

ঘটনাটি
ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরামের। এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে গ্রামের এক ইমামের
বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে এক মাসেরও বেশি সময় জেল
খাটতে হয়। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম অপমানের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। হারাতে
হয় চাকরিও। কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সামনে আসে ভয়ংকর এক সত্য। কিশোরীর গর্ভের
সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটির বাবা ওই ইমাম নন; বরং মেয়েটিরই আপন বড় ভাই।
পরে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ভাই নিজেও বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার
করেন।
ফরেনসিক
পরীক্ষায় পরশুরামের বক্সমাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে
তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো
হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে। এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি
পেয়েছেন তিনি।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের ভুক্তভোগী খুকু (ছদ্মনাম)
আক্তারের (১৪) মা তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে একই গ্রামের স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম
ও মক্তবের শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। নিজেকে নির্দোষ
দাবি করলেও ছাড় পাননি মোজাফফর। অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে ২০২৪
সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে
গ্রামের মাতব্বর ও মামলার বাদী তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এদিকে অন্তঃসত্ত্বা
হয়ে সন্তান প্রসব করে স্থানীয় একটি মক্তবে অধ্যয়নরত ভুক্তভোগী কিশোরী। আর এর দায় চাপানো
হয় ওই মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) কাঁধে। একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন তিনি।
একই
বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক
ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও খুকু আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব
পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের
২১ জানুয়ারি ডিএনএ প্রতিবেদন পান পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল
ইসলাম।
ডিএনএ
পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপাদানের
উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের
ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। এরপর ওই কিশোরী ও তার
সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতার নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য
তাদের পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।
এর
মধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে
মোজাফফরের ডিএনএর মিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে কিশোরীকে
ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে ওই কিশোরী তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে লাগাতার
ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। ঘটনা আড়াল করে ভাইকে বাঁচাতে শিক্ষক মোজাফফরকে ফাঁসানো
হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৯ মে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
আদালতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান
করেন মোরশেদ।
আদালতে
আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই কিশোরী ও তার ভূমিষ্ঠ সন্তান ও বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার
জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ
পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়ার শিশু কন্যার সঙ্গে মোরশেদের
ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা।
ডিএনএ
পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায়
মোরশেদের সঙ্গে তার বোনের সন্তানের পিতা হিসেবে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর
আহমেদ ওই সন্তানের জৈবিক পিতা নন।
মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে
আনিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত
না হওয়ায় ধর্ষণ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ
প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। আদালতে ডিএনএ
পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।
পরশুরাম
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো/ আশ্রাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ
গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে তার নাম প্রত্যাহার
করা হয়েছে।
তিনি
বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক
প্রভাব পড়ে।
পরশুরামের
বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের
শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি
হারান তিনি। মামলার খরচ জোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জমি। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে হেয়
হয়েছেন। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর আহমেদ।
মোজাফফর
আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্তার
শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে
বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ,
সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।
তিনি
বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো
হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মতো অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে।
মোজাফফর
আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে
ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।
জাতীয়
ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান,
সুন্নি, কওমী বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের
ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা
করা উচিত।
মন্তব্য করুন


ছোটপর্দার
আলোচিত অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন তানিয়া বৃষ্টি। গত কয়েক মাস ধরেই তার শারীরিক
অবস্থা খারাপ। এরইমধ্যে হঠাৎ তার অসুস্থতা ও মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন
হয়ে পড়েছেন তার ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা। বিষয়টি জানতে পেরে গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে ভালো
আছেন বলে জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।
মঙ্গলবার
(৯ জুন) দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে তানিয়া বৃষ্টি জানিয়েছেন, জীবিত আছেন তিনি, ভালো
আছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় থেকে বিশ্রামে আছেন। বলেন, ‘মহান আল্লাহর
রহমতে ভালো আছি। বাসাতেই আছি আমি। পরিপূর্ণ বিশ্রামে আছি।’
তানিয়া
বৃষ্টি জানান-এখন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চেকআপও করাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডাক্তার রয়েছেন, সেখানে নিয়মিত চেকআপ করাতে হয়। আমি
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চলছি।’
আগামী
২০ জুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন
তানিয়া বৃষ্টি। তিনি বলেন, ‘দুটি সার্জারি হয়েছে, তৃতীয় সার্জারি করাতে কিছুটা সময়
লাগবে। মাথায় নতুন করে কোনো জটিলতা যেন না হয়, এ কারণে বাসায় বেশি থাকি। এখন খুব একটা
বাইরে বের হই না।’
এর
আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এ অভিনেত্রী। পরে জানা
যায়, মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হয়েছে। ওই মাসেই অস্ত্রোপচার করে টিউমার অপসারণ করা হয়।
তারপর থেকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তারপর
গত ৯ মার্চ ভারতের চেন্নাইয়ে যান উন্নত চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে
দেশে ফেরেন। এরপর থেকে বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন।
এ
অভিনেত্রী ওই সময় দেশে ফেরার পর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক
আরও একটি অস্ত্রোপচার করাতে হবে। কিন্তু সেটি এখনই করা যাবে না। এ জন্য কিছুটা সময়ের
প্রয়োজন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তৃতীয় সার্জারিও করাতে হবে। যেহেতু কিছুটা সময় লাগবে,
তাই এখন বিশ্রামে থেকে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত,
ছোটপর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তানিয়া বৃষ্টি। ২০১৫
সালে ‘ঘাসফুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয়। পরে ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত
‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী।
মন্তব্য করুন


মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত শেষে মাদকবিরোধী বক্তব্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
সোমবার মাউশির সহকারী পরিচালক তপন কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্কুল-কলেজসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী প্রচারণা জোরদার করার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জাতীয় সংগীত শেষে নিয়মিত মাদকবিরোধী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও অনুরোধ করা হলো।
এর আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়।
মন্তব্য করুন


পরিবেশ,
বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা
হাসান বলেছেন, রাজধানীসহ সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারি
কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ৫ হাজার ৪৯৩ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার
(৪ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস
ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জানান, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আজ
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অতিরিক্ত দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি
বলেন, গ্রামগঞ্জে মানুষ চিকিৎসা পায় না। তাদের তাদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক
নিশ্চিত করার অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য।
সৈয়দা
রিজওয়ানা হাসান বলেন, পিএসসির মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯৩ জন চিকিৎসক নিয়োগের
প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এটার অতিরিক্ত হিসেবে আরও ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের
সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রেস
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, ডেপুটি প্রেস
সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, ডেপুটি প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর এবং সহকারী
প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।
মন্তব্য করুন


নৈশভোজে
মুরগির মাংসের টুকরা বেশি খেয়ে ফেলায় তর্কের জেরে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
উঠেছে আরেক বন্ধুর বিরুদ্ধে। ভারতের কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে।
এনডিটিভির
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ব্যক্তির নাম সীতারাম। তার বাড়ি উত্তর প্রদেশের পিলিভিত জেলার
কবিরগঞ্জ গ্রামে। সীতারাম মুদালাগি এলাকার প্রিয়া স্টিল কম্পানিতে কাজ করতেন। চাকরিসূত্রে
মুদালাগির হুনাশ্যাল পিজি গ্রামে বাস করতেন তিনি। অভিযুক্ত অরুণ কুমার একই গ্রামের
বাসিন্দা এবং সীতারামের সঙ্গে ওই কম্পানিতে কাজ করতেন।
প্রতিবেদনে
জানানো হয়, দুই বন্ধু একসঙ্গে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। এ সময় একজন অন্যজনের চেয়ে বেশি
মুরগির মাংসের টুকরা খাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরে তা উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডায়
রূপ নেয়।
একপর্যায়ে
অরুণ কুমার একটি ছুরি বের করে সীতারামের বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে অরুণ
কুমার ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আহত সীতারামকে গোকাক সরকারি হাসপাতালে নিয়ে
যান তিনি। তবে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর জন্য তিনি দাবি করেন, সীতারাম একটি ভবন থেকে
পড়ে আহত হয়েছেন। কিন্তু তার এই বয়ানে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ
হাসপাতালে পৌঁছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অরুণ কুমারকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি
সীতারামকে ছুরিকাঘাত করার কথা স্বীকার করেন।
এদিকে
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সীতারামের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা
করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আরো তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জের
সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত
মনিরুল (১৫) ও শুভ (১৫) গুদনাইল বাগপাড়া আলিম মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বুধবার
(১২ মে) ভোর ৬টায় লেক থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১১ মে) দুপুরে
মাদ্রাসার পরীক্ষা শেষে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে তারা
নিখোঁজ হয়।
নিহত
মনিরুলের পিতা মোহাম্মদ জাকির। তাদের গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার
পাল্লা গ্রামে। বর্তমানে পরিবারসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী
বাড়ি ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। অপর নিহত শুভর পিতা মিজান শিকদার।
তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মরিচ বুনিয়া এলাকায়। শুভ পরিবারসহ নারায়ণগঞ্জ
সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুনলাইট এলাকায় থাকতেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ
থানার এসআই নিরস্ত্র মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, মঙ্গলবার দুপুরে নাভানা মাঠে ফুটবল খেলার
পর পাঁচ বন্ধু মিলে ডিএনডি লেকের বার্মাস্ট্যান্ড নয়াপাড়া এলাকার ১ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন
স্থানে গোসল করতে নামে। গোসল শেষে তিনজন বাড়ি ফিরে গেলেও মনিরুল ও শুভ নিখোঁজ থাকে।
তিনি
আরও জানান, রাতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালান। বুধবার ভোর ৬টার
দিকে স্থানীয়রা লেকের পানিতে দুই কিশোরের মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে
গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দুটি
স্বজনদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


চলমান
বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৫ জন। বন্যা শুরুর
পর সাপে কাটার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
রবিবার
(১২ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে
আজ পর্যন্ত সাপের কামড়ে আহত হয়ে ৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বোয়ালখালী
উপজেলায় ২০, রাঙ্গুনিয়ায় তিন জন, হাটহাজারীতে আট জন, সাতকানিয়ায় ছয় জন, চন্দনাইশে তিন
জন, লোহাগাড়ায় দুজন, পটিয়ায় ১৮ জন, রাউজানে নয় জন, বাঁশখালীতে ১২ জন, আনোয়ারায় পাঁচ
ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় তিন জন সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন।
হাটহাজারী
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে
জানিয়েছেন, রবিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আট জন সাপে কাটা রোগী হাটহাজারী
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সাত জন লাউডগা সাপের কামড়ে আক্রান্ত
হয়েছেন। চিকিৎসা দেওয়ার পর সবাই এখন সুস্থ আছেন। এর মধ্যে একজন নিজে থেকে চট্টগ্রাম
মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চলে গেছেন। খবর নিয়ে জেনেছি তিনিও সুস্থ আছেন। হাসপাতালে
সাপে কাটা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) মজুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত
কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি
আরও বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সাপগুলোর বাসা ভেঙে গেছে। এজন্য ঘরবাড়ি ও উঁচু জায়গায় আশ্রয়
নিচ্ছে। এ সময় চলাচলে সতর্ক থাকতে হবে। সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে
আসতে হবে। ওঁঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় মশারি
টাঙাতে হবে। এ ছাড়া ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং অন্ধকারে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার
করতে হবে।’
এ
ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্যার
পানির কারণে সাপগুলো গর্ত থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বন্যা শুরুর পর থেকে সাপে কাটা
রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তিনি
বলেন, ‘সাপে কাটা রোগীদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ
যে কোনও সরকারি হাসপাতালে গেলে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যাবে। চট্টগ্রামে ৮৫ জন সাপে কাটা
রোগীর মধ্যে সবাই সুস্থ আছেন। আমাদের কাছে এক হাজার রোগী অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।
শিগগিরই ঢাকা থেকে আরও আসবে।’
মন্তব্য করুন


সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান
আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ফাঁসির আসামিকে নিয়ে রায় দিয়েছেন
যেখানে বলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে কোনো ফাঁসির আসামিকে কনডেম সেলে
নেয়া যাবেনা ।
রুল শুনানিতে আদালত এ বিষয়ে
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও এস এম শাহজাহান বিশেষজ্ঞ মত নেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি
জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শুনানি করেন। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ শিশির
মনির। রুল শুনানি শেষে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত
হওয়ার আগে দণ্ডিত বা দণ্ডিতদের কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ২
সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা কারাগারের কনডেম সেলের
তিন কয়েদি। তারা হলেন- সাতকানিয়ার জিল্লুর রহমান, সুনামগঞ্জের আব্দুল বশির ও খাগড়াছড়ির
শাহ আলম। ওই রিট শুনানি করে ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার
আগে দণ্ডিতদের কনডেম সেলে রাখা কেন আইনত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ
প্রাপ্তদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা সংক্রান্ত কারাবিধির ৯৮০বিধিটি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা
করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেই সঙ্গে কনডেম সেলে রাখা বন্দিদের কী ধরনের
সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, সে বিষয়ে প্রতিবেদন চান আদালত।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা
অনুসারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির
৪১০ ধারা অনুসারে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে
আপিল করার সুযোগ পান। হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আপিল
বিভাগে আবেদন করতে পারেন।
আপিল বিভাগের রায়েও মৃত্যুদণ্ড
বহাল থাকলে সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা)
আবেদন করার সুযোগ আছে। এ ছাড়া সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে মৃত্যু-দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি
রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। ক্ষমার এই আবেদন রাষ্ট্রপতি যদি নামঞ্জুর
করেন অথবা দণ্ডিত যদি আবেদন না করেন তাহলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে সরকার।
অথচ বিচারিক আদালতে মৃত্যু দণ্ডাদেশের পরপরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কনডেম সেলে বন্দী
রাখা হচ্ছে।
রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ
শিশির মনির বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক সাজা কার্যকর করার
আইনগত বিধান নেই। এজন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন
নিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের
১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া
শেষ করতে ১০-১২ বছর পার হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার
পরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্জন কনডেম সেলে বন্দী রাখা হয়। অথচ অনেকের পরবর্তীতে
সাজা কমে। অনেকে খালাসও পান। রুল শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।
মন্তব্য করুন


