

কুমিল্লার
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯জানুয়ারী)
দুপুর দেড়টার দিকে মহাসড়কের হাসানপুর কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক
শাফিন (১৮) আহত হয়েছেন।
নিহত মীম (১৭) হাসানপুর
শহীদ নজরুল ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহত মীম তিতাস উপজেলার
লালপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। আহত শাফিনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে দূর্ঘটনার পর পরই
ফুটওভার ব্রিজের দাবীতে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করেন। দুই ঘন্টাব্যাপি
অবরোধে সড়কের উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয় । সড়কের উভয় দিকে
কয়েক শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী কলেজে
আরেক শিক্ষার্থী ইউসুফ জানান, কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী শাফিনের মোটরসাইকেটিকে পেছন
থেকে একটি পিকআপ ধাক্কা দেয়। এতে কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মীম রাস্তা পার
হওয়ার সময় মোটরসাইকেলটি তাকে ধাক্কা দেয়। তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গৌরীপুরে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলেজের সমাজ কল্যান
বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোলাইমান বলেন, দুপুর সোয়া ১টায় নাস্তার সময় সড়কের দক্ষিণ
পাশে নাস্তা খেয়ে আসার সময় দূর্ঘটনায় মারা যায়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে
থানার ওসি মোঃ শাহীনুল ইসলাম বলেন, রাস্তা পার হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত
কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মোঃ আরফাতুল আলম বলেন, দূর্ঘটনা এবং সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে
যাই। অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের দাবীর বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হবে বলে
আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
মন্তব্য করুন


বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কালের বির্বতনে হারিয়ে
যাচ্ছে গ্রাম বাংলার এক সময়ের ধান চাল ভাঙার একমাত্র অবলম্বন ঢেঁকি। গ্রাম বাংলার
ঐতিহ্য ঢেঁকি এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। সময়ের বির্বতনে বিলীন হতে চলেছে ঢেঁকি।
উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে দেখা মিলতো ঢেঁকির। এখন ঢেঁকির কদর
কমে যাওয়ায় তেমন আর দেখা মেলে না। অনেক দরিদ্র পরিবার ঢেঁকিতে চাল ভাঙিয়ে
হাটে-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। আর ঢেঁকিতে ভাঙা চাল খুব সুস্বাদু ও
পুষ্টি সমৃদ্ধ হওয়ায় ওই চালের খুব কদর ছিল কিন্তু কালের বিবর্তনে ধান, গম, ভাঙার
মেশিনের কারণে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আজ বিলপ্তির পথে। গ্রাম-গঞ্জে গেলে
এখনো দু-একটি বাড়িতে ঢেঁকি দেখা গেলেও ভবিষ্যতে ঢেঁকির প্রচলন থাকবে না বলে মনে
করেন সচেতন মহল। বর্তমানে বিভিন্ন গ্রামের কয়েকটা বাড়ি ঘুরলে দেখা মেলে ঢেঁকির।
সেগুলো আবার রয়েছে অযন্তে। অথচ একদিন ঢেঁকি ছাড়া গ্রাম কল্পনা করাও কঠিনতর ছিল। যেখানে
বসতি সেখানেই ছিল ঢেঁকি। কিন্তু আজ তা আমাদের আবহমান গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে
যাচ্ছে। এক সময় বোয়ালমারী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে প্রতিটি পরিবারেই
ধান-চাল গুঁড়ো করার ঢেঁকির প্রচলন ছিল। ঢেঁকি থেকে উৎপাদিত চালের ব্যাপক প্রচলন।
তখনকার সময়ে পরিবারের নারীরা ধান, গম, চালসহ বিভিন্ন খাদ্য শস্য ভাঙার কাজ
ঢেঁকিতেই করতেন। বিশেষ করে ঈদ, নবান্ন উৎসব পৌষ পার্বনসহ বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে
পিঠা-পুলি খাওয়ার জন্য অধিকাংশ বাড়িতে ঢেঁকির নতুন ধানের চালের গুঁড়া তৈরির ধুম
পড়ে যেত।
