

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
সরাইলে মাদক কেনাবেচায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রায়হান (১৫) নামে
এক কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার সৈয়দটুলা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা
ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন। নিহত রায়হান উত্তরপাড়া এলাকার ছুটুন
মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উত্তরপাড়া এলাকার সজীব মিয়া স্থানীয় এক
যুবককে ইয়াবা কিনে আনার জন্য ৩০০ টাকা দেন। তবে ওই যুবক ইয়াবা না কিনে সেই টাকা দিয়ে
বিস্কুট কিনে খেয়ে ফেলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে
হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
মাদকের
বিরুদ্ধে কাজ করা স্থানীয় যুবক কামাল, জসিম, দেওয়ান উদ্দিনসহ কয়েকজন বিষয়টি সম্পর্কে
জানতে চান। এ সময় সজীব মিয়ার পক্ষ নিয়ে শাহীন ও রতন মিয়া নামে আরও দুই যুবক ক্ষুব্ধ
হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক বাড়তে থাকলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র
নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।
স্থানীয়রা
জানান, রাতের আঁধারে টর্চলাইটের আলোয় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এতে পুরো এলাকায়
আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রায়হান গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক
মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরাইল
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, মাদক-সংক্রান্ত বিষয়কে
কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে এনেছে। সংঘর্ষে রায়হান নামে একজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। এ
ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থান
ছাড়াও সুফি মাজারে যেকোনো বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী
সরকার। সেই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে
কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে পাঠানো
বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত কয়েকদিনে কিছু দুর্বৃত্তের
দেশের সুফি মাজারগুলোতে হামলা চালানোর বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের নজরে এসেছে। অন্তর্বর্তী
সরকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা এবং সুফি মাজার সম্পর্কিত যেকোনো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য
এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের অতি দ্রুত আইনের আওতায়
আনা হবে। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধর্মীয় উপাসনালয়
ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে
নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের
দেশ। ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতিকে বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা
সরকার দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে।
মন্তব্য করুন




এইচএসসি
পরীক্ষা স্থগিত না করে শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’
বলে কটাক্ষ করার প্রতিবাদে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ (Broiler Chicken Party) নামে একটি
প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
ফেসবুকে এই নামে একটি পেজ খোলার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
‘We are the broiler generation:
Insulted by words, United by purpose’ স্লোগানে খোলা ফেসবুক পেজটিতে সন্ধ্য সাড়ে ৬টা
পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ জন ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া পেজটিতে ‘They called us
Broiler Chicken, We became a Movement’ স্লোগানও দেখা গেছে।
মঙ্গলবার
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত পেজটিতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন অনুসারী যুক্ত হয়েছেন। মূলত
শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার প্রতিবাদ হিসেবে এই ব্যঙ্গাত্মক
প্ল্যাটফর্মটি আত্মপ্রকাশ করেছে।
অনলাইন
অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, এই উদ্যোগটি ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র
(সিজেপি) আদলে তৈরি। গত মে মাসে ভারতের এক উচ্চপদস্থ ব্যক্তি তরুণদের ‘ককরোচ’
বা ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পর সে দেশে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে
ওই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে উঠেছিল।
এদিকে
ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ
শিক্ষার্থীরা আজ দিনভর রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন।
বিকেল
পৌনে পাঁচটার দিকে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন আন্দোলনকারীদের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আলটিমেটাম দেন।
তিনি
বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার অসংগতিপূর্ণ
বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
শিক্ষার্থীদের
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-গত ১৩ জুলাই বৈরী পরিবেশে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া
এবং আগামীকালের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন রুটিন প্রকাশ করা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জরুরি বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজারের
চকরিয়ায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে নিহত শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩)
এর পিতা-মাতা আজ বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪) সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল
ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
এ
সময় শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন এর পিতা-মাতা সন্তান হারানোর বেদনায় আবেগ
আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
দাবি জানান।
সেনাবাহিনী
প্রধান শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের
আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিতে সর্বপ্রকার সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গিকার করেন।
উল্লেখ্য,
এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ৭ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে চকরিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর
করে এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজার
থেকে টেকনাফগামী একটি পালকি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের খাদে
পড়ে গেছে। এ দুর্ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার
(২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় কেয়ারী ঘাটসংলগ্ন ব্রিজের কাছে
এ দুর্ঘটনা ঘটে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন।
আহতদের
মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের দুজন এবং টেকনাফের দমদমিয়া এলাকার
দুজন বাসিন্দা রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ও উদ্ধারকারী দল তাদের উদ্ধার করে
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
টেকনাফ
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার জামিম মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস,
বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালান।
ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। আমরা দ্রুত উদ্ধার করে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা
করেছি।
প্রত্যক্ষদর্শী
মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘মিনিবাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল।
একপর্যায়ে
চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। ওই সময় বাসটিতে
প্রায় ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানালা ভেঙে যাত্রীদের বের করে
আনেন। বাসটি চালাচ্ছিলেন হেলপার। এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছি।
টেকনাফ
মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন নয় বিশ্বব্যাংক। বরং বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চায় সংস্থাটি। অন্তর্বর্তী সরকারকে সব বিষয়ে সহায়তা দিয়ে পাশে থাকতে চায় বিশ্বব্যাংক।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও আইএফসির কান্ট্রি ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। তিনি জানান, আমরা বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জেনেছি। যার ফলে আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতির সংস্কারে কীভাবে সহযোগিতা করবো সেটিও আলোচনা করেছি। কারণ জটিল কিছু সংস্কার বাংলাদেশের প্রয়োজন। এখানে আর্থিক খাতে সংস্কার প্রয়োজন, বাণিজ্যে সংস্কার প্রয়োজন- আমরা এগুলোতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন, আমরা এখন এ দেশে বেসরকারি খাতে চাকরির বাজার সৃষ্টিতে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে যুবকরা এখানে বড় সম্পদ। এছাড়া এখানে জলবায়ু পরিবর্তন অনেক বড় ঝুঁকি, সেখানে অন্তর্বর্তীমূলক বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ক গড়তে কাজ করছি আর আমরা মোটেই বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। আমি অনেক দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, এটি কখনোই আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের স্থবির অর্থনীতিকে চালু করার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দরকার বিশ্বব্যাংক তা দেবে। আইএফসি ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছি আমরা। তারা বলেছে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য তারা যে কোনো কিছুই করতে পারে। নিয়মকানুন মেনে তারা বিনিয়োগ করবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ শিক্ষার্থীদের জন্য শোক জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি এ সময়ে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সংস্কারেও পাশে থাকবে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন


কিশোরগঞ্জের
ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে বিপুল অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি পাওয়া
গেছে বিভিন্ন মনোবাসনার চিরকুট। এর মধ্যে একটি নাম-পরিচয়হীন চিঠিতে লেখা ছিল- হাদি
হত্যার বিচার চাই।
শনিবার
(২৭ জুন) সকাল ৭টায় ছয় মাস পর পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্স খোলা হয়। এতে রেকর্ড ৪৩ বস্তা
টাকা পাওয়া গেছে। পরে মসজিদের দুই তলায় এনে গণনার কাজ শুরু হয়।
এর
আগে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন
ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান
আলীসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো
খোলা হয়।
গত
বছরের ২৭ ডিসেম্বর, তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলা হলে সেখান থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ
৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার
পাওয়া গিয়েছিল।
জেলা
প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা
প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল
আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তাদের উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মাদারীপুরে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘মিড ডে মিল’
হিসেবে পচা খাবার সরবরাহের মামলায় গ্রেফতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই অপারেশন কর্মকর্তাকে
কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার
(৯ জুন) বিকেলে জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এলিয়াম হোসেন
এই আদেশ দেন। এর আগে সোমবার (৮ জুন) রাতে শহরের চাঁনমারি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার
করা হয়।
গ্রেফতাররা
হলেন- ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দোগাছিয়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে আহসানুল
হাবিব (৫২) ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পার্বতীশিবপুর এলাকার নুরুল ইসলাম খানের ছেলে
নুরুজ্জামান খান (৪৪)।
সংশ্লিষ্ট
সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় রুটি, কলা ও
ডিম টিফিন হিসেবে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের দিয়ে আসছে সরকার। মাদারীপুরে সমতা ট্রেডার্স-নামে
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব টিফিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে
দেওয়া হয়।
গত
৮ এপ্রিল দুপুরে সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিফিন
খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবার
রিপন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া টিফিনের রুটি, কলা ও ডিম আলামত হিসেবে জব্দ করেন।
ঘটনার
পরদিন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে অতিরিক্ত জেলা
প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত
করে কমিটি ঘটনার সত্যতা পায়।
এনিয়ে
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে ফিডিং কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক ও প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হারুণ অর রশীদ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসময় তিনি আশ্বাস দেন
দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার।
এই
ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলার ১৬৫নং পোকরার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
প্রধান শিক্ষক মেহেরুন চৌধুরী বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
করেন।
এরই
জেরে সোমবার গ্রেফতার হন সমতা ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা
আহসানুল হাবিব ও নুরুজ্জামান খান। মঙ্গলবার বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হলে কারাগারে
পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদারীপুর
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাঝে
পচা খাবার সরবরাহের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সমতা ট্রেডার্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের
দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত বাকিদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ।’
মাদারীপুরের
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, ‘স্কুল শিক্ষার্থীদের
জন্য সরবরাহকৃত খাদ্যের মান নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না।’
তিনি
আরও বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য-প্রমাণ
সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া
হবে। তদন্ত শেষে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
বাঁশখালীতে মাছবোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক
যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার
(১ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পিএবি সড়কের মনছুরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত
মো. বাহাদুর আলম (২৮) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের জাহিদা ঘোনা
এলাকার বাসিন্দা। তিনি এক সন্তানের জনক এবং চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে
কর্মরত ছিলেন।
আহত
ব্যক্তিরা হলেন, মহেশখালীর মো. নোমান (৩৫), মনি বেগম (২৪) এবং চকরিয়ার বদরখালী এলাকার
মো. হেলাল (২৩)।
বাঁশখালী
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হেলাল উল্লাহ নূরী বলেন, চারজন
আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হলে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি তিনজনের অবস্থা গুরুতর
হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাঁশখালী
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত
অটোরিকশা চকরিয়ার মগনামা ঘাট থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে মনছুরিয়া এলাকায় মাছবোঝাই
একটি পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
তিনি
আরও বলেন, নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ও অটোরিকশাটি জব্দ করেছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


সেনাবাহিনীর
গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি
মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং
পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার
(০৭ জুলাই) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম
পদাতিক ডিভিশনের অধীন অষ্টম বীরের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী
বিস্তীর্ণ এলাকা পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে
তিনি 'ফার্ম বেস'-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং
(জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত
প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা (ভার্বাল
অর্ডার) শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি 'রেইড' মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
প্রধানমন্ত্রী
যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন। তিনি সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী
অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের
কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।
একপর্যায়ে
প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা
খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন।
পরে
সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর
ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার
প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান
জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
এ
সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল
ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর
জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন