

টানা
দেড় মাসের ছুটিতে যাচ্ছে দেশের সব মাদরাসা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আগামী
১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আর এই ছুটি থেকেই শুরু হবে মাদরাসায়
টানা ৪৬ দিনের ছুটি।
গত
২০ জানুয়ারি প্রকাশিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ছুটির তালিকা
থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ছুটির
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ছুটি, ১৩ ও ১৪
ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি মাদরাসায় শুরু হচ্ছে পবিত্র
রমজান মাসের ছুটি। এরপর একে একে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস,
১৭ মার্চ শবেকদর, ২০ মার্চ জুমাতুল বিদা, ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা
ও জাতীয় দিবস। ২৭-২৮ মার্চ যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার।
তাই
মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে ২৯ মার্চ।
উল্লেখ্য,
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ দিন ছুটি থাকবে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে। এই ছুটি
চলবে আগামী ২৪ মে থেকে ১১ জুন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশের মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লালকার্ড দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রিকনসিলিয়েশন বা সমঝোতার আলোচনা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অনুশোচনার কথা শোনা যায়নি। বরং গতকাল একজন সাবেক মন্ত্রী শহিদের রক্ত নিয়ে মকারি করেছেন। আমরা তাদের মধ্যে অনুতপ্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছি না।”
তিনি আরও বলেন, “যারা খুনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের জায়গা সমাজে নয়, তাদের জায়গা জেলখানায়। খুনিদের সমাজে গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না।”
গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “এই গণভোটে মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রেডকার্ড দেখাবে। গত ১৬ বছর ধরে যে গুম-খুনের রাজনীতি চলেছে, তার বিরুদ্ধেই জনগণের এই রায়। মানুষ সুশাসনের পক্ষে ভোট দেবে।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোলিশ পর্যটকের পানিতে পড়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই পর্যটকের দাবি, তিনি গুগল ম্যাপ অনুসরণ করতে গিয়েই ওই ঘটনা ঘটে।
ইতালির ভেনিস ভ্রমণে গিয়েছিলেন ভিক্টোরিয়া গুজেন্ডা নামের এই তরুণী। ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়। তিনি মুঠোফোনে মনোযোগী অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে নামছেন— এমন সময় ভারসাম্য হারিয়ে সোজা খালের পানিতে পড়ে যান। পরবর্তী দৃশ্যে দেখা যায়, তার পা কিছু জায়গায় ছড়ে গেছে।
ভিডিওতে লেখা ছিল, আপনি আছেন ভেনিসে, কিন্তু গুগল ম্যাপ বলে আগে বাড়ো।
নেটিজেনদের মধ্যে ভিডিওটি নিয়ে হাস্যরস ছড়িয়ে পড়ে। একজন মন্তব্য করেছেন, পানির দিকে হাঁটতে থাকলে কি হবে ভেবেছিলেন!
আরেকজন লেখেন, অন্ধের মতো গুগল ম্যাপ অনুসরণ বন্ধ করে একটু চারপাশে তাকানো ও মাথা খাটানোর চর্চা করা উচিত।
এক ব্যবহারকারী কিছুটা সহমর্মিতা দেখিয়ে বলেন, স্পষ্টতই সে শেষ ধাপে থামতে চেয়েছিল, কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেছে।
অবশ্য ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই মনে করেন, দুর্ঘটনায় গুগল ম্যাপের দোষ নেই— বরং আসলে ছবি তুলতে গিয়ে পিছলে পড়েছেন ওই পর্যটক।
ভেনিসের ভ্রমণ সংস্থাগুলো বহুদিন ধরেই গুগল ম্যাপের বিভ্রান্তিকর নির্দেশনা নিয়ে সতর্ক করে আসছে। ভেনিসের বিন্যাস অধিকাংশ শহরের চেয়ে কিছুটা আলাদা। এখানে রয়েছে জটিল সেস্তিয়েরি বা অঞ্চলব্যবস্থা এবং এলোমেলোভাবে সাজানো নম্বরিং— যা প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটকদের জন্যও পথ খোঁজা কঠিন করে তোলে।
এছাড়া শহরের বৈশিষ্ট্য মানচিত্রে পুরোপুরি ফুটে ওঠে না। ভ্রমণবিষয়ক সাইট ‘ট্যুর লিডার ভেনিস’ জানিয়েছে, গুগল ম্যাপ প্রায়ই এমন রাস্তায় পর্যটকদের নিয়ে যায় যেগুলো আদৌ নেই, বা খালের কারণে বন্ধ। অনেকে শেষমেষ খালের ধারে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারেন, মানচিত্রে দেখানো মোড়টি আসলে পানির
নিচে।গুগল ম্যাপ পানির উচ্চতার ওঠানামাও হিসেবে আনে না, ফলে অনেক পথ হঠাৎ করেই অচল হয়ে পড়ে।
তাই অনেক ভ্রমণ গাইড পরামর্শ দিচ্ছে, ভেনিস ভ্রমণে গুগল ম্যাপের বদলে স্থানীয় গাইড, কাগজের মানচিত্র বা শহরভিত্তিক বিশেষ নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহার করাই নিরাপদ।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী
সরকার।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি)
বিকেলে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানা।
তিনি বলেন, বৈঠকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের
খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। সেইসঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধ্যাদেশ-২০২৬-এর
খসড়া চূড়ান্ত এবং বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্য সংঘনিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ এর খসড়া
নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকে প্রতিবছর ২৩ মার্চকে ‘বিএনসিসি ডে’ হিসেবে
