

এক পায়ে ক্র্যাচে ভর দিয়ে প্রতিদিন ৩ কিলোমিটার পথ হেঁটে নিয়মিত কলেজে যায় ইয়াছমিন আক্তার (২০)। অদম্য এই শিক্ষার্থী ইয়াছমিনের এক পা নেই, অন্য পা থাকলেও তা প্রায় শীর্ণকায়।এ গল্প নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গাংচিল গ্রামের দিনমজুর নুরনবীর মেয়ে ইয়াছমিন আক্তারের।
দেড় বছর বয়সে আগুনে পুড়ে এক পা হারিয়ে এমন বাস্তবতা নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন জীবনের ১৯টি বছর। তবুু কঠিন জীবন সংগ্রামে দমে যাননি। দরিদ্রতা আর শারীরিক অক্ষমতাকে জয় করে সে এখন জেলার সদর উপজেলার ড. বশির আহমদ কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক বিভাগে পড়ছেন।
জান যায়, ২০০৫ সালে শিশু ইয়াছমিনকে বিছানায় রেখে পাশের বাড়ি থেকে পানিতে আনতে যান তার মা। হঠাৎ করে চৌকির পাশে থাকা চেরাগ থেকে মশারিতে আগুন ধরে যায়। ওই আগুনে ইয়াছমিনের দুই পা দগ্ধ হয়। পরে ডাক্তারের পরামর্শে তার বাম পা কেটে ফেলতে হয়। পায়ের রগ পুড়ে অপর পাও অনেকটা শীর্ণকায় হয়ে যায়।
এরপরও অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে প্রথমে ভর্তি হন স্থানীয় পশ্চিম গাংচিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে গাংচিল কবি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে দেড় কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে প্রথমে স্থানীয় গাংচিল বাজারে যান। পরে সেখান থেকে গাড়ি করে বাড়ি থেকে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দূরে কলেজে ক্লাস করছেন নিয়মিত। আবার বাড়ি ফিরতেও তাকে হাঁটতে হয় দেড় কিলোমিটার পথ। এভাবে বয়ে চলেছেন জীবনের ভার। বছরে পাঁচ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী সরকারি ভাতা পান। কিন্তু সরকারের এ সহযোগিতা একেবারেই অপ্রতুল।
ইয়াছমিন আক্তার বলেন, অনেক কষ্ট করে আমি লেখাপড়া করছি। পড়ালেখা শেষ করে আমি শিক্ষক হতে চাই। সবার সহযোগিতায় একটি কৃত্রিম পা সংযোজন হলে আমার স্বপ্ন পূরণে সহজ হবে। ইয়াছমিনের বাবা নুরনবী বলেন, আমি একজন দিনমজুর। তবে শত কষ্ট-যাতনা সহ্য করে হলেও মেয়েকে লেখাপড়া করাব। তার একটি কৃত্রিম পা সংযোজনে সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে আসবেন বলে প্রত্যাশা।
ড. বশির আহমদ কলেজের প্রভাষক এএইচ তানিম জানান, আমরা তার কষ্টকে মূল্যায়ন করি। একই সঙ্গে তার চেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। কেননা ইয়াছমিন যেটা সম্ভব করে চলেছেন তা সবার কাছেই অনুপ্রেরণা ও দৃষ্টান্ত।
ড. বশির আহমদ কলেজের অধ্যক্ষ আঞ্জুমান আরা মুক্তা জানান, ইয়াছমিন প্রতিদিন তিন কিলোমিটার পথ এক পায়ে হেঁটে কলেজে আসা যাওয়া করছে। সে একজন জীবন সংগ্রামী তরুণী। অদম্য প্রচেষ্ঠায় তার গল্পটি হয়ে উঠেছে প্রেরণার।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর উদ্যোগে ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় নগর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মু. মোছলেহ উদ্দিন এবং পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান।
সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল, অফিস সম্পাদক জাকির হোসেন, অর্থ সম্পাদক আমীর হোসাইন ফরায়েজী, কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হোসাইন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মু. মোছলেহ উদ্দিন বলেন, “২৮ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে আওয়ামী বাকশালীরা দেশে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। যারা এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে, তাদের অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”
তিনি ২৮ অক্টোবরের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে ২৮ অক্টোবরের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম মুরাদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলার সদরে সম্পত্তির ভাগ না পাওয়ায় বাবার কবরে শুয়ে মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে নিহত ব্যক্তির আপন ছেলে।