কেওয়াগ্রাম বাসিন্দা আবু সায়েদ মৃধা বলেন, একসময় এই অঞ্চলে ঢেঁকিতে ধান ভাঙার ব্যাপক প্রচলন ছিল। ঢেঁকি ভাঙার চালের ভাতে অনেক পুষ্টি ও অনেক সুস্বাধু ছিলো। এখন মেশিনের ধান ভাঙার চালে ও ভাতে কোনো স্বাদ নেই। বিভিন্ন উৎসবের সময় প্রতিটি বাড়িতে নতুন জামাই মেয়ে ও অতিথিদের উপস্থিতিতে বাড়ি ছিল কোলাহল পূর্ণ। গভীর রাতে ঢেঁকিতে ধান ভাঙার শব্দ শুনা যেত। কিন্তু কালের বির্বতনে ও সময়ের চাহিদা অনুয়ায়ী আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকি। তারপরও সেই ঢেঁকির কদর বোয়ালমারী প্রত্যন্ত অঞ্চলে দু-একটি বাড়িতে এখনো দেখা গেলেও অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে এক আসামিসহ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমাণ ৪০ হাজার পিস বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৩ মে ২০২৬) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ লক্ষিপুর বিওপির একটি টহলদল মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সদর দক্ষিণ উপজেলার দূর্লভপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আবু সাঈদ (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আটক আবু সাঈদ সদর দক্ষিণ উপজেলার দক্ষিণ সূর্যনগর গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ তাকে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদক নির্মূলে বিজিবির এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন


জাহাঙ্গীর আলম, কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে সেনাবাহিনীর টহল জোরদার হওয়ায় এখন অপরাধ জগত কাঁপছে। বিশেষ করে দায়িত্বরত সেনাবাহিনী মব ভায়োলেন্স এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ায় চিহ্নিত অপরাধীরা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। ফলে জেলার সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
কুড়িগ্রামের সেনাক্যাম্প সূত্র জানিয়েছে- আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সেনাবাহিনী সর্বদাই প্রস্তুত রয়েছে। কুরবানীর পশুর হাটগুলিকে শতভাগ নিরাপদ রাখার জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কুরবানী ঈদকে সামনে রেখে বাড়ি ফেরা মানুষগুলো যাতে এতটুকু ভোগান্তির শিকার না হয় সেদিকেও বিশেষ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। এছাড়াও অবৈধ মাদক পাচার, পেশি শক্তির ভয় দেখিয়ে অবৈধ দখল দারিত্ব ও টেন্ডারবাজি সহ স্পর্শকাতর সকল ধরনের অপরাধ দমনের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে কুড়িগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী।
কুড়িগ্রাম জেলা সম্মিলিত শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আব্বায়ক মো: আয়নাল হক সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, আমাদের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সাধারণ শ্রমিকরা সুখে- শান্তিতে কাজ করতে পারবে। সেনাবাহিনীর মহতি উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারি অধ্যাপক অনিরুদ্ধ রেজা জানান, সেনাবাহিনী অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত অবস্থান নেয়ায় একদিকে যেমন অপরাধের মাত্রা কমিয়ে এসেছে, অন্যদিকে আমরা সাংবাদিকগণ নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে সব ধরনের সংবাদ পরিবেশন করতে পারবো।
কুড়িগ্রাম সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার জানান- অপরাধী যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে অথেনটিক ইনফরমেশন পেলে আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমাদের প্রধানতম দায়িত্ব হচ্ছে কুড়িগ্রামকে অপরাধমুক্ত করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।
মন্তব্য করুন


শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টা ৪৫ মিনিটে কুমিল্লা
পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় চট্টগ্রামমুখী আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস এর ট্রেনটিতে
কাটা পড়ে একজন নারী মৃত্যুবরণ করেছে।
রেলওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে লাশটি রেখেছেন
সনাক্ত করার জন্য।
নিহত নারীর পরিচয়: নাম: খোদেজা বেগম, পিতা: আবদুল
করিম, মাতা: মনোয়ারা বেগম, দক্ষিণ পিয়ারা
পুর, মহেশগঞ্জ,নোয়াখালী, ৭নং ওয়ার্ড নিবাসী।
এ বিষয়ে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের আইসি সোহেল মোল্লা
জানান, ইতিমধ্যে সিআইডির সহায়তায় পরিচয় সনাক্ত করা গিয়েছে। লাশটির পোস্টমর্টেম ইতিমধ্যে
