

টাঙ্গাইলের
ঘাটাইলে বিয়ের একমাসের মাথায় প্রেমিকের সঙ্গে পালানার তিনদিন পর সূচনা নামে এক নববধূর
মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার
(১৭ মে) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সূচনা
আইনপুর গ্রামের সোহরাব আলীর মেয়ে।
নিহতের
পরিবার জানায়, পালানোর পরে শহরের কলেজপাড়া এলাকায় প্রেমিক সাওয়ালের চাচা ইউপি চেয়ারম্যান
গিয়াসউদ্দিন বাবুর বাসায় অবস্থান করছিলেন ওই তরুণী। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার করার
পর মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যায় প্রেমিকের পরিবার। পরে সেখান থেকে পালিয়ে যায় সবাই।
তারা
আরও জানায়, একমাস আগে মধুপুর উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামের আলমের সঙ্গে বিয়ে হয় সূচনার।
গত ১৪ মে রাতে ঘাটাইল উপজেলার সত্তুর বাড়ি গ্রামের সরোয়ারের ছেলে প্রেমিক সাওয়ালের
হাত ধরে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয় সূচনা। পরে উভয় পরিবারের সমঝোতায় বিয়ের আশ্বাস
দেয়া হয় সাওয়াল ও সূচনাকে। শনিবার রাতে তাদের নিয়ে আসা হয় সাওয়ালের চাচা ইউপি চেয়ারম্যান
গিয়াসউদ্দিন বাবুর বাসায়। রোববার বিকেলে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সূচনার মরদেহ।
তড়িঘড়ি করে নেওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে
পরিবারকে জানানো হয় তার মৃত্যুর বিষয়টি। জানানো হয় পুলিশকেও। পুলিশ হাসপাতাল থেকে তার
মরদেহ উদ্ধার করে।
সূচনার
বাবা সোহরাব আলীর অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
সংগ্রামপুর
ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন বাবু জানান, সাওয়াল তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে। সমঝোতার জন্য
নিহত তরুণীকে তার বাসায় নিয়ে আসা হয়েছিল। ঘটনার দিন তিনি বাসায় ছিলেন না।
এ
বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) প্রভাষ কুমার বসু জানান, ঘাটাইল
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল
মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোল এ. চুলিক এবং অ্যান্ড্রু হেরাপের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফররত সে
দেশের একটি প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার
(১৭ এপ্রিল) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই সমর্থনের কথা জানান।
এ সময় তারা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন প্রতিনিধি
দলটি।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা
বাংলাদেশে ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার উদারতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন
এবং এ ইস্যুতে অগ্রগতির জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ
জানান।
মিয়ানমার সরকার ১
লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করাকে
একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোল এ. চুলিক বলেন, আপনার দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসনীয় যে আপনি রোহিঙ্গা
সংকটকে আলাদাভাবে না দেখে মিয়ানমারকে একটি সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা
আঞ্চলিক সহযোগিতা, সংযুক্ততা ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধান
উপদেষ্টার দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ
ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং পুরো দ্বিপাক্ষিক
ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি
পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য পুনরায় চালু করায় এবং পাল্টা শুল্ক
আরোপের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের বিরতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ
জানান। তিনি বলেন, আমরা তার বাণিজ্য কর্মসূচিকে সমর্থন করার কাজ অব্যাহত রেখেছি।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা
উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র মিশনের প্রধান ট্রেসি অ্যান
জ্যাকবসন উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


পাবনা
সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায়
দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা গেছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় অভিযুক্তদের কেউ বাড়িতে
ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।
মঙ্গলবার
(৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের
মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা
যান।
তিনজন
হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন
শেখ, পাশের নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার
মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।
পুলিশ
ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে
ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে
উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের
বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের
কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।
পাবনা
সদর থানা পুলিশের ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু
হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ,
পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ
উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের
পর আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরে
অলিপ (৭) নামে এক শিশুর পাকস্থলী থেকে অসাবধানতাবশত গিলে ফেলা পাঁচ টাকার একটি কয়েন
কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই আধুনিক এন্ডোস্কোপি পদ্ধতির মাধ্যমে সফলভাবে অপসারণ করেছেন
চিকিৎসকরা।
ভুক্তভোগী
অলিপ আলফাডাঙ্গা উপজেলার সুজন শেখের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির
ছাত্র।
বুধবার
(৮ জুলাই) সকালে ফরিদপুরের বেসরকারি হ্যাপি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো লিভার সেন্টারের
চিকিৎসক ডা. নিমাই দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে
৬টার দিকে এন্ডোস্কোপি মেশিনের সাহায্যে শিশুর পাকস্থলী থেকে পাঁচ টাকার কয়েনটি সফলভাবে
বের করা হয়।
ভুক্তভোগী
শিশুর পরিবারের সদস্যরা জানান, খেলাধুলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত অলিপ পাঁচ টাকার একটি
কয়েন গিলে ফেলে। পরে অস্বস্তি অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শিশুর পাকস্থলীতে কয়েনটি আটকে থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে গ্যাস্ট্রো
লিভার সেন্টারের চিকিৎসক ডা. নিমাই দাসের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে
কয়েনটি সফলভাবে অপসারণ করেন। শিশুটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে
জানা গেছে।
কয়েনটি
বের করার পর শিশুটির বাবা সুজন শেখ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,‘আমার ছেলে কয়েন গিলে
ফেলায় আমরা খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে এবং চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায়
কোনো অপারেশন ছাড়াই কয়েনটি বের করা সম্ভব হয়েছে। আমরা চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
প্রতি কৃতজ্ঞ।
ডা.