ঘোষণা; জাতিসংঘের নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী
কনভেনশনের ৭০(১) ধারার আওতায় বাংলাদেশ কর্তৃক পূর্বে দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাহার; ক্যারিবিয়
দেশ গায়ানায় বাংলাদেশের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন (সারফেয়ার্স/লোয়ার লেভেল মিশন)
খোলা; ২০২৫-২৮ সময়কালের জন্য আমদানি নীতি আদেশের খসড়া; নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
অধ্যাদেশ-২০২৬; কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ-২০২৬ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত
এবং আন্তর্জাতিক পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে নেদারল্যান্ডসের
হেগভিত্তিক হেগ কনভেনশন অন সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন-১৯৮০-এ
বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার প্রস্তাব বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে।
এসব সিদ্ধান্ত নারীদের সুরক্ষা, মানবাধিকার, ক্রীড়া
উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বাণিজ্য ও নগর উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে জানান প্রেস সচিব।
মন্তব্য করুন


নিজের
জীবন বাজি রেখে ১৩ জনকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন ২২ বছর বয়সী হাসান আহমেদ আল গাজ্জার।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেই প্রাণ হারালেন। মিশরের সিনাই অঞ্চলের মেনিয়েল দোয়েইব গ্রামের
এই যুবকের অমর বীরত্ব দেশজুড়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
স্থানীয়
গণমাধ্যমের বরাতে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বহনকারী
একটি মিনিবাসের টায়ার বিস্ফোরণের পর সড়ক থেকে ছিটকে নদীতে পড়ে যায়। ঘটনাটি সামনে থেকে
দেখা মাত্রই হাসান ছুটে যান। যদিও তিনি সাঁতার জানতেন না, তবুও বিন্দুমাত্র দ্বিধা
না করে পানিতে ঝাঁপ দেন। ডুবে থাকা মিনিবাসের পেছনের দরজা ভেঙে তিনি একে একে সব ১৩
ছাত্রীকে নিরাপদে তুলে আনেন। কিন্তু অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম আর মানসিক চাপের পর তিনি
আর ভেসে থাকতে পারেননি। ক্লান্তির কাছে পর্যদস্ত হয়ে নিজেই নদীতে তলিয়ে যান এবং মারা
যান। ঘটনাটি বেদনাদায়ক হলেও মহৎ সমাপ্তি নিয়ে হাসানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন মিশরবাসী।
হাসান
জীবিকার সন্ধানে সিনাই এলাকায় গিয়েছিলেন। তার ঘরে রয়েছে স্ত্রী ও তিনটি কন্যাশিশু-যাদের
ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তায় ঘেরা। শোকে ভেঙে পড়া বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ছেলে একজন
নায়ক হয়ে মরেছে। আমি তার জন্য গর্বিত।’ তিনি জানান, মাত্র দুই দিন পরই ছিল
হাসানের জন্মদিন। ছেলের জন্য কেক কিনে তাকে দেখতে যাওয়ার পথে তিনি পেয়েছিলেন মৃত্যুসংবাদ।
এ দুর্ঘটনার আগে হাসান পরিবারের সঙ্গে করা শেষ ফোনকলে মায়ের সঙ্গে দেখার ইচ্ছা জানিয়েছিলেন-যা
এখন শোকের ভার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।হাসানের পরিবার সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে, যেন তার
স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে হাসানকে সম্মানিত
করা হয়। পরিবারের ভাষায়, ‘অনেক পরিবারের কান্না থামিয়ে দিয়েছে হাসান। অন্তত তার মেয়েদের
ভবিষ্যৎ যেন সুরক্ষিত হয়।’
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ হাসানকে জাতীয় বীর, শহিদ এবং রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত করার
দাবি তুলেছেন। তারা লিখছেন-তার আত্মদান শুধু ১৩টি প্রাণই নয়, অসংখ্য পরিবারকে অশ্রুশোক
থেকে রক্ষা করেছে। সাহস, আত্মদান আর মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল হাসান আহমেদ
আল গাজ্জারের নাম।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
রোববার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মূল অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে। তবে সে দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও এখনো পাওয়া যায়নি। অনেক সময় অপরাধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকে।”
হত্যাকাণ্ডটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত কোনো কারণ আছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়নি। ঘটনার শুরু থেকেই আমরা মাঠে আছি। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী
বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়েছে।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত
১টার পরে গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়ে ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক
ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে উদ্ধৃত করে বিএনপির মিডিয়া
সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ
অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং ভাগনি যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে ৫ বছর, শেখ রেহানাকে ৭ বছর এবং টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় শোনার আগেই আদালত এলাকা ঘিরে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। আদালতের গেট, বারান্দা ও প্রবেশপথজুড়ে পুলিশ, ডিবি ও বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। সন্দেহজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