সম্পন্ন হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে মৃত ব্যক্তি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ভূমিকম্প চলাকালীন
হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে ২ শতাধিক গার্মেন্টস কর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল
৯টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ছুপুয়া এলাকায় অবস্থিত
আমির শার্ট গার্মেন্টেস এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম
উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন, আহতদের সেবায় আমাদের একাধিক
টিম কাজ করছে। এ পর্যন্ত কতজন ভর্তি হয়েছেন সেটার সঠিক সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। তবে এ
সংখ্যা দুই শতাধিক হবে। এছাড়া একের পর এক আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।
আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ভূমিকম্পে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন
বলে শুনেছি।
এদিকে, ভূমিকম্পের ঘটনায়
কুমিল্লা ইপিজেড ও কুমিল্লা মহিলা কলেজে আহত হয়ে ৪জন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
পরিচালক আজিজুর রহমান সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
ক্লুলেস শরীফ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার এবং হত্যাকান্ডে
ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করেছে বরুড়া থানা পুলিশ।
গত
২৭ মার্চ সকালে বরুড়া থানাধীন বরুড়া পৌরসভাস্থ শালুকিয়া এলাকায় শরীফ হোসেন(৩৫) এর মৃত
দেহ তার ঘরে মাটিতে পড়া অবস্থায় ছিলো।
মৃত
শরীফ হোসেন এর মা রৌশন আরা বেগম থানায় এজাহার দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন এসআই(নিঃ)
নাজিম উদ্দিন।
ভিকটিম
শরীফ হোসেন(৩৫) এর লাশ পাওয়ার পর হতে পুলিশ সুপার, কুমিল্লার সার্বিক দিক নির্দেশনায়
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এ,কে,এম এমরানুল হক মারুফ, সদর দক্ষিণ সার্কেল, কুমিল্লার
তত্ত্বাবধানে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী, এসআই(নিঃ) নাজিম
উদ্দিনসহ বরুড়া থানা পুলিশের একটি চৌকস টীম তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
তবে
নিহতের পরিবার ও এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে হত্যাকান্ডের কোন যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছিল
না। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের
শনাক্তের জন্য বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জসহ টীম বরুড়া বারবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও
জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তদন্ত কার্যক্রমের একপর্যায়ে হত্যাকান্ডে জড়িত
আসামী ১। আরিফ হোসেন(২২), ২। মোঃ নাছির উদ্দিন(৪৩), ৩। মিসেস খুকী আক্তার(৩৫) কে গ্রেফতার
করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হত্যাকান্ডের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ১নং আসামী মৃত
শরীফ হোসেন এর ছোট ভাই, ৩নং আসামী মৃত শরীফ হোসেনের বড় বোন এবং ২নং আসামী ৩নং আসামীর
স্বামী।
গ্রেফতারকৃত
আসামীরা হত্যাকান্ডের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানান, মৃত শরীফ হোসেন উচ্ছৃঙ্খল
জীবন যাপন করত। সে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল। এলাকার লোকজন তাকে
ভয় পেতো। মৃত শরীফ হোসেন তার মাকে প্রায় সময়ই গালিগালাজ ও মারধর করত। ছোট ভাই আরিফ
হোসেনের সাথেও তার ঝগড়াঝাটি ছিল। কিছুদিন আগে আরিফ হোসেন এর একটি অটোরিক্সা শরীফ হোসেন
জোরপূর্বক বিক্রি করে। ইহাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া
মৃত শরীফ হোসেন এলাকার লোকজনের বিভিন্ন রকম ক্ষতি করায় ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন তার বড় বোন
খুকি আক্তার এর নিকট বিচার প্রার্থী হলে বড় বোন শরীফ হোসেনকে শাসন করার জন্য বিভিন্ন
কথাবার্তা বলত। ফলে মৃত শরীফ হোসেন বোনকে শক্র মনে করত। এমনকি বোনকে বিভিন্ন রকম হুমকি
দিতো। মৃত শরীফ হোসেনের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে বড় বোন খুকি আক্তার, বোনের স্বামী মোঃ
নাছির উদ্দিন ও ছোট ভাই আরিফ হোসেন তাদের একজন প্রতিবেশীকে নিয়ে পরিকল্পনা করে যে,
শরীফ হোসেনকে মারপিট করে পঙ্গু করে ঘরে বসিয়ে খাওয়াইবে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামীগন
গত ২৬/০৩/২০২৪খ্রিঃ তারিখ দিবাগত রাত ১টায় ঘটিকার সময় বরুড়া থানাধীন বরুড়া পৌরসভাস্থ
শালুকিয়া সাকিনের শঙ্কু ডাক্তারের পুকুর পাড়ে নির্জনস্থানে শরীফ হোসেনকে একা পেয়ে আসামীদের
হাতে থাকা রড, দা ও টর্চ লাইট দিয়ে শরীফ হোসেনের মাথা, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে
পিটিয়ে গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত ও ফুলা জখম করে। তারপর শরীফ হোসেনের হাত পা বেধে আসামী
নাছির উদ্দিনের বাড়ির উঠানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর শরীফ হোসেনকে আবারও মারপিট
করে। তারপর শরীফ হোসেন দুর্বল হয়ে গেলে আসামীগন হাত পা বাঁধা অবস্থায় শরীফ হোসেনকে
তার ঘরে মাটিতে ফেলে আসে। সকালে আসামীরা জানতে পারে শরীফ হোসেন মারা গেছে। সংবাদ পেয়ে
আসামীরা শরীফ হোসেনকে দেখতে যায়।
হত্যাকান্ডে
আসামীদের ব্যবহৃত দা, রড, টর্চ লাইট উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ
জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী ১।
আরিফ, ২। নাছির এর ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসদরের আঁধারকোঠা মহল্লায় অবস্থিত
একটি অনুমোদনহীন শিশু খাদ্যের কারখানায় অভিযান চালিয়ে কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছে
ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় কারখানার মালিক জাহিদ বিশ্বাসকে (৬০) পঞ্চাশ হাজার টাকা
জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অস্বাস্থ্যকর শিশু খাদ্য সহকারী
কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে বিনষ্ট করা হয়।
শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রাব্বানী সোহেল ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। ভোক্তা
অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় এ জরিমানা করা হয়। আদালত সুত্রে জানা যায়,
আঁধারকোঠা মহল্লার একটি বাড়িতে জাহিদুল ইসলাম (৬০) কারখানা
বসিয়ে অস্বাস্থ্যকর শিশু খাদ্য উৎপাদন করছিলেন। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া ঢাকার
ঠিকানা ব্যবহার করে আব্দুল্লাহ ফুড নাম দিয়ে অস্বাস্থ্যকর এবং নিম্নমানের নকল শিশু
খাদ্য জুস, আইস
ললি,
তেঁতুলের চাটনিসহ নানারকম শিশু খাদ্য উৎপাদন করছিলো।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত
পরিচালনা করা হয়। পরে ওই সব অনুমোদনহীন অস্বাস্থ্যকর পণ্য উদ্ধার করে বিনষ্ট করা
হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম রাব্বানী সোহেল বলেন,
স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ সকল পণ্য। এরকম নকল
পণ্য উৎপাদনের জন্য কারখানা মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে ওই সব
অনুমোদনহীন অস্বাস্থ্যকর পণ্য ধ্বংস এবং কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ২০ কেজি গাঁজা’সহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গত ২৩ জুন রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন রাঙ্গুরি মধ্যমপাড়া এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আসামী ১। মারুফ হোসেন (২২) ও ২। সাকিবুল হাসান (২১) নামক ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় আসামীদ্বয়ের হেফাজত হতে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মারুফ হোসেন (২২) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার রাঙ্গুরি মধ্যমপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস এর ছেলে এবং ২। সাকিবুল হাসান (২১) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার বামুইল গ্রামের মোঃ লিটন এর ছেলে।
আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায় যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে।
র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


তিস্তা নদীতে ভেসে আসা মেহেদি রাঙা হাত বাঁধা সেই কিশোরীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে। সে মরদেহটি নববধূ জোসনা বেগমের (১৫)। সে নীলফামারীর ডিমলা থানার খড়িবাড়ী এলাকার জহর আলীর স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উন নবী।
এরআগে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কুটিরপাড় বালুর বাঁধ এলাকার চর থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ।
মরদেহটি পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় ছিল। মেহেদি-রাঙা হাতে লেখা ছিল ‘আই লাভ ইউ’।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানান, ২০ দিন
আগে জাহিদ হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় স্কুলছাত্রী জোসনার। গত শুক্রবার চাচাতো বোনের বিয়ের
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আসেন তিনি। ওই দিন বিকেলে সেখান থেকে
নিখোঁজ হন নববধূ জোসনা বেগম। তখন পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন বিয়ের আগের প্রেমিকের
হাত ধরে চলে যেতে পারে জোসনা। সেই ধারণা থেকে ডিমলা থানায় মামলা দায়ের করেন তার পরিবার।
এদিকে গত রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে
মহিষখোচা ইউনিয়নের চৌরাহা মাদরাসা এলাকায় তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ভেসে আসা তরুণীর মরদেহ
দেখতে পান স্থানীয় কৃষকরা। মেহেদি রাঙা হাতে আই লাভ ইউ লেখা এবং দু'হাত ওড়না দিয়ে পেছন
দিক থেকে বাঁধা। মুখ এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়া ছিল। পরে খবর পেয়ে সোমবার সকালে জোসনার পরিবারের
সদস্যরা এসে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে মরদেহ শনাক্ত করেন। এরপর ডিমলা থানায় মামলা থাকায়
মরদেহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের উপস্থিতিতে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে আদিতমারী
থানার ওসি মাহমুদ উন নবী বলেন,
মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আদিতমারী
থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রোববার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়া থানা অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস্) আবদুল্লাহিল কাফি জানান, পোশাক কারখানা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন প্রদানের সময় স্ট্যাম্পের চাহিদার সুযোগ নিয়ে কোটি টাকার জাল স্ট্যাম্প সরবরাহ করে আসছিল একটি চক্র। এমন চক্রের সন্ধান পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে আশুলিয়া থানা পুলিশ আর এ অভিযানে বিপুল সংখ্যক জাল স্ট্যাম্পসহ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-বরিশাল জেলার সদর থানার ব্রাউন কম্পাউন্ড রোড এলাকার মৃত আ. রশিদ হাওলাদারের ছেলে মো. আসিফ ইকবাল (৩৮) ও মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার বাহেরচর গ্রামের হোসেন মোল্লার ছেলে মো. জুয়েল (৪২)। একটি পোশাক কারখানায় জার স্ট্যাম্প বিক্রির সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস্) আবদুল্লাহিল কাফি বলেন, জাল স্ট্যাম্প তৈরির কারখানা আমরা গত ঈদের আগে শনাক্ত করে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছি। তারা কিন্তু ধরন পরিবর্তন করেছে। পোশাক কারখানার বেতনের সময় ১০ টাকার জাল স্ট্যাম্পের প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে পণ্য শিপমেন্টের সময় ৫০০ টাকার স্ট্যাম্প প্রয়োজন হয়। এ চাহিদাকে চক্রটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার ডংলিয়ন পোশাক কারখানায় জাল স্ট্যাম্প বিক্রি করতে আসেন আসামি আসিফ ইকবাল। খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
পুলিশের উপস্থিত বুঝতে পেরে তিনি আসিফ ইকবাল পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ টাকা মুল্যের ২ লাখ ৯০ হাজার ২০০ টি রিভিনিউ স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার মৌচাক বাজারের ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে মো. জুয়েল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ১০ টাকা মূল্যের ১০ হাজার ও ৫০০ টাকা মূল্যের ৪০ হাজার স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। যার মুল্য দুই কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ জাল স্ট্যাম্পের কারখানার করা হচ্ছে। দ্রুত কারখানাসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন