

লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তারা সম্পর্কে আপন ভাই-বোন।
মৃত দুই শিশু হলো: কামালপুর গ্রামের ব্যবসায়ী রাজু আহমেদের মেয়ে নাফিজা মোবারক মাদিহা (৮) ও মো. ওমর (৫)। নাফিজা স্থানীয় ফাতেমা আইডিয়াল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আর ওমর ছিল প্লে শাখার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবার অগোচরে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় নাফিজা ও ওমর। তাদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে পড়ার পর একজনকে উঠাতে গিয়ে আরেকজন পড়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) খুরশিদ আলম।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল স্কুলের টিফিন বিরতিতে খাবার কিনতে বের হয়েছিল ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের মধ্যে পড়ে পিঠে গুলিবিদ্ধ হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ইথান ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে জড়িয়ে রয়েছে দুটি পক্ষ। বুধবার রাত থেকে উত্তেজনা শুরু হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রাতের ঘটনার প্রতিবাদে এবং এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, মানববন্ধনের পর দুপুরে একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তি মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
এ সময় স্কুলের টিফিন বিরতিতে বাইরে বের হওয়া ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ইথানের মা সোনিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলের বিরতির সময় টিফিন খেতে বের হয়েছিল। তখন তার পিঠে গুলি লাগে। তাকে কুমিল্লা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আমার ছেলে কোনো দোষ করেনি, সে শুধু স্কুলে পড়তে গিয়েছিল।’
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বের হয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে আহত হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


এমদাদুল হক সোহাগ, প্রতিবেদক:
কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বুকিং সহকারিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র ৫ টাকার পুরোনো টিকিটের ওপর নতুন করে সিল মেরে ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে একাধিক যাত্রী এমন অনিয়মের মুখোমুখি হন। যাত্রীরা জানান, কাউন্টারে থাকা বুকিং সহকারি তাদের কাছে ৫০ টাকা ভাড়া নিলেও হাতে ধরিয়ে দেন পুরোনো একটি টিকিট, যার মূল মূল্য মাত্র ৫ টাকা।
টিকিটে দেখা যায়, “কুমিল্লা হতে শশীদল” রুটের ২১ কিলোমিটার দূরত্বের ভাড়া ৫ টাকা উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব টিকিট সাধারণত মেইল ট্রেন বা দ্বিতীয়/তৃতীয় শ্রেণির পুরোনো টিকিট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে সেগুলোর ওপর নতুন সিল মেরে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