শুক্রবার দুপুরে সদরের চাওড়া সরঞ্জাবাড়ি ইউনিয়নের বাটুল টারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মৃত ব্যক্তির তৃতীয় ছেলে নওশাদ আলী, বাবার মরদেহ দাফন ঠেকাতে কবরে শুয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, চাওড়া সরঞ্জাবাড়ি ইউনিয়নের বাটুল টারি গ্রামের বাসিন্দা চার সন্তানের জনক মজিবর রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে হটাৎ মজিবর রহমান মারা যান। তবে মৃত্যুর পূর্বে নওশাদ আলী ছাড়া মজিবর রহমান বাকি তিন ছেলেকে সব সম্মত্তি লিখে দেন। ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃতীয় সন্তান নওশাদ। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দেন তিনি। পরে পুলিশেই সহযোগিতায় মরদেহ দাফন করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম কবির শাহ বলেন, মৃত্যু মজিবর রহমান এর তৃতীয় ছেলেকে জমি লিখে না দেওয়ার কারণে তৃতীয় ছেলে বাবার দাফনে বাধা দেয়। পরে স্থানীয়রা সবাই মিলে পুলিশের সহায়তায় অন্য জায়গায় কবর খুড়ে মরদেহ দাফন করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে অন্য জায়গায় কবর খুড়ে দাফন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার সীমান্তবর্তী রসুলপুর রেলস্টেশন থেকে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ৮৭ লাখ ১৫ হাজার টাকার আতশবাজি ও কিসমিস জব্দ করেছে।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার ব্যাটালিয়ন -১০ বিজিবি অধিনায়ক ।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানাধীন রসুলপুর রেল স্টেশনে চোরাচালান বিরোধী ট্রাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয় অভিযান কালে পাস কোর্স সদস্যরা পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪ লাখ ২ হাজার ৫৭৫ পিস ভারতীয় অবৈধ বাজি এবং ৫৯ কেজি কিসমিশ আটক করেন।এসব পণ্যের বাজার মূল্য ৮৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অধিনায়ক লে.কর্নেল এ এম জাহিদ পারভেজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান কুমিল্লা ব্যাটেলিয়ান বিজিবি নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ কুমিল্লা জেলার রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে একটি চোরা চালান বিরোধী বিশেষ ট্রাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উক্ত অভিযানে সহকারী কমিশনার রতন কুমার দত্ত এর উপস্থিতিতে বিজিবি এবং পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স দল কর্তৃক মালিক বিহীন অবস্থায় ৪ লাখ ২ হাজার ৫৭৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় অবৈধ বাজি এবং ৫৯ কেজি কিসমিস আটক করা হয়। যার সর্বমোট মূল্য ৮৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
জব্দকৃত সকল অবৈধ দ্রব্য সামগ্রী বিধি মোতাবেক কাস্টমসে জমা করা হবে।
মন্তব্য করুন


শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী
রফিকুল আবরার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক
ড. মোঃ হায়দার আলী। আজ ১৬ মার্চ সকাল ১০.৩০টায় শিক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার
সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক
ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের
পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন এবং প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস. এম. শহিদুল
হাসান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ২৪ ইঞ্জিনিয়ার
কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রধান প্রকল্প সমন্বয়ক এএফডব্লিউসি, পিএসসি কর্ণেল আরিফুল ইসলাম
খান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পিএসসি
লেফটেন্যান্ট কর্ণেল জাহিদুল ইসলাম।
সৌজন্য সাক্ষাতে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের
সার্বিক বিষয় ও অগ্রগতি নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার সাথে কথা বলেন। শিক্ষা উপদেষ্টা উপাচার্যকে
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নসহ পরামর্শ প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিযান চালিয়ে একটি যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বাজি ও কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করেছে। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৭ লাখ ৫৫ হাজার ৬০০ টাকা।
রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধীন আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার বিওপির টহলদল সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় সীমান্ত থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মোঘলটুলি এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় একটি যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বাজি ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত এসব পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ৪৭ লাখ ৫৫ হাজার ৬০০ টাকা।
বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের এবারের এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল আজ রোববার (১০ আগস্ট) সকালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ৮৪৪ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ১৯০ জন। জিপিএ ৫ বেড়েছে ৬৭টি। আগে জিপিএ ৫ পাওয়াদের বিষয়ভিত্তিক গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ৯১ জনের। ফেল করা ৫৭ জনের ফেলই রয়ে গেছে।