দুদকের পক্ষ থেকে মামলার সমন্বয়কারী পাবলিক প্রসিকিউটর মঈনুল হাসান রায়ের আগে সাংবাদিকদের বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণে আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের, তবে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করেছে।”
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের একটি ১০ কাঠার প্লট অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন। তখন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হলেও পরে তদন্তের মাধ্যমে আরও দু’জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ জনে।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ এবং তদন্তের পর যুক্ত হওয়া দু’জন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
গত ৩১ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে মোট ৩২ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অবশেষে আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিবেশবান্ধব নির্বাচনি প্রচারণার উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান
তারেক রহমান। প্রচারণায় এমন একটি কাগজের লিফলেট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মাটিতে পড়লে
বা সঠিক পরিবেশে রাখা হলে গজাবে নানা ধরনের সবজির চারা।
ইতোমধ্যে
লিফলেট ছাপানোর কাজ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসের এবারই প্রথম বীজযুক্ত
লিফলেট নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে বিএনপি।
জানা
গেছে, নির্বাচনে শুধু তারেক রহমান নয়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পটুয়াখালী-১
আসনের বিএনপির প্রার্থী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং নীলফামারী-২
আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরীন ইসলাম তুহিনসহ অনেকে এই বন-কাগজের লিফলেট ব্যবহার করছেন।
বিএনপি
নেতারা বলছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু প্রার্থীর বার্তা পৌঁছানোই নয়, পাশাপাশি পরিবেশ
রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধিও সম্ভব। লিফলেটগুলো বিশেষ ধরনের বীজযুক্ত কাগজে তৈরি, যা মাটিতে
রাখা হলে সেখান থেকে বীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা জন্ম নেবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই পরিবেশবান্ধব
প্রচারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করবে।
প্রস্তুতকারী
প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রকৌশলী মাহবুব সুমন বলেন, সাধারণত ভেষজ উদ্ভিদ ও ফলের বীজ দিয়ে
বন-কাগজ তৈরি হয়। আসন্ন নির্বাচনে পাঁচটি দেশি সবজির বীজ দিয়ে লিফলেট তৈরি করা হচ্ছে।
এবারে বেগুন, টমেটো, মরিচ, লালশাক ও ডাঁটাশাকের বীজ ব্যবহার করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হতে ০৯ মার্চ ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত বিলাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উক্ত অভিযানে সেনাবাহিনী কর্তৃক সার্বক্ষণিক নজরদারি ও সর্বত্র প্রভাব বিস্তারের ফলে কেএনএ সহ অন্যান্য সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো লোকালয় ত্যাগ করে। সেনাবাহিনী সফল অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের একাধিক অস্ত্রের অবস্থান, গুপ্তাশ্রয় ও আস্তানা চিহ্নিত ও ধ্বংস করে। এই অভিযানের ফলে কেএনএ ও অন্যান্য সন্ত্রাসী দলগুলো আরো কোনঠাসা হয়ে পড়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে স্থানীয় জনগণ। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় স্ব স্ব ক্যাম্পে প্রত্যাবর্তন করেছে সেনাবাহিনীর টহল দল। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী
অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের
নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় প্রদানকারী এই ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও
মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বহুল আলোচিত এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি
অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন প্রসিকিউশন।
অন্যদিকে, আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। এছাড়া রাজসাক্ষী
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের খালাস চান তার আইনজীবী।
এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ
তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম শুনানি করেন। এছাড়া শুনানিতে
প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটরা
উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি
করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী
আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম
শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য
দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বোমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায়
সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান
খান কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর
আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে
(অ্যাপ্রুভার) রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা
পড়ে।
মন্তব্য করুন