জাহাঙ্গীর আলম, কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ৭ বোতল ভারতীয় মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিলের বিকল্প) এস্কাফসহ পিতা পুত্রকে গ্রেফতার করেছে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় (২ মে) উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট বাজারে নিজ দোকান থেকে মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলম ও তার পুত্র জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়,দীর্ঘদিন ধরে বালাহাট বাজারে নিজ দোকানে গোপনে মাদকের ব্যবসা করে আসছে মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলম এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদককারবারি জাহাঙ্গীর আলমের চায়ের দোকানে তল্লাশি করে ৭ বোতল এস্কাফসহ জাহাঙ্গীর আলম ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলম ওই ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের পুত্র ও জাহিদ হাসান জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র ।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, মাদকসহ গ্রেফতারকৃত পিতা ও পুত্রের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের
শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের ৭ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেডের
বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো.মাহবুব আলম শিকদার।
এসময় দরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী
ও বস্ত্র বিতরণ করেন তিনি।
আজ (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলার
পূর্ব গোমদণ্ডী লোকনাথ মন্দির পূজা মণ্ডপ ও জ্যৈষ্ঠ পুরা বীণা পাণি সংঘ পূজা মণ্ডপ
পরিদর্শনে যান তিনি।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বোয়ালখালী
থানা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর শওকত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিমাদ্রী খীসা,
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা
সহিদুল আলম, চট্টগ্রাম পল্লী সমিতি-১ এর ডেপুটি জোনাল ম্যানেজার প্রকৌশলী শ ম মিজানুর
রহমান সহ অনেকে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার
করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে
র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার
কোতয়ালী মডেল থানাধীন আমতলী এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে
আসামী ১। আমজাদ হোসেন ফরহাদ এবং ২। মোঃ মাইন উদ্দিন নামের দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার
করা হয়। এ সময় আসামীদ্বয়ের কাছ থেকে ৭০ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি
পিকআপ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী
১। আমজাদ হোসেন ফরহাদ (২৭) ফেনী জেলার সদর থানার মরুয়ারচর গ্রামের মৃত সাদেক এর ছেলে
এবং ২। মোঃ মাইন উদ্দিন (২৮) একই গ্রামের মৃত মাস্টার সৈয়দ আহমেদ এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা
দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত পিকআপ ব্যবহার করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য
গাঁজা সংগ্রহ করে ফেনী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের
নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক
অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে
র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা
গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লা মহানগরে জেলা এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল ও অননুমোদিত ওষুধ, ওষুধ তৈরির কেমিক্যাল, উৎপাদন মেশিন এবং অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ সময় নকল ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ চক্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
গত ২৬ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত জেলা এনএসআই কুমিল্লার তথ্যের ভিত্তিতে ও সরেজমিন উপস্থিতিতে পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা মহানগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন শ্রীবল্লভপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে পিকআপ থেকে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি অননুমোদিত নকল ক্যাপসুল, ট্যাবলেট ও সিরাপসহ মোট ১৮ হাজার ৬৬০ পিস ওষুধ, প্রায় ১০০ কেজি ওষুধ তৈরির কেমিক্যাল পাউডার, ৭ লিটার তরল কেমিক্যাল, প্রায় ২০ হাজার প্যাকেট ওষুধের লেবেল, ১৫ কেজি ফয়েল পেপার এবং নকল ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত তিনটি মেশিন জব্দ করা হয়।
এ সময় নকল ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীনিবাস এলাকার বাসিন্দা জুনায়েদ ইসলাম (৩০)কে আটক করা হয়। তিনি মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত মালামাল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নেওয়া হয়। পরে সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং জেলা ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলামের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিয়মিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এনএসআই সূত্র আরও জানায়, অভিযানের আগে দীর্ঘদিন যাবত থেকেই কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীর একটি গুদামে রাখা এসব অবৈধ মালামালের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পরে গুদাম থেকে মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়ে এনএসআই সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন। এরপর উপযুক্ত সময় ও স্থানে অভিযান চালিয়ে পিকআপভর্তি নকল ওষুধ ও উৎপাদন সামগ্রী জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ইতিপূর্বে এনএসআই বিসিক শিল্প নগরীতে নকল ওষুধ কারখানায় অভিযানের ধারাবাহিকতায় অভিযান গুলো পরিচালনা করা হচ্ছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


ঈদযাত্রা স্বস্তি ও আরামদায়ক করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে প্রথমবারের মতো ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ২টি বিশেষ ট্রেনই আসা-যাওয়ার পথে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৭টি স্টেশনে থামবে।
ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে ৫ দিন এই রুটে অন্তত ২টি স্পেশাল ট্রেন চলবে। এই প্রথম এই অঞ্চলের মানুষ ট্রেনে চড়ে ঈদে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সড়ক পথের উপর বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ কিছুটা কমবে। স্বস্তিতে বাড়ি ফেরার আশা এ অঞ্চলের মানুষের।
তারা জানিয়েূছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মানুষজনের পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদে বাড়ি যেতে কি পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হয় সেটা বুঝানো মুশকিল। এবার সে ঝামেলা ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। ট্রেনে করে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যাওয়া যাবে।
যে সকল স্টেশনে ট্রেন থামবে:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ৭টায় কক্সবাজারের উদ্দোশ্যে রওনা হয়ে পৌঁছাবে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে। আবার কক্সবাজার থেকে সন্ধ্যা সাতটায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ১০টা ৫ মিনিটে।
পথে ট্রেনটি ষোলোশহর, জানালীহাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও রামু স্টেশনে থামবে।
কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে গত ১ ডিসেম্বর থেকে। বিপুল যাত্রী চাহিদা থাকলেও গত ৩ মাস ধরে এই রুটে চলাচল করছে মাত্র দুটি ট্রেন। তাও চলছে কেবল ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচল করা কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস বিরতিহীন হওয়ায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোকজন দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের সুফল পাচ্ছেন না। এনিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন এটি আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। সে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবতায় রূপ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো ট্রেনে চড়ে কক্সবাজার যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। চট্টগ্রাম অল্পকিছু যাত্রী পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। সেখানের টিকিট পাওয়াও দুর্লভ।
বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসে চড়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পান মাত্র ১১৫ জন করে যাত্রী। ঈদ যাত্রায় সেটি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
ঈদে বিপুল এ যাত্রী চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এবারের ঈদযাত্রায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন চালাবে রেলওয়ে। এতে ঈদযাত্রায় দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তারেক মুহাম্মদ ইমরান বাংলানিউজকে বলেন, এবার প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ঈদযাত্রায় বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল সাতটায় কক্সবাজারের উদ্দোশ্যে রওনা হয়ে পৌঁছাবে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে। আবার কক্সবাজার থেকে সন্ধ্যা সাতটায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ১০টা ৫ মিনিটে। ট্রেনটি থামবে ৭ টি স্টেশনে ।
ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হবে আগামী ৩ এপ্রিল। অগ্রিম টিকিট মিলবে ২৪ মার্চ থেকে। গতবারের মতো এবারও ঈদযাত্রার কোনো টিকেট কাউন্টারে বিক্রি করা হবে না। অনলাইনেই টিকিট মিলবে শতভাগ ।
মন্তব্য করুন


মজুত করা পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগে বরিশাল নগরের ৬ আড়তকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
এ অভিযান শনিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চালানো হয় বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমী রানী মিত্র।
এ জরিমানা করেন বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী।
বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমী রানী মিত্র জানায়, হঠাৎ পেয়াঁজের দাম বেড়ে যাওয়ার খবরে বরিশাল নগরীর পেঁয়াজপট্টির পাইকারি বিক্রির আড়তে অভিযান চালানো হয়। সেখানে দেখা যায়, বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে মজুত করা পেঁয়াজ।
বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমী রানী মিত্র আরও জানায়, ৯৪ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে কেনা পেঁয়াজ বতর্মানে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এ প্রমাণ পেয়ে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ৬ আড়তকে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলায় নানার
বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নদীতে ডুবে মাহিরা নামের আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি
ঘটেছে শনিবার (২৭ জুলাই) সকালে তিতাস উপজেলার বাঘাইরামপুর গ্রামে।
নিহত মাহিরা উপজেলার বন্দরামপুর গ্রামের
মুছা সরকারের মেয়ে।
নিহতের নানা জালাল উদ্দীন বলেন, প্রতিদিনের
মতো মাহিরা বাড়ির অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে বের হয়। তার কিছুক্ষণ পর অন্যসব শিশুরা
ফিরে এলেও তাদের সঙ্গে মাহিরাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। অনেক খোঁজাখুঁজির
পর কোথাও না পেয়ে বাড়ির পাশে নদীর তীরে কাদা-পানির মধ্যে মাহিরাকে ভাসতে দেখি। তাৎক্ষণিকভাবে
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ভবন নির্মাণের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।
সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, গত শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। এতে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি, পাকা ধান, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেদিনের ঝড়ে উড়ে যায় সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের পশ্চিম চরজুবলী গ্রামে অবস্থিত আবদুল মালেক উকিল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচে তাদের ক্লাস চলছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। শিক্ষাবর্ষের শেষ সময়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বার্ষিক পরীক্ষা কার্যক্রমও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আব্দুল মালেক উকিল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারভিন আক্তার বলেন, শুক্রবার ঝড় হইসে। আমাদের ধানের জমি ও বাড়ি ঘরের ক্ষতি হইসে। সকালে গিয়ে দেখি স্কুলটাও নেই। ঝড়ে আমাদের স্কুল উড়ে গেছে। খোলা মাঠে ক্লাস করতেসি। সামনে আমাদের পরীক্ষা আছে।
ফাতেমা নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, সামনে আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আমাদের সামনের দিন গুলো নিয়ে শঙ্কায় আছি। ভবন নির্মাণ না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে অসুবিধা হচ্ছে। রোদ আর গরমে বসে থাকা যায় না। আমাদের একটা স্থায়ী ভবন চাই।
অভিভাবক ফারুক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে পুরো স্কুলটি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা। তাই এখন শিক্ষার্থীদেরকে খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. পারভেজ বলেন, এই চরাঞ্চলের শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য ২০০৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। যার নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি প্রয়াত আবদুল মালেক উকিলের নামে। আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ঝড়ে পুরো বিদ্যালয় উড়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে অনিরাপদ পাঠদান চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে সহযোগিতা চেয়েছি। যেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পাঠদানে অংশ নিতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক ম্পিকার মরহুম মালেক উকিলের পুত্র ও সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহার উদ্দিন খেলন বলেন, আমি ঊর্ধ্বতনকে অনুরোধ করছি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য এবং শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ভবন নির্মাণ করার জন্য। সেই সাথে বিদ্যালয়টি জাতীয় করণেরও দাবী জানান তিনি।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, শিক্ষা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টি দেখা হবে।
মন্তব্য করুন