নিমাই দাস বলেন, আধুনিক এন্ডোস্কোপি প্রযুক্তির কারণে বর্তমানে পাকস্থলী বা খাদ্যনালিতে
আটকে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর বস্তু নিরাপদ ও তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। ছোট শিশুদের
নাগালের মধ্যে কয়েন, ব্যাটারি, পিন বা অন্যান্য ছোট বস্তু রাখা উচিত নয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় বিএসটিআই, কুমিল্লা ও উপজেলা প্রশাসন, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লার যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিচালিত অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে 'মুড়ি' পণ্যের গুণগত মান সনদ গ্রহণ ব্যতীত প্রস্তুত, বিক্রয়-বিতরণ করায় "বিএসটিআই আইন-২০১৮" অনুযায়ী কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ এর বেলতলীর কৃষ্ণপুরে মেসার্স খোরশেদ চিড়া ও মুড়ি মিল প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার টাকা) এবং কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ এর গোপিনাথপুরের মেসার্স মমতা মুড়ি মিল প্রতিষ্ঠানটিকে "বিএসটিআই আইন-২০১৮" এবং "ওজন ও পরিমাপ মানদন্ড আইন-২০১৮" অনুযায়ী ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড করা হয়।
উক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সৈয়দ রেফাঈ আবিফ এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই, কুমিল্লা অফিসের কর্মকর্তা জনাব ইকবাল আহম্মদ, ফিল্ড অফিসার (সিএম) এবং প্রকৌ: আরিফ উদ্দিন প্রিয়, পরিদর্শক (মেট্রোলজি)।
জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


এ
বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে এ পর্যন্ত ১৯৯টি হজ ফ্লাইটে ৭৭ হাজার ৪৩২ জন বাংলাদেশি
হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
শুক্রবার
(২২ মে) বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, এসব হজযাত্রীদের মধ্যে
৪ হাজার ৪৬৪ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭২ হাজার ৯৬৮ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি
আরব গেছেন।
হজ
বুলেটিনে বলা হয়েছে, প্রাক-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বিমানের পাশাপাশি আরও
দুটি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ৭৭ হাজার ৪৩২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
এয়ারলাইনভিত্তিক
তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯৮টি ফ্লাইটে ৩৮ হাজার ৭০২ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের
৭৩টি ফ্লাইটে ২৭ হাজার ৩৪০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২৮টি ফ্লাইটে ১১ হাজার ৩৯০
জন হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন।
হজ
বুলেটিন অনুযায়ী, সৌদিতে এখন পর্যন্ত ২১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের
মধ্যে ১৫ জন পুরুষ এবং ছয়জন নারী। এসব হজযাত্রীদের ১৪ জন মক্কায় এবং সাতজন মদিনায় মারা
গেছেন।
বুলেটিনে
বলা হয়েছে, সৌদি মেডিকেল টিম গতকাল পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৪৪০ জন হজযাত্রীকে চিকিৎসা দিয়েছে।
আর আইটি হেল্পডেস্ক ২০ হাজার ২৮৮ জনকে সেবা দিয়েছে।
এ
বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সরকারি
ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী কোটা ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী কোটা
৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।
মোট
৬৬০টি এজেন্সি হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০টি প্রধান এজেন্সি এবং
৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি।
এর
আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১ টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে
৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
আগামী
২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি
ফ্লাইট শুরু হবে এবং ৩০ জুন পর্যন্ত তা চলবে।
মন্তব্য করুন


জয়পুরহাটের
কালাই উপজেলায় রাস্তার ওপর ধানবোঝাই ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের
মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে শুরু হওয়া বিরোধ মুহূর্তেই
রূপ নেয় সংঘর্ষে। এতে এক নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা
গুরুতর হওয়ায় তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা
হয়েছে।
শনিবার
(২০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
আহতরা
হলেন— মাহমুদুল হাসান মেহেদুল, আবু জাফর মো. সৌরভ, তুষার হোসেন,
আনোয়ার হোসেন, আরাফাত হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম, আব্দুল মোত্তালেব, হবিবর
রহমান, দুদু মিয়া ও মজিদা বিবি। তাদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম ও আবু জাফর মো. সৌরভ গুরুতর
আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়
সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ভ্যানচালক আতিকুল ইসলাম তার ভ্যানে ধানবোঝাই
করে রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রাখেন। এসময় গ্রামের ভেতর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাইগুনী
চারমাথা বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন আবু জাফর মো. সৌরভ। তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের সামনে এসে তিনি রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ধান বোঝাই ভ্যানের কারণে আটকে
যান। এরপর তিনি টানা হর্ন বাজাতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হর্নের শব্দে বিরক্ত
হয়ে আতিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল চালককে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন এবং ভ্যান সরানোর চেষ্টা
করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে
পড়লে দুই পক্ষের স্বজন ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয়
পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন।
আহত
আতিকুল ইসলামের মামা জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। ধান
বোঝাই ভ্যান সরাতে কিছুটা সময় লাগবেই। সে শুধু একটু সময় চেয়েছিল। কিন্তু মোটরসাইকেল
চালক কোনো কথা না শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাগ্নেকে মারধর করে। পরে তাদের লোকজন এসে
আরো কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে। আমার ভাগ্নের অবস্থা গুরুতর, তাকে বগুড়ায় ভর্তি করা
হয়েছে।
অন্যদিকে
আহত আবু জাফর মো. সৌরভের মামা মো. আমজাদ হোসেন দাবি করেন, ভ্যান সরাতে বলায় আতিকুল
আমার ভাগনাকে গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে হাতাহাতির সময় তার শার্ট ও গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলা
হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আমাদের পক্ষের ছয়জন
আহত হয়েছেন। আমার ভাগ্নের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।
কালাই
থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) দীপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত
ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে নতুন করে যাতে
কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো
পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়াল দুই হাজার ১৯ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার ডলার বা ২০ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে।
দুই সপ্তাহ ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার এ রিজার্ভ আবারো ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাপ্তাহিক নির্বাচিত অর্থনৈতিক সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অন্যদিকে, গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়াল দুই হাজার ৫৩২ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রধানত আমদানি ব্যয় মেটানো তথা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে ব্যবহার হয়। এ রিজার্ভ আর্থিক খাতের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক ঋণ, প্রবাসী আয়, বৈদেশিক ঋণ বা সহায়তা রিজার্ভের উৎস। আবার আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ-সুদ পরিশোধ, বিদেশে চিকিৎসা, শিক্ষাসহ হাজারো খাত রয়েছে ব্যয়ের ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জানুয়ারির শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে তা নেমে আসে ১৯ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারে (বিপিএম৬)। আগের সপ্তাহেও রিজার্ভের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৯৯৩ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার ডলার। মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এসে ১৬ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার যোগ হয়ে আবারো তা ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।
করোনা মহামারির মধ্যে আমদানি কমে গিয়েছিল। তবে প্রবাসীরা দেশে ফেরার সময় সঞ্চিত অর্থ নিয়ে আসেন। অনেকে বিদেশে থেকেও বাড়িতে স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠিয়ে দেন। এতে বাড়ে রিজার্ভ। ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন অতিক্রম করে। করোনার পর যখন দেশে দেশে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার শুরু হয়, তখন উল্টো অবস্থা তৈরি হয়। আমদানি ব্যয় বাড়তে থাকে। মূল্যস্ফীতি বাড়ে। রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ বিক্রি করে আমদানি ব্যয় সামাল দিতে হয়।
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকের একাধিক সূত্র বলছে, ওই সময়ে রিজার্ভ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল হুন্ডি বন্ধ হয়ে যাওয়া। তখন অধিকাংশ দেশ করোনা মহামারির বিস্তার রোধে অন্য দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে যেমন ডলার বাড়তে থাকে। আবার আমদানি কমে যাওয়ার কারণে খরচের খাতও ছোট হয়ে আসে।
মন্তব্য করুন


আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীকে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জনপ্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা
অনুযায়ী একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী বাহিনী
হিসেবে গড়ে তুলতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি
অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী
আজ দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের
স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা সনদ ও আর্থিক পুরস্কার
প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রত্যয় ব্যক্ত
করেন।
মন্ত্রী
বলেন, যারা সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সাথে
দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের কর্মের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে, যারা আইন-বিধি লঙ্ঘন করে জনসেবায় ব্যাঘাত ঘটাবেন বা অপকর্মে লিপ্ত
হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি তিরস্কারমূলক
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরস্কার
বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং সমসাময়িক
ও রাজনৈতিক নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মতিঝিল
মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) উদ্ধার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উল্টো রথযাত্রা বা কোনো বিশেষ
ধর্মীয় উৎসবকে লক্ষ্য করে এটি করা হয়েছে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই, বরং এটি কাকতালীয়। তিনি বলেন, ডিএমপি'র বোম্ব ডিসপোজাল
ইউনিটের তৎপরতায় তা নিষ্ক্রিয় করা
হয়েছে এবং ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সাবেক
রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পত্র সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা গৃহীত হয়েছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যেকোনো নাগরিক
বা রাজনৈতিক দলের মতামত ও প্রতিবাদ প্রকাশের
অধিকার রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পদাধিকার বলে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সাংবিধানিক সুরক্ষা
(ইমিউনিটি) পেয়ে থাকেন, তা বলবৎ থাকবে।
তাছাড়া আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতিকে এসএসএফ (SSF), পিজিআর (PGR) ও পুলিশ বাহিনীর
সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।
এ
বছর পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান অনুষ্ঠান না হওয়া সংক্রান্ত
প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা প্রাথমিক তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম ধরা
পড়ায় তা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্যদের মাঝে বিশুদ্ধ তালিকা অনুযায়ী পুলিশ পদক প্রদান করা হবে।
পুরস্কার
প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও অতিরিক্ত সচিব
(রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড.
জিয়াউদ্দিন আহমেদ। এ সময় অন্যান্যের
মধ্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থাপনা করেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) মো. কামরুল আহসান। অনুষ্ঠানে দুটি ভিন্ন সাহসিকতা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের
স্বীকৃতিস্বরূপ নয় জন পুলিশ
সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।
জাতীয়
জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ঢাকা রেলওয়ে
থানার যৌথ প্রচেষ্টায় ৩০ মিনিটের মধ্যে
প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধারের ঘটনায় যে সাতজন পুলিশ
সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়, তাঁরা হলেন যথাক্রমে ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জয়নাল আবেদীন, এএসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও মোঃ রাজিকুল
ইসলাম, কনস্টেবল মোঃ শাহীনুর ইসলাম ও আজমীর হোসেন
এবং পুলিশ টেলিকম সংস্থার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর এসআই (নিরস্ত্র)
মোঃ মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল মোঃ
বুলবুল আহমেদ।
ট্রাফিক
সার্জেন্ট কর্তৃক ছিনতাইকারী গ্রেফতারের ঘটনায় পুরস্কৃত দু'জন পুলিশ
সদস্য হলেন যথাক্রমে ডিএমপি'র ট্রাফিক মিরপুর
বিভাগের পল্লবী জোনের সার্জেন্ট এম এস মাহমুদ
আলি ও সার্জেন্ট মোঃ
তুহিনুর রহমান তুহিন।
মন্তব্য করুন


শুক্রবার
(২২ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের পিটিআইয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, মোটর সাইকেল চালক নয়ন (২২) ও তার বন্ধু জীবন (২১)।
নয়ন
সদর উপজেলার খন্দকারপাড়ার হাপুর ছেলে ও জীবন একই উপজেলার বন্দর গ্রামের আমিনুল ইসলামের
ছেলে।
ফায়ার
সার্ভিস বিভাগের স্টেশন অফিসার শামীম রেজা জানান, নয়ন একটি মোটরসাইকেলে বন্দর থেকে
বন্ধু জীবনকে তুলে নিয়ে মুজিবনগরের উদ্দেশে রওনা হয়। মোটরসাইকেলটি পিটিআইয়ের সামনে
পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই
নিহত হন নয়ন। গুরুতর আহত অবস্থায় জীবনকে নেওয়া হয় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে
দায়িত্বরত চিকিৎসক জীবনকেও মৃত ঘোষণা করেন।
মেহেরপুর
জেনারলে হসাপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সালেহীন কবীর জানান, দুজনেরই মাথায় গুরুতর