বোর্ডেও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মো. কবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরীন বলেন, ১০ জুলাই কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডসহ সব বোর্ডেও এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। এরপর ১১ জুলাই থেকে পুনর্নিরীক্ষণ শুরু হয়েছে। অনলাইনে ১৭ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করেছেন ৩৫ হাজার ৫৩১জন। প্রতি পত্রের ফি ছিল ১৫০ টাকা করে। প্রতি বিষয় ফি ১৫০ টাকা। মোট ৭৫ হাজার ৮৭৭ টি পাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে।
এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষা দেয় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭২ জন। পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬০। এখন পুনর্নিরীক্ষণে পাসের হার বেড়েছে। জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৯০২ জন। এখন বেড়েছে আরও ৬৭ টি।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায়
চৌদ্দগ্রাম বাজার সংলগ্ন মহাসড়ক হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় মহাসড়কের শৃঙ্খলা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মিয়াবাজার হাইওয়ে থানাধীন চৌদ্দগ্রাম বাজার সংলগ্ন এলাকা হতে মহাসড়কে থাকা অস্থায়ী স্থাপনা সমূহ উচ্ছেদ করা হয়।
এ সময় হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের এডিশনাল ডিআইজি মো: খাইরুল আলম, কুমিল্লা হাইওয়ে সার্কেল এএসপি ও অফিসার ইনচার্জ মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও এই অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার অফিসার এর নের্তৃত্বে একটি টিম, এসি ল্যান্ড ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন,কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘটনায় মূলহোতা সিফাত ও আবরারসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, কোতয়ালী থানার পুলিশ ও র্যাব। রবিবার ও সোমবার পুলিশের অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও বুড়িচং উপজেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো: আব্দুল্লাহ।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা যায় কয়েকজনের হাতে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় চারজন। পরে তাদেরকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, মোস্তাফিজুর রহমান, অনয় দেবনাথ, মো. মাহিন ও মো. রিজভী। তারা কুমিল্লার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, রোববার সকালে কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শাখার ব্যবসা শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী জিসান ও তাহফিদের সঙ্গে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী তানভীন সিফাতের কথাকাটি হয়। এঘটনার সময় সিপাত ফাহাদকে হামলা করে এবং জিসানকে মারধরের হুমকি দেয়। পরে ফাহাদ ও সিফাতের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে সিফাত তার বিভিন্ন কলেজে থাকা বন্ধুদের কল দিলে তারাও তার সঙ্গে এসে যোগ দেয়। বেলা ১২ টার কিছু সময় পর কলেজের শিক্ষার্থীরা বের হওয়া শুরু হলে সিফাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা করে। এঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক তরুণ হাতে ধারলো রামদা নিয়ে অন্য তরুণদের দৌড়াচ্ছে। এসময় এক তরুণের হাতে পিস্তল দেখা যায়। তবে তার চেহারা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিলো না। ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে হাতে অস্ত্রসহ দেখা যাওয়া ঐ তরুণ সিফাত বলে জানা গেছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঁঞা বলেন, এঘটনায় পর কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এঘটনায় যতটুকু জেনেছি আহতদের কেউ ভিক্টোরিয়া কলেজের নয়। তবে ভিক্টোরিয়া কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা এঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যেই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং এঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থা করছি।
