

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা সদর এলাকায় মুরাদনগর মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সার্ভিসেস নামে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন সুলতানা নিপা অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. জয়ন্ত, মুরাদনগর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহাদাত হোসেন ও মুরাদনগর থানা পুলিশের একটি টিম।
এ নিয়ে জানা গেছে, মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সার্ভিসেস নামের প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন (লাইসেন্স) বিহীন। এখানে চিকিৎসা সেবা ও রোগ নির্ণয়ের মতো বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই। বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার নামে নেওয়া হতো অতিরিক্ত টাকা। কেবল তাই নয়, দক্ষ টেকনিশিয়ানও নেই প্রতিষ্ঠানটিতে।এছাড়া ব্যবহার করা হতো মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট।
সোমবার বিকেলে ভ্রাম্যমান আদালতের টিম ওই ডায়গনস্টিক সেন্টারে অভিযানে গিয়ে ওইসব অনিয়ম দেখতে পায়। নিবন্ধন না নিয়ে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও গেলে করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন সুলতানা নিপা বলেন, উপজেলায় লাইসেন্স বিহীন প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও র্যাব-১ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে নাশকতার অভিযোগে নয়জন আটক করা হয়েছে। তবে রেলের ঠিক কোন কোন ঘটনায় তারা জড়িত সে সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানায়নি র্যাব।
বিমানবন্দর রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ বলেন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
সম্প্রতি নেত্রকোনা থেকে তেজগাঁও রেলস্টেশনে আগত একটি ট্রেনের বগিতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় একজন মা-শিশুসহ ৪ জন নিহত হোন। তারই ধারাবাহিকতায় র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সহযোগিতায় সন্ধ্যা থেকে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করা হয়েছে।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, আটকরা সামান্য কিছু উৎকোচের বিনিময়ে চলমান হরতাল অবরোধকে কেন্দ্র রেললাইন ও ট্রেনে নাশকতা করতো। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি- এরা কোন কুচক্রী মহলের হয়ে স্বল্প টাকার বিনিময়ে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে থাকে। তারা বিভিন্ন জায়গাতে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করবো। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক আরো বলেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে আমরা রেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাবো। যতক্ষণ পর্যন্ত ট্রেনের যাত্রীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত অনুভব না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভবিষ্যৎতে ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা আছে কি না এবং বাড়তি কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মোসতাক আহমদ বলেন, প্রথমে বাস-ট্রাকের ওপরে অগ্নি-সন্ত্রাস ছিল। কিন্তু অতি সম্প্রতি সময়ে তা রেলের ওপরেও এসেছে। যার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।নাশকতাকারীরা এ ধরনের কাজ করে কখনো রেহাই পাবে না। বিভিন্ন রেলস্টেশনে আমাদের সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন রয়েছে। ট্রেন আসা ও যাওয়ার সময় নজরদারি করা হচ্ছে।
ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত কাউকে গ্রেফতার বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, আমরা আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করবো। সেই সঙ্গে আমাদের অভিযান অব্যাহত। আমরা মূলহোতা কিংবা অগ্নিকাণ্ডে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করলে আপনাদের জানবো।
উল্লেখ্য,গত মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও স্টেশনে ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুন চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই রেলের যাত্রী ছিলেন। মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি নেত্রকোনা থেকে ছেড়ে আসে।
মন্তব্য করুন