জখম হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
মেহেরপুর
সদর থানার ওসি (অপারেশন) সেলিম রেজা জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায়
ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ দুটি পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রংপুরে
একই পরিবারের চারজনকে হত্যার পর বাসার বাথরুমে গোসল করেন অভিযুক্তরা। এরপর ডাইনিং টেবিলে
বসে খেজুর ও শসা খান। সেখানেই ইয়াবা সেবন করেন তারা-এমনটাই জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন
পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
রোববার
(২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
এর
আগে, রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার জনকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুই যুবককে
গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ ভোরে নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের বাড়িও একই এলাকায়।
এর
আগে, শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা
স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী
ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২) মরদেহ
উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার পরও দীর্ঘ সময় ওই বাড়িতেই ছিলেন
দুই যুবক। হত্যাকাণ্ড শেষে তারা বাসার বাথরুমে গোসল করেন। এরপর ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর
ও শসা খান। সেখানেই ইয়াবা সেবন করেন। পরে জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে বাড়ি
থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে বেরিয়ে যান তারা।
ডিআইজি
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, রংপুর মহানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকায় সাবেক
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে ভোলা, মেয়ে প্রার্থী
চক্রবর্তী ও ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়মকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর রংপুর
মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিআইডি, ডিবিসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, গোয়েন্দা সংস্থা, গণমাধ্যমকর্মী
ও সমাজকর্মীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য
উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি
বলেন, গণপতি চক্রবর্তী একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো
কলহ বা বিরোধ ছিল না। পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি
চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যাতায়াত করত। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তারা ওই ছাদে বসে ইয়াবা
সেবন করছিল। এ সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে যান। তিনি খালি গায়ে ছিলেন এবং কাঁধে
গামছা ছিল। ছাদে বসে আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন। তখন নিজেদের পরিচয়
যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্য দুই আসামি তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যার সময় তার বাচার চেষ্টার শব্দ শুনে স্ত্রী
প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে তাকেও গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা
করা হয়। তার চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসেন। তাকেও গামছা
পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। আসামিদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থী চক্রবর্তী সহজে মারা যাচ্ছিলেন
না। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। একপর্যায়ে রশি দিয়ে তার
গলা ও মুখ পেঁচিয়ে জোরে টান দেওয়া হয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখ বেরিয়ে আসে।
তিনি
উল্লেখ করেন, এরপর নিচতলায় গিয়ে ঘুমিয়ে থাকা ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়মকে হত্যা করা হয়।
শিশুটির গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যার পর একপর্যায়ে বালিশ চাপা দেওয়া হয়। প্রিয়মের বয়স
আমার ছোট সন্তানের সমান। এ হত্যাকাণ্ডের কথা বলতে গিয়ে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। প্রিয়মকে
হত্যার কারণও আমরা জানতে পেরেছি। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়মের বন্ধুত্ব
ছিল। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। প্রিয়ম আসামিদের চিনত। এ কারণে সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত
নেয়, প্রিয়মকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এরপর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুজন মিলে শিশুটিকে
হত্যা করে।
তিনি
বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পরও আসামিরা ওই বাড়িতে অবস্থান করে। সকাল হলে তারা বাড়ির বাথরুমে
গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ এবং পরে মুগ্ধ গোসল করে। এরপর তারা ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর
খায়। সেখানে থাকা এক পিস ইয়াবা তারা সেবন করে। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়া
গেছে। খুনের পর তারা শসাও খেয়েছিল। ফ্রিজ থেকে নেওয়া একটি শসার অর্ধেক অংশ পাওয়া গেছে।
তাদের বক্তব্যের সঙ্গে এই আলামতও মিলে গেছে। খুনের পর তারা উত্তেজিত ছিল এবং শসা খেয়েছিল
বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।’
সংবাদ
সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, এরপর শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তারা বাড়ি থেকে বের হয়। তখন
মুসল্লিরা নামাজে ব্যস্ত থাকায় রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। তারা ওই সুযোগে বাড়ি থেকে কিছু
স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে সেগুলো মন্দিরের পেছনের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দেয়।
আসামিদের দেখানো মতে আজ এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানের
কারিগর। সে পিকে পাল জুয়েলার্সে প্রায় আট বছর ধরে স্বর্ণের কাজ করে। ফলে কোনটি স্বর্ণ
আর কোনটি ইমিটেশন, তা সে চেনে। ঘটনাস্থলে একটি চুরি আগুন দিয়ে পরীক্ষা করার আলামত পাওয়া
যায়। তখন আমাদের ধারণা হয়, স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
পরে সেই ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়।
এতে
বলা হয়, ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে এবং তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে
বাড়ির জিনিসপত্র এলোমেলো করে। বাড়িতে থাকা দুটি মোবাইল ফোনও তারা ডিটারজেন্ট মেশানো
পানিতে বালতির মধ্যে ভিজিয়ে রাখে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ফোনে যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট
না থাকে, সে জন্য তারা এ কাজ করে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত
পুরো ঘটনাটি ঘটে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে তারা কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে সেগুলো
পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দেয়।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পরস্পরের আত্মীয়। তারা মামাতো ভাই। ঘটনার আগে সীমান্ত
নামে একজনের বাসায় বসেও তারা ইয়াবা সেবন করে। সীমান্ত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।
এরপর তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করে। মুগ্ধ সিটি বাজারের রামনাথের
মাছের দোকানে কাজ করে। তার বাসার সামনে প্রশান্ত নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে। তার
কাছ থেকেই তারা ইয়াবা কিনত। প্রতি পিস ইয়াবার দাম ছিল ৩৫০ টাকা।
আসামিরা
যে ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যাতায়াত করত, সেটি দেবুদের ভবন। তারা ওই
ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যেত। গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রীকে তারা
‘কাকি’ বলে ডাকত। গণপতি চক্রবর্তীকে ‘স্যার’
বলে সম্বোধন করত। তাঁর মেয়ের সঙ্গে তাদের খুব একটা কথা হতো না। তবে ছোট শিশু প্রিয়মের
সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল এবং খেলাধুলার সম্পর্ক ছিল।
পুলিশ
জানান, দুই আসামিকেই আমরা গ্রেপ্তার করেছি। আজ ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার
দুজন হলেন শ্রীমুগ্ধ ওরফে মুগ্ধ, বয়স ২৩ বছর, পিতা কানুদাস ও মাতা সেনারী দাস এবং সিদ্ধার্থ
দাস, বয়স ১৯ বছর, পিতা বিনয়চন্দ্র দাস ও মাতা পাপড়ি দাস। দুজনেরই বাড়ি মাছুয়াপাড়া এলাকায়।
চারজনকে একের পর এক হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার
তদন্তে আমরা বিভিন্ন আলামত পেয়েছি। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
অর্ধেক খাওয়া শসা পাওয়া গেছে। একটি চুরি আগুন দিয়ে পরীক্ষা করার আলামত পাওয়া গেছে।
এসব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করেই আমরা তদন্তে অগ্রগতি পেয়েছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তার
করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনার শুরু থেকেই এটি হত্যা নাকি ডাকাতি—তা
নিয়ে আমাদের মধ্যে দ্বিধা ছিল। সে কারণে আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের
ক্ষেত্রে আমরা সতর্কতার সঙ্গে এগিয়েছি। এত দ্রুত সময়ে আসামিদের শনাক্ত করতে পারা আমাদের
তদন্ত দলের বড় সাফল্য।
সংবাদ
সম্মেলনে পুলিশ বলেন, এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪৩। দণ্ডবিধির
৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে পুলিশের পক্ষ
থেকে চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ঘটনাটি
অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হওয়ায় আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন
করেছি। তদন্তের স্বার্থে প্রতিটি পদক্ষেপ বিবেচনা করে নিতে হয়েছে। তাই সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে
গণমাধ্যমকে জানানো সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ ধরনের
কোনো তথ্যও আমাদের তদন্তে আসেনি।
মন্তব্য করুন