আগামী বছর ২০২৫ সালের সরকারি ছুটির
তালিকা অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী
আদেশ মিলিয়ে মোট ২৬ দিন ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। শুক্রবার
৫টি ও শনিবার ৪টি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর
তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে
পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আগামী বছর সাধারণ ছুটি ১২ দিন ও নির্বাহী
আদেশের ছুটি ১৪ দিন। ছুটি গত বছর থেকে মোট ৪ দিন বেড়েছে।
অনুমোদিত ছুটির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত বিষয়সমূহ হলো:
(১) জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের
গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে ১২ (বার) দিন সাধারণ ছুটি। এ ছুটির মধ্যে ৫টি সাপ্তাহিক
ছুটির দিন (৩টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার)।
(২) বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি। এর মধ্যে ৪টি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (২টি শুক্রবার
ও ২টি শনিবার)।
(৩) ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে প্রজাতন্ত্রের
কর্মচারীদের বছরে অনধিক ০৩ দিনের এচ্ছিক ছুটি ভোগের জন্য ধর্মীয় পর্বসমূহের বিবরণ।
(৪) পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও এর
বাইরে কর্মরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব
বৈসাবি বা অনুরূপ সামাজিক উৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি। এ ছুটির মধ্যে
একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (০১টি শনিবার)।
(৫) ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের জন্য ১২ দিন
সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ
প্রস্তাবিত মোট ছুটি (০৯ দিনের সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে ৫টি শুক্রবার ও ৪টি শনিবার ব্যতীত)
২৬ - ০৯ = ১৭ দিন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনুমোদিত
মোট ছুটি (২ দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ব্যতীত) ছিল ২২ - ০২ = ২০ দিন।
মন্তব্য করুন


রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমে মানুষের নাভিশ্বাস অবস্হা ।
তীব্র তাপদাহে ইতোমধ্যে সারা দেশে বেশ কয়েকজনের হিট অ্যাটাকে মৃত্যুও হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন নগরবাসীকে ব্যাগে পানির বোতল, টুপি, ফ্যান, ছাতার মতো জিনিসপত্র রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তীব্র তাপপ্রবাহের এই পরিস্হিতিতে সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে সবাইকে বাঁচানোর জন্য তারা নিয়মিত ‘হিট অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন’ চালাচ্ছেন। চেষ্টা করে যাচ্ছেন কেন ঢাকায় তাপমাত্রা বাড়ছে তা খুঁজে বের করার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটার চেষ্টা সম্পর্কে বুশরা জানান, তার মতে, ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা কমাতে আরও বেশি গাছ লাগানো জরুরি।
তিনি বলেন, আমাদের এখানে রাস্তার ধারে ২ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর উপযুক্তভাবে রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে। নগরে বনায়ন করা খুব জরুরি। এখানে যে ফাঁকা এবং পরিত্যক্ত জায়গাগুলো পড়ে আছে সেখানে সবুজায়ন করার দিকেও আমরা নজর দিয়েছি। আমাদের এখানে আরও অনেক পার্ক এবং সবুজে ঘেরা জায়গা দরকার। তাতে তাপমাত্রা যেমন কমবে, তেমনই পাখিসহ নানা প্রাণীও ফিরে আসবে।
হিট অফিসার আরো বলেন, ঢাকা শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এর ফলে নানা রকম সমস্যার সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রাও। দিন দিন বাড়তে থাকা জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে সংকটে পড়া ঢাকার তাপমাত্রা গ্রামাঞ্চলের চেয়ে বেশি হচ্ছে।
নগরের তাপমাত্রা কমাতে ঢাকায় বনাঞ্চল তৈরির পরিকল্পনার বিষয়ে বুশরা আফরিন বলেন, ঢাকায় তাপমাত্রা কমানোর জন্য আমরা ‘টু অ্যাবেল ফরেস্ট’ অর্থাৎ দুটি বন করার চেষ্টা করছি। একটা হচ্ছে মিরপুর কল্যাণপুরের দিকে; অন্যটি বনানীর এক্সপ্রেসওয়ের পাশে।
তিনি বলেন, এই বন দুটি যে শুধু নগরের হিট কমাবে তা নয় পাশাপাশি দূষণ প্রতিরোধেও সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তীব্র তাপপ্রবাহ কমাতে শহরের ফাঁকা জায়গাগুলোতে গাছ লাগনো হবেও বলে জানান তিনি।
বুশরা বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহে আমরা নিজেরা যদি সচেতন থাকি- আমরা যদি বাসা থেকে বের হওয়ার আগে আমাদের ব্যাগে একটা পানির বোতল, টুপি, ফ্যান, ছাতার মতো জিনিসপত্র সঙ্গে রাখি তাহলে কিন্তু অনেকটাই নিরাপত্তা পেতে পারি।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকার যে ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে-বিচার ও সংস্কার দৃশ্যমান করার মধ্য দিয়ে তাদের
নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। এজন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন অন্তর্বর্তী সরকার
ততটুকু সময় পেতে পারে।
আজ
শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর
বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের বিরতিতে এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমন কথা বলেন।
আখতার
হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে বিচার ও সংস্কারের দৃশ্যমান রোডম্যাপ সরকারকে উপস্থাপন
করতে হবে। আমরা নির্বাচন প্রলম্বিত করার পক্ষে নয়, তবে তার আগে বিচার এবং সংস্কারকে
যেন অবশ্যই দৃশ্যমান করা হয়। সে ব্যাপারে আমরা জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। আমরা
এখন পর্যন্ত সংবিধানের বিষয়ে আলোচনা করেছি। এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন,
জনপ্রশাসন, দুদক এবং পুলিশ সংস্কার কমিশনের মতো বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে পারিনি। তবে
পুলিশ সংস্কার কমিশিনের রিপোর্ট কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি সে বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন
করেছি। আমাদের মতামতগুলো জানাতে চেয়েছি।
বর্তমান সংবিধানের অধীনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত সম্ভব
নয় উল্লেখ সম্ভব নয় উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে একচ্ছত্র
ক্ষমতায়ন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সাংবিধানিকভাবেই স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ
তৈরি হয়েছে। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলেছি এবং সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের কথা
আমরা বলেছি। কীভাবে নতুন একটি সংবিধান পুনর্লিখন করা যায়। গণপরিষদ নির্বাচনের বাস্তবতা
নিয়ে আমরা কথা বলেছি।
এনসিপি’র
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ঐকমত্য কমিশনের ১৬৬টি বিষয়ের মধ্যে
১২৯টি বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। যেসব বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি সেসব বিষয়ে আমাদের অবজারভেশন
রয়েছে। এসব বিষয়ে সংযোজন, বিয়োজনের নোট আমরা ঐকমত্য কমিশনে দিয়েছি। আমরা মূলত এখন পর্যন্ত
তিনটি বিষয়ে কথা বলেছি। প্রথমত, প্রটেকশন অব সিটিজেন (নাগরিকদের নিরাপত্তা)। আমরা দেখেছি,
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রে নাগরিকদের নিরঙ্কুশ অধিকার কখনো স্বীকৃত হয়নি। সেসব
বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কথা বলেছি।
দ্বিতীয়ত,
আমরা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে কথা বলেছি। আমরা প্রতিনিয়ত দেখেছি, যখনই ক্ষমতা
হস্তান্তরের একটি সময় এসেছে তখনই দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একটা সরকার
থেকে অন্য সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে হবে এই বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা
হচ্ছে।
তৃতীয়ত,
সংসদের স্থিতিশীলতার নামে আর্টিকেল ১৭ দিয়ে আমাদের কন্ঠ রোধ করে রাখা হয়েছে- এ বিষয়ে
কথা হয়েছে। আমাদের সংসদকে আরো বেশি কীভাবে কার্যকর করা যায় ওই বিষয়টি নিয়ে আমাদের কথা
হয়েছে।
উক্ত বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
এনসিপি’র
পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক
সরোয়ার তুষার, জ্যেষ্ট যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী,
মুখ্য সংগঠক (দাক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ।
মন্তব্য করুন