জেলার মোল্লাহাটে বিয়ে বাড়িতে কনে পক্ষের হামলায় বরের ভগ্নীপতি আজিজুল হক নিহতের ঘটনায় কনের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বিকেলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলাম আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার আংড়া গ্রামে কনে পক্ষের হামলায় বরের দুলাভাই নিহত হন। শনিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার আংড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মোল্লাহাট উপজেলার আংড়া গ্রামের শাহদাত মুন্সি ও তার স্ত্রী পপি বেগম। নিহত আজিজুল হক খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার ইছামতি গ্রামের শাহাদাত মোল্লার ছেলে এবং বরের ভগ্নীপতি।
পুলিশ জানায়, মোল্লাহাট উপজেলার গাংনি গ্রামের মোহাম্মাদ আলী গাজীর ছেলের সঙ্গে আংড়া এলাকার শাহাদাত মুন্সির মেয়ের বিয়ের কথা হয়েছিল। বরের পছন্দ হলে বিয়ে হবে এই শর্তে শুক্রবার সন্ধ্যায় কনের বাড়িতে যায় বর পক্ষ। দাতে সমস্যা থাকায় মেয়ে পছন্দ হয়নি বলে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বর হাফিজুর রহমান গাজীসহ অন্যরা চলে আসার চেষ্টা করে। এ সময় কনে পক্ষের হামলায় বরের ভগ্নীপতি আজিজুল হক নিহত হন। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শীলা বেগম বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বরের বাবা মোহাম্মাদ আলী গাজী বলেন, মেয়ে পক্ষের সঙ্গে কথা ছিল ছেলের যদি মেয়ে পছন্দ হয় তাহলে বিয়ে করবে। ছেলের যখন মেয়ে পছন্দ হয়নি, তখন চলে আসছিলাম। কিন্তু মেয়ে পক্ষ আমাদের ওপর হামলা করে। তাদের হামলায় আমার বড় জামাতা নিহত হয়েছেন। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আশরাফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এজাহার নামীয় দুই জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুন


খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তি–এর খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদারকে গুলির ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী শামীম সরদার ওরফে ডিকে শামীম ওরফে ঢাকাইয়া শামীমসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬)। এ নিয়ে মামলায় মোট চারজন গ্রেপ্তার হলেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে র্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, চাহিদামতো ইয়াবা সরবরাহ করতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে শামীম সরাসরি মোতালেব শিকদারকে মাথায় গুলি করেন। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তনিমা ওরফে তন্বীর বাসায় নিয়মিত মাদক কেনাবেচা হতো।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে নগরীর বসুপাড়া এলাকা থেকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী শামীম সরদার ও তার সহযোগী মাহাদিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, গত ২২ ডিসেম্বর সকাল ৭টার দিকে শামীমসহ ৪-৫ জন তন্বীর বাসায় যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন মোতালেব শিকদার, তন্বী, আরিফ, ইফতি, তন্বীর স্বামী তানভীর, তন্বীর বন্ধু ইমরান এবং ইফতির চাচাতো ভাই। ওই বাসায় মাদক (ইয়াবা) সরবরাহ ও টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে শামীম নিজ হাতে মোতালেব শিকদারকে গুলি করে পালিয়ে যান।
মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, ঢাকাইয়া শামীম সোনাডাঙ্গা এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাবের দাবি, এই হত্যাচেষ্টার ঘটনাটি মূলত সোনাডাঙ্গা এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদকের টাকা ভাগাভাগিকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব থেকে সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও মূল রহস্য উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর আহত মোতালেব শিকদারের স্ত্রী রহিমা আক্তার ফাহিমা সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় জেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব তনিমা ওরফে তন্বীসহ অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
পরে নগর গোয়েন্দা পুলিশ তন্বীকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করছে।
মন্তব্য করুন


৩ সেপ্টেম্বর ছিল অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দেওয়ার শেষ দিন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সারাদেশে বিক্ষুব্ধ জনতা বিভিন্ন থানায় অগ্নিসংযোগ ও হামলা করে। তখন থানা ও ফাঁড়িতে হামলার পর অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা।
গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ১৮৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ১৮৫টি। এ সময় ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১১টি রিভলভার, ৫৬টি পিস্তল, ১১টি রাইফেল, ২৫ টি শটগান, ৫টি পাইপগান, ২০টি শুটারগান, ১৩টি এলজি, ২৫টি বন্দুক, একটি একে-৪৭, দুটি গ্যাসগান, একটি চাইনিজ রাইফেল, তিনটি এয়ারগান, চারটি এসবিবিএ, চারটি এসএমজি, দুটি টিয়ার গ্যাস লঞ্চার ও দুটি ত্রি-কোয়াটার।
প্রসঙ্গত, গত ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো খুদে বার্তায় জানানো হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের দুই হাজার ৬৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এ ছাড়াও তিন লাখ ২০ হাজার ৬৬০টি গুলি, আট হাজার ৯০৫টি টিয়ারগ্যাস সেল, দুই হাজার ৫৭৬টি সাউন্ড গ্রেনেড, ৭৫১টি টিয়ারগ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার হয়নি বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


শনিবার রাত পৌনে বারোটার দিকে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের হোটেল সবুজ বিপনির আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পালবাড়ি এলকার আলাউদ্দিনের পুত্র সারোয়ার খান (২৫), নগরীর বন্দর বাজার পুরান লেনের জয়নাল আবেদীনের পুত্র ইয়ামিন (২৫), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া এলাকার মৃত সিরাজ মিয়ার পুত্র খসরু মিয়া (৩৫), একই উপজেলার চিকার কান্দি এলাকার মৃত লিম্বর আলীর পুত্র ও হোটেল স্টাফ রইচ আলী (২৮), জামালগঞ্জ উপজেলার মশালঘাট এলাকার বদরুল আলমের পুত্র ও হোটেল স্টাফ মোঃ রুমেল আহমদ (২৮), সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধরা এলাকার ফরিদ উদ্দিনের মেয়ে ফাতেমা আক্তার জান্নাত (২৫), বগুড়া জেলার আদমদিঘী থানার সিয়ার এলাকার মৃত. আমজাদ হোসেনের মেয়ে মোছাঃ মেঘনা আক্তার (২৬), সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার পূর্ব ছিলাপাড়া শেরপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে সালমা বেগম (২৬), রংপুর জেলার কোতোয়ালী থানার তাজহাট এলাকার মোঃ নাজির হোসেনের মেয়ে মোছাঃ নাজমা বেগম (২৮)।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে এসএমপির মিডিয়া অফিসার এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান- গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে এসএমপির কোতোয়ালী মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাজ্যের
হাই কোর্ট রায় দিয়েছে—কোনো
পুরুষকে ‘বাল্ড’ (টাক) বলে অপমান
করা আইনগতভাবে যৌন হয়রানি হিসেবে
গণ্য হতে পারে। আদালতের
এই রায় ঘিরে দেশজুড়ে
ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে। একজন
ইলেকট্রিশিয়ান টনি ফিন অভিযোগ
করেন, তার বস তাকে
‘stupid bald cunt’ বলে
গালিগালাজ করেছিলেন। বিষয়টি কর্মক্ষেত্রে অপমানজনক ও হয়রানিমূলক আচরণ
হিসেবে ট্রাইব্যুনালে গড়ায়। শুনানি শেষে আদালত রায়
দেন, মন্তব্যটি গ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করেছে।
রায়ে
বিচারকেরা বলেন, টাক হওয়া বা
চুল না থাকা বিষয়টি
মূলত পুরুষদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে কাউকে ‘বাল্ড’
বলে অপমান করা লিঙ্গভিত্তিক মন্তব্য
হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা
যুক্তরাজ্যের সমতা ও বৈষম্যবিরোধী
আইনের আওতায় পড়ে।
রায়ের
ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত ও
আলোচিত বিষয় হলো—মামলাটি
নিষ্পত্তি করা তিন বিচারকই
ছিলেন টাক। এই বিষয়টি
নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রায়ের পর অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই একে অতিরঞ্জিত সিদ্ধান্ত বলে সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন—যেভাবে নারীদের শারীরিক গঠন বা চেহারা নিয়ে কটূক্তিকে হয়রানি হিসেবে দেখা হয়, একই যুক্তিতে পুরুষদের ক্ষেত্রেও এমন মন্তব্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া যুক্তিসংগত।
মন্তব্য করুন


মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা এসব কথা জানান।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার অংশ হিসেবে চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেবে না। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব আসনে কোনো বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।সমঝোতার আওতায় যে চারটি আসন জমিয়তের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো— নীলফামারী-১ আসনে মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ আসনে আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ আল হাবিব।দলীয় সূত্র জানায়, আলোচনার শুরুতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ পাঁচটি আসনের দাবি তোলে। দীর্ঘ আলোচনার পর বিএনপি প্রথমে তিনটি আসনে সম্মত হয়। পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে আরও একটি আসন যুক্ত করা হলে চূড়ান্তভাবে চারটি আসনে জমিয়তের প্রার্থীদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


যশোরের ঝিকরগাছায় হত্যা মামলায় ওসমান গণি ও আলী হোসেন নামে ২ ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক জুয়েল অধিকারী এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের ছোট পোদাউলিয়া গ্রামের মৃত ছবেদ আলী সরদারের ছেলে ওসমান গণি ও আলী হোসেন। এ মামলার অপর আসামি দণ্ডপ্রাপ্ত ওসমানের স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) আজিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ছোট পোদাউলিয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে কামরুজ্জামানের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই ওসমান ও আলী হোসেনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজের জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কামরুজ্জামানের সঙ্গে ওসমান ও আলী হোসেনের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এক পর্যায়ে ওসমান ও আলী হোসেন বাড়ি থেকে ধারালো দা এনে কামরুজ্জামানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী আনোয়ারা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পারভীন ও ভাইপো আতাউর রহমানও হামলার শিকার হন। ওই চারজনকে কুপিয়ে জখম করে ওসমান ও আলী হোসেন পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চারজনকেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে আনার পর কামরুজ্জামানের মৃত্যু হয়। আহত ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নিহত কামরুজ্জামানের বাবা রুহুল আমিন সরদার থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই ঝিকরগাছা থানার উপপরিদর্শক বনি ইসরাইল আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ওসমান ও আলী হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার তাদের ফাঁসির আদেশ ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ওসমানের স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে খালাস দেওয়া হয়। এপিপি আজিজুল ইসলাম বলেন, হত্যা মামলায় ২ বছরের মাথায় আদালত রায় দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সর্বমোট ৪১,১৯,২৬০ টাকা (একচল্লিশ লক্ষ ঊনিশ হাজার দুইশত ষাট টাকা) মূল্যমানের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করেছে।
বিজিবি জানায়, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে আজ ২৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে (২৪ ঘণ্টায়) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিবের বাজার বিওপি এবং আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপি–এর আওতাধীন কটকবাজার পোস্ট এবং গোলাবাড়ী পোস্টের বিশেষ টহলদল সীমান্ত এলাকায় পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়।
অভিযানকালে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নোয়াপাড়া চাঁনপুর ব্রিজ এবং বিষ্ণুপুর এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় শাড়ি, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানায়, আটককৃত পণ্যের সর্বমোট মূল্য ৪১ লাখ ১৯ হাজার ২৬০ টাকা। জব্দ করা সব মালামাল বিধি মোতাবেক পরবর্তী সময়ে কাস্টমসে জমা করা হবে।
মন্তব্য করুন


যৌথবাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত সাত দিনে ৪২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ (শনিবার) পর্যন্ত অভিযানে এসব লোককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হতে ৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন, ১০ পদাতিক ডিভিশন, ১১ পদাতিক ডিভিশন, ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড, ৭ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড, ৮৬ স্বতন্ত্র সিগন্যাল ব্রিগেড ও ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীর মিরপুর-১, ভাষানটেক, ইসিবি চত্বর, কাঁঠালবাগান, হাজারীবাগ এবং দেশের অন্যান্য এলাকা টঙ্গী, নরসিংদী, রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব যৌথ অভিযানে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ, ডাকাত দলের সদস্য ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য এবং মাদক ব্যবসায়ীসহ ৪২৭ জন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের নিকট হতে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র, পাসপোর্ট, এনআইডি, মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
পাশাপাশি অভিযানে বিভিন্ন স্থানে নকল ভোজ্য তেল ও নকল ফলের জুস এর কারখানা সহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা সিলগালা সহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আটককৃতদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ জনগণকে যেকোন সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য প্রদান করার জন্য যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন