

ঈদ উপলক্ষে কুমিল্লা বিসিকে (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) উৎপাদিত সেমাই বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, মুন্সীগঞ্জ, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুরসহ ২০-২২টি জেলায় যাচ্ছে।
সূত্রমতে, কুমিল্লা বিসিকের পাঁচটি কারখানায় সেমাই উৎপাদন করা হয়। সেগুলো হচ্ছে কুমিল্লা ফ্লাওয়ার মিল, রিয়াজ ফ্লাওয়ার মিল,মেট্রো কনফেকশনারি, খন্দকার ফুড ও মক্কা কনজুমার এন্ড ফুড প্রোডাক্টস। বিসিক ছাড়া কুমিল্লা আদর্শ সদর ও বিভিন্ন উপজেলায় সেমাই উৎপাদন হয়ে থাকে। কারখানা গুলোতে বাংলা ও লাচ্ছা নামে দুই ধরনের সেমাই তৈরি করা হয়।
কুমিল্লা বিসিকের কুমিল্লা ফ্লাওয়ার মিলে গিয়ে দেখা গেছে, মেশিনে গর গর শব্দে বাংলা সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছে। সেই সেমাই ছাদে শুকানো হচ্ছে। শুকানোর পর সেটা উনুনে ভাজা হয়। ঈদ বাজারের চাহিদা মেটাতে দ্রুত প্যাকেটজাত করছেন শ্রমিকরা। ঘণ্টায় একজন শ্রমিক দুই থেকে আড়াইশ’ প্যাকেট করছেন। কেউ প্যাাকেট, কেউ ওজন, কেউ মুখ লাগানোর কাজ করছেন। কেউ কার্টনে সেমাই ভরছেন।
কুমিল্লা ফ্লাওয়ার মিলের সেমাই কারখানার সুপারভাইজার মো. মহসীন, শ্রমিক ফজলে রাব্বী ও হালিমা আক্তার বলেছেন, ঈদের অল্প কয়েকদিন বাকি। এখন বাজারে সেমাইয়ের চাহিদা রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দ্রুত কাজ করতে হচ্ছে।
নগরীর কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী টিপু সুলতান বলেছেন, কুমিল্লা বিসিকে উৎপাদিত সেমাইয়ের সুনাম রয়েছে। তাই স্থানীয় বাজারে এর চাহিদাও ভালো।
কুমিল্লা ফ্লাওয়ার মিলের পরিচালক সৈয়দ গোলাম কাদের তানিন বলেছেন, আমরা ৩ দশক ধরে মান সম্মত উপায়ে সেমাই তৈরি করি। এখানে সেমাই তৈরিতে কৃত্রিম কিছু ব্যবহার করা হয় না। আমাদের সেমাই বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বেশি বিক্রি হয়। বাংলা সেমাই আল-নূর, কুলসুম নামে এবং লাচ্ছা সেমাই তানিন নামে বাজারজাত করি। চরাঞ্চলে বাংলা সেমাইয়ের চাহিদা বেশি।
বিসিক কুমিল্লার ডিজিএম মো. মুনতাসির মামুন বলেছেন, কুমিল্লা বিসিকের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনে সুনাম রয়েছে। তার একটি সেমাই। এখানে উৎপাদিত সেমাই ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। এখানের সেমাই মান সম্মত। মান রক্ষায় আমরা নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন করি।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ রেলওয়ে কোটা সংস্কার
আন্দোলনকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেন চলাচল
বন্ধ রেখেছে ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাতে
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় বাণিজ্যিক বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি গণমাধ্যমকে
নিশ্চিত করে বলেছে, চলমান পরিস্থিতিতে এ অবস্থায় যারা অগ্রিম টিকিট কিনেছেন তাদের টাকা
ফেরত দিচ্ছে প্রতিষ্ঠান।
গত ১৮ জুলাই রাজধানীর নাখালপাড়া
রেলগেট এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীরা রেললাইনের ওপর আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করলে জননিরাপত্তার
স্বার্থে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে
রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিমও জানান, ট্রেন না চলার কারণে টিকিট রিফান্ড করতে হচ্ছে।
এটা সবচেয়ে বড় ক্ষতি। এখন পর্যন্ত ১৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি টিকিট রিফান্ড করা হয়েছে
যাত্রীদের। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে রেলওয়ের মোট ক্ষতি হয়েছে ২২ কোটি
৩ লাখ ৮ হাজার টাকা।
এদিকে গত ১৯ তারিখ থেকে সারা
দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওইদিন থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত ট্রেনের
টিকিটের টাকা যাত্রীদের রিফান্ড করা হচ্ছে।
তরে যাদের টিকিট অনলাইন থেকে
কেনা হয়েছে, তাদের অনলাইনে এবং যারা কাউন্টার থেকে কিনেছেন, তাদের কাউন্টারের মাধ্যমে
টিকিটের বিপরীতে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
আর এই সম্পূর্ণএই সময়ের মধ্যে
যেসব আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছে, সেসব ট্রেনের টিকিটের টাকা আন্তঃদেশীর কাউন্টার
থেকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


যুব
ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পে
১৮ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আজ
রোববার ( ৪ জানুয়ারি ) সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের ৪৮
জেলায় শিক্ষিত ও কর্ম প্রত্যাশী যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান
সৃষ্টি শীর্ষক প্রকল্পের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি
এ কথা বলেন।
ড.
আসিফ নজরুল বলেন, দেশের শিক্ষিত যুবকদের মাঝে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রচুর উপযোগিতা রয়েছে
এবং এটাকে আমাদের আরও বিস্তৃত করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধাটা হচ্ছে, এখানে আপনাকে
চাকরির পেছনে ঘুরতে হয় না। বিজনেস করতে হলে বা অর্থসংস্কার করতে হলে, আপনার সে রকম
কোন ইনভেস্টমেন্ট লাগে না। তিনি আরও বলেন, আপনি বাসায় বসে সব কিছু করতে পারছেন। আপনাকে
বড় একটা দোকান দিতে হচ্ছে না। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনাকে চাকরি করার জন্য দেশে বিদেশে
দালালের পেছনে ঘুরতে হচ্ছে না এবং আপনারা জানেন যে আজকে এই তথ্য প্রযুক্তির মহা উন্নয়নের
যুগে আপনি কোথায় বসে কাজ করছেন? কটার সময় বসে কাজ করছেন এটা ম্যাটার করে না। এই স্থানিক
দূরত্ব এখানে ইমমেটোরিয়াল হয়ে গেছে।
উপদেষ্টা
বলেন, বাংলাদেশের বহু মানুষের ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে
ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের বিরাট সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সুযোগটা
চীন ও ভারতের মত দেশগুলো প্রচন্ডভাবে গ্রহণ করছে।
যুব
ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, আমরা সবে মাত্র শুরু করেছি। আমাদের এই ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ
প্রকল্প, এই ধরনের প্রকল্প আরো অনেক বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে, এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ড.
আসিফ নজরুল আরও বলেন, আমি আশান্বিত যে এই প্রকল্পে
শেষ পর্যন্ত ১৮ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এটা এনাফ না, এটা তো আসলে অনবরত
হওয়া উচিত। এটা ১৮ হাজার না, ১৮ লাখ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে
যারা আছেন, ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ে যারা আছেন, যারা এই প্রকল্প গ্রহণ করেছেন তাদেরকে
আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই শুভেচ্ছা জানাই। উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে যারা ইনভলভ
আছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাই। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, এই
ধরনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে সব প্রশিক্ষণ প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোকে এই প্রকল্পের আওতা
থেকে আমাদেরকে বের করতে হবে। প্রকল্প শেষ,
প্রশিক্ষণও শেষ— এমনটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, আর এ
রকম একটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রকল্পে আমাদের অন্যভাবে চিন্তা করার স্কোপ রয়েছে।
তিনি
বলেন, আমি আজকে কালকের মধ্যে বসবো। এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পটা যে আপনার ফ্রিল্যান্সিং
প্রশিক্ষণটা মেইনস্ট্রিমিং করা যায় কি-না এবং
আমরা মন্ত্রণালয় মাধ্যমে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পরও মন্ত্রণালয়ের জনবল ও রিসোর্স দিয়ে
এটাকে কন্টিনিউ করতে পারি কি-না, সেটার সুযোগ ক্ষতিয়ে দেখব। কারণ আমার কাছে সত্যি সত্যি
মনে হয় যে আমাদের ভবিষ্যতের একটা বড় অংশ ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে নিহিত। উপদেষ্টা আরও
বলেন, ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আমাদের বেকারত্বের সমস্যা দূর করা সম্ভব। আমাদের পার
ক্যাপিটা ইনকাম বাড়ানো আমাদের দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার বিরাট সুযোগ
রয়েছে, আর এই সুযোগের অল্পই আমরা গ্রহণ করতে পেরেছি।
তিনি
বলেন, এই সুযোগকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আমার স্বল্প সময় আমি এই মন্ত্রণালয়ে
আছি এবং এখানে কি কি সুযোগ রয়েছে, আমরা সেটা করবো। ভবিষ্যতে যারা এই মন্ত্রণালয় দায়িত্বে
নিবেন, তাদের জন্য কি কি করণীয় আছে, সে ব্যাপারে আমরা অন্তত একটা ছোট্ট একটা রিসার্চের
মত বা ছোট্ট একটা প্রস্তাবনার মতো করে যাওয়ার চেষ্টা করব। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর একটা ওয়ানডে ওয়ার্কিং সেশন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ
করে উপদেষ্টা বলেন, যেখানে এই প্রকল্পে প্রশিক্ষণ
নেওয়া যুবকরা কিভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা বা ফ্রিল্যান্সার হিসাবে ব্যাপকভাবে উপার্জন
করছেন, তার প্রতিটি স্তর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উনারা প্রশিক্ষণ পাওয়া ব্যক্তিদেরকে
কাছে বর্ণনা করবেন। তাহলে এটা ওনাদের জন্য আরো বেশি উৎসাহ ব্যঞ্জক হবে, আরো বেশি তাৎপর্যপূর্ণ
হবে।
৩
মাস মেয়াদি (০১ জানুয়ারি ২০২৬ ৩১ মার্চ ২০২৬) ৫ম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কোর্সে ৪৮টি জেলায়
প্রতি জেলায় ৩ ব্যাচে ৭৫ জন করে মোট ৩৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
এ কোর্সের আজ উদ্বোধনী প্রোগ্রাম। ১৮ হতে ৩৫ বছর বয়সী কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায়
উত্তীর্ণ কর্মপ্রত্যাশী যুব ও যুব নারীরা এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছে। যুব ও ক্রীড়া
মন্ত্রণালয় সচিব মাহবুবুল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানসহ
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো
হয়, জানুয়ারি ২০২৪ হতে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে ২৯৯ কোটি ৯৯ লক্ষ
টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২৮৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৫
হতে দেশের ৪৮টি জেলায় একযোগে এ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।
ডিসেম্বর
২০২৫ পর্যন্ত ৪৮টি জেলায় ৪টি কোয়ার্টারে প্রতি কোয়ার্টারে ৩ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের
আওতায় মোট ১০,৮০০ জন যুব ও যুব নারী প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ
সম্পন্ন করেছে। প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী যুবদের মধ্যে ৬২% এর অধিক বা ৬৭৩২ জন প্রশিক্ষণার্থী
দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছে। এ সকল প্রশিক্ষণার্থী
এ পর্যন্ত প্রায় প্রায় ১১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৯ শত ৯৬ ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১৪
কোটি ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৬ শত ২৯ টাকার সমপরিমাণ আয় করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও ৩ মাসব্যাপী
৬০০ ঘন্টার এ প্রশিক্ষণ কোর্স নিয়মিত তদারকি করেন সংশ্লিষ্ট জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের
উপ-পরিচালকগণ, প্রতিটি জেলায় প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে ৩টি ব্যাচে মোট ৭৫ জন হিসেবে ৪৮
জেলায় মোট ৩৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সর্বমোট ৪১,১৯,২৬০ টাকা (একচল্লিশ লক্ষ ঊনিশ হাজার দুইশত ষাট টাকা) মূল্যমানের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করেছে।
বিজিবি জানায়, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে আজ ২৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে (২৪ ঘণ্টায়) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিবের বাজার বিওপি এবং আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপি–এর আওতাধীন কটকবাজার পোস্ট এবং গোলাবাড়ী পোস্টের বিশেষ টহলদল সীমান্ত এলাকায় পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়।
অভিযানকালে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নোয়াপাড়া চাঁনপুর ব্রিজ এবং বিষ্ণুপুর এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় শাড়ি, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানায়, আটককৃত পণ্যের সর্বমোট মূল্য ৪১ লাখ ১৯ হাজার ২৬০ টাকা। জব্দ করা সব মালামাল বিধি মোতাবেক পরবর্তী সময়ে কাস্টমসে জমা করা হবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি)
নতুন দাম নির্ধারণ করেছে ।
সোমবার
সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে।
সোমবার
(৩ মার্চ) বিকেলে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১২ কেজি সিলিন্ডারের
দাম ২৮ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া
ভোক্তাপর্যায়ে অটোগ্যাসের মূল্য ১ টাকা ৩১ পয়সা কমিয়ে ৬৬ টাকা ৪৩ পয়সায় সমন্বয় করা
হয়েছে।
এর
আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৭৮ টাকা নির্ধারণ
করা হয়। এছাড়া অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৭ টাকা ৭৪ পয়সা।
প্রসঙ্গত,
২০২৪ সালে এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম ৪ দফা কমানো হয়েছিল এবং ৭ দফা বাড়ানো হয়েছিল।
এর
মধ্যে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বাড়ানো
হয়েছিল এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম। আর এপ্রিল, মে, জুন ও নভেম্বরে দাম কমানো হয়েছিল।
তবে দাম অপরিবর্তিত ছিল ডিসেম্বরে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে আরো বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রীর সঙ্গে আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen) সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। মন্ত্রী অদূর ভবিষ্যতে এ বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছে। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান। এ সময় মন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য "International Alliance Combating Telecom and Cyber Fraud" জোটে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ করেন এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। মন্ত্রী দু'দেশের মধ্যে "Plan of Action on Law Enforcement Training Cooperation" সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় রিভিউ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। মন্ত্রী এ সময় তাঁর সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী সহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ইলিশ ভারতে উপহার হিসেবে যাচ্ছে
না, রপ্তানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা ইলিশ চাচ্ছেন, তারাও
কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ওপার থেকে অনেক সমর্থন দিয়েছেন। ইলিশ রপ্তানি করা
হচ্ছে, রপ্তানির টাকা বাংলাদেশ সরকার পাবে। সেটা খুব ছোট করে দেখার মতো টাকা না।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার
দিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন শেষে সুইডেন
প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী একে জুয়েলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা
বলেন।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন,
বাংলাদেশ থেকে ইলিশ এখনো যায়নি। শুধু একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার আগেই তো দাম বেড়ে গেছে।
কাজেই রপ্তানি হলে দাম বাড়বে এ কথাটা ঠিক না। যেটা সরকারের বিবেচনায় আছে। যারা ইলিশটা
চাচ্ছে, তারাও কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ওপার থেকে অনেক সমর্থন দিয়েছে। সেটা
আমরা সবাই দেখেছি। আমরা খুব সহজে কথা বলে ফেলি। সব সময় মনে রাখতে হবে, প্রতিবেশীর সঙ্গে
অনেক বিষয়ে আমাদের আলাপ আলোচনা করতে হবে। সেই আলোচনার ধারাটা ছোট ছোট বিষয়ে বন্ধ হয়ে
যাক, সেটা আমরা চাই না।
রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শনের সময় উপদেষ্টার
সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, নোয়াখালী জেলা
প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার
হোসেন পাটোয়ারীসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন হাজার
মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
মন্তব্য করুন


রমজানে সিএনজি স্টেশনগুলো খোলা রাখার নতুন সময় পুনর্নিধারণ করেছে সরকার।
মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, ১২ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা বন্ধ থাকবে সিএনজি স্টেশন। এছাড়া, ৭ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সিএনজি স্টেশনগুলোকে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রমজান মাসে বিদ্যুৎ চাহিদার দৈনিক পিক আওয়ারে গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কে সম্ভাব্য স্বল্প-চাপ পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে প্রথম রমজান থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বর্তমানে সিএনজি স্টেশনগুলো বন্ধের সময়কাল সন্ধ্যা ৬টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত পরিবর্তন করে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মোট পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।
পাশাপাশি ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য ৭-১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে স্টেশনগুলো।
এছাড়া ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি সরবরাহের সুবিধার্থে ৭-১৮ এপ্রিল সিএনজি স্টেশনগুলো সার্বক্ষণিক খোলা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের
মধ্যে নির্বিঘ্ন নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের
নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ (৭ অক্টোবর) কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর বিদ্যমান পুরাতন
সেতুর পাশে ১১,৫৬০.৭৭ কোটি টাকার নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত
চলতি অর্থবছরের (অর্থবছর ২৫) তৃতীয় ও অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন
দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, দিনের বৈঠকে
মোট আনুমানিক ২৪ হাজার ৪১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া
হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ থেকে ৭,৭৪৬.৬৬ কোটি টাকা, প্রকল্প
সহায়তা থেকে ১৬,০১২.৩৩ কোটি টাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৫৩.৯৫ কোটি
টাকা আসবে।
অনুমোদিত চারটি
প্রকল্পের মধ্যে দু’টি নতুন ও দু’টি সংশোধিত প্রকল্প। এছাড়া বৈঠকে ব্যয় না বাড়িয়ে সাতটি
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয়
২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ।
মোট ১১,৫৬০.৭৭
কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৪,৪৩৫.৬২ কোটি টাকা আসবে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে
এবং বাকি ৭,১২৫.১৫ কোটি টাকা আসবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক
ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটিজ (ইডিপিএফ), কোরিয়া থেকে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান,
কালুরঘাটে বিদ্যমান সেতুটি পুরনো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় এ ব্যাপারে নতুন প্রকল্পের কথা বিবেচনা
করা হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার কক্সবাজারকে আরও উন্নত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর
করতে চায়। এছাড়াও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংলগ্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের
জন্যও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার মনে করেছে, এ ক্ষেত্রে একটি নতুন
প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।
পরিকল্পনা কমিশনের
একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে নির্বিঘ্ন
ও নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ
তৈরি করা। রেলপথ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে পুরানো ও জরাজীর্ণ কালুরঘাট
সেতু দিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারে না। এছাড়া মাতারবাড়ী
গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে, এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি এ রুটের
গুরুত্বও বাড়বে। ইতোমধ্যেই দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন চালুর মাধ্যমে ঢাকা ও কক্সবাজারের
মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে পর্যটন নগরীর সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ
নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পুরাতন সেতুর পাশে কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-সড়ক
সেতু নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে
এবং এইভাবে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে অনুমোদিত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের
আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। প্রস্তাবিত
প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে নির্বিঘ্ন
রেল যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নতুন সেতুটি নির্মিত হলে, এই অঞ্চলের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক
অঞ্চলে অবস্থিত কল-কারখানার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম
হবে। মূল প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৭০০ মিটার রেল-কাম-রোড ব্রিজ নির্মাণ,
৬.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২.৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪.৫৪ কিলোমিটার বাঁধ,
১১.৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজ।
অতিরিক্ত ৬,৫৭৩.৯৬
কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নের অনুমোদন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা
বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তিনি বলেন, এই বন্দরের
অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ভারতের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন,
মাতারবাড়ী বন্দরে প্রয়োজনীয় কাজ এখনো শুরু হয়নি এবং বন্দরের উন্নয়নে রাস্তা নির্মাণ
করা হবে।
সভায় অনুমোদিত
অন্য দুটি প্রকল্প হল- সাজেক রোড কানেক্টিভিটি, প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর
মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, ৩৭৬.৯৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত ও ৫,৯০১.২২২
টাকা দিয়ে রেসিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইইউটিডিপি)।
মন্তব্য করুন


ইন্দো-প্যাসিফিক
অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জ্বালানি খাতে
আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাপানের টোকিওতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘ইন্দো-প্যাসিফিক
এনার্জি সিকিউরিটি মিনিস্টেরিয়াল অ্যান্ড বিজনেস ফোরাম’।
১৪
থেকে ১৫ মার্চ অনুষ্ঠেয় এই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নিতে বর্তমানে টোকিও
সফর করছেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
ফোরামটি
যৌথভাবে আয়োজন করেছে ইউএস ন্যাশনাল এনার্জি ডমিনেন্স কাউন্সিল এবং জাপানের অর্থনীতি,
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। আয়োজকদের মধ্যে রয়েছেন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও মার্কিন
স্বরাষ্ট্র সচিব ডগ বারগাম, ভাইস চেয়ারম্যান ও মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং
জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী আকাজাওয়া রিওসেই।
গুরুত্বপূর্ণ
এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া
এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী
দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড,
তিমুর-লিস্তে ও ভিয়েতনাম।
ফোরামে
অংশগ্রহণকারী মন্ত্রীরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি শক্তিশালী, নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল
জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন। দ্রুত সরবরাহযোগ্য, সাশ্রয়ী,
নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করা, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক
সহযোগিতা জোরদার- এসব বিষয় আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
সম্মেলনের
আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান
মাহমুদের যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ব্রুনাইসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক
দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া
তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে
জানা গেছে। এসব বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ
আকর্ষণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানো এবং জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নে নতুন অংশীদারিত্বের
সুযোগ খুঁজে বের করা।
বিশ্লেষকদের
মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ক্রমেই
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ প্রেক্ষাপটে এই ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের জ্বালানি
খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের এক বিবৃতিতেতে এ কথা জানিয়ে আরো বলা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে দ্রুত শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে বলে আশাবাদী দক্ষিণ কোরিয়া। কোরিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ দক্ষিণ কোরিয়া।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকারের পতনের গত ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।
মন্তব্য করুন