

চলমান
বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৫ জন। বন্যা শুরুর
পর সাপে কাটার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
রবিবার
(১২ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে
আজ পর্যন্ত সাপের কামড়ে আহত হয়ে ৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বোয়ালখালী
উপজেলায় ২০, রাঙ্গুনিয়ায় তিন জন, হাটহাজারীতে আট জন, সাতকানিয়ায় ছয় জন, চন্দনাইশে তিন
জন, লোহাগাড়ায় দুজন, পটিয়ায় ১৮ জন, রাউজানে নয় জন, বাঁশখালীতে ১২ জন, আনোয়ারায় পাঁচ
ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় তিন জন সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন।
হাটহাজারী
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে
জানিয়েছেন, রবিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আট জন সাপে কাটা রোগী হাটহাজারী
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সাত জন লাউডগা সাপের কামড়ে আক্রান্ত
হয়েছেন। চিকিৎসা দেওয়ার পর সবাই এখন সুস্থ আছেন। এর মধ্যে একজন নিজে থেকে চট্টগ্রাম
মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চলে গেছেন। খবর নিয়ে জেনেছি তিনিও সুস্থ আছেন। হাসপাতালে
সাপে কাটা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) মজুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত
কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি
আরও বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সাপগুলোর বাসা ভেঙে গেছে। এজন্য ঘরবাড়ি ও উঁচু জায়গায় আশ্রয়
নিচ্ছে। এ সময় চলাচলে সতর্ক থাকতে হবে। সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে
আসতে হবে। ওঁঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় মশারি
টাঙাতে হবে। এ ছাড়া ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং অন্ধকারে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার
করতে হবে।’
এ
ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্যার
পানির কারণে সাপগুলো গর্ত থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বন্যা শুরুর পর থেকে সাপে কাটা
রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তিনি
বলেন, ‘সাপে কাটা রোগীদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ
যে কোনও সরকারি হাসপাতালে গেলে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যাবে। চট্টগ্রামে ৮৫ জন সাপে কাটা
রোগীর মধ্যে সবাই সুস্থ আছেন। আমাদের কাছে এক হাজার রোগী অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।
শিগগিরই ঢাকা থেকে আরও আসবে।’
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’এর উদ্বোধনী খামে স্বাক্ষর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনায় এই স্বাক্ষর করেন তিনি। এ সময় যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে তারুণ্যের উৎসবের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচি আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত চলমান থাকবে।
তারুণ্যের উৎসব বিপিএল ২০২৫-এর সহযোগিতায় বিভিন্ন কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসারে কাজ করবে। এর মধ্যে থাকবে তরুণদের জন্য স্থানীয় ক্রীড়া টুর্নামেন্ট এবং কমিউনিটি ক্রিকেট ক্লিনিক, যা তাদের অংশগ্রহণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিভিন্ন ফ্যান জোনে ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল থাকবে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক রান্নার পরিচিতি ও স্থানীয় ব্যবসার প্রচার করা হবে, যা দেশীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে। তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসারে কাজ করবে। এর মধ্যে থাকবে তরুণদের জন্য স্থানীয় ক্রীড়া টুর্নামেন্ট কমিউনিটি ক্রিকেট ক্লিনিক, যা তাদের অংশগ্রহণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ফ্যান জোনগুলোতে দেশি শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতা প্রদর্শনের জন্য শিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এটি অনেক শিল্পীকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেবে এবং একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক শিল্পের উদযাপন হবে।
মন্তব্য করুন


সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে উপসচিব মোসামৎ রহিমা আক্তার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বদলি নীতিমালা না থাকায় এবং বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিপত্র ও অফিস আদেশ যুগোপযোগী করার উদ্দেশে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো।
নীতিমালার আওতা বিষয়ে বলা হয়েছে, শিক্ষার মাধ্যমিক স্তরের সরকারি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। সরকার জনস্বার্থে যেকোনো সময় যেকোনো শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন করতে পারবে।
তবে বদলির সময়কাল প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি শিক্ষাবর্ষে শুধুমাত্র অক্টোবর মাসে আগ্রহী শিক্ষকদের বদলির আবেদন করতে পারবেন। এ সময়সীমা ছাড়া অন্য কোনো সময়ে বদলির জন্য আবেদন করা যাবে না। তবে অনিবার্য পরিস্থিতিতে শুধু সিনিয়র সচিব বা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বরাবর আবেদন করা যাবে।
আবেদনের শর্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, বর্তমান কর্মস্থলে চাকরির সময়সীমা তিনবছর পূর্ণ হতে হবে এবং বদলির উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে। শিক্ষকদের বদলি হবে শুধুমাত্র অনলাইনে। বছরের আর অক্টোবর মাসে এ বদলি আবেদন নেওয়া হবে।
এছাড়া নতুন নীতিমালায় আরো জানানো হয়, সমতলের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে পার্বত্য অঞ্চল (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) এবং দূর্গম, চর ও হাওড় অঞ্চলে বদলি করা হলে বদলিকৃত কর্মস্থলে এক বছর চাকরির পর তিনি পুনরায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তার আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এতে বলা হয়, মহানগরী ও জেলা সদরে কর্মরত কোনো শিক্ষকের কর্মকাল একই প্রতিষ্ঠানে একাধারে ৬ বছরের বেশি হলে তাকে নিজ জেলায় অথবা পাশের জেলায় বদলি করা হবে। তবে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি বা অন্যকোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাকে বদলি করতে পারবে। বদলির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজ জেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় পদায়নে গুরুত্ব দেওয়া, সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদের বিপরীতে অন্য বিষয়ে শিক্ষক বদলি বা সহ পদায়ন করা হবে না।
এতে আরো বলা হয়েছে, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদের বিপরীতে অন্য বিষয়ের শিক্ষক বদলি বা পদায়ন করা যাবে না।
তবে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাওয়ার একবছর আগে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী অবসরভাতা গ্রহণের সুবিধার্থে কোনো সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলির আবেদন করলে তার আবেদন সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।
মন্তব্য করুন


ফুটবল
ইতিহাসের সেই চিরপরিচিত দৃশ্য, আরও একবার জাদুকরী ফ্রি-কিকে লিওনেল মেসির ট্রেডমার্ক
গোল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বমঞ্চে আজ জর্ডানের বিপক্ষে
মাঠে নেমে স্রেফ ইতিহাস ওলটপালট করে দিলেন লিওনেল মেসি।
রোববার
(২৮ জুন) ম্যাচের ৬০তম মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজকে তুলে নিয়ে ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকাকে
যখন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মাঠে নামান। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই
মাহেন্দ্রক্ষণ ধরা দিল। এক দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে জর্ডানের জাল কাঁপিয়ে আর্জেন্টিনাকে
৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসের অমরত্বের পাতায় সম্পূর্ণ এককভাবে
নিজের নাম লিখিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৭টি
ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য ও অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এলএমটেন।
এই
গোলের আগে বিশ্বকাপের টানা ৬ ম্যাচে গোল করার কীর্তি নিয়ে ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট
ফন্টেইন (১৯৫৮) এবং ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষাসনে বসা ছিলেন
মেসি। জর্ডানের প্রাচীর ভেঙে সেই সাত দশকের পুরনো রেকর্ডকে একাই নিজের করে নিলেন এই
আর্জেন্টাইন জাদুকর।
এর
আগে, ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর দলের রণকৌশলে বড় ট্রিপল পরিবর্তন এনেছিলেন স্কালোনি।
গোলদাতা জিওভানি লো সেলসো এবং তরুণ নিকো পাজকে তুলে নিয়ে মাঝমাঠ ও আক্রমণের ধার বাড়াতে
থিয়াগো আলমাদা ও আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকে মাঠে নামানো হয়। তবে সব আলো কেড়ে নিলেন
বেঞ্চ থেকে উঠে আসা অধিনায়ক মেসি। জর্ডানের বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পেতেই পুরো মেটলাইফ
স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে, আর পরের মুহূর্তেই মেসির চেনা জাদুতে বল যখন জালের
ঠিকানা খুঁজে নেয়, তখন রেকর্ড বুক নতুন করে লেখার আনন্দে মেতে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা।
মন্তব্য করুন


জামালপুরের
বকশীগঞ্জে বৈদ্যুতিক পাখার মাধ্যমে ধান উড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রূপন মিয়া (৪৫)
নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার
(১৬ জুন) দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের সূর্যনগর পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রূপন মিয়া ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, নিজ বাড়িতে ধানের চিটা পরিষ্কার করতে বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করে
ধান উড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তারে হাত লাগলে
তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত
চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মকবুল
হোসেন জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান
রয়েছে।
মন্তব্য করুন


চিকিৎসা
নিতে গিয়ে ভারতে মৃত্যুবরণ করা অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ
ভারত থেকে দেশে আনার দায়িত্ব নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বেসরকারি বিমান সংস্থাটি
বিনা খরচে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
কারিনা
কায়সারের পারিবারিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তার পরিবার জানায়, গতকাল অন্য একটি
এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে মরদেহ আনার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স
বিনা খরচে মরদেহ বহনের দায়িত্ব নেয়। ফ্লাইটটি রোববার বিকেলে চেন্নাই থেকে কারিনার মরদেহ
ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দেশে
আনার পর প্রথমে মরদেহ নেওয়া হবে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসের বাসায়। পরে বনানী ডিওএইচএস
মসজিদে জানাজা হবে।
কারিনার
বাবা কায়সার হামিদ জানান, সোমবার মরদেহ নেওয়া হবে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় তার নানার
বাড়িতে। সেখানেই দাফন করা হবে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে।
লিভারজনিত
জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে কারিনাকে ভারতের
চেন্নাই নেওয়া হয়। ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা
চলছিল। শুক্রবার গভীর রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তার।
কারিনার
বাবা কায়সার হামিদ জানান, হঠাৎ করেই তার রক্তচাপ কমে যায় এবং চিকিৎসকদের সব চেষ্টা
সত্ত্বেও তা আর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
এর
আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে এক সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন কারিনা। অবস্থার
অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়া হয়।
চেন্নাই
থেকে কারিনার মা লোপা কায়সার জানিয়েছিলেন, লিভার প্রতিস্থাপন বা বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের
ধকল নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় ছিলেন না কারিনা।
চিকিৎসকদের
বরাতে তিনি বলেন, কারিনার ফুসফুসে তরল ও কফ জমে সংক্রমণ তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকেরা তাকে
স্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
‘এ’ লেভেল শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার
আগে-এর ইংরেজি বিভাগে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেছিলেন কারিনা। দেশে ফিরে তিনি কনটেন্ট
ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পান। পরে অভিনয় ও চিত্রনাট্য রচনাতেও যুক্ত হন। তার উল্লেখযোগ্য
কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
মন্তব্য করুন


মহান
স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রচিত ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর
রহমান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান।
বৃহস্পতিবার
(২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত
এক অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির তিন খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।
বিশিষ্ট
গবেষক ও লেখক কালাম ফয়েজী রচিত এই গ্রন্থে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র
পরিচালনা, দূরদর্শী নেতৃত্ব, উন্নয়ন ভাবনা এবং জাতীয় জীবনে তার বহুমাত্রিক অবদান বিশদভাবে
তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত
ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা।
আজ
রোববার (১৭ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে
এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর
প্রেস উইং এ কথা জানায়।
বৈঠকে
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর
তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা.জাহেদ উর রহমান, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নুরুল
কবির, সাধারণ সম্পাদক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক
ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর
রহমান, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক
এএমএম বাহাউদ্দিন, সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ এবং দৈনিক করতোয়া সম্পাদক
মো. মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।
এ
সময়, প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর
প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ভারতের
মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় বিষাক্ত মদপানের ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায়
অসুস্থ হয়ে আরও ১০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার
পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। একই সঙ্গে
ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গ্রামে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ
হিসেবে এলাকার ছয়টি মদের দোকানও সিলগালা করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের
বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহতদের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন
এখনো হাতে আসেনি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর
প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, মিথাইল অ্যালকোহলের
বিষক্রিয়ায় এ ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনায়
উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তিনি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের
নির্দেশ দিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী
বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং
এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
ইতোমধ্যে
প্রশাসন ও চিকিৎসকদের একাধিক দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। চিকিৎসকদের
মতে, অসুস্থদের শরীরে সায়ানোসিস বা ত্বক নীল হয়ে যাওয়া, মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি,
তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি
মোকাবিলায় সাগর জেলার নৌরা, ঘুগরুসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য
পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাগরের মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেবেশ পাতেরিয়া জানান,
চিকিৎসক ও নার্সদের একাধিক দল আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছে। রোগীদের মধ্যে যে উপসর্গ
দেখা যাচ্ছে, তা মিথাইল অ্যালকোহল বিষক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন
না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তিনি
আরও জানান, গুরুতর অসুস্থদের প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে স্থিতিশীল করার পর উন্নত চিকিৎসার
জন্য অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা
করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মদ পান করেছেন এমন ব্যক্তি
এবং অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা দিয়েছে এমন সবাইকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অবৈধ ও ভেজাল মদ বিক্রি ঠেকাতে স্থানীয় আবগারি বিভাগের ভূমিকা
নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছুদিন আগে এক লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ী
‘বোম্বে হুইস্কি’ নামে একটি কৃত্রিম ও ভেজাল মদ বিক্রির
বিষয়ে আবগারি বিভাগকে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এমনকি ঘটনার মাত্র চার দিন আগে লাইসেন্সধারী
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবগারি কর্মকর্তাদের বৈঠকেও অবৈধ মদ বিক্রির বিষয়টি উঠে আসে। এরপরও
কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ
ও প্রশাসন অবৈধ মদের উৎস, সরবরাহকারী এবং পুরো সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করতে ব্যাপক অভিযান
শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন


পূর্বানুমতি
ছাড়া চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে গ্রেপ্তার না করার সুপারিশ করেছে
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন।
সুপারিশে
বলা হয়েছে, বিএমডিসি,বিএনএমসি, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল, আ্যালাইড হেলথ প্রোফেশনাল
কাউন্সিল ইত্যাদির পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা
প্রদানকারীকে গ্রেফতার করা যাবে না। শুধু অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা
গ্রহণযোগ্য হবে, তবে তা অভিযোগ দাখিলের নব্বই দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
সোমবার
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন পেশ করেন স্বাস্থ্যখাত
সংস্কার কমিশন কমিশনের সদস্যরা। প্রতিবেদনের ১১নম্বর সুপারিশে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি
তুলে ধরা হয়।
চিকিৎসা
সেবা প্রদানকারীদের নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষার বিষয়ে বলা হয়েছে, সেবা গ্রহীতার অভিযোগ
নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ডিজিটাল অভিযোগ নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে
হবে।বিএমডিসি,বিএনএমসি, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল, আ্যালাইড হেলথ পোফেশনাল কাউন্সিল
ইত্যাদির আইনগত ক্ষমতা ও কাঠামোকে আরও কার্যকর করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট
ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য মেডিকেল প্রফেশনাল ইন্স্যুরেন্স চালু
করতে হবে, যাতে কর্মজীবনে আইনি ঝুঁকি বা অপ্রীতিকর ঘটনার ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক ও সামাজিক
সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
জরুরি
পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের
অধীনে একটি নির্দিষ্ট ইউনিট থাকবে যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সংরক্ষিত কিছু পুলিশ থাকবেন
(যাদের মেডিকেল পুলিশ বলা যেতে পারে) যারা জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা, হুমকি ও সহিংসতা
প্রতিরোধে এই ইউনিট কাজ করবে।
সরকার
২০২৪ সালের নভেম্বরে ১২ সদস্যের স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন গঠন করে। কমিশনের প্রধান
হিসেবে রয়েছেন ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ
খান।
কমিশনের
সদস্য হিসেবে আরও রয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) জনস্বাস্থ্য ও
হেলথ ইনফরমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক মো. মুহাম্মদ জাকির হোসেন, পথিকৃৎ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান
অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার, শিশু নিউরো
বিজ্ঞান বিভাগের নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নাইলা জামান খান, সাবেক সচিব এম এম রেজা,
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মুজাহেরুল হক, আইসিডিডিআরবি’র ডা. আজহারুল ইসলাম, স্কয়ার
হাসপাতালের স্কয়ার ক্যান্সার সেন্টারের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, গ্রিন লাইফ
সেন্টার ফর রিউম্যাটিক কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের প্রধান পরামর্শক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল
হক, আইসিডিডিআরবি’র
বিজ্ঞানী ডা. আহমেদ আহসানুর রহমান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ওমায়ের আফিফ।
মন্তব্য করুন