গণতন্ত্র, মানবিক নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা
নিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। ইউএনজিএ-র ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে
গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার প্রতি অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
করেন। তিনি স্বাধীন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে বৈশ্বিক
মহলকে আশ্বস্ত করেন যে বাংলাদেশ জনগণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের লালিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
রক্ষায় প্রস্তুত।
শফিকুল আলম আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফরে
তিন রাজনৈতিক দলের ৬ প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এটাই প্রথমবার এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ
প্রতিনিধিদল একসঙ্গে সফরে যোগ দিল। তারা কূটনীতিক, প্রবাসী নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের
সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব যোগাযোগ বিশ্বের কাছে শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে গোটা
বাংলাদেশই গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একসঙ্গে এগোচ্ছে।’
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কৌশলগত বৈঠক
প্রসঙ্গে আলম বলেন, অধ্যাপক ড. ইউনূস উচ্চপর্যায়ের একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, যা
বাংলাদেশের বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার ও যৌথ অগ্রাধিকারের প্রসারে ভূমিকা রাখে।
তিনি জানান, ইতালি, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান,
অস্ট্রেলিয়া, আলবেনিয়া, কসোভো ও ভুটানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে গণতান্ত্রিক শাসন, বাণিজ্য,
জলবায়ু সহনশীলতা ও মানব উন্নয়নের বিষয় গুরুত্ব পায়।
আলম আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও
গুতেরেস, ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি, ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল,
জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা,
নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা এবং আইএমএফ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার
সঙ্গে বৈঠক করেন।
এছাড়া অধ্যাপক ড. ইউনূস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নিয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। যুক্তরাষ্ট্রের
বিশেষ দূতের সঙ্গেও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়, যেখানে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক
কূটনীতিতে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ভূমিকা উঠে আসে।
রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আলম বলেন,
প্রধান উপদেষ্টার সফরের মূল বিষয় ছিল রোহিঙ্গা ইস্যু। সেখানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া
এক মিলিয়নের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া
যায়। জাতিসংঘ সংস্থা ও দাতা দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নিরাপদ, স্বেচ্ছায়
ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংকট যেন বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে
হারিয়ে না যায় সে আহ্বান জানান। প্রেস সচিব জানান, এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
থেকে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি আনতে সক্ষম হন।
শফিকুল আলম বলেন, জবাবদিহি ও উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি
তুলে ধরতে অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘকে অনুরোধ জানান বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি)
থেকে উত্তরণের অগ্রগতির একটি স্বাধীন মূল্যায়ন পরিচালনা করতে। এ অনুরোধ ঢাকার অর্থনৈতিক
যাত্রাপথে আস্থা ও গঠনমূলক আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের প্রতি উন্মুক্ততা প্রকাশ করে।
প্রেস সচিব জানান, ইউএনজিএ সফরে বিদেশে কর্মসংস্থান
ও শ্রমশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগও উন্মোচিত হয়। কসোভো, আলবেনিয়া ও ইউরোপের আরও কয়েকটি
দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার সম্প্রসারণের
বিষয়ে সম্ভাবনা খোঁজা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব সুযোগ প্রবাসী আয় বাড়াতে ও নতুন অংশীদার
দেশের সঙ্গে জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির
(এনসিপি) মনোনয়ন প্রক্রিয়া বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়ন জমা
দেওয়ার কারণে দলটির নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপ্রত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন
(ইসি)। একইসঙ্গে, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়ন নিয়েও তৈরি হয়েছে তীব্র
আইনি জটিলতা।
নির্বাচন
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়
ছিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে
১৯ মিনিট পর অর্থাৎ বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী
সময়ের পরে জমা হওয়ায় কমিশন তার আবেদনটি সরাসরি বাতিল করেছে।
অন্যদিকে,
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়ন জমা পড়লেও তা বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তার প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংক্রান্ত অযোগ্যতার প্রশ্ন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১)(চ) ধারা অনুযায়ী, সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের
চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর নেওয়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ সংসদ সদস্য হওয়ার
যোগ্য বলে বিবেচিত হন না। তথ্যমতে, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ
কৃষি ব্যাংকের অফিসার হিসেবে যোগ দিয়ে গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। অর্থাৎ, চাকরি ছাড়ার
পর তার মাত্র চার মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, যা আরপিওর শর্ত অনুযায়ী অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত
হতে পারে।
আরপিও
বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে স্থগিত মনিরা শারমিনের প্রার্থিতাআরপিও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে
স্থগিত মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা
উল্লেখ্য
যে, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে ১১-দলীয় জোটের মোট ১৩টি মনোনয়নের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে
প্রাথমিকভাবে ১২টি গৃহীত হয়েছে। মনিরা শারমিনের নথিপত্রে ঘাটতি থাকায় এবং আইনি জটিলতা
নিরসনে নির্বাচন কমিশন তাকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র
দাখিলের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি যদি আরপিও সংক্রান্ত জটিলতা বা
তার যোগ্যতার স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারেন, তবে সংরক্ষিত নারী আসনের
এই নির্বাচনে এনসিপির প্রতিনিধিত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সংকটে পড়তে পারে দলটি।
মন্তব্য করুন