এই বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো: মহিনুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের সময় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে এসময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র কয়েকজনের হাতে দেখা যায়। ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাব। রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ও বুড়িচং উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে মূলহোতাসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৫ জন এবং র্যাব ২ জনকে গ্রেফতার করে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা
উত্তর জেলা যুব মহিলা লীগের সদস্য তানিয়া আক্তার বিথিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ
শনিবার (৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় দেবীদ্বার পৌরসভার ছোটআলমপুরের নিজ বাড়ি থেকে তাকে
গ্রেপ্তার করা হয়।
বিথি
দেবীদ্বার পৌরসভার ছোটআলমপুরের মোখলেছুর রহমানের মেয়ে।
পুলিশ
জানান, গত ৪ আগস্ট আন্দোলনে নিহত আব্দুর রাজ্জাক রুবেল ও ৫ আগস্ট আমিনুল ইসলাম
সাব্বির হত্যাসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
৪
আগস্ট ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় বিথির সরাসরি যুক্ত থাকার
একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুদ্দীন
মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, শনিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর
হামলা ও মারধরের ঘটনায় মোট ৬টি মামলা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাসোসিয়েশন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় -এর উদ্যোগে এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগিতায় ‘বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও বাংলাদেশের বাস্তবতা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।
বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসাইন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুর রহমান জীবল এবং ড. মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। সেমিনারটির সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল।
এছাড়া লোকপ্রশাসন এবং আইন বিভাগের শিক্ষকগণও উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ এবং পৃথকীকরণ পরবর্তীতে বাংলাদেশের ওপর কী প্রভাব পড়বে- এ বিষয় নিয়ে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, 'বাংলাদেশের চালিকাশক্তির তিনটা স্তম্ভ হলো-আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ। এ তিনটা বিভাগের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা হওয়া দরকার ছিল, কোন বিভাগ কত ভালো করবে। স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনা করতে হলে বিচার বিভাগকে স্বাধীন হতে হবে। যারা নির্বাহী বিভাগে কাজ করেন তাদেরও স্বাধীন হতে হবে। অন্যথায় আবার সেই ফ্যাসিজম আরও ভয়ানকভাবে ফিরে আসবে।'
অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন বলেন, 'কীভাবে রাষ্ট্র কাঠামো হবে এর ওপর অনেকে তাদের বিজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। আপনি একটা রাষ্ট্রের সংবিধান করবেন, আইন করবেন কিন্তু সেটা জনবান্ধব অথবা সেটা জনগণের জন্য কল্যাণকর কি-না, সংবিধান সেটা দেখার দায়িত্ব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট কে। কোনো আইন যদি জনকল্যাণকর না হয় তাহলে সুপ্রিমকোর্ট সেই আইন ডিক্লাইন করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, '১৭৩১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ১৮৬ বছরে ১৮২ বার বিচার বিভাগকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে। কারণ রাজা যে শাসন চালাবে, কেউ যদি তাকে হস্তক্ষেপ করে তাহলে সে তো এটা স্বাভাবিকভাবে নিবে না। ২০০৭ সালে আমার মামলায় (মাসদার হোসেন মামলায়) বিচার বিভাগকে কাগজ-কলমে আংশিক স্বাধীন করা হলেও আসলে এটি স্বাধীন হয়নি। তবে এখন সংস্কার কমিটির কাজ চলমান আছে।'
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, 'আমরা আশা করি বাংলাদেশ একটি উন্নত বিচার ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে। যেখানে মানুষ মনে করবে এটা তার শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে গিয়ে সে ন্যায় বিচার পাবে, সে যেই রাজনৈতিক দলের হোক, যে ধর্মের হোক, দুর্বল কিংবা শক্তিশালি হোক।'
সেমিনারটির সভাপতি মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, 'রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ণের কারণে প্রশাসক ও বিচারকদের স্বাধীনতা আমাদের দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। মাসদার হোসেন মামলা ২০০৭ সালে ফয়সালা হয়েছে। উনি একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, নিজেই একজন প্রতিষ্ঠান। দেশে-বিদেশে মাসদার হোসেন মামলা এখন পঠিত বিষয়। তিনি একজন বিচারক এবং আইন সংস্কার কমিশনেরও একজন সদস্য।'
মন্তব্য করুন